31/08/2026
https://www.facebook.com/share/p/1HkHjjk16U/
সবাইকে পড়ার অনুরোধ করছি। খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আজকাল কোনো ছাত্রকে শাসন করা হলে, মোবাইল কেড়ে নেওয়া হলে কিংবা নিয়ম মানতে বলা হলেই কিছু অভিভাবক এমনভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মনে হয়, শিক্ষকই যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অপরাধী!
কয়েকদিন আগে আমাদের প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্র ফয়সালের ঘটনাটিও তেমনই।
ছেলেটি দীর্ঘদিন অনিয়মিত। গোপনে মোবাইল ব্যবহার করত। এর আগেও কয়েকবার মোবাইল ধরা পড়েছে, পরিবারকে জানানো হয়েছে। এমনকি সে প্রতিষ্ঠান ছেড়েও গিয়েছিল। তারপরও পরিবারের অনুরোধে, তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা বারবার তাকে সুযোগ দিয়েছি।
কিন্তু গত জুমার দিন সে শুধু নিজে মোবাইল দেখছিল না, আরও কয়েকজন ছাত্রকেও সঙ্গে নিয়ে মোবাইল ব্যবহার করছিল। শিক্ষক দায়িত্ববোধ থেকে মোবাইলটি নিয়ে নেন। মারধর নয়, নির্যাতন নয় শুধু নিয়ম রক্ষার চেষ্টা।
এরপর ছাত্রটি নিজেই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যায়।
অথচ আধা ঘণ্টাও পার হয়নি শুরু হলো ফোন, অভিযোগ, হুমকি! এমন আচরণ, যেন আমরা তাদের সন্তানকে কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছি!
আমরা উত্তেজিত হইনি। ধৈর্য ধরেছি। খুঁজেছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। বারবার বুঝিয়েছি ছেলেটি হারিয়ে যায়নি; হয়তো অভিমান করে কোথাও গেছে।
আলহামদুলিল্লাহ, ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে মাদ্রাসার আশপাশ থেকে পাওয়া গেল।
কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায় একজন প্রতিষ্ঠান কি একজন ছাত্রের ২৪ ঘণ্টার পাহারাদার?
আসরের পর আপনার সন্তান কোথায় গেল তারও কি জবাবদিহি প্রতিষ্ঠানের?
আপনি সন্তানকে আমাদের কাছে দেন কয়েক ঘণ্টা/কয়েক বছরের জন্য। আর আমরা চেষ্টা করি তাকে আদব, ইলম ও চরিত্র দিয়ে গড়ে তুলতে। কিন্তু সন্তান ভুল করলে যদি আপনি সন্তানের ভুল না দেখে শিক্ষককেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান তাহলে সেই সন্তানকে সংশোধন করবে কে?
শিক্ষকের শাসন যদি আপনার কাছে নির্যাতন হয়,
নিয়ম যদি আপনার সন্তানের কাছে বোঝা হয়,
আর সন্তানের প্রতিটি ভুল যদি আপনার কাছে “শিক্ষকের দোষ” হয় তাহলে আগামী প্রজন্মকে আমরা কীভাবে মানুষ করব?
প্রিয় অভিভাবক,
আপনার সন্তান আমাদের কাছেও আমানত। আমরা তাকে হারাতে চাই না, নষ্ট হতে দিতে চাই না। কিন্তু তাকে সংশোধন করতে গেলে কখনো কঠোর হতে হবে, কখনো “না” বলতে হবে, কখনো তার হাতে থাকা মোবাইলটিও কেড়ে নিতে হবে।
সন্তানকে ভালোবাসুন অবশ্যই।
কিন্তু এমনভাবে ভালোবাসবেন না, যাতে আপনার ভালোবাসাই তার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান যদি একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়, ক্ষতি শিক্ষকের নয় ক্ষতি হবে আপনার সন্তানের।