12/06/2026
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ, স্বপ্নের প্রকৃত অর্থ একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। কোনো স্বপ্ন দেখেই নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়া সঠিক নয়।
রাসূল ﷺ বলেছেন, স্বপ্ন তিন প্রকার:
১. আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদমূলক স্বপ্ন।
২. শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় প্রদর্শনকারী স্বপ্ন।
৩. মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও দৈনন্দিন ঘটনার প্রতিফলন।
মৃত নানাকে স্বপ্নে দেখে তিনি যদি বলেন, "হায় হায়, সব শেষ হয়ে গেছে, তাদের ঘরের সব ফুঁড়ে শেষ", তাহলে এর কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে:
এটি স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের কোনো দুশ্চিন্তা বা পারিবারিক উদ্বেগের প্রতিফলন হতে পারে।
মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও সদকার প্রয়োজন আছে—এমন অনুভূতি থেকে এ ধরনের স্বপ্ন দেখা যেতে পারে।
পরিবারের সদস্যদেরকে আল্লাহর আনুগত্য, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং পারিবারিক বন্ধন রক্ষার ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার একটি শিক্ষা হতে পারে।
তবে এ স্বপ্ন দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে কোনো বিপদ আসবেই বা পরিবারের ধ্বংস অনিবার্য। ইসলামে এ ধরনের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুমতি নেই।
করণীয়
মৃত নানার জন্য বেশি বেশি মাগফিরাতের দোয়া করা।
সম্ভব হলে তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করা।
পরিবারের সবাইকে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও তাওবার প্রতি যত্নবান হওয়ার উপদেশ দেওয়া।
যদি স্বপ্নটি ভয়ঙ্কর বা অশান্তিকর হয়, তাহলে বাম দিকে তিনবার হালকা থুথু ফেলার ভঙ্গি করে "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়তে হবে এবং সবার কাছে স্বপ্নটি প্রচার না করাই উত্তম।
দোয়া:
اللهم اغفر له وارحمه وعافه واعف عنه
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু ওয়া আফিহি ওয়াফু আনহু।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি দয়া করুন, তাকে নিরাপত্তা দিন এবং তাকে মার্জনা করুন।"
সুতরাং, এই স্বপ্নকে অমঙ্গল বা নিশ্চিত কোনো ঘটনার পূর্বাভাস মনে না করে, মৃত নানার জন্য দোয়া করা এবং নিজের আমল সংশোধনের চেষ্টা করাই উত্তম। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।