06/12/2025
মুমিনদের কথা তো কেবল এটিই—যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ডাকা হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা শুনেছি এবং মান্য করেছি।’ আর তারাই সফলকাম।”
কাতাদাহ রহ. বলেন, উবাদাহ ইবনে সামিত র., যিনি আকাবাহয় উপস্থিত ছিলেন এবং একজন বাদরী সাহাবি এবং আনসারগণের মধ্যে একজন নেতৃস্থানীয় লোক, মৃত্যুর সময় স্বীয় ভ্রাতুস্পুত্র জুনাদাহ ইবনে আবি উমাইয়াহকে র.কে বলেন: তোমার উপর কি কর্তব্য এবং তোমার কি দায়িত্ব রয়েছে তা কি আমি তোমাকে বলে দিবো ? তিনি জবাবে বললেন: হ্যাঁ বলুন। তখন তিনি বললেন: তোমার কর্তব্য হলো (ধর্মীয় উপদেশ) শ্রবণ করা ও মান্য করা কঠিন অবস্থায়ও এবং সহজ অবস্থায়ও, আনন্দের সময়ও এবং দুঃখের সময়ও, আর ঐ সময়েও যখন তোমার হক অন্যকে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। তোমার জিহ্বাকে তুমি ন্যায় ও সত্যবাদিতার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবে। যোগ্য শাসনকর্তার নিকট থেকে শাসনকার্য ছিনিয়ে নিবে না। তবে সে যদি প্রকাশ্যভাবে আল্লাহর অবাধ্যতার হুকুম করে তাহলে তা কখনও মানবে না। সে যদি আল্লাহর কিতাবের বিপরীত কিছু বলে তাহলে তা কখনও স্বীকার করবে না। সদা-সর্বদা আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করবে। (ইবনে আবী হাতিম ৮/২৬২৩)
আবু দারদা র. বলেন যে, আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া ইসলাম নেই। আর সমস্ত মঙ্গল নিহিত রয়েছে জামা'আতের মধ্যে এবং আল্লাহ, তাঁর রসুলুল্লাহ স. , মুসলিমদের খালীফা এবং সাধারণ মুসলিমদের মঙ্গল কামনার মধ্যে। তিনি বলেন: আমাদেরকে জানানো হয়েছে, উমার ইবনুল খাত্তাব র. বলতেন যে, ইসলামের দৃঢ় রজ্জু হল আল্লাহর একাত্মবাদের সাক্ষ্য দেয়া, সালাত প্রতিষ্ঠিত করা, যাকাত প্রদান করা এবং মুসলিমদের শাসকদের আনুগত্য স্বীকার করা। (ইব্ন আবী হাতিম ৮/২৬২৩, ২৬২৪)
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসুলুল্লাহ স. এর অনুগত হবে, তাঁরা যা করতে আদেশ করেছেন তা পালন করবে, যা করতে নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাকবে, যে পাপ কাজ করে ফেলেছে তার জন্য সদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে এবং আগামীতে ঐ সব পাপ কাজ হতে বিরত থাকবে সে সমুদয় কল্যাণ জমাকারী এবং সমস্ত অকল্যাণ হতে পরিত্রাণ প্রাপ্ত। দুনিয়া ও আখিরাতে সে মুক্তিপ্রাপ্ত ও সফলকাম।
~~ আন নূর -৫২, তাফসির ইবনে কাসির