08/08/2026
আমি বরাবরই চাইল্ডহুড ট্রমার সেশন নিয়ে খুব এক্সাইটেড থাকি। কারণ- বর্তমান প্যারেন্টিং এ যে চাইল্ডহুড ট্রমার গুরুতর একটা প্রভাব আছে, সেটা জেনেই আপুরা সেশনে ইন্টারেস্টেড হন। আমার আলাদা করে এটা বুঝানো লাগেনা। এবং সাথে- বাচ্চাদের একটা উত্তম শৈশব দিতে প্যারেন্টদের যে নিজেদেরকে সচেতনভাবে পরিবর্তন করতে হবে সেটা মনে- প্রাণে বিশ্বাস করেন। এই কারণ দুইটা আমার সেশনের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করে দেয়।
সেশন শেষে কোন আপু নিজের শৈশবের না বলা কথাগুলো বলতে পেরে খুব রিল্যাকস্ড ফীল করেন, কোন আপু সব মন দিয়ে শুনে চুপ থাকেন, আবার কিছু আপু আবেগাপ্লুত হয়ে কান্না করেন তার অবহেলিত শৈশবের কথা শেয়ার করে। কিন্তু সব সেশনের একটাই মিল ছিলো- প্রায় সব আপুরাই নিজের অজান্তে, না চাইতেও বাচ্চাদেরকে সেভাবেই কষ্ট দিচ্ছে- যেভাবে নিজে ছোটবেলায় কষ্ট পেয়েছেন। যেমন বাচ্চাকে এখন পারফেক্ট হবার জন্য প্রেশার দেন, কিন্তু নিজেকে বাবা বা মা যখন ছোটবেলায় কিছুর জন্য খুব প্রেশার দিতেন তখন নিজের খুব কষ্ট লাগতো এই ভেবে- "কেন বাবা মা আমাকে বুঝছেন না? আমিতো ইচ্ছা করে এমনটা করছিনা।" কিংবা একজন আপু ছিলেন যিনি সন্তান পড়তে না বসলে খুব হাইপার হয়ে যেতেন। কারণ ছোটবেলায় তিনি জেনেছেন- সারাক্ষণ পড়ালেখা না করা মানে সময় নষ্ট করা এবং কোন আনন্দ করা যাবেনা। কি অবাক করা অদ্ভুত কানেকশন দেখেছেন? যতই এসব বিষয়ে শিখি, মুগধ না হয়ে পারিনা।
অন্য সব আপুদের মতো আমার চাইল্ডহুডও কম বেশ ট্রমাতে পরিপূর্ণ। একবার এক সেশনে আপু বলেছিলেন, "আপনি এতোটা সাবলীলভাবে কথাগুলো কীভাবে বলছেন?" তিনি সোশ্যালি কথা বলতে খানিকটা এংজাইটিতে ভুগেন তাই প্রশ্নটি করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, "বিশ্বাস করুন, আমিও আপনার মতো একই সমস্যাতে ভুগি। তবে আমার কাজের জায়গাটাতে আমি কিছুটা ভিন্ন। কারণ এটা আমার প্যাশনের জায়গা। যেখানে বাচ্চা থাকবে, সে সেক্টরে আমার কাজ থাকবে (in sha Allah)। আর এই শৈশব ক্ষতের জীবন আমি যাপন করে এসেছি। তাই এব্যাপারে কথা আসলে আমি খুব কনফিডেন্ট থাকি।"
যাই হোক, আমার শৈশব ক্ষতের একটা ছোট্ট ঘটনা বলি, আমাদের ঘরে পুতুল দিয়ে খেলা অপছন্দনীয় ছিলো। খুবই স্বাভাবিক কারণ- ধর্মজনিত। তখন এখনকার মতো ফেসলেস পুতুল ছিলোনা। তো একদিন আমি আর আমার বোন একটা পুতুল দেখি দোকানে। দাম ৩০০ টাকা। টাকা ম্যানেজ করে কিনে ফেলি একদিন। তখন আমি আর আমার বোন খুব বাইরে বাইরে ঘুরতাম। এখনকার মতো পরিবেশ এতোটা অনিরাপদ ছিলনা। পুতুল কিনে ঘরে আনতেই ঘরের দুইজন সদস্য সেগুলো বাইরে ফেলে দেয়। আমি একটু অবাক হই এবং খুব নাম্ব একটা রিয়েকশন দেই। তবে সবচেয়ে খারাপ যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে ঐ কাজটার জন্য কোন এক্সপ্লেনেশন না পাওয়া। এক্সপ্লেনেশনটা খুবই যৌক্তিক যেটা এখন বড় হয়ে বুঝি এবং অন্যদের থেকেও সেটা বেশি মানি। তবে একটা ইম্মেচিউর ব্রেইন সেটা না জানালে কিছুতেই বুঝবেনা। ফলাফল? ঐ ঘটনাটা আমার ব্রেইনে এভাবে সেইভ হয়ে গেলো- "আমাদের কোন আনন্দ করা উচিত না, কোন শখ আহ্লাদ থাকা উচিত না।" এবং এই সেইভ করা ক্ষতটার জন্য আমি অনেক বছর মনে প্রাণে সেটা এপ্লাইও করেছি। কিন্তু সমস্যা হলো- দীর্ঘমেয়াদে এই বোরিং নিয়মটা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু সুখকর?
এখন আম্মুকে দেখলে বুঝি আম্মু কেন কোন আনন্দ করতে পারেনা। কারণ আম্মুর সিস্টেমে সেইভ করা আছে- নিজের জন্য একটু আনন্দ করা অন্যায়। আর আম্মু ততটুকু সাহসীও নন যে তাঁর ছোটবেলায় পাওয়া ক্ষতের চেইনের ব্যাপারে জেনে তা ভাঙবেন। কিন্তু, আমি সচেতন হতে চাই। যতটুকু সম্ভব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শৈশব ক্ষতের শেকল ভাঙতে চাই। এবং সব সচেতন মায়েদের এই টার্মটার ব্যাপারে Conscious করতে চাই।
(ছবির প্রেক্ষাপট: যখন বাচ্চারা আমাকে একটু আমার মতো বাইরে যেতে দেয় আর বলে, আসার সময় আমাদের জন্য ফুল নিয়ে আসবে)
Marium Nur
#প্যারেন্টিং #চাইল্ডহুডট্রমা