Chase Your Dream with Arafat

Chase Your Dream with Arafat This is basically a free platform for BCS aspirants.

17/07/2026

বর্তমান বাস্তবতায় কিছু উপলব্ধিঃ

গত কয়েকদিনের আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, আচরণ এবং সার্বিক দিক বিবেচনায় এটা স্পষ্ট যে প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া, পরীক্ষার হলের কড়া গার্ড নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত। তবে কিছু কিছু শিক্ষার্থীর আচরণ, অঙ্গভঙ্গি এবং শব্দচয়ন মোটেই শিক্ষার্থীসুলভ নয়। আবার কিছু কিছু শিক্ষার্থী মার্জিত আচরণের মাধ্যমে তাদের কিছু যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছেন যেটা ভালো লেগেছে। পরীক্ষার্থীদের অনেকগুলো দাবির মধ্যে কিছু যৌক্তিক দাবি সরকার ইতোমধ্যে বিবেচনায় নিয়েছেন এবং সিদ্ধান্তও জানিয়ে দিয়েছেন।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এক ধরনের গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন এবং আশা করছি সময়ের সাথে সাথে আমরা সেটা অর্জন করতে পারবো। তবে, এটা ঠিক যে রাতারাতি সেই পরিবর্তন সম্ভব নয়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, মামার বাড়ির আবদারের মতো যাচ্ছেতাই দাবি করলেই কাজ হয়ে যাবে। অবারিত অনৈতিক সুযোগ অতীতে কখনওই ভালো কিছু বয়ে আনেনি এবং ভবিষ্যতেও আনবে না।

অনেকেই প্রতিবছর লক্ষ্ লক্ষ বেকার তৈরির দায় ঢালাওভাবে শিক্ষাব্যবস্থার উপর দিয়ে দেন যা অনুচিত। এত বছর পড়াশোনা করার পর নিজের দক্ষতা এবং যোগ্যতা তৈরি করতে না পারা বা এর উপর ভরসা করতে না পারা সত্যিই দুঃখজনক। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে "Quality matters not quantity."

তবে একথাও সত্য যে, শহর এবং গ্রামে সকল ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধায় এখনও অনেক পার্থক্য রয়ে গেছে। আমাদের এই পার্থক্য হ্রাসে কাজ করতে হবে। সকল পরিবারের অবস্থাও এক নয়। কিন্তু পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় কখনও হারে না। সময় একদিন ফিরবেই ইনশাআল্লাহ। যারা আজ ভালো অবস্থানে আছেন তারাও অনেক সুবিধাবঞ্চিত ছিলেন। কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতাকে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠিকই লক্ষ্যে পৌঁছেছেন।

এখন শেখার অবারিত সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তি এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু সেটাকে সঠিক কাজে এবং সঠিক উপায়ে কাজে লাগাতে হবে। কেউ অনলাইনে শিখন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আবার কেউ টিকটিক আর ফেসবুকে সময় ব্যয় করে। পড়াশোনার ফাঁকে বিনোদন প্রয়োজন আছে কিন্তু বিনোদনের ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনার দুই পয়সা মূল্যও নেই।

প্রতিযোগিতা এখন অনেক বেড়ে গেছে। আপনি নিজেকে যোগ্য মনে করছেন কিন্তু আপনাকে এখন যোগ্যদের মধ্যেও যোগ্য হতে হবে যেটাকে আমরা বলি "Survival of the fittest"। দিনশেষে হতাশ হওয়ার চেয়ে আগেই নিজেকে সকল প্রতিযোগিতার জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ। যেন তেন পড়াশোনার দিন শেষ। আশা করি, এই জেনারেশন Quality Education কে বেছে নেবে।

সব কথার এক কথা, "Make yourself competent enough to survive in all circumstances." সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এবং একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে উঠুক এই প্রত্যাশা করছি।

12/04/2026

টিউশন কি চাকরিপ্রাপ্তির জন্য বাধা?

ভার্সিটি লাইফে টিউশন করেননি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। এটি অনেক ক্ষেত্রে আমাদের জীবন ও জীবিকার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু অনেকের ধারণা টিউশন করালে একটা সময় চাকরির পড়ায় মনোযোগ দেয়া যায় না। আজ এ সম্পর্কে কিছু কথা বলবো।

টিউশন সরাসরি চাকরিপ্রাপ্তির জন্য বাধা নয় বরং এটি কীভাবে আপনার সময়ের ওপর প্রভাব ফেলছে সেটিই এখানে বিবেচ্য বিষয়। টিউশন করার যেমন ইতিবাচক দিক আছে, তেমনি কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি ক্যারিয়ারের জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

টিউশনের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:

টিউশন যখন সহায়ক (সুবিধা):

বেসিক ক্লিয়ার হওয়া: মাধ্যমিক বিশেষ করে অষ্টম,নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াতে গিয়ে নিজের গণিত, ইংরেজি (Grammar) ভিত্তি কিছুটা মজবুত হয়। পাশাপাশি নিয়মিত চর্চার কারণে আপনার জন্য একটু সহজ মনে হতে পারে যা বিসিএস বা ব্যাংক জব সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দারুণ কাজে লাগে।

দক্ষতা উন্নয়ন: অন্যকে বোঝানোর মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা (Communication Skills) ও ধৈর্য বৃদ্ধি পায়, যা ভাইভাতে সহায়ক হতে পারে। অনেকে ভালো স্টুডেন্ট হলেও ভালো শিক্ষক হতে পারেন না। আমার মনে হয়, নিজের যোগাযোগ দক্ষতা এবং বিশ্লেষণ দক্ষতা বাড়াতে এটি সহায়ক হতে পারে। কারণ, কাউকে বুঝাতে হলে আপনাকে নিজেকে বিষয়টি বুঝতে হবে। ফলে, আপনার উপস্থাপন দক্ষতা বা স্পিচ ডেলিভারির উন্নতি ঘটবে।

আর্থিক স্বনির্ভরতা: পড়াশোনার খরচ নিজের আয়ে মেটানো যায়, যা মানসিক চাপ কমিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। মাথায় আর্থিক বা জাগতিক চিন্তা বাসা বাধলে পড়াশোনা করতে পারবেন না। চিন্তামুক্ত পড়াশোনা করার জন্য আর্থিক স্বনির্ভরতা জরুরি।

টিউশন যখন বাধা (অসুবিধা)

সময়ের অপচয়: অতিরিক্ত টিউশন করলে নিজের পড়ার বা প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় থাকে না। অতিরিক্ত টিউশন করলে আসা যাওয়া এবং এর প্রস্তুতির জন্য সময়ের অপচয় হয়।

শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি: টিউশন করিয়ে আসার পর শরীর ও মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে যায়, ফলে বাসায় ফিরে কার্যকরভাবে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

'টিউশন ট্র্যাপ': টিউশন থেকে আসা নিয়মিত আয় অনেক সময় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে এক ধরনের আলস্য এবং মোহ তৈরি করে। একটি ভালো চাকরির জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রম করা প্রয়োজন, টাকার মোহে অনেকে সেই পরিশ্রম করতে চান না। ফলে, আপনি টিউশনকে চাকরির মতো ভাবতে শুরু করেন।

তাহলে টিউশন ট্র‍্যাপ থেকে বেঁচে সফল হওয়ার উপায় কী?

টিউশনের সংখ্যা সীমিত রাখা: চাকরির প্রস্তুতি চলাকালীন ১টি বা সর্বোচ্চ ২টি টিউশন রাখা ভালো। আপনার ন্যূনতম প্রয়োজন মিটে গেলে আর টিউশন করাবেন না।

বিষয়ভিত্তিক নির্বাচন: এমন বিষয় বা ক্লাস পড়ান যা আপনার নিজের চাকরির পড়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (যেমন: ইংরেজি বা গণিত)। এতে আপনার নিয়মিত চর্চা হবে। আমার ক্ষেত্রে বেসিক কিছুটা স্ট্রং থাকায় পরীক্ষার পূর্বে ছাড়া সাধারণত গণিত বা ইংরেজিতে বেশি ইফোর্ট দিতে হয়নি।

পরিশেষে, টিউশন নিজেই বাধা নয়, বরং অতিরিক্ত টিউশন এবং সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা না করতে পারাটাই চাকরিপ্রাপ্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মনে রাখবেন, টিউশন আপনার ক্যারিয়ার নয়। তাই টিউশনের জন্য ক্যারিয়ার বিসর্জন দেবেন না।

নিরন্তর শুভকামনা...

08/04/2026

রাত পোহালেই ৫০ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা। শেষ মুহূর্তে নতুন করে পড়ার আসলে কিছু নেই। আপনার পঠিত টপিকগুলোর উপর চোখ বুলিয়ে নিন যেন পরীক্ষার হলে মনে করতে কষ্ট না হয়। বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় ভালো ক্যাডার পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার প্রস্তুতি, উপস্থাপনের কৌশল, প্রাসঙ্গিক লেখা এবং বিশ্লেষণ দক্ষতার উপর। পাশাপাশি যারা বিগত বছরের প্রশ্নের ধাঁচ এবং প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিজের প্রস্তুতিকে গুছিয়েছেন তারা আশানুরূপ পরীক্ষা দিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

অনেক সময় দেখা যায়, একই তথ্য দুইজন পরিক্ষার্থী ভিন্নভাবে উপস্থাপনের কারণে নম্বরের পার্থক্য হয়ে যেতে পারে। আমাদের উপস্থাপনার ক্ষেত্রে লেখা যাতে পরীক্ষকের চোখে দৃশ্যমান হয় এবং আপনার লেখা পড়ে যেন পরীক্ষকের বিরক্তির উদ্রেক না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিচে লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হলো:

পরীক্ষার হলের কৌশল ও ব্যবস্থাপনাঃ

১। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য আগেই সময় বরাদ্দ করে নিন যাতে কোনো উত্তর অসম্পূর্ণ না থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রথম দিকে লেখা শুরু করতে আমরা বেশি সময় নিয়ে নিই এবং শেষদিকে আমরা কোনোভাবে লিখে শেষ করে আসি। এটা করা যাবে না। এক্ষেত্রে সব প্রশ্নে যেন ফোকাস করতে পারেন এমনভাবেই সময় ব্যবস্থাপনা করুন।

২। অপ্রয়োজনীয় কথা না লিখে প্রাসঙ্গিক ও যথাযথ তথ্য দিয়ে উত্তর সাজান। প্রশ্নের মান অনুযায়ী আপনার উত্তর করুন। তবে, এটাও মনে রাখবেন কত পৃষ্ঠা লিখলেন বা কয়টা অতিরিক্ত উত্তরপত্র নিলেন তার উপর আপনার নম্বর নির্ভর করবে না। তাই, "Focus on quality rather than quantity."

৩। প্রশ্নপত্রের ক্রম অনুযায়ী উত্তর লেখা ভালো। কোনো উত্তর পরে লিখতে চাইলে আনুমানিক জায়গা ফাঁকা রাখতে পারেন। তবে, একেবারে অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখবেন না এবং একদম ফাঁকাও রেখে আসবেন না। ধারণা থেকেও অনেক সময় মোটামুটি মানের লেখা সম্ভব। সব প্রশ্ন হুবহু কমন কখনওই পড়বে না।

৪। প্রশ্ন কঠিন হলে ঘাবড়াবেন না। কারণ কঠিন প্রশ্ন বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীর জন্যই সমস্যা তৈরি করবে। আপনার মাথা ঠান্ডা রাখুন এবং শান্ত থাকুন।আপনার কাজ হলো Best effort এর মাধ্যমে পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর করে আসা।

৫। উত্তরের মান বাড়াতে প্রাসঙ্গিক পয়েন্ট, ডায়াগ্রাম, চার্ট, ম্যাপ, কোটেশন এবং রেফারেন্স ব্যবহার করুন। পরীক্ষার হলে কাটাকাটি এবং বানান ভুলের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। পাশাপাশি ইংরেজিতে Sentence making ঠিকঠাক হলো কিনা চেক করুন। ওভাররাইটিং করবেন না। প্রয়োজনে এক টান দিয়ে কেটে আবার লিখুন। আপনার পুরো উত্তরপত্র রিভিশনের জন্য ৫-১০ মিনিট সময় হাতে রাখুন।

৬। ভূমিকা, মূল লেখা এবং উপসংহার এমন একটা ফরম্যাটে চাইলে উত্তর করে আসতে পারেন। লেখা বেশি হলে প্যারা বা পয়েন্ট করে লিখবেন। এক প্যারায় সব লিখলে পরীক্ষকের পড়তে বিরক্ত লাগবে এবং সৌন্দর্য নষ্ট হবে।

৭। বাংলা,গণিত ও মানসিক দক্ষতা, বিজ্ঞান এসব বিষয়ে অনেক নম্বর তোলা যায়। পাশাপাশি কিছু বিষয়ে এমন কিছু টপিক আছে যেখানে চাইলেই পুরো নম্বর তোলা সম্ভব। তবে, বিসিএস যেহেতু কোনো মুখস্থবিদ্যা যাচাইয়ের পরীক্ষা না বরং আপনার মেধা যাচাই, অনুধাবনের ক্ষমতা ও বিশ্লেষণ দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা তাই, এখানে অলরাউন্ডার হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তবে যারা কোনো একটি বিষয়ে দুর্বল তারা সবল বিষয়ে ভালো পরীক্ষা দিয়ে সেটা ব্যালেন্স করতে পারবেন।

সর্বোপরি, ভালোর কোনো শেষ নেই। কিন্তু আপনার পরীক্ষা ভালো হওয়াটা নির্ভর করছে আপনার উপর। তাই ঠান্ডা মাথায় আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার প্রস্তুতি অনুযায়ী সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করুন, পরীক্ষার হলে কৌশলী হোন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনাকে নিরাশ করবেন না।

সকলের জন্য শুভকামনা রইলো।

07/04/2026

#বিসিএসভাইভা

আজ ৪৭ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৬৩১ (২৫৭০+৭৬৩+২৯৮) জন। এই বিসিএসে ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার মিলিয়ে ৩৬৮৮ (৩৪৮৭+২০১) জনকে নিয়োগ সুপারিশ করবে পিএসসি। অর্থাৎ, ৪৭ তম বিসিএসে পদের চেয়ে কম প্রার্থী নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা শুরু করা হবে।

এর মধ্যে কিছু প্রার্থী পূর্বের বিসিএস গুলোতে প্রত্যাশিত ক্যাডার পাওয়ায় হয়তো ভাইভা দিবেন না। আবার টেকনিক্যাল কিছু বিষয়ে যোগ্য প্রার্থীর অভাবে অনেক সিটই খালি যাবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ৪৬ তম বিসিএস থেকে ভাইভার জন্য খুবই কম প্রার্থী নির্বাচন করছে। ফলে অনেকেই আশানুরূপ ফলাফল পাচ্ছেন না। তবে যেহেতু ভাইভা প্রার্থী অনেক কম তাই যারা টিকেছেন তাদের জন্য ক্যাডার পাওয়ার বা বিসিএস থেকে অন্তত একটি চাকরি পাওয়ার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাতে একদম সময় নেই। মে মাস থেকে যেহেতু ভাইভা শুরু হচ্ছে তাই এক মুহূর্ত দেরি না করে এখনই ঝাঁপিয়ে পড়ুন। যারা রিটেন পাশ করবেন ধরে নিয়ে ভাইভা প্রস্তুতি কিছুটা এগিয়ে রেখেছেন তারা বেশ ভালো কাজ করেছেন। আর যারা এখনও শুরু করেননি তারা এখনই একটা ভাইভার বই নিয়ে শুরু করুন। নিয়মিত গ্রুপ স্টাডি করুন, পত্রিকা পড়ুন, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আপডেটেড থাকুন আর মৌলিক পড়াশোনা অব্যাহত রাখুন।

Happy reading...

05/04/2026

বিসিএস এর জন্য কোচিং করাটা কি জরুরী বা কতটা জরুরী?

বিসিএস-এর জন্য কোচিং করা জরুরি নয়, তবে সহায়ক হতে পারে। কোচিং এর বৈশিষ্ট্য হলো আপনি নিয়মিত গাইডলাইন পাবেন। পাশাপাশি সিলেবাস অনুসরণ করে প্রস্তুতি গ্রহণ ও নিয়মিত মডেল টেস্টের মাধ্যমে আপনার প্রস্তুতি যাচাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আপনার যদি বেসিক ভালো হয়, নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস থাকে, সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন করতে পারেন তবে কোচিং ছাড়াই ইনশাআল্লাহ আপনার পক্ষেও ক্যাডার হওয়া সম্ভব।

বিষয়ভিত্তিক ভালো বেসিক থাকলে কোচিং-এর তেমন কোনো প্রয়োজনীয়তা আমি দেখি না। কোচিং শুধু আপনাকে গাইডলাইন দিবে কিন্তু আপনার প্রস্তুতি আপনাকেই নিতে হবে। সেক্ষেত্রে নিজের মতো করে কঠিন বিষয়গুলোতে বেশি সময় দিন এবং সহজ বিষয়ে আপনার শক্ত অবস্থান বজায়ে মনোযোগী হোন। প্রয়োজনে ক্যাডার ভাইবোনদের থেকে পরামর্শ নিন। এমন অনেকে আছেন যারা কোচিং করা ছাড়াই ক্যাডার হয়েছেন। আমি নিজে কোনো কোচিং সেন্টারে প্রিলিমিনারি, লিখিত বা ভাইভার জন্য কোচিং করিনি। কারণ আমি কোনো বিষয়ে খুব একটা দুর্বলতা ছিল না। আর রিসোর্সের জন্য বই এবং অনলাইনে ঘাটাঘাটি করেছি অনেক। কোচিং সেন্টারে শুধু লিখিত পরীক্ষায় নিজের প্রস্তুতি যাচাই, সময় ব্যবস্থাপনা জন্য মডেল টেস্ট দিয়েছি।

লিখিত পরীক্ষার মডেল টেস্ট দেয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি ভালো কোচিং সেন্টার রয়েছে। কিন্তু আপনি কোন সেন্টারে পরীক্ষা দিচ্ছেন, আপনার খাতা কারা মূল্যায়ন করছে বা কোথা থেকে মূল্যায়িত হয়ে আসছে এবং আপনার খাতা সত্যিই পড়ে কাটা হয়েছে কিনা নাকি শুধু টিক দিয়ে বা একটা টান দিয়ে মার্কিং করে দিয়েছে সে বিষয়গুলো একটু খেয়াল রাখবেন।

ভাইভার জন্য প্রচুর অনুশীলন, গ্রুপ স্টাডি, বন্ধুদের সাথে নিয়মিত মক ভাইভা, পত্রিকা নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ভীতি কাটিয়ে নিজেকে ল আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলুন।

যদি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারেন এবং গুছানো পড়াশোনা করতে পারেন, তবে কোচিং ছাড়া বাসায় বসেই প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম।

শুভকামনা সকলের জন্য।

আরাফাত হোসেন মজুমদার
বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার (৪৪ তম বিসিএস)
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার (সুপারিশপ্রাপ্ত) (৪৫ তম বিসিএস)

03/04/2026

যারা হতাশ বা অনেক চেষ্টা করেও এখনো চাকরি পাচ্ছেন না তারা দেখতে পারেন...হাল না ছাড়লে ইনশাআল্লাহ সফল হবেন।

Long post alert...A summary of my whole journey

সেই ২০২০ সাল থেকে চাকরির পড়াশোনার শুরু। ৫ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে লক্ষ্যে সফল হলাম। এই পথ সহজ ছিল না। প্রথম প্রথম সিলেবাস বোঝা,পরিকল্পনা,পড়া সাজানো,নিজের স্ট্যাটেজির ত্রুটি অনুসন্ধান ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। অনেক ব্যর্থতা এসেছে কিন্তু চেষ্টা করেছি নিজের প্রস্তুতির ত্রুটিগুলো বের করে সংশোধন করার। অনেক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা একসময় কাজে এসেছে। যারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন আপনারাও এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাবেন কিন্তু হাল ছেড়ে দেবেন না। কারণ হাল ছেড়ে দিলেন তো হেরে গেলেন। আপনার মেধা,পরিকল্পনা,পরিশ্রম ও অধ্যবসায়কে কাজে লাগাতে পারলে ইনশাআল্লাহ সফল হবেন। ব্যর্থতাগুলোই আপনার সফলতার সাক্ষ্য দেবে।

ব্যর্থতার লিস্ট:
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক MTO- লিখিত ফেইল
এনএসআই এডি- প্রিলি ফেইল
বার্ড এডি- প্রিলি ফেইল
বেপজা এডি- প্রিলি ফেইল
বিআরডিবি- প্রিলি ফেইল
অডিটর (CGDF)- প্রিলি ফেইল
সিনিয়র অফিসার (২০১৯ সাল ভিত্তিক)- ভাইভা দিয়েছি, চাকরি হয়নি
অফিসার (২০১৯ সাল ভিত্তিক)- ভাইভা দিয়েছি,চাকরি হয়নি
অফিসার ক্যাশ (২০১৯ সাল ভিত্তিক)- লিখিত ফেইল
সিনিয়র অফিসার (২০২০ সাল ভিত্তিক)- প্রিলি ফেইল
সিনিয়র অফিসার (২০২১ সাল ভিত্তিক)- লিখিত ফেইল
বাংলাদেশ ব্যাংক এডি- দুইবার পরীক্ষা দিয়েছি, প্রিলি ফেইল
বাংলাদেশ ব্যাংক (অফিসার জেনারেল বর্তমানে Deputy AD)- প্রিলি ফেইল
বাংলাদেশ ব্যাংক (অফিসার ক্যাশ বর্তমানে Deputy AD)- প্রিলি ফেইল
পেট্রোবাংলা এডি সমন্বিত- প্রিলি ফেইল
BPSC কর্তৃক বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের (সহকারী প্রোগ্রামার- নন ক্যাডার)- ভাইভা দিয়েছি, চাকরি হয়নি
এছাড়া সিনিয়র অফিসার (IT), অফিসার (IT) সহ আরও অনেক পরীক্ষায়ই সফল হতে পারিনি।

সফলতা :

১. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (২০২০ সাল ভিত্তিক)- ১.৫ বছর চাকরি করেছি
২. পুবালি ব্যাংক (PSO)- ওয়েটিং থেকে প্রবেশনারি অফিসারে রিকমেন্ডেড, জয়েন করিনি
৩. অফিসার ক্যাশ (২০২০ সাল ভিত্তিক)- ১.৫ বছর চাকরি করেছি
৪. বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার (৪৪ তম বিসিএস)- বর্তমানে কর্মরত

আমার বিসিএস যাত্রা:

৪১ তম বিসিএস- প্রিলি ফেইল (এপিয়ার্ড ক্যান্ডিডেট ছিলাম)
৪৩ তম বিসিএস - নন ক্যাডার (খালি হাতে ফিরতে হয়েছে)
৪৪ তম বিসিএস- বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার
৪৫ তম বিসিএস- বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার (সুপারিশপ্রাপ্ত)
৪৬ তম বিসিএস - ভাইভায় অংশগ্রহণ করিনি
৪৭ তম বিসিএস- প্রিলি ফেইল
৪৯ তম বিসিএস - প্রিলি ফেইল

মজার বিষয় হলো আমার বিসিএস যাত্রা ফেইল দিয়ে শুরু এবং ফেইল দিয়ে শেষ। মাঝখানে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো হাল ছাড়ি নি এবং লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হইনি। পড়াশোনার গতির পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু বন্ধ হয়নি কখনও।
যারা চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা ভবিষ্যতে নেবেন তাদের জন্য আমার অভিজ্ঞতালব্ধ কিছু বিষয় শেয়ার করছি:

১. আপনার লক্ষ্য স্থির করুন এবং লক্ষ্যে অটল থাকুন। বিসিএস এর স্বপ্ন পূরণ করতে আমাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।

২. লক্ষ্য অনুযায়ী আপনার পরিকল্পনা সাজান। নিয়মিত পড়াশোনা করুন এবং রিসোর্স সংগ্রহ করুন।গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর নোট রাখুন।

৩. দুর্বল বিষয়ে ফোকাস করুন, দুর্বলতা কাটান এবং সবল বিষয়ে যেন নাম্বার না ছুটে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৪. একটি পড়ুয়া বন্ধুমহল তৈরি করুন যাদের সাথে আপনি আলোচনা করতে পারেন। আর পড়াকে শুধু টেবিলকেন্দ্রিক করবেন না। কারণ বই ছাড়াও এর বাইরে প্রচুর রিসোর্স আছে যেখান থেকেও আপনি সহজে তথ্য পেতে পারেন এবং আপনার প্রস্তুতিকে এগিয়ে রাখতে পারেন।

৫. পড়াশোনার একটা সময় থাকে যেটাকে আমি "পড়াশোনার স্বর্ণযুগ" বলে থাকি। (আমার ক্ষেত্রে সেটি ছিল ২০২১-২০২২ সাল। এই সময়টায় আমি খুব ভালোভাবে পড়াশোনা করেছি এবং আমার প্রস্তুতির ভীত তৈরি করেছি)। এই সময়টাই মূলত আপনার চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সর্বোত্তম সময়। সেই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আপনার প্রস্তুতি প্রায় পুরোটাই সম্পন্ন হয়ে যায়।

৬. কোনো চাকরিতে ঢোকার পূর্বেই আপনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলুন। চাকরিতে ঢুকে সবাই ঠিকভাবে পড়াশোনা চালাতে পারেন না বা এনার্জি থাকেনা। আর একটা কথা বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষাগুলো কোনো চাকরিতে যোগদানের পূর্বে দিতে পারা উত্তম। এতে আউটপুট ভালো আসে। তবে আপনার অভিজ্ঞতাও অনেক ক্ষেত্রে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

৭. বিসিএস যাদের লক্ষ্য তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, বিসিএস একটি অনিশ্চিত যাত্রা। তাই এই যাত্রায় আপনার মনোবল দৃঢ় রাখতে হবে। সবাই বলে বিসিএস ধৈর্যশীল মেধাবীদের জন্য। কথাটা আসলেই সত্য। কিন্তু খালি হাতে ফেরার নজিরও আছে। অনেকেই শেষ পর্যন্ত লেগে থাকতে পারেন না। তবে ভাগ্য বলেও একটা জিনিস আছে। আমাদের তা মানতেই হবে। কিন্তু আমাদের চেষ্টাটুকু আমাদের করতেই হবে, চেষ্টায় কমতি রাখা যাবেনা।

পরিশেষে একটা কথা, "Every cloud has its silver lining."
আপনার চেষ্টার ফল সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই দেবেন।
শুভকামনা নিরন্তর ❤️❤️❤️

আরাফাত হোসেন মজুমদার
বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার (৪৪ তম বিসিএস)
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার (সুপারিশপ্রাপ্ত) (৪৫ তম বিসিএস)

02/04/2026

অনেকেই ইনবক্সে বা বিভিন্ন মাধ্যমে বিসিএস প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাদের জন্য এই পর্যায়ে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নিয়ে আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা....

একাডেমিক পড়াশোনা ঠিক রেখে অনার্স ৩য় বর্ষ থেকে অল্প অল্প করে আপনার প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন। বিসিএস প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেখবেন অনেক বিষয় আপনি আগে দেখেছেন বা পড়েছেন। এমনকি কোনো পড়াশোনা না করেও কেউ কেউ ৭০/৭৫ নম্বর তুলে ফেলতে পারবেন। কিন্তু পরবর্তী প্রতিটি নম্বরের জন্য আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। একটু পড়াশোনা করে প্রথম ৮০-৮৫ তোলা যায় কিন্তু পরবর্তী প্রতিটি নম্বরের জন্য আপনাকে হাজার হাজার প্রতিযোগীর সাথে লড়াই করতে হয়। তাই, বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রতিটি নম্বর গুরুত্বপূর্ণ।

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা লিখিত পরীক্ষার যোগ্যতা অর্জনের একমাত্র ধাপ এবং বলা যায় সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ধাপ। ৫০ তম বিসিএসে মোট আবেদনকারী: ২,৯০,৯৫১ জন এবং লিখিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা: ১২,৩৮৫ জন যা মোট পরীক্ষার্থীর মাত্র ৪.২৬%। অর্থাৎ, এখানেই প্রায় ৯৬% পরীক্ষার্থী বাদ পড়ে যাচ্ছে। তাই বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি খুবই গুছানো হওয়া উচিৎ। আর একবার ঠিকঠাক প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি হয়ে গেলে আপনি বারবার প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হবেন। পরীক্ষার্থীরাদের সবারই প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিজস্ব কৌশল আছে। আমি কিছু কৌশল শেয়ার করছি যদি এতে কারও কিঞ্চিৎ উপকার হয়।

১. প্রথমেই বিসিএস এর একটি প্রশ্নব্যাংক কিনে বিগত বছরগুলোতে পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ পড়ে ফেলা। এতে প্রশ্ন সম্পর্কে আইডিয়া পাবেন। দেখা যায়, কিছু প্রশ্ন আপনি রিপিট পাবেন।

২. প্রশ্ন সম্পর্কে আইডিয়া নেয়ার পর আপনি প্রতিটি বিষয়ের সিলেবাস অনুযায়ী টপিকভিত্তিক পড়াশোনা শুরু করুন। সেক্ষেত্রে, আপনি আপনার সুবিধাজনক একটি রুটিন অনুসরণ করতে পারেন।

৩. আপনার দুর্বল এবং সবল বিষয়গুলোর জন্য আলাদা প্ল্যান করুন। সবল বিষয়ে নিজের জ্ঞানকে শাণিত করুন এবং দুর্বল বিষয়ে ত্রুটিগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলো শুধরানোর চেষ্টা করুন।

৪. কম পরিশ্রম বা পড়াশোনা করে বেশি নম্বর তোলা যায় এমন টপিকগুলো বাছাই করুন। আবার ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে ১ নাম্বারও কমন পেলেন না বা কমন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম এমন টপিক বাদ দিতে পারেন। অনেকেই বলেন, বিসিএসে কী পড়তে হবে তার থেকে বেশি জানা জরুরী হচ্ছে কী বাদ দিতে হবে। পন্ডশ্রম করবেন না।আমি সবসময় একটা জিনিস অনুসরণ করতাম "Focus on efficiency rather than effort."

৫. মুখস্ত না হলে বারবার পড়ুন। মস্তিষ্কের উপর বেশি চাপ দিবেন না। প্রয়োজনে বিরতি দিন। আপনার প্রস্তুতিকে শাণিত করুন। প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ রাখবেন না। নতুন কোনো টপিক একটু ধীরে সুস্থে পড়ুন। বেশি তাড়াহুড়ো করে পড়াশোনা করলে কাজে আসবে না। প্রশ্ন এনালাইসিস করে পড়ুন।

৬. পরীক্ষার সময় একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন আপনার জানা প্রশ্ন থেকে যেন মার্ক না ছুটে এবং অজানা প্রশ্নে একদম হাত দিতে যাবেন না। কনফিউশান আছে এমন প্রশ্ন পরে দেখার জন্য মার্ক করে রাখতে পারেন। আপনার অনুমান কত শতাংশ সঠিক হয় তা পূর্বে বিভিন্ন মডেল টেস্ট পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করুন এবং সে অনুযায়ী ইমপ্লিমেন্ট করুন।

৭. পরীক্ষার হলে টাইম ম্যানেজমেন্ট যেন ঠিকঠাক হয় সেজন্য আগে থেকে প্ল্যান সাজাবেন কোন টপিকে কত মিনিট সময় নেবেন। সব দাগানো শেষে ১৫ মিনিটের মত সময় রাখুন রিভিশন এর জন্য এবং কোন প্রশ্নগুলো বাদ দিয়েছেন দেখার জন্য।

৮. পরীক্ষার হলে দাগানোর ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, ১৫০ টার নিচে সাধারণত দাগাবেন না। অনেক সময় পারা প্রশ্নও ভুল হয়ে যেতে পারে পরীক্ষার হলের চাপের কারণে। তাই মাথা ঠান্ডা রাখুন এবং সময়ের দিকে নজর রাখুন।

৯. বারবার আসা টপিকগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিন। টপিকের গুরুত্ব বুঝে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করুন। অনেক সময় ১ ঘন্টা পড়েও ১ মার্ক কমন পাওয়া যায় না যা কেউ কেউ ১০ মিনিটের পড়ায় পাওয়া যায়।

১০. মডেল টেস্ট দিতে পারেন যেন আপনার প্রস্তুতি যাচাই করতে পারেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১২০+ সবসময়ই সেইফ মার্ক। তবে প্রশ্নের ধরণ অনুযায়ী কাটমার্ক ১০০ এর নিচেও নেমে যেতে দেখা গেছে। মার্কের লোভে পড়ে অতিরিক্ত দাগাতে যাবেন না। কমন প্রশ্ন দেখে খুশিতে গদগদ হয়ে আমরা অনেক সময় ভুলও দাগিয়ে ফেলি। কমন প্রশ্নেও অনেক সময় ট্র‍্যাপ থাকে। তাই, মনোযোগ ঠিক রেখে ভালোভাবে প্রশ্ন পড়ে তারপর দাগান।

১১. প্রশ্ন সহজ হলে তা বেশিরভাগের জন্যই সহজ এবং কঠিন হলে তা বেশিরভাগের জন্যই কঠিন। খুব ভালো ক্যান্ডিডেটদের কথা ভিন্ন। কিন্তু মাঝারি লেভেলের ক্যান্ডিডেটদের জন্য পরীক্ষার হলে পারা প্রশ্ন ভুল না করা, না পারা প্রশ্ন ছেড়ে দেয়া, কনফিউশান প্রশ্ন ডিল করা এবং সকল প্রশ্ন পড়ে আসা অনেক গুরুত্বপূর্ণ যা আপনার প্রিলি পাস বা ফেল নির্ধারণ করবে।

১২. গভীর মনোযোগ,কনফিডেন্স,টাইম ম্যানেজমেন্ট এই তিনটি জিনিস পরীক্ষার হলে বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।

শেষকথা, প্রস্তুতি যাই নিন না কেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরীক্ষার হলের ২ ঘন্টা আপনি ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেন কিনা। তাই আপনার প্রস্তুতি অনুযায়ী পরীক্ষার হলে সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করুন।

প্রিলি নিয়ে টপিকভিত্তিক আরও লিখবো। Stay tuned...

আরাফাত হোসেন মজুমদার
বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার (৪৪ তম বিসিএস)
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার (সুপারিশপ্রাপ্ত) (৪৫ তম বিসিএস)

৫০ তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড নোটিশ
01/04/2026

৫০ তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড নোটিশ

01/04/2026

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু পরামর্শঃ

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুধু লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার একটি যোগ্যতা মাত্র। মূল লড়াইটা হয় বিসিএস লিখিত পরীক্ষায়। আর বিসিএস মৌখিক পরীক্ষা ভালো হওয়াটা অনেকক্ষেত্রে ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভাইভা বোর্ডের মার্কিং স্টাইল, আপনার প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস এবং স্বল্প সময়ে আপনার উত্তর দেয়ার ভঙ্গি অনেক কিছুই জড়িত। তাই, কেউ কেউ ভালো প্রস্তুতি নিয়েও অনেক সময় আশানুরূপ ভাইভা দিতে পারেন না। আবার কারও কারও কপাল ভালো হলে প্রশ্নগুলো অনুকূলেও পড়ে যেতে পারে। তবে, বিসিএস লিখিত পরীক্ষা ক্যাডার হওয়ার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ এখানেই মেধার আসল লড়াই হয়। তাই, লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা খুবই জরুরী। এই দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য পরীক্ষার জন্য কিছু কার্যকরী পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:

১. প্রিলির পাশাপাশি লিখিত প্রস্তুতিঃ

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পড়ে আসা অনেক কিছুই আপনার লিখিত পরীক্ষায় কাজে লাগে। সেক্ষেত্রে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার সময় লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসেও আছে এমন টপিকগুলো একটু বিস্তারিত পড়ুন। যেহেতু বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফলের পর যে সময় দেয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয় তাই প্রিলিমিনারির পাশাপাশি লিখিত প্রস্তুতি খানিকটা এগিয়ে রাখা উচিৎ। বিসিএস মানেই শুধু প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নয়। কিন্তু অনেক প্রতিযোগীর পড়ার ধরণ দেখলে মনে হয়, প্রিলিমিনারিতেই সবচেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে, লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বেশি সময় দেয়া উচিৎ।

২. প্রস্তুতি কৌশল ও রিসোর্সঃ

পিএসসি-র নির্ধারিত সিলেবাসের প্রতিটি টপিক ধরে প্রস্তুতি নিন। একেবারে A to Z সব পড়ার প্রয়োজন নেই। অপ্রাসঙ্গিক এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু টপিক বাদ দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে এনালাইসিস করুন। বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো মার্ক করুন। সেক্ষেত্রে আপনার পড়া কিছুটা কমবে। "Work smarter not harder" এই নীতি অনুসরণ করতে পারেন।আপনার "Strong Zone" এ সর্বোচ্চ মার্ক তুলুন আর "Weak Zone" এ একটু বেশি সময় দিয়ে সেটা শুধরানোর চেষ্টা করুন। দেখা যাবে, মোটের উপর ভালো পরীক্ষা হয়েছে।

আর রিসোর্সের জন্য বিভিন্ন রেফারেন্স বইতো আছেই। পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকা, বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, পত্রিকার আন্তর্জাতিক পাতা, সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে আপডেটেড তথ্য এবং ইউটিউব বা ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত তথ্য এসব বিষয় নিয়ে নোট করতে পারেন। মূল কথা, আপনাকে শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পাশাপাশি যেকোনো বিষয়ে বিশ্লেষণের জন্য আপনার জ্ঞান এবং অনুধাবনের সীমা বাড়াতে হবে। সবকিছু একদম তৈরি থাকবে না। কিছু জিনিস নিজের বিশ্লেষণ দক্ষতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে।

৩. বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বঃ

গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা ও বিজ্ঞানে তুলনামূলক বেশি নম্বর তোলা সম্ভব, তাই এগুলোতে বাড়তি জোর দিন। পাশাপাশি কিছু টপিক আছে যেমনঃ বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার পার্ট যেগুলোতে মার্ক কাটার আসলে তেমন কোনো সুযোগ নেই। সে বিষয়গুলোতে আপনার সর্বোচ্চ নাম্বার তুলুন।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির উত্তরের মান বাড়াতে প্রাসঙ্গিক ম্যাপ, চার্ট, ডাটা এবং উদ্ধৃতি ব্যবহার করুন। বাংলা সাহিত্যও কমন পড়ার মত কিছু টপিক আছে যেখানে ভালো নাম্বার তুলতে পারবেন। ইংরেজির জন্য নিজের ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং প্রাকটিসের উপর জোর দিন।

৪. পরীক্ষার খাতায় উপস্থাপনা

লিখিত পরীক্ষায় নম্বরের পার্থক্য হয় উপস্থাপনার গুণে। সুন্দর হাতের লেখা এবং স্পষ্ট মার্জিন পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।পাশাপাশি লেখার ক্ষেত্রে গড়পড়তা লেখা পরিহার করতে হবে। প্যারা আকারে লিখলে প্রতিটি প্যারায় একটা করে থিম পরীক্ষককে বুঝানোর চেষ্টা করবেন।

প্রথমে ভূমিকা টাইপ কিছু লেখা, তারপর মূল লেখা এবং শেষে উপসংহার টাইপ কিছু লিখা। কোটেশন, ডেটা, চার্ট ও ম্যাপের সুযোগ থাকলে ব্যবহার করা। অপ্রাসঙ্গিক লেখা থেকে বিরত থাকা। প্রতিটি প্রশ্নের মান অনুযায়ী উত্তর করা। লেখার পৃষ্ঠার উপর নয় বরং মানের দিকে খেয়াল রাখা।

লিখিত পরীক্ষা একটি ম্যারাথনের মতো। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য সময় বরাদ্দ করে রাখুন যেন কোনো প্রশ্ন উত্তরহীন না থাকে। কোনো প্রশ্নের উত্তর খালি রেখে আসবেন না। ধারণা করে লিখে আসতে পারেন তবে অবশ্যই আপনার ধারণা যেন একেবারে অপ্রাসঙ্গিক না হয়। প্রশ্ন বুঝে উত্তর করবেন, প্রশ্নে কী চেয়েছে সেটাতে ফোকাস করুন। অনেকে দেখা যায়, মূল লেখার চেয়ে "Beat around the bush" এই টাইপ কাজ করে আসেন।

৫. শেষ মুহূর্তের করণীয়ঃ

বারবার রিভিশন: আপনার সবল ও দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে বারবার রিভিশন দিন। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানের সূত্রগুলো ঝালিয়ে নিন।

মডেল টেস্ট: প্রস্তুতির মান যাচাই করতে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন। এটি আপনার আত্মবিশ্বাস ও লেখার গতি বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে মডেল টেস্টে নাম্বার কম উঠলে হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ মডেল টেস্টে কম নাম্বার উঠেছে এমন অনেকেই ক্যাডার হয়েছে। আপনাকে শুধু আপনার প্রস্তুতির ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং সেগুলো শুধরাতে হবে।

৬. শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিঃ

সুস্থতা বজায় রাখা: দীর্ঘ সময় ধরে টানা পরীক্ষা চলে, তাই এই সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং মানসিক স্থিরতা অত্যন্ত জরুরি। ব্রেনকে রেস্ট দিবেন মাঝে মাঝে। Effort এর থেকে Efficiency তে গুরুত্ব দিবেন বেশি।

শান্ত থাকা: পরীক্ষার হলে ঘাবড়ে না গিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে শুরু করা।কোনো প্রশ্ন নিয়ে বেশিক্ষণ বসে থাকা যাবেনা। পরীক্ষার স্ট্র‍্যাটেজি বা প্ল্যানিং এর জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন সেটা বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব প্রশ্ন উত্তর করে পরীক্ষা শেষ করতে হবে।

***বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি আলাদাভাবে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবো পরবর্তীতে।

আরাফাত হোসেন মজুমদার
বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার (৪৪ তম বিসিএস)
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার (সুপারিশপ্রাপ্ত) (৪৫ তম বিসিএস)

Address

Chauddagram
Cumilla
3550

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Chase Your Dream with Arafat posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share