30/04/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌐 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে জিলকদ মাস:
⏳ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ১১ই জিলকদ: হযরত মাওলানা খাজা সৈয়দ নূর মুহাম্মদ বদায়ূনী নকশবন্দি (রহ.)-এর ওফাত দিবস।
💠 হযরত মাওলানা খাজা সৈয়দ নূর মুহাম্মদ বদায়ূনী (রহ.) ছিলেন নকশবন্দিয়া ত্বরিকার একজন অত্যন্ত উচ্চস্তরের বুযুর্গ এবং মহান সুফি সাধক। তিনি দিল্লির অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁর তাকওয়া, পরহেজগারি ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার জন্য পরিচিত ছিলেন।
✅ জীবন ও আধ্যাত্মিকতা:
🟢 পরিচয়: তিনি ছিলেন সাইয়্যেদ, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধর।
🟢 শিক্ষাজীবন: তিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁর শিক্ষক মুহাম্মদ শরীফের (ইন্তেকাল ১১২৪ হিজরি) কাছে ইসলামী জ্ঞান অর্জন সম্পন্ন করেন।
🟢 আধ্যাত্মিক খিলাফত: তিনি হযরত খাজা শাইখ মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন সিরহিন্দি (রহ.)-এর মুরিদ ও খলিফা ছিলেন। এছাড়া, হযরত হাফিজ মুহাম্মদ মহসিন দেহলভী (রহ.) থেকেও তিনি খিলাফত লাভ করেন।
🟢 তাকওয়া: তিনি চরম পরহেজগার ছিলেন এবং ধনীদের খাবার কখনো খেতেন না। কারো বই ধার নিলে তিনি তা পড়ার আগে তিন দিন অপেক্ষা করতেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে ধনীদের সাহচর্য বইতেও অন্ধকার নিয়ে আসে।
কারামত ও অবদান
🟢 আধ্যাত্মিক ক্ষমতা: বলা হয়ে থাকে, তাঁর কাশফ (আধ্যাত্মিক দর্শন) এতো শক্তিশালী ছিল যে, যা মানুষ খালি চোখে দেখতে পেত না, তিনি তা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখতেন।
🟢 কারামত: একবার এক মহিলার হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে তিনি ধ্যানের মাধ্যমে জিনদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
🟢 প্রধান খলিফা: তাঁর অন্যতম প্রধান খলিফা ছিলেন হযরত শামসুদ্দীন মির্জা মাযহার জান-ই-জানা দেহলভী (রহ.), যিনি পরবর্তী সময়ে নকশবন্দিয়া ত্বরিকার বড় ইমাম হন।
✅ ওফাত ও মাজার শরিফ
🟢 ওফাত: তিনি ১১ জিলকদ ১১৩৫ হিজরি (১৩ আগস্ট ১৭২৩ খ্রিস্টাব্দ) ইন্তেকাল করেন।
🟢 মাজার: তাঁর মাজার শরিফ ভারতের দিল্লিতে হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহ.)-এর মাজারের কাছে অবস্থিত।
লক্ষ লক্ষ নকশবন্দিয়া অনুসারী আজও তাঁর আধ্যাত্মিক ফয়েজ বা আধ্যাত্মিক শক্তি অনুভব করেন।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।
30/04/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌐 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে জিলক্বদ মাস
⏳সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ১১ জিলক্বদ: ১৪৮ হিজরির ১১ জ্বিলকদ, আহলে বাইত-এর অষ্টম সদস্য এবং মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার প্রতিষ্ঠাতা গাউসুল আযম মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী কেবলা কাবা'র ত্বরিকতি শজরার উর্ধতন ৮ম শাইখ সৈয়দ ইমাম আলী ইবনে মুসা রেজা জন্মগ্রহণ করেন।
💠 ইমাম হযরত ʿআলীʾ ইবনে মুসা আর-রিদা যিনি ইমাম রেযা এবং আবুল হাসান নামেও পরিচিত, ছিলেন। তিনি প্রিয়নবি মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ্ (দ.)-এর একজন বংশধর এবং অষ্টম ইমাম। তিনি তাঁর ধর্মীয় জ্ঞানের জন্য সর্বত্র বিশেষভাবে সমাদৃত।
তাঁর পিতা ছিলেন ইমাম মুসা ইবনে জাফর সাদিক (রা.) এবং তাঁর পবিত্র ও কল্যাণময়ী মায়ের নাম ছিল উম্মুল বানিন নাজমা (রা.)। তিনি আব্বাসীয় শাসনামলে ১৪৮ হিজরি সনের ১১ই জিলক্বদ পবিত্র মদিনা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর অনেক উপাধি রয়েছে। এসব উপাধির মধ্যে বহুল পরিচিত কয়েকটি হলো আবুল হাসান, রেযা, সাবির, রাযি এবং ফাযিল। তবে তিনি রেযা নামেই সর্বাধিক সুপরিচিত ছিলেন। আর তাসাওউফ শাস্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকতার দিকপাল হযরত ইমাম জাফর সাদিক (রা.) ছিলেন তাঁর দাদা। তাঁর দাদা ইমাম জাফর সাদিকের (রা.) শাহাদাতের ১১ দিন পর তিনি দুনিয়াতে আগমন করেন। ইমাম রেযা (রা.)-এর পাণ্ডিত্যের ব্যাপারে রাসুল (সা.)-এর ইশারা ছিল যে একজন প্রজ্ঞাবান পুরুষ এই বংশে আগমন করবেন। ইমাম রেযা (রা.) কে বলা হয় আলেমে আলে রাসুল (সা.)। ইমাম রেযা (রা.)-এর অসংখ্য মানবীয় মহৎগুণ ছিল। তিনি কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। পা লম্বা করে বসতেন না। খাদেম বা গোলামদেরকে সাথে নিয়ে তিনি একত্রে খেতে বসতেন। মৃদু হাসতেন কিন্তু অট্টহাসি দিতেন না। সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। তিনি গরীব দুঃখীদের সহায়তা করতেন। কেউ তাঁর কাছে এলে খালি হাতে ফিরে যেত না।
তাঁকে তাঁর জন্মস্থান মদিনা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তিনি যখন মার্ভ বা মাশহাদে আসেন তখন পথে পথে তাঁকে দেখার জন্যে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। যাঁরা নবিকে দেখেননি নবির আওলাদকে দেখতে এসেছেন। তাঁকে দেখে তাঁর অবয়বে নবির অবয়ব দেখেছেন। তাঁরা ইমাম রেযা (রা.)-এর কণ্ঠে প্রিয়নবি (সা.)-এর কণ্ঠ শুনতে চেয়েছেন। জনসমাজে তাঁর জনপ্রিয়তা দেখে আব্বাসীয় শাসক আল-মামুন ভীত হয়ে পড়ে তাঁকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ইমাম আলী রেযা (রা.) হিজরী ২০৩ সনের ৩০শে সফর ইরানের তুস নগরীতে (মাশহাদ) শাহাদত বরণ করেন। আব্বাসীয় শাসক আল-মামুন ইমাম আর-রিদাকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন সমস্যার প্রতিকার চেয়েছিলেন, যাতে তিনি তাঁর মাধ্যমে পার্থিব বিষয়ে জড়িত হতে পারেন। তবে আল-মামুন যখন দেখলেন যে ইমাম আরও বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তখন তিনি তাঁকে বিষপ্রয়োগ করে নিজের ভুল সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেন। ইমাম আর-রিদাকে ইরানের একটি শহরে দাফন করা হয়, শহরটি পরবর্তীতে মাশহাদ অর্থাৎ শাহাদতের স্থান নামে পরিচিতি লাভ করে।
29/04/2026
আজ ২৯ এপ্রিল। এ দিনটির আগমনী ঘন্টা বাজতেই স্মৃতির একটা কাল অধ্যায়ের রোমন্থন হয়। শরীরের শিরা-উপশিরায় যেন শীতল রক্ত বয়ে যায়! শরীর এতটাই হিম হয়ে যায়, যেন আমি এখন হিমালয়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে কোন এক পর্বতারোহী।
কারণ কী, সেটা কমবেশি আমাদের সবারই জানা। ১৯৯১ সালের এই দিনেই হয়েছিল ‘৯১-এর ঘূর্ণিঝড়’ নামে পরিচিত সেই ঘূর্ণিঝড়। এতে প্রায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারান, প্রায় ১ কোটি মানুষ বাস্তুহারা হন এবং আনুমানিক প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার সমপরিমান ক্ষয়ক্ষতিসহ আরও নামা মাত্রিক ক্ষতিসাধন হয়!
○ বিস্তারিত:
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে ১৯৯১’র ২২শে এপ্রিল সৃষ্টি হয় একটি গভীর নিম্মচাপ। বাতাসে গতিবেগ ও নিম্মচাপের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি ২৪শে এপ্রিল 02B ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পূর্বদিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে এর শক্তি আরও বাড়তে থাকে। ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এটির তীব্রতা প্রচন্ড বৃদ্ধি পায়। যার গতিবেগ ঘন্টায় ১৬০ মাইল, যা একটি ক্যাটাগরী-৫ ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য। ২৯শে এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘন্টায় ১৫৫ মাইল গতিবেগে আঘাত করে, যা ক্যাটাগরী-৪ ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য। স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং ৩০শে এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয়।
○ প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতি:
এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এদের বেশিরভাগই নিহত হন চট্টগ্রাম জেলার উপকূল ও উপকূলীয় দ্বীপসমূহে। সন্দীপ, মহেশখালী, হাতিয়া ইত্যাদি দ্বীপে নিহতের সংখ্যা সর্বাধিক। যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন শিশু ও বৃদ্ধ। ১৯৭০ এর ভোলা ঘূর্ণিঝড়ের পর অনেক সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হলেও অসচেতনতা ও অজ্ঞতার কারণে অনেকেই সাইক্লোনের মাত্র ঘন্টাখানেক আগে সেখানে আশ্রয় নেন। অনেকেই ঝড়ের ভয়াবহতা বেশি হবে না- এই আশায় আশ্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত হন নি। ধারণা করা হয়, প্রায় ২০ লক্ষ লোক আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে বিপদজনক স্থানে অবস্থানের কারণে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হন।
এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে (আনুমানিক) প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ( মার্কিন ডলার) সমপরিমান ক্ষতি হয়। সাগর ও নদীর উপকূল প্লাবিত হয়। কর্ণফুলি নদীর তীরে কংক্রিটের বাঁধ থাকলেও এটি জলোচ্ছাসে ধ্বংস হয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের ১০০ টন ওজনের একটি ক্রেন ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে স্থানচ্যুত হয় এবং আঘাতের কারণে টুকরো টুকরো অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। বন্দরে নোঙর করা বিভিন্ন ছোট বড় জাহাজ, লঞ্চসহ অন্যান্য জলযান ও আকাশযান নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার মধ্যে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অনেক যানও বিদ্যমান। প্রায় ১০ লক্ষ ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এতে; ১ কোটি মানুষ হয়ে পড়ে বাস্তুহারা।
[তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, ছবি: ইন্টারনেট।]
আমরা আজকের এই দিনে সৃষ্টিকর্তার দরবারে নিহতদের আত্মার প্রশান্তি কামনা করছি।
কিছু আবশ্যকীয় প্রাসঙ্গিক কথা: উক্ত ঘূর্ণিঝড়টি কতখানি ভয়াবহ ছিল, তার আংশিক তো উপরিউক্ত বর্ণনায় অনুমেয় বটেই। সেই সাথে উক্ত ঘূর্ণিঝড়ের প্রত্যক্ষদর্শী জনৈক ব্যক্তির একটি স্মৃতিচারণের কিয়দংশ স্মর্তব্য। তিনি বলেন- “পরিস্থিতিটা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এখনো বৃষ্টির দিনে বা আচমকা মধ্য রাতে মনে পড়লে ভয়ে শরীর যেন অবশ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। ভাবতে ভাবতে মেরুদন্ডের মধ্য হাড়টায় যেন হিমশীতল বরফ বেয়ে চলে। লাশ পঁচার একটা বোটকা গন্ধ যেন নাকের আশেপাশে ঘুরঘুর করে!”
29/04/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌐 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে জিলকদ মাস:
⏳ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ১০ই জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি:
💠 হযরত খাজা শামসুদ্দিন তুর্ক পানিপথী (রহ.)-এর ওফাত দিবস।
📗 হযরত খাজা শামসুদ্দিন তুর্ক পানিপথি (রহ.) ছিলেন ত্রয়োদশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত সুফি সাধক, যিনি মূলত চিশতিয়া সাবিরিয়া ত্বরিকার প্রচারক হিসেবে পরিচিত। তুরস্ক থেকে ভারতে এসে তিনি পানিপথে বসতি স্থাপন করেন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় মগ্ন হন। বাবাসাহেব হযরত ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশকর (রহ.)-এর শিষ্য হিসেবে তিনি পানিপথের অঞ্চলে চিশতিয়া সিলসিলার আলো ছড়ান।
🖊️ প্রধান তথ্যাবলি:
✅ জন্ম ও উৎস:
তিনি তুরস্কের একটি সম্ভ্রান্ত হাসনি সাদাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
✅ আধ্যাত্মিক ধারা:
তিনি চিশতিয়া সাবিরিয়া ধারার একজন বিশিষ্ট খলিফা বা প্রতিনিধি ছিলেন।
🟢 মাজার শরিফ:
তাঁর মাজার বা দরগাহ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথের শেঠি চক এলাকায় অবস্থিত, যা হযরত খাজা শামসুদ্দিন তুর্ক পানিপথি (রহ.)-এর মাজার শরিফ। (শেঠি চক এলাকা) পানিপথ ... নামেও পরিচিত।
🖊️ তাৎপর্য:
পানিপথের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁকে গণ্য করা হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ধর্ম প্রচার করেন।
হযরত খাজা শামসুদ্দিন তুর্ক পানিপথি (রহ.) ছিলেন চিশতিয়া সাবিরিয়া ত্বরিকার প্রধান প্রচারক এবং হযরত আলাউদ্দিন আলী আহমদ সাবির কালিয়ারি (রহ.)-এর একমাত্র আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি (খলিফা)। নিম্নে তাঁর জীবনী ও আধ্যাত্মিক 🖊️ সাধনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
🟢 জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
✅ জন্ম:
তিনি ১৩শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তুরস্ক বা তুর্কিস্তানে এক সম্ভ্রান্ত হাসনি সাদাত (রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর বংশধর) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
✅ শিক্ষা:
তুরস্কেই তিনি তাফসীর, হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রসহ ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন।
✅ আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান:
আধ্যাত্মিক জ্ঞানের নেশায় তিনি নিজ দেশ ত্যাগ করে ভারত উপমহাদেশে আসেন এবং হযত শেখ ফরিদ উদ্দিন গঞ্জেশকর (রহ.)-র কাছে শিষ্যত্বের ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু বাবা ফরিদ তাঁকে কালিয়ারে হযরত সাবির পাক (রহ.)-এর কাছে পাঠান।
🖊️ আধ্যাত্মিক সাধনা ও খিলাফত
✅ একমাত্র খলিফা:
কালিয়ারে হযরত সাবির পাকের সান্নিধ্যে তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর কঠোর সাধনা ও খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। সাবির পাকের ২১ জন শিষ্য ধৈর্য হারিয়ে চলে গেলেও একমাত্র তিনিই টিকে ছিলেন এবং খিলাফত লাভ করেন।
✅ সূর্যের উপাধি:
দীর্ঘ ৬ বছর গুহায় শ্বাস নিয়ন্ত্রণের কঠোর সাধনা (হাবসে দম) করার পর তাঁর পীর তাঁকে 'শামস' (সূর্য) উপাধি দেন। সাবির পাক বলেছিলেন, "আমার ১৪,০০০ মুরিদ নক্ষত্রের মতো, কিন্তু শামসুদ্দিন হলো সূর্য"।
পানিপথে আগমন:
পীরের নির্দেশে তিনি ১২৯৩ খ্রিষ্টাব্দে (৬৯৩ হিজরি) পানিপথে ধর্ম প্রচার ও সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে বসতি স্থাপন করেন।
🖊️ উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও অলৌকিকত্ব
✅ হযরত খাজা শরফুদ্দিন বু আলী শাহ কলন্দর (রহ.)-এর সাথে সাক্ষাত:
পানিপথে আগমনের পর তিনি সেখানকার প্রখ্যাত সুফি বু আলী শাহ কলন্দরকে এক গ্লাস দুধ পাঠান (যার অর্থ ছিল শহরের আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব এখন তাঁর হাতে)। প্রতিউত্তরে বু আলী শাহ দুধে একটি গোলাপ ফুল রেখে দেন, যার মাধ্যমে তিনি শামসুদ্দিন তুর্কের শ্রেষ্ঠত্ব হাসিমুখে মেনে নেন।
✅ সৈনিক জীবন ও সংস্কার:
পীরের নির্দেশে তিনি সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন সৈন্যদের মধ্যে ধর্মীয় সংস্কার আনার জন্য। তাঁর দোয়ায় সুলতান আম্বর দুর্গ জয় করতে সমর্থ হন।
মাজার শরিফ ও উরস:
🟢 ওফাত: তিনি ১০ জুমাদিউল আখির ৬৯৯ হিজরিতে (১২৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) ওফাতবরণ করেন।
✅ অবস্থান: তাঁর মাজার ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথের শেঠি চক এলাকায় অবস্থিত। এটি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র এবং প্রতিবছর তাঁর বার্ষিক উরস মহাসমারোহে পালিত হয়।
📓 তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।
27/04/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌐 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে জিলক্বদ মাস:
⏳ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ৮ই জিলক্বদ ১৪৪৭ হিজরি:
💠 ইমাম আল-দারাকুতনী (রহ.)-এর ওফাত দিবস।
🖊️ হযরত আবুল হাসান 'আলী ইবনে 'উমার ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদী ইবনে মাস'উদ ইবনে আল-নু'মান ইবনে দিনার ইবনে আব্দিল্লাহ আল-বাগদাদী আল-দারাকুতনী (৯১৮ ঈসায়ী/ ৩০৬ হিজরি, বাগদাদ - ৯৯৫ ঈসায়ী/ ৩৮৫ হিজরি) ছিলেন ইসলামের প্রাথমিক যুগের একজন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস, হাদিস সংকলক এবং বিদ্বান।
তিনি ৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে (৩০৬ হিজরি) বাগদাদের দার আল-কুতনে জন্মগ্রহণ করেন, যে কারণে তাঁর নামের সাথে আদ-দারাকুতনী যুক্ত হয়েছে। তিনি শিক্ষালাভ করেন কয়েকজন উচু পর্যায়ের বিদ্বান মনীষীর কাছে, তারা হচ্ছেন, আবুল কাসিম আল-বাগাভী রহ., আবু বকর ইবনে আবু দাউদ রদ., আবু বাকর ইবনে যিয়াদ আল-নিশাপুরি রহ., আবু উবাইদ আল-কাসিম (তাঁর ভাই) প্রমুখ।
পরবর্তী যুগের বিদ্বানগণ তাঁর মর্যাদার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। খাতিব আল-বাগদাদী তাঁর ব্যাপারে বলেন, "তিনি তাঁর সময়ের ইমাম ছিলেন"। আবু-তায়্যিব আল-তাবারী (ইন্তেকাল ৪৫০ হিজরি) দারাকুতনী-কে "হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মু'মিনীন" বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ছাত্রদের মাঝে উল্লেখযোগ্য দুইজন মনীষী হচ্ছেন, ইমাম হাকিম নিশাপুরি (রহ.) এবং আবুল হাসান ইস্ফাহানি (রহ.)।
ইমাম আদ-দারাকুতনী হাদিস শাস্ত্রের পর্যালোচনামূলক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অনেক অবদান রাখেন। তাঁর রচনা সমগ্র প্রধানত হাদিস শাস্ত্র বিষয়ক। এ বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রচনা সমগ্র তৈরি করেন। এর মধ্যে ‘কিতাবুস সুনান’ গ্রন্থখানি সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করে। যা ভারতীয় উপমহাদেশে যা ‘আদ-দারা কুতনী’ নামে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তাছাড়া রিজাল শাস্ত্রের উপর রচিত গ্রন্থ সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো ‘কিতাবুয যুআফ’ এবং ‘আল-মুতালাফ ওয়াল মুখতালাফ’ উল্লেখযোগ্য।
তিনি ৩৮৫ হিজরি সনের ৮ই জিলক্বদ (৯৯৫ ঈসায়ী) ৭৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, বাব আল-দায়র কবরস্থানে শাইখ মারুফ কারখী (রহ.)'র রওজার পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
📓 তথ্যসূত্র: বাংলা উইকিপিডিয়া।
27/04/2026
মাইজভাণ্ডারী একাডেমির আয়োজনে ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলন
দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান
দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে নগরে আয়োজিত ‘আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব'র জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে "পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিক নির্দেশনা" শিরোনামে সম্মিলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, বিশ্বসমাদৃত 'ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া'র প্রতিষ্ঠাতা গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী ও মহান ১০ মাঘ ১২০তম উরস শরিফ উদযাপনের অংশ হিসেবে তাঁর মহান অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শ প্রতিপালনে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট (SZHM Trust)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনের আয়োজন করেছে মাইজভাণ্ডারী একাডেমি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব আবু সুফিয়ান এম.পি।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "সকল ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে, দেশপ্রেম, শান্তি ও মানব কল্যাণ। ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে বলব- ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হতে ইসলাম শিক্ষা দেয়। সমাজে মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। উৎপীড়ন ও প্রতিহিংসা, সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কুশাসন, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করাই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রতি সম্মিলনের অন্তর্নিহিত তাগিদ।"
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্প্রীতি সম্মিলনে আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপারনিউম্যারারি প্রফেসর অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, চট্টগ্রাম ক্যাথিড্রাল প্যারিসের সহকারী পাল পুহিত ফাদার রুপক আইজেক রোজারিও এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব শশাঙ্ক বরণ রায়।
আলোচনায় বৌদ্ধতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. সকোমল বড়ুয়া বলেন, "বর্তমান পৃথিবীর অস্থিরতার প্রধান কারণ হচ্ছে সহিংসতা, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, বিশ্বশক্তি কিংবা আগ্রাসন মনোবৃত্তি লালন করা। তাই আজ সর্বপ্রথম প্রয়োজন সকল সম্প্রদায়ের মন থেকে এ চারটি কুধারণা অপসারণ করা। দেহ ছাড়া মনের আশ্রয় যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনি নীতি বা ধর্ম ছাড়া সমাজ জীবনের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিন্তা অর্থহীন। দুই মেরুতে দুটি অবস্থান করলেও উভয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশে একটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতামুক্ত, শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।"
শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ বলেন, "দুঃখের বিষয় হলো, সকল ধর্মে ধর্মীয় সহাবস্থানের কথা স্বীকৃত থাকলেও বিদ্বেষপূর্ণ ভাবধারার কোন পরিবর্তন হয়নি। দুঃখের সাথে আজ তা স্বীকার করতে হয়। আজ সমগ্র বিশ্বে ন্যায়বোধ, প্রীতিবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযমবোধ, সহিষ্ণুতা, মানবতা ও শৃংখলার বড়ই দুর্ভিক্ষ। ধর্ম আচরণ পদ্ধতি ভিন্ন হলেও প্রতিটি মানুষের লক্ষ্য ও গন্তব্য কিন্তু এক ও অভিন্ন।"
ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, "সকল ধর্মগ্রন্থই ন্যায়পরায়ণতা, সততা, দয়া ও পরোপকারের মতো সার্বজনীন নৈতিক গুণাবলির উপর জোর দেয়। এই সাধারণ নৈতিক ভিত্তি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগীতার পথ সুগম করে। ধর্মগ্রন্থগুলো প্রায়ই ঈশ্বর বা দিব্যসত্তার সামনে সকল মানুষের সমান মর্যাদার কথা ঘোষণা করে, যা আন্তঃধর্মিক, আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্মানের ভিত্তি তৈরি করে।"
ফাদার রূপক আইজেক রোজারিও বলেন, "বিশ্বকে পরিবর্তন করতে হলে আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। নিজের ধ্যান-ধারণাকে পরিবর্তন করতে হবে। ধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে ধর্মান্ত হয় না। বরং অন্য ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন হয়। অন্যের মতকে সম্মান করা শেখা যায়। তাই এই ধরনের সংলাপ আজ খুবই জরুরি।"
উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ'র নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহ হোসাইনের সঞ্চালনায় সম্প্রীতি সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর। শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট-এর মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টি হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.)-এর বাণী পাঠ করেন 'এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট'-এর গবেষণা সহকারী জনাব মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসনাইন, গীতাপাঠ করেন অধ্যাপক শ্রী স্বদেশ চক্রবর্তী, ত্রিপিটক পাঠ করেন ভদন্ত এম বোধি মিত্র ভিক্ষু, বাইবেল পাঠ করেন পাস্টর রিপন রায়। হামদ পরিবেশন করেন সৈয়দ সামিউল হক ফরহাদাবাদী এবং মাইজভাণ্ডারী সংগীত পরিবেশন করেন মাইজভাণ্ডারী মরমী গোষ্ঠীর সিনিয়র সদস্য সৈয়দ জাবের সরওয়ার।
#ধর্মসাম্য #তাওহিদেআদইয়ান #মদিনাসনদ #আদর্শইসলামীসমাজ
27/04/2026
মাইজভাণ্ডারী একাডেমির আয়োজনে ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলন
দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান
দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে নগরে আয়োজিত ‘আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব'র জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে "পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিক নির্দেশনা" শিরোনামে সম্মিলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, বিশ্বসমাদৃত 'ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া'র প্রতিষ্ঠাতা গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী ও মহান ১০ মাঘ ১২০তম উরস শরিফ উদযাপনের অংশ হিসেবে তাঁর মহান অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শ প্রতিপালনে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট (SZHM Trust)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনের আয়োজন করেছে মাইজভাণ্ডারী একাডেমি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব আবু সুফিয়ান এম.পি।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "সকল ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে, দেশপ্রেম, শান্তি ও মানব কল্যাণ। ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে বলব- ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হতে ইসলাম শিক্ষা দেয়। সমাজে মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। উৎপীড়ন ও প্রতিহিংসা, সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কুশাসন, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করাই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রতি সম্মিলনের অন্তর্নিহিত তাগিদ।"
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্প্রীতি সম্মিলনে আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপারনিউম্যারারি প্রফেসর অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, চট্টগ্রাম ক্যাথিড্রাল প্যারিসের সহকারী পাল পুহিত ফাদার রুপক আইজেক রোজারিও এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব শশাঙ্ক বরণ রায়।
আলোচনায় বৌদ্ধতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. সকোমল বড়ুয়া বলেন, "বর্তমান পৃথিবীর অস্থিরতার প্রধান কারণ হচ্ছে সহিংসতা, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, বিশ্বশক্তি কিংবা আগ্রাসন মনোবৃত্তি লালন করা। তাই আজ সর্বপ্রথম প্রয়োজন সকল সম্প্রদায়ের মন থেকে এ চারটি কুধারণা অপসারণ করা। দেহ ছাড়া মনের আশ্রয় যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনি নীতি বা ধর্ম ছাড়া সমাজ জীবনের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিন্তা অর্থহীন। দুই মেরুতে দুটি অবস্থান করলেও উভয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশে একটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতামুক্ত, শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।"
শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ বলেন, "দুঃখের বিষয় হলো, সকল ধর্মে ধর্মীয় সহাবস্থানের কথা স্বীকৃত থাকলেও বিদ্বেষপূর্ণ ভাবধারার কোন পরিবর্তন হয়নি। দুঃখের সাথে আজ তা স্বীকার করতে হয়। আজ সমগ্র বিশ্বে ন্যায়বোধ, প্রীতিবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযমবোধ, সহিষ্ণুতা, মানবতা ও শৃংখলার বড়ই দুর্ভিক্ষ। ধর্ম আচরণ পদ্ধতি ভিন্ন হলেও প্রতিটি মানুষের লক্ষ্য ও গন্তব্য কিন্তু এক ও অভিন্ন।"
ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, "সকল ধর্মগ্রন্থই ন্যায়পরায়ণতা, সততা, দয়া ও পরোপকারের মতো সার্বজনীন নৈতিক গুণাবলির উপর জোর দেয়। এই সাধারণ নৈতিক ভিত্তি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগীতার পথ সুগম করে। ধর্মগ্রন্থগুলো প্রায়ই ঈশ্বর বা দিব্যসত্তার সামনে সকল মানুষের সমান মর্যাদার কথা ঘোষণা করে, যা আন্তঃধর্মিক, আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্মানের ভিত্তি তৈরি করে।"
ফাদার রূপক আইজেক রোজারিও বলেন, "বিশ্বকে পরিবর্তন করতে হলে আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। নিজের ধ্যান-ধারণাকে পরিবর্তন করতে হবে। ধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে ধর্মান্ত হয় না। বরং অন্য ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন হয়। অন্যের মতকে সম্মান করা শেখা যায়। তাই এই ধরনের সংলাপ আজ খুবই জরুরি।"
উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ'র নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহ হোসাইনের সঞ্চালনায় সম্প্রীতি সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর। শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট-এর মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টি হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.)-এর বাণী পাঠ করেন 'এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট'-এর গবেষণা সহকারী জনাব মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসনাইন, গীতাপাঠ করেন অধ্যাপক শ্রী স্বদেশ চক্রবর্তী, ত্রিপিটক পাঠ করেন ভদন্ত এম বোধি মিত্র ভিক্ষু, বাইবেল পাঠ করেন পাস্টর রিপন রায়। হামদ পরিবেশন করেন সৈয়দ সামিউল হক ফরহাদাবাদী এবং মাইজভাণ্ডারী সংগীত পরিবেশন করেন মাইজভাণ্ডারী মরমী গোষ্ঠীর সিনিয়র সদস্য সৈয়দ জাবের সরওয়ার।
#ধর্মসাম্য #তাওহিদেআদইয়ান #মদিনাসনদ #আদর্শইসলামীসমাজ
26/04/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌐 ইসলামের ইতিহাসঐতিহ্যে জিলক্বদ মাস:
⏳ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ৭ই জিলক্বদ ১৪৪৭ হিজরি:
💠 হযরত সৈয়দ আবদুর রাজ্জাক নুরুল আইন (রহ.)-এর ওফাত দিবস।
🖊️ হযরত সৈয়দ আবদুর রাজ্জাক নুরুল আইন (রহ.) আধ্যাত্মিক জগতের এক প্রখ্যাত সুফি সাধক, যিনি বিশেষভাবে আশরাফী সিলসিলার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
✅ পরিচয় ও বংশলতিকা
বংশ পরিচয়:
তিনি ইরাকের বিখ্যাত সুফি সাধক বড় পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ১১তম বংশধর। তাঁর পিতার নাম ছিল সৈয়দ হাসান আবদুল গফুর জিলানী।
✅ জন্ম: তিনি সিরিয়ার হামা শরীফে আনুমানিক ৭৫০-৭৫২ হিজরির মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। মতান্তরে তাঁর জন্ম বাগদাদে।
আধ্যাত্মিক জীবন ও খেলাফত
✅ মুর্শিদের সান্নিধ্য: মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি তাঁর চাচাতো ভাই এবং প্রখ্যাত সুফি মখদুম সুলতান সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সেমনানী (রহ.)-এর সান্নিধ্যে আসেন এবং আর কখনো তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেননি। তিনি বায়াত গ্রহণের ১২ বছর পূর্বে এবং ৬৮ বছর ভ্রমণে ও সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সেমনানীর সেবায় এবং অবশিষ্ট ৪০ বছর খেলাফতের গদিতে তাঁর মুর্শিদের ইন্তেকালের পর কাটিয়েছিলেন।
✅ দত্তক পুত্র ও উত্তরসূরি:
মখদুম সেমনানী (রহ.) তাঁকে নিজের 'মানবী সন্তান' (Spiritual Son) বা আধ্যাত্মিক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত বা খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন।
✅ উপাধি:
তাঁর অনেক উপাধি থাকলেও 'নুরুল আইন' (চোখের আলো) উপাধিটিই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তাঁর মুর্শিদ বলতেন, "অন্যরা সন্তান জন্ম দেয় ঔরসে, আর আমি নুরুল আইনকে সৃষ্টি করেছি আমার চোখের আলো থেকে"।
ওফাত ও মাজার
✅ ওফাত:
তিনি ৮৪৮ হিজরিতে (মতান্তরে ৮৭২ হিজরি) ৭ই জিলক্বদ ১২০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
✅ মাজার:
ভারতের উত্তর প্রদেশের আম্বেদকর নগর জেলার কিচ্ছাউছা শরীফে মখদুম আশরাফ জাহাঙ্গীর সেমনানী (রহ.)-এর মাজারের পাশেই তাঁর সমাধি অবস্থিত।
📓 তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।