24/10/2021
আজকের এই ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘মনোযোগের অভাব’। যেকোনো কাজের উপরই দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখাটা আজকাল হয়ে ওঠে না; সেটা হোক পড়াশোনা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে গল্প-আড্ডা। আর এমনি করে প্রতিনিয়তই আমাদের প্রয়োজনীয় অনেক কিছুর উপর থেকেই ফোকাস হারিয়ে বা কমে যাচ্ছে। কিন্তু জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে এই ফোকাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পড়াশোনা বা যেকোনো কাজে কীভাবে এই ফোকাস বা মনোযোগ ফিরিয়ে আনা যায় তাই থাকছে আজকের এই লেখায়। 😉
🍂 মর্নিং রুটিন (Morning Routine):
সকালে আমরা কখন ঘুম থেকে উঠি এবং কী করি তার উপরেই কিন্তু নির্ভর করে সারাদিন আমরা কতটা প্রোডাক্টিভ থাকতে পারবো এবং পড়াশোনায় কতটা ফোকাস দিতে পারবো। তাই মর্নিং রুটিনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই আগে ঠিক করে নাও সারাদিন কী পড়বে আর কতটা পড়বে। এর ফলে তোমার সামনে নির্দিষ্ট একটা গোল থাকবে আর সেটা কিন্তু তোমাকেই পূরণ করতে হবে। কোনকিছু না ভেবে পড়াশোনা করার চেয়ে রুটিন করে পড়া অনেক বেশি কার্যকরী। আর যখনই তোমার আগে থেকে করে রাখা একটি তালিকা ধীরে ধীরে পূরণ হবে, তোমার আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে যাবে। এর ফলে তোমার PMA (Positive Mental Attitude)-এর বিকাশ ঘটবে। এই PMA যখনই তোমার সারাক্ষণের সঙ্গী হয়ে উঠবে তখন তুমি যেকোনো কাজে অফুরন্ত এনার্জি নিয়ে সেটা করে ফেলতে পারবে। তবে-
সমস্ত রকমের আসক্তি অর্থাৎ টিভি, গেমস, সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি) থেকে সকালের সময়টাতে দূরে থাকতে হবে। কারণ এতে অনেক একটিভ এনার্জি নষ্ট হয়ে যায়, যা সারাদিনে আবার ফিরিয়ে আনাটা অনেক কঠিন। তাই সকালের সময়টাতে এ সমস্ত আসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে, তা না হলে পড়াশোনায় মনোযোগ সহজেই নষ্ট হবে। বিখ্যাত লেখিকা Julie Morgenstern তাঁর ‘NEVER CHECK E-MAIL IN THE MORNING’ বইটিতে একটি জায়গায় বলেছেন,
“যদি তুমি তোমার সকালটা নিখাদ পড়াশোনা দিয়ে শুরু করো তাহলে দিনের বাকি অংশটা মনোযোগ দিয়েই পড়াশোনা করতে পারবে।”
🍂 বি অ্যা কম্পিউটার (Be a Computer):
তুমি তো সকালে উঠে সারাদিনে কী কী পড়বে তার একটি তালিকা তৈরি করে ফেলেছ অর্থাৎ প্লানিং হয়ে গেছে। এর পরের ধাপ হচ্ছে সম্পাদনা অর্থাৎ তালিকা অনুযায়ী সমস্ত কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা। কিন্তু সেটা কীভাবে করবে? এর জন্য তুমি হয়ে যেতে পারো একটি কম্পিউটার! অর্থাৎ কম্পিউটার যেমন একবার অন করলে বন্ধ করার আগ পর্যন্ত সমস্ত নিয়ম মেনে টাস্ক ফলো করে, তেমনি তোমাকেও সেইভাবে কাজ করার অনুশীলন করতে হবে। Cal Newport তাঁর ‘DEEP WORK’ বইতে লিখেছেন,
“High Quality Work Productivity = Time Spent * Intensity of Focus,”
অর্থাৎ দিন শুরু করো সবচেয়ে কঠিন কাজ দিয়ে, কেননা দিনের শুরুর দিকে তোমার ফোকাস লেভেল সবচেয়ে বেশি থাকে। সকালে তুমি প্রথমে ৩০ মিনিট পড়, তারপর ৫ মিনিট ব্রেক নাও। তারপর আবার ৪৫ মিনিট পড়, আবার ব্রেক নাও। তারপর আবার ৬০ মিনিট পড়। আর প্রতিটা নতুন সেশনে আগের সেশনের পড়াগুলো রিভাইস করে নাও।
🍂 রিলাক্স (Relax):
David Allen তাঁর ‘Getting Things Done’ বইতে লিখেছেন,
“Your ability to generate power is directly proportional to your ability to relax.”
দিনের প্রথম তিনটি সেশন শেষ করার পর অবশ্যই রিলাক্স করা উচিত। কিন্তু এই রিলাক্সেসনের সময় টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে যাওয়া যাবে না। কেননা এগুলো নেশার মত, একবার এগুলোর মধ্যে ঢুকে গেলে বেরিয়ে আসা কষ্টকর। তারচেয়ে বাড়ির বাইরে প্রকৃতির মধ্যে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করো কিংবা বারান্দায়ও হাঁটতে পারো।
🍂 ফেক ইট টিল ইউ মেক ইট (FAKE IT, TILL YOU MAKE IT):
উপরের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করার পরেও যদি তুমি নিজের ফোকাস হারিয়ে ফেলো তাহলে কী করবে! মূলত তখনই কাজে আসবে এই পয়েন্টটা; অর্থাৎ এমন ভাব করো যেন তুমি কাজটা করে ফেলেছ। এখন প্রশ্ন হল, এটা কীভাবে এপ্লাই করবে? তোমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয়ের একটি বই খুলে বসো, পাতা ওলটাও, পছন্দের দুয়েক লাইন পড়। এভাবে করতে থাকলে ধীরে ধীরে তোমার পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ আবার ফিরে আসবে।
আর হ্যাঁ, ব্লগটি তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলনা কিন্তু!🙂