22/08/2024
বাংলাদেশে বন্যা একটি প্রকট সমস্যা, যা দেশের কৃষি, অর্থনীতি এবং জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারতের অনেক কার্যকলাপ এই বন্যার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এই বিষয়ে কিছু কারণ তুলে ধরা হলো:
১. উজানের পানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাঁধ নির্মাণ:
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমবঙ্গে ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা, তিস্তা, মেঘনা, এবং অন্যান্য বড় বড় নদীর উজানে একাধিক বাঁধ, ব্যারাজ এবং জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। ভারতের এই নদীগুলি বাংলাদেশের মধ্যে প্রবেশ করে। ভারতের জলাধার এবং বাঁধ থেকে পানি ছেড়ে দিলে বাংলাদেশের নদীগুলিতে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা বন্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে, অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল প্লাবিত হয়।
২. তিস্তা নদীর পানি বণ্টন সমস্যা:
তিস্তা নদী বরাবরই ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বিতর্কিত বিষয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণের ফলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই কারণে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানির স্তর অত্যন্ত কমে যায়, এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়া হলে বন্যার সৃষ্টি হয়।
৩. সেচ প্রকল্প ও পানি সংরক্ষণ:
ভারত তার সেচ প্রকল্পের জন্য এবং কৃষি জমিতে পানি সরবরাহের জন্য উজানের পানি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। এর ফলে বর্ষাকালে এই পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি জমা হয়ে গেলে তা ছেড়ে দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের নিচু অঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি করে।
৪. কৌশলগত বাঁধ ও ব্যারাজ ব্যবস্থাপনা:
ভারতের কিছু বাঁধ এবং ব্যারাজ এমনভাবে পরিচালিত হয়, যা বর্ষার সময়ে পানি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এতে করে বাংলাদেশের নদী ও জলাশয়ে পানির চাপ বৃদ্ধি পায়। ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত এবং সমন্বয়ের অভাব বাংলাদেশের বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
৫. নদী পুনর্নির্মাণ এবং ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন:
ভারত তার অভ্যন্তরীণ নদীগুলির পুনর্গঠন এবং ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের মাধ্যমে পানির প্রবাহের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করেছে। এর ফলে নদীর নিচের দিকে বাংলাদেশের অংশে জলস্তর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, যা বন্যার কারণ।
৬. আন্তর্জাতিক নদী নীতি এবং সহযোগিতা অভাব:
ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, বাস্তবায়ন এবং পরিচালনায় অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। ভারতের একতরফা পদক্ষেপ এবং সহযোগিতার অভাবে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে ওঠেছে।