26/05/2026
'আপনার সন্তানকে কুরবানির আসল শিক্ষা' দিচ্ছেন তো?
কুরবানির ঈদ চলেই এলো! আমরা সবাই জানি, কুরবানি মানে কেবল পশু জবাই করা নয়, এর আসল অর্থ হলো মহান আল্লাহর ভালোবাসার জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি ত্যাগ করতে পারা। হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর সেই সুমহান ত্যাগের গল্পই আমাদের এই শিক্ষা দেয়।
শিশুদের মনে এই 'ত্যাগের আনন্দ' গেঁথে দেওয়ার এখনই সেরা সময়। সন্তানকে সহজ ভাষায় বোঝান যে, আল্লাহকে খুশি করার জন্য নিজের কোনো প্রিয় জিনিস বা আরাম ছেড়ে দেওয়ার নামই কুরবানি। আজকে সোনামণিকে একটি ছোট চ্যালেঞ্জ দিন— সে যেন তার পছন্দের চকোলেট, খেলনা বা জমানো কোনো জিনিস থেকে ছোট একটি অংশ কোনো সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাসির জন্য উৎসর্গ করে। অথবা ঈদের দিনে নিজের আনন্দের পাশাপাশি অন্য কোনো ভাই-বোনের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের কোনো জিনিস স্যাক্রিফাইজ করে।
নিজের প্রিয় জিনিস আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ছেড়ে দেওয়ার এই অসাধারণ মানবিক ও দ্বীনি শিক্ষাটি চর্চা করার জন্য আজকে আপনার সন্তানের নেক আমলের বক্সে বড় বড় ৩টি মার্বেল জমা করে দিন! শৈশবের এই ত্যাগের শিক্ষাই বড় হয়ে তাকে একজন নিঃস্বার্থ, উদার এবং খাঁটি মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে—ইনশাআল্লাহ।
25/05/2026
ঈদের আর মাত্র বাকি ২ দিন! আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)-এর সাহাবিরা যখন ঈদের দিনে একে অপরের সাথে দেখা করতেন, তখন তারা বলতেন— "তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম" (আল্লাহ আমাদের এবং আপনার পক্ষ থেকে ভালো কাজগুলো কবুল করুন)।
ইসলাম আমাদের শেখায়, যেকোনো উৎসবের আনন্দ সুন্দর শুভেচ্ছা এবং মিষ্টি কথার মাধ্যমে আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়।
শৈশব থেকেই সন্তানদের এই সুন্দর শুভেচ্ছা বিনিময় ও সালামের অভ্যাস করানো অত্যন্ত জরুরি। এটি শিশুদের ভেতরের জড়তা বা লাজুক ভাব দূর করে তাদের আত্মবিশ্বাসী এবং সামাজিক (Socially Smart) করে গড়ে তোলে। আজ আপনার সোনামণিকে এই বিশেষ দুআ বা সুন্দর করে 'ঈদ মোবারক' বলাটি প্র্যাকটিস করান।
তাকে বোঝান যে, ঈদের দিন যখন দাদা-দাদু, নানা-নানু বা আত্মীয়রা বাসায় আসবেন, তখন হাসিমুখে প্রথমে সালাম দিয়ে এই সুন্দর কথাগুলো বলা কত বড় একটি ইবাদত।
মুখের ভাষা মিষ্টি করার এবং অন্যকে সুন্দরভাবে সম্মান জানানোর এই দারুণ অভ্যাসের জন্য আজকে আপনার সন্তানের নেক আমলের বক্সে বড় বড় ৩টি মার্বেল জমা করে দিন!
শৈশবের এই ছোট ছোট আদব ও শিষ্টাচারের চর্চাটুকুই তাকে ভবিষ্যতে একজন মার্জিত ও চমৎকার ব্যক্তিত্বের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে—ইনশাআল্লাহ।
24/05/2026
🧹 সোনামণিকে 'পরিচ্ছন্নতা' শেখাচ্ছেন তো? জিলহজ্জের ৮ম দিনের বিশেষ আমল! ✨
কুরবানির ঈদ দরজায় কড়া নাড়ছে! আমাদের ঘরবাড়িতে এখন ঈদের আমেজ আর দারুণ ব্যস্ততা। আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন— পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা হলো ঈমানের অর্ধেক। তাই এই বরকতময় দিনগুলোতে ঈদের সুন্নাহর প্রস্তুতি হিসেবে নিজের ঘর ও চারপাশ পরিষ্কার রাখা অনেক বড় একটি ইবাদত।
চাইল্ড সাইকোলজি অনুযায়ী, আনন্দের এই উৎসবের আগে শিশুদের ছোট ছোট দায়িত্ব দিলে তাদের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা ও কাজের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ে। আজকে সোনামণিকে সাথে নিয়ে তার নিজের পড়ার টেবিল, বিছানা বা খেলনার ঝুড়িটি সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতে উৎসাহিত করুন। ঈদের দিন সে যে নতুন বা সুন্দর জামাটি পরবে, তার সাথে টুপি ও জায়নামাজটি সুন্নাহ মেনে আগে থেকেই রেডি করার কাজে তাকে ব্যস্ত রাখুন।
নিজের ঘর ও চারপাশ সুন্দরভাবে গোছানোর এই চমৎকার অভ্যাসের জন্য আজকে আপনার সন্তানের নেক আমলের বক্সে বড় বড় ৩টি মার্বেল জমা করে দিতে ভুলবেন না যেন! শৈশবের এই ছোট ছোট দায়িত্ববোধই তাকে ভবিষ্যতে একজন সুশৃঙ্খল ও সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে—ইনশাআল্লাহ।
📢 আজকের প্রশ্ন: আপনার সোনামণি কি ঈদের জন্য তার জামা-কাপড় আর টুপি গুছিয়ে রেডি করে ফেলেছে? কমেন্টে আমাদের জানান! 👇
23/05/2026
🐐 সোনামণিকে 'পশুর প্রতি দয়া' শেখাচ্ছেন তো? জিলহজ্জের ৬য় দিনের বিশেষ আমল! ✨
কুরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে আমাদের ঘরগুলোতে এখন প্রধান আকর্ষণ— কুরবানির পশু! শিশুরা এই সময়ে গরুর যত্ন নেওয়া, ঘাস খাওয়ানো বা হাটে যাওয়া নিয়ে ভীষণ রোমাঞ্চিত থাকে। কিন্তু এই আনন্দের মাঝে শিশুদের মনে পশুটির প্রতি এক গভীর দয়া ও ভালোবাসার অনুভূতি তৈরি করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা: ইসলামে প্রতিটি জীব ও পশুর প্রতি দয়া করার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, "তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন (আল্লাহ) তিনিও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" (সুনানে তিরমিজি)
সহমর্মিতার বিকাশ (Empathy): শিশু যখন একটি পশুর ক্ষুধা বা কষ্টের কথা বুঝতে শেখে এবং নিজ হাতে তাকে খাবার দেয়, তখন তার মনের ভেতরের নিষ্ঠুরতা দূর হয় এবং সে একজন অত্যন্ত দয়ালু ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
🎯 আজ সোনামণিদের জন্য একটি ছোট 'টাস্ক':
১. নিজ হাতে খাওয়ানো: আপনার কুরবানির পশুটি যদি অলরেডি বাসায় এসে থাকে, তবে সন্তানকে সাথে নিয়ে তাকে নিজ হাতে কিছু তাজা ঘাস, পানি বা খড় খাওয়াতে উৎসাহিত করুন।
২. কষ্ট না দেওয়া: শিশুদের বুঝিয়ে বলুন যে উত্যক্ত করা, অহেতুক লাঠি দিয়ে আঘাত করা বা পশুকে ভয় দেখানো একদমই ঠিক নয়। কুরবানির পশুকে যত্নে রাখা অনেক বড় সওয়াবের কাজ।
৩. নেক আমলের বক্স: বোবা একটি পশুর প্রতি এমন সুন্দর ও দয়াশীল আচরণ করার জন্য আজকে তার সওয়াবের জারে দারুণ ৩টি মার্বেল জমা করে দিন!
শৈশবে শেখা এই দয়াশীলতার অভ্যাস কেবল পশুর প্রতি নয়, বড় হয়ে পুরো সমাজের মানুষের প্রতি তার আচরণকে সুন্দর ও মানবিক করে তুলবে—ইনশাআল্লাহ।
📢 আজকের প্রশ্ন: আপনার কুরবানির পশুটি কি বাসায় চলে এসেছে?
22/05/2026
ওজু করা মানে কেবল হাত-মুখ ধোয়া নয়, এটি আমাদের মন ও শরীরকে পবিত্র করার একটি চমৎকার ইবাদত। চাইল্ড সাইকোলজি অনুযায়ী, ওজুর ঠান্ডা পানি শিশুর অতিরিক্ত চঞ্চলতা, রাগ বা জেদ শান্ত করতে দারুণ ম্যাজিকের মতো কাজ করে। জিলহজ্জের এই স্পেশাল দিনগুলোতে এই ছোট ওজুর অভ্যাসটির সওয়াবও কিন্তু বহুগুণ বেশি!
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা: ওজু করার মাধ্যমে একটি শিশুর ছোট ছোট ভুল বা গুনাহগুলো পানির ফোঁটার সাথে ঝরে যায়। তবে নবীজি (সা.) ওজু করার সময় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়েও পানি অপচয় করতে নিষেধ করেছেন।
পরিচ্ছন্নতা ও দায়িত্ববোধ: শৈশব থেকে ওজু করতে শিখলে শিশুর মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা তৈরি হয় এবং প্রকৃতির অন্যতম নেয়ামত 'পানি'র অপচয় না করার সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।
🎯 আজ সোনামণিদের জন্য একটি ছোট 'টাস্ক':
১. ধাপে ধাপে ওজু শেখানো: আজ মাগরিব বা ইশার নামাজের আগে আপনার সন্তানকে সাথে নিয়ে বেসিনে যান। তাকে হাসিমুখে ওজুর প্রতিটি ধাপ (কবজি ধোয়া, কুলি করা, কনুই পর্যন্ত ধোয়া) ধীরে ধীরে ও নিখুঁতভাবে করতে উৎসাহিত করুন।
২. অপচয় রোধের চ্যালেঞ্জ: ওজু করার সময় কল বা ট্যাপ যেন পুরো ছেড়ে না রাখা হয়, তা শিশুকে শেখান। খুব অল্প পানিতে সুন্দর ওজু করার একটি ছোট্ট প্রতিযোগিতা বা চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন।
৩. নেক আমলের বক্স: পানি অপচয় না করে সুন্নাহ মেনে সুন্দরভাবে ওজু শেষ করার জন্য তার সওয়াবের জারে আজকে দারুণ ২টি মার্বেল জমা করে দিন!
শৈশবের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই সন্তানের মনে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা গভীর করবে এবং তাকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে—ইনশাআল্লাহ।
ছবিতে আমাদের স্কুলের ওজু বিষয়ে পাঠদান কালের একাংশ!
21/05/2026
আমাদের কন্যারা কখন নিরাপদ হবে? শুধু আইন নয়, বদলাতে হবে শৈশবের শিক্ষা!
কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই মনটা ভারী হয়ে উঠছে। ছোট্ট রমিশার নির্মম চলে যাওয়া আমাদের আবারও এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমাদের চারপাশের সমাজটা দিন দিন শিশুদের জন্য, বিশেষ করে কন্যাশিশুদের জন্য কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠছে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।
আমরা প্রায়ই অপরাধীর শাস্তি দাবি করি, যা অবশ্যই হওয়া উচিত। কিন্তু একই সাথে সমাজ থেকে হ্যারাসমেন্ট বা এই মানসিক ব্যাধি দূর করতে গোঁড়া থেকে কাজ করতে হবে। আর সেই কাজটা শুরু হতে হবে প্রতিটি পরিবার থেকে, শৈশব থেকে।
১. ছেলেদের 'সম্মান' করা শেখানো: আমাদের পুত্রসন্তানদের শুধু ক্যারিয়ার গড়া নয়, বরং অন্য একটি মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের সম্মান করা শেখাতে হবে। ইসলাম আমাদের শেখায়— একজন প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার হাত এবং মুখ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে।
২. কন্যাদের সচেতনতা ও আত্মরক্ষা: আমাদের কন্যাদের শুধু 'চুপচাপ' বা 'সুবোধ' মেয়ে হিসেবে নয়, বরং শৈশব থেকেই সচেতন ও সাহসী হতে শেখাতে হবে।
শিশুদের বোঝাতে হবে যে চেনা-অচেনা বা আশেপাশের সবাই বন্ধু নয়। কাউকেই অন্ধের মতো বিশ্বাস করা যাবে না।
না' বলতে শেখানো: কেউ জোর করে কোথাও নিয়ে যেতে চাইলে বা কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করলে যেন সে দৃঢ়ভাবে 'না' বলতে পারে এবং সাথে সাথে চিৎকার করে আশেপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে—এই সাহসটি তার মনে গেঁথে দিতে হবে।
৩. দৃষ্টির হেফাজত ও নৈতিকতা: শৈশব থেকেই সন্তানদের মনে 'আল্লাহর ভয়' (তাকওয়া) গেঁথে দিতে হবে। যখন কোনো সন্তান জানবে যে আড়ালে থাকলেও মহান আল্লাহ তাকে দেখছেন, তখন সে কোনো অন্যায় বা হ্যারাসমেন্টের কথা চিন্তাও করতে পারবে না।
৪. 'গুড টাচ-ব্যাড টাচ' ও খোলামেলা যোগাযোগ: সন্তানদের সাথে মা-বাবার সম্পর্ক এতটাই বন্ধুসুলভ হতে হবে যেন যেকোনো অস্বস্তি বা ভয়ের কথা তারা শুরুতেই এসে শেয়ার করতে পারে। তাদের নিরাপদ স্পর্শ ও অনিরাপদ স্পর্শের পার্থক্য স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিন।
আইন অপরাধীকে শাস্তি দিতে পারে, কিন্তু অপরাধী তৈরি হওয়া বন্ধ করতে পারে একমাত্র সঠিক পারিবারিক ও দ্বীনি শিক্ষা। আসুন, আমাদের সন্তানদের এমন নৈতিকতায় গড়ে তুলি যেন আর কোনো রমিশাকে অকালে ঝরে যেতে না হয়।
20/05/2026
স্কুল থেকে ফেরার পর মা খেয়াল করলেন তাহসিনের টিফিন বক্সটা একদম খালি, কিন্তু তার পেটে বেশ খিদে লেগেছে।
মা জিজ্ঞেস করলেন, "কী ব্যাপার তাহসিন? পুরো টিফিনটাই খেয়ে ফেলেছ, তাও এত খিদে লেগেছে যে?"
তাহসিন একটু লজ্জা পেয়ে বলল, "মা, আসলে আজকে ক্লাসে আমার বন্ধু রায়ান টিফিন আনতে ভুলে গিয়েছিল। ও খুব মন খারাপ করে বসে ছিল। তাই আমি আমার টিফিনটা ওর সাথে ভাগ করে (Share) খেয়েছি। আমি কি ভুল করেছি মা?"
মা তাহসিনকে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে নিলেন। তিনি বললেন, "ভুল কেন হবে বাবা? তুমি তো আজকে সবচেয়ে চমৎকার কাজটি করেছ! আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, ইসলামে সবচেয়ে সুন্দর আমলগুলোর একটি হলো অন্যকে খাবার খাওয়ানো। আর এখন তো জিলহজ্জের স্পেশাল ১০ দিন চলছে! এই সময়ে বন্ধুকে খাবার শেয়ার করার কারণে তোমার নেক আমলের বক্সে আজকে ৩টা বড় বড় মার্বেল জমা হবে!"
তাহসিন খুশিতে চোখ বড় বড় করে বলল, "তার মানে মা, নিজের জিনিস অন্যকে দিলে বা শেয়ার করলে আল্লাহ আমাদের ওপর অনেক খুশি হন?"
মা হাসিমুখে বললেন, "একদম তাই! শেয়ার করলে খাবার বা জিনিস কমে না বাবা, বরং তাতে আল্লাহর বরকত আর ভালোবাসা অনেক বেড়ে যায়।"
ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে 'Sharing is Caring' বা ভাগাভাগি করার মানসিকতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। যখন তারা নিজের প্রিয় খাবার বা খেলনা অন্য বন্ধুর সাথে শেয়ার করতে শেখে, তখন তাদের মধ্যে অহংকার দূরক হয় এবং সহমর্মিতা ও উদারতা গড়ে ওঠে।
জিলহজ্জের এই পবিত্র দিনগুলোতে আপনার সন্তানকে উৎসাহিত করুন—সে যেন তার কোনো বন্ধু, ভাই-বোন বা কোনো সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিজের খাবার বা পছন্দের কিছু শেয়ার করে।
20/05/2026
📣 WE ARE HIRING!
আগামীর দ্বীনদার ও স্মার্ট প্রজন্ম গড়ার কারিগর খুঁজছে 'আল ফাতিহা ইন্সটিটিউট' ✨
আপনি কি একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিমা? শিশুদের ভালোবাসেন এবং আধুনিক শিক্ষার সাথে ইসলামিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান? তাহলে এই সুযোগটি আপনারই জন্য!
কক্সবাজারের অন্যতম প্রিমিয়াম দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান Al-Fatiha Institute-এ শূন্যপদে ১ জন দক্ষ ও আন্তরিক Female Assistant Teacher নিয়োগ দেওয়া হবে।
🎯 প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শর্তাবলী (Required Qualifications):
দ্বীনি মানসিকতা: ইসলামিক জ্ঞান ও মূল্যবোধের প্রতি গভীর অনুরাদ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতার বীজ বপন করার মানসিকতা থাকতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে Graduate বা Post Graduate সম্পন্ন হতে হবে।
অভিজ্ঞতা: স্কুল সেক্টরে (School Sector) ন্যূনতম ১ বছরের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
ভাষা দক্ষতা: ইংরেজি ভাষায় চমৎকার দক্ষতা (Excellent proficiency in English) থাকা আবশ্যক।
পোশাকের নিয়ম (Dress Code): স্কুল নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান করতে হবে (নিকাব পরিধানে উৎসাহিত করা হচ্ছে)।
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষ (Salary Negotiable)।
📩 আবেদন করার নিয়ম ও সময়সীমা:
আগ্রহী প্রার্থীদের একটি প্রফেশনাল ও ফরমাল ক্লিয়ার সিভি (CV) এবং কভার লেটারসহ ইমেইল করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
আবেদনের শেষ সময় (Deadline): ২৭শে মে, ২০২৬ (27th May 2026)
ইমেইল এড্রেস: [email protected]
বিশেষ নির্দেশ: ইমেইল করার সময় অবশ্যই Subject Line-এ পদের নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ (Mention Subject Line) করবেন।
যোগদানের তারিখ (Joining From): ১৫ই জুন, ২০২৬ (15th June 2026)
📌 আমাদের ঠিকানা ও যোগাযোগ:
প্রতিষ্ঠান: Al Fatiha Institute
ঠিকানা: কালুর দোকান, টেকপাড়া, কক্সবাজার ৪৭০০ (Kalur Dokan, Tekpara, Cox’s Bazar 4700)
যোগাযোগ: 01611477441
একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং বরকতময় পরিবেশে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আজই আপনার আবেদনটি পাঠিয়ে দিন।
19/05/2026
স্কুল থেকে ফিরেই ৮ বছরের আরীফ তার বড় আর্ট পেপার আর রং পেন্সিল নিয়ে মেঝেতে বসে গেল। সে খুব মনোযোগ দিয়ে একটা বড় কাবা শরিফ, পাহাড় আর ছোট ছোট তাঁবুর ছবি আঁকছিল।
তার বাবা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "আরে আরীফ! তুমি এত সুন্দর কিসের মানচিত্র আঁকছো?"
আরীফ খুশিতে চোখ বড় বড় করে বলল, "বাবা! এটা কোনো সাধারণ মানচিত্র নয়, এটা হলো হজ্জের মানচিত্র! আজকে ক্লাসে আমাদের উস্তাদজি বলছিলেন— জিলহজ্জ মাসে সারা পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান আল্লাহর ঘরে হজ্জ করতে যান। তারা মিনায় তাঁবুতে থাকেন, আরাফাতের মাঠে দুআ করেন, আর সাফা-মারওয়া পাহাড়ে ছোটেন।"
বাবা আরীফের পাশে বসে পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললেন, "মাশাআল্লাহ আরীফ! তুমি তো হজ্জের নিয়মগুলো চমৎকারভাবে এঁকে ফেলেছ। তুমি কি জানো, হজ্জ হলো ইসলামের অন্যতম একটি স্তম্ভ? আর আমাদের নবীজি (সা.) হজ্জের প্রতিটি নিয়ম আমাদের খুব সুন্দর করে শিখিয়েছেন।"
আরীফ তার আঁকা পোস্টারটি দেখিয়ে বলল, "বাবা, আমি এই ছবিগুলো আমার ঘরের দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখব। যাতে এই জিলহজ্জের দিনগুলোতে আমি যখনই এই মানচিত্র দেখব, তখনই আল্লাহর ঘরের কথা মনে পড়বে আর আমার নেক আমলের বক্সে বড় একটা মার্বেল জমা হবে!"
শিশুদের শুধু মুখে মুখে ইতিহাস বা নিয়ম না শিখিয়ে, যদি Visual Chart বা পোস্টার আঁকার মাধ্যমে কোনো বড় বিষয় (যেমন হজ্জের সফর) বোঝানো যায়, তবে তাদের মনে সেই ইবাদতের প্রতি এক গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।
এই জিলহজ্জের দিনগুলোতে আপনার সন্তানকে নিয়ে হজ্জের ওপর এমন একটি ছোট চার্ট বা পোস্টার বানিয়ে ঘরের দেওয়ালে টাঙিয়ে দিতে পারেন।
এটি শিশুর সৃজনশীলতা (Creativity) বাড়াবে এবং ইসলামের এই সুন্দর ইবাদতটির প্রতি তার হৃদয়ে এক বিশেষ ভালোবাসা তৈরি করবে—ইনশাআল্লাহ।
18/05/2026
স্কুল থেকে ফিরেই ৭ বছরের সাদ দেখল তার ঘরের টেবিলে মা সুন্দর একটা খালি কাঁচের জার বা বয়াম রেখেছেন, যার গায়ে লেখা— "সাদের নেক আমলের বক্স"। পাশে রাখা এক মুঠো রঙিন মার্বেল।
সাদ কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল, "মা, এটা দিয়ে কী হবে?"
মা হাসিমুখে সাদকে কাছে টেনে নিলেন। তিনি বললেন, "সাদ, তুমি কি জানো আজ থেকে ইসলামিক বছরের সবচেয়ে স্পেশাল ১০টা দিন শুরু হয়েছে? এটাকে বলে জিলহজ্জ মাস। আমাদের নবীজি (সা.) বলেছেন, এই ১০ দিনে আমরা যত ভালো কাজ করব, আল্লাহ তার জন্য অনেক অনেক বেশি সওয়াব দেবেন! এটা যেন সওয়াবের একটা বোনাস অফার!"
সাদ চোখ বড় বড় করে বলল, "তাই মা? কিন্তু আমি তো ছোট, আমি কীভাবে এত সওয়াব পাব?"
মা বললেন, "খুব সহজ! এই ১০ দিন আমরা মুখে সারাক্ষণ জিকির করব। তুমি যখনই একবার বলবে 'সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ' বা 'আল্লাহু আকবার', তখনই এই জারে একটা করে রঙিন মার্বেল জমা হবে। দেখি জিলহজ্জের শেষে তোমার জাদুর বক্সটা কতখানি ভরে!"
সাদ খুশিতে তালি দিয়ে তখনি বলে উঠল— "আলহামদুলিল্লাহ!" আর মা হাসিমুখে প্রথম মার্বেলটি জারে ফেলে দিলেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) জিলহজ্জের এই প্রথম ১০ দিনে বেশি বেশি তসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলার নির্দেশ দিয়েছেন (মুসনাদে আহমাদ)।
শিশুদের শুধু "ইবাদত করো" না বলে, সাদের মায়ের মতো এমন কোনো Visual Activity বা খেলার ছলে অভ্যস্ত করালে তারা দ্বীনের কাজ খুব আনন্দের সাথে লুফে নেয়। আজ থেকেই আপনার সোনামণিকে জিকিরের এই সহজ অভ্যাসটি ধরিয়ে দিন।