06/04/2021
🍁 প্রথম পাঁচ বছর পুত্রকে স্নেহ দিয়ে লালন করবে। পরবর্তী দশ বছর তাকে কঠোরভাবে শাসন করবে। ষোল বছর বয়সে পৌঁছলে তার সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করবে। - (চাণক্য-নীতিশাস্ত্র) 🍁
☘ শিষ্যদের প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে শ্রীল প্রভুপাদ উল্লিখিত তিন উপায়ে আচরণ করতেন। প্রত্যেকের সাথে তিনি আলাদা আলাদা ব্যবহার করতেন।
পরমেশ্বর ভগবানকেও নিজের পিতার কঠোর নিয়মের প্রতি অনুগত হতে দেখা যায়। চৈতন্যচরিতামৃত থেকে আমরা জানতে পারি, "জগন্নাথ মিশ্রও দুষ্টুমির জন্য তার পুত্রকে তীব্র ভর্ৎসনা করে নীতিশিক্ষা দান করতেন।" পরবর্তীকালে তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, একজন ব্রাহ্মণ তাকে জানাচ্ছেন যে, পরমেশ্বর ভগবানকে তিরস্কার করে তিনি অপরাধ করেছেন। তখন তিনি বলেন, "এ বালক দেবতা, যোগী বা মহান সাধু যে কেউ হতে পারে, তাতে কিছু আসে যায় না, আমি তাকে কেবল আমার পুত্র বলেই মনে করি। একজন পিতার কর্তব্য তার পুত্রকে শিক্ষা দেওয়া। আমি যদি তাকে শিক্ষা না দিই, তবে সে কীভাবে শিখতে পারবে।
☘ শ্রীল প্রভুপাদ ভালোবাসাহীন নিয়ন্ত্রণ অনুমোদন করেননি। তিনি বেত্রাঘাত করায় বিশ্বাস করতেন না। গুরুকুলের শিক্ষকদের তিনি বলতেন যে, শিশুদের বেত দেখাতে পারবে, কিন্তু কখনোই প্রহার করতে পারবে না।
হরিসৌরি প্রভু তার পারমার্থিক ডায়েরিতে শ্রীল প্রভুপাদের ক্রোধের তিনটি পর্যায়ের উল্লেখ করেছেন। যখন শ্রীল প্রভুপাদ সামান্য রাগান্বিত হতেন, তখন আমাদের অনুভূতিকে আঘাত করার জন্য তিনি তিক্ত মন্তব্য করতেন। যদি তার ক্রোধ আরেকটু বেড়ে যেত, তবে তার নিচের ঠোঁট কাঁপত। আর যদি কোন শিষ্য বড় ধরনের ভুল করতেন, তবে তিনি তার সাথে কথা বলতেন না।
☘ আমরা অবশ্যই একজন আচার্যের মনোভাব বুঝতে পারি না। শ্রীল প্রভুপাদ কখনই তার শিষ্যদের অমঙ্গল চাইতেন না। তিনি ক্ষমা করতেন এবং ভুলেও যেতেন। তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ভাব ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তিনি যদি কাউকে বিষন্ন বা হতাশাগ্রস্ত দেখতেন, তবে নিজেও ব্যথিত হতেন এবং বলতেন, "তুমি আমার শিষ্য, তুমি কেন এমন করেছ?" প্রভুপাদ ছিলেন পরদুঃখে দুঃখী।
শিষ্যকে গুরুদেবের সামনে সর্বদা বোকার মতো থাকা উচিত, কিন্তু তাই বলে বোকা হওয়া উচিত নয়। শিষ্যদের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হয়। শুরুতে তাদের কৃষ্ণভাবনা চর্চা স্বতঃস্ফূর্ত হয় না। এটিই গুরু ও শিষ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রাথমিক অবস্থা।
যেভাবেই হোক, শ্রীল প্রভুপাদ আমাদের সবসময় তার নিয়ন্ত্রণে রাখেন যেন আমরা ভক্তিপথে সুরক্ষিত থেকে উন্নতি করতে পারি। 🌻🌻