08/10/2021
ইউশা ইবনে নূন (আ) এর কবর, লেবানন...উনার জীবন থেকে ইসলাম প্রিয় ভাই বোনেরা কিছু মেসেজ নিন...
ইউশা ইবনে নুন আ. ছিলেন সেই নবী- যার ইব্রাহিম আ. পর্যন্ত ছয়জন ৬ জন পূর্বপুরুষের ৪ জনই নবী ছিলেন৷ তাঁর জন্ম হয়েছিল মিসরে। ইউশা আ. মূসা আ. এঁর পর বনী ইসরায়েলে প্রেরিত নবীগণের মধ্যে অন্যতম। তাঁর নেতৃত্বে বনী ইসরায়েল জেরুজালেম বিজয় করেন।
তিনি ছিলেন মূসা আ. এঁর খাদেম ও ছাত্র। বেঁচে ছিলেন ১২৭ বছর। মূসা আ. এঁর ইন্তেকালের পূর্বপর্যন্ত তিনি তাঁর খিদমত করেছেন৷ মূসা আ. এঁর মৃত্যুর ২৭ বছর পর ইউশা আ. এঁর মৃত্যু হয়।
সে হিসেবে তিনি নিজের ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত মুসা আ. এঁর খিদমতে ছিলেন। মূসা আ. এঁর ইন্তেকালের পর তিনি বনী ইসরায়েলের নেতৃত্ব দেন। মূসা আ. এঁর দুই বছর আগে হারুন আ. ইন্তেকাল করেন।
আল্লাহ যখন বনী ইসরায়েলকে জেরুজালেম বিজয়াভিজানের নির্দেশ দিল- বনী ইসরায়েল তখন বেঁকে বসল। তারা বললো, সেখানে এমন এক সম্প্রদায় আছে যারা আমাদের চেয়ে শক্তিশালী।
আল্লাহর নির্দেশের এই বিরুদ্ধাচরণ থেকে জাতিকে নিবৃত্ত করতে যে কজন মানুষ বনী ইসরায়েলকে রাজি করানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন তন্মধ্যে ইউশা আ. ছিলেন অন্যতম।
বনী ইসরায়েলের এই অবাধ্যতার শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ বনী ইসরায়েলকে ৪০ বছর একটা তীহ নামক প্রান্তরে চক্রাবদ্ধ রাখেন। তারা সকালে তাবু গুটিয়ে রওয়ানা করতেন সন্ধ্যায় দেখতেন পূর্বের জায়গাতেই তারা তাবু খাটাচ্ছেন।
৪০ বছরের এই দীর্ঘ সময়কালে পূর্ববর্তী প্রজন্মের পর একটা নতুন প্রজন্ম বনী ইসরায়েলের মধ্যে তৈরি হয়। ইতোমধ্যে হারুন আ. এবং মূসা আ. এঁর ইন্তিকাল হয়।
ইউশা আ. নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে আসেন। তাঁরা পূর্ব-পুরুষদের কাপুরুষোচিত আচরণের জন্য তওবা করে জেরুজালেম অভিমুখে যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হয়।
বর্ণনামতে, শেষ যুদ্ধটি শুক্রবার সংঘটিত হয়। যুদ্ধ যখন সমাপ্তির পর্যায়ে আর বনী ইসরায়েল বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন ইউশা আ. লক্ষ্য করলেন সূর্য অস্ত যাবার সময় এসে গেছে।
যেহেতু, ইহুদিদের জন্য শনিবার নিষিদ্ধ দিন ছিল ফলত ইউশা আ. উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। তিনি সূর্যের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর নির্দেশে সূর্যকে স্থির থাকতে বললেন এবং যুদ্ধে বিজয়লাভের আগ পর্যন্ত সূর্য স্থির ছিল।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'কেবলমাত্র ইউশা ব্যাতিত আর কারোর জন্যই সূর্য কখনো থেমে যায় নি।' (ইবনে কাসীর, ইবনে হাজার, আলবানী এই বর্ণনাকে সহীহ বলেছেন।)
জেরুজালেম বিজয়ের দিন তিনি মূসা আ. এর গায়ের জামা পরিহিত ছিলেন। যা তিনি এত বছর আগলে রেখেছিলেন। জেরুজালেমে তিনি ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
এই ঘটনাসমূহের মধ্যে আমাদের জন্য কল্যাণকর কিছু শিক্ষা আছে।
১। ইউশা আ. নিজে নবী ছিলেন। সম্মানিত খানদানের ছিলেন। এরপরও মূসা আ. এঁর খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন শৈশব থেকে ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত। বুযুর্গদের সোহবত কত উপকারী এ শিক্ষা এখান থেকে নেওয়া যেতে পারে।
২। হক্বের জন্য, আল্লাহর বিধানের জন্য যত বড়ো শক্তির বিরুদ্ধেই হোক, সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। আল্লাহর সাহায্য থাকলে ঠিকই সত্য বিজয়ী হয়। যেমন ইউশা আ. জয়ী হয়েছিলেন।
অথচ যদি আল্লাহর সাহায্য না থাকে তাহলে পুরো সম্প্রদায় মিলেও ১০ মাইল পথ ৪০ বছরেও অতিক্রম করা যায় না। তীহ প্রান্তর মাত্র ১০ মাইল বিস্তৃত ছিল। মানুষ তাঁর রব্বের সাহায্য ছাড়া মূলত অক্ষম।
৩। ইউশা আ. এঁর থেকে মুসা আ. ছিলেন আরও অধিক মর্যাদাপূর্ণ। অথচ নতুন প্রজন্মকে সাথে নিয়ে বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউশা আ.। আসলে কোনও বড়ো দায়ী যদি আপাতদৃষ্টিতে অসফলও হন তবুও সফলতার যে বীজ বুনে যান তা পরবর্তীতে হলেও প্রস্ফুটিত হয়।
সুতরাং আপাত অসফল হলেও আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে, দাওয়াতি কাজ চালাতে হবে হতাশ হওয়া যাবে না। বহু পরে হলেও এর ফল মেলে। তখন পরবর্তীদের দ্বারা পূর্ববর্তীদের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে যায়।
৪। ধর্ম তো বিশ্বাসের নাম। বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মকে আদতে ব্যাখ্যা করা যায় না৷ এই যে, ইউশা আ. এর দোয়ায় সূর্যের স্থির হয়ে যাওয়া বিজ্ঞানের দ্বারা এটাকে কি করে ব্যাখ্যা করব আমর! আসলে আল্লাহর কুদরতই সর্বময়।
৫। বিসিএসে এই প্রশ্ন কখনোই আসবে না, তবুও আমাদের জানা থাকুক সূর্যও একদিন স্থির হয়ে গিয়েছিল- ইউশা আ. এঁর জন্য। এই স্থির হয়ে যাওয়া, অসম্ভবের সম্ভব হওয়া কিন্তু নবীদের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়৷ আজও মুমিনের সাহায্যে রব্ব তাঁর রহম এইভাবেই বিলিয়ে দেবেন।