28/05/2017
রমজানের রোজা রেখে আপনি.............
০১. গালিগালাজ, মারামারি, ফাটাফাটি, মিথ্যে কথা বলতে পারবেন না।
০২. মাজন, টুথপেষ্ট, কয়লা, কালি বা বালি দিয়ে দাত মাজতে পারবেন না।
((খালি ব্রাশিং মেশিন দিয়ে মাজতে হবে, সর্বোত্তম পন্থা রাসূল সঃ এর সুন্নাত মিসওয়াক করা!))
০৩. প্রচন্ড তাপদাহ থেকে বাঁচতে সারাদিন পানিতে ডুবে থাকতে পারবেন না।
০৪. ঘুমের ঘোরে রোজাকে উবে দিতে বেঘোরে সারাদিন ঘুমে কাটাতে পারবেন না।
০৫. রোগি বা দুর্বল কেউ ভূলে পানাহার করলে তাৎক্ষনিক তাকে রোজার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া যাবেনা।
০৬. সময় ব্যয়ের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা খেলায় মত্ত থাকতে পারবেন না।
((ইসলামে শালীনতামূলক কোন খেলা নিষিদ্ধ নয়; কিন্তু সময় নষ্টকারি যে কোন খেলা ইসলাম সমর্থন করেনা, কারণ ইসলাম সময়ের প্রতি খুবই পাংচুয়াল!))
০৭. মোবাইল, টেলিভিশনে অশ্লিল ছবি দেখা যাবেনা।
০৮. মানুষকে দেখিয়ে দেখিয়ে দোয়া-তাসবিহ, জিকির ইত্যাদি করা যাবেনা, এটি রিয়া।
((রিয়া সাংঘাতিক শিরক!))
০৯. অযু করার সময় নাকে পানি, কুলি & গড়গড়া করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
১০. স্বামী সাক্ষাৎ আজরাঈল হলে এবং বাড়িতে নাবালক বা রোজাহীণ কেউ না থাকলে তরকারির স্বাদ পরিক্ষা করা যাবে, এমনকি নামাজে থাকলে নিঃশ্ব্দে এসে দরজা খুলে দেয়া যাবে।
১১. স্ত্রীকে চুমু বা জড়িয়ে ধরলে রোজার কোন ক্ষতি নেই, তবে খেয়াল রাখতে হবে এ কাজ করতে গিয়ে যেন স্বামী/স্ত্রীর বিশেষ অর্গান থেকে বিশেষ পদার্থ বের না হয়।
((এরকম হলে কাযা+কাফফারা আদায় করতে হবে, কাযা+কাফফারা হলো একনাগাড়ে ৬০ টি রোজা রাখতে হবে। রোজা রাখতে গিয়ে যদি ৫৯ তম দিন ঈদের দিন হয়, তাহলে পূনরায় এক থেকে ষাট টি রাখতে হবে।
কেননা, ইদুল ফিতর, ইদুল আযহা এবং তৎপরবর্তী ৩ দিন = ৫ দিন ইসলামে রোজা রাখা হারাম!))
১২. মহিলারা কাফফারা আদায়কালে হায়েজ (মাসিক ঋতুস্রাব) দেখা দিলে রোজার ধারাবাহিকতা নষ্ট হবেনা, যেদিন থেকে হায়েজ বন্ধ হবে সেদিন থেকে বাকি রোজা রাখা স্টার্ট করতে হবে।
((নিফাসের ক্ষেত্রে ভিন্ন মাসআলা!))
★উপরোক্ত ০১ থেকে ১০ নং কারণে আপনার রোজা ভঙ্গ হবেনা, তবে রোজার পবিত্রতার ভারসাম্য নষ্ট হবে। আপনি কি চান এই মৃতপ্রায় রোজা নিয়ে রবের দরবারে যেতে..!
★যেসব কারনে রোজা ভঙ্গ হবে★
০১. সেহরির সময় আছে মনে করে সেহরি খেলে অথবা ইফতারের সময় হয়েছে মনে করে ইফতার করলে।
০২. কেউ জোরপূর্বক কিছু খাইয়ে দিলে।
০৩. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে।
((অনিচ্ছায় যত বমি হোকনা কেন রোজার কোন ক্ষতি হবেনা, এমনকি সামান্য বমি আসার পর ডুকে গেলেও কোন সমস্যা নেই!))
০৪. শরীরে বল, শক্তিবৃদ্ধিকারক ইনজেকশান পুশ করলে।
((তবে রোগের কারণে কোন ইনজেকশান দেয়া হলে ক্ষতি নেই!))
০৫. দাতের ফাঁকে মার্বেল পরিমাণ খাদ্যকনা আটকে থাকার পর তা খেয়ে ফেললে।
****এছাড়া.....****
★হঠাৎ কোন মেয়ের যৌনাঙ্গ দেখার পর উত্তজিত হয়ে বীর্য নির্গত হলে রোজার কাফফারা দিতেতে হবেনা।
★মুসাফির ইচ্ছে করলে রোজা রাখতেও পারবে আবার নাও রাখতে পারবে।
★জিবন-মৃত্যুর প্রশ্ন আসলে রোজা ভেঙ্গে ফেলা সম্পূর্ণ জায়েজ।
((এতে কাফফারা দিতে হবেনা।))
★ কোন মা যদি অনুভব করে যে, ইফতার পর্যন্ত রোজাবস্থায় থাকলে পেঠের বাচ্চার সমস্যা হবে, তাহলে ভেঙ্গে ফেলা জায়েজ।
★কেউ বেহুশ হলে তাকে তাৎক্ষনিক রোজা ভাঙ্গাতে কোন সমস্যা নেই।
★রক্ত পরিক্ষার জন্য রক্ত নেয়া হলে বা কাউকে রক্ত দিলে রোজার ক্ষতি নেই।
★বাচ্চা যদি অন্যের দুধ পান না করে এবং বাজারে প্রচলিত কেনা দুধের প্রতি অনীহা পোষন করে, তাহলে মায়ের রোজা না রাখার বিধান আছে।
★কাউকে সাপে দংশন করলে রোজা ভাঙ্গা জায়েজ।
★দুর্বল কেউ সাহস করে রোজা রাখার পর যদি থাকতে না পারে তাহলে তার জন্য রোজা ভাঙ্গা জায়েজ।
পোষ্টের সব মাসআলা ---
*সহিহ বুখারী,
*সহিহ মুসলিম,
*সিহাহ সিত্তার সব কিতাব,
*রাসায়েল ও মাসায়েল,
*ফিকহুস সুন্নাহ,
*ফতোয়ায়ে আলমগীরী,
*তাফসিরে মা'রেফুল কুরান,
*তাফসিরে কুরতুবি থেকে উৎকলিত।