তমদ্দুন মজলিস কাদের ছিল— মুসলিম লীগের, আওয়ামী মুসলিম লীগের, নাকি জামায়াতে ইসলামীর?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতেই বৃটিশ সরকার যুদ্ধ শেষে ভারতকে স্বাধীনতা দিবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল, শর্ত ছিল যুদ্ধে বৃটিশদের সহযোগিতা করতে হবে। তখন থেকেই স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, এরপর পাকিস্তান প্রস্তাবের পর স্বাধীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তমদ্দুন মজলিসের আগেও বহু লেখক রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। এই সব আলোচনা, রচনার কোনটিই সরকারি ছিল না। এমনকি তখনও সরকারি কোন সিদ্ধান্তও ছিল না যে রাষ্ট্রভাষা কী হবে।
কিন্তু, জিন্না যখন 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' বলে ঘোষণা করলেন, তখন তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছিল কারা? কারা মানি না মানব না বলে জিন্নার সভায় শ্লোগান তুলেছিল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রেরা। তারা কোন নির্দিষ্ট দলের ছিল না, আন্দোলন চালানোর জন্যই পরে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল।
যখন আন্দোলন শুরু হয়, যখন পাকিস্তানি পুলিশ ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালায়, তখন তমদ্দুন মজলিশ কোথায় ছিল? তারা কি সংগ্রাম পরিষদের সাথে একাত্ম ছিল? তারা কি তখন পৃথক ভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছিল? না, তারা তখন মুখে কুলপ এঁটেছিল।
তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্রের যে সংখ্যায় রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে তিনটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল তা ভিন্ন ভিন্ন তিনজন লেখকের। তাদের মধ্যে একজন পাকিস্তান আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলেন, অবশ্য তার পুত্রেরা এখন পাকিস্তানের দাসানুদাস। আরেকজন মোতাহার হোসেন চৌধুরী। এবং তমদ্দুন মজলিসের পক্ষে আবুল কাসেম।
একই বিষয়ে তিনজনের লেখা একই পত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর, দুইজনের নামকে অস্বীকার করে একজনের নাম সামনে নিয়ে আসার লক্ষ্য সত্য প্রকাশ নয়, বরং সত্যকে ঢেকেঢুকে আংশিক প্রকাশ। অথচ যে দুইজনের নাম পেছনে ফেলে রাখা হচ্ছে, তাঁরা দুইজনেই বাংলা ভাষায় স্বনামধন্য সাহিত্যিক, কবি, বিজ্ঞান লেখক।
জেগে আছি
শিল্প, সাহিত্য ও বিনোদন
ভালবাসাটাকে খুঁজে বেড়িও না। ওটা ঘোড়ার পায়ের নালও নয় আর মাটির তলায় মোহরের কলসীও নয়। হাতড়ে চললেই হোঁচট খাবে। তবে কোথায় আর কবে সত্যিকারের ভালবাসবার মত ভালবাসাটুকুকে পাবে তা জানবার চেষ্টাও করো না। খানেখানে পাওয়া যায়—সবটুকু রসগোল্লায় মত একজায়গার তাল পাকিয়ে রসের গামলায় ভাসে না।
মুরলীদা, শৈলজা, প্রেমেন আর আমি চারজন ভবানীপুর থেকে এক দলে, আর অন্য দলে ডি-আর, গোকুল, নৃপেন, ভূপতি, পবিত্র, সুকুমার— সকলে সদলবলে হুগলিতে এসে উপস্থিত হলাম। প্ল্যাটফর্মে স্বয়ং নজরুল। “দে গরুর গা ধুইয়ে” অভিনন্দনের ধ্বনি উঠল। পূর্ব-পরিচয়ের নজির এনে ব্যবধানটা কমাবার চেষ্টা করা যায় কিনা সে-কথা ভেবে নেবার আগেই নজরুল সবল আলিঙ্গনে বুকে টেনে নিলে—শুধু আমাকে নয়, ভনে-জনে প্রত্যেককে। তোমরা হেঁটে-হেঁটে একটু-একটু করে কাছে আস আর আমি লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে পড়ে জাপটে ধরি–সাঁতার জানা থাকতে সাঁকোর কি দরকার!
27/02/2024
বৃন্দাবন দাস-রচিত চৈতন্য ভাগবত-এর পঙ্ক্তি চতুষ্টয়ে নিঃসন্দেহে অতিশয়োক্তি আছে। তবে পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দীতে দেশের নানা জায়গা থেকে বহু মানুষ যে বিদ্যাশিক্ষার জন্য নবদ্বীপে হাজির হতেন, সেটি কোনও অতিশয়োক্তি নয়। বলা বাহুল্য, বিদ্যাচর্চার ক্ষেত্রে নবদ্বীপের এই দেশজোড়া খ্যাতি রাতারাতি ছড়িয়ে পড়েনি। অষ্টম-নবম শতকে পাল রাজাদের আমলে রাঢ় বাংলায় কয়েকটি বিদ্যাচর্চা কেন্দ্র গড়ে ওঠে। অনেকে মনে করেন, এই সময়েই নবদ্বীপের নিকটবর্তী সুবর্ণবিহারে বৌদ্ধবিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বৌদ্ধবিহারে বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনের পঠন-পাঠন হত। গবেষকদের অনুমান, বৌদ্ধধর্মের অবনতির সময়ে বিহারটির পতনের পরে, এই অঞ্চলের ব্রাহ্মণ পণ্ডিতেরা কালক্রমে বৌদ্ধদের দর্শন ও ন্যায়শাস্ত্রের সারাংশ আয়ত্ত করে ন্যায় ও স্মৃতি চর্চা শুরু করেন। কাজেই এই সময় থেকে জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে নবদ্বীপের জয়যাত্রা শুরু হয় বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।
‘বাংলার অক্সফোর্ড’ নবদ্বীপ : একটি বহুপ্রচলিত মিথের বিনির্মাণ | দেবোত্তম চক্রবর্তী | জেগে আছি নানা দেশ হৈতে লোক নবদ্বীপ যায়। নবদ্বীপে পড়িলে সে বিদ্যারস পায়॥ অতএব পড়ুয়ার নাহি সমুচ্চয়। লক্ষ কোটি অধ্যাপ....
19/12/2023
চীন বাংলা/দক্ষিণ এশিয়া সংযোগ | বিশ্বেন্দু নন্দ | জেগে আছি চীন এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য, কৃষ্টিগত, কূটনৈতিক যোগসূত্র বেশ কয়েক হাজার বছরের পুরোনো হলেও প্রবন্ধে আমরা আলোচনা...
17/12/2023
বিদ্যার দেবী সরস্বতী- এই বাক্য অনেকেই জানেন। পশ্চিমে জ্ঞানের দেবী যে এথেনা- এ কথাও বিস্তর মানুষের জানা। বিদ্যার দেবী আছে, জ্ঞানের দেবী আছে কিন্তু শিক্ষার দেব-দেবী কিচ্ছু নাই। কেন নাই? কারণ শিক্ষা ব্যাপারটা অর্বাচীন। সাতশ বছর আগেও “এডুকেশন” শব্দটা গবাদী পশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হতো।
শিক্ষা না-কি বিদ্যা, কিসে মুক্তি মানুষের? | আর রাজী | জেগে আছি বিদ্যার দেবী সরস্বতী- এই বাক্য অনেকেই জানেন। পশ্চিমে জ্ঞানের দেবী যে এথেনা- এ কথাও বিস্তর মানুষের জানা। বিদ্যার দ....
16/12/2023
মানুষের কল্পিত সুখটাই
বোধকরি বেশি সুন্দর
তেল-নুন ছাড়াই
ঘরকন্না এখানে…
কল্পিত সুখের মহড়া | শাহনাজ সুলতানা রিনা | জেগে আছি মানুষের কল্পিত সুখটাই বোধকরি বেশি সুন্দর তেল-নুন ছাড়াই ঘরকন্না এখানে… অনায়াসে রাত-দিন স্বপ্নসৌধ গড়ে, নির্বিঘ্নে,...
16/12/2023
সরলতাকে ধিক্কার দিও না
প্রকৃতির নির্মলতা, জলের স্বচ্ছতা
সেখানে। কোনো চাতুরি ছিল না।
খুব করে চাইলে, বলতেই পারতে
ছুটে কি আসতে পারতাম না?
নিঃস্ব হয়ে সবটা দিতে পারি।
শুধু নিজের জন্য আমি
কিছুই চাইতে পারি না।
যদি চাইতেই পারতাম,
তবে ঊনপঞ্চাশের ঊনপঞ্চাশবায়ুতে…
পরিবর্তন | শাহনাজ সুলতানা রিনা | জেগে আছি সরলতাকে ধিক্কার দিও না প্রকৃতির নির্মলতা, জলের স্বচ্ছতা সেখানে। কোনো চাতুরি ছিল না। খুব করে চাইলে, বলতেই পারতে ছু....
15/12/2023
তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘তাঁর কাছে সৌন্দর্য মানে নর্দমায় ভেসে যাওয়া একটা গোলাপ ফুল।’ এই যে বীভৎস দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হওয়া সৌন্দর্য, এখানেই বাস্তবতার সব নিষ্ঠুর দরজা খুলে যায়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দুঃসহ শৈশব বয়ে নিয়ে বেড়িয়েছেন। যেখানে তাঁর মাতাল বাবা মাকে নির্যাতন করতেন ছোট্ট শিশুটির সামনেই। একসময় সেই বাবা মাকে ছেড়ে যান, তাতে সামান্য সময়ের জন্য হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন। কিন্তু কতক্ষণের জন্য? পরেরবার খিদে লাগার আগে পর্যন্ত!
মা কখনও সস্তা নাটকে অভিনয় করতেন, কখনও সেলাই করতেন, কখনও বা মা–ছেলে মিলে ভিক্ষা করতেন। কখনও নরম নিষ্পাপ হাতে দিব্যি চুরি করতেন। এর মাঝেই অসুখে ভুগে মারা যান মা। আর তাঁর নির্বাক কমেডি নাড়া দিতে থাকে সমগ্র ইংল্যাণ্ডকে। তাই তো তিনি বলেছেন, ‘সত্যিকারের কমেডি তখনই করা যায়, যখন নিজের সব দুঃখ, বঞ্চনা সফলভাবে গিলে ফেলা যায়।’
চার্লি চ্যাপলিন | জেগে আছি | জেগে আছি ১৯৭২ সালে ৮৩ বছর বয়সে যখন অস্কার নিতে মঞ্চে ওঠেন, টানা বারো মিনিট হাততালির ঝড় বয়ে যায় অস্কার মঞ্চে। অস্কারের ইতিহা...
15/12/2023
রাজা টোডরমলের রচনা বলে পরিচিত ‘টোডরানন্দ’ (আনুমানিক ১৫৭০-১৫৮৯ সাধারণাব্দ) গ্রন্থের ‘বিবাহসৌখ্য’ খণ্ডে বরাহমিহিরের বলে একটি শ্লোক উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমানে তাঁর কোন গ্রন্থে পাওয়া যায় না। এই শ্লোকেও প্রাচীন বৈদিক রীতির অনুসারীদের অভিমত লক্ষণীয়, “প্রাতর্বিবাহঃ শুভদো দ্বিজানাং মধ্যংদিনে ক্ষত্রকুলোদ্ভবানাম্।/ বৈশ্যাহ্বয়ানামপরাহ্ণকালে প্রদোষকালে খলু শূদ্রজাতেঃ॥” অর্থাৎ, “দ্বিজদের (অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের) বিবাহের জন্য প্রাতঃকাল শুভ, ক্ষত্রিয়দের [বিবাহের] জন্য মধ্যাহ্ন, বৈশ্যদের [বিবাহের] জন্য অপরাহ্ন শুভ এবং কেবলমাত্র শূদ্রদের [বিবাহের] জন্য সন্ধ্যাবেলা শুভ।”
প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতে বিবাহের শাস্ত্রীয় শুভ মুহূর্ত | জয়ন্ত ভট্টাচার্য | জেগে আছি [সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে আজকাল অনেক কিছু লেখা হলেও সেই লেখাগুলিতে তথ্যসূত্রের চিহ্নমাত্র খুঁজে পাইনি, সেই কারণে...
15/12/2023
সাধারণভাবে বেশ কিছু প্রজাতির মৃত সামুদ্রিক শামুকের খোলকে কড়ি বলে অভিহিত করা হলেও এর মধ্যে বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে মূলত ভারত মহাসাগরের একটি প্রজাতির (বৈজ্ঞানিক নাম: ‘মনেটারিয়া মনেটা’) খোলই ব্যবহৃত হয়েছে। দুস্প্রাপ্যতা, কম ওজন এবং আকার ও গুণমানের পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে কড়ি প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
কড়ি কাহিনি | জয়ন্ত ভট্টাচার্য | জেগে আছি একটি পুরোনো লেখাকে অনেক নতুন তথ্য ও ভাবনা যোগ করে আবার লেখা — কড়ি কাহিনি। | কড়ি ও বিশ্ব-বাণিজ্য | সাধারণভাবে বেশ কিছ.....
07/12/2023
‘আল্লাহর কসম’ মোরগটি চিৎকার করে উঠল, ‘নিশ্চয় তার মাথায় কোন বুদ্ধি নেই। আমার পঞ্চাশটি স্ত্রী আছে এবং আমি তাদের সন্তুষ্ট ও শান্তিতে রেখেছি অথচ তার একটি মাত্র স্ত্রী তবুও তাকে শৃঙ্খলায় রাখতে পারেন নি। কেন তিনি কয়েকটি শ্যাওড়ার ডাল নিয়ে তার স্ত্রীকে কামরায় ঢুকিয়ে পেটাতে পারেন না? ততক্ষণ পর্যন্ত পেটাবেন যতক্ষণ সে মরে না যায় অথবা অনুতপ্ত হয় এবং আর কোনদিন তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা না করে।’
আরব্য রজনী : কিস্তি দুই | তাহের আলমাহদী | জেগে আছি গাধা, বলদ ও বণিকের গল্প যখন তার পিতা এই কথা শুনলেন, তিনি তাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার এবং রাজার মধ্যে যা ঘটেছিল তা.....
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Telephone
Website
Address
3500