Raozan Institute of Technology
Build skilled Bangladesh
02/07/2025
রাবেয়ার জীবনটা সহজ ছিল না কখনোই। ছোট্ট একটা ঘরে তিন বছরের ছেলে রাকিবকে নিয়ে দিন কাটাতেন তিনি। স্বামী আকবর মিয়া মারা গেছে রাকিবের জন্মের ছয় মাসের মাথায়। আকবর ছিল একজন রিকশাচালক। রাস্তায় একদিন দুর্ঘটনায় পড়ে তার মৃত্যু হয়। রাবেয়ার তখন মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।
প্রথম দিকে প্রতিবেশীরা কিছুটা সহানুভূতি দেখিয়েছিল। কিন্তু ক'দিন পর সবাই যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়ল। রাবেয়ার সামনে তখন একটাই পথ খোলা ছিল, মানুষের বাসায় কাজ করা। সকালে বেরিয়ে একটার পর একটা বাসায় কাজ করে বিকেলের দিকে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরতেন।
কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। বাসায় কাজ করতে গেলে ছোট্ট রাকিবকে সঙ্গে নিতে চাইলে গৃহকর্ত্রীরা রাজি হতো না। "এই বাচ্চাকে নিয়ে আসবেন না আপা, ঝামেলা হয়," এই কথাটা শুনতে শুনতে রাবেয়ার কান পঁচে গেল। কী করবেন বুঝতে না পেরে বাধ্য হয়ে তিনি রাকিবকে নিজের ঘরে একা রেখে যেতেন। মাঝেমধ্যে পাশের ঘরের ভাবিকে বলতেন, "ভাবি, একটু রাকিবের দিকে খেয়াল রাখবেন।" ভাবি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেও নিজের কাজের মধ্যে এতটাই ব্যস্ত থাকতেন যে রাকিবের দিকে খেয়াল রাখার সময় পেতেন না।
দিন যেতে লাগল। রাবেয়া সকালে কাজে বেরিয়ে যেতেন, বিকেলে ফিরে দেখতেন রাকিব রাস্তার ছেলেদের সঙ্গে খেলছে। শুরুতে তেমন গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন, ছেলেটা একটু বড় হচ্ছে, খেলাধুলা করাটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা টের পেলেন যখন রাকিব একদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরল না। রাবেয়া পাগলের মতো তাকে খুঁজতে বের হলেন। অবশেষে গভীর রাতে পাশের গলির একটা বস্তির সামনে রাকিবকে পেলেন। চোখ লাল, শরীর ঢুলুঢুলু।
- "রাকিব! তুই এখানে কী করছিস?"
রাকিব মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। তার শ্বাসে এক অদ্ভুত গন্ধ। রাবেয়া ভয় পেয়ে গেলেন। "তুই কী নেশা করেছিস?"
রাকিব কিছু বলল না। তার পকেট থেকে একটা ছোট্ট প্যাকেট বেরিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। গাঁজা। রাবেয়া অবিশ্বাস ভরে তাকিয়ে রইলেন।
- "তোর এই অবস্থা হলো কীভাবে?"
রাকিব ফুঁপিয়ে কেঁদে বলল, "মা, আমি তো একা থাকতাম। যাদের সাথে খেলতাম, তারা আমাকে বলত নিলে ভালো লাগবে। আমিও নিয়ে নিতাম…"
রাবেয়ার পা ঠান্ডা হয়ে এল। বুঝতে পারলেন, তিনি ছেলেকে পথভ্রষ্ট হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। পরের দিন রাকিব আর স্কুলে গেল না। রাবেয়া জোর করেও পাঠাতে পারলেন না। একদিন রাকিবের নামে চুরি আর মাদকের অভিযোগ এলো। আর কয়েক বছর পর রাকিব বড় হয়ে গেল এক নামকরা কিশোর গ্যাংয়ের লিডার।
রাবেয়ার মাথায় হাত। এ জীবনে ছেলেকে আর ফেরানো যাবে না, এটাই মনে হচ্ছিল।
মসজিদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা:
রাবেয়া যখন এই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছিলেন, তখন এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেব তার খোঁজ নিলেন। তিনি রাবেয়াকে ডেকে বললেন, "বোন, তোমার সমস্যা আমরা সবাই মিলে সমাধান করব। মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা আমাদের জন্য একটা আশার আলো।"
রাবেয়া অবাক হয়ে বললেন, "কিন্তু আমি তো গরিব। আমার জন্য কীভাবে…"
ইমাম সাহেব হাসলেন। বললেন, "শুনো, মসজিদের আশপাশের ৫০টি পরিবার নিয়ে আমরা একটা সমাজ তৈরি করছি। এই সমাজের নিয়ম হলো:
👉 ধনী মানুষরা তাদের আয়ের ১০% মসজিদের তহবিলে দান করবেন।
কিন্তু ধনী মানুষরা কেন দান করবেন?
কারণ মসজিদভিত্তিক সমাজই এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। হয়তো শুনে অবাক হচ্ছো? ভাবছো, ধনী মানুষরা কেনই বা তাদের উপার্জনের অংশ দান করবেন? কারণ মানুষের মনে সবসময় একটা ভয় কাজ করে, বৃদ্ধ বয়সে কে আমাকে দেখবে?
আমরা যতই বলি, "আল্লাহ ভরসা," কিন্তু দিন শেষে মনের মধ্যে একটা চিন্তা থেকেই যায়, আমার বৃদ্ধ বয়সে আমাকে কে দেখবে? ছেলেমেয়েরা কি আদৌ আমার খেয়াল রাখবে? নাকি আমি একা হয়ে যাব? এই ভয় থেকেই মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়তে চায়। যখন সেই পাহাড় গড়া শেষ হয়, তখন অভ্যাসবশত সেই সম্পদ জমিয়ে রাখতে চায়। আর এই ফাঁকে শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। তখন মানুষ অবৈধ পথে উপার্জনে লিপ্ত হয়।
কিন্তু যদি মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাহলে এই ভয় আর থাকবে না। কারণ সমাজ জানবে-
➡️ আমার যদি কিছু হয়, মসজিদ আমার দায়িত্ব নেবে।
➡️ আমি বৃদ্ধ হলে মসজিদ আমাকে দেখবে।
➡️ আমার সন্তান যদি পথভ্রষ্ট হয়, মসজিদ তাকে ফিরিয়ে আনবে।
➡️ আমার স্বামী মারা গেলে বা আমি কর্মক্ষম না থাকলে মসজিদ আমাকে আশ্রয় দেবে।
এভাবেই মসজিদভিত্তিক সমাজভিত্তিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব। আল্লাহ দিনে পাঁচবার সালাহ্-এর পাশাপাশি ফালাহ্ (কল্যাণ) এর কথা বলেছেন। এই কল্যাণ যদি আমরা মসজিদ থেকে নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে মানুষ আর সম্পদের পাহাড় গড়তে চাইবে না।
👉 একজন কাজের বুয়া, গার্মেন্টস কর্মী বা কর্মজীবী মহিলা তার সন্তান রেখে কাজে যায়। তার সন্তান স্কুলে যায় না, মাদ্রাসায় যায় না। রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে একসময় অপরাধে জড়িয়ে যায়। যদি মসজিদের ইমাম এই শিশুদের দায়িত্ব নেন, মসজিদের পাশে একটা কক্ষ তৈরি করে তাদের দেখাশোনা করেন, তাহলে এই শিশুরা আর কখনোই কিশোর গ্যাংয়ে জড়াবে না। তারা আর মাদকাসক্ত হবে না। বরং তারা বড় হয়ে সমাজের জন্য আদর্শ মানুষ হবে।
👉 একজন বৃদ্ধ বাবা-মা যখন একা হয়ে যাবেন, তখন মসজিদ যদি তাদের দায়িত্ব নেয়, তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে তারা নিশ্চিন্ত থাকবেন। তারা অবৈধ পথে উপার্জনের চিন্তা করবেন না। সমাজে আর দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না।
👉 ইমাম সাহেবের ভূমিকা হবে সমন্বয়কারী হিসেবে। যেমন কারো বাবা মারা গেলে, মসজিদের দায়িত্ব হবে সমাজের ৪০টি ঘরের মানুষকে জানানো—"আজ থেকে এই পরিবারের দায়িত্ব আমাদের। আপনারা প্রত্যেকে মাসে ১০% করে ইনকাম মসজিদের তহবিলে দেবেন। সেখান থেকে তাদের খরচ চলবে।"
👉 কালকে আমি বা আপনি মারা গেলে, আমাদের দায়িত্বও মসজিদ নেবে। আমি যদি বৃদ্ধ হই এবং আমাকে দেখার কেউ না থাকে, তাহলে ঐ ১০% দানের তহবিল থেকেই আমার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হবে।
এইভাবে যখন হাইয়ালাল ফালাহ (কল্যাণের আহ্বান) বাস্তবায়ন হবে, তখন আর কেউই অবৈধ পথে উপার্জন করতে চাইবে না। আর তখন সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং... সবকিছুই ধীরে ধীরে মুছে যাবে।
রাবেয়া প্রথমে সংশয়ী ছিলেন। কিন্তু ইমাম সাহেব এবং সমাজের লোকদের পরামর্শে তিনি রাকিবকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করলেন। মুয়াজ্জিন সাহেব নিজে রাকিবকে দেখাশোনা করতে লাগলেন। রাকিব প্রথমে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে সে স্বাভাবিক হয়ে উঠল।
সেখানে রাকিব নতুন বন্ধু পেল। তার মাদকাসক্তির চিকিৎসা হলো। মনোবৈজ্ঞানিক পরামর্শক তাকে ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দিলেন- মাদকের পথ তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মসজিদ কমিটির লোকজন তাকে কোরআন শেখানোর পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় মনোযোগী করে তুললেন। ধীরে ধীরে রাকিব বদলে যেতে লাগল।
রাকিব বড় হয়ে মাদকের পথ ছেড়ে দিল। এখন সে নিজেই অন্য পথভ্রষ্ট কিশোরদের ঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। সে ইমাম সাহেবকে বলেছিল,
"আমাকে যেভাবে সমাজ বাঁচিয়েছে, আমি এখন অন্যদের বাঁচাতে চাই।"
মসজিদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার সফলতা
একটা মসজিদভিত্তিক সমাজ কেমন হতে পারে তা রাবেয়া নিজের চোখে দেখলেন। এখন আর সমাজে কোনো মা ভয় পায় না যে তার সন্তান পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। মসজিদের আশ্রয়ে প্রতিটি শিশু নিরাপদ। ধনী-গরিবের ব্যবধান কমে এসেছে।
👉 এখন আর কোনো মা তার সন্তানকে একা রেখে কাজে যায় না।
👉 কেউ না খেয়ে থাকে না।
👉 মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাং সমাজ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে।
👉 বেকার যুবকরা পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
👉 সমাজে শান্তি আর নিরাপত্তা ফিরে এসেছে।
ইমাম সাহেব এখনো প্রতিদিন আজানের পর বলেন-
👉 হাইয়ালাল সালাহ্ (নামাজের জন্য এসো)
👉 হাইয়ালাল ফালাহ্ (কল্যাণের জন্য এসো)
রাবেয়া এখন নিজের সন্তানকে নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমান। কারণ তিনি জানেন, মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা তার সন্তানকে শুধু নিরাপত্তাই দেয়নি, বরং তাকে একটি নতুন জীবন দিয়েছে।
এটি একটি কাল্পনিক গল্প-
তবু এমন গল্প সত্যি করতেই আমরা কাজ করি।
Waheed Electricians' Welfare Foundation.
16/06/2024
Eid Mubarak
07/06/2024
Learn before earn
05/06/2024
“There is no end to education. It is not that you read a book, pass an examination, and finish with education. The whole of life, from the moment you are born to the moment you die, is a process of learning.” — Jiddu Krishnamurti
19/04/2024
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Chittagong
4340