07/12/2022
নেক সুরতে ফেমিনিজম: ১
ম্যাসেজ থেকে একটা বিক্ষিপ্ত স্ক্রিনশট পেলাম। এক মেডিকেলের বোনকে ক্যারিয়ারের ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হচ্ছিলো। লেখিকার বিবরণ না পেলেও, লেখার ধরণ দেখে বুঝতে পেরেছি এরকম তথ্য গোপন করে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা ব্যক্তি কে হতে পারে। যাই হোক, আমি শুধু ব্যাপারটা পয়েন্ট আউট করে দিই ইনশাআল্লাহ।
অনেকেই বিস্তারিত না জানার কারণে, এসব ব্যাপারে জ্ঞান না থাকার কারণে এসব মডার্নিস্টদের কথার জালে আটকে যায়। যদিও পরামর্শটা এক/একাধিক বোনকে উদ্দেশ্য করে দেয়া হয়েছিল, তবে এখানেও দলিলের বিকৃতি ঘটিয়ে নফসের ছায়ায় সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে।
শেষদিকে স্ক্রিনশটের একটা অংশে দেখতে পাই এই চতুর লেখিকা বলেছে, “সবার জন্য আরেকটা রেফারেন্স দেব। ফ্রি-মিক্সিং কান্ট্রি হোক আর শরীয়াহ ভিত্তিক, বাইরে যেয়ে সম্মান বজায় রেখে কাজ করা জায়েজ। আয়েশা (রা.) এর ছোটবোন, আবু বকর (রা.) এর মেয়ে আসমা (রা.) বাইরে গিয়ে কাজ করতেন। এবার কী বলবেন?”
এই কুযুক্তি যে দিতে পারে সেই মহিলাকে আল্লাহ্ হেদায়েত দিন। স্বেচ্ছায় নফসের অনুসরণ করে অন্যদের বিভ্রান্ত করলে আল্লাহ্ তাকে ধ্বং(স) করে দিন। এই অবান্তর প্রশ্ন পাঠকদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে এই ব্যক্তি নিজের যে সলিড গ্রাউন্ড দেখাতে চেয়েছে, সেটা নিতান্তই হাস্যকর একটা ব্যাপার।
এ যে ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছে, সেটা কোন এখতিয়ারে? নারীরা কখন চাকরি করতে পারবে এই ব্যাপারে আপাতত একজন আলেমের ফতোয়া আপনাদেরকে দেখাব।
শায়েখ উমায়ের কোব্বাদি কুরআনের জ্যোতিতে বলেছেন :
’প্রয়োজন, অপারগতা কিংবা ঠেকায় পড়ার পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণ অবস্থায় নারীদেরকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শরীয়ত তাদের ওপর এমন দায়িত্ব আরোপ করেনি, যার কারণে তাদের ঘরের বাইরে যেতে হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং জাহিলিয়াত যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।”
-(সূরা আহযাব : ৩৩)’
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন :
‘নারী গোপন জিনিস, যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে তাড়া করে। আর সে আল্লাহ তাআলার সবচে’ নিকটতম তখন হয় যখন সে নিজের ঘরের মাঝে লুকিয়ে থাকে।’
-(তাবারানি : ২৯৭৪)
সরাসরি আল্লাহর কিতাব থেকেই এই কথা সাব্যস্ত হয় যে নারীরা অপ্রয়োজনে গৃহের বাইরে যাবে না, ফতোয়া থেকে স্পষ্ট হয় যে সাধারণ অবস্থায় নারীরা স্বগৃহে অবস্থান করবে। “ফ্রি-মিক্সিং কান্ট্রিতে” সম্মান (!) বজায় রেখে চাইলেই নারীরা বাইরে কাজ করতে যেতে পারবে এই বিধান লেখিকার জন্য খাসভাবে নাযিল হয়েছে কোনোভাবে? এত কনফিডেন্টলি কীভাবে এসব কথা বলে?
মনে আল্লাহর ভয় নেই?
এই মহিলা আসমা (রা.)-এর উদাহরণ টেনে এনে নিজের অবস্থানকেই এখানে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। কারণ দেখুন, আসমা (রা.) এর স্বামী জুবায়ের ইবনে আওয়াম বিয়ের সময় অত্যন্ত গরিব ছিলেন। তাঁর কেবল একটি ঘোড়া এবং একটি উট ছিলো যার দেখভাল তিনিই করতেন। পরবর্তীতে রাসুল (সা.) তাঁর স্বামীকে একটি খেজুর বাগান দান করেন। সেখান থেকে খেজুরের বিচি বয়ে এনে ঘোড়াকে খাওয়াতেন তিনি।
পরবর্তীতে যখন আবু বকর (রা.) তাঁর কন্যা আসমা (রা.) এর জন্য একজন খাদেম পাঠান, ঘোড়া দেখভালের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পেয়ে তিনি সেটাকে “বিপদ থেকে মুক্ত হওয়া” বলে আখ্যা দেন। পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করেই দেখুন, কোথাও কি এমন কিছু সাব্যস্ত হয় যে তিনি স্বেচ্ছায় বাইরে গিয়ে কাজ করতেন? অসচ্ছলতা কি অপারগতা না?
এরপরেও নফসের খোরাক না মিটলে সরাসরি জিজ্ঞেস করতেই হয় এই ঘটনা পর্দার বিধান নাযিলের আগে নাকি পরে? এই ঘটনা থেকে “ফ্রি-মিক্সিং কান্ট্রিতে” সম্মান(!) বজায় রেখে কাজের দলিল পাওয়া যায়?
তার উপরের অংশে আরেকটা জালিয়াতি আছে, শরীয়তে নাকি মেয়ের পিতামাতার আর্থিক দায়িত্ব ছেলেদের মতো ১০০% সমান! অথচ এই ব্যাপারেও ফতোয়া হচ্ছে এই :
“মেয়ে সামর্থ্যবান হলে নিজের মোহর থেকে অথবা নিজ মালিকানাধীন অন্য সম্পদ থেকে বাবা-মায়ের জন্য খরচ করবে।
সামর্থ্যবান না হলে মা-বাবার ভরণ-পোষণ দেওয়া ওয়াজিব নয়। তবে এক্ষেত্রে মেয়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পিতামাতাকে সাহায্য করার চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে মেয়েরা ঘরোয়া পরিবেশে শিক্ষকতা করে বা কোন হস্তশিল্প (যেমন সেলাইয়ের কাজ) বা হাঁস-মুরগি পালন করে তাদের সহযোগিতা করতে পারে। স্বামীর সাথে আলোচনাসাপেক্ষে শরীয়তের সীমায় বৈধ হয় এমন যেকোনো কর্মসংস্থায় যোগ দিয়ে উপার্জন করতে পারে।”
-শায়েখ উমায়ের কোব্বাদি।
তাহলে মা-বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়ার জন্য পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে, “ফ্রি-মিক্সিং কান্ট্রিতে” অর্থ উপার্জন করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হচ্ছে কেন? নারীদেরকে ঘর থেকে টেনে বাইরে আনার ফন্দি আর কত আঁটবে এরা? এমনিতেই কি যথেষ্ট মেয়ে ঘরবিমুখ হয়ে নেই?
Mayraj Hossain