ব্রাক সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে এই ভিডিওটা সবার দেখার দরকার। ব্রাকের যুদ্ধটা মূলত আল্লাহর সাথেই! ক্রুসেডার কমান্ডার উপাধি পাওয়া ফজলে আবেদ স্যার হওয়ার রহস্যটা জেনে নিন!
#
আল ইখওয়ান ছাত্রকল্যাণ পরিষদ/Al Ikhwan Chatrokollan Porishod
সুন্দর পৃথিবী গড়তে শিক্ষার বিকল্প শিক্ষা ই।
ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে আমরা দায়বদ্ধ।
25/07/2023
অধৈর্য হবেন না
আবুবকর বিন রাশেদ
সূর্যের আলোতে দূর হয় রাতের আধাঁর
আশার আলোতে নশ্বর জীবনের।
ধৈর্যহীন মানুষ খেই হারায়
শুধু পথ খুজে মরণের।
সমস্যা জীবনের অন্যতম অংশ, সমস্যা আসবে, সমাধান করতে হবে। সমাধানের চেষ্টা না করে সমস্যাকে জিইয়ে রেখে হতাশাগ্রস্ত হওয়া ঠিক নয়।
সমস্যার সঠিক সমাধান করতে হলে আগে সমস্যার উৎস খুজে বের করুন, সুষ্ঠভাবে চিন্তা করে সমাধানের পথে পা বাড়ান, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও ক্রোধান্বিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
যে মানুষ বিপদে অধৈর্য হয়ে জীবনের মায়া হারিয়ে ফেলে সে আলো ছেড়ে আধাঁরের পথে হাটে, এই পথের গন্তব্য আত্মহনন, কারণ আশা ই জীবনের আলো, আশা ও মায়াহীন অস্তিত্বের মুল্য নেই তাই নিজেকে শেষ করতে চায়। মাথা ব্যথার জন্য প্রতিকার করা উচিত, মাথা কাটা নয়। সমস্যার জন্য সমাধান উচিত আত্মহনন নয়।
হতাশায় খেই হারিয়ে যে পথিক মরণের পথ খুজে , সে সবচেয়ে নির্বোধ, কারণ আত্মহনন মুক্তির পথ নয়।
আশা ই জীবনের আলো, হতাশাকে দুপায়ে দলে এগিয়ে যেতে হবে সম্মুখপানে।
১৪|২|২৩
21/05/2023
২১/৫/২৩ ঈ.
أفلا ينظرون الى الإبل كيف خلقت
তারা কি উটের দিকে দেখে না, কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে?
উট নোনা পানি পান করতে পারে, এমনকি মৃত সাগরের পানিও। এতে তার রক্তচাপ বাড়ে না। কারণ, তার কিডনি পানিকে ফিল্টার করে, যাতে সে তা তাজা পান করতে পারে। কাজেই তার কিডনি লবণ থেকে পানি আলাদা করে দেয়।
উট কাঁটা খেতে পারে। এতে তার পাকস্থলী ও অন্ত্রের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ, তার লালা এসিডের মত, যা কাঁটা গলিয়ে দেয়। পরে সে ওই কাঁটা রুটি ও আটার মতো খেয়ে ফেলে। এজন্য হাতে পায়ে কাঁটা ফুটলে আরব বেদুইনরা সেখানে উটের লালা লাগিয়ে দেয়। এবং সেই কাঁটা গলে বেরিয়ে আসে।
উটের চোখের পর্দা দুটি। একটি পাপড়ির পর্দা এবং অন্যটি মাংসের। এজন্য মরুভূমির ধূলিকণার মধ্যে চলতে পারে এবং তার চোখের ক্ষতি হয় না। কারণ সে তখন স্বচ্ছ পাপড়ির পর্দা বন্ধ করে দেয়।
উট তার দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে পারে। বরফঢাকা জমিতে থাকলে সে তার তাপমাত্রা বাড়াতে পারে এবং উত্তপ্ত মরুভূমিতে থাকলে সে তার তাপমাত্রা কমাতে পারে।
أفلا ينظرون الى الإبل كيف خلقت
তারা কি উটের দিকে দেখে না, কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আল কুরআন [৮৮:১৭]
সুবহানাল্লাহ!
(Copy)
বগুড়ার চাঁদ, কলকাতার চাঁদ : পার্থক্য কোথায়?
–মাওলানা আবদুল মালেক হাফিযাহুল্লাহ
কেউ কেউ প্রশ্ন করে থাকেন :
“যদি বগুড়ার চাঁদ দিয়ে ঢাকায় ঈদ হতে পারে তাহলে কলকাতার চাঁদ দিয়ে হতে পারবে না কেন?”
এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য সম্ভবত এই যে, ভূপৃষ্ঠের উপর বিভিন্ন দেশের যে সীমান্ত রয়েছে সেটা তো নতুন, সেটা স্থায়ী কিছু নয়; বরং পরিবর্তনশীল। অতএব এইসব সীমানা হিলাল বিষয়ক আলোচনার ভিত্তি হতে পারে না। যাকে কেন্দ্র করে বলা যাবে সীমান্তের এপারে হিলাল দেখা গেলে তা গ্রহণযোগ্য। আর ওপারে পাঁচ দশ কিলোমিটার দূরত্বে হিলাল দেখা গেলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এমন কথা খুবই অযৌক্তিক।
এ প্রশ্নের উত্তর এই যে, এমন কথা তো কেউ বলেনি যে, অন্য এলাকার হিলাল গ্রহণযোগ্য হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সীমানাগুলো মানদণ্ড। এটা কেউ বলেনি, বরং নিকট ও দূরের যেই মাপকাঠি ফিকহ ও ফতোয়ার কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে, তার বিচারে যেসকল অঞ্চল হিলাল দেখা যাবার স্থান থেকে নিকটে অবস্থিত সেগুলো নিকটবর্তী। হোক তা অন্য দেশের অন্তর্গত। আর যেসব অঞ্চল হিলাল দৃষ্টিগোচর হবার স্থান থেকে দূরে, সেগুলো দূরবর্তী বলেই গণ্য হবে। যদিও তা এক দেশভুক্ত হয়।
আর সে কারণেই মাসআলা হল, কোনো বড় দেশে উদাহরণস্বরূপ, যদি দুটি শহর এমন হয় যে, একটি একেবারে পূর্ব প্রান্তে আর অন্যটি তার থেকে অনেক দূরে একেবারে পশ্চিম প্রান্তে; এবং শহরদু’টোর উদয়স্থলও সম্পূর্ণ ভিন্ন। তো এক্ষেত্রে মূল বিধান এই যে, পশ্চিমা শহরের হিলাল দেখা মোতাবিক আমল করা পূর্বের শহরের জন্য আবশ্যিক নয়। কিন্তু যদি সরকারপ্রধান কিংবা তার নিযুক্ত করা হিলাল কমিটি একেবারে পশ্চিমে দেখতে পাওয়া হিলালের ভিত্তিতে সমগ্র দেশবাসীর জন্য রোযা কিংবা ঈদের ফায়সালা করে দেন তাহলে এই ফায়সালা গোটা দেশবাসীর জন্য মানা বাধ্যতামূলক। কেননা ‘দূরবর্তী দেখা’ ধর্তব্য হওয়ার ক্ষেত্রেও যেহেতু কোনো কোনো ফকীহের মত রয়েছে, আর জানা কথা যে, সেটাও একটা মুজতাহাদ ফী মত- তাই সরকারপ্রধান কিংবা তার প্রতিনিধি যদি সেই অনুসারে ফায়সালা দিয়ে দেন তাহলে তা অবশ্যপালনীয় হবে। এই বিধান ফিক্হশাস্ত্রের ঐ স্বতঃসিদ্ধ নীতির কারণে, যাতে বলা হয়েছে حُكْمُ الحَاكِمِ يَرْفَعُ الخِلَافَ।
এমনিভাবে কোনো অঞ্চল যদি হিলাল দেখা যাবার স্থানের একেবারে কাছে অবস্থিত হয়, কিন্তু হিলাল দেখা যাবার সেই স্থানটি পড়েছে সীমান্তের বাহিরে, তো এমন ক্ষেত্রে শুধু সীমানার বাহিরে হবার কারণে ওখানকার দেখা গ্রহণযোগ্য হবে না- এমন কথা কেউ বলেওনি, আর না বলা সম্ভব। বরং মাসআলা এটাই যে, যদি এ ধরনের কাছাকাছি অঞ্চলসমূহ (যেমন ঢাকা ও কলকাতা)-এর সংবাদ কিংবা সাক্ষ্য (যে ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি কাম্য) ‘তরীকে মুজিব’-এর মাধ্যমে হিলাল কমিটির কাছে পৌঁছে এবং পৌঁছার মাধ্যম সম্পর্কে ফিকহ ও ফতোয়ার আলোকে তারা এই মর্মে আশ্বস্ত হন যে, এটা ‘তরীকে মুজিব’ তাহলে হিলাল কমিটি অবশ্যই সে মোতাবেক ফায়সালা করবেন।
এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো সংবাদ গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য সংবাদদাতার ব্যক্তিসত্তা ও ন্যায়নিষ্ঠতা সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরি তথা পূর্বশর্ত। যদি ফোনে সংবাদ দেয় তাহলে নিশ্চিত হতে হবে এই কন্ঠ তারই। আর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হল, সাক্ষী ন্যায়পরায়ণ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির সামনে উপস্থিত হয়ে ঐ সাক্ষ্য প্রদান করা। ফোনে সাক্ষ্য দান করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। শরীয়তে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
আশা করি, এই আলোচনা থেকে প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। এখন যদি কেউ সৌদি, কানাডা কিংবা হাওয়াই দ্বীপকেই ঢাকার নিকটবর্তী বলতে শুরু করে তাহলে তার চিকিৎসা তো কারো কাছেই নেই। কিংবা যদি কেউ এ কথা বলতে আরম্ভ করে যে, সৌদির হিলাল কমিটির ফায়সালাই বাংলাদেশীদের জন্য যথেষ্ট তো এই কথা যেমন শরয়ী বিধানের আলোকে গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি দুনিয়ার সাধারণ আইনেও তা কবুলযোগ্য নয়।
কারণ প্রথম কথা তো হল, সৌদির হিলাল কমিটি যেই জায়গার হিলাল দেখার ভিত্তিতে ফায়সালা করেছে সেটা নিকট ও দূরের সকল মাপকাঠির বিচারেই বাংলাদেশ থেকে দূরে। সেজন্য ওখানকার দেখা বাংলাদেশের জন্য এমনিতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দ্বিতীয় কথা, বাংলাদেশের উপর সৌদি হিলাল কমিটির কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং এর সিদ্ধান্ত এখানের জন্য প্রযোজ্য নয়। এটা তাদেরও ফতোয়া, যারা উদয়স্থলের ভিন্নতা ধর্তব্য নয় বলে মনে করেন। এ কারণেই শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম পরিষ্কার বলেছেন-
“প্রশ্ন হল, কোনো ব্যক্তি কি এখানে (পাকিস্তান) সৌদি আরবের ফায়সালা অনুযায়ী আমল করতে পারবে? এর উত্তর, এখানে থেকে সৌদি আরবের ফায়সালা অনুযায়ী আমল করা জায়েয হবে না। কেননা সৌদি আরবের ফায়সালার এখানে কর্তৃত্ব নেই।
(ইনআমুল বারী, বুখারী শরীফের দরস সংকলন, মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী, খ- : ৫, পৃ. ৪৯৭, মাকতাবাতুল হেরা, করাচী)।
এটা তো সর্বস্বীকৃত যে, প্রত্যেক কাযী ও শাসকের ফায়সালা তার এখতিয়ারের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। (আলআহকামুস সুলতানিয়্যাহ ওয়ালওলায়াতিদ দীনিয়্যাহ, ইমাম আবুল হাসান মাওয়ারদী, পৃষ্ঠা : ১৪১-১৪২, অধ্যায় : ৬, পরিচ্ছেদ : ৪; আলআহকামুস সুলতানিয়্যাহ, আল্লামা আবু ইয়ালা, পৃষ্ঠা : ৬৮, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা বৈরুত, ১৪২১ হিজরী মোতাবেক ২০০০ ঈসায়ী)।
~ আল কাউসার
শাবান-রমযান ১৪৩৯ || মে-জুন ২০১৮
তুরস্কের চেয়েও অধিক মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাংলাদেশে রয়েছে - বিশেষজ্ঞরা এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে। আর ঘনবসতি হওয়ায় এখানে এমন কিছু হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে অনেক বেশি। 'যতসব বিপদ তোমাদের আক্রান্ত করে, তা তোমাদের কৃতকর্মের ফল।' [আল-কুরআন]
আল্লাহ এই জাতির ওপর রহম করুন। পাপাচারের পথ ছেড়ে হিদায়াতের পথে চলার তাওফিক দান করুন। পাপীদের পাপের ফলে ধ্বংস না হোক এই উদ্যান। এখানে ফুটুক ইসলামের ফুল।
অন্যের পরিণতি দেখে যারা শিক্ষা নেয়, তারাই বুদ্ধিমান। ধ্বংসের মুখে পড়ে ঈমানের ঘোষণা তো ফিরআউনও দিয়েছিল; কিন্তু তা তার উপকারে আসেনি। সুতরাং সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশ ও মানবতাকে বিপদমুক্ত রাখতে চাইলে অতি অবশ্যই কুফর, শিরক, জাহিলিয়াত ও অবাধ্যতা ছাড়তে হবে।
লেখা : শায়েখ আলী হাসান ওসামা হাফিজাহুল্লাহ
জুমার খুতবাপূর্ব বয়ান কি বেদাত?
মাহফুয আহমদ
অনারব বহু দেশে প্রতি জুমাবার আরবি খুতবার আগে স্থানীয় ভাষায় বয়ান করবার একটি নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। আজকাল কোনো কোনো বন্ধু প্রশ্ন করছেন যে, এটি কি শরিয়ত সমর্থিত? তাদের কথা হলো, এইরকম বয়ানের প্রথাটি নব-আবিষ্কৃত। উপরন্তু এই পদ্ধতি নাকি সুন্নাহ পরিপন্থী!
বিভিন্ন দলিলের আলোকে জোর দিয়ে বলা যায় যে, তাদের এমন ধারণা সঠিক নয়। সম্মানিত পাঠকবর্গের সদয় জ্ঞাতার্থে এখানে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা পেশ করা হলো।
এক.
জুমার খুতবার পূর্বে পৃথক আলোচনার প্রমাণ সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়িগণের জীবনবৃত্তান্ত থেকেও মেলে। আসিম ইবনে মুহাম্মাদ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, জুমার দিন আমি আবু হুরায়রা (রা.) কে দেখলাম মসজিদের মিম্বারের পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন যে, "আবুল কাসিম, আল্লাহর রাসূল; যিনি সত্যবাদী ও সত্যায়িত (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন..."। এভাবে ইমাম আসা পর্যন্ত তিনি হাদিস বর্ণনা করতে থাকতেন। (আল মুসতাদরাক; আবু আবদিল্লাহ আল হাকিম, ৩/৫৮৫, দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ)
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এর শাসনকালে জুমাবার মসজিদে তামিম আদ দারি (রা.) প্রথমে আলোচনা করতেন। বস্তুত তিনি ওমরের কাছে এর জন্য আবেদন করেছিলেন এবং খলিফা তাঁর অনুরোধমত আলোচনার অনুমতি প্রদান করেছিলেন। পরবর্তী খলিফা উসমান (রা.) এর শাসনকালেও তামিম আদ দারি তাঁর অনুমতিক্রমে জুমাবার খুতবার পূর্বে এরকম আলোচনা করে থাকতেন। (আল মুসান্নাফ; আবদুর রাজ্জাক, ৩/২১৯, আল মাকতাবুল ইসলামি)
ইউসুফ ইবনুস সায়িব বর্ণনা করেন যে, সায়িব ইবনে ইয়াজিদ বলেন, 'জুমাবার নামাজের পূর্বে আমরা মসজিদে আলোচনার মজলিশে বসে থাকতাম।' (আল মুসান্নাফ; ইবনে আবি শায়বা, ১/৪৬৮, মাকতাবাতুর রুশদ) অন্য বর্ণনানুসারে, 'জুমাবার প্রথম আজানের পূর্বে আমরা মসজিদে আলোচনা শুনতে বসে থাকতাম। আর প্রথম আজান দেয়ার সময় মজলিশের সমাপ্তি ঘটতো। (তাবাকাতুল মুহাদ্দিসিন বিইসবাহান; আবুশ শায়খ, ৪/১৯০, মুয়াসসাসাতুর রিসালা)
আবুজ জাহিরিয়্যাহ বর্ণনা করেন, জুমাবার আমি আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) এর মজলিশে বসে আলোচনা শুনতাম। ইমাম আসা পর্যন্ত তিনি নিয়মিত হাদিস বর্ণনা করতে থাকতেন। (আল মুসতাদরাক, ১/৪২৪, দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ) বিবৃত হয়েছে যে, সালমান আল ফারসি (রা.) জুমাবার জায়দ ইবনে সুহানকে নির্দেশ করে বলতেন, যাও! নিজের সমাজকে উপদেশ দাও। (আত তাবাকাতুল কুবরা; ইবনে সাদ, ৬/১৭৭, দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ)
মুয়াবিয়া ইবনে কুররা উল্লেখ করেন, আমি মুজায়না গোত্রের ৩০ জন সাহাবিকে দেখেছি যে, জুমাবার তাঁরা গোসল করতেন, উত্তম কাপড় পরিধান করতেন, স্ত্রীদের থেকে চেয়ে নিয়ে হলেও সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং তারপর মসজিদে আগমন করতেন। মসজিদে এসে প্রথমে তাঁরা ২ রাকাত নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর ইমাম আসার আগ পর্যন্ত তাঁরা ধর্মীয় জ্ঞান ও সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করতে থাকতেন। (আল ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ; খতিব বাগদাদি, ২/২৭২, দারুবনিল জাওযি/ তারিখু দামেস্ক; ইবনে কাসির, ৫৯/২৬৯, দারুল ফিকর)
দুই.
মাহদি ইবনে মায়মুন বলেন, আমি আবুল আ'লা, আল জারিরি, আবু নোমান আস সাদি, আবু নোমান আল হানাফি, মায়মুন ইবনে সিয়াহ এবং আবু নাদরা (রহ.); তাঁদের সবাইকে জুমাবার নামাজের পূর্বে সমবেত হয়ে ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতে দেখেছি। বর্ণনাকারী বলেন, মাহদি ইবনে মায়মুন আরও কয়েকজন তাবেয়ির নাম উল্লেখ করেছিলেন। তবে নামগুলো আমার মনে থাকেনি। (আল ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ; খতিব বাগদাদি, ২/২৭৪, দারুবনিল জাওযি) স্মর্তব্য যে, উল্লিখিত নামসমূহ থেকেও তাবেয়িগণের সাধারণ কর্মপন্থা প্রস্ফুটিত হচ্ছে। তাঁরা ছিলেন শীর্ষস্থানীয় তাবেয়ি এবং সরাসরি সাহাবিগণের সাহচর্য লাভকারী মহান জ্ঞানতাপস।
তিন.
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.) বর্ণনা করেন, জুমাবার আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল কাত্তান, মুয়াজ ইবনে মুয়াজ এবং হাম্মাদ ইবনে মাসআদা (রহ.)-কে দেখেছি নামাজের পূর্বে জড়ো হয়ে জ্ঞানবিষয়ক আলোচনা করতে। এসময় আরও ৩০ জন মুসল্লি তাঁদের পাশে বসে আলোচনা শুনছিল। অবশ্য কিছু লোক ব্যক্তিগত আমল তথা নফল নামাজ ইত্যাদিতে মগ্ন ছিল। (আল জামি লি আখলাকির রাওয়ি; খতিব বাগদাদি, ২/৬৩, মাকতাবাতুল মাআরিফ)
ইবনুল কাসিম (রহ.) বলেন, জুমার দিন ইমাম যখন মিম্বারে চড়েছেন তখন আমি প্রত্যক্ষ করলাম যে, ইমাম মালিক (রহ.) মসজিদের ভেতর এক মজলিশে ছাত্রদের নিয়ে জ্ঞানবিষয়ক আলোচনা করছেন। ইমাম আসার পরই তিনি আলোচনা বন্ধ করে দেননি। বরং ইমাম যখন খুতবার জন্য দাঁড়ালেন তখনই ইমাম মালিক এবং তাঁর শিষ্যগণ ইমামের খুতবার প্রতি মনোযোগী হলেন। ইবনুল কাসিম আরও বলেন, ইমাম মালিক (রহ.) আমাকে অবগত করেছেন যে, পূর্ববর্তী আলেমগণও জুমাবার খুতবার আগে মসজিদে ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। (আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা; আত তানুখি, ১/১৪৮, দারু সাদির)
উপর্যুক্ত সাহাবি, তাবেয়ি ও মুহাদ্দিসগণের জীবনী থেকে উদ্ধৃত সবকটি তথ্যের আলোকে বলা যায় যে, জুমাবার খুতবার আগে ধর্মীয় জ্ঞানবিষয়ক বয়ান বা আলোচনা উম্মাহর নিরবচ্ছিন্ন কর্মপন্থায় চলে আসা একটি বিষয়। সুতরাং এটাকে বেদআত বা নবআবিষ্কৃত বলার কোনো অবকাশ নেই।
আর যে হাদিসে জুমাবার খুতবার পূর্বে বৈঠক করতে নিষেধ করা হয়েছে- সে সম্পর্কে হাদিস ব্যাখ্যাতাগণ স্পষ্ট বলেছেন যে, নিষিদ্ধ বৈঠক বলতে পার্থিব গল্পগুজবের জন্য সমবেত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে। বস্তুত তেমন বৈঠক মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা থেকে বারণ করে এবং হৃদয়কে গাফিল বানিয়ে দেয়। অন্যদিকে একথা বলারও কোনো সুযোগ নেই যে, খুতবার আগে পৃথক বয়ান মুসল্লিদের জন্য ইবাদত থেকে ডিস্টার্বের কারণ হয়। কেননা বয়ানের সঙ্গে প্রত্যেক মসজিদেই সুন্নত আদায়ের সুযোগ থাকে। তাছাড়া এই বয়ানও তো ধর্মীয় জ্ঞানবিষয়ক একটি আলোচনা। সুতরাং এটি ডিস্টার্বের কারণ, বরং মানুষকে ইবাদত ও ইসলামি বিধিবিধান অনুসরণে অনুপ্রাণিত করবার একটি কার্যকরী ও ফলপ্রসূ মাধ্যম। বস্তুত এই আলোচনার দ্বারা বহু মানুষের জীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে- এমন অনেক সাক্ষী আমাদের সমাজে অনায়াসে খোঁজে বের করা যাবে।
সংক্ষিপ্ত এই লেখাটি দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ (২৮.০৯.১৮) পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো।
©® শায়েখ Mahfuz Ahmad হাফিযাহুল্লাহ।
Click here to claim your Sponsored Listing.