Center for Advance Studies, Chittagong - CASC

Center for Advance Studies, Chittagong - CASC

Share

'ইতিহাস-ঐতিহ্য-রাজনীতি-সংস্কৃতি'

07/03/2025

প্রাক্তন ফ্যা*সি*স্টের আইকন স্বৈ^রা°চার মজু গুন্ডা ছিল প্রচন্ড ক্ষমতা লোভী। এই ক্ষমতার লোভে জীবনের প্রাথমিক রাজনীতিতে মুসলিম লীগে যুক্ত হয়েছিল। সোহরাওয়ার্দীকে নিয়মিত সহমত ভাই, সেই ভাই সেই, আপনারা মতো নেতা হয় না ভাই, আপনার ভয় নেই ভাই এসব তেলমালিশ করতো যেভাবে তার রোহানী সন্তানরা এতকাল করেছে৷ বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এই অপরাজনীতির জন্ম দিয়েছিল স্বৈ^রা°চার মজু গুন্ডা। মুসলিম লীগে যুক্ত হয়ে যখন জিন্নাহ আর সোহরাওয়ার্দীর মিল হচ্ছিল না তখন পাকিস্তানের ক্ষমতা না পেয়ে সোহরাওয়ার্দী, মজুরা আওয়ামিলীগ প্রতিষ্ঠা করে। স্বৈ^র*শা°সক আইয়ূবের শাসনামল থেকে দেশকে বিভক্ত করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেছে। ভারতের সহায়তায় আগরতলায় গিয়েও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। সব কাটগড় শেষ করে সত্তর এর নির্বাচনে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ লাভ করে। ততদিনে মউজ্জা ছাড়া বাকি নেতারা মারা যায়। ফাঁকা মাঠে মউজ্জা একা হয়ে যায় হিরো। তারই প্রেক্ষিতে নির্বচানে জয়ের পর পাকিস্তানিরা যখন ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা তালবাহনা করছিল তখন মজু গুন্ডা বিভিন্নভাবে পাকিস্তানের সাথে নেগোসিয়েশন করার চেষ্টা করে। মউজ্জা প্রধানমন্ত্রীত্ব নেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। এমনকি ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত সে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব চেয়েছে। যে ভাষণকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বলা হয় তা আসলে একটা ভূয়া কথা। সেই ভাষণটি ছিল পাকিস্তানের ক্ষমতা এককভাবে পাওয়ার জন্য।

সেদিন সে ৪টি দফা তুলে ঐ ভাষণে:

1. সামরিক আইন বাতিল করতে হবে।
2. হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে।
3. সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
4. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

চারটি দফা ভালোভাবে দেখলেই বুঝবেন সে জোড় দিয়ে বলেছে ক্ষমতার জন্য। পাকিস্তান যদি সে সময় ক্ষমতা হস্তান্তর করতো এতো গণহত্যা হতো না। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর করলে আরেক ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল লীগ। সেটা আরেক লিখায় লিখেছিলাম। যদি ৭ই মার্চ তার ভাষণ মেনে নিতো তাহলে সর্বোচ্চ মজু গুন্ডা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতো কোন যুদ্ধ হতো না। এমনকি ২৫ মার্চ রাতে পর্যন্ত মজু গুন্ডা ব্যাগ গুছিয়ে স্বেচ্ছায় পাকিস্তান কারাগারে পালিয়ে গিয়েছিল। এমনকি সেদিন ভাষণে মজু গুন্ডা পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়েছিল ( তথ্যসুত্র: হিস্টোরাইজিং ১৯৭১ জেনোসাইড: স্টেট ভার্সেস।পার্সন- অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ)

৭ই মার্চের স্বাধীনতার ভাষণ এইসব মজুগুন্ডা ও তার দলের একটা চেতনার প্রপাগাণ্ডা।

09/02/2025

দুইটা থিসিসের অস্ত্রোপচার

থিসিস নং ১: '৩০ লাখ শহীদ'

বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদীরা মনে করে বাঙ্গালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃখপীড়িত দুর্দশাগ্রস্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় ছিল পাকিস্তান আমলের ২৩ বছর।এই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্মাণ করেছেন।এই চেতনার একটা উপপাদ্য হল-

'৩০ লাখ শহীদ'।

এই যে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংখ্যাতাত্ত্বিক নোংরামি তার পেছনে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের মনস্তাত্ত্বিক - আদর্শিক কারণ রয়েছে বলে মনে করি।

ইতিহাসের নানা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে পাকিস্তান আন্দোলনে কমসেকম ১০লাখ লোক নিহত হয়েছে।

দেশভাগের ক্ষয়ক্ষতি তথা ভারত- পাকিস্তান আন্দোলনের চেয়েও পাকিস্তা-বাংলাদেশ আন্দোলন আরও ভয়াবহ ও নৃশংস এই কথা প্রমাণ করার জন্যই হয়তো মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১০লাখের সাথে পাল্লা দিয়ে ৩০লাখ বানানো হইসে।এতে এইটা প্রমাণ করা সহজ হয় যে, সমগোত্রীয় পাকিস্তানিরা বিষমগোত্রীয় কংগ্রেসীদের চেয়েও খারাপ। হিন্দু মহাসভা হিন্দু মেলা আরেসেসের চেয়েও মুসলিম লীগ সাম্প্রদায়িক। ভারত রাষ্ট্রের চেয়েও পাকিস্তান রাষ্ট্র বেশি রক্ষণশীল এবং নিপীড়নমূলক।এককথায় দ্বিজাতিতত্ত্ব ফেইল করেছে।কংগ্রেসের 'তত্ত্ব'ই ঠিক ছিল।

থিসিস নং ২: 'পাকিস্তান আন্দোলন সাম্প্রদায়িক আন্দোলন '

বদরুদ্দীন ওমর সহ বাংলাদেশের বামপন্থী তাত্ত্বিকরা মনে করেন মুসলিম লীগের রাজনীতি ছিল সাম্প্রদায়িক। পাকিস্তান আন্দোলন ছিল সাম্প্রদায়িক আন্দোলন। কেন এই আন্দোলন সাম্প্রদায়িক? মুসলিম লীগ একটা বিশেষ সম্প্রদায় মুসলিমদের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করেছে তাই সাম্প্রদায়িক।

ইংরেজ কু-শাসনের ২০০বছরে রাজা রামমোহন রায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত দ্বারকানাথ ঠাকুর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বামী বিবেকানন্দ স্বামী দয়ানন্দ স্বরস্বতী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী লালা লাজপত রায় লালা লালচাঁদ ভাই পরমানন্দ বালগঙ্গাধর তিলক বিপিন পাল মহাত্মা গান্ধী নেহরু প্রমুখ ভারতের হিন্দু নেতারা একপেশে রাজনীতি করে গেছেন। তাদের আন্দোলনে বক্তৃতায় কর্মসূচীতে লেখায় কোথাও মুসলিমদের অধিকারের কথা নেই।

কলোনির দুইশো বছরের ইতিহাসের উপর যাদের সামান্য বস্তুনিষ্ঠ পড়াশোনা আছে তারা জানেন এই সময়েত সবচেয়ে মজলুম সম্প্রদায় ছিল মুসলিমরা।অর্থে বিত্তে শিক্ষায় চাকরিতে সবদিক বিবেচনায় এরা পিছিয়ে ছিল।একটা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছে মুসলীম লীগ এটা কিভাবে সাম্প্রদায়িক হয়?

বঞ্চিত নিপীড়িত কৃষক সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে কি কেউ সাম্প্রদায়িক আন্দোলন সাব্যস্ত করেছেন এ-যাবৎ? যদি না হয়ে থাকে তাহলে মার্ক্সবাদের দৃষ্টিতে পাকিস্তান আন্দোলনও শ্রেণী আন্দোলনের মর্যাদা পাওয়া উচিত ছিল।

যদি এই আন্দোলন সাম্প্রদায়িক হয় তাহলে উপমহাদেশে সব আন্দোলন সাম্প্রদায়িক। ইলা মিত্রের নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ নকশালবাড়ীর আন্দোলন ভাসানীর রাজনীতি সবকিছুই সাম্প্রদায়িক এমনকি বাঙালির ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী অধিকারভিত্তিক আন্দোলনও সাম্প্রদায়িক।

কারণ প্রত্যেকটা আন্দোলনই ছিল কোনো না কোনো বিশেষ শ্রেণীর পক্ষে।যেমন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুধু বাঙালির অধিকার নিয়ে কথা বলেছে। তাদের মেনিফেস্টোতে বিহারীরা নেই কেন?পাঞ্জাবী বেলুচ সিন্ধীর কথা নেই কেন?তাহলে চরিত্রগতভাবে পাকিস্তান আন্দোলন এবং এইসব আন্দোলনের মধ্যে কোনো গুনগত তফাত নেই।

22/01/2025

চট্টগ্রামে বাঙলানামা পাঠচক্র।
সবাইকে আমন্ত্রণ থাকলো।

18/01/2025

[এক]
সিরাজ শিকদারকে জুতা মারা নিয়ে অনেকেই ক্ষুদ্ধ। বিভিন্ন দলে থাকা সিরাজ শিকদার ভক্ত রাজনীতিক এবং বুদ্ধিজীবীরা এটা নিয়ে সমালোচনা করছেন। কেন পোলাপাইন সিরাজ শিকদারের গ্রাফিতিতে জুতা মারসে, রঙ মারসে।

বিষয়টা পরিস্কার— মেঘমল্লার বসু বলসে ‘লাল সন্ত্রাস’ করবে। আর তারা লাল সন্ত্রাসের প্রতীক হিসেবে একেই হাজির করে।

ফলে— সন্ত্রাসবিরোধিতার অংশ হিসেবেই এই কাজ করসে। এজন্য পোলাপাইন যতটা না দায়ী, তারচে বেশি দায়ী মেঘমল্লার, যা সে নিজের লাইভেও স্বীকার করছে।

[দুই]
সিরাজ শিকদারের নিজস্ব বয়ান এবং ইতিহাস মতে, সে মুজিব, ইন্ডিয়া, সোভিয়েত এন্ড আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ— ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।

এই লড়াই ছিল সন্ত্রাসবাদী হওয়ায়, এর ফলাফল মোটেও ভাল ছিল না। ৭৩-এর এপ্রিলে শুরু করা মুজিব সরকারের বিরুদ্ধে ডিরেক্ট যুদ্ধ শুরু করে। তবে এদের টার্গেট কিলিং শুরু হয় ৭২ থেকেই।

৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত সিরাজ শিকদারসহ অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী বামপন্থীদের হাতে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সিভিলিয়ান— যাদেরকেই এরা ‘সাম্যবাদী সমাজ’ প্রতিষ্ঠার বিরোধী মনে করত, তাদেরকেই এরা হত্যা করত।

এদের হাতে ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত কতজন মারা গেছে জানেন? ৫ হাজারেরও বেশি লোক।

[তিন]
অনেকেই বলবেন— এরা মারসে মাত্র ৫ হাজার, মুজিবের রক্ষীবাহিনী মারসে ৩০ হাজার। তবুও আপনাদের কাছে সিরাজ শিকদার খারাপ?

সিরাজ শিকদারকে মূল্যায়ন করবার বিভিন্ন দিক আছে। একদিকে যেমন আমরা তাকে উল্লেখ করতে পারি— মুজিববাদ, সোভিয়েত, আমেরিকা এবং ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে বামপন্থী সশস্ত্র সংগ্রাম, অন্যদিকে সিভিলিয়ান ক্যাজুয়াল্টিজ, হত্যাকাণ্ড এবং খুন-খারাবির বিষয়টা একেবারেই এড়িয়ে যাবার নয়।

সন্ত্রাসবাদী পদ্ধতি বেছে নেওয়া এজন্যই ক্ষতিকর। আপনি মানুষের মুক্তির নামে অস্ত্র তুলে নেনই শুধু, অপরপক্ষকে আরও ব্রুটাল এবং নির্যাতক হতে সাহায্য করেন। সিরাজ শিকদারই একমাত্র কেইস নয়, যার কারণে মুজিব মানুষ খুনের অজুহাত পেয়ে যায়।

এমন না যে মুজিব মানুষ খুন থেক্ব বিরত থাকত, সে তো বহু আগে থেকেই খুনি। সংসদে মানুষ পিটায়ে মারসে সে, সেই সংসদ সদস্য তো আর সন্ত্রাসবাদী ছিল না।

আমার এই লেখার মূল পয়েন্ট হল— সন্ত্রাসবাদী পদ্ধতি আপনার প্রতিপক্ষকে মানুষ খুনের অজুহাত তুলে দেয়। মুজিব তার সকল রাজনৈতিক বিরোধী, যারা বাকশালে আসে নাই— সবাইকে নকশালী বলে ঘায়েল করত। রক্ষীবাহিনী দিয়ে খুন করাতো। এর শিকার সাধারণ নারী-পুরুষ, শিশু-তরুণ-বৃদ্ধ— সকলেই হয়েছে।

আমরা সিরাজ শিকদারের সন্ত্রাসী বাহিনীসহ যারাই মুজিবের বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে, তার নিন্দা জানাই। সিরাজ শিকদারকে বিনা ট্রায়ালে হত্যা করা অপরাধ। উই কনডেম ইট!

[চার]
আমাদের সমালোচনার জায়গা সশস্ত্র পন্থা। আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট— জঙ্গীবাদ যে নামেই হোক, বামপন্থী, জাতিবাদী কিংবা ইসলামী— এসবের বিরুদ্ধে আমাদের থাকতে হবে।

এমন কোনো ব্যক্তিকে আইকন হিসেবে সমাজে পরিচিত করানো যাবেনা, যে নিজে ৫ হাজার মানুষ মারসে, সাথে নিজের ৩০ হাজার নিয়ে মরসে।

সিভিলিয়ানদের উপরে, কোনো অপরাধীর উপরেও— যে নামেই হামলা হোক, সেটা বিচারবহির্ভূত এবং এসব কর্মকাণ্ড সর্বতোভাবে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। নাগরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, যেটা সিরাজ শিকদার ও তার বাহিনির মাধ্যমে হয়েছে।

[পাঁচ]
যারা মুজিববাদ বিরোধী ফিগার হিসেবে সিরাজ শিকদারকে হাজির করেন, তাদেরকে বুঝতে হবে— মুজিববাদকে তরান্বিত করায় তার সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের ভূমিকা ছিল।

সে মুজিববাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করসে ঠিক, কিন্তু মুজিবকে সে এম্পাওয়ার করসে তার হাতে কাইন্ড অফ ‘ওয়ার অন টেরর'-এর হাতিয়ার তুলে দিয়ে।

তার লক্ষ্যকে ক্রিটিসাইজ যদি না-ও করি, তার পদ্ধতি— খুন-খারাবি, গুপ্ত হামলা, সিভিলিয়ান লাইভস এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ধ্বংস— এসবের সাথে কোনো গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতে চাওয়া ব্যক্তি একমত হতে পারেনা।

[ছয়]
চব্বিশের ৫-ই আগস্টের পরে পুরো বাংলাদেশ চায় একটা ডেমোক্রেটিক প্রক্রিয়া। যেখানে হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি, গোলাগুলি থাকবেনা।

সিরাজ শিকদারকে নাহয় পাঠ করলাম মুজিবের অত্যাচার বিরোধী ফিগার হিসেবে। কিন্তু কয়েকদিন আগে, ২০১৯ সালেও এদের অস্তিত্ব কিভাবে গ্রহণ করা যায়?

এমনকি পাঁচই আগস্টের পরে কিভাবে সিরাজ শিকদারকে একজন কী-ফিগার হিসেবে প্রাসঙ্গিক করা যায়, যেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সকলেই গুরুত্ব দিচ্ছে?

মানলাম— মুজিব অনেক খারাপ ছিল। বর্তমান কন্টেক্সটে সিরাজ শিকদারের বামপন্থী অনুসারী কিভাবে ‘রেড টেরর’ আহবান করে?

এমন সন্ত্রাসবাদের আহবান যখন করা হয়, যখন কয় বছর আগেও এদের অস্তিত্ব ট্রেইস করা গেছে এবং মেঘমল্লার বসু যেখানে বলেছে— যারা রেড টেরর করবার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদেরকে সে চেনে-জানে, সেখানে সিরাজ শিকদারের গ্রাফিতি এই সন্ত্রাসবাদীদের উজ্জীবিত করছে।

[সাত]
সিরাজ শিকদারের গ্রাফিতি দেশের বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চল ও পাহাড়ে প্রশিক্ষণরত সন্ত্রাসীদের উজ্জীবিত করবে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র পাঁচই আগস্টের পরে যে অবস্থায় আছে, সেটা মুজিবের বাকশালের চেয়ে ভালো কীনা? যদি তা-ই থাকে, তাহলে সিরাজ শিকদারকে প্রাসঙ্গিক করবার চেষ্টা, রেড টেররের আহবান, মেঘমল্লার কর্তৃক রেড টেরোরিস্টদের হদিস জানা— ইত্যাদি বিষয় কিভাবে মূল্যায়ন করা উচিত?

রেড টেররের আহবান, পাহাড়ে ও দুর্গম অঞ্চলে চলমান সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ— এসব বিষয় পর্যালোচনা করলে একটা সিদ্ধান্তেই আসা যেতে পারে— সিরাজ শিকদারের গ্রাফিতি যতোটা না মুজিবপ্রেমীদের কষ্ট দেবে, তার চেয়েও উজ্জীবিত করবে বামপন্থী সন্ত্রাসবাদীদের।

ঠিক এই দিকটা লক্ষ রেখেই আমাদের সিরাজপ্রেমের বাতির উজ্জ্বলতার লেভেল ঠিক করা উচিত। মনে রাখতে হবে, কন্টেক্সট সেইম নাই, তবুও বামপন্থীরা জঙ্গিবাদের ডাক দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

~ খালিদ মাহমুদ

14/01/2025

যখনই ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদ সেকুলারিজমের খোলস ছেড়ে ভয়াল দাঁত বের করে বিশ্বমানবতাকে উপহাস করে খিলখিলিয়ে হাসে তখনই আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে।

যখনই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ভারতে কোনো মুসলমান শহীদ হয় আমি স্মরণ করি কায়েদে আজম জিন্নাহকে।

জিন্নাহ-ই প্রথমবারের মতো ভারতবর্ষের রাজনীতির ধারাক্রমকে শক্তভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন।তার রাজনীতির বোঝাপড়া হল-

উপমহাদেশের রাজনীতির মাত্র দুইটা ধারা আছে।

১.হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি
২.এন্টি-হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি।

কংগ্রেসের একসময়ের তুখোড় নেত্রী সরোজিনী নাইডু জিন্নাহকে অভিষিক্ত করেছিলেন ঐক্যের রাজদূত বলে,Ambassador of Hindu-Muslim Unity হিশেবে।

জিন্নাহ দীর্ঘদিন কংগ্রেসের রাজনীতি করেছেন।
কংগ্রেস ভারতীয় জাতীয়তাবাদের লেবেলে ভারতের বহুধর্ম ও সংস্কৃতির অনুসারীদেরকে সাংস্কৃতিকভাবে একচেটিয়া হিন্দু বানাতে চেয়েছিল।ভারতে শুধু উপনিষদ-গীতা-মনুসংহিতার আর্যসংস্কৃতি থাকবে এই বাইরে আর কোনো সংস্কৃতির অস্তিত্ব তারা স্বীকার করতে নারাজ।

১৯৩৬ বা ৩৭ সালে নির্বাচনে কংগ্রেস জিতার পর বিজিত প্রদেশে গরু কোরবানি নিষিদ্ধ করেছিল।সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক গান বন্দে মাতরম মুসলমানদের উপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে চেয়েছে।

গান্ধী রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার কথা বলতেন।কংগ্রেসের রাজনীতিতে হিন্দুধর্মীয় রূপকল্পগুলো ক্রমাগত ব্যবহার করেছেন,বর্ণাশ্রম-জাতিভেদ প্রথার প্রতি সুস্পষ্ট সমর্থন দিয়েছেন।

নেহরু নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ সমাজতন্ত্রী বলে দাবী করতেন।অথচ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি বহুবার বলেছেন ভারতীয় সংস্কৃতির মূলভিত্তি হচ্ছে উপনিষদ।

সেকুলারিজমের খোলসে এসব সাম্প্রদায়িক আস্ফালন দেখে জিন্নাহ কংগ্রেস ত্যাগ করেছিলেন।জিন্নাহ ভারতের রাজনীতির আসল ধারাক্রমটা আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন।

আবিষ্কার করেছিলেন এইসব উগ্র সাম্প্রদায়িক কংগ্রেস হিন্দু মহাসভা হিন্দু মেলা ইত্যাদির হাতে মুসলমানরা কখনো নিরাপদ না।মুসলমানরা যদি আলাদা রাষ্ট্র নির্মাণ করতে না পারে তাহলে তাদের স্বাধীন জাতীয় অস্তিত্ব থাকবে না।তারা রাজনৈতিকভাবে হবে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আর সাংস্কৃতিকভাবে হবে উপনিষদীয়।ধর্মীয় মূল্যবোধ হাজার বছরের মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সবকিছুই হিন্দুত্ববাদের ভয়াল গহবরে তলিয়ে যাবে।

12/01/2025

এই ভূখণ্ডে বিজয় আল্টিমেটলি জনতারই হয়েছে৷ ৪৭ এ পূর্ব বঙ্গের আমজনতা (আরও নির্দিষ্ট করে বললে মুসলমান) চেয়েছিল আজাদী। সেই আজাদী শুধু বৃটিশদের থেকে নয়। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের থেকে মসজিদ রক্ষার আজাদী, গরু খাওয়ার আজাদী, ধর্ম পালনের আজাদী। ৪৭ এ সেটা এদেশের মানুষ পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে শাসকগোষ্ঠীর ভুলে মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় নি। তারপর আসলো ৭১। ৭০ এর নির্বাচনে নিজেদের দেওয়া ভোটের মূল্যায়ন যখন হলো না তখন এই ভূখণ্ডের মানুষ আবার যুদ্ধ করল। ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার, স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকারের জন্য। জনতার বিজয় সেসময়ও হলো। কিন্তু বাঙলাদেশের মানুষ ধোঁকা খেল। শহিদের রক্তকে অপমান করে বাকশাল কায়েম করা হলো। ৭৫ এর সেনাঅভ্যুত্থানের ফলে মানুষ বাকশাল থেকে মুক্তি পেলেও ইতিহাসের পরিক্রমায় প্রিয় স্বদেশের ঘাড়ে চেপে বসল স্বৈরাচার। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলো। জাতির সকল ইতিহাস ভুলিয়ে একটি পরিবারের ইতিহাসকে জাতির ইতিহাস হিসাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলো। ভিন্নমত দমন করা হলো। এদেশের মাটিতে মিশে থাকা ইসলামকে মিটিয়ে দিয়ে বাঙলাদেশকে উপমহাদেশের ২য় হায়দ্রাবাদ বানানোর পথ প্রশস্ত করা হলো। এই প্রেক্ষাপটে এল চব্বিশ। চাকরিতে সমান সুযোগের আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও অনেকটা অলৌকিকভাবে চব্বিশ হয়ে উঠলো জনতার মুক্তির আন্দোলন। ৩৬ জুলাই আসলো। ইতিহাসের ব্যতিক্রম হলো না। এদেশের জনতা আবার বিজয় পেল।

ইতিহাসের আরেকটা ভীতি জাগানিয়া দিকও আছে। প্রত্যেকবার জনতার বিজয় শাসকগোষ্ঠী ভুল সিদ্ধান্ত অথবা অন্যায় সিদ্ধান্তে জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে নি৷ এই আশা পূরণ করতে পারে নি বলে ১৪ই আগস্ট, ১৯৪৭ এর ১৬ই ডিসেম্বর,১৯৭১ এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আবার ১৬ই ডিসেম্বরের পর দরকার হয়েছে একটি ৩৬জুলাই। চব্বিশের বিজয়ের পর মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। অনেক আশা ইতোমধ্যে ফিকে হয়ে গেছে। তবুও আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই। সেই সাথে এই ভূখণ্ডের শাসকগোষ্ঠী যারা হবেন তাদেরও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। এখানে জনতার বিপক্ষে যেয়ে কেউ বিজয় পায় নি। ভবিষ্যতেও এই ভূখণ্ডে জনতাই বিজয়ী থাকবে ইনশাআল্লাহ।

টিম সেন্টার ফর এডভান্স স্টাডিজ

22/12/2024

"পড়ার অভ্যাস তৈরী করতে হবে"

22/12/2024

নৈতিকতা ও অশ্লীলতায় পতন আমাদের খুব ভালোভাবেই হয়েছে।

18/12/2024

বিকশিত হোক শত ভাবনা__

Want your school to be the top-listed School/college in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address

Chittagong