07/08/2025
এক দুঃখী বাবার কাহিনী
সাল তখন দুই হাজার চার। হাসনাবাদের এক বহুতল ভবনের তৃতীয় তল, আলো-আঁধারির প্রতিসরণে বাস করিত দুই পরিবার—ইউসুফ ও সালমার। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে কখন যে চোখে চোখ পড়িল, তাহা বুঝিবার পূর্বেই মন পলাতক হইল। ভালোবাসা যে এমন সহজে আসে, তাহা কেহ জানিত না।
সালমা তখন বিদ্যালয়ের ছাত্রী—হাসনাবাদ কামুচাঁন শাহ উচ্চ বিদ্যালয়। কোমল কল্পনার দিনে প্রতিদিনের ক্লাসের ফাঁকে, ছোট ভাই শাহাদাতের আঙুল ধরে ছাদে যাওয়া ছিল তাহার অভ্যাস। সেই ছাদেই, একান্তে, কুয়াশার মতো মৃদু কণ্ঠে ধরা দিত ভালবাসার প্রথম গুঞ্জন।
ইউসুফ তখন নতুন গাড়ি চালানো শিখিতেছিল—জীবন বুঝিতে না শিখিলেও, ভালবাসার মানে হৃদয়ে গেঁথে গিয়াছিল।
ভালবাসা গভীর হইল। গৃহস্থ পরিবারে এই সংবাদ যখন পৌঁছাইল, ছেলের পরিবার সম্মতিসূচক প্রস্তাব রাখিল মেয়ের অভিভাবকের নিকট। কিন্তু যাহা প্রেমের আত্মা, তাহা সমাজের দৃষ্টিতে প্রায়শই অপরাধ। মেয়ের পরিবার অসম্মত; ফলত দুই পরিবারের মধ্যকার সুসম্পর্ক ছিন্ন হইল।
তবু প্রেম পিছাইবার নয়—প্রেম তো নদীর স্রোতের মতো, যত বাঁধ, ততই প্রবাহ।
পালাইয়া গেল দুইজন, গমন করিল ইউসুফের বোনের বাসায়।
পিছনে আসিল ঝড়—কথার, শাসনের, হুমকির।
তবু তাহারা বিবাহ করিল।
তৎক্ষণাৎ আনন্দ জাগিল আশেপাশে, নৃত্য করিল হৃদয়;
কিন্তু রাত্রি আনিল পুলিশের পদধ্বনি।
থানায় লইয়া গিয়া দু’জনকে, এমনকি বোনের স্বামীকেও, মারধর করা হইল।
সালমা বলিল,
> “আমি এই মানুষটিকে ছাড়িব না। এই আমার স্বামী, এই আমার পথ।”
অতঃপর মিথ্যা মামলার নাটক আরম্ভ। শিশু নির্যাতনের অভিযোগে চেপে বসিল আইনের জাঁতাকল।
ইউসুফের পিতা খরচ করিলেন সর্বস্ব।
হাতের আঙুলের রেখা মুছে গেল,
তবু পুত্রের জেলমুক্তি ঘটিল।
এই দুঃখের প্রহরে জন্ম নিল এক কন্যা—খাদিজা।
সেই শিশুর চোখে যেন ছিল শান্তির স্বর্গীয় ইঙ্গিত।
কিন্তু মানুষের অন্তর সহজ নয়।
সালমার পরিবার বাহিরে হাসিল, ভিতরে রাখিল কলুষতা।
কুমন্ত্রণা, মিথ্যাচার, সন্দেহ—চুরি চুরি গিলিতে লাগিল দাম্পত্যের বিশ্বাস।
সালমা, কালের স্রোতে নেমে, ফিরিয়া চাহিল না ইউসুফের দিকে।
এমনকি তাহার মেয়েকে তাহারই বুকে ঠাঁই দিল না।
একদিন ইউসুফ শুনিল—
> “খাদিজা আর কখনো তোমার কন্যা নয়। তুমি যদি পিতৃত্ব দাবি কর, মামলা আবার ফিরিবে।”
এই শর্তের ভারে ইউসুফ নিঃশব্দে দমিয়া গেল।
প্রতিদিন রাত্রে তাহার বুক কাঁদে।
সে মনে মনে ডাকে—
> “খাদিজা... আমার রক্ত... আমার সন্তান...”
কে জানে, কাহার হৃদয় এই কান্না শুনিবে?
---
শেষ পত্র
খাদিজা,
তুমি যদি কোথাও এই লেখাটি পড়ো,
জেনো, তোমার এক পিতা আছেন—
যিনি প্রতিদিন রাতের আকাশে তোমার মুখ কল্পনা করেন।
একটি জড়ানো স্পর্শের জন্য আজও চোখে জল রাখেন।
আপনার প্রতি অনুরোধ
আপনি যদি এই কাহিনীটি শেয়ার করেন, হয়তো কোন একদিন এই মেয়ে জানবে—
তার একজন পিতা আছে, যিনি তাঁকে এখনও ভালোবাসেন নিঃশর্তে।
---
পরিচয়:
👧 কন্যা: খাদিজা
👨 পিতা: ইউসুফ
👩 মাতা: সালমা
🏠 ঠিকানা: তালতলী, বরগুনা
🏡 মাতুলালয়: উজিরপুর, বরিশাল
---
এটি কোনো কল্পকাহিনী নয়। এটি একজন নিঃস্ব বাবার জীবন্ত আর্তনাদ।
যদি পারেন, এই পিতা যেন তাঁর কন্যাকে ফিরে পান, সেই পথে আপনি হোন এক প্রদীপ।