13/10/2023
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য
বাংলাদেশের ষড়ঋতু
ভূমিকা:বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ।দুই মাস পর পর একটি নতুন ঋতুর আগমন ঘটে। এগুলো হচ্ছে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।এগুলো পর্যায়ক্রমে আসে।
গ্রীষ্মকাল :গ্রীষ্ম প্রথম ঋতু।বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস নিয়ে গ্রীষ্মকাল।এই ঋতু তীব্র গরম নিয়ে আসে।রোদ এত গরম যে মাঝে মাঝে যে কোনো কাজ করা ক্লান্তিকর হয়ে পড়ে।পুকুর এবং খাল গুলো শুকিয়ে যায়।গ্রামবাসীরা খাবার পানির অভাবে অত্যন্ত কষ্ট ভোগ করে।কলেরা, টাইফয়েড মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঋতুতে আমরা গাছে গাছে পাকা আম ঝুলতে দেখি।
বর্ষাকাল:আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস নিয়ে বর্ষাকাল।এই ঋতুতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে।মুষলধারে বৃষ্টি হয়।মানুষ ছাতা ছাড়া বাইরে যেতে পারে না।রাস্তা-ঘাট পিচ্ছিল হয়।জেলেরা প্রচুর মাছ ধরতে পারে।গ্রামবাসীরা ইলিশ কিনতে বাজারে যায়।
শরৎকাল :ভাদ্র ও আশ্বিন মাস নিয়ে শরৎকাল। এই ঋতুতে আকাশ নীল দেখায়।রাতে পরিষ্কার আকাশে উজ্জ্বল তারকা দেখা যায়।মাঝে মাঝে আকাশে মেঘ এদিক-সেদিক উড়তে দেখা যায়।কিন্তু বৃষ্টি হয় না।পাট বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।এই ঋতুতে হিন্দুরা দুর্গাপূজা পালন করে।এই ঋতুতে সুন্দর সুন্দর ফুল ফোটে। দিন ক্রমশ ছোট হয় এবং ঠাণ্ডা পড়ে।
হেমন্তকাল :কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস নিয়ে হেমন্তকাল। এটি শিশিরের ঋতু।শিশিরের ফোটাগুলো ঘাসের ওপর পড়ে।এদের মুক্তার মতো দেখায়।এই ঋতুতে ধান পাকে এবং কাটা শুরু হয়।এই ঋতুতে আবহাওয়া না গরম না শীত।
শীতকাল : পৌষ ও মাঘ মাস নিয়ে শীতকাল। হিমালয় থেকে ঠাণ্ডা বায়ু বয়।বৃক্ষ পত্র শূন্য হয়।মানুষ শীতে
কঁ।পে।আকাশ পরিষ্কার হয়।দরিদ্র লোকেরা শীতে খুব কষ্ট পায়।সর্বত্র প্রচুর পরিমাণে তাজা শাকসবজি পাওয়া যায়।গ্রামে খেজুর রস ও পাওয়া যায়।
বসন্তকাল: ফাল্গুন ও চৈত্র মাস নিয়ে বসন্তকাল। এই ঋতুকে সব ঋতুর রাজা বলা হয়।এটি সব ঋতুর মধ্যে সবচেয়ে মনোরম। দিনগুলো গরম।প্রাণহীন বৃক্ষরা প্রাণ ফিরে পায়।নানারকম ফুল ফোটে। বসন্তকালে কোকিল মিষ্টি সুরে গান গায়।
উপসংহার :বসন্ত শেষ হওয়ার সাথে বাংলাদেশের ঋতু গুলো একটি চক্র পূর্ণ করে।প্রকৃতির মধ্যে আনন্দের সমারোহ দেখা যায়।এভাবে আমরা বাংলাদেশিরা বছরে ছয়টি ঋতু উপভোগ করি।