12/07/2026
সেরা শিক্ষাব্যবস্থার দেশগুলো আসলে কী করে?
শিক্ষকতা আর শিক্ষা নিয়ে কাজ করার সুবাদে মাঝে মাঝে বিভিন্ন দেশের কারিকুলাম ঘাঁটতে হয়। জাপান, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা গভীর অন্বেষণ করতে গিয়ে কিছু বিষয় চোখে পড়েছে, যা আমাদের সবার জানা দরকার বলে মনে হলো। তাই লিখছি....
আমরা ভাবি, ওই দেশের বাচ্চারা বুঝি দিনরাত পড়ে বলেই এত ভালো করে। আসলে ব্যাপারটা উল্টো। রহস্যটা পড়ার পরিমাণে নয়, পড়ানোর ধরনে।
জাপানে ছোটবেলায় পরীক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় চরিত্র গঠন। বাচ্চারা নিজেরাই ক্লাসরুম পরিষ্কার করে, নিজেরাই খাবার পরিবেশন করে। স্কুল আগে মানুষ বানায়, তারপর ছাত্র।
ফিনল্যান্ডে সাত বছর বয়সের আগে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনাই শুরু হয় না। শিশুরা শেখে খেলতে খেলতে। প্রাথমিকে পরীক্ষার দৌড় নেই, বাড়ির কাজের পাহাড় নেই। অথচ ফলাফলে ওরা বিশ্বসেরা। আর সেখানে শিক্ষক হতে চাইলে মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। শিক্ষকের সম্মান ডাক্তারের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
সিঙ্গাপুর গণিত শেখায় তিন ধাপে। প্রথমে হাতে ধরা বাস্তব জিনিস দিয়ে, তারপর ছবি দিয়ে, সবশেষে সংখ্যা দিয়ে। ফলে বাচ্চা সূত্র মুখস্থ করে না, ধারণাটাই বুঝে ফেলে। এজন্যই ওরা গণিতে পৃথিবীর সেরা।
আর দক্ষিণ কোরিয়া শিক্ষাকে বানিয়েছে জাতীয় অগ্রাধিকার। প্রাথমিক থেকেই প্রযুক্তি আর ডিজিটাল দক্ষতা শেখানো হয় কারিকুলামের ভেতরেই।
লক্ষ করলে দেখা যায়, দেশগুলো আলাদা হলেও চারটি জায়গায় সবাই এক-
01. শৈশব শুরু হয় খেলা দিয়ে, বইয়ের বোঝা দিয়ে নয়।
02. মুখস্থ নয়, শেখানো হয় ভাবতে। প্রশ্ন করতে শেখানো হয়, উত্তর গেলানো হয় না।
03. শিক্ষক সেখানে সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও সম্মানিত পেশাজীবী।
04. পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেখানো হয় নৈতিকতা, শৃঙ্খলা আর জীবনদক্ষতা।
এবার নিজেদের দিকে তাকাই। আমরা এখনো মাপি কে কত পৃষ্ঠা মুখস্থ করল। অথচ পৃথিবী মাপছে কে কত গভীরভাবে ভাবতে শিখেছে।
তাই সন্তানকে প্রশ্ন করতে দিন, খেলতে দিন, ভুল করতে দিন। মুখস্থবিদ্যা সাময়িক নম্বর দেয়, চিন্তার দক্ষতা দেয় সারা জীবনের সম্পদ।
জাতি বদলাতে চাইলে আগে বদলাতে হবে শ্রেণীকক্ষে পড়ানোর ধরন। যে জাতি তার শিশু আর শিক্ষককে যত সম্মান দেয়, সে জাতি তত এগিয়ে যায়।
আপনার কী মনে হয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সবার আগে কোন পরিবর্তনটা দরকার? মন্তব্যে জানাবেন-