15/08/2024
✅🪶🇧🇩💌
নন্দলালের উদ্যোগে কলাভবনে যে বার্ষিক শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয় সম্ভবত সমগ্র ভারতবর্ষে এ ধরনের উদ্যোগ সেটিই সর্বপ্রথম। নন্দলালই রবীন্দ্রনাথের নাটক ও নৃত্যনাট্যে এবং মহাত্মা গান্ধীর আমন্ত্রণে কংগ্রেসের সম্মেলনস্থলে ছাত্রছাত্রীদের দেশীয় শৈলী ও উপকরণে মঞ্চসজ্জায় প্রণোদিত করেন। বিশ্বভারতীর আদর্শ অনুযায়ী কায়িক শ্রম ও সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে ও নন্দলালের নেতৃত্বে কলাভবনের ছাত্র-শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল সর্বাগ্রে। প্রতিভাবান ছাত্র বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায় ও রামকিঙ্কর বেজের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কলাভবন পায় পূর্ণতা ও হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ ভারতশিল্পের পথরেখা নির্মাণের অগ্রণী প্রতিষ্ঠান। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নপূরণের কর্মযজ্ঞে নন্দলাল ছিলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয়ভাজন অনুচর, তাঁর নেতৃত্বে কলাভবন হয়ে ওঠে বিশ্বভারতীর মুকুটের উজ্জ্বলতম পালক ও রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘদিনের শিল্পভাবনার সার্থক রূপায়ণ।
আধুনিককালের ভারতীয় শিল্পকলা সমকালের উপযোগীভাবে বিকাশের বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হননি, আমরা দেখতে পাই জীবনের প্রায় অর্ধেককাল তিনি বিশ্বভারতীর আর্থিক অসচ্ছলতা, সামাজিক প্রতিকূলতা, অন্যান্য সমস্যাসহ বিবিধ বাধাকে তুচ্ছ করে নিজেই শিল্পকলা শিক্ষাদানের উপযোগী একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবার কাজে কতটা শ্রম ও অভিনিবেশ প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর জীবিতকালেই এ প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর অভিপ্রায় অনুযায়ী ... দেশে চিত্রকলার একটা ধারা প্রবাহিত হয়ে সমস্ত দেশের চিত্তকে অভিষিক্ত করেছে। এখানেই চিত্রশিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক জগতেও রবীন্দ্রনাথের স্থান স্বতন্ত্র ও অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। চিত্রশিল্পী রবীন্দ্রনাথের স্থান ভিন্নভাবে প্রণিধানযোগ্য। চিত্রশিল্পী হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ কলাভবন স্থাপনের বেশকিছু পরে। রবীন্দ্রনাথের চিত্রকৃতির বৈশিষ্ট্য নিরূপণ ও শৈলীর বিশ্লেষণ এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য নয়, তার জন্য প্রয়োজন স্বতন্ত্র পরিসর।