20/08/2026
একসময় আমাদের #সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্হানীয় মালিকানাধীন যথেষ্ট পরিমাণ কৃষি জমি ছিলো। সে সময় নিজেদের জমিতে ইচ্ছেমতো পর্যায়ক্রমভাবে ধান, আলু, মিষ্টি আলু, পেয়াজ, তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, টমেটো, মরিচ ইত্যাদি চাষ করতো।
বিশেষ করে, ধান চাষ করে পরিবারের জন্য ১ বছরের চাউল মজুদ করে রেখে অবশিষ্ট চাউল বিক্রি করে তেল, ডাল, আদা ও রসুন ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুদ করে রাখতো। ফলে, ১টা বছর অনায়াসে চলে যেতো।
২/১ টা ঝাঁকি জাল থাকতো, তা দিয়ে সাগরের তীরে অথবা হ্রদে (মরংয়ের ছড়া) ঘন্টা খানেক পরিশ্রম করলে মুটামুটি ৩ বেলার তরকারি পরিমাণ মাছের ব্যবস্হা হয়ে যেতো।
বর্তমানে দ্বীপের প্রায় ৭৮% ভাগ কৃষি জমি বিক্রি হয়ে গেছে। যার ৫৭% কৃষি জমি বিক্রি হয়েছে পানির দামে। কারণ, দরিদ্র কৃষক এতো কিছু বুঝে না। স্হানীয় অথবা বহিরাগত জমি ব্যবসায়ী (অসাধু লোভী দালাল) মাধ্যম হয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে সরল মনের দরিদ্র কৃষককে ঠকিয়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার কয়েকটা বান্ডিল দিয়ে পেট ভরিয়ে নাস্তা করিয়ে, হাতে কয়েক কেজি আপেল-কমলা ধরিয়ে দিয়ে ট্রলারের টিকিট কেটে দিয়ে বিদায় দিয়ে দেয়। অথচ, সে জমির প্রকৃত মূল্য ছিলো কয়েক কোটি।
অবশেষে, দরিদ্র কৃষকের সেই লক্ষ লক্ষ টাকার একাধিক বান্ডিল স্ত্রী - সন্তানদের বাগ বাটোয়ারা করে দিয়ে নিজের কাছে যা ছিলো তা দিয়ে কয়েক বছর চলেছে। তারপর সেই যে কৃষক সেই কৃষক'ই রয়ে গেলো। অন্যদিকে, জমির দালাল টেকনাফ-কক্সবাজার এ ভিন্ন ভিন্ন পয়েন্টে কয়েক বিঘা জমি কিনে রেখে দিয়েছে। যত দিন যায়, ততো জমির মূল্য বৃদ্ধি পায়। বলতে গেলে সে এখন কোটিপতি।
ধিক্কার জানাই, এমন সব অসাধু-লোভী মানুষদের। যারা নিজের স্বার্থের জন্য অন্যকে ঠকিয়ে নিজে সম্পদের পাহাড় তৈরি করে। আল্লাহর আজাব বড়ো শক্ত ও ভয়ংকর। একসময় দ্বীপে যাদের এক শতক জমিও ছিলো না, আজ তারা টেকনাফ-কক্সবাজারে লাখপতি।
এখন মন চাইলেও নিজের জমিতে চাষ করতে পারছে না। লাগবে অনুমতি, কষতে হবে হাজার বিশেক টাকা। যার সামর্থ্য সেই দরিদ্র কৃষকের। বর্তমানে সেই কৃষকের এখন পুরো এক বস্তা চাউল কেনার সামর্থ্য নেই। সন্তানরা জমির ভাগের টাকা দিয়ে মটরসাইকেল, দীর্ঘ ভ্রমণ ইত্যাদি করে এখন কোনোরকম ফিশিং এ গিয়ে সংসার চালায়।
অবশ্যই, যারা সচেতন তারা জমি ভালো দামে বিক্রি করেছে এবং সেই টাকা ভাগ বাটোয়ারা না করে সকলের সম্মতিতে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। বর্তমানে দ্বীপে ও দ্বীপের বাহিরে তারা সফল।
এখন আফসোস, আর আফসোস! দুঃখের কথা কাকে বলবে? যাকে বুঝাবে সেই হেয় করবে। এক সময়ের কয়েক'শ শতক জমির মালিক আজ নিঃস্ব, অসহায় ও নিরুপায়।
একসময় সেন্টমার্টিন দ্বীপের ৯৯% ভাগ স্হানীয় মালিকানা জমি ছিলো। বর্তমানে এই সংখ্যা স্বপ্ন মাত্র। নিজেদের দুর্ভাগ্য নিজেরাই ডেকে এনেছি। লাখ লাখ টাকার লোভে কোটি টাকার সম্পদ আজ হাত ছাড়া হয়ে রূপকথার গল্পে রূপ নিয়েছে।
📸ছবি: ২০ আগস্ট'২০২৬ ইং
স্হানীয় কোনো এক বাসিন্দার বাড়ির পাশের সবজি বাগান। যে বাগানে আছে হলুদ গাছও। চাষ করা জমির পরিমাণ ১ হড়া'র ও কম (১ শতক= ৩ হড়া)। এটা অবশ্যই প্রশংসনীয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন!
#সেন্টমার্টিন #জমি #বিক্রি