Conscious Parenting BD

Conscious Parenting BD Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Conscious Parenting BD, Education Website, Chittagong.
(1)

Conscious Parenting BD-এর লক্ষ্য: বাবা-মায়েদের সাহায্য করা যাতে তারা সন্তানদের ব্যবহারের পিছনের কারণ বুঝতে পারে, নিজের শৈশবের ট্রমা হীল করে বর্তমানের মানসিক চাপ সামলাতে পারে, আর দীর্ঘমেয়াদে আমাদের সমাজকে আরও শান্ত ও সংবেদনশীল করতে পারে। ~ এই পেজটা তাদের জন্য, যারা তাদের সন্তানদের সাথে একসাথে শিখতে, সুস্থ থাকতে এবং বেড়ে উঠতে চায়। আমরা শেয়ার করি ছোট টিপস, বাস্তব গল্প আর কিছু পরামর্শ, যাতে আপনি ভালোবাসা দিয়ে সচেতন বাবা-মা হতে পারেন।

~ আমরা চাই সবাই একে অপরের প্রতি সদয় হোক। এটা শেখার জায়গা, এখানে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ বাবা-মা নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই।

~ কিছু পোস্টে শিশুদের বড় হওয়া আর পিতামাতার কৌশল শেখানো হয়। কিছু পোস্টে আপনার নিজের যত্ন ও মানসিক শান্তির দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। আর কিছু পোস্টে আমাদের সমাজে ভালো পরিবর্তনের ধারণা শেয়ার করা হয়। প্রতিটা পোস্টের একটা উদ্দেশ্য আছে. আজ যা আপনার কাজে লাগে তা নিন।

আমি বরাবরই চাইল্ডহুড ট্রমার সেশন নিয়ে খুব এক্সাইটেড থাকি। কারণ- বর্তমান প্যারেন্টিং এ যে চাইল্ডহুড ট্রমার গুরুতর একটা প্...
08/08/2026

আমি বরাবরই চাইল্ডহুড ট্রমার সেশন নিয়ে খুব এক্সাইটেড থাকি। কারণ- বর্তমান প্যারেন্টিং এ যে চাইল্ডহুড ট্রমার গুরুতর একটা প্রভাব আছে, সেটা জেনেই আপুরা সেশনে ইন্টারেস্টেড হন। আমার আলাদা করে এটা বুঝানো লাগেনা। এবং সাথে- বাচ্চাদের একটা উত্তম শৈশব দিতে প্যারেন্টদের যে নিজেদেরকে সচেতনভাবে পরিবর্তন করতে হবে সেটা মনে- প্রাণে বিশ্বাস করেন। এই কারণ দুইটা আমার সেশনের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করে দেয়।

সেশন শেষে কোন আপু নিজের শৈশবের না বলা কথাগুলো বলতে পেরে খুব রিল্যাকস্ড‌ ফীল করেন, কোন আপু সব মন দিয়ে শুনে চুপ থাকেন, আবার কিছু আপু আবেগাপ্লুত হয়ে কান্না করেন তার অবহেলিত শৈশবের কথা শেয়ার করে। কিন্তু সব সেশনের একটাই মিল ছিলো- প্রায় সব আপুরাই নিজের অজান্তে, না চাইতেও বাচ্চাদেরকে সেভাবেই কষ্ট দিচ্ছে- যেভাবে নিজে ছোটবেলায় কষ্ট পেয়েছেন। যেমন বাচ্চাকে এখন পারফেক্ট হবার জন্য প্রেশার দেন, কিন্তু নিজেকে বাবা বা মা যখন ছোটবেলায় কিছুর জন্য খুব প্রেশার দিতেন তখন নিজের খুব কষ্ট লাগতো এই ভেবে- "কেন বাবা মা আমাকে বুঝছেন না? আমিতো ইচ্ছা করে এমনটা করছিনা।" কিংবা একজন আপু ছিলেন যিনি সন্তান পড়তে না বসলে খুব হাইপার হয়ে যেতেন। কারণ ছোটবেলায় তিনি জেনেছেন- সারাক্ষণ পড়ালেখা না করা মানে সময় নষ্ট করা এবং কোন আনন্দ করা যাবেনা। কি অবাক করা অদ্ভুত কানেকশন দেখেছেন? যতই এসব বিষয়ে শিখি, মুগধ না হয়ে পারিনা।

অন্য সব আপুদের মতো আমার চাইল্ডহুডও কম বেশ ট্রমাতে পরিপূর্ণ। একবার এক সেশনে আপু বলেছিলেন, "আপনি এতোটা সাবলীলভাবে কথাগুলো কীভাবে বলছেন?" তিনি সোশ্যালি কথা বলতে খানিকটা এংজাইটিতে ভুগেন তাই প্রশ্নটি করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, "বিশ্বাস করুন, আমিও আপনার মতো একই সমস্যাতে ভুগি। তবে আমার কাজের জায়গাটাতে আমি কিছুটা ভিন্ন। কারণ এটা আমার প্যাশনের জায়গা। যেখানে বাচ্চা থাকবে, সে সেক্টরে আমার কাজ থাকবে (in sha Allah)। আর এই শৈশব ক্ষতের জীবন আমি যাপন করে এসেছি। তাই এব্যাপারে কথা আসলে আমি খুব কনফিডেন্ট থাকি।"

যাই হোক, আমার শৈশব ক্ষতের একটা ছোট্ট ঘটনা বলি, আমাদের ঘরে পুতুল দিয়ে খেলা অপছন্দনীয় ছিলো। খুবই স্বাভাবিক কারণ- ধর্মজনিত। তখন এখনকার মতো ফেসলেস পুতুল ছিলোনা। তো একদিন আমি আর আমার বোন একটা পুতুল দেখি দোকানে। দাম ৩০০ টাকা। টাকা ম্যানেজ করে কিনে ফেলি একদিন। তখন আমি আর আমার বোন খুব বাইরে বাইরে ঘুরতাম। এখনকার মতো পরিবেশ এতোটা অনিরাপদ ছিলনা। পুতুল কিনে ঘরে আনতেই ঘরের দুইজন সদস্য সেগুলো বাইরে ফেলে দেয়। আমি একটু অবাক হই এবং খুব নাম্ব একটা রিয়েকশন দেই। তবে সবচেয়ে খারাপ যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে ঐ কাজটার জন্য কোন এক্সপ্লেনেশন না পাওয়া। এক্সপ্লেনেশনটা খুবই যৌক্তিক যেটা এখন বড় হয়ে বুঝি এবং অন্যদের থেকেও সেটা বেশি মানি। তবে একটা ইম্মেচিউর ব্রেইন সেটা না জানালে কিছুতেই বুঝবেনা। ফলাফল? ঐ ঘটনাটা আমার ব্রেইনে এভাবে সেইভ হয়ে গেলো- "আমাদের কোন আনন্দ করা উচিত না, কোন শখ আহ্লাদ থাকা উচিত না।" এবং এই সেইভ করা ক্ষতটার জন্য আমি অনেক বছর মনে প্রাণে সেটা এপ্লাইও করেছি। কিন্তু সমস্যা হলো- দীর্ঘমেয়াদে এই বোরিং নিয়মটা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু সুখকর?

এখন আম্মুকে দেখলে বুঝি আম্মু কেন কোন আনন্দ করতে পারেনা। কারণ আম্মুর সিস্টেমে সেইভ করা আছে- নিজের জন্য একটু আনন্দ করা অন্যায়। আর আম্মু ততটুকু সাহসীও নন যে তাঁর ছোটবেলায় পাওয়া ক্ষতের চেইনের ব্যাপারে জেনে তা ভাঙবেন। কিন্তু, আমি সচেতন হতে চাই। যতটুকু সম্ভব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শৈশব ক্ষতের শেকল ভাঙতে চাই। এবং সব সচেতন মায়েদের এই টার্মটার ব্যাপারে Conscious করতে চাই।

(ছবির প্রেক্ষাপট: যখন বাচ্চারা আমাকে একটু আমার মতো বাইরে যেতে দেয় আর বলে, আসার সময় আমাদের জন্য ফুল নিয়ে আসবে)

Marium Nur

#প্যারেন্টিং #চাইল্ডহুডট্রমা

সেদিন চাইল্ডহুড ট্রমা সেশনে এক প্রেগন্যান্ট আপু তার এংজাইটি (ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে মনে করে বর্তমানে দুশ্চিন্তা...
02/08/2026

সেদিন চাইল্ডহুড ট্রমা সেশনে এক প্রেগন্যান্ট আপু তার এংজাইটি (ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে মনে করে বর্তমানে দুশ্চিন্তা করা) নিয়ে সমস্যা শেয়ার করেছিলেন।

সমস্যাটা ঠিক এরকম- "পরিবারে একই বয়সের দুইটি বাচ্চা আছে এবং অন্য বাচ্চার নিয়মের জন্য অলরেডি আমাদের খাবার- দাবারের জন্য বানানো নিয়ম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এখনই আমাদের সীমানাতে নিরাপদভাবে থাকার জন্য আমার প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে, না জানি ভবিষ্যতে যখন দুইজনের একই সময়ে বাচ্চা হবে, তখন কি হবে! তখন তো প্রতি মুহূর্তে সেই ভিন্ন দুই সন্তানের মধ্যে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সব বিষয়ে তুলনা চলবে!"

তিনি বর্তমানে প্রেগন্যান্ট। এই অবস্থায় তার এমন স্ট্রেস হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, তবে তা কমানোর উপায় জানা জরুরি। তবে তার মূল কারণটা স্পষ্ট- বারবার নিজের বানানো সীমানাতে হস্তক্ষেপ।

একবার টনি রবিন্সের একটা সেমিনারে একটা মেয়ে প্রশ্ন করেছিলো, "How can I be more feminine?" তিনি উত্তরে বলেছিলেন, "তুমি ফেমিনিন হবে কিনা মাস্কুলিন সেটা নির্ভর করবে তুমি ঘরে কতোটা নিরাপদ বোধ করো তার উপর। যখন ঘরে- বাইরে সবখানে মেয়েদের বাউন্ডারিতে হস্তক্ষেপ করা হয়, তখন তারা তাদের কোমলবতী রুপটা (feminine self) হারাতে শুরু করে।"

যাই হোক, আমি আপুর সব কথা শুনলাম এবং কো-ইনসিডেন্টালি, আমি সেইসময়টায় একটা চমৎকার বই শেষ করে উঠেছি মাত্র। "The power of your Sub conscious Mind।" এই বইটাতে ডঃ জোসেফ মারফি অত্যন্ত সুন্দরভাবে বলেছেন তোমার কনশাস মাইন্ড পরিবেশ থেকে একটা তথ্য নিয়ে যাচাই-বাছাই করতে পারে। পক্ষান্তরে, তোমার সাব কনশাস মাইন্ড কোন ঝগড়া করতে পারেনা, কোন যুক্তিবিদ্যা বুঝেনা। তোমার কনশাস মাইন্ড যে বুঝুং ভাজুং বুঝাবে তাই তোমার কনশাস মাইন্ড সত্যি মনে করবে এবং সেই চিন্তাটাকে একসময় তোমার কাজে পরিণত করবে। এতোটাই পাওয়ারফুল তোমার সাব কনশাস মাইন্ড! কিন্তু। এখানেই একটা অবাক করা কিন্তু আছে। সাব কনশাস মাইন্ড পাওয়ারফুল হতে পারে কিন্তু সাব কনশাস মাইন্ডকে আপনি কোন তথ্য বা "চিন্তা " দ্বারা চালিত করবেন এটা পছন্দ করার ক্ষমতা শুধুমাত্র আপনার আছে। একটু বুঝিয়ে বলি-

ধরুন, আপনি একটা দাওয়াতে যাচ্ছেন। খুব উৎফুল্ল মুডে আছেন, রেডি হচ্ছেন। ঠিক এইসময়েই আপনার বস আপনাকে টেক্সট করলো, "আগামিকাল অফিসে আসা মাত্র আমার সাথে দেখা করবেন।" এটা জুসেফ মারফি মতে, পরিবেশ থেকে পাওয়া একটা ঘটনা। এই তথ্য আপনার কনশাস মাইন্ড নিয়ে এবার বিশ্লেষণের কাজ করবে। তারপর এই থট আপনি সাব কনশাস মাইন্ডকে কিভাবে দিবেন সেটার সম্পূর্ণ পাওয়ার আপনার। এই থট আপনার সাব কনশাস মাইন্ডে যাবেই, তবে সেটা যদি নেগেটিভ থট হিসেবে যায় তবে তা আপনার আবেগকে এবং ধীরে ধীরে আপনার কাজকেও নেতিবাচক বানিয়ে ফেলবে। এবং ফলাফল?- আপনার রাগ, এংজাইটি কিংবা ডিপ্রেশন। কিন্তু আপনার কনশাস মাইন্ড যদি আপনার সাব কনশাস মাইন্ডকে ঐ তথ্যটার জন্য একটা অলটারনেটিভ থট দিতে পারে, তাহলে ব্লাইন্ড সাব কনশাস মাইন্ড সেটা মেনে নিবে এবং সে অনুযায়ী আপানাকে কিছু আবেগ দিবে যা ইভেনচুয়েলি আপনার কাজে পরিণত হবে।

যেমন, বস আপনাকে এই খুশির মুহূর্তে এধরণের টেক্সড দেয়াতে আপনার নেগেটিভ থট হতে পারে, "আজকের প্রেজেন্টেশনে কি কোন ভুল করেছি আমি? আমার চাকরিটা মনে হয় আর থাকছেনা! আমাকে দিয়ে মনে হয় এই জীবনে কিছু হবেনা।" এই তথ্য থেকে পাওয়া থট এবার আমাকে কিছু আবেগ দিবে- Disappointed, Anxious, Sad। এবার এই আবেগগুলো আমার কিছু কাজ নির্ধারণ করবে- আমি দাওয়াতের পুরোটা সময় খুব মনে খারাপ করে থাকবো। চাকরি হারাতে পারি এই ভয়ে আমার আনন্দ সব আমি মাটি করে ফেলবো এবং আমার চোখে মুখে এই কষ্টের ছাপ স্পষ্ট হতে পারে।

এবার বলি সাব কনশাস মাইন্ডের উপরেও যে আপনি পাওয়ারফুল সেটা কিভাবে। একই অটোসাজেশনে যদি আপনি সচেতন হয়ে আপনার সাব কনশাস মাইন্ডকে একটা অল্টারনেটিভ থট দেন, তাহলে পুরো গেইম চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। যেমন-

পরিবেশের তথ্য- বস ম্যাসেজ পাঠিয়েছে। আমার সচেতন মাইন্ড সেটা দেখে এখন এটাকে একটা বিকল্প চিন্তাতে পরিণত করবে। "বস আমাকে এই সময় ম্যাসেজ পাঠিয়েছে। আমি শিউর না সেটা কেন? হতে পারে আমার প্রেজেন্টেশনে কোন ভুল হয়েছে। আবার সেটা নাও হতে পারে কারণ প্রেজেন্টেশন শেষে উনি হাত তালি দিয়ে এপ্রেশিয়েট করেছে। আমার মনে হতে পারে আমি শুধু ভুল করি। কিন্তু এমন কোন প্রমান নেই এই সবসময় শুধু ভুলটাই করি। মাঝেমাঝে আমি এক্সিলেন্ট কাজও করেছি এবং তার প্রমাণ আছে।"

এই বিকল্প চিন্তাটা এবার আমাদের সাব কনশাস মাইন্ডে যাবে এবং ফলাফলে আমরা কিছু ইতিবাচক এমোশন আর একশন পাবো।

এখন আপনি পছন্দ করবেন- সাব কনশাস মাইন্ডকে আপনি কীভাবে চালিত করতে চান। এই ক্ষমতাটা আপনার আছে। চুজ হ্যাপিনেস, লাভ এন্ড হেলথ!

আচ্ছা জোসেফ মারফির এর এই বইয়ের সাথে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির CBT এর কিছু মিল আছে। আর এই দুই বিষয়কে blend করে আমি আমার পরবর্তী মাস্টারকোর্সের একটা মডিউল সাজিয়েছি। থট কিভাবে আমাদের এবং বাচ্চাদের কাজের সাথে জড়িত এবং প্রভাবিত করতে পারে তা একসাথে শিখবো ইন শা আল্লাহ্‌।

Marium Nur

17/07/2026

আসছে ইন শা আল্লাহ্ ১ মাসের এক্সক্লুসিভ মাস্টারকোর্স- "Conscious Parenting 101"

সাইকোলজিতে একটা বাক্য আছে: "Name it to Tame it". বাচ্চাদের ভালো রাখা বা শান্ত করার প্রথম শর্তই হলো আগে তার ভেতরের অনুভূত...
13/07/2026

সাইকোলজিতে একটা বাক্য আছে: "Name it to Tame it". বাচ্চাদের ভালো রাখা বা শান্ত করার প্রথম শর্তই হলো আগে তার ভেতরের অনুভূতির একটা নাম দেওয়া। নাম দিলেই তারা ধীরে ধীরে শান্ত হয়।

Conscious বাবা-মা কোর্সের গত ব্যাচে এক আপু বলেছিলেন, "...apu ami ekhono emotion er name gulo properly catch korte parina...even sometimes ami babyr emotion er proper name ta bolte parina..apni ki e**o help korben apu please."

আপু খুব ইম্পরট্যান্ট একটা কথা বলেছিলেন। আমি নিজেও এটা নিয়ে স্টাডি করছিলাম আর প্লুচিকের আবেগের চাকার সম্পর্কে ধারণা পাই। এই সাইকোলজিস্ট আবেগের যে হুইল বানিয়েছেন, সেখানে মানুষের ৮টি প্রাইমারি ইমোশন আছে। আনন্দ, বিশ্বাস, ভয়, সারপ্রাইজ, দুঃখ, ঘৃণা, রাগ আর প্রত্যাশা। তিনি বলেছেন, চাকাটার কেন্দ্রে তীব্র আর বাইরে মৃদু আবেগ থাকে যেমন: একটা লাল রঙ গাঢ় হলে হয় তীব্র রাগ (Rage), নরমাল হলে রাগ, আর হালকা লাল হলে সেটা কেবলি বিরক্তি।

আবার তিনি বলেছেন, যখন ২টা আবেগ একসাথে মিশে যায়, তখন সেখানে নতুন দ্বৈত আবেগের জন্ম হয়। যেমন আনন্দ আর বিশ্বাস থাকলে ভালবাসার জন্ম হয়, বিশ্বাস আর ভয় মিলে জন্ম নেয় আত্ন- সমর্পণের।

এগুলো গেল বড়দের পড়াশোনা। এবার আসি যারা বাচ্চাদের তাদের আবেগের সাথে পরিচিত করাতে চান, তারা কীভাবে শুরু করতে পারেন। তার আগে বলে রাখি, আবেগের নাম জানা আর তাদের ধরণ কেমন তা শিখা আমাদের সবার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ছোটবেলায় শিখিনি কোন ঘটনার দরুন আমাদের ভিতরে ঠিক কেমন লাগত। আমরা শুধু ৩টা আবেগ বুঝতাম- ভালো লাগা, খারাপ লাগা, আর রাগ। এখন বড়বেলায় এসে একটা নর্মাল হেলদী এমোশন প্লুচিকের হুইলের ডার্ক শেডে যাওয়ার পর বুঝতে পারি, "আচ্ছা! আমি শুধুমাত্র ঐ ঘটনাতে বিরক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু সেই ইমোশনটা তৎক্ষণাৎ না চেনার ফলে বা প্রকাশ করতে না পারার কারণে ওটা জমতে জমতে এখন তীব্র রাগ বা বিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে।"

যাই হোক, রিসেন্টলি আবেগ চিনার এই ১০ টা বইয়ের সেট নিউজফিডে চোখের সামনে আসে। আপনারাও নিতে পারেন। আমি দেখার সাথে সাথে আর অপেক্ষা করিনি। বাচ্চাদের জন্য অর্ডার করি। হাতে পাওয়া মাত্র খুব উৎসুক হয়ে আমি পড়ছি, বাচ্চাদের পড়ে শুনাচ্ছি। এমন কিছু আমি ছোটবেলায় পড়িনি। তাই জানার আগ্রহটা ওদের থেকে আমার বেশি। তবে প্রথম বাচ্চার একটু বুঝ হয়েছে। সে খুব মন দিয়ে শোনে প্রতিটা আবেগের কথা। এখন সে খুব জেলাস হয়। নিজের ভালবাসার মানুষদের কাউকে ধরতে দিতে চায়না। আজকে এই স্বাভাবিক ইমোশন সম্পর্কে জেনেছে। আর শুনার ফাঁকে ফাঁকে শুধু বলে, "আম্মা একটু দাঁড়াও, নতুন বইয়ের সুগন্ধটা একটু নিই!"

Marium Nur

"বিকেল ডিউটিতে ছিলাম। টেবিলে ডেলিভারি রোগী। এরই মধ্যে চিল্লাচিল্লি- আগুন আগুন!আমার কলিগ অন্য টেবিলে আর এক রোগীর ইপিসিওটম...
11/07/2026

"বিকেল ডিউটিতে ছিলাম। টেবিলে ডেলিভারি রোগী। এরই মধ্যে চিল্লাচিল্লি- আগুন আগুন!

আমার কলিগ অন্য টেবিলে আর এক রোগীর ইপিসিওটমি রিপেয়ার করছিলো। আমি ডপলার দিয়ে বাচ্চার হার্টবিট দেখছিলাম। একজন মাল্টি মা স্কোয়াটিং চেয়ার এ বসানো 8cm. ডাক্তার ছিলো, রাউন্ড চলছিলো। অন্যান্য পেশেন্ট, লেবার পেইন পেশেন্ট, সিজার এ রেডি পেশেন্ট সবাই নিচে দৌড় দিচ্ছে। লেবার রুম থেকে বের হয়ে দেখি নিচ থেকে ধোঁয়া আসছে। ততক্ষণে অর্ধেক মানুষ নিচে। আমি দৌড় দিয়ে এসে আমার কলিগ কে বললাম তুমি তাড়াতাড়ি রিপেয়ার করো আমি আছি। রিপেয়ার এর রোগীর করুন মুখ, 8cm নিয়ে বসে থাকা রোগীর ব্যাথায় চিৎকার আমার হাত ধরে বললো, "আপা আমাকে রেখে যায়েননা।"

মনে হলো এই মানুষগুলোকে রেখে যাওয়াটা কতটুক মানবিক হবে জানিনা, যদিও বের হয়ে বারবার গার্ড কে জিজ্ঞেস করছিলাম, "কি অবস্থা? আগুন কি নিভেছে? ধোঁয়া আসছে যে?" অনেকক্ষন পর উনি বললো, "ম্যাডাম আগুন নিভানো হয়েছে নিশ্চিত থাকেন।"

জানিনা আগুন স্প্রেড হলে কী হতো। কিন্তু আজ আগুন নিভে, নিশ্চিন্তে ডেলিভারি করিয়ে এই মানুষগুলার যে দোয়া পেলাম তা হয়ত জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।"

— মিডওয়াইফ রাফিয়া ইসলাম জান্নাতী
----------------------------------------------------------------

রাফিয়া আপু কিন্তু আমাদের কনশাস বার্থ কোর্সের ২য় দিনের স্পেশাল গেস্ট হিসেবে থাকছেন, যিনি গর্ভকালীন এবং তার পরবর্তী সময়কার মায়েদের বিভিন্ন স্বাভাবিকতা এবং জটিলতাগুলো সম্পর্কে আমাদের জানাবেন।

৩ দিনের মিনি কনশাস বার্থ কোর্স: ১৫ জুলাই - ১৮ জুলাই

কোর্স ফি: ১৫০ টাকা মাত্র।

#গর্ভকালীনযত্ন

ফেসবুকের বর্তমান অ্যালগরিদম একটু বুঝার চেষ্টা করছি।কিছুদিন আগে আমি ৮ দিন কোনো পোস্ট দিতে পারিনি, বিভিন্ন কারনে। তাই অ্যা...
06/07/2026

ফেসবুকের বর্তমান অ্যালগরিদম একটু বুঝার চেষ্টা করছি।

কিছুদিন আগে আমি ৮ দিন কোনো পোস্ট দিতে পারিনি, বিভিন্ন কারনে। তাই অ্যালগরিদম ধরে নিয়েছে আমার পেজটি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয়। এখন দেখছি সে আমার অনেক ফলোয়ারদের নিউজফিডে আমার পোস্ট পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। বুঝলাম, ফেসবুক অ্যালগরিদম চলে কনসিস্টেন্সি বা ধারাবাহিকতার ওপর।

তারপর ২ এ ২ এ ৪ এর হিসাবটা সম্পূর্ণ বুঝতে পারলাম। বড় বড় কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা কিছু সময় বিরতির পর পেজে এসে বিতর্কিত কথা বলে। বিতর্ক হলে মানুষ কমেন্ট বেশি করে, আর ফেসবুকের রোবট ভাবে এটা খুব হট টপিক, তাই সে আরও বেশি মানুষের কাছে ওটা পৌঁছে দেয়।

যেহেতু আমি প্রতিদিন কিংবা দিনে ২-৩ টা পোস্ট করতে চাইনা এবং শুধুমাত্র ডেডিকেটেড লার্নার্স বা যারা সত্যিই শিখতে আগ্রহী তাদের কাছে পৌঁছাতে চাই, তাই আমার এখনকার স্ট্র্যাটেজি কিছুটা বদলাচ্ছি। অ্যালগরিদমের দাস না হয়ে কীভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা যায় সেই পদ্ধতিতে কাজ করতে চাই। অল্প কিন্তু খাঁটি পাঠক নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।

খেয়াল করেছি, পেজের চেয়ে ফেসবুক গ্রুপের অর্গানিক ভিজিবিলিটি (স্বাভাবিক রিচ) অনেক বেশি হয়। শুধুমাত্র যারা সত্যিই শিখতে চান, তাদের সাথে একটি গভীর ও নিরাপদ যোগাযোগ তৈরি করতে চাই। তাই এখন থেকে 'Conscious Parenting BD'-এর সমস্ত আলোচনা, এক্সক্লুসিভ কোর্স এবং বিশেষ সেশনগুলো নিচের দেয়া আমাদের ক্লোজড গ্রুপে হবে। যারা এই শেখার জার্নিতে আমাদের সাথে থাকতে চান, নিচের লিংকে ক্লিক করে গ্রুপে যোগ দিন।

আচ্ছা, মাঝেমধ্যে বাস্তবতার খাতিরে আমার পেজে উঁকি দিতে হবে। মনে হতে পারে, মুখে বললাম অ্যালগরিদমের দৌড় পছন্দ না, আবার নিজেই সেই পেজে ফিরে আসলাম!

তার পেছনে একটা বড় কারণ আছে- পেজটাকে আমার গ্রুপের সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করবো। কেমন পার্থক্যটা একটু বুঝিয়ে বলি। আগে আমি পেজ চালানোর জন্য রোজ পোস্ট দিতে হতো। এঙ্গেজমেন্টের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হতো। মোট কথা অ্যালগরিদমের দাস হয়ে থাকতে হতো। এই জিনিসে আমি আর কখনই ব্যাক করতে চাই না। কারণ তখন ফেসবুক আমাকে ব্যবহার করে।

কিন্তু এখন আমি পেজে পোস্ট করবো আমি ফেসবুককে ব্যবহার করে নতুন রিয়েল মানুষদের টেনে আমার ক্লোজড গ্রুপে নিয়ে আসার জন্য। আমার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলো কাঙ্ক্ষিত মানুষদের কাছে রিচ হচ্ছে কিনা তা নিয়ে আমার আর কোনো মাথাব্যথাই থাকবে না। কারণ আমার আসল সম্পদ তখন গ্রুপে বসে আমার কিংবা এক্সপার্ট কারো ক্লাস দেখছে।

সোজা কথায়, আমি পেজে ব্যবহার করবো ভাইরাল হতে নয়, বরং যারা এখনো আমার কাজের জায়গাটা জানেন না, তাদের আমার গ্রুপের রাস্তাটা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য।

যারা আমাকে পছন্দ করেছেন আর আমার কাজকে ভালবেসেছেন, অনুগ্রহ করবো কনশাস প্যারেন্টিং বিডি ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হবেন (ফেসবুক গ্রুপের লিঙ্ক প্রথম কমেন্টে)। আমরা একে অন্যের সমস্যা সমাধানে পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করবো ইন শা আল্লাহ্‌।

- Marium Nur

আমরা যারা ৯০-এর দশকে বা তার আগে বড় হয়েছি, আমাদের অনেকেরই চাইল্ডহুড মেমোরিটা কেমন ছিল? একদিকে অত্যন্ত কঠোর, কড়া শাসনের বা...
06/07/2026

আমরা যারা ৯০-এর দশকে বা তার আগে বড় হয়েছি, আমাদের অনেকেরই চাইল্ডহুড মেমোরিটা কেমন ছিল?

একদিকে অত্যন্ত কঠোর, কড়া শাসনের বাবা; আর অন্যদিকে পরিস্থিতির চাপে মানসিক বা ইমোশনালি 'ফ্রিজ' হয়ে থাকা একজন মা। এই যে একটা থমথমে, সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকার পরিবেশ। এটার ভেতরেই কিন্তু আমাদের ব্রেইন বড় হয়েছে। আর তার প্রভাব পড়েছে আজ আমাদের পুরো পার্সো‌নালিটিতে।

এই পরিবেশে বেড়ে উঠা সন্তানরা কেমন হয়?

~ বাইরে থেকে এমন সন্তানদের দেখে মনে হতে পারে তারা ভীষণ 'স্বার্থপর' বা সেল্‌ফ সেন্টার্‌ড। কাউকে একটা ছোট সিদ্ধান্ত বা পরামর্শ দিতেও তারা ভয় পায়। কেন জানেন? কারণ মনের অবচেতনে একটা গভীর ট্রমা কাজ করে, "আমি যদি কোনো মত দেই আর সেটা ভুল হয়, তবে একটা তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যাবে!" এই 'তুলকালাম' বা 'বড় বিপদ' আর কিছুই নয়, ছোটবেলায় সামান্য ভুলের কারণে পাওয়া সেই ভয়ঙ্কর রূপের এক একটা ট্রমাটিক স্মৃতি।

~ সেই কঠোর শাসন থেকে বাঁচতে ছোটবেলায় এদের সারাক্ষণ সতর্ক থাকতে হতো। ফলে বড় হয়ে এরা নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে কোরবানি দিয়ে হলেও অন্য সবাইকে খুশি রাখতে চায়। কেউ যাতে কোনো কারণে রাগ না করে, সেই ভয়ে এরা কাউকেই না বলতে পারে না।

~ এদের ব্রেইন সবসময় একটা কাল্পনিক বিপদের আশঙ্কায় থাকে। কেউ একটু জোরে কথা বললে বা পার্টনারের মুড একটু খারাপ দেখলেই এরা ভেতরে ভেতরে প্যানিকড হয়ে পড়ে। মনে হয় এই বুঝি বড় কোনো ঝামেলা হতে যাচ্ছে।

আবার অন্য দিকে, সারাক্ষণ নিজেকে বাঁচানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকা মায়ের সেই ইমোশনালি ব্ল্যাঙ্ক বা নাম্ব অবস্থা বাচ্চাদের অবচেতনে একটা ভুল শিক্ষা দেয়। তারা শেখে, অন্যের বিপদে বা কষ্টে সাড়া না দিয়ে চুপচাপ থাকাটাই সবচেয়ে নিরাপদ। ফলে বড় হয়ে এরা কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না।

বাচ্চারা বড় হয়ে এমন হলো, এর জন্য কি তাহলে বাবা-মা দায়ী? না। আমাদের বাবা-মাও আসলে একটা ভাঙা ব্যবস্থার শিকার ছিলেন। বাবার সেই অতিরিক্ত কঠোরতা ছিল তাঁর আগের প্রজন্ম থেকে পাওয়া শৃঙ্খলার একটা ভুল রিফ্লেকশন। আর মায়ের সেই পুরোপুরি ফ্রিজ হয়ে যাওয়া স্বভাবটা ছিল ওই দমবন্ধ করা পরিবেশে তাঁর টিকে থাকার একমাত্র ঢাল। এখানে কেউ অপরাধী নয়। আমরা সবাই একটা চেইন রিয়্যাকশনের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া একেকটি ফল মাত্র।

এই নির্মম সত্যগুলোকে মেনে নেওয়াই ছিল আমার ভেতরের অদৃশ্য ক্ষতগুলো সারিয়ে তোলার প্রথম ধাপ। আমি এই সাইকেল ব্রেকার হিসেবে ট্রমার এই অন্তহীন চেইনটা ভাঙতে চেয়েছি। আমি চাইনি আমার বাবা-মায়ের সেই কষ্টের ছায়া আমার বা আমার সন্তানদের জীবনে পড়ুক।

আমার ট্রান্সফরমেশন জার্নি
আমার এই খোলস ভাঙার গল্পটা শুরু হয় নিজে মা হওয়ার পর। সন্তানদের লালন-পালন করতে গিয়ে হঠাৎ আবিষ্কার করলাম, আমার নিজের অজান্তেই ছোটবেলার সেই ট্রমাগুলো আমার আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে! তখনই আমি সচেতন হই। ট্রমা এবং সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। নিজেকে ভেঙেছি, আবার গড়েছি... অনেক বার।

কীভাবে জানলাম আমার ভেতরের এই ক্ষতগুলোকে?
যখন আমি অতিরিক্ত মানসিক প্রেশারে থাকি, আমার এমোশন তখন পেন্ডুলামের মতো একবার এক্সটি্‌র্‌ম হয় আবার পরক্ষণেই হতাশার মেঘ এসে আমাকে নাম্ব করে দেয়। এ দুই আবেগের মাঝে ব্যালান্স করতে না পারা ACE (Adverse Childhood Experiences) Survivors দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

নিজের এই ইমব্যালেন্সড আচরণগুলোর মূল কারণ খুঁজতে গিয়ে আমি 'থেরাপি' নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। এতদিন বাচ্চার ব্রেইনের বিজ্ঞান বুঝলেও, এবার নিজের শৈশবের অপূর্ণতাগুলোকে চেনার পালা ছিল।

আর এই জার্নিতেই আমি পরিচিত হই EMDR (Eye Movement Desensitization and Reprocessing) নামের এক অসাধারণ মনস্তাত্ত্বিক টেকনিকের সাথে। অনলাইনে একজন বিদেশী ফ্রেন্ডলি বিশেষজ্ঞ থেরাপিস্টের গাইডেন্সে আমি সেশন নেওয়া শুরু করি।

এই EMDR টেকনিকের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, প্রথাগত 'টক থেরাপি'র মতো এখানে অতীতে ঘটে যাওয়া কষ্টের ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা মুখে বলতে হয় না।

আমাদের শৈশবের যেসব যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি ব্রেইনের একদম গভীরে বছরের পর বছর ধরে একদম তাজা বা 'কাঁচা' অবস্থায় আটকে থাকে, EMDR মূলত সেগুলোকে প্রসেস করে। আমার থেরাপিস্ট চমৎকার কিছু কৌশলের মাধ্যমে আমার ব্রেইনকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, সেই পুরনো ঘটনাগুলো অতীত, বর্তমানে আমি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

সহজ কথায়, আমার মনের ভেতর যে পুরনো, কষ্টকর স্মৃতিগুলো একদম স্পষ্ট 'HD মুভি'র মতো চলত এবং আমাকে কষ্ট দিত, থেরাপিস্ট সেগুলোকে একটা ঝাপসা, ব্লার এবং গুরুত্বহীন ছবিতে রূপান্তর করে দিয়েছেন। সেশনগুলোর ধরণ ছিল বেশ চমৎকার। কখনো কষ্টের মুহূর্তের ছবিগুলোকে মনে মনে ব্লার করে দেওয়া, আবার কখনো কল্পনা করা যে স্মৃতিটি একটি টিভির পর্দায় দেখা যাচ্ছে এবং আস্তে আস্তে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে।

এই সেশনগুলোর পর আজ আমার ব্রেইন চিনেছে, কোনটা অতীত আর কোনটা বর্তমান। আর এভাবেই দীর্ঘদিনের সেই অদৃশ্য ক্ষতগুলো উপশম হতে শুরু করেছে।

আপনারা যারা এখন সন্তান বড় করছেন, আপনারা কি কখনো খেয়াল করেছেন- বাচ্চাদের সাথে আচরণ করার সময় নিজের ভেতরের এমন কিছু 'অনাকাঙ্ক্ষিত স্বভাব' বা রাগ বের হয়ে আসে, যা আপনি নিজেই চান না? তারপর এক সময় একা বসে ভাবেন, "আমি এমন কেন করলাম?"

ঠিক ধরেছেন, এটাই আপনার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই অদৃশ্য চাইল্ডহুড ট্রমার ছাপ। কমেন্টে জানান, আপনার ভেতরেও কি এমন কোনো চেইন ভাঙার লড়াই চলছে?

Marium Nur

আসছে কনশাস বার্থ (২য় ব্যাচ) গর্ভকালীন সময় থেকে শুরু করে সন্তান জন্মদান- একটি পরিবারের সবচেয়ে আনন্দের, কিন্তু একই সাথে সব...
05/07/2026

আসছে কনশাস বার্থ (২য় ব্যাচ)

গর্ভকালীন সময় থেকে শুরু করে সন্তান জন্মদান- একটি পরিবারের সবচেয়ে আনন্দের, কিন্তু একই সাথে সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময়।

এই সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে যেন কোনো মা বা শিশুর ক্ষতি না হয়, সেজন্যই আমরা নিয়ে এসেছি ৩ দিনের এক্সক্লুসিভ ক্র্যাশ কোর্স!

আমাদের ৩ দিনের স্পেশাল এই কোর্সের ২য় দিনে মেন্টর হিসেবে আসছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন Young 5+ years experienced Midwife- রাফিয়া ইসলাম জান্নাতী!

* কোর্স কারিকুলাম: অ্যান্টেনাটাল ও পোস্টন্যাটাল কেয়ার: প্রসবের আগে ও পরে মা ও শিশুর আসল যত্ন।

~ ফ্যামিলি প্ল্যানিং ও রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ কাউন্সিলিং।
~ ৩০-৩২ বছর বয়সে প্রথম মা হওয়া: কেন এটি ভয়ের কিছু নয়।
~ অতিরিক্ত ওজন থাকলেও কীভাবে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব (balanced ডায়েট ও মুভমেন্ট)।
~ Rh নেগেটিভ মায়ের সতর্কতা এবং জন্ডিস রিস্কের সহজ ব্যাখ্যা।
~ induce/ ইনজেকশন দিয়ে দ্রুত প্রসব বনাম প্রাকৃতিক প্রসব (কেন ঝুঁকিপূর্ণ না হলে ১২-১৬ ঘণ্টা অপেক্ষা জরুরি)।
~ সাইড কাটা (Episiotomy) কেন হয়? এটি কি কোন ব্যায়ামের মাধ্যমে এড়ানো যায়?
~ "আগে মা-বাচ্চা মারা যেত" এই ভয়গুলোর বৈজ্ঞানিক ও মানসিক মোকাবেলা।
~ প্রসব বেদনা কমানোর কিছু প্রাকৃতিক উপায়।
~ নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া।
~ Breastfeeding problems
~ Vaginal & Surgical সেলাইয়ের ইনফেকশন রোধ।
~ After birth body recovery and re-shape-এ আসার কিছু safe ব্যায়াম।
~ প্রশ্নোত্তর পর্ব।


কেন রাফিয়া আপুর সেশনটি আপনার মিস করা উচিত নয়?

~ তিনি সাউথ এশিয়ায় মিডওয়াইফারি সেক্টরকে এগিয়ে নিতে নেপালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ‘Leader-to-Leader’ কোলাবোরেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

~ জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) এবং Hope Foundation-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

~ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা রিফিউজি ক্যাম্পের মতো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং লো-রিসোর্স পরিবেশে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের জটিল ইমার্জেন্সি (যেমন: PPH বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং এক্লাম্পসিয়া) সফলভাবে সামলানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে!

~ তিনি Trauma Nursing College-এ একজন নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে নতুন প্রজন্মের স্বাস্থ্যকর্মীদের লাইফ-সেভিং স্কিল শিখিয়েছেন।

🩺 একজন সাধারণ মানুষের লেকচার নয়, সরাসরি BNMC নিবন্ধিত এবং একজন মিডওয়াইফের কাছ থেকে শিখুন গর্ভাবস্থার সঠিক যত্ন, বিপদের রেড ফ্ল্যাগগুলো চেনার উপায় এবং প্র্যাক্টিক্যাল গাইডলাইন।

⏳ ৩ দিনের এই কোর্সটিতে আসন সংখ্যা সীমিত!

আজই আপনার বা আপনার প্রিয়জনের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রেশন করুন।

৩ দিনের এই exclusive বার্থ কোর্স মুল্য: মাত্র ১৫০ টাকা।


আমি যখন প্রথম আমার জীবনের নতুন দায়িত্বের কথা জানলাম, তখন ঠিক করি সব ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে নিজেকে বিরত রাখব। ভবি...
05/07/2026

আমি যখন প্রথম আমার জীবনের নতুন দায়িত্বের কথা জানলাম, তখন ঠিক করি সব ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে নিজেকে বিরত রাখব। ভবিষ্যতে এমনটা হোক আমি চাইনি যে আমার সন্তানকে বলছি, "মোবাইল টিপবে না, ডিভাইস নেবে না", অথচ আমি নিজেই সময় পেলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ডুবে আছি।

দীর্ঘ ৪ বছর পর আমি আবার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছি। ফিরে আসার কারণ- এখন ধীরে ধীরে সন্তানরা তাদের নিজস্ব ব্যস্ততার মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে এবং আমিও ঠিক করলাম নিজের জীবনটা এইবার একটু গুছিয়ে নেওয়া যাক। কিন্তু এখনও মায়ের দায়িত্বের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া সাইট সামলানো আমার কাছে ভীষণ স্ট্রেসফুল বা অতিরিক্ত কাজ মনে হচ্ছে।

তখন সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং-এর কাজ ছিল না বলে আমি প্রচুর অলস সময় পেতাম। ভিনদেশে মাত্র দু'জনের সংসার। Husband-ও কাজে চলে গেলে আমি পুরোপুরি একা। বিদেশে তো সবাই চাকরি করে, তাই সবাই ব্যস্ত। কলীগদের সঙ্গে তাদের ডেইলি ভাবের আদান-প্রদান হয়, তা-ই তাদের জন্য যথেষ্ট। আলাদা করে পাশের বাসার ভাবি বা আপুদের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রয়োজন নেই। ফলে আমি সবার থেকে আলাদা হয়ে গেলাম। আমার প্রায়োরিটি লিস্টে তখন চাকরি করা ছিল না। সারাদিন বাসায় কী করব? বাইরে যেতাম, বিদেশের সৌন্দর্য, চোখ-জুড়ানো প্রকৃতি দেখতাম। হেলদি লাইফস্টাইল বজায় রাখার জন্য এটা সেটা কাজ করতাম। তবুও অনেক সময় হাতে থেকে যেত।

একদিন ভাবলাম, আমি তো প্যারেন্টিং নিয়ে বই পড়া শুরু করতে পারি। কারণ নতুন দায়িত্বের কাজ একবার শুরু হলে, কে জানে তখন এত অবসর সময় পাব কি না? যেই ভাবা সেই কাজ। প্রথমে দেশীয় কিছু বিখ্যাত প্যারেন্টিং বই পড়তে শুরু করি। যেমন: প্যারেন্টিংয়ের মূলনীতি, সন্তান স্বপ্নের পরিচর্যা, আমির জামান ও নাজমা জামানের প্যারেন্টিং ইত্যাদি বই পড়তাম আর গুগল ড্রাইভে নোট করে রাখতাম।

একসময় এ বিষয়ে শিখার নেশাতে পুরোপুরি ডুবে যাই। প্রথম সন্তান আইশা হওয়ার পর, বাংলা বইয়ের পাশাপাশি ইংরেজি লেখকদের বই পড়া শুরু করি। সেগুলোর মধ্যে The Whole-Brain Child, No-Drama Discipline, How to Talk So Kids Will Listen & Listen So Kids Will Talk অন্যতম। বিদেশী বইগুলোর মধ্যে The Whole-Brain Child আমার সবচেয়ে প্রিয়, কারণ এটা থেকেই আমি প্রথম জানতে পারি বিজ্ঞান-ভিত্তিক উপায়ে কীভাবে সন্তানের ডেভেলপিং ব্রেইন বুঝতে হয় এবং তার জন্য প্রেক্টিকাল কৌশলগুলো কী। এর গভীর সাইকোলোজিকাল দিকটিও আমাকে সন্তানদের বুঝতে অনেক সাহায্য করেছে।

যখন দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হলো, তখন নতুন বই অর্ডার করলাম- Siblings Without Rivalry: How to Help Your Children Live Together So You Can Live Too। এই বইগুলো থেকে পাওয়া জ্ঞান যখন আমি আইশা ও আকসার ওপর প্রয়োগ করতাম এবং লেখকদের কথার সত্যতা পাচ্ছিলাম, তখন আমি বুঝলাম এই মজার বিষয়টি নিয়ে আমার আরও গভীরভাবে পড়াশোনা করা দরকার।

বর্তমানে আমার প্রথম সন্তানের বয়স ৪ বছর+ এবং দ্বিতীয় সন্তানের ২+। আমি এখন রিয়ালাইজ করি, ৪ বছর নিজেকে সকল ডিসট্রাকশন থেকে সরিয়ে রেখে যে সময়, শ্রম এবং শিক্ষা আমি আমার জীবনে ইনভেস্ট করেছি, তা মা এবং শিক্ষার্থী হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ইনভেস্টমেন্ট।

আজকাল অনেকে প্রায়ই আমার কাছে জানতে চান, প্যারেন্টিংয়ের এই পথচলায় পড়াশোনা বা জানার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে কী কী পেইড এবং আনপেইড রিসোর্স ফলো করি। আপনাদের সুবিধার জন্য আমার নিয়মিত তালিকার কিছু অংশ শেয়ার করছি:

~ বিশ্বখ্যাত চাইল্ড সাইকোলজিস্ট ও প্যারেন্টিং এক্সপার্টদের কাজ আমি নিয়মিত ফলো করার চেষ্টা করি। যেমন ভারতের রাজ শামানি (Raj Shamani)-এর বিজ্ঞানভিত্তিক প্যারেন্টিং পডকাস্টগুলো আমি শুনি। এছাড়া পাকিস্তানের ড. জাভেদ ইকবাল এবং ড. সালমান আসিফ সিদ্দীকী প্যারেন্টিং নিয়ে অসাধারণ সব কাজ করছেন, তাদের আলোচনাগুলো দারুণ তথ্যবহুল। Psychology বুঝার জন্য Tony Robbins এর ভিডিওগুলো আমাকে খুব বিস্মিত করে।

~ ড. বেকি বেইলি (Dr. Becky Bailey) এবং ড. গ্যাবর ম্যাটে (Dr. Gabor Maté)- এর রিসোর্সেসগুলো সবসময় আমার কাছে ভীষণ ইনফরমেটিভ মনে হয়।

~ আমি সবসময় অগোছালো তথ্যের চেয়ে স্ট্রাকচারড নলেজ পছন্দ করি এবং সেজন্য কোর্স করাকে প্রাধান্য দিই। ইতিমধ্যে অনলাইনে আমার ৩-৪ টি পেইড-আনপেইড কোর্স করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির (Harvard University) আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট কোর্স, প্রফেশনাল ট্রমা ইনফর্মড প্যারেন্টিং কোর্স এবং ইয়েল ইউনিভার্‌সিটির হিউম্যান সাইকোলজি কোর্স।

╔═════════════════════════╗
আমার "Conscious Baba-Maa" মিনি কোর্স:
এই দীর্ঘ ৪ বছরের শিক্ষা, বই খাতা ও কোর্সের প্র্যাক্টিক্যাল জ্ঞান থেকেই আমি নিজে একটি প্যারেন্টিং মিনি কোর্স ডিজাইন করেছি, যার নাম "Conscious Baba-Maa"। প্রতি ২ মাস পর পর আমি এই কোর্সের নতুন ব্যাচ শুরু করি, যেখানে একদম প্র্যাক্টিক্যাল উপায়ে সচেতন মা-বাবা হয়ে ওঠার কৌশলগুলো আমরা একসাথে শিখি।
╚═════════════════════════╝

এছাড়া "কনশাস বার্থ" একটি মিনি কোর্স রয়েছে আমার। যে কোর্সে গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের জার্নিকে কিভাবে স্মুথ করানো যায় এব্যাপারে একজন রেজিস্টার্ড মিডওয়াইফ আপু তার বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আমাদের সাথে শেয়ার করেন। সহজভাবে বললে- বিদেশি প্রিনাটাল পোস্টনাটাল কোর্সের সংক্ষিপ্ত ভার্সন।

"কনশাস বাবা- মা" এবং "কনশাস বার্থ" এর পাশাপাশি প্যারেন্টিং এর শাখা প্রশাখা সম্পৃক্ত নানা কোর্সের আইডিয়া মাথায় খুব গিজগিজ করে। কিন্তু সময় স্বল্পতার দরুন এখন বাস্তবায়ন করা বলতে গেলে অসম্ভব। শেখার এই প্রক্রিয়াটি প্রতিনিয়ত চলছে। আপনারাও চাইলে নিজের সুবিধামতো রিসোর্সগুলো দিয়ে আপনাদের প্যারেন্টিং জার্নিটা শুরু করতে পারেন।

শুভকামনা সব সচেতন মা-বাবার জন্য!

Marium Nur

04/07/2026

প্রেগন্যান্সি কি শুধুই ভয়ের? আপনার কি মনে হয়? এটাতো একটা মেয়ের জীবনের খুব সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা হবার কথা ছিল! তাহলে কেন হচ্ছেনা? কিসের অভাব? সচেতনতার, নাকি পরিচর্যার?

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Conscious Parenting BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share