একটি সত্য গল্প খুব প্রচলিত ছিল, যিনি একটি স্ক্রু ঘোরানোর জন্য ১ ডলার আর কোন স্ক্রু ঘোরাতে হবে সেটা জানার জন্য ৯,৯৯৯ ডলার দাবি করেছিলেন।
হ্যাঁ, এই প্রকৌশলী আসলেই ছিলেন। তার নাম ছিল চার্লস প্রোটিয়াস স্টেইনমেটজ (১৮৬৫–১৯২৩)।
একবার তার সঙ্গে পরিচিত হন খ্যাতিমান উদ্যোক্তা হেনরি ফোর্ড। যাকে বিখ্যাত ফোর্ড গাড়ির নির্মাতা হিসেবে জানি।
তো ফোর্ডের রিভার রুজ প্ল্যান্টে একটি বিশাল জেনারেটরে জটিল এক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। সেখানে কর্মরত প্রকৌশলীরা কোনোভাবেই সমস্যার উৎস খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
শেষমেশ হেনরি ফোর্ড নিজেই স্টেইনমেটজকে ডাকেন।
যথারীতি স্টেইনমেটজ কারখানায় এসে কারো সাহায্য না নিয়ে শুধু একটি খাতা, কলম আর একটি খাট চাইলেন।
মনে হতে পারে না, এত কিছু থাকতে খাট কেন, কেননা তিনি জন্ম থেকেই kyphosis- নামক রোগে এ আক্রান্ত ছিলেন, যার ফলে পিঠে একটি কুঁজ তৈরি হয়। যে কারণে তিনি ছিলেন কুঁজো এবং তার উচ্চতাও ছিল মাত্র প্রায় ৪ ফুট। এছাড়াও তার কাঁধ ও শরীরের গঠন ছিল অস্বাভাবিক, যা চলাফেরা ও কাজকর্মে সমস্যা সৃষ্টি করত।
যাইহোক তিনি টানা দু’দিন ও দু’রাত সেই বিশাল জেনারেটরের শব্দ শুনে কাটালেন, আর করলেন অসংখ্য জটিল হিসাব।
হঠাৎ করে তিনি একটি মই, একটি টেপ মাপার ফিতা আর একটা ব্ল্যাকবোর্ডের চক আনতে বললেন।
তার শরীরের প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি মই বেয়ে জেনারেটরের উপর পর্যন্ত উঠলেন।
তারপর ফিতা দিয়ে মেপে জেনারেটরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে চক দিয়ে একটি দাগ দিলেন।
নিচে নেমে এসে আশপাশের অবাক প্রকৌশলীদের বললেন, এই নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সাইড প্লেট খুলে কুন্ডলি খুলতে হবে, এবং ঠিক ১৬টি তার খুলে ফেলতে হবে।
প্রকৌশলীরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করলেন।
দেখা গেল, জেনারেটর আবার পুরোপুরি সচল হয়ে গেছে।
এরপর স্টেইনমেটজ, জেনারেল ইলেকট্রিকের পক্ষ থেকে হেনরি ফোর্ডের কাছে ১০,০০০ ডলারের একটি বিল পাঠান।
ফোর্ড কাজের প্রশংসা করলেও, এমন বড় অঙ্কের একটি বিল দেখে তিনি বিস্তারিত খরচ breakdown চেয়ে ফেরত পাঠান।
স্টেইনমেটজ তখন বিলটি এভাবে সংশোধন করে পাঠান—
জেনারেটরে চক দিয়ে দাগ টানা: ১ ডলার
কোথায় দাগ দিতে হবে তা জানা: ৯,৯৯৯ ডলার
মোট: ১০,০০০ ডলার
এইবার আর কোনো কথা না বলে ফোর্ড পুরো বিলটাই পরিশোধ করেন।
তো চার্লস স্টেইনমেটজ ও হেনরি ফোর্ডের ঘটোনাটি আমাদের চোখের সামনে একটি গভীর শিক্ষনীয় বার্তা তুলে ধরে।
জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রকৃত মূল্য বোঝা এবং যথাযথ সম্মান করা উচিত।
দেখুন স্টেইনমেটজ এক নজরে খুব ছোট একটা কাজ করেছিলেন, চক দিয়ে একটা দাগ টেনেছিলেন। কিন্তু এই ছোট কাজের পেছনে ছিল বছরের পর বছর অর্জিত অভিজ্ঞতা, গভীর জ্ঞান ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা।
এই গল্প আমাদের শেখায় যে, কেবল চোখে দেখা শ্রম নয়, বরং সমস্যার মূল ধরতে পারার ক্ষমতা, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাই অনেক সময় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই কোনো পেশাজীবীর কাজ যখন সহজ মনে হয়, তখন তার পেছনের কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতা কদর করা উচিত।
**এই গল্পটি ১৯৬৫ সালের ১৪ মে "লাইফ" ম্যাগাজিনে ছাপা একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। চিঠিটি লিখেছিলেন জ্যাক বি. স্কট। তার বাবা বার্ট স্কট ছিলেন হেনরি ফোর্ডের বহু বছরের কর্মী।
KawsarSky Academy
KawsarSky is an e-learning platform
30/11/2024
30/11/2024
চায়ের কাপে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়ার সময় হঠাৎ মাথায় আসলো যে এই চা চীনা শব্দ। আবার বিস্কুট ফরাসি শব্দ। বিস্কুটের সাথে থাকা চানাচুর হিন্দি। চায়ে যে চিনি ও পানি থাকে সেখানে চিনি চীনা অথচ পানি হিন্দি শব্দ। আবার চা ভর্তি পেয়ালাটা ফারসি কিন্তু কাপটা ইংরেজি শব্দ। এদিকে ইংরেজি শব্দটাই আবার পর্তুগিজ।😫🤪
চা চীনা হলেও কফি কিন্তু তুর্কি শব্দ। আবার কেক পাউরুটির কেক ইংরেজি, পাউরুটি পর্তুগীজ। 😃😄
একটু দামী খানাপিনায় যাই। আগেই বলে রাখি, খানাপিনা হিন্দী আর দাম গ্রীক। রেস্তোরাঁ বা ব্যুফেতে গিয়ে পিৎজা, বার্গার বা চকোলেট অর্ডার দেয়ার সময় কখনো কি খেয়াল করেছেন, রেস্তোরা আর ব্যুফে দুইটাই ফরাসী ভাষার, সাথে পিৎজাও। পিৎজাতে দেয়া মশলাটা আরবি। মশলাতে দেয়া মরিচটা ফারসি! 😵😖
বার্গার কিংবা চপ দুটোই আবার ইংরেজি। কিন্তু চকোলেট আবার মেক্সিকান শব্দ। অর্ডারটা ইংরেজি। যে মেন্যু থেকে অর্ডার করছেন সেটা আবার ফরাসী।
ম্যানেজারকে নগদে টাকা দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন, নগদ আরবি, আর ম্যানেজার ইতালিয়ান।
আর যদি দারোয়ান কে বকশিস দেন, দারোয়ান ও তার বকশিস দুটোই ফারসি।
😂🤓
এবার চলুন বাজারে, সবজি ফলমূল কিনতে। বাজারটা ফারসি, সবজিও। যে রাস্তা দিয়ে চলছেন সেটাও ফারসি। ফলমূলে আনারস পর্তুগিজ, আতা কিংবা বাতাবিলেবুও। লিচুটা আবার চীনা, তরমুজটা ফারসি, লেবুটা তুর্কী। পেয়ারা-কামরাঙা দুইটাই পর্তুগীজ। পেয়ারার রঙ সবুজটা কিন্তু ফারসি। 😃😛
ওজন করে আসল দাম দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন ওজনটা আরবি, আসল শব্দটাও আসলে আরবি। তবে দাম কিন্তু গ্রীক, আগেই বলেছি।🤣😂
ধর্মকর্মেও একই অবস্থা। মসজিদ আরবি দরগাহ/ঈদগাহ ফারসি। গীর্জা কিন্তু পর্তুগীজ, সাথে গীর্জার পাদ্রীও। যিশু নিজেই পর্তুগীজ। কেয়াং এদিকে বর্মিজ, সাথে প্যাগোডা শব্দটা জাপানি। আর, মন্দিরের ঠাকুর হলেন তুর্কী। 😲😵
আর কি বাকি আছে? ও হ্যাঁ। কর্মস্থল! অফিস আদালতে বাবা, স্কুল কলেজে কিন্ডারগার্টেনে সন্তান। বাবা নিজে কিন্তু তুর্কী, যে অফিসে বসে আছেন সেটা ইংরেজি, তবে আদালত আরবি, আদালতের আইন ফারসি, তবে উকিল আরবি।🤩😃
ছেলে যে স্কুলে বা কলেজে পড়ে সেটা ইংরেজি, কিন্তু কিন্ডারগার্টেন আবার জার্মান! 🤠😃
স্কুলে পড়ানো বই কেতাব দুইটাই আরবি শব্দ। যে কাগজে এত পড়াশোনা সেটা ফারসি। তবে কলমটা আবার আরবি। রাবার পেনসিল কিন্তু আবার ইংরেজি!😲🤪
পুরোটা মনে না থাকলে অন্তত এটা মনে রাখবেন যে মন শব্দটা আরবি।🙏 ❤
শব্দের কেচ্ছা-কাহিনী এখানেই খতম। তবে কেচ্ছাটা আরবি, কাহিনীটা হিন্দি, উভয়ের খতমটা আরবিতে। মাফ চাইলাম না বা সরি বললাম না, কারণ মাফটা আরবি আর সরিটা ইংরেজি।
(সংগৃহীত)
24/06/2024
নর্থ সাউথ ড্রপআউট থেকে University of Sussex এর লেকচারার!
ড্রপআউট থেকে সফলতার গল্প তো কতই শোনা যায়। এবার শোনা যাক এক বাংলাদেশীর ড্রপআউট থেকে লেকচারার হওয়ার গল্প। তবে মারুফ ফারহানের গল্পে রয়েছে আরো কিছু চমক। তিনি North South এর বিবিএর ছাত্র ছিলেন।
ড্রপআউট নিয়ে ব্যাচেলর শেষ করতে লেগে যায় প্রায় নয় বছর। মাঝে বহু বাঁধা ও লম্বা এক সময় পেরিয়ে তিনি এবার লেকচারার হিসেবে যোগ দিচ্ছেন University of Sussex এর Computer Science বিভাগে।
৩৬ বছর বয়সে প্রোগ্রামিং শুরু করে এ পর্যন্ত লিখেছেন ৭ টি জার্নাল পেপার, এমনকি বইয়ের ২ টি অধ্যায়ও। যেখানে অন্যরা একটা নির্দিষ্ট ‘টাইম ফ্রেমের’ ভেতর দিয়ে গিয়ে ক্যারিয়ার গোছাতে থাকে, সেখানে তিনি যেন সময়কেই হার মানিয়েছেন।
তার মতে সফল হতে হলে আগে সবর করতে শিখতে হবে, রাখতে হবে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস।
মারুফ ফারহান ১৯৯৮ সালে দিনাজপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ২০০০ সালে দিনাজপুর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০১ সালে ভর্তি হন North South এর বিবিএ প্রোগ্রামে। ইচ্ছে ছিল কম্পিউটার সাইন্সে পড়বেন, চান্সও পেয়েছিলেন এই প্রোগ্রামে। তবে পরিবারের চাপে আর কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়া হয়ে উঠেনি। শেষমেষ রেজাল্ট এত খারাপ হয় যে ব্যাচেলর শেষ হওয়ার আগে আগেই ড্রপআউট এর ট্যাগ লেগে যায়।
২০০৫ সালে ড্রপআউট হওয়ার পর আর তেমন কিছু করেননি। মাঝে শুনতে হয়েছিল অনেক কথা। ভার্সিটির শিক্ষক গার্ডিয়ান কল করে বলেছিলেন একটি দোকান খুলে দিতে, তাও যদি ব্যাবসার কিছু শিখতে পারেন। তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন এটাও নাকি তার পক্ষে করা সম্ভব হবে না।
আশেপাশের সমবয়সী বন্ধুবান্ধবরা যখন চাকরি প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউবা চাকরিতে জয়েনও করেছেন, তখনও তিনি বেকার।
ঠিক করেন পড়াশোনাটা যেভাবেই হোক শেষ করবেন। ২০০৭ সালে আবার বিবিএ কান্টিনিউ করতে শুরু করেন। বেশ কিছু সমস্যার কারণে ২০১০ সালে এসে তিনি বিবিএ শেষ করেন।
বিবিএ শেষে এবার চাকরি খোঁজার পালা। বাবার ইচ্ছা সরকারি চাকরি হলেও সেদিকে আগাননি মারুফ ফারহান। মাঝে আবারও কেটে যায় কয়েক বছর। সমাজের অন্য যেকোন বেকার ছেলের মতোই এসময়টা তাকে শুনতে হয় অনেক খোঁচা ও কটু কথা। বাড়ি থেকে বেরও করে দেয়া হয়, বলা হয় তাকে দিয়ে কিছু হবে না।
২০১৫ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় যান। ঘুরতে ঘুরতে এক নাইজেরিয়ান নাগরিকের সাথে পরিচয় হয় যিনি ছিলেন মালয়েশিয়ায় Kaspersky এর প্রজেক্ট অফিসার। তার কথামতো Kaspersky তে অ্যাপ্লাই করেন। ইন্টারভিউ ক্লিয়ার করে জবও পেয়ে যান বিবিএ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা মারুফ। Kaspersky তে প্রতি মাসেই বিভিন্ন ট্রেনিং হতো। এসবই যে যথেষ্ট ছিল তার জন্য তা বোঝা যায় বিভিন্ন সময়ে পাওয়া Top Performer এর সার্টিফিকেটগুলো দেখেই। এছাড়া এই ফিল্ডে কিছু করার জন্য নিজের আগ্রহ তো শুরু থেকে ছিলই। Technical Support পদে শুরু করে Senior Security Analyst পদে পৌঁছে যান প্রমোশন পেয়ে।
করোনাকালীন সময়ে ফিরে আসেন দেশে৷ নিজে থেকেই শেখা শুরু করেন Python ও Blockchain।
এসময় একটি IT কোম্পানিতে চাকরিও করেন৷ ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের Northumbria University তে Cybersecurity এর ওপর মাস্টার্স করতে চলে যান তিনি। সেখানে রিসার্চ এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। অতঃপর ২০২৩ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন মারুফ, তাও আবার Distinction সহ।
এর মধ্যেই নিজেকে একজন গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। IEEE ও ACM এ প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণাপত্র।
এছাড়াও একটি রিসার্চ গ্রুপও খুলে ফেলেছেন যেখানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরাও কাজ করছে, আর বলেছেন এ গ্রুপটি যেকোন গবেষণায় ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
বর্তমানে একটি সেকেন্ডারি স্কুলে Computer Science শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মারুফ ফারহান। এছাড়াও University of Wales Trinity Saint David এর ভিজিটিং লেকচারারও ছিলেন এ গবেষক! আর শীঘ্রই যুক্তরাজ্যের University of Sussex এ Computer Science লেকচারার হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছেন মারুফ ফারহান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে বললে বলেন - একাডেমিক ফিল্ডেই থাকতে চান তিনি, কাজ করতে চান Blockchain নিয়ে। এছাড়াও প্রস্তুতি নিচ্ছেন পিএইচডির।
ভাবা যায়- কোনো এক সময়ে ড্রপআউট হওয়া এক শিক্ষার্থী আজ Blockchain, Cybersecurity এর মতো এত কঠিন কঠিন বিষয়গুলির গবেষক! নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার পদে!!
সবার উদ্দেশ্যে তার উপদেশ - " আপনি নামাজ পড়ুন, আল্লাহকে ডাকুন। আল্লাহ সব দিবে। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, তাহাজ্জুদে বসে আমি যা চেয়েছি আল্লাহ আমাকে তাই দিয়েছে। Allah will never disappoint you…তাহাজ্জুদ রকেট এর মতো কাজ করে।"
Short Stories Community
23/06/2024
বাঙ্গালিরা নিউটনকে চিনে কেবল একজন বিজ্ঞানী হিসাবে। অথচ তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি একজন ধর্মীয় স্কলার ও দরবেশ।
গণিত ও বিজ্ঞানকে ব্যাখ্যা করার জন্যে নিউটন সারাজীবনে মাত্র ১ মিলিয়ন শব্দ লিখেছিলেন, অথচ আল্লাহর অস্তিত্ব ও ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা হাজির করার জন্যে নিউটনকে লিখতে হয়েছে প্রায় ৩ মিলিয়ন শব্দ।
ঈসা (আঃ) যে স্বয়ং আল্লাহ্ নন, বরং আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, এটা খ্রিস্টানদেরকে বুঝানোর জন্যে নিউটন খ্রিস্টান পাদ্রী ও পোপদের বিরুদ্ধে নিয়মিত সংগ্রাম করেছিলেন। তাই তাঁকে ধর্ম নিয়ে হাজার-হাজার পৃষ্ঠা লিখতে হয়েছিল। অথচ দুঃখের বিষয়, পাঠ্য বইয়ে এবং বাঙালি বিজ্ঞানমনস্কদের লেখায় আমি এসব কোনো কিছুই পাইনি।
নিউটনের যে ১২টি সূত্রের কথা উল্লেখ করেছিলেন, আপাততঃ সেগুলোর অনুবাদ এখানে তুলে দিচ্ছি।
আল্লাহর অস্তিত্ব ও ঈসা (আঃ) সম্পর্কে নিউটনের ১২টি সূত্রঃ-
🔴 ১। আল্লাহ্ এক, চিরঞ্জীব প্রতিপালক, সর্বত্র বিরাজমান, সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান, এবং আসমান ও জমিনের স্রষ্টা। আল্লাহ্ ও মানবের মাঝে সম্পর্ক সৃষ্টিকারী মানুষ হলেন নবী ঈসা (আঃ)।
🔴 ২। আল্লাহ্ তা'আলা হলেন অদৃশ্য, কোনো দৃষ্টি তাকে দেখে না, অথবা দেখতে পারে না। তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা দৃশ্যমান হয়।
🧿 ৩। আল্লাহ্ নিজেই নিজের মধ্যে জীবন্ত এবং তাঁর নিজ হতে বান্দাদের জীবন দান করেন।
🧿 ৪। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞানী। তাঁর অন্তরে মূলতঃ সকল জ্ঞান রয়েছে। তিনি ঈসা নবীর কাছে ভবিষ্যৎ বিষয়ের জ্ঞান প্রেরণ করেন। নবী-রাসূলগণ ব্যতীত আসমানে বা জমিনে অথবা জমিনের থেকে ভবিষ্যৎ বিষয়ের জ্ঞান লাভ করতে পারে। আর, এ কারণেই ঈসা (আ)- এর সাক্ষ্য নবুয়তের স্পৃহা এবং তিনি হলেন আল্লাহর বাণী বা রূহুল্লাহ বা আল্লাহর নবী।
🌸 ৫। আল্লাহ অবিচল। কোনো স্থান-ই তাঁর অনুপস্থিতিতে শূন্য বা উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে উঠতে সক্ষম নয়। তাঁর উপস্থিতি-ই হলো প্রকৃতির অনন্ত অপরিহার্যতা। তিনি ব্যতীত অন্য সকল সত্ত্বা এক স্থান থেকে অন্যত্র চলাচল করে।
💠 ৬। সকল ইবাদাত, যেমন সালাত, যিকির, বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা, সব কিছু ঈসা (আঃ) আগমনের পূর্বেও কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত ছিল, এখনো তেমনি কেবল আল্লাহর জন্যেই। ঈসা (আঃ) তাঁর প্রভুর উদ্দেশ্যে নিবেদিত ইবাদাত হ্রাস করার জন্যে আগমন করেননি।
💠 ৭। আল্লাহর উদ্দেশ্যে নবীর নাম দিয়ে দু'আ করলে তা খুবই ফলপ্রসূ হয়।
🔴 ৮। আমাদের সৃষ্টি, আমাদের প্রদত্ত খাদ্য, পরিধেয় বস্ত্র এবং এই জীবনের অন্যান্য কল্যাণ প্রদানের জন্য আমরা কেবল আল্লাহ্ তা'আলার প্রতিই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। কারণ, নবীর নামের সাহায্যে আমরা যা কিছুই সরাসরি আল্লাহর কাছে চাই আল্লাহ্ তা আমাদের দান করেন।
🌺 ৯। আমাদের জন্য সুপারিশ করার উদ্দেশ্যে ঈসা (আঃ)-এর নিকট আমাদের প্রার্থনা করার প্রয়োজন নেই। আমরা যদি আল্লাহর কাছে সঠিকভাবে প্রার্থনা করি, তাহলে তিনিই আমাদের জন্যে সুপারিশ করবেন।
🌺 ১০। পরিত্রাণের জন্য নবীর নাম নিয়ে আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারো নিকট প্রার্থনা করার প্রয়োজন নেই।
🧿 ১১। কোনো ফেরেশতা বা রাজা-বাদশাহকে আল্লাহর গুণবাচক উপাধিতে ভূষিত করলে তা প্রথম আদেশের বিরুদ্ধে যায় না। কিন্তু, কোনো ফেরেশতা বা রাজা-বাদশাহকে আল্লাহর মত ইবাদাত করলে, তা প্রথম আদেশের বিরুদ্ধে চলে যায়। প্রথম আদেশের অর্থ হলো- “তোমরা আমি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করবে না”।
🔴 ১২। আমাদের নিকট আল্লাহ্ হলেন এক ও একক। তিনি আমাদের ও সকল বস্তুর প্রভু। তিনি নবী ঈসা (আঃ)-এরও প্রভু। এ কারণে, সর্বশক্তিমান প্রভু হিসাবে আমরা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই ইবাদাত করি।
উৎস: Isaac Newton, Keynes Ms. 8, King’s College, Cambridge, UK
Collected post
23/06/2024
আদর্শ শিক্ষকের মহত্ত্ব
*****************************
ছবিটির দিকে তাকিয়ে দেখুন, শেখার আছে অনেক কিছু।বেইজিং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে গত পরশু সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন ছাত্রী বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ওই ছাত্রীর বক্তব্য চলাকালীন হটাৎ গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হলে পাশে থাকা একজন প্রফেসর দৌঁড়ে গিয়ে একটা ছাতা নিয়ে এসে সে ছাত্রীর মাথার উপর ধরেন। পুরো বক্তব্য চলাকালীন তিনি ছাতাটা ছাত্রীর মাথার উপর ধরে রেখেছিলেন। ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, ওই প্রফেসর একইসাথে ডিপার্টমেন্টের প্রধান এবং শিক্ষকদের লিডারও।
আপনি কল্পনা করতে পারেন, বাংলাদেশের কোনো ভার্সিটি কনভোকেশন অনুষ্ঠানে এমন দৃশ্য?
কখনো নয়। এ ধরনের মানবিক এবং নৈতিক চর্চা আমাদের দেশের শিক্ষকদের মধ্যে গড়ে উঠেনি এবং উঠবেও না। এর অন্যতম কারণ, ইগো। কোনো শিক্ষক এমন মহৎ কাজ করতে যাবে না তার ভেতর প্রচন্ড ইগোর কারণে, তার মধ্যে
সবসময় এই চিন্তা কাজ করে যে, আমি শিক্ষক হয়ে কেন শিক্ষার্থীদের মাথায় ছাতা ধরতে যাব। হোক না বৃষ্টি, তাতে কী!
অথচ দেখেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা ভার্সিটিগুলির একটি ভার্সিটির প্রফেসর তার ইগো ঠেলে কনভোকেশনে বক্তব্য দেওয়া কালে বৃষ্টি আসলে অনায়সে একজন ছাত্রীী মাথায় ছাতা ধরে রেখে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, একইসাথে অন্যদের নৈতিকতাও শিক্ষা দিলেন।
শিক্ষকতা হলো ঠিক এমনই মহৎ পেশা। শ্রেষ্ঠ মানুষজনই এই পেশায় আসবেন, এটাই স্বাভাবিক রীতি। এই শিক্ষকের কর্মেই তার প্রমাণ মেলে। যে শিক্ষক পাবলিকলি মানুষ হিসেবে ভালো মনের অধিকারী এবং অনুকরণীয় হওয়ার পরিচয় দিয়েছেন মানবিক কর্মের মাধ্যমে, নিশ্চয়ই সেই শিক্ষক ক্লাসরুমেও শিক্ষার্থীদের কাছে সেরা হবেন। তার জন্য সম্মান এবং শ্রদ্ধা।
আক্ষেপের বিষয় হলো, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন শিক্ষকতার চর্চা নেই। অনুকরণীয় তো পরের বিষয়, মহৎ হৃদয়ের মানুষ এই পেশায় নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হয়ে গেছে কমার্শিয়াল৷ অথচ ইউরোপ-আমেরিকায় ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলো বন্ধুত্বের, সহযোগিতা, সম্মান এবং ভালোবাসার।
(সংগৃহীত)
22/06/2024
হজ থেকে ফিরে আসার পর ৪০ দিন পর্যন্ত হাজীদের দুআ কবুল হয়? এ কথাটি কি সঠিক জেনে নিন! শায়খ আহমাদুল্লাহ |
হজ থেকে ফিরে আসার পর ৪০ দিন পর্যন্ত দুয়া কবুল হয়? শায়খ আহমাদুল্লাহ হজ থেকে ফিরে আসার পর ৪০ দিন পর্যন্ত হাজীদের দুআ কবুল হয়? এ কথাটি কি সঠিক জেনে নিন! শায়খ আহমাদুল্লাহ | Naseehah BDগুরুত্বপূর....
13/06/2024
Did you know?
No one can destroy iron, but it's own rust can,
likewise no one can destroy a person, but his own mindset can.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Demra
1361
30/11/2024
30/11/2024