তুরাস পাঠকেন্দ্র

তুরাস পাঠকেন্দ্র ইসলামি জ্ঞান ও চিন্তাচর্চার প্লাটফর্ম

আজকের স্বনির্মাণ আড্ডা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। দ্বিতীয় সাময়ীক পরীক্ষার ছুটিতে পরবর্তী আড্ডা অনুষ্ঠিত হব...
27/07/2026

আজকের স্বনির্মাণ আড্ডা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।

দ্বিতীয় সাময়ীক পরীক্ষার ছুটিতে পরবর্তী আড্ডা অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। নির্ধারিত বই 'পাওয়ার অফ পার্সোনালিটি'

বইয়ের ছবি কমেন্টে।

25/07/2026

তুরাস পাঠকেন্দ্র পরিচিতি

পবিত্র কুরআনের প্রথম আদেশ— পড়। এ জন্য ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই শুরু হয়েছিলো জ্ঞানচর্চার ধারা। সেই ধারাবাহিকতায় কয়েক শতাব্দির মধ্যেই মুসলিম অধ্যুষিত শহরগুলো হয়ে ওঠে পৃথিবীর জ্ঞানচর্চার একেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বাগদাদে গড়ে ওঠে পৃথিবীর সবচে সমৃদ্ধ গবেষণাগার ও গ্রন্থ সংগ্রহশালা ‘বাইতুল হিকমাহ’। পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর দক্ষিণ সবদিক থেকে জ্ঞানপিপাসুরা ছুটে আসতে থাকেন মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে। জ্ঞানের আলো নিয়ে তারা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর দিকে দিকে। বাগদাদের আলোয় আলোকিত হয় আন্দালুস। আন্দালুসের জ্ঞান-বিজ্ঞান ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে ইউরোপের অন্ধকার জগতে। পৃথিবী এক অভূতপূর্ব জ্ঞানগত জাগরণে হেসে ওঠে। উলামায়ে কেরাম, ইসলামি আইনবিদ, মুহাদ্দিসীন, মুফাসসীরিন ও দার্শনিকদের হাত ধরে জ্ঞানচর্চার এ ধারা চলতে থাকে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে।

মাঝে রাজনৈতিক অধঃপতন ও নানা কারণে মুসলমানরা দৈন্যদশার ভেতর দিয়ে গেলেও একবিংশ শতাব্দিতে আবার জেগে উঠতে শুরু করেছে মুসলিম বিশ্ব। জ্ঞানচর্চার সেই হারানো ঐতিহ্য নতুন করে সজিব হয়ে উঠতে শুরু করেছে। তুরষ্ক, মিসর, আরব ও মালয়েশিয়াসহ ঐতিহ্যবাহী মুসলিম শহরগুলোতে গড়ে উঠছে বড় বড় বিশ্বাবিদ্যালয় ও উন্মুক্ত লাইব্রেরি।

আমরা বাংলাদেশী মসুলিমরা ধর্মীয় আবেগ অনুভূতিতে অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের নানা শাখায় গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে। আমাদের রাজধানী ঢাকা মসজিদের শহর হওয়া সত্ত্বেও এখানে গড়ে উঠেনি সমৃদ্ধ কোনো ইসলামি পাঠাগার। হাজারও মাদরাসার নগরী ঢাকায় নেই ইলমি তৃষ্ণা নিবারণ করার মতো বৃহদাকারের কোনো স্বতন্ত্র মাকতাবা। ফলে গবেষণার গতি এখানে খুব শ্লথ। বিশ্ববরেণ্য ইসলামিক স্কলার তৈরির পথ এখানে প্রায় রুদ্ধ। জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধানে ইসলামকে জ্ঞানতাত্ত্বিক শক্তিশালী জায়গা থেকে হাজির করার প্রচেষ্টা একেবারেই ঢিলাঢালা অথবা ভুল পথে ধাবমান।
এই বিশাল শূন্যতা পূরণে কাজ করার দৃঢ় পত্যয় থেকেই তুরাস পাঠকেন্দ্র’র জন্ম।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :
1. বিশ্বমানের একটি উন্মুক্ত ইসলামি গ্রন্থ সংগ্রহশালা ও উন্মুক্ত পাঠাগার গড়ে তোলা।
2. বিভিন্ন বিষয়ে ইলমি হালাকা, পাঠচক্র, সেমিনার-কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক নানা কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সিলসিলা গড়ে তোলা।
3. উলুমে ইসলামিয়ার নানা শাখায় গবেষণার পরিবেশ তৈরি করা।
4. ইসলামি বই-পুস্তককে সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সময়োপোযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা। যেমন- ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, আঞ্চলিক পাঠাগার, মাদরাসা পাঠাগার ইত্যাদি।
5. পাঠকদের বয়স, শ্রেণী, পেশা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে বই সাজেস্ট করে ইসলাম সম্পর্কে জানতে সহায়তা করা।
6. মোটকথা, ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রচার প্রসার, গবেষণার পরিবেশ তৈরি, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ও ইসলামপন্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির জন্য কাজ করা।

চলমান কার্যক্রম :
1. পাঠচক্র : একটি পাক্ষিক পাঠচক্র কার্যক্রম প্রায় দুই বছর যাবত চলমান আছে। ধীরে ধীরে এর পরিধি বড় হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। ইতিমধ্যে আমরা আত্মউন্নয়ন, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন ও শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ক পাঠচক্র সম্পন্ন করেছি। চলমান পাঠচক্রের বিষয় : উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপটে বাংলার ইতিহাস ও চিন্তাচর্চা। এর একটি পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। আগামী আগস্টের প্রথম শুক্রবার চলমান পাঠচক্রের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ।

2. পাঠাগার : ছোট পরিসরে হলেও ঢাকার ভেতরে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পাঠাগার দৃশ্যমান করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পাঠাগারের জন্য মাসিক ও বার্ষিক দাতা সদস্য সংগ্রহ চলছে। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ আগ্রহী হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

তুরাসের আয়োজনে ময়মনসিংহে স্বনির্মাণ আড্ডা-২
25/07/2026

তুরাসের আয়োজনে ময়মনসিংহে স্বনির্মাণ আড্ডা-২

প্রাচীন ভারতের ধর্ম সম্পর্কে এই বইটা মোটামুটি ধারণা দেয়। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ। এই চার ধর্মের কমন কিছু বিষয় আছে। প্রধ...
09/07/2026

প্রাচীন ভারতের ধর্ম সম্পর্কে এই বইটা মোটামুটি ধারণা দেয়। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ। এই চার ধর্মের কমন কিছু বিষয় আছে।
প্রধানত এই ধর্মগুলো দুনিয়াবিমুখ। পার্থিব সকল সম্পর্ক থেকে মুক্ত হতে পারাই এখানে সফলতা। এমনকি জৈন ধর্মে মানুষকে পোশাকের শৃঙ্খল থেকেও মুক্তির কথা বলা হয়। হিন্দু ধর্মেও পোশাকের বেড়াজাল থেকে মুক্তির ব্যাপার ঢুকে গেছে। তাই ভারতের অনেক জায়গায় পুরোপুরি উলঙ্গ অবস্থায় ধর্মীয় নানা আয়োজন হয়।
এই প্রবণতার কারণে এখনও হিন্দুস্তানী ধর্মগুলোতে কেউ ধর্মীয়ভাবে এগিয়ে গেলে সে স্বাভাবিকভাবেই সংসার, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পার্থিব স্বচ্ছলতা থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরতে থাকে। এক ধরণের ভেতরগুটানো একাকী জীবনের দিকে তারা ধাবিত হয়।
এমনকি এই অঞ্চলে মুসলমানদের মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অথচ ইসলাম তার সূচনাকাল থেকেই সমৃদ্ধ জীবন যাপনের বিরোধী না। ইসলামের প্রাণপুরুষ মহানবী সা. এর একান্ত ঘনিষ্ট সাহাবীদের মধ্যেই তৎকালীন আরবের ধনী মানুষরা ছিলেন। তবে ধন তাদের জীবনধারাকে প্রভাবিত করতে পারেনি। সম্পদকে তারা কল্যাণের কাজে ব্যবহার করেছেন। সম্পদের দ্বারা ব্যবহৃত হননি। মানুষ সম্পদশালী হয়েও সম্পদের মোহ থেকে মুক্ত থাকতে পারে— এই ধারণা সর্বপ্রথম ইসলাম দিয়েছে। শুধু ধারণা দেয়নি, একেবারে বাস্তব উদাহরণ পেশ করে গেছে। যার কারণে দেখা যায়— জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর দুইজনই ছিলেন তৎকালীন আরবের ধনী ব্যবসায়ী। এই উদাহরণ পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্মে কল্পনা করা অসম্ভব।
গৌতম বুদ্ধ ছিলেন রাজ পরিবারের সন্তান। কিন্তু তাকে আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য রাজপ্রাসাদ ছাড়তে হয়েছে। ভিক্ষু হওয়ার পর তার বাবা যখন তাকে খুঁজে পান তখন তাকে শত অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি আবার সেই যাযাবর জীবনেই ফিরে যান। তিনি সম্পদ ও আধ্যাত্মিকতার মাঝে সমন্বয় করতে পারেননি। এই ধারণা ভারতীয় উপমহাদেশে এখনও রয়ে গেছে।
যার কারণে মসজিদের ইমামের জন্য ব্যবসা করা দূষণীয়।
ঠিক এই ব্যাপারটা আমরা রাজনীতিতেও দেখি। ধর্ম এবং রাজনীতিকে মানুষ একত্র করতে পারে না। ক্ষমতাকে ধর্মীয় মানুষজন ভালো চোখেই দেখে না। একটা নেতিবাচক দৃষ্টি সবসময় ক্ষমতার দিকে দিয়ে রাখে। রাজনীতিবিদরাও নিজেদেরকে দুনিয়াদার মনে করে। তারা নিজেদেরকে ধর্মীয় দৃষ্টি থেকে মানবতার সেবক বা বড় পূণ্যকর্মে নিয়োজিত কিছু মনে করতে পারে না।
এমনকি মুসলিমরাও অবচেতনে এই ধারণার দ্বারা প্রাভাবিত। ট্রাডিশনাল ধারাগুলোতে যদি খেয়াল করেন দেখবেন, ঘরোয়া ধর্মীয় আসরগুলোতে যেসব মোটিভেশনাল আলাপ হয় সেখানে রাজনীতির মাধ্যমে পূন্য অর্জনের কোনো আকাঙ্খা থাকে না। ভেতরগুটানো, সামাজিক দায়ভারহীন একটা একান্ত জীবনের ছক সেখানে আঁকা হয়। এটাই কাঙ্খিত ও অর্জনীয় মনে করা হয়। যারাও রাজনীতিকে মেনে নেয় তারাও ধর্মীয়ভাবে একটা সেফ জোনে থেকে রাজনীতি করতে চায়। এবং রাজনীতিকে দুনিয়াবি কাজ হিসেবেই দেখে। রাজনীতিবিদদেরকে পণ্ডিত আলেমরা বড় বড় উপদেশবাণী শোনাতে ইতস্তত করেন না। যেনবা তারা দুনিয়াদারিতে লিপ্ত, তাদেরকে সঠিক পথে চলার উপদেশ দেয়া হচ্ছে। নিজের মধ্যে রাজনীতি নামক নেককাজে যুক্ত হতে না পারার আক্ষেপ তাদের মাঝে দেখা যায় না।
এর বিপরিতে যারা আলেম হয়েও রাজনীতি করেন তাদের ক্ষেত্রে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। তারা দ্বীনি পড়া পড়ানোর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে না পারার কারণে আক্ষেপে ভোগেন। অন্যন্য আলেমদের কাছে গেলে নিজেদেরকে উপদেশের মুহতাজ মনে করেন। তাদেরকে উপদেশ গ্রহণের উপযুক্ত মনে করতে পারেন না। যেন পড়া পড়ানোই দ্বীনি কাজ, ইলম অর্জন করে রাজনীতি করা বা সামাজিক কোনো কাজে –যা দ্বীনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত— নিয়োজিত থাকাটা দ্বীনি কাজ না।
একটা ক্লাসরুমে বসে কয়েকজন ছাত্রের সামনে অর্থনীতির কোনো হাদিস পড়ানো আর সেমিনারে দাঁড়িয়ে ব্যাংকারদেরকে ইসলামি অর্থনীতি বুঝানোর মাঝে আসলে শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো তফাৎ নেই। কিন্তু এই সামাজে দুইটার মধ্যে তফাৎ আছে। যিনি ব্যাংকারদেরকে ইসলামী অর্থনীতি বুঝানোর জন্য কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করছেন তার চেয়ে যিনি মাদরাসায় বসে পনেরজন ছাত্রের সামনে নুরুল আনওয়ার পড়াচ্ছেন, তিনি বেশি দ্বীনি কাজে লিপ্ত। প্রথম জনের ইলমি দক্ষতার স্বীকৃতির জন্য কোনো মাদরাসায় দরসের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু দ্বিতীয়জনের ইলমি মাহারাতের জন্য বাড়তি কোনো কিছু জরুরি না। এমনকি সারাদিন নির্দিষ্ট একটি কিতাব পড়ানো ছাড়া অন্য কোনো মুতালা না করলেও তাকে আলেম হিসাবে মেনে নেয়া মানুষের জন্য সহজ।
যিনি দরসে বসে মদিনা রাষ্ট্রের কোনো ঘটনা শুনাচ্ছেন, আর যিনি কোনো সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাধারণ জনতাকে ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার বক্তৃতা দিচ্ছেন; এদের দুইজনের মাঝে সমাজের চোখে বিস্তর ফারাক। প্রথম জনের আলেম স্বীকৃতির জন্য আর কিছুর প্রয়োজন নাই, কিন্তু দ্বিতীয়জনের আলেম স্বীকৃতির জন্য কোনো দরসগাহে হাজিরা দেয়া জরুরি।
এই কারণেই শুধু মসজিদ ও মাদরাসা ছাড়া অন্য কোনো দ্বীনি কাজকে ফুলটাইম পেশা হিসেবে গ্রহণ করা আলেমদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তিনি যা-ই করুন তাকে কোনো না কোনো দরসের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। চাই সেখানে পাঁচজন ছাত্র থাকুক, যারা বাবা মার মানত পুরা করার জন্য কিতাব খুলে বসে আছে। আর যারা নানা সেক্টরে দ্বীনের আলো পাওয়ার আশায় হাহাকার করছে, সেখানে ফুলটাইম কাজে যুক্ত থেকে সেই সেক্টরে দ্বীনি মাহাওল গড়ে তোলাকে দুনিয়াবি কাজ অথবা আলেমের শানের খেলাফ বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
এই অবস্থার পেছনে উপমহাদেশীয় ধর্মগুলোর বৈরাগ্যবাদের প্রভাব অনেক বেশি, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। হাজার হাজার বছর ধরে এদেশের মানুষের ডিএনএ যে বৈরাগ্যবাদী ধর্মীয় বিশ্বাস ধারণ করে আসছে তার প্রভাব থেকে মুসলমানরা মুক্ত হতে পারেনি।
এই মুক্ত না হতে পারার কারণ হলো, সাধারণ মানুষ জীবনের কখনই একটু সময় নিয়ে ইসলামের ইলমি তুরাস ধারণ করার সুযোগ পায় না। তারা ভাসাভাসা কিছু তথ্য ও কুরআনের যৎসামান্য তিলাওয়াত শিক্ষা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কুরআনের চিন্তাবিপ্লবের হাওয়া তাদের গায়ে লাগার সুযোগ নাই, জীবনবোধের গভীর বোঝাপড়ায় কুরআন ও হাদিসের সঠিক জ্ঞান তাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে বাপ দাদা ও সমাজ-সংস্কৃতি থেকে প্রাপ্ত জিনগত বৈশিষ্ট্যই তাদের ধর্মীয় মূল্যাবোধ নির্ধারণ করে।
আর মসজিদ, মাদরাসাসহ সর্বত্রই আলেমরা এই সাধারণ মানুষে চাহিদার আলোকে জ্ঞান সরবরাহ করেন। যেমন- সাধারণ মানুষের মনের চাহিদা মেটানোর মত করে বয়ান করা, মানুষ যেসব বিষয় বেশি শুনতে চায় সেই ধরণের কিচ্ছা কাহিনী ও টপিক নিয়েই আলোচনা করা ইত্যাদি। সাধারণ মানুষের চিন্তার জগতকে পুনঃবিন্যাস করার জন্য আলোচনা, পাঠদান ও ঘরোয়া আলাপ খুব কম হয়।
বিষয়গুলো নিয়ে আলেমদের সিরিয়াসলি ভাবা দরকার।

বইয়ের রিভিউ লিখতে গিয়ে কথা অন্যদিকে ঘুরে গেলো।

চমৎকার ছিলো আজকের পাঠচক্র। মেধাবী তরুণদের উপস্থিতিতে জিয়া উদ্যানের নরোম ঘাসে জমে উঠিছিলো আমাদের আড্ডা। কথার পীঠে চড়ে আমর...
26/06/2026

চমৎকার ছিলো আজকের পাঠচক্র। মেধাবী তরুণদের উপস্থিতিতে জিয়া উদ্যানের নরোম ঘাসে জমে উঠিছিলো আমাদের আড্ডা।

কথার পীঠে চড়ে আমরা ভ্রমণ করেছি প্রাচীন ভারতের রাজনীতি, ধর্মদর্শন ও সমাজের বিস্তীর্ণ সীমানায়। বিশেষভাবে উঠে আসে আদি বাংলার ভোগোল, সমাজ ও সংস্কৃতি।

বিশেষভাবে বুঝার চেষ্টা করি, প্রচীন ভারতের ধর্মীয় চিন্তা ও দর্শনের কোন দিকগুলো হাজার হাজার বছর পরও আমাদের সমাজ ও ধর্মচিন্তায় প্রভাব বিস্তার করে আছে।

আলোচনা করেছেন মাওলানা মাজিদুর রহমান, গদ্যকার ইবরাহিম জামিল, লেখক আরিফ খান সাদ ও আবু নাঈম ফয়জুল্লাহ।

ইতিহাস চর্চার বিকল্প নেই। তবে শুধু তথ্য মুখস্ত করার নাম ইতিহাস চর্চা নয়। বর্তমানের সাথে অতীতের সংযোগ ঘটানোর নাম ইতিহাস চ...
25/06/2026

ইতিহাস চর্চার বিকল্প নেই। তবে শুধু তথ্য মুখস্ত করার নাম ইতিহাস চর্চা নয়। বর্তমানের সাথে অতীতের সংযোগ ঘটানোর নাম ইতিহাস চর্চা। বর্তমানের প্রতিটি সমস্যা, সমাজের প্রতিটি বাঁকবদলের সাথে জুড়ে থাকে অতীতের অনেক ঘটনাপ্রবাহ। যুগ যুগ ধরে একটি ভূখণ্ডের মানুষের ডিএনএতে জমতে থাকা অভিজ্ঞতা সেই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ সমাজ, জ্ঞানতত্ত্ব ও মনস্তত্ত্বে প্রভাবক হয়ে থাকে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে।
আমরা সমাজ ও রাষ্ট্রের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে আলাপ করি। সমস্যা, তার কারণ ও সমাধান সবকিছুই আমরা সাধারণত বর্তমানের চৌহদ্দির ভেতরে খুঁজে বেড়াই। অথচ সমস্যার প্রকৃত কারণ লুকিয়ে থাকে অতীতের গহীন অরণ্যে, শত শত বছর ধরে গড়ে ওঠা সেই ভূখণ্ডের মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীরে। হ্যাঁ, শুধু অতীত দিয়েই সবকিছু বিচার করা যায় না, তবে অতীতকে ধারণ না করেও কোনো কিছুকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায় না।
আমরা কয়েক পর্বে অনুষ্ঠিতব্য এ পাঠচক্রে বুঝার চেষ্টা করবো, হাজার হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ কোন ধরণের মনস্তাত্বিক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে গেছে। ইতিহাসের পার্টগুলো কিভাবে এই অঞ্চলের মানুষের বর্তমান সমৃদ্ধি, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গড়ে তুলেছে। বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটগুলোর জন্য কোন ধরণের মনস্তত্ব দায়ী। সেগুলো কিভাবে গড়ে উঠেছে। আমাদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অভিজ্ঞতাগুলো ঠিক কেমন? ইসলাম বোঝাপড়াটাই বা কিভাবে আগে বেড়েছে? কোন কোন জায়গায় ঘাটতি রয়ে গেছে? সেই আলোকে ভবিষ্যতের পথরেখা কী হওয়া উচিৎ? ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করাই আমাদের এই পাঠচক্রগুলোর উদ্দেশ্য।
তো ধারাবাহিক পাঠচক্রের প্রথম পর্ব আগামীকাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইনশাল্লাহ।
ইসলামের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত ভারতবর্ষের ভূগোল, ধর্ম-দর্শন, সমাজ-সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে মোটাদাগে বোঝার চেষ্টা থাকবে এই পর্বে।
আগ্রহী হলে আপনিও আসতে পারেন।

.এই সময়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, সবাই খুব ব্যস্ত। বাচ্চা থেকে বুড়ো সবারই সময় কাটানোর পর্যাপ্ত উপকরণ বিদ্যমান। কিন...
02/06/2026

.
এই সময়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, সবাই খুব ব্যস্ত। বাচ্চা থেকে বুড়ো সবারই সময় কাটানোর পর্যাপ্ত উপকরণ বিদ্যমান। কিন্তু এই ব্যস্ততা ও ব্যস্ততার উপকরণগুলো মানুষকে আত্মবিমুখ করেছে।
একটা সময় মানুষ অবসরগুলো একান্ত নিজের মতো করে কাটাতো। ফলে জীবনে গল্প ছিলো, আড্ডা ছিলো, নিজেকে আবিষ্কার করার নানান উপলক্ষ্য ছিলো।
কিন্তু এখন মানুষের অবসর আর নিজের মতো যাপন করার সুযোগ নেই, অফুরন্ত সময়ের গভীরে হারিয়ে গিয়ে নিজের দিকে নতুন করে তাকাবার ফুরসত নেই। প্রযুক্তির কর্তারা এখন আমাদের অবসরের নিয়ন্তা। আমাদের কাজের ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট অবসরগুলোর দখলও তারা নিয়ে নিয়েছে।

তাই এখন আমাদের অবসরগুলো পরিকল্পনা করেই যাপন করতে হবে। অবসরগুলো যেন নিজেকে নিয়ে ভাবনার, এবং নিজের স্বপ্নগুলো সাজিয়ে নেয়ার উপলক্ষ্য হতে পারে সেজন্যই আমাদের এ আয়োজন।

'স্বনির্মাণ আড্ডা' শিরোনাম থেকেই এর কাজ ও লক্ষ্য স্পষ্ট। নিজেকে নির্মাণ করা, নিজের চিন্তাকে ঝালাই করা। সময়ের সাথে নিজেকে আপডেট করা।

জীবনের লক্ষ্য, ক্যারিয়ার, আত্মউন্নয়নের নানান দিক নিয়েই আলাপ হবে। 'আড্ডা' শব্দ থেকে এটাও স্পষ্ট যে, একপাক্ষিক, প্রশিক্ষণধর্মী কোনো কিছু না এটা। বরং জীবনের বাস্তব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জকে আমলে নিয়ে আড্ডামুখর একটা আয়োজন হবে এটা। তবে শুধুই এলোমেলো সময় কাটানোর আড্ডা না, বরং প্রতিটি আড্ডায় আলাদা আলাদা টপিক ঠিক করে একটা ফলপ্রসূ পরিণতির দিকে আগানোর চেষ্টা থাকবে।
যারা ক্যারিয়ারে অনেকটা এগিয়ে গেছেন তাদের চেয়ে উঠতি তরুণদের জন্য বেশি উপকারী হবে আমাদের আয়োজন।

তবে উম্মাহ ভাবনা ও সমাজ বিনির্মাণের নানা উদ্যোগে যারা অনেক দূর এগিয়ে গেছেন তাদেরকেও আমরা নিজেদের গল্প শুনিয়ে তরুণদের উৎসাহিত করার জন্য আমন্ত্রণ করবো।
প্রতি ছুটিতেই আমরা একত্র হবো ইনশাআল্লাহ।

তো আসুন, আমরা একসাথে বসি, আড্ডা দিই, নিজেকে নিয়ে, নিজের চারপাশ ও সমাজ নিয়ে স্বপ্ন সাজাই।

আমাদের প্রথম আড্ডা আগামী শুক্রবার বিকাল তিনটায়, ময়মনসিংহের টাউনহল, নদীর পাড়ে, জয়নুল আবেদীন পার্কে।

তো দেখা হচ্ছে তো? কমেন্টে জানাইয়েন।

প্রশ্ন : তুরাস পাঠকেন্দ্র কী? উত্তর : ইসলামি জ্ঞান ও চিন্তাচর্চার প্লাটফর্ম আমাদের লক্ষ্য : 1. বিশ্বমানের একটি উন্মুক্ত ...
26/04/2026

প্রশ্ন : তুরাস পাঠকেন্দ্র কী?
উত্তর : ইসলামি জ্ঞান ও চিন্তাচর্চার প্লাটফর্ম

আমাদের লক্ষ্য :
1. বিশ্বমানের একটি উন্মুক্ত ইসলামি গ্রন্থ সংগ্রহশালা গড়ে তোলা। এবং সর্বস্তরের পাঠকদের জন্য ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও এরসাথে প্রাসঙ্গিক যেকোনো বিষয়ে বই পাঠের অবারিত সুযোগ তৈরি করা।
2. বিভিন্ন বিষয়ে ইলমি হালাকা, পাঠচক্র, সেমিনার-কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক নানা কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সিলসিলা গড়ে তোলা।
3. উলুমে ইসলামিয়া তথা ইসলামি জ্ঞান বিজ্ঞানের নানা শাখায় গবেষণার জন্য একটি সার্বজনীন উন্মুক্ত প্লাটফর্ম গড়ে তোলা।
4. ইসলামি বই-পুস্তককে সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সময়োপোযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিশেষত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনা করা।
5. পাঠকদের বয়স, শ্রেণী, পেশা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে বই সাজেস্ট করে ইসলাম সম্পর্কে জানতে সহায়তা করা।
6. মোটকথা, ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রচার প্রসার, গবেষণার পরিবেশ তৈরি, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ও ইসলামপন্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির জন্য কাজ করা।

16/01/2025

.
কওমি নেসাবে স্তরবিন্যাসের জটিলতা ছিলো এবং এখনও আছে।
নামকাওয়াস্তে কিছু স্তর আছে। কিন্তু এর কার্যকরী কোনো ফলাফল নেই। বছরের পর বছর পড়ার পর কোনো কারণে যদি কেউ দাওরা পরীক্ষা দিতে না পারে তাহলে তার শিক্ষার কোনো দাম নেই।

স্তরভিত্তিক কারিকুলাম না থাকার কারণে সববে বড় যে সমস্যাটা তৈরি হয়েছে তা হলো, নুরানীর শিক্ষক থেকে শাইখুল হাদিস পর্যন্ত সবাই দাওরায়ে হাদিস পাশ। দেশের শীর্ষ আলেম এবং মসজিদের মুয়াজ্জিন, দুইজনই একই সনদধারী।

যদি শিক্ষাব্যবস্থা স্তরভিত্তিক সাজানো থাকতো এবং স্তর অনুযায়ী কর্মক্ষেত্র নির্ধারিত থাকতো তাহলে এই সমস্যা এতটা প্রকট আকারে দেখা দিতো না। এখন একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, আসলে বড় আলেম কে আর ছোট আলেম কে?
গ্রামের মসজিদের ইমাম থেকে বাইতুল মোকাররমের ইমাম পর্যন্ত সবাই মুফতি সাহেব।

এর ফলাফলও আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে। তা হলো, সাধারণ মানুষ এখন বক্তৃতার ধার দেখেই বড় আলেম ছোট আলেম নির্ধারণ করে। যে যত ভালো বক্তৃতা দিতে পারে সে তত বড় আলেম।

27/10/2024

সম্মিলিত নুরানী শিক্ষাবোর্ড

ভাঙা ও গড়ার কাজটা একই সাথে হয়। আজকের একটা সুসংবাদ হলো, নুরানী বোর্ডগুলো একত্র হয়ে সম্মিলিত একটি বোর্ড গঠন করেছে। এটা খুবই জরুরি একটা কাজ ছিলো। এতদিন নুরানীর অনেকগুলো বোর্ড একই সাথে সক্রিয় ছিলো। মাওলানা বেলায়েত সাহেবের ধারার নুরানীরই অনেকগুলো বোর্ড সক্রিয়। ঢাকা বোর্ড, চট্টগ্রাম বোর্ড, উত্তরবঙ্গ বোর্ড ও খুলনা বোর্ড। এগুলো আবার এক বোর্ড আরেক বোর্ডের এড়িয়ার মধ্যেই কাজ করতো। ফলে একই এলাকায় দুই তিন বোর্ডের মাদরাসা ছিলো। তা ছাড়া বোর্ড ভিন্ন হওয়ার কারণে সিলেবাসেই ভিন্নতা আছে।
এখন যদি সবগুরো বোর্ড একত্র হয়ে একই সিলেবাস অনুসরণ করে তাহলে আগামীতে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরণের অগ্রগতি আশা করা যায়।

জানি না, বোর্ডগুলো কী ধরণের শর্তের ভিত্তিতে একত্র হয়েছে। তবে যিনি মহাসচিব হয়েছেন তাকে আমি ভালো করে চিনি। তিনি উত্তরবঙ্গকেন্দ্রীক ইকরা নুরানি তালিমুল কুরআন বোর্ডের চেয়ারম্যান। খুব উদ্যোমী ও প্রাণোচ্ছল মানুষ। উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি নুরানী প্রাথমিক শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। টাঙ্গাইলে ও উত্তরব নুরানীর সম্মিলিত নতুন বোর্ডের হাত ধরে প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন যুগের সূচনা হোক। সিলেবাসকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হোক।
তাদের কাছে আশা করবো, এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা সিলেবাস প্রণয়ন করা হোক যা সব ধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব। যা শেষ করার পর কওমি, আলিয়া ও স্কুল সব প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন হয়ে যায়।

আমাদের মূলত তিনটি বোর্ড দরকার।
1. নুরানী শিক্ষাবোর্ড।
2. হিফজ শিক্ষা বোর্ড।
3. দরসে নেযামী শিক্ষা বোর্ড।
সারা দেশের নুরানী মাদরাসাগুলো পরিচালিত হবে নুরানী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে। হিফজুল কুরআন বিভাগগুলোর সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণ করবে হুফফাজুল কুরআন ও এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কোনো বোর্ড। এবং বেফাকসহ জাতীয় বোর্ডগুলোতে এই দুই স্তরের কোনো পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে না। কারিকুলাম নির্ধারণ, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও পরীক্ষা গ্রহণ সবই হবে নুরানী হিফজুল কুরআন বোর্ডের অধীনে।
আর কিতাব বিভাগের সকল মাদরাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য স্বতন্ত্র জাতীয় একটি সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড গড়ে তুলতে হবে। এই বোর্ড শুধু কিতাব বিভাগকেন্দ্রীক চিন্তা করবে। কিতাব বিভাগের মানোন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম ও সিলেবাস নির্ধারণ ইত্যাদি।

এখন যে সিস্টেম আছে তাতে— বেফাকের কার্যক্রমের বড় জায়গা দখল করে আছে নুরানী ও হিফজুল কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা গ্রহণ। শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও তারা নুরানী ও হিফজুল কুরআনের প্রশিক্ষণকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটা কাম্য নয়। আমার বুঝে আসে না, নুরানীর এতগুলো বোর্ড থাকতে এবং হুফফাজুল কুরআনসহ অসংখ্য হিফজুল কুরআন শিক্ষক প্রশিক্ষণের প্লাটফর্ম থাকতে কেন বেফাককে এসব প্রশিক্ষণের প্রতি মনোযোগ দিতে হয়? অথচ কিতাব বিভাগের শিক্ষক প্রশিক্ষণের প্রতি কোনো মনোযোগ নেই। দরসিয়াত নামে একটি প্রশিক্ষণ হয় এটা নসিহতমূলক কিছু একটা, এটাকে ঠিক প্রশিক্ষণ বলা যায় কিনা সন্দেহ আছে। ফনভিত্তিক আলাদা প্রশিক্ষণ চালু করা সময়ে দাবী।

যাইহোক, সময়ের অনেক দাবিকেই বেফাক ও জাতীয় বোর্ডগুলো পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ময়মনসিংহে স্বতন্ত্র বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আবার হাটহাজারিতে নতুন শিক্ষাবোর্ডের জন্ম হচ্ছে। হাটহাজারি ভালো কিছু করার জন্য শিক্ষাবোর্ড গঠন করছে না, বরং নিজেদের ঘরানাকে আরো শক্তিশালী করার জন্যই বোর্ড গঠন করছে। সময়ের দাবিকে পাশকাটিয়ে গেলে এভাবেই ভাঙতে থাকবে আমাদের আঙিনা।

প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি রাখে তা হলো— নুরানী শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করা। নুরানির ধারাটা সাধারণত তৃতয় শ্রেণী পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটা পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা হয় না। প্রাথমিক শিক্ষার কিছু অংশ কিতাব বিভাগে ঢুকে গেছে।
তাই পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাকে নুরানী বোর্ডের আওতায় এনে প্রাথমিক শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষায় রূপ দিতে পারলে প্রাথমিক শিক্ষার নেসাবটা আশা করি সার্বজনীন হবে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিল সমস্যার সমাধান করতে হবে। সেই আলাপ পরে কখনও করা যাবে।

Address

Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তুরাস পাঠকেন্দ্র posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category