07/02/2025
ইবন সিনা ::: এক অতুলনীয় জ্ঞানপিপাসু ও মানব ইতিহাসের অমর দীপশিখা ।
যার জীবন যেন এক মহাকাব্যের পৃষ্ঠা, যেখানে শৈশবের অম্লান কল্পনা থেকে শুরু করে চিকিৎসা, দর্শন ও অপার জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায়ে বিদ্যার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে।
৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বোখারার নিকটবর্তী আফসানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করা ইবন সিনার শৈশব ছিল আলো ও জ্ঞানের উদ্গীরণ। শিশু বয়স থেকেই তাঁর অন্তরে জ্ঞানার্জনের অদম্য আগ্রহ জাগ্রত হয়। মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে ফেলেন। গৃহশিক্ষকদের অনুপ্রেরণায়, ভারতীয় গণিত, আরবী ভাষার সুর, এবং গ্রিক দর্শনের প্রাচুর্যে তিনি আত্মনিবেশিত হন, যেন প্রতিটি শিখরে তাঁর মেধা এক নতুন আলো জ্বালায়।
স্কুলের প্রাঙ্গনের সীমারেখা যখন ভেঙে যায় , তখন তিনি সমগ্র বিশ্বকে তাঁর আত্মপ্রকাশের মঞ্চ বানিয়ে নেন। ইউক্লিডের জ্যামিতি থেকে শুরু করে টলেমির জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শনের প্রতিটি সূক্ষ্ম দিক তিনি নিজের অন্তরে ধারণ করেন, আর সেই প্রজ্ঞার আলোয় পরবর্তীতে দীপ্তিমান হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য গ্রন্থ—“কানুন ফি তিব্ব” ও “আশ শিফা” যা মধ্যযুগীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে এক বিপ্লবী ভূমিকা পালন করেছিল, শতাব্দী ধরে ইউরোপ ও মুসলিম বিশ্বে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ইবন সিনার জীবনে মানবতার প্রত্যাশা, আত্মার প্রশান্তি ও চিকিৎসার মৌলিক সত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে। তাঁর মেধার দীপ্তি আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়িয়ে দিয়ে চলেছে, যেন এক সাহিত্যিক কাব্যের চিরন্তন ছন্দ, যা প্রতিটি যুগের পাঠকের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা জাগায়।