24/10/2024
তমদ্দুন মজলিস কাদের ছিল— মুসলিম লীগের, আওয়ামী মুসলিম লীগের, নাকি জামায়াতে ইসলামীর?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতেই বৃটিশ সরকার যুদ্ধ শেষে ভারতকে স্বাধীনতা দিবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল, শর্ত ছিল যুদ্ধে বৃটিশদের সহযোগিতা করতে হবে। তখন থেকেই স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, এরপর পাকিস্তান প্রস্তাবের পর স্বাধীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তমদ্দুন মজলিসের আগেও বহু লেখক রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। এই সব আলোচনা, রচনার কোনটিই সরকারি ছিল না। এমনকি তখনও সরকারি কোন সিদ্ধান্তও ছিল না যে রাষ্ট্রভাষা কী হবে।
কিন্তু, জিন্না যখন 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' বলে ঘোষণা করলেন, তখন তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছিল কারা? কারা মানি না মানব না বলে জিন্নার সভায় শ্লোগান তুলেছিল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রেরা। তারা কোন নির্দিষ্ট দলের ছিল না, আন্দোলন চালানোর জন্যই পরে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল।
যখন আন্দোলন শুরু হয়, যখন পাকিস্তানি পুলিশ ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালায়, তখন তমদ্দুন মজলিশ কোথায় ছিল? তারা কি সংগ্রাম পরিষদের সাথে একাত্ম ছিল? তারা কি তখন পৃথক ভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছিল? না, তারা তখন মুখে কুলপ এঁটেছিল।
তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্রের যে সংখ্যায় রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে তিনটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল তা ভিন্ন ভিন্ন তিনজন লেখকের। তাদের মধ্যে একজন পাকিস্তান আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলেন, অবশ্য তার পুত্রেরা এখন পাকিস্তানের দাসানুদাস। আরেকজন মোতাহার হোসেন চৌধুরী। এবং তমদ্দুন মজলিসের পক্ষে আবুল কাসেম।
একই বিষয়ে তিনজনের লেখা একই পত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর, দুইজনের নামকে অস্বীকার করে একজনের নাম সামনে নিয়ে আসার লক্ষ্য সত্য প্রকাশ নয়, বরং সত্যকে ঢেকেঢুকে আংশিক প্রকাশ। অথচ যে দুইজনের নাম পেছনে ফেলে রাখা হচ্ছে, তাঁরা দুইজনেই বাংলা ভাষায় স্বনামধন্য সাহিত্যিক, কবি, বিজ্ঞান লেখক।