15/07/2026
মাদ্রাসা পড়ুয়া সন্তানের অভিভাবকদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ:-
অভিভাবক যখন সন্তানের আবদারে মাদ্রাসার চলমান ক্লাস থেকে পরিচালকের নিকট খুব আবদার ও আকুতি করে সন্তানকে বাড়ি নিয়ে যান, তখন সন্তান একটি বিষয় শিখে ফেলে—আবদার, কান্না বা মন খারাপের বাহানা করলেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভাঙানো যায়। এই অভ্যাস তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য মোটেও ভালো নয়। একদিন না একদিন এর বাস্তব ক্ষতি অভিভাবকগণ হাড়ে হাড়ে বুঝবেন।
সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়ানোর তাওফীক একটি বড় নিয়ামত। এর পেছনে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত, বরকত, মাগফিরাত, হেদায়েত এবং বংশের ও অন্যান্য আল্লাহওয়ালা মুরুব্বীদের অসংখ্য দোয়া থাকে। তাই এই নিয়ামতের যথাযথ কদর করা আমাদের দায়িত্ব।
অনেক সময় আমরা মন চাইলেই ঘরোয়া অনুষ্ঠান, বিয়ে-শাদি কিংবা অন্য কোনো প্রোগ্রামের জন্য চলমান ক্লাস থেকে সন্তানকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাই। কিন্তু এর ক্ষতি শুধু সাময়িক নয়; পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, নিয়ম-শৃঙ্খলা ভেঙে যাওয়া এবং মানসিকভাবে মাদ্রাসার পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও পড়ে।
যেকোনো ছুটি কাটিয়ে অনেক সন্তানই মাদ্রাসায় ফিরতে চায় না। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকে। এর মধ্যে যেমন শয়তানের ওয়াসওয়াসা কাজ করে, তেমনি দীর্ঘদিন বাড়িতে আরাম-আয়েশে থাকার অভ্যাসও একটি কারণ। মাদ্রাসায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, ইবাদত, তিলাওয়াত, পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন আমল—সবকিছুই একটি সুন্দর ইসলামী রুটিনের মধ্যে পরিচালিত হয়। ওস্তাদগণ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আমাদের সন্তানদের জীবনকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করেন। প্রথম কয়েক বছর এই নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত হতে ছাত্রদের কিছুটা কষ্ট হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক।
ছাত্রদের মাদ্রাসায় না আসার আরেকটি বড় কারণ হলো অভিভাবকদের অতিরিক্ত আদর-স্নেহ। সন্তান যদি বুঝে যায় যে, একটু আবদার করলেই বা মন খারাপ দেখালেই অভিভাবক মাদ্রাসার নিয়মের বাইরে গিয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে আসবেন, তাহলে সে ধীরে ধীরে নিজের আবেগ দিয়ে অভিভাবককে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে যায়। এটি সন্তানের চরিত্র গঠনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তাই সন্তানের মাদ্রাসার নির্ধারিত ছুটির সময়েই ঘরোয়া অনুষ্ঠান, বিয়ে-শাদি বা পারিবারিক প্রোগ্রামগুলো শেষ করার চেষ্টা করুন। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চলমান ক্লাসে বিঘ্ন সৃষ্টি করবেন না।
মনে রাখবেন, আপনার সন্তান স্কুলে পড়ুক বা মাদ্রাসায়—প্রথম ১০ বছর তার জীবন গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে যদি পড়ালেখার প্রতি যথাযথ গার্ড না দেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মের বাইরে গিয়ে আপনিও তাকে প্রশ্রয় দেন, তাহলে বুঝে নেবেন, সন্তানের ক্ষতির পেছনে আপনারও একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।
আরেকটি বিষয়—সন্তান কিছু চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে তা পূরণ করে দেওয়া তার ভবিষ্যতের জন্য উপকারী নয়। সব চাওয়া সঙ্গে সঙ্গে পূরণ হলে ধৈর্য, সংযম ও কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা তৈরি হয় না।
সামর্থ্য থাকলেও সন্তানকে মাঝে মাঝে অভাবের শিক্ষা দিন। সবকিছু সহজে পেলে জীবনের বাস্তবতা বোঝা কঠিন হয়ে যায়। আজ আপনার আর্থিক সামর্থ্য আছে, কিন্তু ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতেই পারে। তখন যদি সন্তান কষ্ট, অপেক্ষা ও সীমাবদ্ধতার শিক্ষা না পায়, তবে বাস্তব জীবনের কঠিন পরীক্ষায় সে সমাজের কাছে হেরে যেতে পারে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের দীনের ওপর সুদৃঢ় রাখুন, ইলমে নাফে দান করুন, উত্তম চরিত্রের অধিকারী বানান এবং অভিভাবক হিসেবে আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফীক দান করুন।
আমীন।
জাযাকাল্লাহ