29/05/2026
সুবহান আল্লাহ্
Ultimate Horizon: The Truth. � We present authentic Islamic knowledge, connecting the heart (Qalb) to the Qur'an.
A dedicated space for deep reflection and genuine understanding.
� Follow us to expand your perspective and solidify your faith.
29/05/2026
সুবহান আল্লাহ্
সূরা ফালাক্ব🙂
03/02/2026
ইয়া আরশের মালিক রাহমাতিল আলামিন আজকের পবিত্র শব-বরাত রাতের উসিলায় আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েন।আমিন🤲
যাদের দোয়া আজ কবুল করবেন তাদের কাতারে আমাকে ও রাইখো মাবুদ🥲🤲
゚ #শবেবরাত #লাইলাতুলবরাত
03/02/2026
লূত আঃ ধ্বংসের কাহানি 😒
28/01/2026
চারজন লোক একটি জানাজা বহন করছিল। ঘটনাটি মদিনায়, প্রচণ্ড গরম। তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন হাসান আল-বাসরি (রহ.)। তিনি বললেন,
“আল্লাহর কসম, আমি তাদের পঞ্চম জন হব।”
তিনি লোকদের জিজ্ঞেস করলেন,
“তোমরা চারজনই বা কেন?”
তারা বলল,
“আল্লাহর কসম, এই বৃদ্ধা মহিলা আমাদের ভাড়া করেছেন—লাশ গোসল দেওয়ার জন্য, কাফন পরানোর জন্য এবং বহন করার জন্য।”
হাসান আল-বাসরি (রহ.) মনে মনে বললেন,
“সুবহানাল্লাহ! ভাড়া করেছে!”
দাফনের পর তিনি দাঁড়িয়ে বৃদ্ধা মহিলার মুখের দিকে তাকালেন। তিনি হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদছিলেন এবং বলছিলেন:
“হে আল্লাহ, হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই, হে আমার রব।
এটা আমার অবাধ্য ছেলে—কঠোর হৃদয়ের।
সে বারবার তোমার অবাধ্য হয়েছে, তোমার নাফরমানিতে দুঃসাহস দেখিয়েছে।
হে আল্লাহ, তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও।
হে আল্লাহ, তার অপরাধগুলো মাফ করে দাও।
হে আমার রব, তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই।”
হাসান আল-বাসরি দেখলেন, তিনি একনাগাড়ে কাঁদছেন। তারপর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ সেই মহিলা হাসলেন এবং চলে যেতে লাগলেন।
হাসান আল-বাসরি (রহ.) বিস্মিত হলেন।
তিনি দৌড়ে গিয়ে বললেন,
“থামুন! আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি—এই জানাজার ব্যক্তির ব্যাপার কী?”
মহিলা বললেন,
“আমাকে ছেড়ে দিন, আপনি তো আমার মতো বিপদে পড়েননি!”
তিনি বললেন,
“আমি হাসান আল-বাসরি, মুসলমানদের একজন আলেম।”
মহিলা বললেন,
“আল্লাহর কসম, আপনি আলেম না হলে আমি আপনাকে কিছুই বলতাম না।”
“হে হাসান, এটাই আমার সেই অবাধ্য ছেলে—কঠোর হৃদয়ের।
শহরের লোকেরা তাকে এমন একজন হিসেবেই জানত—যে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এমন কোনো কাজই বাদ রাখেনি!
কিন্তু তারা জানে না—আমার ছেলে আল্লাহর কাছে তওবা করেছিল।”
“আমি গভীর রাতে দরজায় কড়া নাড়তাম, কাঁদতাম আর বলতাম:
‘হে আমার রব, তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই।
হে আল্লাহ, এই অবাধ্য ও কঠোর হৃদয়ের যুবকটিকে হেদায়েত দাও।’”
“আল্লাহ আমার প্রথম দোয়া কবুল করলেন—যেটা ছিল ছেলের বিরুদ্ধে বদদোয়া।
আল্লাহ তাকে এমন রোগে আক্রান্ত করলেন যে সে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ল।
এরপর সে আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা (তাওবাতুন নাসূহা) করল।”
“মৃত্যু যখন কাছে এলো, সে আমাকে ডাকল এবং বলল:
‘আম্মা, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি—আমি মারা গেলে আমার মাথা মাটির ওপর রাখবে,
তোমার পা দিয়ে আমার গালে পা দেবে আর বলবে:
এটাই আল্লাহর অবাধ্যতার শাস্তি।’”
মহিলা বললেন,
“আমি তাই করলাম। তার এক গাল মাটিতে রাখলাম, অন্য গালে পা দিলাম।
আমি কাঁদছিলাম, আর সে আমাকে শেষবারের মতো তাকিয়ে বলল:
‘আম্মা, আল্লাহর কসম, আমার মৃত্যুর খবর আমার আত্মীয়দের কাউকে দিও না।
তারা জানলে আমার জন্য দোয়া করত না—কারণ তারা আমার কাছ থেকে কখনো ভালো কিছু দেখেনি।’”
“সে আমাকে বলল:
চারজন লোক ভাড়া করবে—তারা আমাকে গোসল দেবে, কাফন পরাবে, বহন করবে।
আমি তাই করলাম।
আর আল্লাহর কসম দিয়ে বলল:
আমার কবরের পাশে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকবে—যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাকে আমার ব্যাপারে কোনো নিদর্শন দেখান।”
মহিলা বললেন,
“হে হাসান, আমি আমার ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং আমার রবকে ডাকছিলাম:
‘হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই।
এটাই সেই অবাধ্য ও কঠোর হৃদয়ের যুবক—তাকে তুমি দয়া কর।’”
“আল্লাহর কসম, আমি কবরের ভেতর থেকে আমার ছেলের কণ্ঠ শুনলাম।
সে বলছিল:
‘আম্মা, তুমি চলে যাও—আমি আমার রবকে পেয়েছি, যিনি সবচেয়ে দয়ালু ও সবচেয়ে সম্মানিত।’”
“হে আল্লাহর জন্য মহব্বতের ভাই, আমরা উপকারী জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করি—
দয়া করে এতে কৃপণতা করবেন না।
পোস্টটি শেয়ার করুন।
আপনারা যদি গাছে পানি না দেন, তবে সে গাছ কীভাবে ফল দেবে?”
আপনি যদি পুরোটা পড়ে থাকেন, একটি নেক আমল করে যান—
তাসবিহ পড়ুন, ইস্তিগফার করুন, নবী ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠ করুন।
🌿
19/01/2026
"সাইয়্যিদুশ শুহাদা হামজা (রা.)
যার জানাজা নবীজি (সা.) সত্তরবার পড়েছিলেন"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অত্যন্ত প্রিয় চাচা, ‘আসাদুল্লাহ’ আল্লাহর সিংহ খ্যাত হামজা (রা.)-এর শাহাদাতের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়।
উহুদ যু'দ্ধের সেই দিনটি ছিল মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত শোকের। ইসলামের মহান বীর, নবীজি (সা.)-এর শৈশবের খেলার সাথী এবং বিপদের পরম বন্ধু হামজা (রা.) এই যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।
জুবায়ের ইবনে মুতইমের ক্রীতদাস ওয়াহশি ইবনে হারবকে নিযুক্ত করা হয়েছিল শুধুমাত্র হামজা (রা.)-কে শহীদ করার জন্য। যু'দ্ধের ময়দানে ওয়াহশির বর্শার আঘাতে তিনি জমিনে লুটিয়ে পড়েন। কিন্তু এর চেয়েও বড় নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করে আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা। সে প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে হামজা (রা.)-এর বুক চিরে ক/লিজা বের করে চি*বিয়েছিল এবং তাঁর নাক-কান কেটে বি*কৃত করেছিল।
📗আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ৪১-৪২
📘মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ৪৪০৬)
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে এই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন,
"হিন্দা, হামজা (রা.)-এর ক-লিজা বের করে তা চিবিয়েছিল, কিন্তু সে তা গিলে ফেলতে পারেনি। নবীজি (সা.) যখন এ সংবাদ পেলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ তায়ালা হামজার কোনো অংশকে (কলিজাকে) আগুনের জন্য বৈধ করবেন না (অর্থাৎ হিন্দা তা গিলে ফেললে তাকেও জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করতে পারতো না, তাই আল্লাহ তাকে গিলা থেকে বিরত রেখেছেন)।"
( মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৪৪০৬, বর্ণনাটি হাসান পর্যায়ের)
যু'দ্ধের শেষে নবীজি (সা.) যখন তাঁর প্রিয় চাচার এই বিকৃত লা-শ দেখলেন, তখন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তাঁর পবিত্র চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল এবং তিনি বলেছিলেন,
"হে আল্লাহর সিংহ এবং আল্লাহর রাসূলের সিংহ! আপনার মতো বড় বিপদে আমি আর কখনো পড়িনি।"
তিনি এতটাই ব্যথিত হয়েছিলেন যে, বলেছিলেন, আল্লাহ যদি আমাকে পরবর্তীতে কুরাইশদের ওপর বিজয় দান করেন, তবে আমি তাদের সত্তর জনকে এমন করে বিকৃত করব। কিন্তু তখন আল্লাহ তায়ালা সান্ত্বনা ও ধৈর্য ধারণের জন্য সূরা আন-নাহল এর ১২৬ নম্বর আয়াত নাজিল করেন,
"আর যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে ততটুকুই শাস্তি দাও যতটুকু তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, তবে ধৈর্যশীলদের জন্য সেটিই হবে উত্তম।"
(সূরা আন-নাহল আয়াত ১২৬)
হামজা (রা.)-এর দাফন ছিল অত্যন্ত সাদাসিধে কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ।
তাঁর লাশের জন্য এতটুকু কাপড়ও পাওয়া যাচ্ছিল না যা দিয়ে পুরো শরীর ঢাকা যায়। মাথার দিক ঢাকলে পা বেরিয়ে যেত, আর পা ঢাকলে মাথা। অবশেষে নবীজি (সা.)-এর নির্দেশে কাপড় দিয়ে মাথা ঢাকা হয় এবং পা দুটি 'ইযখির' নামক ঘাস দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। (সহীহ বুখারী হা/ ১২৯০)।
উহুদ যু*দ্ধের শহীদদের দাফনের সময় নবীজি (সা.) দুই বা তিনজনকে একসাথে একই কবরে দাফন করেছিলেন। হামজা (রা.)-এর সাথে তাঁর ভাগ্নে আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রা.)-কে একই কবরে রাখা হয়েছিল।
নবীজি (সা.) প্রতিটি শহীদের জানাজার সময় হামজা (রা.)-এর লাশ সামনে রাখতেন। এভাবে তিনি মোট ৭০ বার জানাজা পড়িয়েছিলেন, যা তাঁর প্রতি নবীজির গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
তাঁর প্রিয় চাচার মর্যাদা ছিল আকাশচুম্বী। তাই তিনি কেবল একবার জানাজা পড়েই ক্ষান্ত হননি, বরং প্রতিটি শহীদের সাথে তাকে শরিক করে তাঁর প্রতি পরম ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করেছেন।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১০১৬ ও
সহীহ ইবনে হিব্বান হাদিস নং ৭০২৫)
শহীদি তামান্না ও আল্লাহু আকবার
উহুদ প্রান্তরে আজও হামজা (রা.) এবং অন্যান্য শহীদদের স্মৃতি অম্লান। তিনি কেবল রক্তের সম্পর্কীয় চাচাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ইসলামের স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন তিনি 'সাইয়্যিদুশ শুহাদা' বা শহীদদের সর্দার হিসেবে উপস্থিত হবেন।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর ৩৬৮১)
উহুদ যুদ্ধের ময়দানে যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রিয় চাচা হামজা (রা.)-এর ক্ষ*তবিক্ষত দেহটি দেখলেন, তখন তাঁর সেই হাহাকার আর অশ্রু আজও কোটি মুমিনের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। যার বীরত্বে ইসলাম শক্তিশালী হয়েছিল, তাঁর শেষ বিদায় ছিল বড়ই করুণ।
প্রিয় নবী (সা.) তাঁর চাচাকে কেবল আত্মীয় হিসেবে নয়, বরং একজন অকৃত্রিম বন্ধু ও অভিভাবক হিসেবে ভালোবাসতেন।
যখন শোনেন যে, কলিজার টুকরো চাচার শরীর বিকৃত করা হয়েছে, তখন নবী (সা.) এতোটাই কেঁদেছিলেন যে সাহাবায়ে কেরামও অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি।
যিনি ইসলামের 'সিংহের' মতো গর্জে উঠতেন, তাঁর শেষ বেলায় এক টুকরো কাফনের কাপড়ও সম্পূর্ণ জোটেনি! মাথা ঢাকলে পা বেরিয়ে যাচ্ছিল।
প্রিয় পাঠক, এই ঘটনা গুলো লিখতে গেলে চোখ ভিজে আসে।
আল্লাহ তায়ালার প্রিয় রাসূল (সা.)-এর
পবিত্র অশ্রুর উসিলায় রাসূল (সা.) ও সাইয়্যিদুশ শুহাদা হামজা (রা.)-এর সাথে আমাদের সবাইকে জান্নাতে একত্রিত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।
18/01/2026
মদিনা শুধু যিয়ারাহ করার শহর না।এ শহরের ইতিহাস যেনে যিয়ারাহ বা সফর করলে আপনার মন প্রান প্রশান্তি লাভ করবে।