কাফিরদের বিরুদ্ধে দুই ধরনের জি()হা()*
১. আক্রমণাত্মক জি()হা()* (যেখানে শত্রুকে তার নিজ এলাকায় আক্রমণ করা হয়):
এক্ষেত্রে কাফিররা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য একত্রিত হয় না। এই জিহাদ তখন ফরযে কিফায়া হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় স্বল্প সংখ্যক (যথেষ্ট) মু’মিনদের, যাতে তারা সীমানা রক্ষা এবং কুফ্ফারদের ভূমি আক্রমণ করতে পারে। আল্লাহর (দ্বীনের) শত্রুদের অন্তরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করার জন্য বছরে অন্তত একবার একটি সৈন্যদলকে শত্রুদের ভূমিতে প্রেরণ করা উচিত। এটি হল ইমামের(খলীফার) দায়িত্ব যে, তিনি বছরে এক অথবা দু’বার জিহাদের উদ্দেশ্যে একটি সৈন্যদল গঠন করবেন এবং তাদেরকে জিহাদের ময়দানে প্রেরণ করবেন। সর্বোপরি, এটি হল মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর একটি দায়িত্ব যে, তারা এই কাজে ইমামকে সহযোগীতা করবে আর তিনি যদি এই সৈন্যদল না প্রেরণ করেন; তাহলে তিনি গুনাহের মধ্যে লিপ্ত হবেন।
হাসিয়াত বিন আবেদীনঃ ৩/২৩৮
এ ধরনের জিহাদের ব্যাপারে আলিমগণ বলেছেন, “আক্রমণাত্মক জি()হা()দ* হল জিযিয়া[ জিজিয়াঃ ইসলামী রাষ্ট্রে কাফিরদের নিরাপত্তার জন্য দেয়া কর বিশেষ।] আদায়ের জন্য।” যে সকল আলিমগণ দ্বীনের শারীয়াহ সম্পর্কে ইলম রাখেন তাঁরাও বলেছেন, “জি()হা()* হল এমন একটা দাওয়াহ্ যার মধ্যে শক্তি আছে এবং এটি হল একটি আবশ্যক দায়িত্ব যা সকল সম্ভাব্য উপায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না সেখানে শুধু মাত্র মুসলিমরা অথবা যারা আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে তারাই অবস্থান করে।”
হাসিয়াহ আশ শিরওয়ানী এবং ইবনে আল কাসিম (তুহ্ফা আল-মুহতায আলাল-মিনহাজ ৯/২১৩)
২. আত্মরক্ষামূলক জি()হা()দ*
এটি হল আমাদের ভূমি হতে কাফিরদের বের করে দেয়া, যা ফারদ-আ’ইন, অর্থাৎ সবার জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য। সকল প্রকার আবশ্যকীয় কর্তব্য গুলোর মধ্যে এটি হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যদি নিম্নের অবস্থাগুলো দৃষ্ট হয়ঃ
(ক) যদি কাফিররা মুসলিমদের ভূমিতে প্রবেশ করে।
(খ) যদি দু’টি বাহিনী যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি এসে দাড়ায় এবং একে অপরকে আহ্বান করতে শুরু করে।
(গ) যদি খলিফা কোন ব্যক্তি অথবা জনগণকে আহ্বান জানায় তাহলে অবশ্যই বেরিয়ে পরতে হবে।
(ঘ) যদি কাফিররা মুসলিমদের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে বন্দী করে ফেলে।
মুসলিম ভুমির প্রতিরক্ষা করা- শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহঃ
চেতনার বাতিঘর
ইলমী ফায়েদা
উস্তায আব্দুল কাদের আউদাহ্ রহ. (মৃত্যু ১৩৭৩ হি.)
وأنَّ إباحةَ المجمعِ على تحريمِه كالزنا والسَّكرِ واستباحةَ إبطالِ الحدودِ وتعطيلَ أحكامِ الشريعةِ وشرعَ مالم يأذَنْ به اللهُ إنما هو كفرٌ و ردَّةٌ وأن الخروجَ على الحاكم المسلم إذا ارتد واجبٌ على المسلمين وأقلُ درجاتِ الخروجِ على أولي الأمر هو عصيانُ أوامرهم ونواهيهم المخالفةِ للشريعةِ. (الإسلام بين جهل أبنائه وعَجْز علمائه(
“যিনা, মদের মতো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম কোনো জিনিসকে বৈধতা দেয়া, বা হুদুদ বাতিলকে বৈধ মনে করা অথবা শরয়ী বিধানকে মওকুফ ও অকার্যকর করা কিংবা আল্লাহ অনুমতি দেননি এমন বিধান রচনা করা, কুফর ও রিদ্দাহ। আর যখন মুসলিম শাসক মুরতাদ হয়ে যায়, তখন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ফরজ। শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সর্বনিম্ন স্তর হলো, তাদের শরীয়ার সাথে সাংঘর্ষিক আদেশ নিষেধগুলো অমান্য করা।” (আল-ইসলাম বাইনা জাহলি আবনাইহি ও আজযি উলামাইহি)
আজকাল আমরা হর হামেশাই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মুসলিমদের কাফির হিসেবে অভিহিত করছি। তাকফির করা এমন একটি কাজ, যাকে করা হয় তার সব কিছু হালাল হয়ে যায়। এ মাসালা কোন ছেলে খেলা কোন মাসালা নয়। এ মাসালার ফতোয়া ও প্রয়োগ করবেন অধিক অভিজ্ঞ বিজ্ঞ মুফতি যিনি এ সংক্রান্ত মাসালাতে পারদর্শী। নিচে তাকফিরের বিষয় কিছু কওল প্রদান করা হল।
কুফরি কথাবার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার পর ইমাম ইবনে নুজাইম রহ. বলেন-
والذي تحرر أنه لا يفتى بتكفير مسلم أمكن حمل كلامه على محمل حسن أو كان في كفره اختلاف ولو رواية ضعيفة فعلى هذا فأكثر ألفاظ التكفير المذكورة لا يفتى بالتكفير بها ولقد ألزمت نفسي أن لا أفتي بشيء منها
'সর্বশেষ ফায়সালা হলো, যতক্ষণ কোনো মুসলিমের কথাকে ভালোর ওপর প্রয়োগ করা যায় কিংবা তার কাফের হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত থাকে –তা কোনো দুর্বল বর্ণনাই হোক না কেন– ততক্ষণ তাকে কাফের ফতোয়া দেওয়া হবে না। এ হিসেবে উপরোক্ত কুফরি শব্দ বা কথাবার্তার অধিকাংশই এমন হবে যে, ওগুলোর কারণে তাকফিরের ফতোয়া দেয়া যাবে না। আর আমি তো নিজের ওপর আবশ্যকই করে নিয়েছি যে, এগুলোর কোনোটার কারণে (কাউকে) কাফের ফতোয়া দেব না।'
[আল বাহরুর রায়িক : ৫/২১০]
ইমাম ইবনু আব্দিল বার রহ. বলেন-
"القرآن والسنّةُ ينهيَان عن تفسيقِ المسلم وتكفيرِه ببيان لا إشكالَ فيه... فالواجبُ في النّظر أن لا يكفَّر إلاّ من اتّفق الجميعُ على تكفيرِه، أو قامَ على تكفيره دليلٌ لا مدفعَ له من كتابٍ أو سنّة".
'এতে কোন ইশকাল (সন্দেহ বা অভিযোগ) নেই যে, কুরআন ও সুন্নাহ সুস্পষ্টভাবে একজন মুসলমানকে পাপাচারী ও কাফের বলতে নিষেধ করেছেন।.... সুতরাং জরুরী হচ্ছে কোন মুসলমানকে কাফের বলা যাবেনা। তবে যদি উলামায়ে কেরামদের সকলেই তার কাফের হওয়ার ব্যাপারে একমত হন অথবা তার কুফুরীর এমন দলিল রয়েছে যার দ্বারা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তাকে বাচানোও যায়না, সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা।
[আত তামহীদ ১৭/২২]
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. বলেন-
"ليس لأحد أن يكفر أحداً من المسلمين وإن أخطأ وغلط حتى تقام عليه الحجة وتبين له المحجة. ومن ثبت إيمانه بيقين لم يزل ذلك عنه بالشك، بل لا يزول إلا بعد إقامة الحجة وإزالة الشبهة".
'কোন মুসলমানকে তাকফীর (কাফের সাব্যস্ত) করা যাবেনা, যদিও তিনি ভুল করে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত না তার বিরুদ্ধে (কুফুরী) সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত ও দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট না হয়। আর যে ব্যক্তির ঈমান সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে সেই ব্যক্তিকে কেবল কোন সন্দেহের ভিত্তিতে ঈমান থেকে বিচ্যুত করা যাবেনা। বরং যতক্ষণ পর্যন্ত না তার কুফরীর ব্যাপার সাব্যস্ত হবে এবং সকল সন্দেহ দূর হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার ঈমান বিচ্যুত হবেনা (অর্থাৎ তাকফীরের ফতোয়া হবেনা)।'
[মাজমূউল ফাতাওয়া ১২/১০৫]
তাকফিরের ক্ষেত্রে একটি প্রধান বিষয় খেয়াল রাখতে হবে কুফরু বাউয়াহ (সুস্পষ্ট কুফর) হচ্ছে কিনা।
বর্তমান দুনিয়াতে ইসলামী নেতৃত্ব তৈরি করা বেশ কঠিন সাধ্য কাজ। তবে নেতৃত্ব তৈরিতে মৌলিক কিছু ময়দান লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। এ ময়দানগুলোর শাখা প্রশাখা অনেক বেশী। এ সংক্রান্ত পড়ালেখা শুধু যথেষ্ট নয় বরং সরসারী সুহবতে থেকে শেখা উচিত। তারবিয়াত মৌলিকভাবে যথাক্রমে
১। আকিদাগত ও শারিয়ি ইল্মঃ এখানে আকিদাহ এর ফুরুয়ি বিষয়ে পাণ্ডিত্য জরুরী নয়।
২। ইবাদতঃ ফরয তো আবশ্যক। মূলত নেতৃত্ব স্থানীয়দের আল্লাহর সাথে উত্তম সম্পর্কের জন্য অনেক বেশী নফল ইবাদত আদায় প্রয়োজন। নফল নামাজ, রোজা, কুরআন ও জিকির পাঠ।
৩। আখলাকেরঃ উত্তম আচরণ, চরিত্রের যে বিষয়গুলো না থাকা উচিত সেগুলো না থাকা এবং কিছু বিষয় রয়েছে থাকা অবশ্যক রয়েছে। নেতাকে আত্মশুদ্ধির দিকে গভীর নজর দিতে হবে।
৪। বাস্তবতার জ্ঞান ও সিয়াসি জ্ঞানঃ বাস্তবতার জ্ঞান অনেক বেশী প্রশস্ত এটার অনেক শাখা প্রশাখা রয়েছে। এর মাঝে উল্লেখ্য হল ইতিহাস, ভূগোল, নৃতত্ত্ব, বিভিন্ন ভাষা, আইটি জ্ঞান ইত্যাদি, রাজনৈতিক জ্ঞান হল বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, মতাদর্শ, ইতিহাস, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পন্থা ইত্যাদি।
৫। সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাঃ সামরিক প্রশিক্ষণ থাকা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা হলে ভাল উত্তম। বিভিন্ন সামরিক যন্ত্র সম্পর্কে ভাল করে জানা ইত্যাদি।
নেতৃত্ব সম্পর্কিত কিতাব সিনায়াতুল কিয়াদাহতে এসেছে,
" শায়খ সায়িদ হাওয়া সহনশীলতা গুণটির ভিতরে যে বিষয়গুলো অন্তভূর্ক্ত করেছেন, তার ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে শায়খ আবু মুসআব বলেন: সুবহানাল্লাহ! মানুষ যখন এ ধরণের হিকমাহগুলো পায়, তখন তার সেই সময়গুলোর জন্য আফসোস করে, যা অনর্থক আলাপ, ঘুম, অনুপকারি বিষয়াবলী এবং কে কী বললো, নিয়ে ব্যস্ত হয়ে নষ্ট করেছে। কারণ আপনি যখন এ বিষয়গুলো পাঠ করবেন, তখন আপনার সামনে একটি আয়না দাড়িয়ে যাবে এবং আপনি নিজেকে দেখতে থাকবেন। ফলে নিজেকে শোধরাতে থাকবেন। তাই যাদের মধ্যে এ গুণগুলো আছে, তাদের সঙ্গে বেশি বেশি উঠাবসা করা এবং মহা পুরুষদের চরিত্র নিয়ে লেখা গ্রন্থগুলো বেশি বেশি পাঠ করার দ্বারা আপনি ধীরে ধীর এ চরিত্রগুলো অর্জন করতে পারবেন।
অনেকগুলো বিষয় আল্লাহ আমাদের প্রকৃতগত করে দিয়েছেন, যেগুলো আমরা পরিবর্তন করতে পারবো না। সেগুলো হলো যেমন আপনার চোখের রং, আপনার দৈর্ঘ, এ বিষয়গুলো আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না। কারণ তাকদির লেখার কলম যা কিছু সংঘটিত হবে, সব লিখে শুকিয়ে গেছে। কিন্তু এমন কিছু গুণাবলী আছে, যা অর্জন করা যায়। যেমন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِنَّمَا الْعِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ، وَإِنَّمَا الْحِلْمُ بِالتَّحَلُّمِ“ইলম আসে শিখার মাধ্যমে। আর হিলম বা সহনশীলতা আসে প্র্যাকটিসের মাধ্যমে।”
তিনি আরো বলেছেন: ومن يَتَصَبَّر يُصَبِّره الله “যে কৃত্রিমভাবে ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল বানিয়ে দেন।”
তাই এ সবগুলো হলো অর্জনযোগ্য গুণাবলী। আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রধানের উদ্দেশ্যে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ বাণীটিই শিক্ষার জন্য যথেষ্ট:“তোমার মাঝ দু’টি গুণ আছে, যা আল্লাহ ও তার রাসূল ভালোবাসেন: সহনশীলতা ও ধীর—স্থিরতা।”
সিনায়াতুল কিয়াদাহ
13/02/2025
ক্লাউসেভিতস তার রচিত “দ্য ওয়ার” বইয়ে উল্লেখ করেছে, ‘প্রতিটি রণকৌশলের পরিকল্পনার পিছনে দুটি মূলনীতি রয়েছে, যে মূলনীতিদ্বয় অন্য সব বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
প্রথম মূলনীতি হল, যুদ্ধ পরিকল্পনার সময় শত্রুর মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র সম্পর্কে অবগত হওয়া।
দ্বিতীয় মূলনীতি হল, বড় কোনো আক্রমণের সময় সেই মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সমস্ত বাহিনীকে আক্রমণের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
ক্লাউসেভিতস আবিষ্কৃত এ তত্ত্বটি (কোনো গবেষণা ব্যতীত) শূন্য থেকে উদ্ভব হয়নি। বরং সে কয়েক ডজন যুদ্ধকে যত্নসহকারে অধ্যয়নের পরে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, একটি বাহিনীর অবশ্যই মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র থাকবে। এই মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র খোদ সেনাবাহিনীতেও হতে পারে, আবার হতে পারে নেতাদের ব্যক্তিত্বে। তা রাজধানীতে বা মিত্রজোটের মধ্যেও হতে পারে।
এই সমর তাত্ত্বিকের মতে মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র শক্তির উৎস নয়। তবে মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্ব হল, বাহিনীর ইউনিট বা গ্রুপগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন করা। এমনকি তার মতে সেনাবাহিনীও শক্তির মৌলিক কোনো উৎস নয়। বরং তারা বিভিন্ন উৎস থেকে আগত বাহিনীর জন্য একটি সম্মিলিত ও সংগঠিত হবার ক্ষেত্র – যেখানে কিছু লোক নিয়োগ দেয়া থাকে। এছাড়া থাকে একটি সামরিক গবেষণা কেন্দ্র – যা অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে। আরও থাকে একটি কৃষি ব্যবস্থাপনা – যা প্রধানত খাদ্য সরবরাহ করে। একই কথা অন্যান্য মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেমন – নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিবর্গ ও জোট ইত্যাদি।
ক্লাউসেভিতসের তত্ত্বগুলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কার্যকর হয়েছিল। তবে তারা ভাল করে এ তত্ত্বটি তখন পূর্ণাঙ্গরুপে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ক্লাউসেভিতসের তত্ত্বগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যদিয়ে ময়দানে বিবাদমান পক্ষগুলোর সামরিক ধ্যাণ-ধারণায় সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নেয়। বিশেষত, যুদ্ধে প্রবেশকারী নাৎসি সেনাবাহিনী বেশ কয়েকটি সামরিক ধারণা বাস্তবায়নের কারণে অপ্রতিরোধ্য ছিল। বোলগনা এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নাৎসি জার্মানি পরিচালিত দ্রুত ও সফল অভিযানগুলি নাৎসি সেনাবাহিনীর উপর ক্লাউসেভিতসের প্রভাবের উদাহরণ মাত্র। কিন্তু মিত্রশক্তি তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমনের মাধ্যমে এই ধূর্ত চিন্তাধারা থেকে বিশেষত মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রের ধারণা থেকে আরও বেশি লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছিল।
মিত্রশক্তি, হিটলারের ধারাবাহিক জনসমর্থন লাভের সক্ষমতাকে জার্মানির মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তবে, যুদ্ধের শুরুতে অপারেশনাল স্তরে মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ ইউনিট, বিমানচালনা, যান্ত্রিক এবং সাঁজোয়া ইউনিটগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অথচ, সেসময় জার্মান সেনাবাহিনীর রণ কৌশলের মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র ছিল পাল্টা আক্রমনকারী অস্ত্র ও বিমানগুলি।
দুই দশক পরে আমেরিকা ভিয়েতনামে যে পরাজয়ের স্বীকার হয়েছে, তার পেছনে মার্কিন নেতৃত্ব যথোপযুক্ত সামরিক তত্ত্বের অনুপিস্থিতি ব্যতীত অন্য কোনো সন্তোষজনক কারণ খুঁজে পায়নি। যা ক্লাউসেভিতসের তত্ত্ব সম্পর্কে আমেরিকার যথাযথ ধারণা না থাকার প্রমাণ। অথচ, তখন ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি আমেরিকার পক্ষেই ছিল। আমেরিকানরা ভিয়েতনামীদের মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র নির্ধারণ করতে না পারায় যুদ্ধক্ষেত্রে এক ধরণের অস্থিরতায় নিমজ্জিত ছিল। এজন্য কখনো তারা উত্তর-দক্ষিণের যোগাযোগ রুট বিচ্ছিন্ন করার জন্য বোমা বর্ষন করেছিল। আবার কখনো নির্মমভাবে বোমা বর্ষন করেছিল উত্তর ভিয়েতনামে।
এই যুদ্ধে মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র কী ছিল? কোথায় ছিল? তা নিয়ে এখনও অবধি মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনামীরা সম্পূর্ণরুপে অবগত ছিল যে, আমেরিকার মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র আমেরিকার জনগণ আর তাই তাদের জনগণের ক্ষতি করা গেলে, তারা যুদ্ধ থামিয়ে দিতে বাধ্য হবে। এবং বাস্তবে তাই হয়েছিল। ভিয়েতনামীদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
11/02/2025
রেইড (Raid) এবং এ্যাম্বুশ (Ambush) দুটোই সামরিক কৌশল, যা আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে, এগুলোর মধ্যে লক্ষ্য, কৌশল, এবং কার্যপদ্ধতিতে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
১. রেইড (Raid):
রেইড হলো একটি পরিকল্পিত আক্রমণ, যেখানে আক্রমণকারী বাহিনী একটি নির্দিষ্ট স্থানে হঠাৎ প্রবেশ করে এবং দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে ফিরে চলে আসে। এটি সাধারণত শত্রু বাহিনীর সরবরাহ, মজুত বা কম্পাউন্ডে আক্রমণ করতে ব্যবহৃত হয়। রেইডের উদ্দেশ্য সাধারণত শত্রুর সম্পদ ধ্বংস করা, তার যন্ত্রণা বাড়ানো, বা শত্রুর মনোবল ভেঙে দেওয়া।
বৈশিষ্ট্য:
রেইড সাধারণত ছোট আকারের বাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়।
এটি হঠাৎ এবং দ্রুত আক্রমণ যা খুব দ্রুত সম্পন্ন করতে হয়।
রেইডের সময় আক্রমণকারী বাহিনী বেশিরভাগ সময় শত্রু এলাকায় প্রবেশ করে এবং সেই এলাকা থেকে নিরাপদে চলে আসে, যেখানে তারা শত্রুর ক্ষতি করে।
এই আক্রমণ কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয় না; আক্রমণ শেষ হওয়ার পর বাহিনী সাধারণত দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
উদাহরণ: কোনো শত্রু বাহিনীর অবস্থান, অস্ত্রাগার বা সেনা সরবরাহ কেন্দ্রের ওপর আক্রমণ চালানো, এবং শত্রু বাহিনীকে ক্ষতি করে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসা।
২. এ্যাম্বুশ (Ambush):
এ্যাম্বুশ হলো একটি বিশেষ ধরনের আক্রমণ যেখানে আক্রমণকারী বাহিনী শত্রুর জন্য লুকিয়ে থাকে এবং শত্রু বাহিনী তাদের মধ্যে দিয়ে চলাচল করার সময় হঠাৎ করে আক্রমণ করে। আক্রমণকারীরা শত্রুকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত না করেই আক্রমণ করে। এখানেও আক্রমণ করে যোদ্ধারা পালিয়ে যায়।
বৈশিষ্ট্য:
এ্যাম্বুশ সাধারণত শত্রুর চলাচলের পথ বা সম্ভাব্য গন্তব্যস্থলের কাছে প্রস্তুত হয়ে বসে থাকে।
আক্রমণটি আক্রমণকারীদের অবস্থান থেকে হঠাৎ এবং চমকে দেয়ার জন্য করা হয়।
সাধারণত একটি নির্দিষ্ট স্থানে বা পয়েন্টে ঘটে, যেখানে শত্রু একযোগে আক্রমণের শিকার হয়।
উদাহরণ: একটি ছোট বাহিনী রাস্তার পাশে গাছ বা আশেপাশে লুকিয়ে শত্রু বাহিনীকে পেছন থেকে বা পাশ থেকে আক্রমণ করে।
যারা বিষয়টি বুঝেছেন একটি করে রেইড ও এ্যাম্বুশের উদারহণ দিতে পারেন। মনে রাখবেন গেরিলা যুদ্ধে এ দুটি বিষয় খুব ভাল করে জানতে হয় তাই কনসেপ্ট ক্লিয়ার করুন।
পূর্বে আমরা ২ ধরণের যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেছি এর একটি হল ১। নিয়মিত যুদ্ধ ২। অনিয়মিত যুদ্ধ
আজকে আমরা গেরিলা যুদ্ধের বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে জানব ইনশা আল্লাহ,
পাহাড়ে যুদ্ধ: পাহাড়ে শত্রু বাহিনী ভারী অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করতে পারে না, তাই এটি গেরিলা যোদ্ধাদের জন্য সুবিধাজনক। যেমনঃ আফগান
বনে-জঙ্গলে যুদ্ধ:বনে শত্রু বাহিনী আক্রমণ করতে পারে না কারণ তাদের অস্ত্র বা বাহিনী গাছপালা ও পরিবেশের মধ্যে আক্রমণ করা কঠিন। যেমনঃ ভিয়েতনাম
শহর-জনপদে যুদ্ধ:শহরের মধ্যে শত্রু বাহিনী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে না, তবে এটি গেরিলা যোদ্ধাদের জন্য আরও কঠিন যুদ্ধ ক্ষেত্র। যেমনঃ চেচনিয়া, গা_জা_হ
মরুভূমিতে যুদ্ধ:মরুভূমিতে যুদ্ধ গেরিলা যোদ্ধাদের জন্য ক্ষতিকর কারণ শত্রু বাহিনী এখানে সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে সক্ষম এবং গেরিলা যোদ্ধাদের আত্মরক্ষা করতে কষ্ট হয়। যেমনঃ আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ
গেরিলা যুদ্ধের কৌশল সংক্ষিপ্ত রুপঃ
গেরিলা যোদ্ধাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো শত্রুর শক্তি ও দূর্বলতা চিহ্নিত করে যুদ্ধের জায়গা নির্বাচন করা। গেরিলা যুদ্ধের কৌশল হলো শত্রুর দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর উপর আক্রমণ চালানো, যাতে শত্রুকে ক্ষতি করা যায় এবং তাদের শক্তি ভেঙে ফেলা যায়। শত্রুর সাথে সরাসরি বা মুখোমুখি সংঘর্ষে না যাওয়া ১ম ও ২য় ধাপে বিশেষ করে।
গেরিলা যুদ্ধের ৩টি ধাপ রয়েছে যথাঃ
১মঃ এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলে সাধারণত। এ সময় ছোট ছোট গ্রুপ শত্রুকে রেইড ও এ্যাম্বুশের মাধ্যমে বিরক্ত করতে থাকে। শত্রুকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য করে যেখানে তারা তাদের সাপ্লাই পেতে কষ্ট হবে।
২য় ধাপঃ সংগঠনের সাইজ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং আক্রমণ বৃদ্ধি পায়। শত্রু অনেক স্থান থেকে তার নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে এ ধাপের শেষের দিকে।
৩য় ধাপঃ এ ধাপে রাজনৈতিক চাপ বেড়ে যায় শত্রুর উপর এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সরাসরি বা মুখোমুখি যুদ্ধ চলে এ ধাপে। এ ধাপে শত্রু চেষ্টা করে কোন রকম দেশ থেকে কোন একটা সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে চলে যেতে। যেমনঃ আফগান ও সিরিয়া।
উল্লেখ্য প্রতি দেশেই যে এ ৩ ধাপে হবে এমন নয়। বরং অনেক সময় ২য় ধাপ থেকে শুরু হয় যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। এটি ২য় ধাপ থেকে শুরু হয়েছে প্রথম ধাপে অনুসরণ করতে হয়নি। ১ম ধাপ থেকে শুরু করলে সাধারণত দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয় শেষ ধাপে পৌছতে।
যুদ্ধের ধরণ ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের যুদ্ধ বিদ্যা সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান থাকা চাই। যুদ্ধ বেশ কয়েকধরণের হতে পারে তবে আজকে আমরা ২ ধরণের যুদ্ধে সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।
১। প্রথাগত যুদ্ধ (Conventional War)
২। অনিয়মিত যুদ্ধ (Unconventional War)
প্রথাগত যুদ্ধ (Conventional War) সাধারণত দুটি বা ততোধিক দেশের নিয়মিত সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়। এতে সরাসরি সম্মুখসমরে সেনাবাহিনী, ট্যাংক, বিমান, ও নৌবাহিনী ব্যবহার করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রথাগত যুদ্ধের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো নির্দিষ্ট কৌশল ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লড়াই করেছিল। যেমনঃ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইত্যাদি। এসব যুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতি হয়।
অন্যদিকে, অনিয়মিত যুদ্ধ (Unconventional War) সাধারণত প্রচলিত সামরিক কৌশল এড়িয়ে গেরিলা যুদ্ধ বা বিশেষ বাহিনীর গোপন মিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে শত্রুর উপর আকস্মিক হামলা, লুকিয়ে থাকা এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। সোজা ভাষায় বললে হিট এ্যান্ড রান কৌশল অনুসরণ করা হয়। সৈন্য বাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধ না করে হামলা করে পালিয়ে যাওয়া এবং এভাবে করতে করতে আগ্রাসী বাহিনীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা অথবা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করা। যেমনঃ তালি___*ন - মার্কিন যুদ্ধ, চিনের গেরিলা যুদ্ধ, সর্বশেষ সিরিয়ার যুদ্ধ, আফ্রিকার বিভিন্ন জায়গায় চলা মুজা___হি___দদের যুদ্ধ। সাধারণত শত্রু যখন শক্তিশালী হয় তখন সরাসরি যুদ্ধ না করে অনিয়মিত যুদ্ধ কৌশল বাছাই করা হয়।
রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তন কা()ফের()দের জন্য যে সিস্টেম মুসলিমদের জন্য একই সিস্টেম। একজন অমুসলিম কৃষক তার বীজ বোনা থেকে চাষাবাদের যত কাজ সব কাজই করতে হয় তেমনি একজন মুসলিম কৃষকেরও এ কাজগুলো করতে হয় কিন্তু পার্থক্য হল বিশ্বাসের। চিনের গেরিলা যুদ্ধ, রুশ বিপ্লব, ফ্রেঞ্চ বিপ্লব, আমেরিকান বিপ্লবের ফলে বিশাল ত্য্যগের পর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল। তেমনি মুসলিমদের আগের যে খিলাফাহ, সাম্রাজ্য, সালতানাত, ইমারাহ ইত্যাদি ছিল তা অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমেই হয়েছে। বহু রক্ত আল্লাহর দরবারে পেশ করতে হয়েছে।
বর্তমান মুসলিম অঞ্চলগুলোতে যেভাবে কা(ফির সিস্টেমের শাসন চেপে আছে তা থেকে ইসলামী নিজাম করতে হলেও ত্যাগ তিতিক্ষা ও কুরবানি আবশ্যক। এমন নয় যে হঠাৎ করে সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখব সব পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। পরিবর্তনটা আপনার আমার মাধ্যমে আল্লাহ তালা করিয়ে নিবেন। তবে প্রশ্ন হল আপনি কি নিজের দুনিয়ার জীবনকে কষ্টে ফেলে এ পরিবর্তনের কাফেলাতে অন্তভুক্ত হবেন নাকি আর ১০টা মানুষের মত আত্মকেন্দ্রিক ও পরিবার কেন্দ্রিক জীবন যাপন করে কবরে যাবেন, সেটি সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আপনারই। আল্লাহ সবাইকে বোঝার তাওফিক দান করুন।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
وَعَن كَعبِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلاَ فِي غَنَمٍ بِأفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ المَرْءِ عَلَى المَالِ وَالشَّرَفِ لِدِينهِ». رواه الترمذي، وقال:حديث حسن صحيح»
কা‘ব ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘ছাগলের পালে দু’টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছেড়ে দিলে ছাগলের যতটা ক্ষতি করে, তার চেয়ে মানুষের সম্পদ ও সম্মানের প্রতি লোভ-লালসা তার দ্বীনের জন্য বেশী ক্ষতিকারক”। (তিরমিযী ২৩৭৬, আহমাদ ১৫৩৫৭, ১৫৩৬৭, দারেমী ২৭৩০)
আবু বকর আব্দুল্লাহ আল মুযানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু অধিক পরিমাণে নামাজ আদায় করার কারণে ও অধিক পরিমাণে রোজা রাখার কারণে কাউকে প্রাধান্য দিতেন না। বরং তিনি কলবের অবস্থার ভিত্তিতে মানুষকে প্রাধান্য দিতেন। আহমদ শাওকী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসা করতে গিয়ে মুসলিমদের অবস্থা তুলে ধরেন,
بنيت لهم من الأخلاق ركنا * فخانوا الركن فانهدم اضطرابا
فلولاها لساوى الليث ذئبا * وساوى الصارم الماضي قرابا
فإن قرنت مكارمها بعلم * تذللت العلا بهما صعابا
অর্থ:
আপনি তাদের জন্য উত্তম মর্যাদার একটি খুঁটি স্থাপন করে গেছেন; কিন্তু তারা সেই খুঁটির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, ফলে সেই খুঁটিটি ধ্বসে গেছে।
মর্যাদার এই খুঁটিটি না থাকলে সিংহ আর নেকড়ে সমান হয়ে যেতো; এবং এক হয়ে যেতো প্রচণ্ড ধারালো অস্ত্র আর মশ ক।
আর এই মর্যাদার খুঁটির সাথে যদি তুমি জ্ঞানকেও যুক্ত করতে পারো, তাহলে তো দুইয়ের মিলনে কণ্টকাকীর্ণ দুর্গম পথও সহজ হয়ে যাবে।
বাস্তবেই আখলাক না থাকলে সিংহ নেকড়েতে পরিণত হয়। তাইতো আমরা নেতা ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের চাদরে আবৃত আমাদের মাঝে অনেক নেকড়ে দেখতে পাই। যারা ভালো-মন্দের মাঝে মিশ্রণ ঘটায়। তারচেয়েও ভয়ংকর হচ্ছে, তারা তাদের অনুসারীদেরকে হারামে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করছে এবং তাদেরকে হারামে অভ্যস্ত করে তুলছে। এভাবে তারা নিজেরাই নিজেদের পতনের কারণ হয়। উদাহরণস্বরূপ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রাজা-বাদশাদের কথা বলা যায়। এরাই আন্দালুসের ভয়াবহ দুর্যোগের অগ্রদূত ও মহানায়ক ছিলেন।
এরসাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমাদের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের উচিৎ, তাদের মুরুব্বীদের থেকে নির্দেশনা ও পরামর্শ গ্রহণ করা। না হলে আমাদের মাঝে যোগ্য আদর্শবান ব্যক্তির সংকট দেখা দিবে। আমিও আমাকে পুত পবিত্র দাবি করছি না। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই।
এই ভয়ংকর বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করার জন্য আমি চারিত্রিক অধঃপতনের কিছু নমুনা তুলে ধরছি, যা আমাদের মাঝে ইসলামী শিরোনামে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করতে চাইলে হয়তো এই উদাহরণগুলোই সামনে উঠে আসবে :
– চারিত্রিক অধঃপতনের একটি উদাহরণ হচ্ছে, গণিমত মনে করে ধোঁকায় পড়ে শরীয়তের হাকেমিয়্যাত এর বিধান তরক করা (ভোটাভুটির মাধ্যমে সংসদে যোগ দেয়া) এবং এই বিষয়টি অন্যদের কাছেও সুন্দর করে উপস্থাপন করা। এর ফলে, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের ভিত্তিতে ইসলামী দলগুলোর গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার মতো হাস্যকর ঘটনা ঘটে। আমার তো মনে হচ্ছে, তারা সুযোগ পেলেই হাস্যকর এই ঘটনা বারবার ঘটাতে থাকবে, যদিওবা এই আদর্শ হাজারো দুর্যোগ-বিপর্যয় ডেকে আনে। এখানে কম বোঝাটা কিংবা দলীলের প্রতি আস্থা তৈরি না হওয়া মূলত কোন সমস্যা না। বরং সমস্যা হচ্ছে – প্রত্যেকের নিজের কমতি ও আদর্শগত দুর্বলতা।
– চারিত্রিক অধঃপতনের আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে, জাহিলি জাতীয়তা (ফেরআউনিয়্যাত) নিয়ে গর্ব করা। আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, অনেকেই ইসলামের নাম ব্যবহার করে এই আচরণকে ইসলামী আচরণ বলে চালিয়ে দিচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত গর্ব করে যে: তারা একটি দেশের নাগরিক এবং তাদের মাঝে এবং দেশের অন্যান্য নাগরিকের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। চাই সে যেকোনো ধর্মের হোক না কেন, তার আদর্শ যেমনিই হোক না কেন। শুধু তাই নয় তাদের কেউ কেউ তো গাইতে থাকে:
أنا مصري بناني من بنى * هرم الدهر الذي أعيا الفنا
অর্থ: আমি মিশরীয়, মিশরের মাটি আমাকে জন্ম দিয়েছে, যেমন জন্ম দিয়েছে যুগের শিল্প-শ্রেষ্ঠ পিরামিডগুলোকে।
এমন নিকৃষ্ট ব্যর্থতা থেকে আমি আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। কুফরের, শিরকের যায়গাকে, মানুষের কাছে মানুষের মাথা নত করাকে, একে অন্যের দাসত্ব করাকে, একে অন্যকে বশীভূত করাকে এবং অপদস্থ করাকে তারা গর্বের বিষয় বানিয়ে নিয়েছে এবং উন্নতি-অগ্রগতির পথ বানিয়ে নিয়েছে !।
শতাব্দী চুক্তি নাকি বহু শতাব্দীর ক্রু_____সে________ড পর্ব ৫ থেকে সংক্ষেপিত।
শাইখ আবু মু__সাব আস সূরি হাফিজাহুল্লাহ নেতৃত্ব নিয়ে বলেন,
""একারণে আমাদের এমন নেতৃত্বের প্রয়োজন যারা সাহসী, জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান, ন্যায়পরায়ণ ও দূরদর্শী হবেন। এই নেতৃত্ব কমন সেন্সকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা করবেন, স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ করবেন। এরপর সে অনুযায়ী সদস্যদের পরিচালনার মাধ্যমে উত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
ভবিষ্যতে আমাদের আন্দোলনের সফলতার জন্য এটাই একমাত্র পথ। তবে যদি আল্লাহ চান তবে তিনি যেকোনো উপায়েই সফলতা দিতে সক্ষম। আমরা এখানে কেবল দুনিয়াবি আসবাবের জগতের হিসেবে উক্ত পথের কথা উল্লেখ করেছি।""
শাম থেকে শিক্ষা , লেখকঃ শাইখ আবু মু>>সাব আস সূরি হাফিজাহুল্লাহ
Click here to claim your Sponsored Listing.