মউসুম এখন গোনা(গণ[না])–তন্ত্রের। ইসলামতন্ত্র কোণঠাসা। সবাই ছুটছে ব্যালট বালট, ব্যাট, ভোটের দিকে। মুক্তির ইশতিহার যেন গণতন্ত্রের গোপন বুথে। যেখানে রাজকীয় ষণ্ঠাপান্ডাদের সরব আনাগোনা।
আমাদের ইসলাম খেই হারিয়ে জীবন থেকে বিতারিত হয়ে ঠাঁই নিয়েছে শরীরের বসনে।মসজিদের আঙিনায় আর মোল্লার হেরেমগাহে। ঈমান—কালিমা, নামাজ—রোজা, দোয়াদুরুদ, আল্লাহ-রসুলের জপ জীবনের পরম দিকনির্দেশনার বদলে হাল্কা মামুলাত হয়ে উঠছে। ঈমান ও কুফরের ফারাকে সংশয়ের বীজ গজিয়ে এখন রীতিমত বাড়বাড়ন্ত। শাহরগের কাছ থেকে কুফর শ্বাস ফেলছে ঘন ঘন। আমরা খুইয়ে ফেলেছি আমাদের তাকাজা ও আত্মমর্যাদার পাঠ। বিশ্বাসের বারান্দায় গণতন্ত্রের তীব্র ঝাঁকুনি আমাদের বেসামাল করে তুলছে বহুকাল থেকে।
আমরা মুখ ফিরিয়েছি আল্লাহর সার্বভৌমত্ব থেকে ও দুনিয়ায় আমাদের নেতৃত্ব দেবার আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মনোনীত সত্তার প্রতিনিধিত্ব থেকে।
ভাড়াটে শ্লোগানশ্রমিকদের স্বল্পপ্রাণ জিগির,আওয়াজ, মোসাহেবিপনার বহর বিভ্রান্ত করছে নিয়ত। মনে মনে ভাবী, এই বার হয়তো কিছু একটা হবে! করে ফেলব। ঠেকানোর সাধ্য কার আছে!? চোখ মেললেই শ'খানেক সারিতে লাখখানেক ভক্ত-অনুরক্ত সমর্থককুল, দিলকাশ মানজার। ঘরে আছে আরও লাখো কোটিগুণ আওরাত-জেনানার বিপুল নিশ্চিত শক্তি।
এসব মাড়িয়ে আমাদের জয় বন্দরে নোঙর করা সময়ের ব্যাপার। এ সব স্বপ্ন—দিবাস্বপ্নে খাবি খেতে খেতে পৃথিবীর বয়স বেড়েই চলছে। ইনসাফ—ন্যায়বিচার এবং সাম্য প্রতিষ্ঠার আল্লাহর আইন অগ্রাধিকার ও অতীব আবশ্যকতার হিস্যা থেকে ঝড়ে পড়ছে।
গণতন্তের মাকালফলে বুঁদ সমষ্টিগত জনতার বড়ো অংশ। ভারসাম্যহীন মনুষ্যসৃষ্ট এই বিধানতন্ত্র জগতের প্রতিটি স্তরে জুলুম, পাপাচার—অনাচার, দুরাচার—অযাচার আর বিদ্বেষ হিংস্রতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নামে উদ্ভট দর্শন এবং বস্তুবাদের সয়লাব ঘটিয়েছে। ক্রমশ, শোষক শাসকের আকার বাড়িয়েছে।
সবিশেষ, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার জাগরণ ও বিকাশ—ব্যাপ্তিতে পৃথিবীব্যাপী অর্থক্ষমতার এক নীরব যুদ্ধের শিকার ৯০% বেশি মানুষ।
এ সবরই খুঁটিনাটি আলোচিত হয়েছে ছবির বইটিতে।
১: পুঁজিবাদী জীবনব্যবস্থা;
২: গণতন্ত্র ও ইসলাম;
৩: গণতন্তের অবাধ স্বাধীনতা;
৪: গণতন্তের বিশ্বাসের স্বাধীনতা;
৫: গণতন্তের ব্যক্তিস্বাধীনতা;
৬: পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থাসহ এই ব্যবস্থার মতবাদ ও দর্শনের নানান দিক মোটাদাগে বিবৃত হয়েছে আলোচিত বইটিতে।
বইটি প্রকাশ করেছে
সাবাহ পাবলিকেশন
Sabah Publication - সাবাহ পাবলিকেশন
প্রকাশকাল : শাবান ১৪৪৬ হিজরি || ফেব্রুয়ারি ২০২৫
•পরিবেশনায় থাকছে
পড়প্রকাশ, আশরাফিয়া বুক হাউজ, মুহাম্মদ পাবলিকেশনসহ দেশের নামকরা অনলাইন বুক স্টোরগুলি।
বডি প্রাইস : মাত্র ৳২৪০। তবে কোথাও কোথাও ছাড়মূল্যেই পাবেন। বিশেষত এই সুযোগের জন্য সাবাহ তো সেরা, কী বলেন?
মাদরাসা ই মোমিনিয়া ইমদাদুলউলুম : Madrasa -e- Mominiyyah Imdadululum
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from মাদরাসা ই মোমিনিয়া ইমদাদুলউলুম : Madrasa -e- Mominiyyah Imdadululum, Elementary School, Cumilla.
17/10/2024
আব্বু, আমি আপনাকে ভুলতে পারছি না
আজ ১৭ অক্টোবর,২০২৪ ঈ। আপনি আমাদের থেকে হারিয়ে যাবার ৪৪তম দিন। এখন বছরের ৩৫৫/৫৬ দিন বড়ো দীর্ঘ মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, মহাকালের এই এই সফর কখনও ফুরোবে না। মৃত্যুুর আগেই আমাকে মৃত্যু গ্রাস করছে প্রতিমুহূর্তে। আমি যেন বার বার মৃত্যু থেকে জেগে ওঠি। দিনরাতে কয়েকবার আমার মৃত্যু হয়। সঙ্গে পরিবারের সবারও হয়তো। এই বেদনা ও শোক আমাদের তিলে তিলে ক্ষয় করে দিচ্ছে। চোখ মেললেই আপনার ছায়া দেখি। আপনার চেহারা দেখি। আপনার গলার অমিত তেজ ভেসে আসে। আপনি আমাদের নাম ধরে ধরে ডাকছেন। এখনও কানে বাজে সেসব ডাক।
আপনার গড়া মাদরাসায় পড়ে আছি মরা মানুশের মতো।নিজস্ব,চৈতন্য,বোধ–উপলব্ধি, গরিমা মরে গেছে সেই সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখেই; আপনার ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গেই। জানি না কোন্ শক্তিবলে এখনও চোখ মেলে তাকাই! আকাশ দেখি, জগৎ দেখি। জনমানুশের কোলাহল দেখি। তবুও যেন নিজের অজান্তে আপনার ছবিটা খুঁজি—মাদরাসার দফতরে, মাদরাসার মাঠে, খোলা আঙিনায়; যেখানে প্রায়শঃই আপনি হুজুরদের ডেকে নিয়ে বসতেন। মনখুলে মাদরাসা ও নিজের ভালোমন্দ আলোচনা করতেন। কখনও সূর্যের চিকচিক আলো আপনার গায়ে গড়িয়ে পড়ত। কখনও বা আমকাঁঠাল গাছের স্নিগ্ধ ছায়া আপনাকে বেষ্টনী দিয়ে রাখত। চা তৈরী করে সবাইকে নিয়ে পান করতেন। সবজিওয়ালা, মাছবিক্রেতা যেতে দেখলে ডেকে আনতেন। মাছ–সবজি কিনে নিতেন নিজের জন্য ও মাদরাসার জন্য। আজ সেই গুলবাগিচায় সব আছে আগের মতো, নেই শুধু দিলখোলা সেই মজলিস। নেই পরমনির্ভরতার আপনজন৷ জীবনের রওনক আসবে কোত্থেকে?
•আব্বু, আপনার রুমের সামনের খোলা জাগার চেয়ারগুলো দিব্যি এখনও বহাল। উপরে ঝুলে থাকা ফ্যান! কিছুইতো যায়নি। হারায়নি। রুমের তালাছাবি আছে আগের মতোই। গ্যাস-স্টোভ, পানি উঞ্চতার তড়িত্বযন্ত্র গিজার, কিতাবের আলমিরা, হোমিও অষুধের অনিন্দ্য সুন্দর দুটি আলমারিতে সাজানো বিবিধ অষুধ আগের মতোই আছে। শেষরাতে জেগে যেই জায়নামাজে নামাজ পড়েছেন দীর্ঘদিন। কেঁদেছেন, হাত উঠিয়েছেন, নিজের জন্য, আমাদের জন্য, মাদ্রাসার জন্য, সবার জন্য দোয়া করেছেন— যেন আলেম হই, বড় হই, সুখেশান্তিতে থাকি, আল্লার রহমত, আল্লাহর অনুগ্রহ, আল্লাহর করুণা, আল্লাহর কৃপা সবসময় শামেলেহাল হয়, সঙ্গী হয়।" সেই দোয়া করেছেন যেই জায়নামাজে বসে দীর্ঘদিন, সেই জায়নামাজ আজও পড়ে আছে, ভাঁজ করে রেখেছি। আপনার সেই পুরনো চেয়ার!
—যে চেয়ার দেখে আসছি আজ ৩০ বছর, সেই লৌহকাঠের চেয়ার পড়ে আছে আগের মতোই। শুধু পুরো ঘরজুড়ে বিরানভূমির নীরবতাকে নবাগত মনে হয়। নির্জন,কোলাহলশূন্য মধ্যদুপুরের নিঃসঙ্গতা আষ্ঠেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে আমাদের সময়গুলোকে।
আব্বু, আপনি বিশ্বাস করুন যখনই আপনার ঘরে ঢুকি, ঢুকতে হয় অনিচ্ছা সত্ত্বেও, বুকফেটে হৃদয় চৌচির হয়ে এই জমিন ছেড়ে কান্নার অবিরাম জলধারা ভাসিয়ে নিয়ে যায়, আমি ভাসতে ভাসতে কখনও উদাস হয়ে পড়ি, আর নিজের প্রতি নিজেকেই হারিয়ে ফেলি, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি।
•কল্পবাস্তবে দেখি, আপনার দুপাশের জানলার পার্টগুলো খোলা, কিছুটা আড়াল করা, রুমের মধ্যস্থিত পর্দাটা নামানো। একটু সরালেই আপনাকে দেখব বেগোর ঘুমে অথবা বইপত্রে ডুবে আছেন৷ এরকইমই দেখে আসছি গত ২৭/২৮ বছর। হাল্কা শব্দ করলে জেগে বলবেন, কে? খালেদ?!একটু চা বানা! আমার জন্য একটু নাশতা নিয়ে আয়...! অজুর পানি দে।
কিন্তু না, এটা আজ কল্পনায় শুধু। বাস্তবতা তো ভিন্ন কিছুরই ইঙ্গিত দেয়। জানি না, আপনি কবরে কেমন আছেন। আপনার রব—প্রভু আপনার প্রতি সদয় আচরণ করছেন? না মহান রাব্বুল আলামিন আপনার প্রতি খড়গহস্ত হয়ে উঠেছেন, আমরা জানি না।
•মানুশ হিসেবে আপনিও ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে ছিলেন না নিশ্চয়ই, কিন্তু আল্লাহর রহমত, আল্লাহর অনুগ্রহের প্রত্যাশা যদি আমরা না হারাই—আমরা আশা করতে পারি, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহান আপনার প্রতি রহম করেছেন, রহম করবেন আর কবর হয়ে উঠেছে পরম কোমল–স্নিগ্ধ, আপনি জান্নাতের গোলাপ ও হাসনাহেনার সুবাসে ঘুমিয়ে আছেন। রহমতের ফিরিশতারা আপনার উপর শীতলতার পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। আপনি একঘুমেই হাজির হবেন ময়দানে মাহশারে। সেদিন আপনার হিসাবনিকাশ হয়তো সহজ হবে। আমরা এই আশা করি। আপনি ক্ষমা পাবেন আপনার রবের কাছে। রহমানুর রহিমের কাছে। সেদিনের চূড়ান্ত হিসাবে নাজাত পেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউসে আপনার সাথে দেখা হবে পুনর্বার,বারবার।
•আব্বু, আপনি বিশ্বাস করেন! গতকাল আপনার নাতি বাকির মোহাম্মদ খান, যেই নাতিকে আপনি আদর করে "বাকু" বলে ডাকতেন, আপনার স্মরণে, আপনাকে খুঁজে না পেয়ে প্রবল কান্নাকাটি করেছে। জানলাম, বাকির কাঁদতে কাঁদতে হয়রান হয়ে গিয়েছে। আপনাকে অনবরত–বিরামহীন ডাকছে।
আপনি হয়তো কবর থেকে আমাদের এই কান্না শুনছেন না, কিন্তু আমরা কাঁদছি ওরা কাঁদছে। আমাদের এই অবিরাম ক্রন্দন কোথায় কখন থামবে বা এর সমাপ্তি কীভাবে ঘটবে সেটা আমাদের অজানা।
•বাড়ির উঠান, পুকুরপাড়, চালতাগাছের তলা নারকেলগাছের তলা এবং গেটের সামনে আপনি চেয়ার পেতে বসে থাকতেন। আপনার জন্য আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী খেদমত–সেবা, শুশ্রূষা যাই বলি না কেন তাতে প্রাণান্ত চেষ্টা করেছি। আপনার সেবার মাধ্যমে মাওলার সন্তুষ্টি খুঁজতাম, খোঁজার চেষ্টা করতাম। হয়তো কখনো কখনো ইচ্ছা এবং আকাঙ্ক্ষার প্রতিদান আমরা সেভাবে দিতে পারতাম না। মানুশ হিসেবে আমাদের অপারগতা এবং অক্ষমতা ওজর হিসেবেই কবুল করবেন আশা করি।
•আব্বু, আজ অনেকদিন হয়ে গেল আপনি ইনতেকাল হয়েছে। কিন্তু আপনার বিয়োগ বেদনা– আপনাকে হারানোর কষ্ট আমরা আজও ভুলতে পারিনি। ভুলতে পারছি না।
•সন্তান হিসেবে নানান কারণে আপনার প্রতি রাগ–অভিমান কিছুটা আমারও ছিল। কিন্তু আপনার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেই অভিমান রাগ ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে। অচিন দিগন্তে মিশে গেছে সেসব মনোজঞ্জাল। আজ আপনি বিশ্বাস করুন, আপনি আমাদের জন্য বৈষয়িক প্রথাগত উল্লখযোগ্য কোন সম্পদ রেখে যাননি বা রেখে যেতে পারেননি সেটা নিয়ে আমাদের আজ আর কোন হতাশা আফসোস অভিমান কিছুই নেই। আমরা শুধু এটুকু বিশ্বাস করি, আপনার মতন সবার একদিন মৃত্যু হবে, আমরাও কবরে চলে যাব, আমাদের কবরস্থ করা হবে। আমরাও এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাব একদিন। যদি আপনার সঙ্গে দ্বিতীয়বার আমাদের সাক্ষাৎ হয়, একান্ত মুলাকাত হয়, তবে তা হবে জীবনের পরমপ্রাপ্তি। এর চেয়ে বেশি কিছু আমরা আশা করছি না। জানি না, মহান আল্লাহ আমাদের সেই আশা পূরণ করবেন কিনা!
•আপনি আর কখনো ডাকবেন না। রাত বেশি হয়ে গেলে পথ থেকে, বাজার থেকে ডেকে নেওয়ার জন্য ফোন করবেন না; বলবেন না, "তুই কই আছোত?' আমার মোবাইলফোনে আপনার নম্বর থেকে কখনও আর আপনার রিং আসবে না! ফোন রিসিভ করতেই হৃদয়গাঁথা সেই কন্ঠ আমি শুনতে পাবো না আর।
•আজ আমি অভাগা, খুব অল্প বয়সে বড়ো দুঃসময়ে আমি আপনাকে হারিয়েছি। জগতের নিঃসার্থ অসীম অকৃত্রিম মমতার চাদর হারিয়ে ফেলেছি। আপনার প্রকৃত ভালোবাসা আর কখনও সিক্ত করবে না আমার হৃদয়জগৎ।
•এই বেদনাবিধুর লগনে মনে জেগে উঠছে স্মৃতির অনেক চারাগাছ। কোনটা রেখে কোনটা বলি, সেই হিসাব করে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। স্মৃতি বলছে, ১৯৯৮ ঈসায়িতে আপনি আমাকে হাত ধরে ঢাকার মাদরাসায় নিয়ে এসেছিলেন। পড়াশোনা করার জন্য। লেখাপড়া করার জন্য। মানুশ হবার জন্য। আপনার নিজের গড়া মাদরাসা। জীবনের সবটুকু দিয়ে গেছেন যে মাদরাসা বা দীনি মারকাজের জন্য।
তখন আপনার বয়স হিসাবমতে চল্লিশের কোঠায়। সকালে বেরিয়ে পড়তেন মাদরাসার কাজে বেশিরভাগ সময় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা নেমে আসত। পুরাটা দিন আপনার অপেক্ষায় থাকতাম। বারান্দার খিলান ধরে পথ চেয়ে থাকতাম, আপনি কখন ফিরে আসবেন সেই আশায়। কখনও কখনও আমার এক উসতাজ সান্ত্বনা দিত, " হুজুর চলে আসবে, আসতেছে" বলে। আহ! সেসব দিন তো জীবনের অতীত। সেই ত্যাগতিতিক্ষার বিনিময় গড়া ওঠা প্রতিষ্ঠানের চাহানে আপনাকে ছাড়া আমার যাপিত সময়গুলো বড়ো বিষাদপূর্ণ ও শোকদগ্ধ।
প্রায় বলতেন, আমি দোয়া করি তুমি আলেম হও। আল্লাহ তোমার মর্যাদা বুলন্দ করবেন। দুনিয়ায় রিজিক–আহারের অভাব হবে না। সুখসমৃদ্ধি তোমার পিছু নেবে।
এইযে আমার প্রতি আপনার বাবাসুলভ নিঃস্বার্থ শ্রমপ্রচেষ্টা রোনাজারি ভাতকাপড়ের ছুটোছুটি এ সব ভাবলে কান্নার ঢেউ ধলা পাকিয়ে উঠে। তোলপাড় হয়।
•দেখতে দেখতে লম্বা একটা সময় পড়াশোনা করি। আচমকা নানান কারণে আমার পড়াশোনায় চ্ছেদ ঘটে। তবুও আমাকে পড়াশোনায় ফেরানোর আকুলতা ছিল। যদিও নিজের কমজুরি ও সাহসহীনতার ফলে পড়ালেখার হারানো দুর্মর প্রত্যাশা কখনও ফিরে পাইনি। নির্ঝঞ্ঝাট হয়নি পরবর্তী জীবন। হিসাবের মতো সমীকরণ মিলিয়ে জীবন আর সময় এগোয়নি আমার। অসময়ে বিয়ে করিয়ে দেন। অগোছালো জীবনের সেই পথচলা আজও অটুট। একসময় আহ্লাদের সুভাস নিয়ে আপনার নাতনির আগমন হয়। আপনার আশা ছিল নায়নাতকুর দেখবেন। আলেম হবে। হাফেজা হবে। হাফেজ হবে। জগতজোড়া খ্যাতি আনবে।বিয়েশাদি দেবেন। আল্লাহ আপনার সেই কামনা দুনিয়ায় পূরণ করেননি। হয়তো পরকালে এর নতিজা পাবেন।
এখন বড়ো নাতিন কুরআনের অর্ধেক হাফেজা হয়েছে। আপনার মৃত্যুর সময় দেখে গেছেন ১৫ পারা শেষ হয়েছে। আশা করি বাকিটুকুও শেষ করবে আল্লাহর রহমতে। ইনশাআল্লাহ।
আপনি দেখবেন, আল্লাহ আপনার সেই আশাও পূরণ হবে।
আপনার খরচে বিরল উদারতা ছিল। বিশেষত খাবারদাবারে। খানাখাদ্যে। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে আপনার উদারতা ইতিহাস হয়ে থাকবে।এই খাতে আপনার আপসহীন উদারতা আমরা চিরকাল মনে রাখব। পকেটে ৫ টাকা থাকলে আপনি দশ টাকা খরচ করার বন্দোবস্ত করতেন। ১০ টাকা থাকলে আপনি ৩০ টাকা খরচ করতেন। পৃথিবীর কেউ না জানুক আমরা জানি। মহান রব তিনি সব জেনেছেন, দেখেছেন।
নিশ্চয়ই এর আজর–বা প্রতিদান দিতে আল্লাহ ভুলবেন না৷ আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। কবরের ঘুম হোক চিরপ্রশান্তির।
"রব্বিরহাম হুমা কামা রব্বায়ানি সগিরা"।
আলকুরআন।
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
02/10/2024
রক্ত চাই,জরুরি ভিত্তিতে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমার ভাতিজি-এর জন্য
A+ গ্রুপের রক্ত লাগবে। সহৃদয়বান কোন দাতা আশপাশে থাকলে আশা করি রক্ত প্রদানে এগিয়ে আসবেন।
সার্বিক যোগাযোগ
হাফেজ মৌলবি নুরুদ্দিন খান
01844467208
এতায়াতি চক্রান্তের পোস্টমর্টেম: নেপথ্যে কারা?
লিখেছেন Wali Ullah Arman
দারুল উলূম দেওবন্দ-এর সদরুল মুদাররিস ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সভাপতি আওলাদে রাসূল মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী সাহেবের এবারের বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে একটি এতায়াতি পরিবারের সদস্যরা যে জঘন্য চক্রান্ত করেছে, আমাদেরকে তার জের কতোদিন টানতে হয়, আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু একজন আওলাদে রাসূল ও মহান বুজুর্গ আলেমের সাথে প্রতারণার ফলাফল ভালো হবে না অবশ্যই।
একটি এতায়াতি পরিবারের উপাখ্যান:
বিশ্বাস এবং আস্থার মর্যাদা সবাই দিতে পারে না। দারুল উলূম দেওবন্দ পড়ুয়া হিসেবে মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী সাহেব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী এবং মাওলানা ফয়জুল্লাহকে স্নেহ করেন। তাদের পিতা চারদশক ধরে ঢাকার মাদানীনগর ও আরজাবাদ মাদ্রাসার সাথে জড়িত। সেই সুবাদেও তাদের দুই ভাইয়ের অবারিত সুযোগ রয়েছে মাওলানা মাদানীর কাছে যাবার, তার সাথে কথা বলার। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে তারা প্রায়শ ঢাকা, দেওবন্দ অথবা সৌদি আরবের ওমরাহ সফরেও হযরত মাদানীর কাছাকাছি ঘুরঘুর করেন। এতে করে তাদের পক্ষে সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে বিশেষ করে মাওলানা মাদানী সাহেবের সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রাখা প্রতিষ্ঠান ও ঘরানায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ মেলে।
এই সূত্রে তারা দুজন ঢাকার বারিধারা ও মালিবাগে মুদাররিস এবং মুহাদ্দিস নিযুক্ত হন। কিন্তু এতায়াতি সংশ্লিষ্টতা ও সংশ্রবে দুজনকেই বারিধারা ও মালিবাগ থেকে বিদায় নিতে হয়। যদিও পরবর্তীতে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী নিজের এতায়াতি নজরিয়া থেকে তাওবা করে পুনরায় বারিধারায় শিক্ষক নিযুক্ত হন। আর সাম্প্রতিক পালাবদলে আরো প্রভাব ও প্রতাপ নিয়ে তিনি বারিধারায় ফিরেছেন। তবে সর্বশেষ তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, ভ্রান্ত গোষ্ঠীর সাথে সংশ্রব কোনো না কোনোভাবে থেকেই যায়।
মাওলানা আরশাদ মাদানী সাহেব থাকেন আরেক ভূখণ্ডে। বাংলাদেশে তাবলীগ জামাত-কেন্দ্রিক চরম বিরোধ হয়েছে। যার সূচনা তাবলীগ জামাতের স্বঘোষিত বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ কান্ধলবী সাহেবের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং অবস্থানের কারণে। মাওলানার এসব বিভ্রান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং নিজামুদ্দীন মারকাজে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদগ্র বাসনার অনিবার্য পরিণতিতে দিল্লি মারকাজে বিভক্তি দেখা দেয়। সেই বিরোধের উত্তাপে বাংলাদেশেও তাবলীগ জামাত বিভক্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের মাটি বাতাসের বৈশিষ্ট্য অনুসারে এখানকার বিরোধ সকল মাত্রা অতিক্রম করে। যদিও এই দেশের তাবলীগের কার্যক্রমে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নিজামুদ্দীন এবং শূরাপন্থী কোনো পক্ষই বাড়াবাড়ি করতে কসুর করেনি। কিন্তু মাওলানা সাদ কান্ধলবী সাহেবের বিভ্রান্তিকর অবস্থা নিত্যনতুন রূপ ধারণ এবং বাংলাদেশে তার অনুসারীগণ ওলামা বিদ্বেষের কারণে মাঠে ময়দানে কোনঠাসা হয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব পোষণ করার ফলে উভয়পক্ষের দূরত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমীর পরিবার আপাদমস্তক এতায়াতিদের সক্রিয় সহযোগী এবং তাদের পিতা ইঞ্জিনিয়ার সাহেব এতায়াতিদের অন্যতম শীর্ষ নেতা। এবারের বিশ্ব ইজতেমাকে টার্গেট করে এতায়াতিরা বহুদিন ধরে প্রকাশ্যে এবং গোপনে তৎপরতা চালিয়েছে। এর অংশ হিসেবে তারা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীকে মিছিল সমাবেশে মাঠে নামিয়েছে। এক এতায়াতি মাদ্রাসায় হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম সাহেবকে নিয়েছে। এবং মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী সাহেবের বিশ্বাস ও আস্থার সুযোগ কাজে লাগাতে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমীদের গত সপ্তাহে দিল্লি ও দেওবন্দ পাঠিয়েছে।
চক্রান্তের নীলনকশা দিল্লি ও দেওবন্দে:
সপ্তাহখানেক আগে মাওলানা ফয়জুল্লাহ তার বাবাকে চোখের চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে দিল্লি যান এবং দেওবন্দ অবস্থানরত মাওলানা মাদানীর পরিবারের একজনের মাধ্যমে দিল্লি জমিয়তের অফিসে ওঠেন। পরদিন সকালে এটা দেখে মাদানী পরিবারের সদস্য বিস্মিত হন যে, তাকে না বলেই তারা বাপ-বেটা দেওবন্দে মাদানী মঞ্জিল দস্তরখানে উপস্থিত। অথচ তার সহযোগিতা নিয়েই তারা দিল্লি অফিসে উঠেছেন এবং সাধারণত দেওবন্দ গেলেও তাকে অবগতি দেয়া হয় এবং তিনি মাওলানা মাদানী সাহেবকে অতিথিদের ব্যাপারে অবহিত করেন। সেই ধারাবাহিকতা ক্ষুন্ন হতে দেখে তিনি বিস্মিত হন। দস্তরখানে বসে তারা নেকসুরতে ধোঁকা দেয়ার দূরভিসন্ধিতে হজরতকে বাংলাদেশে তাবলীগের বিবদমান উভয়পক্ষের বাড়াবাড়ির কথা জানিয়ে সামনের সফরে সবার উদ্দেশ্যে নসিহত করার আরজি জানান। হজরতের সামনে তাদের আলোচনার বড় অংশ জুড়ে থাকে আসন্ন ইজতেমা।
দুদিন পর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী দিল্লিতে:
৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে দিল্লি থেকে সাইয়েদ আরশাদ মাদানী সাহেবের ঢাকার ফ্লাইট। তার আগের দিন ৪ ফেব্রুয়ারি হুট করে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী ঢাকা থেকে দিল্লির ফ্লাইট ধরেন। তার আগে তিনি মাদানী পরিবারের একজনকে জানান যেহেতু পরদিন তার মাদ্রাসা বারিধারায় হজরতের প্রোগ্রাম। তাই হজরতকে নিয়ে যাবার জন্য তিনি দিল্লি আসছেন। মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী তাকে সতর্ক করে দেন যে, তার দিল্লি যাবার কথা যেন কাউকে না জানানো হয়। এ কথায় নতুন করে তার মনে সংশয় তৈরি হয় যে, হজরতের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ও খাদেম হিসেবে মাদানী পরিবারের একজন দিল্লি থেকে ঢাকা যাবে। তারপরও তার দিল্লি আসার প্রয়োজন কী? আবার তা গোপন করার হেতু কী? দিল্লি থেকে ঢাকার বিমানে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী মাওলানা মাদানী সাহেবের সার্বক্ষণিক সঙ্গীকে নিজের আসনে বসিয়ে নিজে হজরতের পাশে বসেন এবং প্লেনে দীর্ঘ সময় নানা কথার মাঝে তাবলীগ এবং প্রসঙ্গেও কথা বলেন। (হজরতের খাদেমের বর্ণনা)
বারিধারায় মাওলানা মাদানী সাহেবের হাতে লিখিত অনুরোধ প্রদান:
৫ ফেব্রুয়ারি রাতে মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী সাহেবের হাতে বিশেষ কারো দিক থেকে বারিধারায় বুখারী শরীফের দরস প্রদানের পূর্বে কিংবা চলমান অবস্থায় লিখিত কাগজ দিয়ে তাবলীগ জামাতের উভয়পক্ষের তাকফীর প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য নিবেদন জানানো হয়। সেদিন সফরের ক্লান্তিতে তিনি এ প্রসঙ্গে কথা না বলে পরদিন বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে বয়ানের এক পর্যায়ে তাবলীগ জামাতের বিরোধ এবং বিবদমান উভয়পক্ষকে তাকফীর এবং বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। তাঁর কথার ধরনে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, একজন অভিভাবক ও অনুসৃত রাহবার হিসেবে তৃতীয়পক্ষ কর্তৃক হজরতকে বাংলাদেশে তাবলীগের দুই অংশের পারস্পরিক ‘তাকফীর’ বলার মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়। হজরত অভিভাবক হিসেবে নিজ দায়িত্ব এবং দরদের জায়গা থেকে কিছু কথা বলেন। যেখানে দারুল উলূম দেওবন্দের ফতোয়া প্রসঙ্গটিও এসেছে। (আশাকরি দেওবন্দ ফিরে যাবার পর তাঁর দিক থেকে এ ব্যাপারে খোলাসা বক্তব্য আসবে ইনশাআল্লাহ)
বসুন্ধরায় মাওলানা ফয়জুল্লাহর আনন্দ:
বসুন্ধরা মাদ্রাসায় হজরতের বয়ানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অনেকে বিস্মিত হন। দ্বিধান্বিত মনে অনেকে দরসগাহের বাইরে আসেন। মাওলানা মাদানী সাহেবের একজন সফরসঙ্গী বাইরে এসে দেখেন মাওলানা ফয়জুল্লাহ প্রফুল্লচিত্তে দাঁড়িয়ে আছে। মাওলানা তাকে লক্ষ্য করে বলেন, মাওলানা ফয়জুল্লাহর মিশন সফল! কিন্তু এর কোনো জবাব দেয়নি মাওলানা ফয়জুল্লাহ। এতে ওই মাওলানা নিশ্চিত হয়ে যান যে, এক সপ্তাহের মাঝে তাদের দুই ভাই এবং পিতার দেওবন্দ ও দিল্লিতে তৎপরতা প্রসঙ্গে প্রাপ্ত সংবাদ সত্য।
পুরনো একটি অপরাধের প্রমাণ:
তাবলীগ জামাতে ক্রমাগত বিরোধ ও বিভেদ বৃদ্ধি পেতে থাকলে মাওলানা মাদানী সাহেবের পূর্বের এক সফরে পরামর্শের জন্য কাকরাইলের আহলে শুরা ওলামায়ে কেরামগণ মাওলানা জুবায়ের সাহেবের নেতৃত্বে বসুন্ধরার একটি বাসায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। সেখানে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী ব্রাদার্স উপস্থিত ছিলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে সেখানকার কিছু রেকর্ডেড কথা ফাঁস হয়ে যায়। ওলামায়ে কেরাম বিব্রত হন। তখন তারা অনুমান করলেও এবার সুনিশ্চিত বুঝে গেছেন যে, ওই ফাঁস কাণ্ডে কারা জড়িত ছিলেন।
এভাবে অনুসারী ও অনুরাগীর ছদ্মবেশে এই সময়ে দীনের একজন শীর্ষ ও মহান সেবক এবং আলমী শখসিয়্যাতের সফরকে বিতর্কিত করণে চরম পর্যায়ের ঘৃণ্য কাজ হয়েছে এটি। হজরতের বিশ্বাস ও স্নেহের অসদ্ব্যবহার করে এই এতায়াতি পরিবার তাঁকে চরমভাবে বিব্রত ও তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তাবলীগসহ পুরো ধর্মীয় অঙ্গনে। অবশ্য যারা তাঁর কাছে মনগড়া ও মিথ্যা বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তাদের ব্যাপারে সপ্তাহখানেক ধরে শংকা ভেসে বেড়াচ্ছিল যে, তারা এতায়াতিদের হয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেটা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে এমন বিব্রতকর ও আত্মঘাতী হবে, এটা কারো দূরতম কল্পনাতেও ছিল না। কারণ কোনো সত্যিকার অনুরাগী ও অনুসারী, সেনসেটিভ ইস্যুতে তার অনুসৃতকে সামান্যতম অস্বস্তিতে ফেলার কথা নয়।
আদতে বিষয়টি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে ওলামা সমাজ অস্বস্তিতে পড়ে গেছে। ওদিকে তখদের কথায় বিশ্বাস রেখে যিনি উম্মাহর দরদ এবং অভিভাবকত্বের দায়িত্ববোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিরোধ নিরসন এবং বিদ্বেষ দূরীকরণে প্রয়োজন মনে করে উপদেশ দিয়েছেন। এখন যে কেউ তার দিকে আঙুল তুলছে।
ভালোভাবেই জানি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমীদের। মাওলানা সাদ কান্ধলবী সাহেবের প্রতি তাদের পারিবারিক আনুগত্য ও অনুরাগের কথাও অজানা নয়। কিন্তু এটা জানা ছিল না যে, সেই মহব্বত ও এতায়াত একজন সেরেতাজ আওলাদে রাসূলের চেয়ে বহুগুণে বেশি। অবশ্য, প্রিয় নবী সা. এর দরবারেই যখন শত শত মোনাফেকের আনাগোনা ছিল, তাহলে শেষ যমানায় তাঁর একজন বংশধরের নিকট বিশ্বাসীর ছদ্মাবরণে খেয়ানতকারীর আনাগোনা তো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।
(এতায়াতি পরিবারের সদস্যদের দেওবন্দ এবং দিল্লি সফরের পুরো প্রমাণ সংরক্ষিত আছে)
ইন্না-লিল্লাহ....
কসামী উত্তরপাড়া নিবাসী আবদুল ওয়াদুদ মিয়াজি (দাদাভাই) আজ রাত ১০টা ৩০শে তার নিজ বাড়িতে
ইন্তেকাল করেছেন৷
ইন্না-লিল্লাহ ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মরহুমের নামাজে জানাজার আপডেট আসছে...
ঈদে মিলাদুন্নাবী ইতিহাস
একজন মুসলিম কোনক্রমেই হিন্দুদের পূজা-পার্বনে অংশ নিতে পারবে না।
এটাই চূড়ান্ত কথা।
এটা ইসলামের একটি বেইসিক থিং। 'তথাকথিত উস্কানিমূলক বক্তব্যের' দোহাই দিয়ে এটা বলার জন্য কাউকে গ্রেফতার করা চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন বৈ কিছু নয়।
#স্বামীর_মন_জোগানোর_উপায়ঃ
১. একটু সাজগোছ করে থাকবেন।
২. ওড়না ছাড়া স্বামীর সামনে বেশি চলাচল করবেন না। এতে আপনার প্রতি স্বামীর আকর্ষণ কমে যাবে।
৩. যুগের সুন্দর ড্রেসগুলো স্বামীর সামনে ঘরে পড়ুন। যেমন প্লাজু, ফুল হাতা থ্রি পিছ। স্বামীর সামনে অপরিচ্ছন্ন থাকবেন না। এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৪. স্বামী যেমন খাবার পছন্দ করে তেমন খাবার বেশি রান্না করুন আর স্বামীকে বলুন আমারও এ খাবার প্রিয়।
৫. বেশি আবদার করবেন না।
৬. স্বামীর সংসারের খরচ আপনি একটু কমিয়ে দিতে পারলে স্বামী অনেক খুশি হবে।
৭. স্বামীর মুখের উপর কথা বলবেন না।
৮. বাইরে থেকে স্বামী ঘরে এলে এই বাজার টা এনেছেন না বলে তার ঘাম মুছে দেন, একটু শরবত করে দেন।
৯. মোনাজাতে স্বামীর ভালো চেয়ে রবের কাছে দোয়া করুন।
১০. মনে রাখবেন, ভালোবাসা দিয়ে মানুষ কে যতটুকু আপন করা যায়, অভিমান করে, তর্ক করে, ভয় দেখিয়ে ততটুকু আপন করা যায় না।
কপি,
লেখক-
০২/১০/২০২২
বাংলাদেশের দাওয়াত ও তাবলীগের ভুলে যাওয়া ইতিহাস...
হজ্জ থেকে ফিরে এসে তখনকার নিযামুদ্দীন মসজিদে তাবলীগ জামাতের দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত পুনরায় চালু করেন হযরতজ্বী মাওলানা হাফেজ ইলিয়াস সাহেব (রহঃ)। একদা আল্লামা শামছুক হক ফরিদপুরী (রহঃ) সেই তখনকার নিযামুদ্দীনে গেলেন। হযরতজী ইলিয়াস সাহেব (রহঃ) এর সাক্ষাৎ করলেন।
তাকে পেয়ে হজরতজী মাওলানা হাফেজ ইলিয়াস সাহেব (রহঃ) দারুন মুগ্ধ হলেন। বুকের সাথে মিলিয়ে ধরলেন। আদর করে দুআ করলেন।
বললেন, তোমাকে কিন্তু তোমার দেশের দায়ীত্ব নিতে হবে।
মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) সম্মতি জ্ঞাপন করলেন। ফিরে এলেন দেশে। জড়িয়ে পড়লেন দীনের নানা কাজে। তাবলীগ জামাতের কাজের সূচনা করার সময়ই পাচ্ছেন না।
তবে মনে মনে একজন মুখলিস মানুষ খুঁজছেন। একজন যোগ্য লোক খুঁজছেন। যার দ্বারা এ দাওয়াতী কাজের সূচনা হবে ও শুধুই এগিয়ে যাবেন।
মাওলানা আব্দুল হালীম সাহেব (রহঃ)।
খুলনার মোল্লাহাট থানার উদয়পুর গ্রামের এক প্রসিদ্ধ পীর। তার বাড়িতে এক বিশাল মাদ্রাসা। একদা মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) তার মাদ্রাসা দেখতে উদয়পুরে গেলেন।
হঠাৎ তার অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিপতিত হল মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেবের উপর। এক নজরেই যেন অনেক কিছু জেনে ফেললেন। বুঝে ফেললেন।
তাই তাকে কাছে ডাকলেন। তার কন্ঠ কোমল। বললেন, বাবা !
তুমি এখানে কি কর ?
আব্দুল আজিজ সাহেব (রহঃ) বললেন, হুজুর আমি এ মাদ্রাসার শিক্ষক। পীর সাহেবের জামাতা।
এরপর মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) পীর সাহেবের সাথে দীর্ঘ পরামর্শ করলেন ও তাকে কলকাতার মারকাযে পাঠিয়ে দিলেন। তারপর দিল্লী নিযামুদ্দীন ও মেওয়াতে পাঠালেন। মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহঃ) এর সান্নিধ্যে থেকে তাবলীগের কাজটি পরিপূর্ণভাবে শিখে এলেন।
এবার দেশে তাবলীগের কাজ শুরু করতে হবে। উদয়পুর মাদ্রাসা মসজীদকে মার্কায বানানো হল। বাংলার জমিনে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ শুরু হল। মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) এর পরামর্শে মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব (রহঃ) আমীর হলেন। কিছুদিন পর অসুবিধা দেখা দিল। একই স্থানে তালীম-তাআল্লুম আর দাওয়াত-তাবলীগের কাজে কিছুটা বিঘ্নতা সৃষ্টি হতে লাগলো।
তাই আবার পরামর্শ হল।
মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) নানা কথা চিন্তা করলেন। তারপর সিদ্ধান্তের আলোকে তাবলীগ জামাতের দ্বিতীয় মার্কায নির্ধারিত হল খুলনার তেরখানা বামন ডাঙ্গায়। অর্থাৎ মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব (রহঃ) এর গ্রামের বাজার-মসজিদে।
এরপর এক ইজতেমায় মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) বললেন, বাবা আব্দুল আজিজ, গ্রামে মার্কায হয় না। খুলনা শহরে মার্কায নেয়া দরকার।
হেলাতলার মুতাওয়াল্লী সাহেবের সাথে মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) কথা বললেন। মার্কায নেয়া হল তালাবওয়ালা মসজিদে। জোরেশোরে কাজ শুরু হল। সর্বদা মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব (রহঃ) মার্কাযে থাকেন।
সার্বিক দিক-নির্দেশনা দেন।
এরপর বেশ কয়েক বৎসর কেটে গেল।
ইজতেমা হল। ইজতেমার পর পরামর্শ মজলিশ বসল। মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) বললেন, বাবা আব্দুল আজিজ, দেহ এক জায়গায় আর রুহ আরেক জায়গায়, এভাবে কিন্তু কাজে বরকত হয় না।
এ মারকায আঞ্চলিক মার্কায হিসেবে থাকুক। তুমি বরং ঢাকায় লালবাগ শাহী মসজীদে চলে আস। তাই হল। এবার মার্কায চলে এল লালবাগ শাহী মসজিদে। কিছুদিন পর আবার বিপত্তি দেখা গেল। জায়গায় সংকুলান হচ্ছে না।
মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) বললেন, দেখ, মসজিদের সাথে মাঠ কোথায় আছে। তালাশ শুরু হল। অদূরেই পাওয়া গেল এক মসজিদ।
সাথে একটি খোলা মাঠ। কেল্লার উত্তর-পশ্চিম দিকের খান মুহাম্মদ মসজিদ।
পরামর্শ হল। মার্কায চলেগেল সেখানে।
মাওলানা আব্দুল আজিয সাহেব (রহঃ) নতুন মারকাযে চলে এলেন।
কয়েক বৎসর পর খান মুহাম্মদ মসজিদ মাঠেও জায়গা সংকুলান হল না।
আবার পরামর্শ মজলিস বসল।
মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) বললেন, খুজে দেখ, ঢাকা শহরে বড় মাঠের পাশে কোথায় মসজিদ আছে ?
চলল অনুসন্ধান।
শেষে পাওয়া গেল একটি মসজিদ।
রমনা পার্কের বিশাল ময়দানের পাশে ছোট্ট একটি মসজিদ। মালওয়ালী মসজিদ। একেবারে ছোট্ট মসজিদ।
মাওলানা সামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) বললেন, কোন চিন্তা নেই, হোক মসজিদ ছোট। প্রয়োজনে পার্কের জায়গা দখল করে মসজিদ বড় করব।
শেষে মালওয়ালী মসজিদে মারকায কায়েম করা হল।
এ মসজিদই এখন দাওয়াত ও তাবলীগের কেন্দ্রীয় মারকায। বাংলাদেশের মারকায। ছয় নম্বর দাওয়াতী কাজের ষষ্ঠ মসজিদকেই আল্লাহ তায়ালা মারকায হিসেবে কবুল করলেন।
এভাবে মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) এর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলল। ছড়িয়ে পড়ল জেলা থেকে জেলান্তরে, দেশ থেকে দেশান্তরে।
সেই ছোট্ট মালওয়ালী মসজিদ এখন বিশাল জামে মসজিদ। ঢাকা শহরের এক খ্যাতনামা মসজিদ। দিনের পর দিন সেই মসজিদ বৃহৎ হতে বৃহৎ আকার ধারণ করছে। ঐতিহ্যবাহী কাকরাইল নামে।
আর ইজতেমার স্থান চলেগেছে টঙ্গীতে।
তুরাগ নদীর তীরে। সেখানেই এখন বিশ্ব ইজতেমা হয়। লাখ লাখ মানুষ সেখানে ছুটে আসে। এশিয়া, আফ্রিকা আর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসে।
অস্ট্রেলিয়া আর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও আসে।
হিদায়াতের নূর নিয়ে আবার ফিরে যায় নিজ নিজ দেশে। বিশ্ব-মানবতার হিদায়াতের ফিকির নিয়ে এখন তাবলীগ জামাত কাজ করছে।
বিশ্বের প্রত্যেকটি জনবসতিতে তাবলীগ জামাতের লোকেরা হিদায়াতের আলো পৌছে দিচ্ছে। জান্নাতের আহব্বান পৌছে দিচ্ছে।
#তথ্যসূত্রঃ
(মুহীদে আযম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ)- আরাফাত-পৃঃ ১২৪-২৬)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
3560