Mawlana Ayub Khan

Mawlana Ayub Khan মাস্টার ট্রেইনার জেলা পর্যায়, কক্সবাজার. at জাতীয় শিক্ষাক্রম বিস্তরণ প্রশিক্ষণ।
(205)

07/08/2026

ঈদে মিলাদুন্নবী স. সংখ্যা ১.

হিজরতের সময় যে গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন নবী করিম সা.  লেখক: মাওলানা আইয়ূব খাঁন, খতিব- উত্তর বডঘোপ জামে মসজিদ, কুতুবদিয়া, ...
05/08/2026

হিজরতের সময় যে গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন নবী করিম সা.
লেখক: মাওলানা আইয়ূব খাঁন, খতিব- উত্তর বডঘোপ জামে মসজিদ, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরণ বিদ্যানিকেতন, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

সৌদি আরবের মক্কা থেকে: জাবালে সাওর বা গারে সাওর। এই সাওর পর্বতের একটি গুহায় হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মদিনা মোনাওয়ারায় হিজরতের সময় আত্মগোপন করেছিলেন।এই গুহায় আত্মগোপনের সেই সঙ্কটময় সময়েও নবী করিম (সা.) ছিলেন আল্লাহর সাহায্যের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল ও দুশ্চিন্তাহীন। কোরআনে কারিমে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে যে, ‘যদি তোমরা তাকে (নবী মুহাম্মদকে) সাহায্য না করো, তবে মনে রেখো, তাকে কাফেররা (মক্কা থেকে) বহিষ্কার করেছিল।
তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন, তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন, চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। ’ -সূরা তাওবা: ৪০ সাওর পাহাড়টি মক্কার দক্ষিণে কুদাই মহল্লার অন্তগত বর্তমানে পরিকল্পিত আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত।এই পাহাড়ের উপর থেকে সমুদ্র দেখা যায়। স্থানটি মসজিদে হারাম থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।সাওর পর্বতের উচ্চতা ৪৫৮ মিটার। পর্বতটির মোট আয়তন ১০ বর্গমিটার।
এ গুহার মধ্যেই হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ও হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মদিনা মোনাওয়ারায় হিজরত করার সময় ৩ দিন আত্মগোপন করেছিলেন। এ গুহার সামনে এবং পেছনে একটি করে প্রবেশ দ্বার রয়েছে। গুহাটির প্রশস্ততা ২ বর্গ মিটার।সাওর পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপন প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে গুহায় ছিলাম, আমি মুশরিকদের পদচারণা প্রত্যক্ষ করছিলাম, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের কেউ যদি পা ওঠায় তাহলেই আমাদের দেখে ফেলবে, তিনি বললেন, আমাদের দু’জন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা? আমাদের তৃতীয় জন হলেন- আল্লাহ। অর্থাৎ তিনি আমাদের সাহায্যকারী। ’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম
হজপালন করতে আসা মানুষ এ পর্বত দেখার জন্য উদগ্রীব থাকেন এবং তা দেখতে যান। হাজিদের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় এ পর্বতের নাম থাকবেই। দর্শনার্থীদের অনেকেই সাওর পাহাড়ে দলবেধে ওঠেন, কেউ নিচে থেকেই দেখেন। অনেকে সাওর পর্বতের যে গুহায় নবী করিম (সা.) লুকিয়েছিলেন, সেখানে উঠে নামাজ পড়েন, দোয়া করেন, গুহায় মনের বাসনা লিখে রাখেন, সেখানকার পাথর ও মাটিকে বরকতময় মনে করে তা নিয়ে আসেন। যদিও এসব কাজের কোনো ভিত্তি ইসলামি শরিয়তে নেই।
মসজিদে হারাম সংলগ্ন নবী করিম (সা.)-এর বাড়িটি বর্তমানে লাইব্রেরি। নবী করিম (সা.) হিজরতের সময় নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বাড়ি হয়ে মদিনার উদ্দেশে রওনা করেন। তিনি মক্কা থেকে যে পথে মদিনার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছিলেন সে পথের বর্তমান নাম- হিজরা রোড। সেখানে মিসফালায় হিজরা মসজিদ নামে একটি মসজিদ ও রয়েছে।
পাহাড়ের পাদদেশে সৌদি সরকারের ‘সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ’ বিভাগের একটি অফিস রয়েছে। ওই অফিসে বিভিন্ন ভাষায় সাওর পাহাড়ের পরিচিতিমূলক বর্ণনা দেওয়া হয়। বিতরণ করা হয় বিভিন্ন বই, কোরআনের সিডি। এছাড়া এখানে দর্শনার্থীদের পানি পানেরও সুব্যবস্থা রয়েছে।
- মাওলানা আইয়ূব খাঁন -

সবাইকে এক কাতারে এনেছিল জুলাই ৩৬---------------------------------------------------------২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থ...
05/08/2026

সবাইকে এক কাতারে এনেছিল জুলাই ৩৬
---------------------------------------------------------
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দিনটিকে প্রতীকীভাবে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এটি ছিল এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেদিন ধর্ম, বর্ণ, বয়স ও পেশার ভেদাভেদ ভুলে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা এক কাতারে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল এবং দেশের মানুষের মনে নতুন গণতন্ত্র ও মুক্তির স্পৃহা জাগিয়েছিল।

ঐক্যের তাৎপর্য ও অংশগ্রহণ:
----------------------------------------
ছাত্র ও যুবসমাজের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে রিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবী, শিক্ষক, শিল্পী থেকে শুরু করে প্রবাসীরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন।

স্বৈরাচার পতন:
---------------------
দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ স্বৈরশাসকের ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দিয়েছিল।

ক্যালেন্ডার ছাপিয়ে চেতনা:
------------------------------------
৫ আগস্ট ক্যালেন্ডারের হিসাবে আগস্ট মাসে পড়লেও, জুলাইয়ের প্রতিবাদ ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই দিনটিকে ‘৩৬ জুলাই’ বা জুলাইয়ের ৩৬তম দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল শিক্ষাজনগণের শক্তি:
--------------------------------------------------------------
প্রমাণ হয়েছে যে সর্বস্তরের মানুষ এক হলে যেকোনো কঠিন ও entrenched সিস্টেম পরিবর্তন করা সম্ভব।সাম্য ও ন্যায়বিচার: বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে আকাক্সক্ষা এই দিনে সবাইকে এক করেছিল, তার স্মৃতি জাতীয় জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছ।
------------------

জুলাই গণ অভ্যুত্থান দিবস আজ """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""                                      ...
05/08/2026

জুলাই গণ অভ্যুত্থান দিবস আজ
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশে
ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান হলো একটি সফল গণআন্দোলন, যার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের অবসান ঘটে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।

আন্দোলনের পটভূমি ও বিকাশকোটা
--------------------------------------------------------
আন্দোলন: ২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়।

সহিংসতা ও রূপান্তর:
-----------------------------
১৫ জুলাই থেকে আন্দোলন şiddত রূপ নেয় এবং তা পরবর্তীতে পুরো দেশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।৩৬ দিনের অভ্যুত্থান: টানা ৩৬ দিন ধরে চলা বিভিন্ন দমনপীড়ন ও সংঘাতের পর এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

ঐতিহাসিক পরিণতিপতন:
-------------------------------------
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সর্বাত্মক অসহযোগ ও লং মার্চ কর্মসূচির মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন।

দিবস ঘোষণা:
-------------------
সরকার ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' বা 'জুলাই মাস অভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে ক শ্রেণিভুক্ত সরকারি দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এই আন্দোলন কারো একা নয় বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থী ও আপামর জনসাধারণের।

04/08/2026

নবীজির (স.)প্রতি দরূদ-সালামের বিধি-বিধান
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
লেখক: মাওলানা আইয়ূব খাঁন, খতিব -উত্তর বডঘোপ জামে মসজিদ, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরণ বিদ্যানিকেতন, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

“ইন্নাল্লা-হা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসল্লুনা আলান নাবীয়্যি; ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আ-মানু সল্লু আলাইহি ওয়া সাল্লিমূ তাসিলমা’’ (সূরা: আহযাব, আয়াত, ৫৬)। অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহতা’লা এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর (স.) মহব্বতে ও সম্মানে দরূদ-সালামের মজলিশ করছেন এবং অব্যাহতভাবে করতে থাকবেন; হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর (স.) সম্মানে ও মহব্বতে আদবের সঙ্গে দরূদ ও সালামের মজলিশ কর। কোরআনুল করীমের উপরোক্ত আয়াতটি আরবী ব্যাকরণিক (মুযারি’সিগা) মর্ম অনুযায়ী অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যেক অর্থবহ করে। আয়াতটি বহুবচনাত্মক এবং দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে মহান আল্লাহতা’লা ও তাঁর ফেরেশতাগণ; অন্যভাগে ঈমানদার মুসলমানগণ। আয়াতটিতে নবী করীমের (স.) মহব্বত ও সম্মানে দরূদ ও সালামের আদেশ করা হয়েছে। কিন্তু দরূদ ও সালামের এ আদেশটি কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে? তা বলা হয়নি। তবে বিষয়বস্তু বহুবচনাত্মক এবং ঈমানদারদের অর্থাৎ, একাধিক ব্যক্তিকে দরূদ-সালাম অনুশীলনের আদেশ করা হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, এটি সম্মিলিত অনুশীলন প্রক্রিয়া। জানা যায় যে, মহান আল্লাহতা’লার উপরোক্ত আয়াতেকরীমকে তার মর্ম অনুযায়ী আউলিয়াকিরামগণ দরূদ ও সালামের এ সম্মিলিত অনুশীলনটি ‘ক্বিয়ামে মিলাদ শরীফ’ এর মাধ্যমে অনুশীলন করতেন। তাঁরা তাঁদের অনুসারীদেরকেও অনুরূপ শিক্ষা দিয়েছেন, দিচ্ছেন এবং দিতে থাকবেন। ক্বিয়ামে মিলাদ শরীফে আউলিয়াগণ প্রথমে আল্লাহতা’লার জিকির এবং নবী করীমের (স.) মহব্বতে ও সম্মানে তাযীমের সঙ্গে দরূদ শরীফ পাঠ করেন। এরপর নবী করীমের (স.) মহব্বতে ও সম্মানে ক্বিয়ামের মাধ্যমে সালাতুস সালাম পাঠ করেন। তারপর নবীজির উছিলায় নিজেদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া-মোনাজাত করেন। সালাম একটি প্রশংসাসূচক আশির্বাদ জ্ঞাপক বাক্য। সালামের শাব্দিক ভাবের ক্ষেত্রে এর তাত্পর্য ও অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হয়। সালামের মধ্যে দোয়া, প্রশংসা, প্রার্থনা, শ্রদ্ধা-সম্মান, স্নেহ, প্রেম-প্রীতি ও ভালোবাসার অর্থ নিহিত আছে। সালামের জবাব দেওয়া যেমন ওয়াজিব , তেমনি আদব ও সম্মানের সঙ্গে সালাম দেওয়াও সুন্নত। আম্বিয়া, আউলিয়া ও মাতা-পিতার প্রতি আদব বা সম্মান প্রদর্শন করাও ওয়াজিব। ছোটদের সালাম ও তার জবাব দানের অর্থ হচ্ছে, দোয়া, প্রশংসা, স্নেহ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। মাতা-পিতা, বুজুুর্গ ও মুরুব্বিদের জন্য এর অর্থ হচ্ছে- আদব, সম্মান ও তাযীমের প্রকাশ। বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী ও সমবয়সীদের জন্য এর অর্থ হল, সম্ভাষণ ও ভদ্রতা। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য সালামের অর্থ হল, প্রেম-প্রীতি ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আম্বিয়া ও আউলিয়াদের জন্য এর অর্থ হচ্ছে, দোয়া, আদব, সম্মান ও তাযীম। মহানবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাঁড়িয়ে আমরা সালাম দিই, এই সালামের অর্থ হচ্ছে দোয়া ও মাগফিরাত পাওয়ার আশায়। নবী করীম (স.) হচ্ছেন, রহমাতাল্লিল আলামীন, শাফিয়াল মুজনাবীন। তিনি রহমত বন্টনকারী এবং শাফায়াত দানকারী। তাঁর রহমতেই সৃষ্টি জগত সজিব ও সঞ্জীবিত। কারো পক্ষ থেকে নবী করীমের (স.) জন্য দোয়া এবং দয়ার প্রয়োজন নেই। এখন প্রশ্ন হল, আল্লাহ ও রসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষেত্রে সালামের অর্থ কি হবে? এক্ষেত্রে জানতে হয় যে, মহান আল্লাহতা’লা ও রসূলের (স.) মধ্যে সম্পর্ক কি? নবী করীমকে (স.) হলেন, মহান আল্লাহতা’লার প্রিয় হাবিব ও পেয়ারে দোস্ত। অতএব, আল্লাহ ও রসূলের (স.) ক্ষেত্রে সালামের অর্থ হবে, প্রেম-প্রীতি ও ভালোবাসা বিনিময় করা। ফেরেশতা ও ঈমানদার মুসলমানদের ক্ষেত্রে সালামের অর্থ কি হবে? এক্ষেত্রে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ফেরেশতাদেরও কারো পক্ষ থেকে দোয়া এবং দয়ার প্রয়োজন হয় না। তাঁরা মহান আল্লাহ ছাড়া কারো মুখাপেক্ষি নন। নবী করীমকে (স.) ফেরেশতাদের সালাম দেওয়ার অর্থ দাঁড়ায় এই যে, তাঁরা নবী করীমকে (স.) সালাম দিয়ে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত হন। যেমন, রাষ্ট্রপতির গার্ড অব রেজিমেন্টের সদস্যগণ। তাঁরা রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রীয়অতিথিদেরকে সালাম বা স্যালুট দিয়ে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত হন। সেনাবাহিনীর সব সদস্যদের পক্ষে রাষ্ট্রপতি বা রাষ্ট্রীয় অতিথিকে সালাম দেওয়ার সুযোগ হয় না, কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতির গার্ড অব রেজিমেন্টের সদস্যরাই সালাম দিতে পারেন। তেমনি বায়তুল মামুর মসজিদে তাওয়াফরত বিশেষ ফেরেশতারাই মহান আল্লাহতা’লার পেয়ারে হাবীবের (স.) উদ্দেশ্যে সালাম পেশ করে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত হচ্ছেন। অনুরূপ মহানবী সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ক্বিয়ামের (দাঁড়ান) সঙ্গে সালাম দেওয়ার সৌভাগ্য সবার হয় না। যাদের অন্তরে নবী করীমের (স.) মহব্বত সুপ্রতিষ্ঠিত আছে, কেবল তারাই তাঁকে সালাম দিতে সক্ষম। নবী করীমকে সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাম দিয়ে তাঁরা নবী করীমের (স.) পক্ষ থেকে মহব্বত, নাযাত এবং মাগফিরাত লাভ করছেন। নবী করীমের (স.) মহব্বত লাভ করা মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। উপরোক্ত আয়াত সম্পর্কে জানা যায়, মহানবী সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিরাজ শরীফে গমনের সময়, মহান আল্লাহতা’লা দেখেন যে, একদল ফেরেশতা বায়তুল মামুর মসজিদ তাওয়াফ করছেন এবং সুব্হানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুব্হানাল্লাহিল আযীম পাঠ করছেন। আল্লাহতা’লা লক্ষ্য করলেন, ফেরেশতারা যে জিকির করছে, তাতে শুধু মহান আল্লাহতা’লার প্রশংসা প্রকাশ পাচ্ছে। এখানে আল্লাহর হাবীব সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসা নেই। তখন আল্লাহতা’লা ফেরেশতাদের প্রতি আদেশ করেন যে, আমি আল্লাহ আমার হাবীবের প্রতি দরূদ-সালাম পেশ করি, তোমরাও আমার হাবীব সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানে এবং মহব্বতে দরূদ-সালাম পেশ কর। এখন প্রশ্ন হল যে, মহান আল্লাহতা’লা যখন নবী করীমকে সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহব্বত ও সম্মানেফেরেশতাদের দরূদ-সালাম পেশ করার আদেশ দিলেন এবং তিনি (আল্লাহ) নিজেও ফেরেশতাদের নিয়ে দরূদ ও সালামের মজলিশ করলেন, তখন কি আল্লাহতা’লা এবং ফেরেশতারা দাঁড়িয়ে সালাতুস সালাম পাঠ করেছিলেন? নাকি বসে? এ ক্ষেত্রে বোঝা গেল যে, বসা অবস্থায় কোনকিছু তাওয়াফ করা যায় না এবং আল্লাহতা’লার উপস্থিতিতে ফেরেশতারা বসে থাকতে পারে না। অতএব, উপরোক্ত দরূদ ও সালামের মজলিশ নিঃসন্দেহে দাঁড়িয়ে অর্থাৎ, ক্বিয়ামের মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। হে সম্মানীত পাঠকগণ, আপনারা চিন্তা করে দেখুন। কাজেই কোরআন, হাদিস, ইজমা, কিয়াস সব রকম কিতাব পর্যালোচনা করে দেখা গেল যে, কিয়াম করা মোস্তাহাব সওয়াব। আরবিতে বলা হয় কিয়াম, বাংলাতে বলা হয় দাঁড়ান, ইংরেজিতে বলা হয় Stand যেমন দেখা যায়, কামেল পীর-মুর্শিদ, বুজুর্গ ব্যক্তি আসলে তাঁদের সম্মানে আমরা দাঁড়িয়ে সালাম দিই ও তাযীম করতে হয়। বাবা-মা সামনে উপস্থিত হলে তাঁদের সম্মানে দাঁড়ানো, কোন সম্মানী ব্যক্তি সামনে এলে দাঁড়িয়ে যাওয়া, ওস্তাদ-শিক্ষক-গুরু উপস্থিত হলে দাঁড়িয়ে সম্মান করা। এছাড়াও দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মানে আমরা সাধারণত দাঁড়াই। অতএব, রসূল (স.)-এর সম্মানে কিয়াম (দাঁড়নো) করা ভালো? না কি মন্দ? হে পাঠকগণ! আপনারাই চিন্তা করে দেখুন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করার এবং তাঁর শাফায়াত লাভের তাওফিক দান করুন। লেখক: আলেম, শিক্ষক, খতিব।

04/08/2026

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে কেউ আমার ওপর সালাম পাঠায়, আল্লাহ আমার নিকট আমার রুহ ফিরিয়ে দেন যাতে আমি তার সালামের জবাব দিতে পারি।" (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ২০৪১)

03/08/2026

ইমাম হওয়ার জন্য শুধু সুন্দর গলা নয়, বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি থাকা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এর পাশাপাশি কোরআনের সঠিক জ্ঞান, ত‌রজুমা এবং ভালো চরিত্র থাকাও দরকার।

28/07/2026

মিলাদুন্নবী সা...
"""""""""""""""""""""
লেখক মা:ওলানা আইয়ূব খাঁন,খতিব -উত্তর বডঘোপ জামে মসজিদ, কুতুবদিয়া,কক্সবাজার।

সিনিয়র শিক্ষক,উত্তরণ বিদ্যানিকেতন,কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

সৃষ্টির প্রথম থেকেই মানুষের ফিতরাত বা স্বভাব হচ্ছে এই যে, মানুষ সুন্দর, আনন্দদায়ক, কল্যাণকর কোন বস্তু, ব্যক্তি ও ঘটনায় আনন্দিত হয়, আর অসুন্দর, দুঃখজনক ও অকল্যাণকর অবস্থায় ব্যথিত হয়। স্বভাব এমন যে, দুঃখের জীবন থেকে বের হয়ে আসতে সে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে। ইতিহাসের পাতা উল্টালে অসংখ্য ঘটনা পাওয়া যাবে যখনই মানুষ অন্যায়, অসত্য ও জুলুম-নির্যাতনের স্টীম রোলারে নিষ্পেষিত হয়েছে তখনই মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রাণপণে খুঁজেছে একজন মুক্তিদাতা, ত্রাণকর্তা যাকে কেন্দ্র করে এবং যার নেতৃত্বে ঘটাবে সকল দুঃখের অবসান, চিরতরে বিলীন করবে সকল অশুভ শক্তিকে।

মানুষ যখনই এ দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেয়ে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছে তখনই স্বধর্মীয়, স্বগোত্রীয় লোকদের নিয়ে করেছে আনন্দানুষ্ঠান। এ আনন্দানুষ্ঠানকে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ভাষায় বলা হয়েছে ঈদ (عيد)। অভিধানে ঈদ বলতে বুঝায় : ‘কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি অথবা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমবেত হওয়ার দিন বা স্মৃতিচারণের দিবসই ঈদ। কেউ কেউ বলেছেন, ঈদকে এজন্যই ঈদ বলা হয় যে, প্রতিবছর নব আনন্দ নিয়ে তা ফিরে আসে।’ (আল-মুন্জিদ, পৃ. ৫৩৯)

আর মিলাদ ميلاد শব্দের অর্থ وقت الولادة জন্ম সময়। (আল-মুনজিদ, পৃ. ৯১৮)। পারিভাষিক অর্থে মিলাদ বলতে জন্ম সময়, জন্ম বৃত্তান্ত তথা কারো জন্ম তারিখে তার জীবন চরিত আলোচনা ও তার জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের অঙ্গীকার করা। মিলাদ শব্দটি যদিও আরবি, কিন্তু আমাদের দেশে এর প্রচলন ফারসি ভাষা থেকে হয়েছে। অনেকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট না জেনে এ শব্দটি আরবি ভাষার আঙ্গিকে তুলে ধরে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করেন। ফারসিতে মিলাদ অর্থ زمان تولد জন্ম সময়। (ফারহাঙ্গে জবানে ফারসি, পৃ. ১০৬৭)

পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম বিশ্বের ঈমানি প্রেরনার জয় ধ্বনী নিয়ে প্রতি বছর আমাদের মাঝে আসে রবিউল আওয়াল মাসে। পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্যতম উৎসব।

কোন নেয়ামত ও রহমত লাভ করলেই আনন্দোৎসব করা যেরূপ মানুষের স্বভাবজাত কাজ তদ্রূপ আল্লাহ তাআলার নির্দেশও তাই। যেমন কুরআন মজীদে এরশাদ হয়েছে : ‘(হে রাসূল!) বল : আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক।’ (সূরা ইউনুছ : ৫৮)

এ আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর অনুগ্রহ فضل الله এবং তাঁর রহমত رحمة বলতে কী বুঝানো হয়েছে সে সম্পর্কে ইবনে জারির তাবারী (রহ.) তাঁর তাফসীরে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন : অনুগ্রহ (فضل الله) বলতে ইসলাম আর রহমত (رحمة) দ্বারা আল-কুরআনে বুঝানো হয়েছে।

আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.) আদ্দুররুল মানসুর তাফসীরে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন : হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন : ‘এখানে ‘আল্লাহর অনুগ্রহ’ বলতে ইল্ম বুঝানো হয়েছে। আর ‘রহমত’ দ্বারা বুঝানো হয়েছে মুহাম্মাদ (সা.)-কে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘আমিতো তোমাকে বিশ্বজগতের প্রতি কেবল রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া : ১০৭)

অর্থাৎ তোমরা মহামূল্যবান সম্পদ আল-কুরআন ও ইসলাম বা রাসূলে খোদা (সা.)-কে পেয়েছ, এর জন্য আনন্দ করা তোমাদের অন্যতম কাজ। যদি কুরআন মজীদ ও দীন ইসলাম পাওয়ার কারণে আনন্দ করতে হয় তাহলে যার মাধ্যমে কুরআন ও দীন পেয়েছি, যিনি ছিলেন সমগ্র জগতের রহমত, তাঁর আগমন যে কত বড় নেয়ামত ও রহমত তা বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না।

আবদুল হক মুহাদ্দেসে দেহলভী (রহ.) তাইতো তাঁর রচিত ‘মা সাবাতা মিনাসসুন্নাহ’ গ্রন্থে লিখেছেন : ‘হাজার মাসের চেয়ে উত্তম লাইলাতুল কাদর, ফজিলতের রাত্রি শবে বরাত, শবে মেরাজ, দুই ঈদের রাত এ সবই রাহমাতুল্লিল আলামীনকে দান করা হয়েছে। যাঁকে দান করা রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম, স্বয়ং তাঁর আগমন দিবস যে কত লক্ষ-কোটি দিবস-রজনীর চেয়ে উত্তম তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।’

সামান্য জাগতিক নেয়ামত লাভ করলেও তার জন্য ঈদ উৎসব করার সরাসরি উদাহরণ আমরা আল-কুরআনে দেখতে পাই। যেমন আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ কামনা করে হযরত ঈসা (আ.) যে দোয়া করেছিলেন তা প্রণিধানযোগ্য। এরশাদ হয়েছে :

‘ঈসা ইবনে মারইয়াম বলল : হে আল্লাহ! আমাদের প্রভু! আমাদের জন্য ঊর্ধজগৎ হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করুন। এ হবে আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলের জন্য ঈদস্বরূপ, আর আপনার অন্যতম নিদর্শন।’ (সূরা মায়িদা : ১১৪)

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে খাঞ্চা ভরা খাওয়া পেলে তা যদি হযরত ঈসা (আ.)-এর ভাষায় সৃষ্টির আদি হতে অন্ত পর্যন্ত আনন্দোৎসবের কারণ ও আল্লাহ তাআলার নিদর্শন হয় তাহলে সৃষ্টির সেরা মানব, রহমতের ভাণ্ডার রাসূলে পাক (সা.)-এর মতো এ মহান নেয়ামতের আগমন দিবস কতই না মর্যাদাবান, গুরুত্ববহ, কতই না আনন্দের তা সহজেই অনুমেয়।

হযরত ইমাম বুখারী (রহ.) বর্ণনা করেন : ‘আবু লাহাবের মৃত্যুর পর তার বংশের একজন স্বপ্নে তাকে খুবই খারাপ অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করল, আপনার অবস্থা কি? সে জবাবে বলল, তোমাদেরকে ছেড়ে আসার পর আমার কল্যাণজনক কিছুই হয়নি, হ্যাঁ, এই আঙ্গুল (শাহাদাত অঙ্গুলি) দ্বারা পানি পাই। কারণ, এ আঙ্গুলের ইশারায় আমি দাসী সুয়াইবাকে মুক্তি দিয়েছিলাম।’

এই হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ফাতহুল বারী এবং আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (রহ.) তাঁর রচিত ‘আইনী’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন : ইমাম সুহাইলী (রহ.) উল্লেখ করেন যে, হযরত আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর তাকে স্বপ্নে দেখি যে, অত্যন্ত দুরবস্থার মাঝে পতিত রয়েছে। সে বলল, ‘তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পর আমি শান্তির মুখ দেখিনি। তবে প্রতি সোমবার আমার আযাব লাঘব করা হয়।’ হযরত আব্বাস (রা.) বলেন : ‘তার এ আযাব লাঘবের কারণ হলো রাসূলে পাক (সা.)-এর প্রেরনের ছিল সোমবার। তাঁর আগমনের সুসংবাদ নিয়ে আসায় দাসী সুয়াইবাকে সে খুশিতে মুক্তি দেয়। (ফাতহুল বারী, ৯ম খ-, পৃ. ১১৮; আইনী, ২০/৯৫)

যে কাফের সম্পর্কে কুরআন মজীদে সরাসরি নাযিল হয়েছে :

‘ধ্বংস হয়েছে আবু লাহাবের দু’হাত এবং সে নিজেও।’ সে যদি একজন কাফের হওয়া সত্ত্বেও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর খুশির কারণে তার প্রতি সোমবার আযাব লাঘব হয়, শাহাদাত অঙ্গুলি দিয়ে পানি বের হয়- যা খেয়ে সে তৃপ্ত হয়, একজন মুসলমান ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন ও আনন্দানুষ্ঠান করলে তাতে রহমত, বরকত লাভ এবং আযাব থেকে মুক্তিলাভের এক বিরাট সুযোগ তা যে কোন বিবেকবান ব্যক্তি সহজেই অনুধাবন করতে পারে। কবি শেখ সাদী (রহ.)-এর ভাষায় :

دوستان را کجا کنی محروم

تو که با دشمانان نظرداری

‘বন্ধুদের বঞ্চিত করার প্রশ্নই আসে না, তুমি তো এমন সত্তা যে, দুশমনের দিকেও লক্ষ্য রাখ।’

মিলাদুন্নবী উদযাপন দিবসকে কেন্দ্র করে রাসূলের পুরো জীবনকে আয়নার মতো নিজের জীবনের সামনে তুলে ধরা এবং সে অনুযায়ী ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ জীবন গড়ে তোলার সংকল্প গ্রহণের মতো উত্তম ও বরকতময় কাজ আর কী হতে পারে? রাসূলের মর্যাদা বর্ণনা করার সাথে সাথে তাঁর দাওয়াত ও হেদায়াত গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। অতীতে মনীষিগণ রাসূলের প্রশংসা বর্ণনার সাথে সাথে রাসূলের সুন্নাতকে তাঁদের জীবনে বাস্তবায়নের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। হযরত আলী (রা.) যেমন ছিলেন রাসূলের সুন্নাতের ধারক তদ্রূপ প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। তিনি বলেন :

اختاره من شجرة النبياء و نشكاة الضياء و ذوابة العلياء و سرّة التئحاء و مصباح الظلمة و ينابيع الحكمة

‘নবুওয়াত বৃক্ষের মাঝে তিনি বাছাইকৃত আলোকের আধার, সম্মানের সর্বোচ্চ চূড়ায় অধিষ্ঠিত, বাতহা তথা মক্কা মুয়াজ্জমার মূলকেন্দ্র, অন্ধকারের বাতি, হেকমত ও প্রজ্ঞার উৎস-প্রস্রবণ।’ (নাহজুল বালাগা, খুতবা ১০৭)

হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) তাইতো বলেছিলেন :

روشن زوجود تست کونین

ای ظاهر و باطنت همه نور

‘আপনার অস্তিত্বের আলোয় উভয় জাহান আলোকিত, হে মহান! আপনার জাহের ও বাতেন সবই নূর।’ (কাসিদায়ে গাউসুল আজম)

তাইতো আল্লামা বুছিরী (রহ.) বলেছেন :

لو لاه ما خلق الافلاک خالقها

لو لاه ما خرج الانسان من عدم

‘তিনি না হলে আসমান স্রষ্টা তা সৃষ্টি করতেন না, তিনি না হলে মানবজাতি অনস্তিত্বের গ-ি হতে বের হয়ে আসত না।’

তাঁর মহান সত্তা সম্পর্কে শেখ সাদী (রহ.) বলেছেন :

بلغ العلی بکماله

کشف الدجی بجماله

حسنت جمیع خصاله

صلوا علیه و آله

‘মানবতার শীর্ষে তুমি হলে উপনীত,

রূপের ছটায় দূর করলে আঁধার ছিল যত-

সকল গুণের সমাবেশে চরিত্রে মহান,

তুমি ও তোমার বংশ পরে হাজারো সালাম।’

কবি ফররুখ বলেন :

‘হারা সম্বিত ফিরে দিতে বুকে তুমি

আনো প্রিয় আবহায়াত

জানি সিরাজাম মুনীরা তোমার রশ্মিতে

জাগে কোটি প্রভাত।’

কবি আল মাহমুদ বলেন :

‘এই নামে ফোটে হৃদয়ে গোলাপ কলি

যেন অদৃশ্য গন্ধে মাতাল মন,

যেন ঘনঘোর আঁধারে আলোর কলি

অকুল পাথারে আল্লার আয়োজন।’

মোটকথা, সকল লেখক, কবি-সাহিত্যিকই রাসূলের শানে কিছু না কিছু লিখতে চেষ্টা করেছেন। অধুনা বিশ্বে কলমের সাথে আমলের দিক থেকে রাসূলের আদর্শের রূপায়নই হবে সবচেয়ে বড় কাজ।

যে সময় আল্লাহর ঘরে স্থান পেয়েছে তিন শতাধিক মূর্তি। আইন, বিচার ও প্রশাসন সবক্ষেত্রে চলছে তাগুতী শাসন, মানুষে মানুষে হানাহানি, উটকে পানি খাওয়ানোর মতো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চলছিল যুগের পর যুগ যুদ্ধ। জীবন্ত কবর দিচ্ছিল বাবা নিজ কন্যাকে, সুদ ছিল দুনিয়ার অর্থনৈতিক ভিত্তি, ব্যভিচার, মদ ও জুয়া ছিল সমাজের ওপর তলার লোকদের নিত্যদিনের কাজ। অসহায়, ইয়াতিম, অনাথ বঞ্চিত মানবতা যখন করছিল গগনবিদারি ফরিয়াদ, নারী জাতি ছিল মর্যাদাহীন খেলনার বস্তু। আদর্শিক, নৈতিক অবস্থা বলতে কিছুই ছিল না। এ সময় ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল সুখময় বসন্তকাল হিসাবে যিনি আগমন করেছিলেন তিনিই হলেন রাহমাতুল্লিল আলামীন। বিশ্ববিখ্যাত হাদীস বিশারদ মোল্লা আলী কারীর ভাষায় :

ربیع فی ربیع فی ربیع

ولکن فوق نور فوق نور

‘তিনি ছিলেন বসন্তকাল, যার আগমনে যেমন আগমন করেছে প্রাকৃতিক বসন্ত, তেমনি নৈতিকতা ও আদর্শের ভুবনেও আগমন করেছে নববসন্তের জোয়ার। তিনি ছিলেন জাগতিক বসন্তের চেয়ে লাখ-কোটি গুণ অধিক আলোদানকারী নূর।’ (মেরকাতুল মাফাতিহ)

এ শিশুর শুভাগমন সারা দুনিয়াকে নাড়া দেয়। একদিকে মা আমেনার জীর্ণ কুটির স্বর্গীয় আলোতে ঝলমল, প্রকৃতির বস্তু নিচয় আনন্দাপ্লুত। আজ ইবরাহীমের তাওহিদী হুংকার, মূসার অলৌকিক অসি, ঈসা মসীহর আলৌকিকত্ব সবই নয়া সাজে সজ্জিত আর তাগুত, শয়তান জালেমের গায়ে লেগেছে আগুন। এ রাতে কিসরার প্রাসাদের ১৪টি গম্বুজ ভেঙে পড়েছে, পারস্যের হাজার হাজার বছরের অগ্নি নিভে গেছে, শাতিল নদী শুকিয়ে গেছে, কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি শুধু কিসরার গম্বুজই নয় বরং আজমীদের শান-শওকত, রোমানদের আড়ম্বর, চীনের প্রাচীরের মতো গগনচুম্বী মহলরাজি ভেঙে পড়েছিল। শুধু পারস্যের অগ্নিই নয় বরং অবিশ্বাসের গভীর ঘন অন্ধকার এবং পথভ্রষ্টতার বেড়াজাল ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ‘তাফসীরে সোরাবাদীর’ ভাষ্য অনুযায়ী ২৫টিরও অধিক অলৌকিক ঘটনার সমাহার নিয়ে তিনি আগমন করলেন এ ধরায়। তাই তো কবি বলেছেন :

‘তাঁর গুণ বৈশিষ্ট্য লেখার সাধ্য কারো আছে কি? তিনি তো আপাদমস্তক অলৌকিকত্ব নিয়েই এসেছেন।’

‘মুহাম্মাদ’ কতই না সুন্দর নাম!

কী চমৎকার শিশু! যার দুনিয়ায় আগমনের সময় মা আমেনার প্রসব বেদনা হয়নি, নাভি মায়ের নাভির সাথে সংযুক্ত নয়, যার খতনা মায়ের পেটেই সম্পন্ন, পুত-পবিত্র গোসল করা ও সেজদারত অবস্থায় তাশরিফ এনেছেন। কবি নজরুল বলেন :

‘দেখ আমেনা মায়ের কোলে

দোলে শিশু ইসলাম দোলে

কচি মুখে শাহাদাতের

বাণী সে শুনায়।’

যার আগমনের সাথে আকাশ, বাতাস মুখরিত হচ্ছে সালাম আর সওগাতে। তাঁর নাম যে কত তাৎপর্যবহ হবে তা তো সহজেই অনুমেয়।

পিতৃহীন স্বর্গীয় নাতিকে প্রথমবারের মতো কোলে নিয়ে আবদুল মুত্তালিব পুত্রবধূ আমেনাকে জিজ্ঞেস করলেন : ‘এ চাঁদের নাম কী রাখা যায়?’ জবাবে আমেনা বললেন : “স্বপ্নে আমাকে কে যেন বলেছে, শিশুর নাম হবে ‘মুহাম্মদ’।” দাদা এ নাম শুনে খুশি হয়ে এ নামেই ডাকতে লাগলেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম, নেহায়াতুল আরব) যার অর্থ চরম প্রশংসিত। অভিধানের দৃষ্টিতে মুহাম্মাদ অর্থ যার প্রশংসা অতীতে চলেছে, বর্তমানে চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে, তিনিই হলেন মুহাম্মাদ।

মুহাম্মাদ তাকেই বলে যার মাঝে প্রশংসনীয় চরিত্রের সমাহার ঘটেছে।’

কবি হাসসান বিন ছাবিত তাইতো মসজিদে নববীর মিম্বারে বসে আল্লাহর রাসূলকে সামনে নিয়ে গেয়েছেন :

وشق له اسمه لیجله- فذو العرش محمود و هذا محمد

‘আল্লাহ (আদর ও সোহাগ করে) নিজের নাম হতে তাঁর নামকে বের করেছেন। অধিকন্তু মহান আরশের অধিপতি হচ্ছেন মাহমুদ (প্রশংসিত) আর হযরতের নাম হলো মুহাম্মাদ (চরম প্রশংসিত)।’

আমেনার আদরের দুলাল মুহাম্মাদ (সা.) তো প্রশংসা পাবারই পাত্র। যে হযরত হালিমার দুধপান করতে গিয়েও একটি স্তনের দুধ পান করছেন আরেকটি রেখে দিচ্ছেন দুধ ভাই আবদুল্লাহর জন্য। ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের দরদ, সাম্যের এরূপ নিদর্শন দুনিয়ার ইতিহাসে আরেকটি কি খুঁজে পাওয়া যাবে? শিশু মুহাম্মাদ (সা.)-এর আচার-আচরণ দেখে হালিমার আশপাশের নারীরা হিংসায় জ্বলে যেত। সবাই ভাবত, এরূপ একটি শিশুর লালন যদি আমার ভাগ্যে জুটত। দুধ ভাইয়ের এ আদর্শ দেখেই দুধবোন সায়মা কোলে নিয়ে বলছেন :

‘বেঁচে থাকুক মুহাম্মদ- সে দীর্ঘজীবী হোক

চির তরুণ চির কিশোর চির মধুর রোক।

হয় যেন সে সরদার আর পায় যেন সে মান

শত্রু তাহার ধ্বংস হোক ঘুচুক অকল্যাণ।

মুহাম্মদের পানে খোদা করুন চোখে চাও

চিরস্থায়ী গৌরব যা-তাই তাহারে দাও।’

(অনুবাদ-কবি গোলাম মোস্তফা)

শৈশবের ঘটনাবহুল দিনগুলো পেরিয়ে কৈশোরে প্রতিষ্ঠিত হলেন কিশোর মুহাম্মাদ (সা.) ‘আল-আমীন’ মুহাম্মাদ রূপে। যার অর্থ শান্তিপ্রিয়, সম্প্রীতির আধার, চরম সত্যবাদী ও পরম বিশ্বস্ত। মক্কার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ল ‘মুহাম্মাদ’ (সা.) এমন এক কিশোর যে মিথ্যা কথা বলে না, আমানতের খেয়ানত করে না, অন্যের উপকার করা যার কাজ, বড়দের সম্মান ছোটদের স্নেহ করা যার চরিত্র। গোটা মক্কার জনগোষ্ঠীর মনের মাঝে এ কিশোরের স্থান ছিল অনন্য। সবার সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে, অথচ সে অন্যায়, অশ্লীলতার ধারে কাছেও যায় না। কটুবাক্য সে বলেনি যা অন্যের মনে কষ্ট হতে পারে। আজকের কিশোর সমাজ আদর্শ কিশোর হতে হলে যে জীবন্ত প্রতীকের অনুসরণ করবে তিনি হলেন কিশোর মুহাম্মাদ (সা.)।

যুবক মুহাম্মাদ (সা.) মক্কার যুব সমাজকে নিয়ে যদিও সমাজ সংস্কারের পদক্ষেপ নিয়েছেন, কাবা ঘরে পাথর বসানো নিয়ে বিভিন্ন গোত্রের বিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে মিমাংসা করতে সক্ষম হয়েছিলেন; কিন্তু মক্কা তথা গোটা দুনিয়ার মানুষ র্শিকে নিমজ্জিত ছিল। র্শিক থেকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজন ছিল এক মহা শক্তির প্রত্যক্ষ মদদ যা সকল তাগুতী শক্তিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। যতদিন যেতে লাগল মুহাম্মাদ (সা.)-এর মনে ততই চিন্তার পাহাড় জমতে থাকে। হেরা পর্বতের গুহায় বসে ভাবছিলেন কি করে এ বিশ্বকে র্শিকমুক্ত করা যায়। খোদায়ী ওহী ধারণ করার জন্য যেসব মানবীয় গুণ ও নৈতিক চরিত্র দরকার, জনমনে যে আসন লাভ করা প্রয়োজন সে চারিত্রিক ও গুণগত বৈশিষ্ট্য ফুলে-ফলে সুশোভিত হওয়ার পরই নাযিল হলো লওহ মাহফুজে লেখা আল্লাহর বাণী আল-কুরআন। ঘোষিত হলো :

‘পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা আলাক : ১)

এ খোদায়ী নূরানি কুরআনকে যারা ধারণ করতে চায় তাদেরকেও রাসূল চরিত্রের অনুকরণীয় চরিত্র অর্জন করতে হবে।

কুরআনের নূরানি ঝলক, পুত-পবিত্র ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের মুখে ‘লা শারিক’-এর ঘোষণা সকল স্বার্থান্বেষী, সুবিধাভোগী আমলা ও দুর্নীতিবাজ শোষক শ্রেণির মাথায় হানলো এক বজ্রাঘাত। অত্যাচার, নিপীড়ন, অর্থনৈতিক অবরোধ, সামাজিক বয়কট, হত্যার হুমকি, কুৎসা রটনা এবং পাগল-যাদুকর, দেশদ্রোহী, ধর্মবিরোধীরূপে আখ্যাসহ সকল প্রকার প্রচার অর্থাৎ শয়তানি শক্তির সকল বাধা বিপত্তির মুখে দৃঢ় চিত্ত ঈমান নিয়ে আল্লাহর নবী নিজেকে ও সাহাবায়ে কেরামগণকে গড়ে তোলেন কুরআনি আদর্শে। কায়েম হলো আল্লাহর রাজ। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সংবিধানে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আদল-ইনসাফভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত প্রশাসন উপহার দেয়ার জন্য শারীরিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক দৈন্য সবকিছু সহ্য করেছেন, প্রয়োজনে পেটে পাথর বেঁধেছেন, গাছের পাতা খেয়েছেন; কিন্তু অন্যায়ের সাথে, র্শিকের সাথে, হারামের সাথে, দুর্নীতির সাথে আপোষ করেননি। মানুষের তৈরি খোদাবিমুখ আইন-কানুন, সংবিধান, সম্পূর্ণ উল্টিয়ে আল-কুরআনকে বসিয়েছেন সবার ঊর্ধ্বে। সুদভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠা করেছেন বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। মোটকথা, মাত্র তেইশ বছরের মধ্যে আল্লাহর রাসূলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে এক আদর্শ সভ্যতা, উন্নত সংস্কৃতি ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা।

রাসূলে খোদা (সা.)-এর জীবন চরিত্র-সুন্নাহ হলো আল্লাহর কুরআনের বাস্তব দিক। যারা এ সুন্নাহর পুরোপুরি অনুসরণ করবেন, এ সুন্নাহকে বাস্তবায়ন করার কাজে ব্রতী হবেন তাঁদের জন্যই হবে রাসূলের জন্ম দিবস আনন্দের। যারা প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-কে কেন্দ্র করে নিজের, পরিবারের, সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কাজ-কর্মকে রাসূলের জীবনের সাথে মিলাবেন, সে আয়নায় নিজেদেরকে দেখবেন, নিজেদের দোষ-ত্রুটি চিহ্নিত করে পরবর্তী বছরের জন্য প্রস্তুতি নেবেন তাঁদের জন্য হবে এ দিবস ঈদের দিন।

কিন্তু যে দেশের সংবিধান র্শিকমিশ্রিত, যেখানে আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষকেই ক্ষমতার উৎস বলা হয়- সে দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন আল্লাহর রাসূলের সাথে উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

যে ব্যক্তি সুদ খায়, সুদ দেয়, সুদী কারবার করে, ঘুষ খায়, ঘুষ দেয়, ঘুষের লেনদেনে জড়িত, যে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রশাসনে দুর্নীতি ঢুকায়, যে ব্যবসা-বাণিজ্যে পরকে ঠকানোর ব্যবস্থা করে, যে মালিক অন্যায়ভাবে তার শ্রমিকদের ঠকায় ও শ্রমের মর্যাদা দেয় না, যে শ্রমিক কাজে ফাঁকি দেয় তার জন্য রাসূলে খোদার জন্মদিন হবে ভয়ের দিন, দুঃখের দিন। তার জন্য এ দিবস কিছুতেই ঈদ বা খুশির হতে পারে না। যে মিলাদ মাহফিলে রাসূলের জীবন চরিত্র আলোচনা হয় না, সুদ ঘুষ ও চোরাচালানির পয়সা দিয়ে যেখানে মিষ্টি হালুয়া ক্রয় করা হয়, তাদের এ মাহফিল ও পয়সা ব্যয় রাসূলে পাকের গলায় ছুরি চালানোর মতো। যে আলেম সামান্য কিছু পয়সার বিনিময়ে রাসূলের নির্দেশিত সত্যকে গোপন রাখে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে না, সামান্য দাওয়াতের জন্য সুদখোর, মদখোর, জুয়াড়ি, বেনামাযী খোদাদ্রোহীর সাথে সম্পর্ক রাখে, তাদের ঈদে মিলাদুন্নবী পালন হবে বনি ইসরাইলের স্বার্থান্বেষী দরবারি আলেমদের মতো যাদেরকে কুরআনে কুকুর বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এরশাদ হয়েছে :

‘তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শুনাও যাকে আমি দিয়েছিলাম নিদর্শন। সে তা বর্জন করে (তাকে নিদর্শন মুক্ত পেয়ে) শয়তান তার পেছনে লাগে, আর সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আমি ইচ্ছা করলে এ সব (নিদর্শন) দ্বারা তাকে উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করতাম। কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ে ও তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে- তার অবস্থা কুকুরের ন্যায়। তার ওপর তুমি বোঝা চাপালেও সে হাঁপাতে থাকে আর বোঝা না চাপালেও সে হাঁপায়। যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের অবস্থাও এইরূপ। তুমি ঘটনা বলে দাও যাতে তারা চিন্তা করে।’ (সূরা আরাফ : ১৭৫-১৭৬)

‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন হচ্ছে জান্নাত পাওয়ার মাধ্যম এবং সাহাবায়ে কেরামের আমল। তাই সাহাবায়ে কেরামের সাথে একমত পোষন করে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাহফিল করা ঈমানদারদের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন যেন মোনাফিকদের খপ্পর থেকে আমাদের ঈমানকে হেফাজত করেন। “আমীন” বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

আজকের সমাজে বিদ্যমান সকল অন্যায়, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জুলুম থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে র্শিক থেকে মুক্ত করার জন্য মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক মাত্র পথ হলো আল-কুরআনকে আঁকড়ে ধরা, রাসূলে খোদা (সা.)-এর সুন্নাহকে বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা করা। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) রাসূলের এ চিরন্তন দাওয়াত পৌঁছানোর এবং তাঁর সাথে ভালোবাসা গড়ে তোলার মোক্ষম সময়। আমরা রাসূলের সাথে যত বেশি মহব্বতের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারব, যত বেশি দরুদ ও সালাম পাঠাব ততই ফজিলত আমল, তাগুত আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। আসুন ঘরে ঘরে রাসূলের জীবন চরিত্র আলোচনা ও বাস্তবে তা পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। ঈদে মিলাদুন্নবী সবার জন্য হোক মুবারক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
- মাওলানা আইয়ূব খাঁন -

19/07/2026
17/07/2026

পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের দলিল...
যথা সময়ে নামাজ আদায় করুন Part 16

Address

Kutubdia
Cox's Bazar
4720

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mawlana Ayub Khan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share