27/05/2026
Al-Furqan International Institute
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Al-Furqan International Institute, Education, Sector 12, Uttara, Dhaka.
27/05/2026
এই লেখাটি যে আপনার সামনে এসেছে, তা হয়তো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আপনার
এই লেখাটি যে আপনার সামনে এসেছে, তা হয়তো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আপনার জন্য এক বিশেষ কল্যাণ ও হেদায়েতের নিদর্শন।
নিজের জীবনের ব্যস্ততা থেকে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে এটি পড়ুন।
আল্লাহর কসম, যদি আপনি এই পরামর্শটি গ্রহণ করেন, তবে আসমান ও জমিনের বরকতের দুয়ার আপনার জন্য খুলে যাবে। ইনশাআল্লাহ
আপনার জীবনকে কুরআনের সাথে মিশিয়ে দিন। তিলাওয়াত হোক আপনার নিত্যসঙ্গী। চাই তা দেখে হোক কিংবা মুখস্থ। তিলাওয়াতের বাইরেও সারাক্ষণ কুরআন শোনার অভ্যাস করুন।
যাতায়াতের সময়, কাজের অবসরে বা এমন কোনো কাজে যেখানে গভীর মনোযোগের প্রয়োজন নেই—সর্বক্ষণ কুরআন চালু রাখুন।
আল্লাহর কসম! আপনি আপনার সময়ে এমন এক বরকত এবং হৃদয়ে এমন এক অনাবিল প্রশান্তি খুঁজে পাবেন, যা কুরআনের সান্নিধ্য ছাড়া আর কোথাও সম্ভব নয়।
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি।" (সূরা সোয়াদ: ২৯)।
সালাফদের একজন বলতেন, "আমরা যখনই কুরআনে মশগুল হয়েছি, তখনই দুনিয়ার নেয়ামত ও বরকত আমাদের ঘিরে ধরেছে।"
ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল ওয়াহেদ আল-মাকদিসি রহ. বলতেন, "কুরআন তিলাওয়াত ছেড়ো না। তুমি যতটুকু তিলাওয়াত করবে, তোমার কাজগুলো ততটুকুই সহজ হয়ে যাবে।"
ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, "যে ব্যক্তি নিয়মিত কুরআন পড়বে, ১০০ বছর বয়সেও তার বুদ্ধি ও চেতনা অক্ষুণ্ণ থাকবে।"
যখন তিলাওয়াত করার সুযোগ বা মানসিক অবস্থা থাকবে না, তখন আপনার প্রিয় ক্বারীর কণ্ঠে কুরআন শুনুন। কারণ আল্লাহ বলেছেন, "যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমাদের ওপর রহমত বর্ষিত হয়।" (সূরা আরাফ: ২০৪)।কুরআন শোনা হলো আল্লাহর রহমত পাওয়ার সবচাইতে দ্রুততম মাধ্যম।
ইবনুল জাওযি (রহ.) বলতেন, "মধু যেভাবে শরীরের রোগ সারায়, কুরআন তিলাওয়াত সেভাবে অন্তরের ব্যাধি নিরাময় করে।"
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলতেন, "আত্মার পুষ্টি, শরীরের সুরক্ষা এবং প্রকৃত সুখ নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত আল্লাহর কিতাবের দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে উত্তম আর কিছু আমি দেখিনি।"
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "তোমরা কুরআন পড়ো, কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার সঙ্গীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে।" (সহীহ মুসলিম)
সেদিন আপনার ভাই, মা, বাবা বা সন্তান যখন আপনার থেকে পালিয়ে বেড়াবে, তখন এই পবিত্র কুরআন আপনার
হতাশ হয়ে পড়েছিলাম, ভেঙে পড়েছিলাম…
তারপর শুনলাম — Surah Al-Anfal এর ৭০ নং আয়াত!
“হে নবী! তোমাদের হাতে যে বন্দীরা আছে তাদের বলে দিন, আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তরে কল্যাণ দেখেন, তবে তিনি তোমাদেরকে তার চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন যা তোমাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
— (সূরা আনফাল: ৭০)
এই আয়াত শুধু যুদ্ধবন্দীদের জন্য নয়, বরং প্রতিটি ভাঙা হৃদয়ের মানুষের জন্য এক বিশাল সান্ত্বনা।
যে মানুষ হারিয়েছে, কেঁদেছে, ঠকেছে, ব্যর্থ হয়েছে— আল্লাহ তাকে বলছেন:
“তুমি যা হারিয়েছ, আমি চাইলে তার চেয়েও উত্তম কিছু দিতে পারি।”
✅ আয়াতটির গভীর শিক্ষা
১. আল্লাহ কখনো শুধু কেড়ে নেন না
আমরা যখন কিছু হারাই—
সম্পর্ক, অর্থ, সম্মান, সুযোগ কিংবা প্রিয় মানুষ— তখন মনে হয় সব শেষ।
🌿 কিন্তু এই আয়াত শেখায়:
▪️আল্লাহ কোনো কিছু বিনা কারণে নেন না।
▪️তিনি কখনো ক্ষতি দিয়ে শেষ করেন না।
▪️অনেক সময় কষ্টের আড়ালেই থাকে সবচেয়ে বড় রহমত।
আজ যা হারিয়েছেন, হয়তো কাল সেটাই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামতের দরজা খুলে দেবে।
২. অন্তর ভালো হলে আল্লাহ পরিস্থিতি বদলে দেন
আয়াতে এসেছে:
“আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তরে কল্যাণ দেখেন…”
🌿 অর্থাৎ—
▪️আপনার নিয়ত ভালো হলে,
▪️আপনি আল্লাহর দিকে ফিরে এলে,
▪️তাওবা করলে,
▪️ধৈর্য ধরলে,
তাহলে আল্লাহ আপনার ভাগ্যও বদলে দিতে পারেন।
মানুষ বাহ্যিক অবস্থা দেখে,
কিন্তু আল্লাহ দেখেন হৃদয়।
৩. হারানোর পরেও নতুন শুরু সম্ভব
🌿 অনেকেই মনে করেন:
▪️“আমার জীবন শেষ”
▪️“আমি আর পারবো না”
▪️“সব শেষ হয়ে গেছে”
কিন্তু কুরআন বলে— আল্লাহ চাইলে ধ্বংসস্তূপ থেকেও নতুন জীবন তৈরি করতে পারেন।
যে রব শুকনো জমিনে বৃষ্টি নামিয়ে সবুজ করেন,
তিনি ভাঙা হৃদয়েও শান্তি ফিরিয়ে দিতে পারেন।
৪. আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিতে ভালোবাসেন
এই আয়াতে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:
"তিনি তার চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন…"
🌿 কখনো:
▪️হারানো মানুষের বদলে ভালো মানুষ,
▪️ব্যর্থতার বদলে সফলতা,
▪️কষ্টের বদলে প্রশান্তি,
▪️চোখের জলের বদলে সম্মান,
▪️দুঃখের বদলে বারাকাহ দান করেন।
তাই দেরি হলেও হতাশ হওয়া যাবে না।
৫. ক্ষমা ও রহমতের দরজা সবসময় খোলা
আয়াতের শেষ অংশ:
“আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
এটাই সবচেয়ে বড় আশ্বাস।
📖 *রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন* :-
👉তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়।
(১.) *যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সব কিছু থেকে প্রিয়,*
( ২.) *যে একমাত্র আল্লাহরই জন্য কোনো বান্দাকে মুহব্বত করেও
( ৩) আল্লাহ তা'আলা কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর সে পুনরায় কুফরে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করে ।
( _সহীহ বুখারী_ )
রিজিক বৃদ্ধির আমল
▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ১ : যতবার ইচ্ছে।
اللَّهُمَّ مُلِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
تُولِجُ الَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَ تُولِجُ النَّهَارَ فِي الَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ ز ز حِسَابٍ
আল্ল-হুম্মা মা-লিকাল মুলকি তুউ্ তিল মুলকা মাং তাশা----উ ওয়া তাংঝিউ'ল মুলকা মিম্ মাং তাশা----উ ওয়াতু ই'ঝ্ঝু মাং তাশা----উ ওয়া তুযিল্লু মাং তাশা----উ বি ইয়াদিকাল্ খইর। ইন্নাকা আ'লা কুল্লি শাইয়িং ক্বদীর।
তুলিজুল্ লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়া তুলিজুন্নাহা-র ফিল্লাইলি ওয়া তুখরিজুল্ হা'ই ইয়া মিনাল মাইয়েতি ওয়া তুখ্ রিজুল মাইয়েতা মিনাল হা'ইয়ি ওয়া তারঝুক্বু মাং তাশা----উ বিগইরি হি'ছা-ব।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। আপনি যাকে ইচ্ছে রাজ্য দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নেন এবং যাকে ইচ্ছে সম্মান দান করেন আর যাকে ইচ্ছে অপমান করেন। আপনারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল। আপনি রাতকে দিনের ভিতরে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের ভিতরে প্রবেশ করান। আর আপনিই জীবিতকে মৃতের ভিতর থেকে বের করে আনেন এবং মৃতকে জীবিতের ভিতর থেকে বের করেন। আর আপনিই যাকে ইচ্ছে বেহিসাব রিযিক দান করেন।
(সুরা আল ইমরান : ২৬, ২৭)
▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ২ : যতবার ইচ্ছে।
اللَّهُمَّ رَبَّنَا انْزِلْ عَلَيْنَا مَا بِدَةً مِنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدً الْأَوَّلِنَا وَاخِرِنَا وَ ج آيَةً مِنْكَ وَارْزُقْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرَّزِقِينَ
আল্ল-হুম্মা রব্বানা~ আংঝিল্ আ'লাইনা মা---- ইদাতাম্ মিনাছ্ ছামা---- ই তাকুনু লানা ই'দাল্লি আওয়ালিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আ ইয়াতাম্ মিংকা ওয়ার ঝুক্বনা ওয়া আংতা খইরুর রঝিক্বিন।
অর্থ: হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আসমান থেকে আমাদের প্রতি খাবারপূর্ণ দস্তরখান নাযিল করুন; এটা আমাদের জন্য ঈদ হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য। আর আপনার পক্ষ থেকে এক নিদর্শন হবে। আর আমাদেরকে রিয্ক দান করুন, আপনিই শ্রেষ্ঠ রিয্কদাতা।
(সুরা মায়িদাহ্ : ১১৪)
▪️রিজিক বৃদ্ধির দু'আ— ৩ : যতবার ইচ্ছে।
ﺭَﺏِّ ﺇِﻧِّﻲ ﻟِﻤَﺎ
ইসলামের আলোকে ১২টি কাজ যা নিয়মিত করলে আপনার জীবনের গতি পুরোপুরি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এই কাজগুলো কুরআন ও সুন্নাহের ভিত্তিতে নির্বাচিত। যদি আপনি এগুলো সত্যিকারের নিয়ত ও ধৈর্যের সাথে করেন, তাহলে আল্লাহ তা’আলা আপনার দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই বদলে দিবেন।
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করবেন
▪️(সূরা আল-মু’মিনূন: ৯)
নামাজ হলো ঈমানের মূল স্তম্ভ। সময়মতো নামাজ আদায় করলে আল্লাহ আপনার সব চিন্তা-ভাবনা ও কাজকে বরকতময় করে দেন।
২. প্রতিদিন কমপক্ষে ১ পারা কুরআন তিলাওয়াত করবেন
▪️(সূরা আল-বাকারা: ১৫১-১৫২)
কুরআন পড়লে হৃদয় শান্ত হয়, মনের অন্ধকার দূর হয় এবং জীবনের সব সমস্যার সমাধান আল্লাহ নিজেই দেখিয়ে দেন।
৩. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত জিকির করবেন
▪️(সূরা আল-আহযাব: ৪১)
“সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার” — এগুলো মুখে রাখুন। জিকির আল্লাহর সাথে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে, ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর করে।
৪. প্রতিদিন নিয়মিত সাদকা (দান) করবেন
▪️(সূরা আল-বাকারা: ২৬১)
যত ছোটই হোক (১০ টাকা, খাবার, হাসি, ভালো কথা) — দান করলে আল্লাহ আপনার রিজিক বাড়িয়ে দেন এবং বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
৫. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করবেন
▪️(সূরা আল-হাশর: ৭)
খাবার খাওয়া, ঘুমানো, কথা বলা, চলাফেরা — সবকিছুতে সুন্নাহ মেনে চলুন। এটি জীবনকে সহজ ও বরকতময় করে।
৬. পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবেন ও তাদের জন্য দোয়া করবেন
▪️(সূরা বনী-ইসরাইল: ২৩-২৪)
জান্নাত পিতা-মাতার পায়ের নিচে। তাদের সন্তুষ্টিতে আল্লাহ আপনার সব দোয়া কবুল করেন।
৭. শুধু হালাল রুজি উপার্জন করবেন ও হারাম থেকে পুরোপুরি দূরে থাকবেন
▪️(হাদিস: “প্রত্যেক মাংস হারাম দিয়ে গড়া, তা জাহান্নামের উপযুক্ত”)
হালাল রুজি আপনার দোয়া, নামাজ ও সব আমলকে কবুলযোগ্য করে।
৮. প্রতিদিন অন্তত একবার নিজের গুনাহের তওবা করবেন
▪️(সূরা আত-তাওবা: ১১৮)
আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন। প্রতিদিন তওবা করলে পাপের বোঝা কমে এবং নতুন করে শুরু করার সুযোগ হয়।
৯. প্রতিদিন সকালে ও রাতে দোয়া করবেন
▪️(সূরা আল-গাফির: ৬০)
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুকা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা” — এই দোয়া পড়ুন। দোয়া জীবনের চালিকাশক্তি।
১০. প্রতিদিন আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবেন
▪️(সূরা ইবরাহীম: ৭)
“আলহামদুলিল্লাহ” বলে শুকর করুন। শুকরিয়া করলে নেয়ামত বাড়তে থাকে।
👉 আপনার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার
প্রতিদিন আমরা নতুন কিছু শিখি কিছু ছোট, কিছু বড়। কখনও হয়ত মনে হয়, এই ছোট শেখার মুহূর্তগুলো গুরুত্বহীন। কিন্তু আসলে, এগুলোই আপনার জীবনের পথচলা বদলে দিতে পারে।
আমি সবসময় বলি, শিক্ষা কোনো কেবল বইয়ের পৃষ্ঠা বা ক্লাসরুমের চারপাশে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা মানে হলো আপনার কৌতূহলকে চেনা, প্রশ্ন করা, এবং নিজের সীমার বাইরে যাওয়ার সাহস রাখা। মনে করুন, একটি নতুন ভাষা শেখা বা একটি নতুন টুল ব্যবহার করা প্রথমে এটা কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু একদিন দেখবেন, এই ছোটটা আপনার জীবনকে বদলে দিচ্ছে, নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে।
সবচেয়ে বড় উদ্ভাবনগুলি আসে তাদের কাছ থেকে যারা শিখতে ভয় পাননি। তারা জানে, শিক্ষা হলো ক্ষমতা। এটি কেবল জ্ঞান দেয় না, এটি আপনাকে সাহস দেয় নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার।
আজই ভাবুন, আপনি কি শিখতে চাইছেন? কি নতুন জিনিস আপনাকে শক্তিশালী করবে? যখন আমরা শেখার দিকে মনোনিবেশ করি, তখন শুধু নিজের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও আমরা কিছু বড় করতে পারি। শিক্ষা এমন একটি হাতিয়ার যা ব্যবহার করলে, সত্যিই আপনি বিশ্বকে বদলে দিতে পারেন।
স্মরণ রাখুন ছোট একটি শেখার মুহূর্তই বড় পরিবর্তনের শুরু হতে পারে। আজই সেই মুহূর্ত শুরু করুন। shikkha
যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের আমল লিস্ট!
যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। এই দিনগুলোতে করা নেক আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তাই আসুন, আমরা আগে থেকেই কিছু আমল ঠিক করে নেই, যেন এই দিনগুলো উদ্দেশ্যহীনভাবে চলে না যায়।
সুন্দরভাবে গুছিয়ে আমল লিস্ট শেয়ার করছি যেন রেডি হয়ে যেতে পারেন--
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাসময়ে আদায় করা:
সব আমলের ভিত্তি হলো ফরয ইবাদত। চেষ্টা করি সময়মতো, মনোযোগের সাথে সালাত আদায় করতে।
২. বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা: বারবার বলি: *আস্তাগফিরুল্লাহ*
নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হই, আল্লাহর কাছে ফিরে যাই।
৩. তাকবীর, তাহমীদ, তাহলীল ও তাসবীহ বেশি পড়া:
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি পড়ি:
আল্লাহু আকবার**
আলহামদুলিল্লাহ**
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ**
সুবহান-আল্লাহ**
এভাবেও পড়তে পারি:
--আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
৪. কুরআন তিলাওয়াত করা
প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন পড়ার লক্ষ্য ঠিক করি। অল্প হলেও নিয়মিত পড়ি। এখন থেকেই পড়া শুরু করুন, যিলহজ্জের ১০ দিনের মধ্যে একটা কুরআন খতিমা কমপ্লিট করতে পারেন।
৫. ফরজ নামাজের যত্ন নেয়ার পরে নফল সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া:
বিশেষ করে:
* তাহাজ্জুদ
* সালাতুদ দুহা
৬. রোযা রাখা
সম্ভব হলে যিলহজ্জের প্রথম ৯ দিন রোযা রাখি। বিশেষভাবে **আরাফার দিনের রোযা** অনেক ফযীলতপূর্ণ তাদের জন্য যারা হজে নেই। ঐ দিনের রোজার মাধ্যমে আগের এবং পরের ২ বছরের গুনাহ মাফ হয় সুবহানআল্লাহ!
৭. বেশি বেশি দোয়া করা:
নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, উম্মাহর জন্য, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি।
৮. যিকিরে জিহ্বা সজীব রাখা:
কাজ করতে করতে, হাঁটতে হাঁটতে, রান্না করতে করতে, ফাঁকে ফাঁকে যিকির করি। ছোট ছোট যিকিরও অনেক ভারী হয়ে যায় মীযানে।
৯. সদকা করা:
সামর্থ্য অনুযায়ী দান করি। অল্প হলেও আন্তরিকতা নিয়ে দিই।
১০. কুরবানির নিয়ত থাকলে চুল-নখ না কাটা:
যিনি কুরবানি দেওয়ার নিয়ত করেছেন, তিনি যিলহজ্জের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি দেওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটার চেষ্টা করবেন।
১১. ভালো কাজের পরিকল্পনা করে রাখা:
যেমন:
* একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সাহায্য করা
* আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক করা
* কাউকে ক্ষমা করে দেওয়া
* ইসলামি কিছু শেখা বা শেখানো
১২. অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা কর
হিংসা, অহংকার, রাগ, শত্রুতা ইত্যাদি এসব থেকে হৃদয়কে পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। শুধু বাহ্যিক আমল নয়, অন্তরের আমলও জরুরি।
কুরবানীর এই মহান দিনগুলোতে কেবল পশু কুরবানীতে সীমাবদ্ধ না থাকি। বরং নিজেদের গুনাহ, নফসের খেয়াল, অহংকার, রাগ, খারাপ ভাষা —এসবকেও কুরবানী করার চেষ্টা করি।
এ সময় self-purification বা আত্মশুদ্ধির আমলও খুব জরুরি। যেমন:
* নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
* মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা
* অন্যের হক সম্পর্কে সচেতন হওয়া
* কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে সংশোধন করা
* অন্তরকে নরম করা
এই ১০ দিন যেন আমাদের ভেতরের মানুষটাকেও বদলে দেয়।
১৩. পরিবারের মাঝেও নিজ ঘরে ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করা:
আমাদের মা-বাবা, সন্তান, ভাইবোনদের, স্বামী/স্ত্রীরা সবাই সবাইকে উৎসাহ দিই—যেন ঘরেও যিলহজ্জের সৌন্দর্য অনুভব করা যায়।
১৪. হজ্জের মৌসুমকে অন্তরে জীবন্ত রাখা:
যারা হজ্জ করতে যাচ্ছেন, তারা তো আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে হজ্জ করবেন। আর যারা হজ্জে যাচ্ছেন না, তারাও যেন এই দিনগুলোতে এমন মানসিকতা রাখি—আমরাও আল্লাহর জন্যই সাড়া দিচ্ছি, আমরাও ইবাদাতে, যিকিরে, তাওবায়, দোয়ায় নিজেদের হাজির করছি।
এই কথার সাথে মিলে আমরাও বলি:
**লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক**
অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত, আমি সাড়া দিচ্ছি। হয়তো শারীরিকভাবে হজ্জে যাওয়া হয়নি, কিন্তু অন্তর যেন আল্লাহর দরবারে হাজির হয়।
১৫. আরাফার দিনটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া:
এই দিনে বেশি বেশি দোয়া, যিকির, তাওবা, কুরআন তিলাওয়াত ও রোযার প্রতি গুরুত্ব দিই।
১৬. ঈদের দিন আল্লাহর শোকর আদায় করা:
ঈদের আনন্দের মাঝেও যেন আল্লাহকে ভুলে না যাই। কুরবানি, সালাত, যিকির— সবকিছুই ইবাদত।
এক নজরে আমল চেকলিস্ট:
☐ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত
☐ কুরআন তিলাওয়াত
☐ ১০ দিনের বিশেষ যিকির
☐ ইস্তিগফার
☐ আরাফার দিনের জন্য বিশেষ দুয়া লিস্ট রেডি করা, দোয়া করা
☐ আরাফার দিনে রোজা রাখা
☐ সম্ভব হলে প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা
☐ সদকা দেয়া
☐ নফল সালাত
☐ আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করা, নিজের বদঅভ্যাস কুরবানী করা
☐ রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
☐ ভালো ব্যবহার করা
☐ অন্যের হকের ব্যাপারে সচেতন হওয়া
☐ কুরবানী করা, কুরবানীর গোশত শেয়ার করা হকদারদের সাথে
নিজের জন্য এই নিয়তটি ঠিক করে ফেলুন আজকেই --
*“আমি এই ১০ দিনে আল্লাহর আরও প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ, আমার আমলে, আমার অন্তরে, আমার চেষ্টা দিয়ে!"
আল্লাহ আমাদের যিলহজ্জের এই বরকতময় দিনগুলোকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানোর তাওফীক দিন। আমিন।
নারীদের ২৪ ঘন্টার দুনিয়া ও আখিরাতমুখী সুন্দর রুটিন
জীবন শুধু রান্নাঘর, সংসার আর দায়িত্বের নাম নয়; একজন নারী একই সাথে মা, স্ত্রী, কন্যা, শিক্ষিকা এবং একজন বান্দাহ। তাই তার রুটিনেও থাকা দরকার সংসারের যত্ন, নিজের যত্ন এবং আল্লাহর ইবাদতের ভারসাম্য।
🕓 শেষ রাত ও ফজরের আগে
১. ঘুম থেকে উঠে অযু করা।
২. দু’আ ও ইস্তিগফার করতে করতে তাহাজ্জুদ পড়া।
৩. আল্লাহর কাছে নিজের, স্বামী-সন্তান ও পরিবারের জন্য দোয়া করা।
৪. ফজরের আগে কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত বা জিকির।
> “রাতের নির্জনতায় বান্দার দোয়া আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়।”
🕕 সকাল
১. ফজরের নামাজ আদায় করে দিনের শুরু করা।
২. বাচ্চাদের আদর করে ঘুম থেকে জাগানো।
৩. পরিবারের জন্য নাশতা প্রস্তুত করা।
৪. স্বামীকে হাসিমুখে বিদায় দেয়া।
৫. ঘরদোর গুছিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখা।
৬. কিছু সময় ইসলামি বই পড়া বা কুরআনের অর্থ শেখা।
▪️সকালের সুন্দর ব্যবহার পুরো পরিবারের মন ভালো করে দেয়।
🕛 দুপুর
১. যোহরের নামাজ সময়মতো আদায় করা।
২. দুপুরের খাবার রান্না করা ও সবাইকে খাওয়ানো।
৩. বাচ্চাদের পড়াশোনা ও আদব-আখলাক শেখানো।
৪. কিছু সময় বিশ্রাম নেয়া, যেন শরীর সুস্থ থাকে।
৫. অবসর সময়ে দরুদ, তাসবিহ ও জিকির করা।
▪️ একজন মায়ের কোলে যেমন সন্তান বড় হয়, তেমনি তার চরিত্রও গড়ে ওঠে।
🕓 বিকেল
১. আসরের নামাজ আদায় করা।
২. বাচ্চাদের সাথে সময় কাটানো ও খেলাধুলায় উৎসাহ দেয়া।
৩. নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া।
৪. স্বামীর সাথে সুন্দরভাবে কথা বলা, দিনের ক্লান্তি দূর করা।
৫. পরিবার নিয়ে একসাথে চা-নাশতার সময় কাটানো।
▪️ সংসারে ভালোবাসা বাড়ে ছোট ছোট আন্তরিক মুহূর্তে।
🕖 সন্ধ্যা
১. মাগরিবের নামাজ আদায় করা।
২. সন্ধ্যার মাসনূন দোয়া ও জিকির পড়া।
৩. বাচ্চাদের কুরআন বা ইসলামি গল্প শেখানো।
৪. রাতের খাবার প্রস্তুত করা।
৫. পরিবারের সবার খোঁজখবর নেয়া।
▪️ সন্ধ্যার সময় ঘরভর্তি জিকির ও কুরআনের শব্দ ঘরকে রহমতে ভরিয়ে দেয়।
🕙 রাত
১. এশার নামাজ আদায় করা।
২. পরিবারের সবাইকে নিয়ে শান্ত পরিবেশে রাতের খাবার খাওয়া।
৩. রান্নাঘর ও ঘর গুছিয়ে রাখা।
৪. স্বামীর সাথে সময় কাটানো, ভালোবাসা ও মানসিক প্রশান্তি দেয়া।
৫. ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি, তিন কুল ও মাসনূন দোয়া পড়া।
৬. নিজের ভুলের জন্য ইস্তিগফার করে ঘুমানো।
▪️দিনের শেষ হোক আল্লাহর স্মরণে, তাহলে হৃদয়ও শান্ত থাকবে।
◽ একজন নেককার নারীর সৌন্দর্য
সে শুধু ঘর সামলায় না, হৃদয়ও সামলায়।
সে শুধু রান্না করে না, পরিবারে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়।
সে শুধু সন্তানের মা নয়, তাদের প্রথম শিক্ষক।
সে শুধু স্বামীর স্ত্রী নয়, তার শান্তির জায়গা।
আর সে সর্বোপরি আল্লাহর একজন প্রিয় বান্দাহ হওয়ার চেষ্টা করে।
> “ রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হলো নেককার স্ত্রী।” (সহিহ মুসলিম,হা/১৪৬৭)
-----লেখা: আইন উদ্দিন আইনী
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
1230