12/07/2026
১৯৯৫ সালের জুলাই মাস। ইউরোপের হৃদয়ে, বলকান অঞ্চলের ছোট্ট শহর সারব্রেনিকা ততদিনে যুদ্ধ ও শরণার্থীর ঢল–এ বিপর্যস্ত। বসনিয়ান যুদ্ধের তৃতীয় বছর চলছে। জাতিসংঘ একে ঘোষণা করেছিল “সেফ এরিয়া” – নিরাপদ অঞ্চল। এখানে আশ্রয় নিয়েছিল হাজার হাজার মুসলিম বেসামরিক মানুষ – নারী, শিশু, বৃদ্ধ, এবং কিশোর।
যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বাঁচতে তাদের ভরসা ছিল সেই নীল হেলমেট–জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী। নেদারল্যান্ডস ব্যাটালিয়নের (Dutchbat) সেনারা সেখানে মোতায়েন ছিল শরণার্থীদের রক্ষা করতে।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, সেই “নিরাপদ অঞ্চল” ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার মঞ্চ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে এমন নৃশংস গণহত্যা আর কখনো ঘটেনি। যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের পর চলা বসনীয় যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তে, বসনীয় সার্ব বাহিনী মাত্র কয়েক দিনে আট হাজারেরও বেশি বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে পরিবার থেকে আলাদা করে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। জাতিসংঘের 'নিরাপদ এলাকা' বলে ঘোষিত সেব্রেনিকা শহরে সংঘটিত এই গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICTY) এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়পালনা আদালত (ICJ) — দুটি শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থাই আনুষ্ঠানিকভাবে 'গণহত্যা' (জেনোসাইড) বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেব্রেনিকার এই ট্র্যাজেডি কেবল সেসময়ের বসনীয়দের জীবনে নয়, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ব্যবস্থা, মানবাধিকার আইন এবং বিশ শতকের শেষভাগে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী কালো দাগ হয়ে রয়ে গেছে।
১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা স্বাধীনতা ঘোষণা করলে দেশটির তিনটি প্রধান জাতিগোষ্ঠী — বসনীয় সার্ব, বসনীয় মুসলিম (বোসনিয়াক) এবং বসনীয় ক্রোয়াট — এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বসনীয় সার্ব বাহিনী (Vojska Republike Srpske, সংক্ষেপে VRS) পূর্ব বসনিয়ায় বসনীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এক তীব্র সাম্প্রদায়িক পরিষ্কার (ethnic cleansing) অভিযান পরিচালনা করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভৌগোলিকভাবে সার্ব-অধ্যুষিত একটি সমগ্র ভূখণ্ড গঠন করে পার্শ্ববর্তী সার্বিয়ার সাথে সংযুক্ত করা। ১৯৯২ সালের শেষভাগে সেব্রেনিকা শহর বসনীয় সেনাবাহিনী (ARBiH) নিয়ন্ত্রিত একটি ছোট ঘেরাটিতে পরিণত হয়, যেখানে আশেপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার বসনীয় মুসলিম আশ্রয় নেয়। ঘেরাটোর অবস্থা ছিল ভয়াবহ — সেখানে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, ওষুধ ও মৌলিক সুবিধার তীব্র অভাব ছিল এবং জনসংখ্যা ছিল অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ।
এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ১৯৯৩ সালের ১৬ এপ্রিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ৮১৯ নম্বর প্রস্তাব পাস করে সেব্রেনিকা এবং এর আশপাশের ৩০ বর্গমাইল এলাকাকে 'জাতিসংঘের নিরাপদ এলাকা' (UN Safe Area) হিসেবে ঘোষণা করে। দুই দিন পর, ১৮ এপ্রিল, একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং জাতিসংঘ সুরক্ষা বাহিনী (UNPROFOR) সেব্রেনিকায় তাদের কমান্ড সেন্টার এবং শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে পোটোচারিতে একটি বড় ঘাঁটি স্থাপন করে। নেদারল্যান্ডসের সৈন্যদের নিয়ে গঠিত ডাচব্যাট (Dutchbat) নামে পরিচিত এই বাহিনী প্রায় ৪৫০ জন সৈন্য নিয়ে সেব্রেনিকায় মোতায়েন হয়। কিন্তু এই 'সুরক্ষা' কার্যত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল — ডাচব্যাটের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র, জনবল ও যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। বসনীয় সার্ব বাহিনী নিয়মিতভাবে এই নিরাপদ এলাকায় প্রবেশ করত, বাসিন্দাদের হয়রানি করত এবং মাঝে মাঝে গুলি চালাত।
১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে স্ব-ঘোষিত রিপাবলিকা স্রপস্কার প্রেসিডেন্ট এবং বসনীয় সার্ব বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাডোভান কারাদজিক সার্ব বাহিনীকে এক নির্দেশনা জারি করেন, যা 'নির্দেশনা ৭' (Directive 7) নামে পরিচিত। এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে 'সেব্রেনিকার বাসিন্দাদের জন্য আর কোনো টিকে থাকার বা জীবনের আশা না রেখে এমন একটি অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি করতে হবে'। অর্থাৎ পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছিল যে শহরটির পুরো মুসলিম জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া বা ধ্বংস করার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মে মাস নাগাদ বসনীয় সার্ব সৈন্যরা খাদ্য ও অন্যান্য সরবরাহের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সেব্রেনিকার বেশিরভাগ মুসলিম যোদ্ধা শহর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
জুন মাসের শেষে বসনীয় সার্ব সামরিক কমান্ড 'ক্রিভাজা ৯৫' (Krivaja 95) নামে এক সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করে। এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেব্রেনিকা ও এর আশেপাশের নিরাপদ এলাকাগুলো দখল করা। ক্রিভাজা ৯৫-এর সামরিক নেতৃত্বে ছিলেন বসনীয় সার্ব বাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল রাটকো ম্লাদিচ — যিনি পরবর্তীতে 'বসনিয়ার কসাই' (Butcher of Bosnia) নামে পরিচিত হন।
১৯৯৫ সালের ৬ জুলাই ক্রিভাজা ৯৫ অভিযান শুরু হয়। দক্ষিণ দিক থেকে বসনীয় সার্ব বাহিনী অগ্রসর হতে থাকে, পথে বসনীয় মুসলিমদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ৮ জুলাই সকালে সার্ব সৈন্যরা জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র 'ফক্সট্রট' দখল করে নেয়। একই দিন বিকেলে বসনীয় সাধারণ মানুষ ডাচব্যাট সৈন্যদের থামিয়ে দেয় এবং তারা ঘেরাটো রক্ষায় থাকার দাবি জানায়। এক বিশৃঙ্খল মুহূর্তে একজন বেসামরিক ব্যক্তি ডাচব্যাটের একটি ঘাঁটিতে হাতবোমা ছুঁড়ে মারে, ফলে একজন ডাচ সৈন্য নিহত হন।
৯ জুলাই সার্ব বাহিনীর ক্রমাগত গোলাবর্ষণের মুখে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ সেব্রেনিকা শহর থেকে পোটোচারির দিকে পালাতে থাকে। ১০ জুলাই ডাচব্যাটের কমান্ডার কর্নেল কাররেমানস জাতিসংঘের ফ্রান্সি কমান্ডার জেনারেল বার্ত্রঁ জঁভিয়েকে আকাশ পথে সহায়তার (এয়ার সাপোর্ট) জন্য জরুরি অনুরোধ জানান, কিন্তু জেনারেল জঁভিয়ে শুরুতে এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
১১ জুলাই সকালে কর্নেল কাররেমানসকে জানানো হয় যে তাঁর আকাশ পথে সহায়তার অনুরোধ ভুল ফর্মে দাখিল করা হয়েছে এবং তা পুনরায় সঠিক ফর্মে দাখিল করতে হবে — এই বিলম্বের কারণে ইতালিতে ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত থাকা ন্যাটো বিমানগুলো জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়। ১১ জুলাই বেলা ১১টায় ২০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ — নারী, শিশু, অসুস্থ ও বৃদ্ধরা — পোটোচারির দিকে পালিয়ে যায়। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে জেনারেল জঁভিয়ে অবশেষে আকাশ পথে সহায়তা অনুমোদন করেন, কিন্তু ততক্ষণে তিন ঘণ্টা দেরি হয়ে গেছে। বিকেল ২টা ৪০ মিনিটে দুটি ডাচ এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বসনীয় সার্ব অবস্থানের উপর মাত্র দুটি বোমা ফেলে। এরপর সার্বরা ডাচ জিম্মিদের হত্যার হুমকি দেয় এবং শরণার্থীদের ওপর গোলাবর্ষণ শুরু করে, ফলে আর কোনো বিমান হামলা চালানো হয়নি।
১১ জুলাই বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে জেনারেল রাটকো ম্লাদিচ চিত্তবিনোদনমূলকভাবে অন্যান্য সাংবাদিক ও ক্যামেরার সামনে সেব্রেনিকা শহরে প্রবেশ করেন এবং ঘোষণা করেন: 'আমরা এই শহরটি সার্ব জাতিকে উপহার দিচ্ছি। মুসলিমদের প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এসেছে।' বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ডাচব্যাটের পোটোচারি ঘাঁটি পূর্ণ হয়ে যায় এবং বাইরে আটকে পড়া ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ কারখানা ও মাঠে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সন্ধ্যায় জেনারেল ম্লাদিচ কর্নেল কাররেমানসকে একটি বৈঠকে ডেকে পাঠান এবং সব অস্ত্র সমর্পণের দাবি জানান। মধ্যরাতে প্রায় ১৫ হাজার পুরুষ শহর ছেড়ে পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে তুজলা পর্যন্ত ৬৩ মাইলের এক বিপজ্জনক যাত্রা শুরু করে — এটিই 'দ্য কলাম' (The Column) নামে পরিচিত।
১২ জুলাই সকালে ইব্রাহিম নুহানোভিচ নামে একজন স্থানীয় বসনীয় মুসলিম প্রতিনিধিকে ম্লাদিচের সামনে হাজির করা হয়। ম্লাদিচ তাঁকে বলেন: 'আপনার মানুষদের মরতে হবে না। আপনার স্বামী, ভাই বা প্রতিবেশীদেরও না। শুধু সিদ্ধান্ত নিন আপনি কী করতে চান। আপনি বেঁচে থাকতে পারেন বা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারেন।' একই দিন দুপুরে ম্লাদিচ শরণার্থীদের মাঝে ঘুরে আশ্বাস দেন যে নারী ও শিশুদের আগে পাঠানো হবে, কিন্তু বাস্তবে বসনীয় সার্ব বাহিনী ১২ থেকে ৭৭ বছর বয়সী সকল পুরুষকে পরিবার থেকে আলাদা করতে শুরু করে। এই পুরুষদের একটি বড় বাড়িতে একে একে নিয়ে যাওয়া হয় 'জিজ্ঞাসাবাদের' জন্য। একজন ডাচব্যাট সৈন্য নিজ চোখে দেখেন একজন বেসামরিক ব্যক্তিকে বাড়ির পেছনে দেয়ালে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। পরবর্তী ৩০ ঘণ্টায় প্রায় ২৩ হাজার নারী ও শিশুকে বাসে করে বসনীয় মুসলিম নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পাঠানো হয় — এবং জাতিসংঘ এই বাসের জ্বালানির খরচও বহন করে।
১২ জুলাই সন্ধ্যায় পুরুষদের বহনকারী বাসগুলো ব্রাতুনাক, ভ্লাসেনিকা, ক্রাভিচা, করাকাজ, ওরাহোভাক, সেরস্কা উপত্যকা এবং পিলিকা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এই স্থানগুলোর মধ্যে ছিল ব্রাতুনাকের একটি ফুটবল মাঠ, ক্রাভিচার একটি গুদামঘর, ওরাহোভাকের একটি স্কুল এবং ব্রাঞ্জেভো গ্রামের একটি রাষ্ট্রীয় খামার। এসব স্থানে পদ্ধতিগতভাবে পুরুষ ও কিশোরদের নির্যাতন, নিরস্ত্র করে হত্যা করা হয়। ভুক্তভোগীদের অনেকের হাত-পা বাঁধা ছিল, অনেককে আগে থেকে কাটা ছিল বা চোখে বাঁধা দেওয়া হয়েছিল এবং অনেকের দেহে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। ১৩ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত এই হত্যাযজ্ঞ চলে। সার্ব বাহিনী চুরি করা জাতিসংঘের সরঞ্জাম ব্যবহার করে শান্তিরক্ষীর ছদ্মবেশে পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়া পুরুষদের সারেন্ডারের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে।
১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৮,৩৭২ জন বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে পদ্ধতিগতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ১৬ জুলাই ব্রাঞ্জেভো খামারে কয়েকশত মানুষকে হত্যা করা হয়, এবং এই হত্যায় সার্বিয়া পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিটের ভিডিও ধারণকৃত অংশগ্রহণ পরবর্তীতে আবিষ্কৃত হয়। বেঁচে যাওয়া কয়েক হাজার মানুষ পাঁচ দিন ধরে পাহাড়ে পালিয়ে ১৬ জুলাই শেষে তুজলায় পৌঁছান।
এই গণহত্যার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল সাক্ষ্য ধ্বংসের চেষ্টা। হত্যার পর সার্ব বাহিনী লক্ষ লক্ষ মৃতদেহ প্রাথমিক গণকবর থেকে উঠিয়ে দূরবর্তী স্থানে স্থানান্তরিত করে এবং পুনরায় সমাহিত করে — এগুলোকে 'মাধ্যমিক' ও 'তৃতীয় স্তরের' গণকবর বলা হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল এতটাই পরিশীলিত যে একই মৃতদেহ একাধিকবার সরানো হয়েছিল।
২১ জুলাই সকালে জাতিসংঘ ও বসনীয় সার্বদের মধ্যে আলোচনার পর ডাচব্যাট সৈন্যরা সেব্রেনিকা ছাড়ার অনুমতি পান। জেনারেল ম্লাদিচ কর্নেল কাররেমানসের সাথে হাসিমুখে বিদায় সংবর্ধনা জানান, উপহারও দেন। এটি ছিল প্রকৃত অর্থে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের এক ভয়াবহ পরাজয়। সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কোফি আনান ১৯৯৯ সালে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় স্বীকার করেন: 'ভুল, বিচারে ভুল এবং আমাদের সামনে যে মন্দ আছে তার পরিধি চিনতে না পেরে আমরা সেব্রেনিকার মানুষদের বসনীয় সার্বদের গণহত্যা অভিযান থেকে রক্ষা করতে আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি।১৯৯৫ সালের জুলাই মাস। ইউরোপের হৃদয়ে, বলকান অঞ্চলের ছোট্ট শহর সারব্রেনিকা ততদিনে যুদ্ধ ও শরণার্থীর ঢল–এ বিপর্যস্ত। বসনিয়ান যুদ্ধের তৃতীয় বছর চলছে। জাতিসংঘ একে ঘোষণা করেছিল “সেফ এরিয়া” – নিরাপদ অঞ্চল। এখানে আশ্রয় নিয়েছিল হাজার হাজার মুসলিম বেসামরিক মানুষ – নারী, শিশু, বৃদ্ধ, এবং কিশোর।
যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বাঁচতে তাদের ভরসা ছিল সেই নীল হেলমেট–জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী। নেদারল্যান্ডস ব্যাটালিয়নের (Dutchbat) সেনারা সেখানে মোতায়েন ছিল শরণার্থীদের রক্ষা করতে।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, সেই “নিরাপদ অঞ্চল” ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার মঞ্চ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে এমন নৃশংস গণহত্যা আর কখনো ঘটেনি। যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের পর চলা বসনীয় যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তে, বসনীয় সার্ব বাহিনী মাত্র কয়েক দিনে আট হাজারেরও বেশি বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে পরিবার থেকে আলাদা করে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। জাতিসংঘের 'নিরাপদ এলাকা' বলে ঘোষিত সেব্রেনিকা শহরে সংঘটিত এই গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICTY) এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়পালনা আদালত (ICJ) — দুটি শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থাই আনুষ্ঠানিকভাবে 'গণহত্যা' (জেনোসাইড) বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেব্রেনিকার এই ট্র্যাজেডি কেবল সেসময়ের বসনীয়দের জীবনে নয়, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ব্যবস্থা, মানবাধিকার আইন এবং বিশ শতকের শেষভাগে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী কালো দাগ হয়ে রয়ে গেছে।
১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা স্বাধীনতা ঘোষণা করলে দেশটির তিনটি প্রধান জাতিগোষ্ঠী — বসনীয় সার্ব, বসনীয় মুসলিম (বোসনিয়াক) এবং বসনীয় ক্রোয়াট — এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বসনীয় সার্ব বাহিনী (Vojska Republike Srpske, সংক্ষেপে VRS) পূর্ব বসনিয়ায় বসনীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এক তীব্র সাম্প্রদায়িক পরিষ্কার (ethnic cleansing) অভিযান পরিচালনা করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভৌগোলিকভাবে সার্ব-অধ্যুষিত একটি সমগ্র ভূখণ্ড গঠন করে পার্শ্ববর্তী সার্বিয়ার সাথে সংযুক্ত করা। ১৯৯২ সালের শেষভাগে সেব্রেনিকা শহর বসনীয় সেনাবাহিনী (ARBiH) নিয়ন্ত্রিত একটি ছোট ঘেরাটিতে পরিণত হয়, যেখানে আশেপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার বসনীয় মুসলিম আশ্রয় নেয়। ঘেরাটোর অবস্থা ছিল ভয়াবহ — সেখানে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, ওষুধ ও মৌলিক সুবিধার তীব্র অভাব ছিল এবং জনসংখ্যা ছিল অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ।
এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ১৯৯৩ সালের ১৬ এপ্রিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ৮১৯ নম্বর প্রস্তাব পাস করে সেব্রেনিকা এবং এর আশপাশের ৩০ বর্গমাইল এলাকাকে 'জাতিসংঘের নিরাপদ এলাকা' (UN Safe Area) হিসেবে ঘোষণা করে। দুই দিন পর, ১৮ এপ্রিল, একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং জাতিসংঘ সুরক্ষা বাহিনী (UNPROFOR) সেব্রেনিকায় তাদের কমান্ড সেন্টার এবং শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে পোটোচারিতে একটি বড় ঘাঁটি স্থাপন করে। নেদারল্যান্ডসের সৈন্যদের নিয়ে গঠিত ডাচব্যাট (Dutchbat) নামে পরিচিত এই বাহিনী প্রায় ৪৫০ জন সৈন্য নিয়ে সেব্রেনিকায় মোতায়েন হয়। কিন্তু এই 'সুরক্ষা' কার্যত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল — ডাচব্যাটের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র, জনবল ও যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। বসনীয় সার্ব বাহিনী নিয়মিতভাবে এই নিরাপদ এলাকায় প্রবেশ করত, বাসিন্দাদের হয়রানি করত এবং মাঝে মাঝে গুলি চালাত।
১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে স্ব-ঘোষিত রিপাবলিকা স্রপস্কার প্রেসিডেন্ট এবং বসনীয় সার্ব বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাডোভান কারাদজিক সার্ব বাহিনীকে এক নির্দেশনা জারি করেন, যা 'নির্দেশনা ৭' (Directive 7) নামে পরিচিত। এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে 'সেব্রেনিকার বাসিন্দাদের জন্য আর কোনো টিকে থাকার বা জীবনের আশা না রেখে এমন একটি অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি করতে হবে'। অর্থাৎ পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছিল যে শহরটির পুরো মুসলিম জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া বা ধ্বংস করার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মে মাস নাগাদ বসনীয় সার্ব সৈন্যরা খাদ্য ও অন্যান্য সরবরাহের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সেব্রেনিকার বেশিরভাগ মুসলিম যোদ্ধা শহর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
জুন মাসের শেষে বসনীয় সার্ব সামরিক কমান্ড 'ক্রিভাজা ৯৫' (Krivaja 95) নামে এক সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করে। এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেব্রেনিকা ও এর আশেপাশের নিরাপদ এলাকাগুলো দখল করা। ক্রিভাজা ৯৫-এর সামরিক নেতৃত্বে ছিলেন বসনীয় সার্ব বাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল রাটকো ম্লাদিচ — যিনি পরবর্তীতে 'বসনিয়ার কসাই' (Butcher of Bosnia) নামে পরিচিত হন।
১৯৯৫ সালের ৬ জুলাই ক্রিভাজা ৯৫ অভিযান শুরু হয়। দক্ষিণ দিক থেকে বসনীয় সার্ব বাহিনী অগ্রসর হতে থাকে, পথে বসনীয় মুসলিমদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ৮ জুলাই সকালে সার্ব সৈন্যরা জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র 'ফক্সট্রট' দখল করে নেয়। একই দিন বিকেলে বসনীয় সাধারণ মানুষ ডাচব্যাট সৈন্যদের থামিয়ে দেয় এবং তারা ঘেরাটো রক্ষায় থাকার দাবি জানায়। এক বিশৃঙ্খল মুহূর্তে একজন বেসামরিক ব্যক্তি ডাচব্যাটের একটি ঘাঁটিতে হাতবোমা ছুঁড়ে মারে, ফলে একজন ডাচ সৈন্য নিহত হন।
৯ জুলাই সার্ব বাহিনীর ক্রমাগত গোলাবর্ষণের মুখে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ সেব্রেনিকা শহর থেকে পোটোচারির দিকে পালাতে থাকে। ১০ জুলাই ডাচব্যাটের কমান্ডার কর্নেল কাররেমানস জাতিসংঘের ফ্রান্সি কমান্ডার জেনারেল বার্ত্রঁ জঁভিয়েকে আকাশ পথে সহায়তার (এয়ার সাপোর্ট) জন্য জরুরি অনুরোধ জানান, কিন্তু জেনারেল জঁভিয়ে শুরুতে এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
১১ জুলাই সকালে কর্নেল কাররেমানসকে জানানো হয় যে তাঁর আকাশ পথে সহায়তার অনুরোধ ভুল ফর্মে দাখিল করা হয়েছে এবং তা পুনরায় সঠিক ফর্মে দাখিল করতে হবে — এই বিলম্বের কারণে ইতালিতে ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত থাকা ন্যাটো বিমানগুলো জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়। ১১ জুলাই বেলা ১১টায় ২০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ — নারী, শিশু, অসুস্থ ও বৃদ্ধরা — পোটোচারির দিকে পালিয়ে যায়। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে জেনারেল জঁভিয়ে অবশেষে আকাশ পথে সহায়তা অনুমোদন করেন, কিন্তু ততক্ষণে তিন ঘণ্টা দেরি হয়ে গেছে। বিকেল ২টা ৪০ মিনিটে দুটি ডাচ এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বসনীয় সার্ব অবস্থানের উপর মাত্র দুটি বোমা ফেলে। এরপর সার্বরা ডাচ জিম্মিদের হত্যার হুমকি দেয় এবং শরণার্থীদের ওপর গোলাবর্ষণ শুরু করে, ফলে আর কোনো বিমান হামলা চালানো হয়নি।
১১ জুলাই বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে জেনারেল রাটকো ম্লাদিচ চিত্তবিনোদনমূলকভাবে অন্যান্য সাংবাদিক ও ক্যামেরার সামনে সেব্রেনিকা শহরে প্রবেশ করেন এবং ঘোষণা করেন: 'আমরা এই শহরটি সার্ব জাতিকে উপহার দিচ্ছি। মুসলিমদের প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এসেছে।' বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ডাচব্যাটের পোটোচারি ঘাঁটি পূর্ণ হয়ে যায় এবং বাইরে আটকে পড়া ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ কারখানা ও মাঠে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সন্ধ্যায় জেনারেল ম্লাদিচ কর্নেল কাররেমানসকে একটি বৈঠকে ডেকে পাঠান এবং সব অস্ত্র সমর্পণের দাবি জানান। মধ্যরাতে প্রায় ১৫ হাজার পুরুষ শহর ছেড়ে পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্য দিয়ে তুজলা পর্যন্ত ৬৩ মাইলের এক বিপজ্জনক যাত্রা শুরু করে — এটিই 'দ্য কলাম' (The Column) নামে পরিচিত।
১২ জুলাই সকালে ইব্রাহিম নুহানোভিচ নামে একজন স্থানীয় বসনীয় মুসলিম প্রতিনিধিকে ম্লাদিচের সামনে হাজির করা হয়। ম্লাদিচ তাঁকে বলেন: 'আপনার মানুষদের মরতে হবে না। আপনার স্বামী, ভাই বা প্রতিবেশীদেরও না। শুধু সিদ্ধান্ত নিন আপনি কী করতে চান। আপনি বেঁচে থাকতে পারেন বা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারেন।' একই দিন দুপুরে ম্লাদিচ শরণার্থীদের মাঝে ঘুরে আশ্বাস দেন যে নারী ও শিশুদের আগে পাঠানো হবে, কিন্তু বাস্তবে বসনীয় সার্ব বাহিনী ১২ থেকে ৭৭ বছর বয়সী সকল পুরুষকে পরিবার থেকে আলাদা করতে শুরু করে। এই পুরুষদের একটি বড় বাড়িতে একে একে নিয়ে যাওয়া হয় 'জিজ্ঞাসাবাদের' জন্য। একজন ডাচব্যাট সৈন্য নিজ চোখে দেখেন একজন বেসামরিক ব্যক্তিকে বাড়ির পেছনে দেয়ালে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। পরবর্তী ৩০ ঘণ্টায় প্রায় ২৩ হাজার নারী ও শিশুকে বাসে করে বসনীয় মুসলিম নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পাঠানো হয় — এবং জাতিসংঘ এই বাসের জ্বালানির খরচও বহন করে।
১২ জুলাই সন্ধ্যায় পুরুষদের বহনকারী বাসগুলো ব্রাতুনাক, ভ্লাসেনিকা, ক্রাভিচা, করাকাজ, ওরাহোভাক, সেরস্কা উপত্যকা এবং পিলিকা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এই স্থানগুলোর মধ্যে ছিল ব্রাতুনাকের একটি ফুটবল মাঠ, ক্রাভিচার একটি গুদামঘর, ওরাহোভাকের একটি স্কুল এবং ব্রাঞ্জেভো গ্রামের একটি রাষ্ট্রীয় খামার। এসব স্থানে পদ্ধতিগতভাবে পুরুষ ও কিশোরদের নির্যাতন, নিরস্ত্র করে হত্যা করা হয়। ভুক্তভোগীদের অনেকের হাত-পা বাঁধা ছিল, অনেককে আগে থেকে কাটা ছিল বা চোখে বাঁধা দেওয়া হয়েছিল এবং অনেকের দেহে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। ১৩ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত এই হত্যাযজ্ঞ চলে। সার্ব বাহিনী চুরি করা জাতিসংঘের সরঞ্জাম ব্যবহার করে শান্তিরক্ষীর ছদ্মবেশে পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়া পুরুষদের সারেন্ডারের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে।
১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৮,৩৭২ জন বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে পদ্ধতিগতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ১৬ জুলাই ব্রাঞ্জেভো খামারে কয়েকশত মানুষকে হত্যা করা হয়, এবং এই হত্যায় সার্বিয়া পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিটের ভিডিও ধারণকৃত অংশগ্রহণ পরবর্তীতে আবিষ্কৃত হয়। বেঁচে যাওয়া কয়েক হাজার মানুষ পাঁচ দিন ধরে পাহাড়ে পালিয়ে ১৬ জুলাই শেষে তুজলায় পৌঁছান।
এই গণহত্যার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল সাক্ষ্য ধ্বংসের চেষ্টা। হত্যার পর সার্ব বাহিনী লক্ষ লক্ষ মৃতদেহ প্রাথমিক গণকবর থেকে উঠিয়ে দূরবর্তী স্থানে স্থানান্তরিত করে এবং পুনরায় সমাহিত করে — এগুলোকে 'মাধ্যমিক' ও 'তৃতীয় স্তরের' গণকবর বলা হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল এতটাই পরিশীলিত যে একই মৃতদেহ একাধিকবার সরানো হয়েছিল।
২১ জুলাই সকালে জাতিসংঘ ও বসনীয় সার্বদের মধ্যে আলোচনার পর ডাচব্যাট সৈন্যরা সেব্রেনিকা ছাড়ার অনুমতি পান। জেনারেল ম্লাদিচ কর্নেল কাররেমানসের সাথে হাসিমুখে বিদায় সংবর্ধনা জানান, উপহারও দেন। এটি ছিল প্রকৃত অর্থে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের এক ভয়াবহ পরাজয়। সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কোফি আনান ১৯৯৯ সালে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় স্বীকার করেন: 'ভুল, বিচারে ভুল এবং আমাদের সামনে যে মন্দ আছে তার পরিধি চিনতে না পেরে আমরা সেব্রেনিকার মানুষদের বসনীয় সার্বদের গণহত্যা অভিযান থেকে রক্ষা করতে আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি।