25/03/2026
স্বপ্ন দেখা নিয়ে গল্প
ছোট্ট নদীটির ধারে একটা পুরনো আমগাছ ছিল। সেই গাছের ডালে ডালে কত পাখি বাসা বাঁধে, কত রঙিন প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়। গ্রামের ছোট্ট মেয়ে রিমি প্রতিদিন বিকেলে এসে বসে এই গাছের নীচে।
রিমির খুব বড় ইচ্ছে—একদিন পাখির মতো উড়তে পারবে। সে স্বপ্ন দেখে রাতের আকাশে চাঁদের সাথে গল্প করবে, মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াবে।
গ্রামের লোকজন বলে, "স্বপ্ন দেখা অর্থহীন। পড়াশোনা কর, বড় হয়ে চাকরি কর।"
কিন্তু রিমি থামে না। সে প্রতিদিন আমগাছের নীচে বসে গল্প লিখতে থাকে—উড়ালের গল্প, স্বপ্নের গল্প। একদিন এক বুড়ো পাখি এসে বসে তার পাশে। পাখিটি বলল, "তুমি কেন এত স্বপ্ন দেখো?"
রিমি বলল, "স্বপ্ন না দেখলে মানুষ বাঁচে কী করে?"
বুড়ো পাখি হেসে বলল, "সত্যি কথা। দেখ, আমার ডানা ভাঙা, আমি উড়তে পারি না। কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখি, আর সেই স্বপ্ন আমাকে বাঁচিয়ে রাখে।"
রিমি পাখিটির যত্ন নিল। প্রতিদিন গল্প শোনাত, স্বপ্নের কথা বলত। ধীরে ধীরে পাখিটির ডানা ভালো হতে লাগল। একদিন সত্যিই সে উড়তে পারল।
পাখিটি বলল, "দেখ, তোর ভালোবাসা আর স্বপ্ন আমাকে ডানা ফিরিয়ে দিয়েছে। তুইও একদিন উড়তে পারবি।"
রিমি বড় হয়ে লেখিকা হল। তার লেখা গল্পে ছিল উড়ালের স্বপ্ন, আমগাছের ছায়া, আর ভাঙা ডানা নিয়ে উড়ে যাওয়া পাখির গল্প। তার বই হাতে নিয়ে অনেকে বলত, "এই মেয়েটা আমাদের শিখিয়েছে—স্বপ্ন দেখা বৃথা নয়, স্বপ্নই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।"
আজও সেই আমগাছের নীচে অনেক ছেলে-মেয়ে বসে স্বপ্ন দেখে। কারণ রিমি তাদের শিখিয়ে গেছে—স্বপ্ন দেখার মধ্যেই লুকিয়ে আছে উড়ার প্রথম পাঠ।
শেষ কথা: স্বপ্ন কেবল রাতের বিষয় নয়, স্বপ্ন হলো দিনের আলোয় পথ চলার প্রেরণা। স্বপ্ন দেখো, কারণ স্বপ্নই বাস্তবের প্রথম সিঁড়ি।