প্রকৃতিতে বসন্ত এসছে বুঝতে পারছি। আমের মুকুল, দখিনা হাওয়া, পাখিদের উচ্ছলতা, স্কুল কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, শিক্ষা সফর চলছে পুরোদমে। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। যদিও দূর থেকে মনে হচ্ছে এবার বইমেলা জমেনি। বইপড়া ছেড়ে দিচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে কাগজের মলাটে মোড়ানো বই।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় অব্যাহত আছে। শরীর ভালো না থাকলে কোনো দিকেই গভীরভাবে মনোনিবেশ করা হয় না। যদিও ফেসবুকে ঢুকলেই ৯০% পোস্ট দেখি চলমান রাজনীতি নিয়ে। একঘেয়ে লাগে। বোরিং।
রাজনীতি, কাদা ছোড়াছুড়ি, পারস্পারিক দোষারোপ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, মীম, ভিডিও এগুলোর বাইরে পোস্ট দেখি না বললেই চলে। কবিতার দূর্দশা চলছে বোধহয়। আগে যারা নিয়মিত কবিতা লিখতো ফেসবুকে, এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। ফেসবুকের চেহারায় ব্যাপক চেঞ্জ। তাকে দেখলে টিকটক মনে হয় আজকাল।
Tulatoli High School, batch 2000- তুলাতলী উচ্চ বিদ্যালয়, ব্যাচ ২০০০
পূনরায় আবার আমরা সম্প্রীতির বন্ধনে ?
নারকেলের ঐ লম্বা মাথায়
হঠাৎ দেখি কাল
ডাবের মতো চাদঁ উঠেছে
ঠান্ডা ও গোলগাল ।
ছিটকিনিটা আস্তে খুলে
পেরিয়ে এলেম ঘর
ঘুমন্ত এই মস্ত শহর
করছিলো থরথর।
মিনারটাকে দেখছি যেন
দাড়িয়ে আছেন কেউ,
পাথরঘাটার গির্জেটা কি
লাল পাথরের ঢেউ ?
চৌকিদারের হাক শুনে যেই
মোড় ফিরেছি বায় –
কোত্থেকে এক উটকো পাহাড়
ডাক দিল আয় আয় ।
পাহাড়টাকে হাত বুলিয়ে
লাল দিঘীটার পাড়
এগিয়ে দেখি জোনাকিদের
বসেছে দরবার ।
আমায় দেখে কলকলিয়ে
দীঘির কালো জল
বললো, এসো, আমরা সবাই
না ঘুমানোর দল-
পকেট থেকে খুলো তোমার
পদ্য লেখার ভাজঁ
রক্তজবার ঝোপের কাছে
কাব্য হবে আজ ।
দীঘির কথায় উঠলো হেসে
ফুল পাখিদের সব
কাব্য হবে, কাব্য হবে-
জুড়লো কলরব ।
কী আর করি পকেট থেকে
খুলে ছড়ার বই
পাখির কাছে, ফুলের কাছে
মনের কথা কই ।
আলমাহমুদ
08/07/2024
একটি স্মরণীয় সাক্ষাত্কার _____
প্রেসিডেন্সি কলেজের বাংলা অনার্সের একটি ছাত্র এক রাশ দ্বিধা ও প্রত্যাশা নিয়ে এক সূর্যকরোজ্জ্বল সকালবেলা বি টি রোড ধরে এগিয়ে চলেছে বরানগরের দিকে। মার্ক্সবাদী সাহিত্য-নীতি বিষয়ে তরুণদের একটি পাঠচক্রে কিছু বলার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে এক প্রখ্যাত লেখকের কাছে চলেছে সে , বন্ধুদের কাছে দায়িত্ব পেয়ে । সে ছাড়া আর কারো সাহস হয় নি এই দায়িত্ব নেবার । আদৌ কি তিনি আসবেন নিতান্ত তরুণ কবিদের এই অকিঞ্চিত্কর পাঠচক্রে ?
বাস থেকে নেমে ছেলেটি একে তাকে জিজ্ঞেস করে অবশেষে একটি সাদাসিধে ছোটোখাটো বাড়ির দরজায় এসে কড়া নাড়ল । দরজা খুলে দিলেন এক মহিলা , নীরব ।
____ উনি কি আছেন?
____ বাজারে গেছেন ।
রোমান্টিক তরুণ কবির কল্পনায় তখন ‘লেখক’ ও ‘বাজারের’ মধ্যে কোনও স্বাভাবিক সংযোগের অবকাশ ছিল না । সে মনে মনে ভাবে , লেখক কি সাধারণ কোনও মানুষ নাকি ? তাঁকে কেন বাজারে যেতে হবে ? ভাবতে ভাবতে সামনের খোলা মাঠে পায়চারি করতে থাকে সে ।
আধ ঘণ্টা পরে লুঙ্গি আর ফতুয়া পরা দীর্ঘদেহী সুঠাম এক শ্যামবর্ণ মানুষ দু-হাতে দুটি থলে নিয়ে ওই বন্ধ দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন । ছেলেটির বুকের রক্তে কাঁপন লাগলো । বাজার যখন হাতে , তাহলে উনিই তো সেই লেখক ! পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল সে । আড়চোখে তার দিকে চেয়ে মানুষটি বললেন :
____ আপনি কি আমার জন্য অপেক্ষা করছেন ?
____ হ্যাঁ ।
____ আসুন , ভিতরে বসুন । বাজারটা রেখে দিয়ে আমি আসছি ।
লেখক পর্দা সরিয়ে ভিতরে গেলেন । তরুণটি বিমূঢ় ভাবে বসে বসে দেখতে থাকে লেখকের লেখার ঘরটিকে । উপকরণহীন একটি চৌকি , একটি ছোটো টেবিল , একটি চেয়ার । টেবিলে কোনও বই নেই , শূন্য । পুতুলনাচের ইতিকথা, পদ্মানদীর মাঝি, দিবারাত্রির কাব্য , কয়েকদিন আগে পড়া চতুষ্কোণ ___ মাথার মধ্যে হেঁটে বেড়াচ্ছে তার চরিত্রেরা ।
রাজকুমার সরসী , কুবের , কপিলা, হোসেন মিয়া, শশী, কুসুম , হেরম্ব ... । ________________ এই রকম নিরাভরণ তাদের স্রষ্টার ঘর ? এই সেই বিতর্কিত ও সুপরিচিত লেখক ?
ফিরে এসে লেখক বসলেন বিমূঢ় তরুণটির মুখোমুখি । কী বলবে সে , কী বলা উচিত ? সব ঝাপসা হয়ে গেছে । তার অপ্রস্তুত নীরবতা দেখে সরাসরি তরুণটির চোখের দিকে তাকিয়ে লেখক বললেন :
____ কী ভাবছেন ? ভাবছেন যে , একজন লেখকের ঘর এমন ফাঁকা কেন ? নাকি ভাবছেন যে , লেখক নিজের হাতে বাজার করেন কেন ? ..... না করে আর উপায় কী বলুন ? ঝি-চাকর রাখার মতো টাকা কে দেবে আমাকে ? দেন কি আপনারা ? পড়েন কি কেউ আমার লেখা ? আপনি কি আমার কোনও লেখা পড়েছেন ?
_____ হ্যাঁ , অনেক .....
_____ কিনে পড়েছেন ?
_____ আজ্ঞে না , লাইব্রেরি থেকে , চেয়ে-চিন্তে ....
______ তাতে কী সুবিধে হলো আমার ? আপনার বন্ধুরা কেউ কিনেছেন ? .... কেনেন নি তো ? তবে ? পাঠকরা কেউ বই কিনবেন না , প্রকাশক বলবেন বই বিক্রি হয় না , টাকাটা তবে আসবে কোথা থেকে ? লেখকের ঘরটাও তাই এ-রকমই থাকবে ।
লাঞ্ছনার এই সত্য জেনে তরুণ কবিটি মাথা নীচু করে বসে রইল । একটু পরেই দরাজ গলায় প্রশ্ন এলো :
_____ বলুন এবার , কী জন্য এসেছেন । গল্প চাই একটা ?
ছেলেটি আত্মপরিচয় দিয়ে জানালো তার আগমনের উদ্দেশ্য , তাদের পাঠচক্রে কিছু বলার জন্য অনুরোধ । সব শুনে লেখক বললেন :
_____ ঠিক আছে, যাব । কোথায় কবে কখন , লিখে দিয়ে যান একটা চিরকুটে ।
বিহ্বল তরুণটি বিস্ময়-মুগ্ধ তখন । কোনও মতে আবেগ দমিত করে সে বলল :
____ নিয়ে যাব আমরা এসে ।
_____ কিছু দরকার নেই । আপনারা পয়সা পাবেন কোথায় ? চলে যেতে পারব একাই। পথনির্দেশটা শুধু রেখে যান ।
আরও দু-চারটে কথা বলে ছেলেটি পথে নেমে আসে । যে প্রত্যাশা নিয়ে সে এসেছিল , ফিরে যাচ্ছে তার বহুগুণ উপার্জন নিয়ে । বরানগর থেকে কলেজ স্ট্রিট , সেখান থেকে বৌবাজার পেরিয়ে বন্ধু প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্যের বাড়িতে উড়তে উড়তে পৌঁছে গেল সে , জয়ের বার্তা নিয়ে ।
*সেদিনের সেই প্রখ্যাত লেখক : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ।
*আর সেই তরুণ কবি হলেন : আজকের শঙ্খ ঘোষ ( যাঁর প্রকৃত নাম : চিত্তপ্রিয় ঘোষ )
( সূত্র : সময়ের জলছবি : শঙ্খ ঘোষ )
উত্তম দত্ত
22/04/2024
একদিন মরে যাব ভাবলে খুব কষ্ট হয়। এই পৃথিবীতে এত কিছু বাদ দিয়ে তুই চলে গেলি, কিছুতেই ভাবতে পারছি না। যা কিছু দেখে তোর প্রথম ভাল লেগেছিল, যে ছেলেটি একসময় নিজের হাত খরচের টাকায় সিংগারা কিনেছিল তোর জন্য, যে বন্ধুগুলোর সুখে-অসুখে নিজের পকেটের টাকা ও সময় ব্যায় করে পাশে থাকতি, যে মা যতক্ষন না ঘরে যাচ্ছিলি না খেয়ে বিছানায় রাত জেগে বসে থাকত, তাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলি ভাবতেই পারছি না।
যে মানুষ মরে গেছে তাকে কেউ মনে রাখেনি। তোকেও কেউ মনে রাখবেনা। পৃথিবীতে এখন মানুষের শোকের আয়ু অনেক কম। আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট তোকে ক্ষমা করার ও জান্নাত দান করার জন্য দোয়া করছি, আমিন।
আর আমরা শরীরে অজস্র ত্রুটি আর চরিত্রে বীভৎস দূষণ নিয়ে বেঁচে আছি বা মরার অপেক্ষায়…
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ।
প্রিয় মোহাম্মদ আলী 🥲🥲
19/04/2024
মীর্জা গালিব মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লীরা তাকে বাধা দিল। বলল, মসজিদ আল্লাহর ঘর। মদ্যপানের জায়গা নয়।
গালিব তাকালেন মুসল্লীদের দিকে। তারপর আরেক চুমুক খেয়ে আওড়ালেন উপস্থিত শের,
'শরাব পিনে দে
মসজিদ মে ব্যায়ঠ কার,
ইয়া ও জাগা বাতা
যাঁহা খুদা নেহি।'
মুসল্লীরা লা জবাব। কী জবাব দেবেন। খোদা নাই এমন জায়গার কথা বলা শক্ত বইকি।
তবে জবাব দিলেন আল্লামা ইকবাল। বহু বছর পর। তার শের দিয়ে। তখন মীর্জা আর বেঁচে নেই।
'ইয়া গালিব, মসজিদ খুদা কা ঘর হ্যায়
পিনে কি জাগা নেহি,
কাফির কে দিলমে যা
ওঁয়াহা খুদা নেহি।'
কাফের মানে অবিশ্বাসী। তার অন্তরে খুদার জায়গা নাই। তাই গালিবকে সেখানে গিয়ে মদ্যপান করতে বলা হয়েছে৷
আহমদ ফারাজ নামের আরেকজন কবি এর প্রতিউত্তরে লিখলেন-
'কাফির কে দিল সে
আয়া হু দেখ কার
খুদা মওজুদ হ্যায় ওঁয়াহা
উসসে পাতা নেহি।'
(কাফিরের মনে উঁকি দিয়ে এসেছি দেখে
সেখানেও খুদা আছে, কিন্তু সে জানেই না।)
তার জবাবে কবি ওয়াসি লিখলেন-
'খুদা তো মওজুদ
দুনিয়া মে হার জাগা
তু জান্নাত মে যা
ওঁয়াহা পিনে সে মানা নেহি।'
(খুদা তো দুনিয়ার সবখানেই উপস্থিত আছে
তুমি জান্নাতে যাও, ওখানে মদ খেতে বাধা নেই)
কবি ওয়াসি এখানে 'শরাবান তহুরা'র কথা বলেছেন। যেটা জান্নাতবাসীরা যত ইচ্ছা খেতে পারবে। কিন্তু মাতাল হবে না। জান্নাতের মধ্যে হারাম-হালালের মাসয়ালা আসবে না। সব বিধিনিষেধ শুধু দুনিয়ার জন্যই প্রযোজ্য।
এরপরে সাকি লিখলেন-
'পীতা হুঁ সাকি
গাম-এ-দুনিয়া ভুলানে কে লিয়ে
জান্নাত মে কৌন সা গাম হ্যায়,
ইস লিয়ে ওঁয়াহা মাজা নেহি।'
সাকি বলতে চাইছেন, জান্নাতে তো দুনিয়াবি দুঃখ-কষ্ট থাকবে না। ওখানে কষ্ট ভোলার জন্য মদ গেলার সেই মজা পাওয়া যাবে কি?
- সংগ্রহীত
পাথর-কাটা লোক
ছিলো এক পাথর-কাটা লোক। নিজের উপর মহাবিরক্ত। একদিন এক মার্চেন্টের বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে যেতে ভাবল, মার্চেন্টটা কতই-না ক্ষমতাবান। আমি যদি হতে পারতাম এমন মার্চেন্ট!
সাথে সাথে সে হয়ে গেলো মার্চেন্ট।
একদিন দেখলো এক বড় অফিসারকে। সাথে তার বন্দুকধারী গার্ড। সবাই তাকে ঈর্ষা করে। সে ভাবল, কতই-না ক্ষমতাবান লোকটা। আমি যদি হতে পারতাম এমন অফিসার। সাথে সাথে হয়ে গেলো।
একদিন সে তার উচুঁ চেয়ারে বসে আছে। গরম লাগছে খুব। তাকালো সূর্যের দিকে। কী গর্বিত সূর্যটি। একাই সবাইকে উত্তাপ দেয়। আলো দেয়। আমি যদি হতে পারতাম। সাথে সাথে সে সূর্য হয়ে গেলো।
একদিন দেখে কালো একখণ্ড মেঘ তার আর পৃথিবীর মাঝে। মেঘের কারণে তার আলো পৃথিবীতে আসতে পারছে না। ভাবল, মেঘ কত ক্ষমতাবান। যদি হতে পারতাম মেঘ। সাথে সাথে হয়ে গেলো। সে এখন মেঘ। বৃষ্টি ঝরায়।
একদিন দেখল কী একটা শক্তি তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বুঝতে পারলো সেটা বাতাস। সে আশা করলো আমি যদি বাতাস হতে পারতাম। হয়েও গেলো। সে সবকিছুকে উড়িয়ে নিতে পারে।
একদিন দেখলো সবকিছু উড়িয়ে নিতে পারলেও সে একটা জিনিসকে উড়াতে পারে না। সে আর কিছু না, পাথর।
সে ভাবল, আমি যদি পাথর হতে পারতাম। হয়েও গেলো।
একদিন শুনে তার উপর আঘাতের শব্দ। নিজে নিজে ভাবল, পাথর, তোমার চেয়ে শক্তিশালী কে আছে পৃথিবীতে?
সে দেখতে পেলো, তার উপর যে আঘাত করছে আর ভাঙছে, সে আর কেউ না, একজন পাথর-কাটা লোক।
ফোক গল্প
অনুবাদ : মুহম্মদ ইমদাদ
Collected from Imtiaz Mahmud
"লোকে ভাবে, চারটি পাড় আর এক আধার জল থাকিলেই বুঝি একটি গর্ত পুকুর হইয়া ওঠে। আসলে তাহা নহে। যে-পুকুরে মানুষ নামে না, মাছ ও মানব একসাথে সাঁতার কাটে না, একটু পরপর গোসলের আলো আছড়ে পড়ে না, মাসে এক দিনও রমণীরা কাপড় ছাড়িতে আসে না, সে-পুকুর পুকুর নহে। পুকুর হইয়া উঠিতে তাহার অনেক দেরি। পুকুরমাত্রই কিশলয়ের ন্যায় শিশুরা দুপুরবেলায় ভাসিয়া বেড়াইবে, গরু আসিয়া মাঝেমধ্যে এক চুমুক জল পান করিয়া যাইবে। যদিও আমাকে বানাইয়াছে মানুষ, তথাপি মনে হইতেছে, আমি মানুষের চাইতে অধিক মহৎ। অধিক উদার। মানুষ আমার মতো আস্থাভাজন নহে, নির্ভরযোগ্য নহে, বিশ্বাসযোগ্য নহে। কে কতো বছর আগে দুটি দুঃখের কথা বলিয়া রাখিয়াছেন, তাহার একটি আলাপও কি কোথাও ফাঁস করিয়াছি? করি নাই। কতো মানুষের শরীরের মাপ আমি জানি, কতো নারী তাহার সর্বস্ব দেখাইয়াছেন, সেসবের একটি ছবিও কি কোথাও লিক করিয়াছি? করি নাই। যে-মানুষ আরেক মানুষকে এক দশকেও একবার দেহ স্পর্শ করিতে দেয় না, টাচ লাগিলেই যেখানে মামলা-মোকদ্দমা রেপ-কেইস হইয়া যায়, সে-মানুষ কতো অবলীলায় আমাকে তাহার সর্বাঙ্গ সঁপিয়া দেয়। আমি তাহাদের ভেতরটা হয়তো পরিষ্কার করিতে পারি না, কিন্তু বাহিরটুকু যে আমার স্পর্শে নির্মল হইয়া ওঠে, এ কথা এক রত্তি মিথ্যে নহে।"
—মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
বই: টয়োটা করোলা
আমাদের অভাব ও দুঃখগুলো নিতান্তই আপেক্ষিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘশ্বাসের চরিত্র বদলে যায়। ছোটোবেলায় মিল্ক পাউডার চুরি করে খেতে গিয়ে ধরা পড়ে বাবার হাতে বেদম মার খেয়েছিলাম বলে বাবাকে মনে হয়েছিল নিষ্ঠুর ভিলেন। সেদিন ভেবেছিলাম, বড় হয়ে অনেক রোজগার করে সেই টাকা দিয়ে মিল্ক পাউডারের দোকান দেব, আর ইচ্ছেমতো সেই অমৃতময় গুঁড়ো দুধ খাবো। এখন মিল্ক পাউডার ছুঁয়েও দেখি না। সমস্ত মিষ্টিকে মনে হয় শয়তানের সৃষ্টি।
- উত্তম দত্ত ©
তখন পৃথিবী এতো জোরে ঘুরতো না৷ তখন ছোটোদের শৈশব ছিল৷ কৈশোর ছিল৷ কারো কারো বাড়ির উঠানের কোণে বরই গাছ ছিল৷ একটু বাতাসেই সেইসব বরই গাছ থেকে টুপ করে পাকা বরই পড়তো আর বাচ্চারা দৌড়ে যেয়ে কুড়িয়ে আনতো৷ গাছের ডাল ধরে ঝাকুনি দিলেও টুপটাপ বরই পড়তো৷ আমরা কী করতাম, বাঁশ জোড়া বেঁধে লম্বা করতাম আর সেই জোড়া দেয়া লম্বা বাঁশ দিয়ে বরই পাড়তাম৷
একদিন দেখি তুমি সেই জোড়া বাঁশ দিয়ে বরই পাড়ছ৷ ছোট ছিলে তাই সামলাতে পারছিলে না, পড়ে যাচ্ছিলে৷ দেখে আমার কিযে মায়া লাগল! আমি এগিয়ে গিয়ে বললাম, আমাকে দাও৷ আমি বাঁশ দিয়ে গাছের ডালে ঝাঁকুনি দেই আর তুমি কুড়াতে থাকো৷ মুগ্ধ হয়ে আমি সেই দৃশ্য দেখতে থাকি৷
তুমি কি বরই কুড়াতে কুড়াতে কিছু মূহূর্তের জন্য গাঢ় দুই চোখ তুলে আমার দিকে তাকিয়েছিলে, নাকি আমিই ভুল দেখছিলাম? তুমি হঠাৎ করে বলে উঠলে, 'ভয় লাগে আমি যাই'৷ সেটাই ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে আমাদের প্রথম কথোপকথন৷ আমি বুঝতে পারিনি তুমি আসলে কী বলছ, কিছু বুঝার আগেই তুমি চলে গিয়েছিলে৷
আমি আজও জানি না তুমি কেন ভয় পেয়েছিলে৷ মাঝে মাঝে বরই গাছটাকে স্বপ্নে দেখি৷ তোমাকে দেখি না !
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Cumilla
3580
Opening Hours
| 09:00 - 17:00 |