Ramkrisnapur Degree College

Ramkrisnapur Degree College

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ramkrisnapur Degree College, Education, RAMKRISNAPUR, Comilla.

উদ্যোগ
মোশারফ হোসেন মোল্লা (সাবেক চেয়ারম্যান)

¯্রষ্টার সৃষ্টির ইতিহাস, পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, মানব সভ্যতার ইতিহাস নিজ নিজ জাতির ইতিহাস। নিজ নিজ সমাজের ইতিহাস। সর্বোপরি ইতিহাস নিজ নিজ জাতির দিক দর্শন। হোমনা থানার পূর্ব প্রান্তে তিতাস নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত রামকৃষ্ণপুর গ্রাম। আঁকা বাঁকা এই গ্রামটি বক্ষে ধারণ করে আছে বহু ইতিহাস। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। সমাজ সভ্যতার ইত

30/06/2021

এই বর্ষায় একটি হলেও গাছ লাগাবো।

29/06/2021

প্রিয় প্রতিষ্ঠান...!!

29/06/2021

এক শকুনের বাচ্চা তার বাপের কাছে বায়না ধরলো, -- "বাবা, আমি মানুষের মাংস খাব! "
শকুন বলল--"ঠিক আছে বেটা, সন্ধ্যার সময় এনে দেব। শকুন উড়ে গেল আর আসার সময় মুখে এক টুকরো শুকরের মাংস নিয়ে এসে বাসায় রাখলো । বাচ্চা বলল--"বাবা, এটা তো শুকরের মাংস, আমি মানুষের মাংস খেতে চাই।"
বাপ বলল --অপেক্ষা কর বাবা!
শকুনটা আবার উড়ে গেল আর আসার সময় এক মরা গরুর মাংস নিয়ে এলো।
বাচ্চা বলল --"আরে এটা তো গরুর মাংস নিয়ে এসেছ, মানুষের মাংস কোথায়?

এবার শকুনটা দুটো টুকরো একসাথে মুখে নিয়ে উড়াল দিল আর শুকরের মাংসটি একটা মসজিদের পাশে আর গরুর মাংস একটা মন্দিরের পাশে ফেলে দিয়ে চলে এলো!

কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে শুরু হলো দাঙ্গা! কয়েকশ মানুষের লাশ পড়ে গেল! তখন গাছের ডাল থেকে নেমে বাপ-বেটা মিলে খুব তৃপ্তিতে মানুষের মাংস খেল।
বাচ্চাটা খেতে খেতে জিজ্ঞেস করছে-- "বাবা, এত মানুষের মাংস এখানে কি করে এলো ?"
শকুন বললো -- "এই মানুষ জাতটাই এরকম। সৃষ্টিকর্তা এদেরকে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ বানিয়ে জন্ম দিয়েছেন, কিন্তু ধর্ম আর রাজনীতির নামে এদেরকে আমাদের থেকেও হিংস্র বানানো যেতে পারে! "
বাচ্চা বললো তুমি ধর্মকে ব্যবহার করলে কেন, কতগুলো নীরিহ লোক মারা গেল , রাজনীতি করলেই পারতে! বাবা হেসে উত্তর দিল, তাতেও নীরিহ লোকগুলোই মারা পড়তো !ধর্মটা আবেগের যায়গা তাই ফলাফলটাও তাৎক্ষণিক!তুমি আজই খেতে চেয়েছিলে! রাজনীতি টা কুটিল এবং জটিল, এটি শুরু হতে সময় নেয় কিন্তূ হলে আর থামেনা!

বাচ্চা বললো- "তোমার অনেক বুদ্ধি, বাবা.."
শকুন -- "আরেহ, ধুর!এটা তো আমি মানুষের কাছ থেকেই শিখছি, এদের একটা অংশ যখনই কোন অনিষ্ঠ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয় তখনই সহজ রাস্তা হিসেবে হয় ধর্মকে নয়তো রাজনীতিকে ব্যবহার করে........!!

সম্পূর্ণ কাল্পনিক

16/06/2021

জাতীয় সংসদ

Untitled album 23/03/2015
Photos 13/03/2015
13/03/2015

sumon green voice

12/03/2015

ভূমিকা
মোঃ মুখলেসুর রহমান মাস্টার
আরম্ভের আগেও আরম্ভ আছে। রামকৃষ্ণপুর কলেজের পথ চলার সেই আরম্ভ কে কি বলব? ভূমিকা? ইতি-হ-আস? “ইতিপূর্বে যাহা ঘটিয়েছে” তা হচ্ছে ইতিহাস। আমি ঐতিহাসিত নই। দিন-ঘন্টা ধরে নব কুশীলবের চিত্রঙ্কন সম্ভব নয়। তাই স্মৃতি আচঁড়ে আমার এ ভূমিকা।
পীরজী হুজুর; বড় কাটারা।বাংলাদেশের অনেকেই মাওলানা ওহাবকে এ নামে চেনেন।কিন্তু ওনার বাড়ি যে রামকৃষ্ণপুর কলেজের পাশেই এটা বোঁধ হয় অনেকের জানা নেই। এ পরিবারের সদস্যগণ শুধু ইসলামী শিক্ষায়ই সুপন্ডিত ছিলেন না। তাঁদের অনেকেই সাধারন শিক্ষায়ও সবোর্চ্চ ডিগ্রীধারী। শিক্ষা বিস্তারেও এঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রামকৃষ্ণপুর গ্রামের চার জমিদার বাড়ির বড় শরীক কানাই সাহা পরিবারের মুকুটহীন জমিদার কর্মবীর বাবু যোগেন্দ্রলাল রায় সর্বধর্ম মিশনের সাধক পুরুষ বাবু লবচন্দ্র পালের প্রেরনায় ১৯২৮ সনে “ রামকৃষ্ণপুর কেবল কৃষ্ণ রাজ কৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে পীরজী হুজুরের বড় ভাই ইসহাক মুন্সি, অন্যান্য শিক্ষানুরাগী-হাজী বারিক ভূঞা,হরলাল রায়, শ্রীনগর নিবাসী শীর মিঞা চৌধুরী প্রমুখ সক্রিয় সহযোগিতা করেন। রামকৃষ্ণপুর কলেজ প্রতিষ্ঠার এটা ছিল সিঁড়ির প্রথম ধাপ।দ্বিতীয় ধাপটি হল “কামাল স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়”। ১৯৭২ সনে তৎকালীন গণপরিষদের সদস্য হাজী হাসেমের নেতৃত্বে আমরা এটি প্রতিষ্ঠিত করি। আমাদের মধ্যে মরহুম দবির উদ্দীন আহমেদ, ইন্দুভূষন সাহা, খলিলুর রহমান(প্রঃ শিক্ষক), সৈয়দ মোঃ সফিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ প্রচুর পরিশ্রম করেছিলেন। ১৯৭৩ সনে মরহুম ছলিমউদ্দিন সওদাগর এবং আলহাজ্ব মোঃ আবদুল মোমেন কর্তৃক “ দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠিত হলে এতদঞ্চলে কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। অবিভক্ত চান্দেরচর ইউনিয়নের এককালীন প্রেসিডেন্ট বাবু যোগেন্দ্রলাল রায় তখনো জীবিত। বালিকা বিদ্যালয়ের মাটিতে প্রণাম করে উচ্ছসিত কন্ঠে তিনি বলেছিলেন “তোমাদের যদি আমি যৌবনে পেতাম, তাহলে রামকৃষ্ণপুর একটা কলেজ পেত। তোমরা একটা কলেজ করলে মরলে আমার হাড় পঁচবে।” হাজী হাসেমকেও তিনি সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছিলেন একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আমরা এ মানুষটির আশা তাঁর জীবদ্দশায় পূরণ করতে পারিনি।আমাদের (দবিরউদ্দিন, হবি,আমি) প্রতি অনেকেরই বিশ্বাস ছিল এবং কলেজ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিন দিন বাড়তে লাগল। ১৯৭৪ সনে এমদাদুল হক মাইঝচরে কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ নিলে হাজী হাসেম দশ হাজার টাকা প্রদানের অঙ্গীকার করেন। কিন্তু কলেজের নাম করন এবং নেতৃত্ব নিজের নাম রাখার প্রস্তাবে অনমনীয় থাকায় এমদাদুল হকের উদ্যোগ আতুঁর ঘরেই মারা গেল। তারপর কেটে গেল অনেক বছর। কিন্তু, আমাদের মন থেকে কলেজ মুছলো না।
১৯৮৩ সনের চান্দেরচর ইউনিয়নের কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী ছিল মোশারফ হোসেন (হবি) মোল্লা এবং আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল কলেজ প্রতিষ্ঠা। নির্বাচনে ফেল করলেও আমরা সে ওয়াদা ভুলিনি। বিভিন্ন সময় সে প্রচেষ্ঠা চলতে লাগল।
১৯৮৬ সনের জুনে ডাঃ ভানুমোহন ভট্রাচার্য্যের বেঠক ঘরে রামকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক বাবু ননী গোপাল সাহা,হারাধন চন্দ্র রায়,এনায়েতুল্লাহ্ ফারুকী,সৈয়দ মোঃ জহিরুল হক,মোকবুল হোসেন(মানিক) ভূঞা, হবি মোল্লা, রেজাউল করিম এবং আমি সিদ্ধান্ত নিলাম কলেজ প্রতিষ্ঠাকল্পে একটা সাধারন সভা করব। প্রস্তুতি কমিটির জন্য পরবর্তী সপ্তাহে সভা করার জন্য সৈয়দ মোঃ জহিরুল হক আমাকে একশত টাকা দিলেন। বস্তুত কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য এটাই প্রথম দান।
পরবর্তী সভা হল আমাদের মতিহার লঞ্চে। ঈদুল ফিতরের দিন এ সভায় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বালিকা বিদ্যালয়ের অন্যতম সংগঠক রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব খলিলুর রহমান ১৯৮৬ সনে কলেজ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব বলে পরবর্তীতে মহিলা কলেজের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেন। তবে সৈয়দ সাহেব, শফিউদ্দিন আহমেদ বিশেষ করে হবি মোল্লার বক্তব্য ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। হবি মোল্লার জ্বালময়ী ভাষণে সবাই উদ্বুদ্ধ হল। তাই হবি মোল্লাকে রামকৃষ্ণাপুর কলেজের মূল প্রস্তাবক বলা যেতে পারে।
আমি, হবি এবং শফিউদ্দিন প্রায় দুমাস বিভিন্ন নেতৃবর্গের সাথে যোগাযোগ করি। অনেকে উৎসাহিত করলেন আবার অনেকে নিরুৎসাহিত। এভাবে আশা নিরাশার দোলনায় দোলে ২০-০৮-১৯৮৬, বুধবার রামকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রঙ্গনে বিকেল ৩টায় হাজী আঃ মোমেনের সভাপতিত্বে কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম পূর্ণাঙ্গ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ননী বাবুর প্রচেষ্ঠায় জয়নাল আবেদীন(জাহাঙ্গীর) তার আব্বা হাজী কাজেম আলী এর নামে ২৫,০০০(পচিঁশ হাজার) টাকা দানের ঘোষণা দিল। আমরা কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খুঁজে পেলাম। এটিই প্রথম সভার সার্থকতা। সভায় অনেকে বক্তৃতা করলেও সৈয়দ মোঃ জহিরুল হকের বক্তৃতা ছিল উজ্জীবিত। দৈনিক এক কাপ চা-এর খরচ বাঁচিয়ে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে শিক্ষক কর্মচারীর বেতন সংগ্রহে তার দেওয়া প্রস্তাব হয়ে গেল একটা যুগান্তকারী শ্লোগান। ২০-০৮-১৯৮৬ তারিখের সভা করে ক্লান্ত সাথীরা উজ্জীবিত হলাম ২১-০৮-১৯৮৬ সন্ধ্যায় হাজী হাসেমকে আমাদের মাঝে পেয়ে। তিনি কোম্পানিগঞ্জ বদিউল আলম কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে এলেন। সেদিন সারা রাত আমার বাড়িতে কলেজ প্রতিষ্ঠার খুটিনাটি বিষয় আলোচিত হল। প্রকৃত পক্ষে সেদিন এই দুই শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব-সৈয়দ মোঃ জহিরুল হক , হবি, শফিউদ্দিন, সেলিম রেজা ও আমাকে নিয়ে বিনিদ্র রজনী যাপন করে রামকৃষ্ণপুরের মাটিতে কলেজের বীজ বপন করলেন। হাজী হাসেমকে আহবায়ক, আমাকে নির্বাহী দায়িত্ব ও শফিউদ্দিন এবং সেলিম রেজাকে প্রচারের দায়িত্ব দেয়া হল। বিপুল উৎসাহে আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে অর্থ সংগ্রহ,প্রচার ও অন্যান্য কাজ করতে লাগলাম। ১৭-০৯-১৯৮৬ তারিখে কুমিল্লা বোর্ডে রামকৃষ্ণপুর কলেজের অনুমোদন ফি ১৫০০/- টাকা চালান দেয়া হয়। মরহুম বড় হুজুর মনিরুল ইসলামকে অধ্যক্ষ হিসেবে দেখান হল।
এরপর এল সেই ঐতিহাসিক লগ্ন।১৯-০৯-১৯৮৬ তারিখে হাজী সাহেবের ঢাকাস্থ ৬/৪, সেগুন বাগিচার বাসায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য অধ্যাপক ডঃ আমিনুল ইসলমের নেতৃত্বে রামকৃষ্ণপুর কলেজের প্রভাষক বাছাই করা হল। এ বিষয়ে শফিউদ্দিন,আলমগীর,হাজী সাহেবের বড় ছেলে শামীম ও ছোট মেয়ে মনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। তাদের সেদিনকার সহায়তার কথা ভূলবার নয়। মোঃ মনিরুল ইসলামকে অধ্যক্ষ এবং সেলিম রেজা, আঃ জব্বর, শাহ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ, আবু নাঈম ভূঞাকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল। রামকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ননীবাবু কলেজের জন্য প্রথম ছাত্র ভর্তি করলেন। আমার বড় মেয়ে মাহবুবা রহমান হচ্ছে সেই ছাত্রী। তারপর বহু প্রতিক্ষীত ২৫-০৯-১৯৮৬ তারিখে রামকৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনে মরহুম বড় হুজুর কলেজে প্রথম পাঠ দান করলেন। শুরু হল রামকৃষ্ণপুর কলেজের পথ চলা।
সূচনাঃ প্রথমিক পর্যায়ে আমাদের কিছুই ছিল না। না ঘর-না শিক্ষাদানের উপকরণ, না প্রয়োজন শিক্ষক, শুধু ছিল প্রচন্ড মনোবল। তবে রামকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় কতৃপক্ষ যদি সেদিন তাদের স্বল্পতাসত্বেও আমাদেরকে ঘর, বেঞ্চ, প্রয়োজনীয় উপকরন দিয়ে সাহায্য না করতেন তাহলে আমাদের পক্ষে ১৯৮৬ সন থেকে কলেজের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হত না। এ আমরা তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। ২৫-০৯-১৯৮৬ তারিখের আগে থেকেই অবশ্য আমরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রঙ্গণে কলেজের ঘর তোলা শুরু করেছিলাম। এ জন্য আমরা প্রথমেই বাঁধার সম্মুখীন হই তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মতিন এর কাছ থেকে। তিনি ছিলেন পদাধিকার বলে উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি। তিনি কিছুতেই বিদ্যালয় প্রঙ্গণে কলেজের ঘর তোলার অনুমতি দেবেন না। সেদিন রামকৃষ্ণপুর ভূঞা বাড়ির মানুষজন, বিশেষ করে, হাজী হাফেজ শাহআলম ভূঞা, ছিদ্দিকুর রহমান ভূঞা, এমদাদুল হক ভূঞা প্রমুখ যদি উদ্যোগী ভূমিকা না নিতেন তাহলে হয়তো আমরা ঘর তোলার অনুমতি পেতাম না। যাহোক, তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় মতিন সাহেব ঘর তোলার অনুমতি দিলেন। উপরন্তু উপজেলা পরিষদের পক্ষথেকে একটি কাঠের আলমারী এবং পরবর্তীতে নিজ তহবিল থেকে দশ হাজার টাকা দান করলেন। হাজী হাসেমের প্রচেষ্ঠায় ২৯-০৯-১৯৮৬ তারিখে তৎকালিন জেলা প্রশাসক আশিকুর রহমান কলেজ পরিদর্শনে এলেন। ডাইরেক্টর অব র্স্পোটস আজিজুল হক এলেন ১৪-০৯-১৯৮৭ তারিখে। তাঁর বদান্যতায় সরকারীভাবে কলেজ কিছু ক্রিয়া সামগ্রী পেল। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটল ০২-০৯-১৯৮৭ তারিখে। ডাঃ সিদ্দিকুর রহমানের ওষুধের দোকানে মরহুম বড় হুজুরের ভাষায়-“মুখলেস, তোমার কলেজ আজ সম্পূর্ণ হল। ইনশা-আল্লাহ্ এ কলেজ টিকবেই।” ঘটনাটি হল আঃওয়াহেদ সওদাগরের প্রচেষ্টায় সেদিন কলেজের জন্য প্রথম জমি সংগৃহীত হয়। বর্তমান কলেজ ভবনের কিছু অংশ ও সামনের বাগানটি হচ্ছে সেই জায়গা। আল্লাহর অশেষ রহমতে ০৬-১১-১৯৮৭ তারিখে রামকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কলেজ নিজস্ব জমিতে স্থানান্তরিত হল। এরপর আশা নিরাশার দোলায় চেপে ১৯৮৮ সনে আমাদের প্রথম পরীক্ষার্থীগণ হোমনা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিল। এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ছিল ৫১.৭০; হোমনা কেন্দ্রের ৫৫% এবং আমাদের ছিল ৬৫.৯৮%। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৬ আমাদের চলার এ দীর্ঘ পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। উৎকন্ঠায় কেটে যেত সময় এই বুঝি শেষ হয়ে গেল যাবতীয় প্রচেষ্টা। যাদের সহায়তায়,প্রেরণায় ও প্ররিশ্রমে আজকে আমাদের এই অবস্থান তাঁদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।
এলাকাবাসীঃ প্রাথমিক পর্যায়ে কলেজ ছিল শুধু নামেমাত্র। অর্থাভাব ও সময়ের স্বল্পতার দরুণ আমাদের তখন কিছুই ছিল না। প্রথমাবস্থায় আমাদেরকে বিশ্বাস করে যারা ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করিয়েছেন; নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে রামকৃষ্ণপুর বাজার এবং লঞ্চ ঘাটের ডাক কলেজের নামে পাইয়ে দিয়েছেন; চা খরচ বাঁচিয়ে প্রতি সপ্তাহে ৭ টাকা আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাঁদের ঋণ
শোধবার নয়। তাঁরা কলেজে বিন্দু বিন্দু রক্তের ফোঁটা যোগান দিয়েছেন। মরহুম শাকির হোসেন মোল্লা ও ইদ্রীস মোল্লা এ বিষয়ে যথেষ্ট পরিশ্রম ও সহযোগিতা করেছেন আমাদেরকে। আজ তার কথা খুব বেশি করে মনে পড়ছে। আল্লাহ্ তাদের আতœাকে শান্তি দান করুন। কলেজের ঘর তোলার জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাঁশ সংগ্রহে ছাত্ররা, বিশেষ করে আখন্দপাড়া নিবাসী খলিল আহমেদ খন্দকারের প্রচেষ্টা ছিল উৎসাহব্যঞ্জক।
শিক্ষকবৃন্দঃ মরহুম বড় হুজুর মনিরুল ইসলাম ছিলেন এ কলেজের প্রাণ। তিনি অধ্যক্ষের দায়িত¦ পালন করলেও ১৯৯১ সন পর্য্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাদান করেছেন। কি ঝড়, কি বৃষ্টি কোন কিছুই তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। চান্দেরচর থেকে রামকৃষ্ণপুর দৈনিক ৭ মাইল তিনি হেঁটেছেন, আল্লাহর এই নেক্ বান্দার ঋণ আমরা শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দিয়ে শোধ করার চেষ্টা করে যাব আজীবন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাজী কাজেম আলী ও ননীবাবু ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজী প্রভাষকের অভাব বুঝতে দেননি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিম রেজা এবং ওয়ালিউল ইসলাম, আঃ জব্বার, আবু নঈম ভূঞা, রৌশন আহমদ, শফিকুল ইসলাম, গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার, নুরুল হক প্রমুখ প্রভাষকবৃন্দ নিঃস্বার্থভাবে ছাত্র - ছাত্রীদের মুখের দিকে চেয়ে যে পরিশ্রম করেছেন তার মূল্য কি কলেজ কোনদিন দিতে পারবে? সেলিম রেজার হাতে লেখা সাইনবোর্ডটি আজো কলেজের প্রতি তার আন্তরিকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের বর্তমান সুযোগ্য অধ্যক্ষ শফিউল আলম দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত নঈম সাহেব অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে কলেজকে যাবতীয় ঝড় ও ঝঞ্জার হাত থেকে আগলে রেখেছেন। আমার পরম সৌভাগ্য এ সমস্ত মহৎ প্রাণ বিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী আমার পর্ণ কুটিরে রেখে কিছুদিন রেখে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।
আলহাজ্ব আবুল হাসেমঃ কাশিপুর হাসমিয়া হাই স্কুল এবং রামকৃষ্ণপুর কামাল স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। হাজী হাসেমের বাড়ি মুরাদনগর। রামকৃষ্ণপুর কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনিই ছিলেন আমাদের মূল প্রেরণা। অর্থ সংগ্রহ এবং প্রতিষ্ঠানিক অন্যান্য কাজে বিভিন্নভাবে এই বৃদ্ধ বয়সেও প্রচুর সময় তিনি দিয়েছেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অস্থানীয় হয়েও নানা রকম গঞ্জনা ও উপেক্ষ সহ্য করেছেন। সমস্ত এলাকার মানুষ দানবীর হিসেবে হাজী হাসেমকে চিরদিন তাদের হৃদয়ের মণিকোঠরে স্থান দেবে।
সিরাজুল ইসলামঃ আসাদপুর নিবাসী সিরাজুল ইসলাম যদি কলেজের পৃষ্ঠপোষক না হতেন তাহলে আমরা হয়তো কলেজই করতে পারতাম না। যখনই অর্থের প্রয়োজন হয়েছে তাঁর কাছে হাত পেতে বিমুখ হতে হয়নি। হাজী হাসেম কলেজের নামকরণ করতে চেয়েছেন সিরাজুল ইসলামের নামে। বাঁধ সেধেছেন এই প্রচার বিমুখ নিঃস্বার্থ এবং একনিষ্ঠ সমাজসেবক মানুষটি নিজেই। তাঁর স্ত্রী আমাকে এবং হবি মোল্লাকে বিভিন্ন সময় যে আতিথেয়তা করেছেন আমরা চিরকৃতজ্ঞ।
আলহাজ্ব আঃ মোমেন ঃ দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং হোমনা কলেজের সত্যিকারের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মোমেন সাহেব রামকৃষ্ণপুর প্রতিষ্ঠার প্রথম সভার সভাপতি। তাঁর মাধ্যমেই আমরা পরিচিত হই সিরাজুল ইসলামের সাথে। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় রামকৃষ্ণপুর কলেজে অনেকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েছেন। আমরা কলেজের বিভিন্ন কাজে তাঁর বাসায় থেকে তাঁর স্ত্রীকে জ্বালতন করেছি। মতৃসমা এ মহীয়সী নারী আমাদেরকে তাঁর ¯েœহ থেকে কোনদিন বঞ্চিত করেননি।
এম,কে,আনোয়ার ঃ “ তুমি আমাদের পরশমনি, তোমার হাতের ছোঁয়ায় হোমনার ধূলিকণা পরিণত হয়েছে সোনায়।” পঙক্তির জলজ্যান্ত প্রমাণ রামকৃষ্ণপুর কলেজ। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত যে কলেজটি রক্তশূন্য অবস্থায় ধুঁকে ধুঁকে মরছিল, তাকে তিনিই সঞ্জীবনী সুধা পান করিয়ে পুনঃজন্ম দিয়েছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ০১-০৭-১৯৯০ তারিখে কলেজটি সরকারি শিক্ষক-কর্মচারী বেতন ভাতার সরকারি অংশের মঞ্জুরী পায়। শুধু তাই নয়, প্রথম সরকারী দান দশ হাজার এবং পরবর্তীতে আড়াই লক্ষ টাকা অনুদান না পেলে তখন ঘরের অভাবে শিক্ষাদানই সম্ভব হত না। এক কথায় কলেজের সার্বিক উন্নয়নে তার ভূমিকা অবিস্বরণীয়। এই মহান ব্যক্তির সাথে ১৯৮৮ সনের বন্যায় যদি রামকৃষ্ণপুর পরিচিত না হত তা হলে কলেজের স্বপ্ন হয়ত স্বপ্নই থেকে যেত। আজকের এই আধুনিক কলেজের সত্যিকার রূপকার হচ্ছেন এম,কে,আনোয়ার।
এই দীর্ঘ সময়ে অনেকের কথাই মনে পড়ে। মরহুম দবিরউদ্দিন আহম্মদের স্বপ্ন ছিল কলেজ প্রতিষ্ঠার, মরহুম সিরাজুল করীম কি পরিশ্রই না করেছেন। আমার বন্ধুবর অনীল চন্দ্র সাহা, হারাধন চন্দ্র রায় ছিলেন নিত্যসঙ্গী। শ্রদ্ধাভাজন আঃ কুদ্দুস সরকার, আঃ ওয়াহেদ সওদাগর, আঃ মজিদ সওদাগর, ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ছিলেন আমাদের প্রেরণা ও সহায়ক শক্তি। তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা না পেলে আমি কোন কাজই করতে পারতাম না। কলেজের বৈজ্ঞানিক যন্দ্রপাতি রাখব আলমারী কেনার টাকা নেই। ওয়াহেদ সাহেব দোকান থেকে বড় একটা আলমারী দিয়ে সাহায্য করেছেন, কোন পয়সা নিলেন না। কলেজের জন্য বাজার ডাকবো,টাকা পাই কই? কুদ্দুস সরকার টাকা ধারদিয়ে সাহায্য করেছেন। একবার ঈদের আগে টাকা নেই কি করি? পরম ¯েœহাস্পদ শাফায়াত উল্লাহ একদল ছাত্র নিয়ে রোজার মধ্যে সারাটা দিন রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে প্রায় সাত হাজার টাকা সাহায্য সংগ্রহ করে আনল। আমার একান্ত অনুগত ছাত্র শফিউদ্দিন, এমদাদ,মোস্তফা-এরা ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। আর রামনগর নিবাসী আঃ মতিন আমাদের বিশ্বাস করে কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিয়ে যে সাহায্য করেছেন তার তুলনা হয়না। আমরা আজ পর্যন্ত সে ঋণ শোধ করতে পারিনি। আরেক জনের কাছেও আমরা আজ পর্যন্ত ঋণী। তিনি হচ্ছেন বাবু অরুন কুমার রায়। কলেজের ঘর তুলতে পারছিনা। ননীবাবু তার এই ছাত্রটির কাছ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা ঋণ সংগ্রহ করে দিয়েছেন।
এভাবে গড়ে উঠেছে এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী রামকৃষ্ণপুর কলেজ। সবাই সাধ্যাতীত পরিশ্রম করেছেন, অনেকের কথা হয়ত আমার মনে নেই, তাই তাদের কথা উল্লেখ না করে ঋণী হয়ে রইলাম। আমার পরম সৌভাগ্য আমার বেকার জীবনের অনেক গুলো বছর কলেজ এবং বিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলীর সাহচর্য্যে সমৃদ্ধ হওয়ার প্রয়াস পেয়েছি। আমার পরিবারবর্গ বিশেষ করে আমার সহধর্মিনী লুৎফা রহমান আমাকে এ বিষয়ে সাহায্য করতে কার্পণ্য করেননি। আজ কলেজটিকে দেখলে মনে হয় রাতের চেয়ে স্বপ্ন বড়। নতুন প্রজন্ম কলেজটির শ্রী ও মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে আমাদের স্বপ্নকে বাস্তব করবে, এ আশা রেখে আমার ভূমিকা শেষ করছি।

11/03/2015

Ramkrisnapur Degree College উদ্যোগ
মোশারফ হোসেন মোল্লা (সাবেক চেয়ারম্যান)

¯্রষ্টার সৃষ্টির ইতিহাস, পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, মানব সভ্যতার ইতিহাস নিজ নিজ জাতির ইতিহাস। নিজ নিজ সমাজের ইতিহাস। সর্বোপরি ইতিহাস নিজ নিজ জাতির দিক দর্শন। হোমনা থানার পূর্ব প্রান্তে তিতাস নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত রামকৃষ্ণপুর গ্রাম। আঁকা বাঁকা এই গ্রামটি বক্ষে ধারণ করে আছে বহু ইতিহাস। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। সমাজ সভ্যতার ইতিহাস ও ধর্মীয় এবং জাগতিক শিক্ষার ইতিহাস। এ গ্রামে দুটো সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি হিন্দু অপরটি মুসলমান। মুসলমানদের মধ্যে যাদের নাম সমাজে ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে অমর হয়ে রয়েছেন এঁরা হলেন আহসানউল্লাহ মুন্সি, ইছহাক মুন্সি, মাওলানা আঃওহাব যিনি এশিয়া মহাদেশে পীরজীহুজুর নামে সুপরিচিত। আরেক জন হচ্ছেন মরহুম বারেক ভূঞা- মতিউল্লাহ জুনিয়ার মাদ্রসার প্রতিষ্ঠাতা। সমাজ সংস্কারক হিসেবে, শিক্ষানুরাগী হিসেবে হিন্দুদের মধ্যে যাঁর নাম আসে তিনি হচ্ছেন বাবু যোগেন্দ্র লাল রায়। যিনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ১৯২৮ প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণপুর কেবল কৃষ্ণ রাজ কৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করেছেন প্রয়াত বাবু হরলাল রায় এবং শ্রীনগর নিবাসী মরহুম শির মিঞা চৌধুরী।
তারপর কেটে যায় তিন যুগেরও বেশি সময়। মুক্তি পাগল বাঙালি স¦াধীকার আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৭১ সনে ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে যখন দেশ স্বাধীন করলেন সমাজে তখন নতুন আলোর দিশা দেখা দিল। সে আলোর দিশা হলো নারী শিক্ষার প্রসার। স¦াধীকার আন্দোলনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের আলাদা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব অনুভূত হয়। রামকৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র আঃ হলিমের সভাপতিত্বে ১৯৭২ সনের ২১ শে ফেব্রুয়ারীর জনসভায় প্রস্তাব করা হলো স্বাধীনতা সংগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কামালের নামে কামাল স্মৃতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সে সভায় এলাকার যুব সমাজের কন্ঠস্বর মোঃ সফিউদ্দিন আহাম্মদ এবং আলহাজ্ব আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি হিসেবে তখন আলহাজ্ব আবুল হাশেম ছিলেন এম,এন,এ।
এমনিভাবে সমাজ যখন এগিয়ে চলছে যুগের চাহিদা ও সমাজের প্রয়োজনে নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রয়োজনের দিকে লক্ষ রেখে ক্ষনজন্মা কিছু সমাজ সেবকের চেষ্টা ও প্রয়াস হচ্ছে রামকৃষ্ণপুর কলেজ। এ প্রয়াস ও প্রেরণা এসেছে ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণপুর কেবল কৃষ্ণ রাজ কৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও রূপকার প্রয়াত বাবু যোগেন্দ্র লাল রায়ের নিকট হতে। যতটুকু মনে পড়ে প্রয়াত বাবু যোগেন্দ্র লাল রায় কামাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা আরজিনা বেগমের কক্ষে বসা। মোখলেসুর রহমান, মরহুম দবির উদ্দিন আহম্মেদ ও আমি গিয়েছিলাম প্রধান শিক্ষিকার সাথে দেখা করতে। জানিনা, কেন সেদিন প্রয়াত বাবু যোগেন্দ্র লাল রায় অত্যন্ত দুঃখ করে বলেছিলেন “আমার যৌবনে তোমাদের মত উৎসাহী ও উদ্যোগী নেতা যদি পেতাম তাহলে আমার অসমাপ্ত কাজটিও সমাধা করতে পারতাম। সে অসমাপ্ত কাজটি হল রামকৃষ্ণপুরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা।”
সত্যি কথা বলতে কি সেদিন থেকেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করার। তারপর আমরা বন্ধুবান্ধব নিয়ে একত্রে যখনই আড্ডা মারতাম অথবা কোন বৈঠকে বসতাম তখনই কলেজ সম্বন্ধে আলাপ আলোচনা ও মত বিনিময় করতাম। এরই মধ্যে এলাকায় কলেজ নামক তিন অক্ষরের এই শব্দটি যুগের চাহিদা এবং এলাকার কৃষক,শ্রমিক,তাঁতী,জেলে,কামার,কুমার সকলের প্রাণের দাবী হয়ে উঠল।
সম্ভবতঃ ১৯৮২ সাল। ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে নির্বাচনে আমাকে মরহুম দবির উদ্দিন,মোখলেছুর রহমান,সৈয়দ মোঃ জহিরুল হক এরা তিন জন এবং নেপথ্য থেকে পরম শ্রদ্ধেয় মরহুম মাওলানা মুস্তাজাব(নিসু মৌলবী), শ্রী ভানু মোহন ভট্রাচার্য্য ও অশ্বিনী কুমার সাহা প্রমুখ মিলে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী করার মনস্থির করেন। আমরা সবাই মিলে একটা সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ঠিক করলাম। আমার নির্বাচন ছিল কর্মসূচী ভিত্তিক। সে কর্মসূচীর প্রধান যে ওয়াদাটি ছিল তা হল রামকৃষ্ণপুরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। শুরু হল নির্বাচনী প্রচারণা। প্রথম নির্বাচনী সভা আখন্দপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির কক্ষে; এলাকার গরীব ছাত্রছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার দুয়ার উন্মুক্ত করার মানসে রামকৃষ্ণপুরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব করি। উপস্থিত সকলে সে প্রস্তাবে সমর্থন করেন। সে নির্বাচনে আমি পরাজিত হই। কিন্তু কলেজ করার পরিকল্পনা আমরা বাদ দিইনি। একই বৎসর হোমনা থানা কেন্দ্রীয় কৃষক সমবায় সমিতি বর্তমানে(বি,আর,ডিবি)- চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। এই সুবাদে তৎকালিন থানা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আমার ঘনিষ্ট সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। রামকৃষ্ণপুর কলেজ যে বছর প্রতিষ্ঠা হল তারও দুবৎসর পূর্বে হওয়ার কথাছিল। কিন্তু বাদ সাধলেন থানা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সাহেব। তিনি আমাকে ,সৈয়দ জহিরুল হক, মুখলেসুর রহমান মাস্টারকে অনুরোধ করলেন,- “ রামকৃষ্ণপুর কলেজ আপনারা দুইবৎসর পরে আরম্ভ করেন। আমি চাকুরীজীবি, কখন বদলি হয়ে যাব তার ঠিক নেই। আমি থাকতে হোমনায় কলেজ প্রতিষ্ঠা করে যাই।” বন্ধুত্বের কারণে আমরা সে অনুরোধ রক্ষা করি। হোমনায় কলেজ প্রতিষ্ঠা হল।
দেখতে দেখতে এক বৎসর কেটে গেল। আমরা কলেজ করার জন্য রামকৃষ্ণপুর হাই স্কুলে আমি ও মোখলেসুর রহমান যুগ্ম আহবায়ক হয়ে প্রাক্তন ছাত্রদের সম্মেলন ডাকি। সে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুরবাসী আমাদের শ্রদ্ধেয় বড় ভাই শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আঃ মোমেন সাহেব। এই সম্মেলনে দানবীর হাজী আবুল হাশেম উপস্থিত থাকার কথা। তিনি নির্ধারিত দিনে না এসে এলেন পরদিন। সে সম্মেলনে অর্থদিয়ে সাহায্য করার মানসে প্রথম যে ব্যক্তি এগিয়ে এলেন তিনি হচ্ছেন মোঃ কাজম আলী এম,এ। প্রকৃতপক্ষে তিনি হচ্ছেন প্রস্তাবিত রামকৃষ্ণপুর কলেজের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
প্রস্তাবিত কলেজের যাত্র শুরু হল। ডাঃ ভানু মোহন ভট্রাচার্যের বাড়ীতে আমরা সবাই এক বৈঠকে মিলিত হলাম। সে বৈঠকে মিলিত হলেন মোখলেসুর রহমান মাষ্টার,সৈয়দ মোঃ জহিরুল হক,শ্রী হারাধন রায়, মুকবুল হোসেন ভূঞা এবং যতটুকু মনে পড়ে শফিউদ্দিন আহম্মদও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সবই একমত হয়ে সিদ্ধন্ত নিলেন ঈদের দিন মোখলেছ সাহেবের মতিহার লঞ্চে পরবর্তী সভা ও শলাপরামর্শ করবেন। নির্ধারিত দিনে সমস্ত এলাকার চাকুরীজীবি থেকে নিয়ে সমাজসেবক, যুবশ্রেণীর ও ছাত্রদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হল এ বৎসরেই কলেজ করা হবে। কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে যাহা প্রয়োজন তা আমাদের নিকট নেই। কিন্তু আমাদের মধ্যে মনোবল ছিলো অত্যন্ত দৃঢ়। এক পর্যায়ে রামকৃষ্ণপুর হাই স্কুলে কলেজের কাজ শুরু করার জন্য আমরা শ্রদ্ধেয় হেডমাষ্টার বাবুকে অনুরোধ করি। তার এবং এমদাদ ভূঞা ও হাফেজ শাহ আলম ভূঞা প্রমুখের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্কুলের ম্যনেজিং কমিটি শেষ পর্যন্ত স্কুলে কলেজের কাজ প্রাথমিক ভাবে শুরু করার অনুমতি দিলেন। স্কুলের দক্ষিণাংশে একটি লম্বা ঘর আমরা তৈরি করি। কলেজের প্রারম্ভে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন আমাদের এলাকার পরম শ্রদ্ধেয় বড় হুজুর মরহুম মনিরুল ইসলাম এম,এ,এল,এল,বি,বি এড্(ফার্স্ট ক্লাস) । ওনার হাতেই প্রথম ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হলেন আমাদের নাতনী মাহবুবা রহমান। সে ঘরটিতে ক্লাস শুরু হলো। সেই দুর্দিনে যে প্রভাষকবৃন্দ ছিলেন তারা হলেন এ,এস,এম সেলিম রেজা, আঃ জব্বর, আবু নঈম ভূঞা, রৌশন আহাম্মদ প্রমুখ। উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করার এ প্রয়াসে সাড়া দিলেন নিন্মবিত্ত,মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তের একটি ক্ষুদ্র অংশ- যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসফ হচ্ছে রামকৃষ্ণপুর কলেজ।
কলেজটি প্রতিষ্ঠালগে নিজস্ব কোন জমি ছিলনা। এ কলেজ প্রতিষ্ঠায় যারা প্রথম জমি দিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে এলেন(যদিও জমির দাম পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হয়) তারা হলেন আলী আজম, আছিয়া বেগম,আঃ ওয়াহেদ সওদাগর, আঃ মজিদ সওদাগর,আঃ মতিন সওদাগর,হারুন মিঞা,আলহাজ্ব জয়নাল আবেদিন প্রমুখ। তাঁরা সহযোগিতার হাত না বাড়ালে কলেজের জমি পাওয়া খুবই দুরুহ ছিলো।
“এক কাপ চা -একটি কলেজ”- এই শ্লোগানকে বাস্তবায়ন করতে সেদিন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আঃ কুদ্দুস সরকার, ইদ্রিস মোল্লা, মরহুম শাকের হোসেন। যতটুকু মনে পরে‘কুমিল্লা উত্তর সূতা ব্যবসায়ী সমিতি’, হোমনা থানা ক্ষুদ্র বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতি, রামকৃষ্ণপুর বাজারের প্রতিটি ব্যবসায়ী আন্তরিকভাবে সাহায্য এবং সহযোগিতা করেছেন এ কলেজ প্রতিষ্ঠায়। সেদিন হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের ¯েœহস্পদ ভাতিজা শাফায়াত উল্লাহ তার সঙ্গীদের নিয়ে মুরাদ নগর থানার রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছিলো। এলাকার মুসলমান এবং হিন্দু জাতি-ধর্ম নির্বিষেশে সকল মুরব্বীগণ চেয়েছেন কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হউক। মসজিদ এবং মন্দিরে সবাই মিলে সেদিন প্রার্থনা করেছেন এই কলেজের জন্য। তাদের আশা কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলে পান্তাভাত খেয়েও এলাকার ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখবে। একদিন এ কলেজের ছেলে মেয়েরা দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে । এটাই ছিল আমাদের মনের ও প্রাণের কথা।
যাঁদের মানসিক এবং আর্থিক সহযোগিতা সর্বদিক দিয়ে আমাদের উৎসাহ ও প্রেরনা প্রেরণা যুগিয়েছে তাঁরা হলেন আলহাজ্ব আবুল হাশেম (প্রাক্তন এম,এন,এ), আলহাজ্ব আঃ মোমেন (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী), বন্ধু সিরাজুল ইসলাম, আলহাজ্ব মিজানুর রহমান,শ্রী অরুন কুমার রায় প্রমুখ।
কলেজ করার চেয়ে কলেজ সঠিক পরিচালনা করা ও রক্ষা অত্যন্ত কঠিন ও দূরূহ ব্যাপার। কলেজটি প্রতিষ্ঠা লগ্নে আমি দেখেছি আমাদের এ সমাজের একজন মুরব্বী যিনি নিজে কলেজের লেট্রিন নির্মাণ করার জন্য নিজ কাঁধে চাকা বহন করেছেন, তিনি হচ্ছেন আঃ কুদ্দুস সরকার। তিনি পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রীর জমি আছিয়া বেগমের নামে কলেজকে জমি দিয়েছেন। এ কলেজের চরম দুর্দিনে, কলেজটি যখন চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থার সম্মুখিন, যখন সরকারীভাবে অর্থনৈতিক সাহায্যের একান্ত প্রয়োজন, আমরা- যখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কলেজের অর্থনৈতিক সম্মতি পাব কি পাবনা-ঠিক সেই মুহুর্তে এম, কে, আনোয়ার সাহেব কলেজটির কর্ণধারের ভূমিকা পালন করেন।
কলেজের সৃষ্টিলগ্ন থেকে এই অব্দি সব চাইতে বড় ভূমিকা পালন করেছেন এই কলেজের প্রভাষকবৃন্দ। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে কলেজটি টিকে আছে। প্রভাষকবৃন্দের অবদান এই কলেজের স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। সর্বোপরি একজন অভিজ্ঞ সুদক্ষ কারিগর হচ্ছেন কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল আলম- যাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে একটি টিম স্পিরিট গড়ে উঠেছে। এই টিম স্পিরিট ধরে রাখতে পারলে তিলে তিলে গড়ে উঠা কলেজ উত্তরোত্তর আরো ভাল করবে। তার কলেরব আরো বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে একটি শিক্ষা কমিটি গঠন করে নিয়মনীতির ভিতর পরিচালনা করতে পারলে একদিন এ এলাকার প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো জ্বলে উঠবে। কোন উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয় এবং তার পেছনে যদি কুটবুদ্ধি না থাকে তা হলে সে উদ্দেশ্য অবশ্যই সফল হয়। এলাকাবাসীর মহৎ উদ্দেশ্য আজ সফল হয়েছে।

Want your school to be the top-listed School/college in Comilla?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address

RAMKRISNAPUR
Comilla
3541