17/02/2026
Online Quran Education Centre এর তত্ত্বাবধায়নে আয়োজিত অফলাইনে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট কর্তৃক অনুমোদিত 'রমাদান মাসব্যাপী বিশুদ্ধ কুরআন প্রশিক্ষন' কার্যক্রমে সকলকেই যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো:
হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মকবুল খিদমাত হচ্ছে দারুল কিরাত তথা ইলমে কিরাতের খিদমাত। সুদীর্ঘ প্রায় ৭৫ বছর ধরে মানুষকে বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা দিয়ে আসছে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখো মানুষ দারুল কিরাতের মাধ্যমে সহীহ শুদ্ধ কুরআন শিক্ষা নিয়েছেন এবং এখনো নিচ্ছেন।
প্রতি বছর রমাদান মাসব্যাপী চলে এই প্রশিক্ষণের কার্যক্রম। যার ফলশ্রুতিতে লক্ষ্য লক্ষ্য ক্বারি তৈরি হয়েছে। যারা ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ধীরে ধীরে এই খেদমত ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দারুল কিরাতের বেশিরভাগ শাখা কেন্দ্রের নিয়োগ ও অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা প্রথম বারের মতো নিয়ে এসেছি দারুল কিরাতের শাখা আমাদের এলাকায়, 'মোল্লারহাট জামে মসজিদ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রে ।ইনশাআল্লাহ রামাদ্বান মাস জুড়ে দারুল কিরাতের সুশৃঙ্খল রুটিন অনুযায়ী চলবে আমাদের কিরাত শিক্ষার কার্যক্রম। আসুন জেনে নেই দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট সম্পর্কে।
প্রতিষ্ঠাতা : আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী, ফুলতলী রহ.।
প্রতিষ্ঠাকাল : ১৯৪০ সাল (তৎকালীন ভারতবর্ষ)। ফুলতলীতে (বাংলাদেশে) প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৫০ সাল থেকে। সর্বপ্রথম পড়া শুরু হয় ভারতের আসাম রাজ্যের বদরপুরের আদম খাকি নামক স্থান থেকে।
কিরাতের উস্তাজগণ : আল্লামা ফুলতলী রহ. কিরাতের সনদ লাভ করেছেন ৩টি সিলসিলায়।
১। আল্লামা ইয়াকুব বদরপুরী রহ. ভারত। যাকে যুগের হাতিম তাঈ উপাধি দেওয়া হয়েছিলো। যিনি আল্লাহর এক মকবুল ওলী ছিলেন।
২। আব্দুর রউফ করমপুরী রহ. বাংলাদেশ। যিনি পিতামাতার সহিত ২৯ বছর মক্কা শরিফে থেকে কিরাত শিক্ষা করেছেন।
৩। আহমদ হেজাজি মক্কী রহ.। যিনি তৎকালীন সময়ে হারামাইন শরীফাইন এর ইমামগনের পরীক্ষক ছিলেন। যার উপাধি ছিল রাঈসুল কুররা।
শীর্ষ শাগরেদবৃন্দ :
দারুল কিরাতের অধিনে অসংখ্য ছাত্র কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী রহ. এর উল্লেখযোগ্য কতক শাগরেদ হলেন। আল্লামা আব্দুন নূর গরকাপনী রহ., উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ শাইখুল হাদীস আল্লামা হাবিবুর রহমান রহ ও শাইখুল হাদীস ছালিক আহমদ রহ. প্রমুখ।
শ্রেণি সমূহ :
জামাতে সুরা থেকে ছাদিছ পর্যন্ত ৭ টি শ্রেণি। ৭ টি শ্রেণিতে ভাগ করে সম্পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন অভিজ্ঞ সনদপ্রাপ্ত ক্বারিগণের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে যে ক্বারিগণ থাকবেন তাদের প্রত্যেকের সনদের ধারাবাহিকতা রাসূল (সা.) পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।
জামাত গুলো হলো:
১। জামাতে সুরা
২।জামাতে আউয়াল
৩।জামাতে ছানি
৪। জামাতে ছালিছ
৫। জামাতে রাবে
৬। জামাতে খামিছ
৭। জামাতে ছাদিছ
পাঠ্যপুস্তক : ১। প্রাথমিক তাজবিদ শিক্ষা- আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ( জামাতে সুরা থেকে আউয়াল পর্যন্ত যা পড়ানো হয়)।
২। আল কাউলুছ ছাদীদ - আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী রহ.। (যা পর্যায়ক্রমে জামাতে ছানি থেকে ছাদিছ পর্যন্ত পড়ানো হয়)। আল কাউলুছ ছাদীদ কিতাবটি বর্তমানে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মতো অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যতালিকায় রয়েছে৷
দৈনিক রুটিন: সকাল ৮: ০০ / ৮:৩০ থেকে ক্লাস শুরু হয়ে আসরের পূর্ব পর্যন্ত ক্লাস হয়।(মাঝে যোহরের নামাজের জন্য বিরতি থাকে)
অত্যন্ত গুছানো ভাবে পরিচালিত হয় দৈনিক রুটিন। সকালে ক্লাস শুরু হয় আম মশক দিয়ে। আম মশক আধা ঘণ্টা, এরপর প্রত্যেক ক্লাস অনুযায়ী এক ঘন্টা পৃথকভাবে মশক, পরবর্তীতে আধাঘণ্টা সবক গ্রহণ এর ক্লাস, এরপরে এক ঘন্টা তাজবীদের ক্লাস, পরবর্তীতে পঁয়তাল্লিশ মিনিট সম্মিলিত খতমে কুরআন এর ক্লাস। তারপর নামাজের বিরতি। বিরতির পরে আখলাকে তরবিয়ত (নসিহত) এর ক্লাস। পরবর্তীতে আবার এক ঘন্টা ক্লাস অনুযায়ী শেষ পৃথক মশক, এরপরে শেষ আম মশক।
মাসব্যাপী কুরআন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরে রমাদান মাসের শেষের দিকে এসে পরীক্ষা ও সমাপনী অনুষ্ঠান হয়।
জামাতে সুরা থেকে ছালিছ জামাত পর্যন্ত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয় যে শাখায় কুরআন শিক্ষা করে সে শাখায় বসে।
জামাতে রাবে থেকে শুরু হয় বোর্ড পরীক্ষা। জামাতে রাবে ও খামিসের পরীক্ষা নিজ উপজেলা/ জেলায় কেন্দ্রীয় শাখার নির্দেশ মোতাবেক নির্ধারিত সেন্টারে নেওয়া হয়ে থাকে। জামাতে সাদিস সকল শিক্ষার্থীদের প্রধান কেন্দ্র (জকিগঞ্জ, সিলেট) গিয়ে পড়তে হয়।
সাফল্য : দারুল কিরাতের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহীহ কুরআনের তিলাওয়াত পৌঁছানোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানোর কাজ বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত,মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, ফ্রান্স, লন্ডন ও আমেরিকার মতো দেশেও দারুল কিরাতের শাখা রয়েছে।