06/12/2025
মুমিনদের কথা তো কেবল এটিই—যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ডাকা হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা শুনেছি এবং মান্য করেছি।’ আর তারাই সফলকাম।”
কাতাদাহ রহ. বলেন, উবাদাহ ইবনে সামিত র., যিনি আকাবাহয় উপস্থিত ছিলেন এবং একজন বাদরী সাহাবি এবং আনসারগণের মধ্যে একজন নেতৃস্থানীয় লোক, মৃত্যুর সময় স্বীয় ভ্রাতুস্পুত্র জুনাদাহ ইবনে আবি উমাইয়াহকে র.কে বলেন: তোমার উপর কি কর্তব্য এবং তোমার কি দায়িত্ব রয়েছে তা কি আমি তোমাকে বলে দিবো ? তিনি জবাবে বললেন: হ্যাঁ বলুন। তখন তিনি বললেন: তোমার কর্তব্য হলো (ধর্মীয় উপদেশ) শ্রবণ করা ও মান্য করা কঠিন অবস্থায়ও এবং সহজ অবস্থায়ও, আনন্দের সময়ও এবং দুঃখের সময়ও, আর ঐ সময়েও যখন তোমার হক অন্যকে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। তোমার জিহ্বাকে তুমি ন্যায় ও সত্যবাদিতার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবে। যোগ্য শাসনকর্তার নিকট থেকে শাসনকার্য ছিনিয়ে নিবে না। তবে সে যদি প্রকাশ্যভাবে আল্লাহর অবাধ্যতার হুকুম করে তাহলে তা কখনও মানবে না। সে যদি আল্লাহর কিতাবের বিপরীত কিছু বলে তাহলে তা কখনও স্বীকার করবে না। সদা-সর্বদা আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করবে। (ইবনে আবী হাতিম ৮/২৬২৩)
আবু দারদা র. বলেন যে, আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া ইসলাম নেই। আর সমস্ত মঙ্গল নিহিত রয়েছে জামা'আতের মধ্যে এবং আল্লাহ, তাঁর রসুলুল্লাহ স. , মুসলিমদের খালীফা এবং সাধারণ মুসলিমদের মঙ্গল কামনার মধ্যে। তিনি বলেন: আমাদেরকে জানানো হয়েছে, উমার ইবনুল খাত্তাব র. বলতেন যে, ইসলামের দৃঢ় রজ্জু হল আল্লাহর একাত্মবাদের সাক্ষ্য দেয়া, সালাত প্রতিষ্ঠিত করা, যাকাত প্রদান করা এবং মুসলিমদের শাসকদের আনুগত্য স্বীকার করা। (ইব্ন আবী হাতিম ৮/২৬২৩, ২৬২৪)
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসুলুল্লাহ স. এর অনুগত হবে, তাঁরা যা করতে আদেশ করেছেন তা পালন করবে, যা করতে নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাকবে, যে পাপ কাজ করে ফেলেছে তার জন্য সদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে এবং আগামীতে ঐ সব পাপ কাজ হতে বিরত থাকবে সে সমুদয় কল্যাণ জমাকারী এবং সমস্ত অকল্যাণ হতে পরিত্রাণ প্রাপ্ত। দুনিয়া ও আখিরাতে সে মুক্তিপ্রাপ্ত ও সফলকাম।
~~ আন নূর -৫২, তাফসির ইবনে কাসির
11/05/2025
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আগামী দিন থেকে চেষ্টা করবো আমার অনলাইন/অফলাইনে আশেপাশের প্রিয় মানুষদের কুর'আনুল কারীমের তিলাওয়াত এই পেইজে পোস্ট করার ইনশা~আল্ল-হ
বিভিন্নজনের বিভিন্ন সুরে কুর'আনুল কারীমের তিলাওয়াত শুনতে পেইজটি Follow দিয়ে রাখবেন ইনশা~আল্ল-হু
জাযা-কুমুল্ল-হু খইরন♥
13/11/2024
★অর্ধাঙ্গিনী, মা-বাবা ও সন্তানদের জন্য আশা জাগানো আয়াত ও হাদিস।এ যেন আত্নার প্রশান্তি!আমরা জান্নাতেও একসাথে থাকবো!ইনশা~আল্ল-হ ♥
وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَاتَّبَعَتۡہُمۡ ذُرِّیَّتُہُمۡ بِاِیۡمَانٍ
যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের সন্তান-সন্ততিগণ ঈমানের ক্ষেত্রে তাদের অনুগামী হয়েছে
اَلۡحَقۡنَا بِہِمۡ ذُرِّیَّتَہُمۡ
আমি তাদের সন্তান-সন্তুতিদেরকে তাদের সাথে মিলিয়ে দিব
وَمَاۤ اَلَتۡنٰہُمۡ مِّنۡ عَمَلِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ
এবং তাদের কর্ম হতে কিছুমাত্র হ্রাস করব না।
রসূলুল্ল-হ স. বলেন,জান্নাতী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করে তার পিতামাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে যে, তারা কোথায় আছে? জবাবে বলা হবে যে, তারা তোমার মর্যাদা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। তাই তারা জান্নাতে আলাদা জায়গায় আছে। এই ব্যক্তি আবেদন করবে,"ইয়া আল্ল-হ , দুনিয়াতে নিজের জন্য ও তাদের সবার জন্য আমল করেছিলাম। তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার পক্ষ থেকে আদেশ হবে, তাদেরকেও জান্নাতের এই স্তরে একসাথে রাখা হোক।সুবহানাল্লা-হ ♥ (ইবনু কাসির)
রসুলুল্লাহ স. বলেন,
আল্ল-হ জাল্লা শা'নুহু কোনো কোনো নেক বান্দার মর্যাদা তার আমলের তুলনায় অনেক উচ্চ করে দিবেন। সে প্রশ্ন করবে,"ইয়া আল্ল-হ, আমাকে এই মর্যাদা কেন দেওয়া হলো? আমার আমল তো এই পর্যায়ের আমল ছিল না। উত্তর হবে, তোমার সন্তান-সন্তুতি তোমার মাগফিরাতের জন্য দু'আ করছে।এজন্য তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেওয়া হলো।
★রহমানুর রহিম পৃথিবীর প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করা সব মু'মিন নর-নারীদের ক্ষমা করুক।
★মা'আরিফুল কুর'আন --৭/৫৯৪
★সূরা তূর-21
13/11/2024
আমার আয়ু থেকে কিছু আমার মায়ের আয়ুতে যুক্ত হোক__এভাবে বলে মায়ের প্রতি সম্মান জানানো যায়।
বাস্তবে কারো আয়ু থেকে কিছু অংশ কেটে কাউকে দেয়ার সুযোগ নেই।
যদি আপনার মা,বাবা কিংবা অন্যান্য প্রিয়জনদের ভালো চান তবে সর্বোত্তম হচ্ছে তাদের আমলনামায় কিছু আমল যোগ করার চেষ্টা করা আপনার পক্ষ হতে।
এই যেমন ধরুন,ফরজ সালাতের পর আপনি একবার আয়াতুল কুরসি পড়েন নিজের জন্য,যাতে আপনি জান্নাতে যেতে পারেন সহজে।এভাবে যদি আরেকবার পড়েন নিজের মায়ের জন্য,আরেকবার পড়েন নিজের বাবার জন্য, আরেকবার পড়েন অন্যান্য প্রিয়জনদের জন্য যাতে তারাও জান্নাতে যেতে পারে।সত্যিকার ভালোবাসা এখানেই প্রকাশ পায়।
বিচারদিবসে কঠিনতম মুহূর্তে মা যখন দেখবে তার আমলনামায় আয়াতুল কুরসির এত এত সাওয়াব তখন হয়তো তিনি অবাক হয়ে আল্ল-হকে বলবেন,"ও আমার রব।এটা নিশ্চয়ই অন্য কারো আমলনামা।আমি তো কখনও আয়াতুল কুরসি পড়ি নাই।তাহলে আমার আমলনামায় আয়াতুল কুরসির সাওয়াব আসল কীভাবে?"
তখন রব্বুল আ-লামীন আপনার কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন।একজন মায়ের কাছে এই চাইতে সারপ্রাইজিং বিষয় আর কিছুই হতে পারে না।
একদিন ঠিকিই আমরা আমাদের মা বাবা ভাই-বোন ও অন্যান্য প্রিয়জনদের নিয়ে জান্নাতে যাবো ইনশা~আল্ল-হ।
12/11/2024
If you see a married couple still in love through the years, you may think how lucky they are.
But in marital relations, there's no such thing as luck.
They made many compromises, they overlooked each others faults.
They forgave many mistakes and endured many problems. They spent years learning to understand one another.
Love has never been a matter of luck. It's mutual giving, compromise, shared dreams, care, respect, mercy and patience. ❤️
-Copied
16/09/2024
______মোহরানার বিধান-সংক্রান্ত______
আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহরানা দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো__ وَاٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِہِنَّ نِحۡلَۃً ؕ فَاِنۡ طِبۡنَ لَکُمۡ عَنۡ شَیۡءٍ مِّنۡہُ نَفۡسًا فَکُلُوۡہُ ہَنِیۡٓــًٔا مَّرِیۡٓــًٔا
তিনটা কথা
১. [তৎকালীন আরবে] যে মেয়ের হক মোহরানা, তাকে মোহরানা দেয়া হত না। বরং মেয়ের অভিভাবক স্বামী থেকে তা উসুল করে নিজে ভোগ করত। এটা নিতান্ত অন্যায় ছিল। এর প্রতিকারে কুরআনুল কারীমে আদেশ দিয়েছে-وَاٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِہِنَّ 'তোমরা নারীদেরকে মোহরানা প্রদান কর।'
এ আয়াতে স্বামীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, তারা যেন আপন স্ত্রীদের মোহরানা স্ত্রীদেরকেই প্রদান করে, অন্য কারো কাছে না দেয় এবং অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, মেয়ের মোহরানা যদি তাদের হস্তগত হয়, তবে মেয়েকে তা প্রদান করবে; তার অনুমতি ব্যতীত তাতে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করবে না।
২.কখনো যদি কাউকে মোহরানা দিতে হত, তবে চরম বিরক্তির সাথে ও অসন্তুষ্ট চিত্তে জরিমানা মনে করে দিত। আলোচ্য আয়াতের نِحۡلَۃً শব্দ দ্বারা এ জুলুমের প্রতিকার করা হয়েছে। কারণ অভিধানে হৃষ্টচিত্তে কাউকে কিছু প্রদান করাকে نِحۡلَۃً বলে। মোটকথা, এ আয়াতে শিক্ষাদান করা হয়েছে যে, নারীদের মোহরানা একটি ওয়াজিব হক, তা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। সকল ওয়াজিব হক যেভাবে হৃষ্টচিত্তে পরিশোধ করা জরুরি, মোহরানাও তেমনি একটি হক।
৩. মোহরানার ব্যাপারে আরেকটি বড় অন্যায় ছিল; স্ত্রীকে দুর্বল ও নিরুপায় মনে করে অনেক স্বামী চাপ প্রয়োগ করে তাদের দ্বারা মোহরানা মাফ করিয়ে নিত। মূলত এভাবে মোহরানা মাফ হত না, কিন্তু তারা মনে করত মাফ হয়ে গিয়েছে। এ অন্যায় বন্ধ করার জন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছেفَاِنۡ طِبۡنَ لَکُمۡ عَنۡ شَیۡءٍ مِّنۡہُ نَفۡسًا فَکُلُوۡہُ ہَنِیۡٓــًٔا مَّرِیۡٓــًٔا
অর্থাৎ স্ত্রীগণ যদি হৃষ্টচিত্তে আপন মোহরানার কিছু অংশ তোমাদেরকে দিয়ে দেয়, তবে তোমরা তা ভোগ করতে পারো। তা তোমাদের জন্য বরকতময় হবে।
আয়াতের মর্ম হল,
জোর-জবরদস্তি, বলপ্রয়োগ বা চাপ প্রয়োগ করে মাফ করিয়ে নেয়া অর্থহীন: এর দ্বারা কিছুই মাফ হয় না। হ্যাঁ, স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে মোহরানার কোনো অংশ মাফ করে দেয় কিংবা গ্রহণ করার পর তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়, তবে তা তোমাদের জন্য বৈধ ও হালাল।
জাহেলী যুগে এ সব অন্যায় অনেক বেশি ছিল। কুরআনের আলোচ্য আয়াত দ্বারা এ অন্যায়ের প্রতিকার করা হয়। আফসোসের বিষয় হল, জাহেলী যুগের এ সব ব্যাপার মুসলিমদের মাঝে এখনও বিদ্যমান আছে। এ সব অন্যায় থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।
আলোচ্য আয়াতে হৃষ্টচিত্তে বা খুশীমনে যে শর্ত করা হয়েছে যে, স্ত্রীগণ খুশীমনে মোহরানার কিছু অংশ প্রদান করলে কিংবা তোমাদের থেকে উসুলই না করলে, তোমরা তা ভোগ করো- এর একটি বড় তাৎপর্য রয়েছে। শরীয়তের অন্যতম নীতি হল, সানন্দে অনুমতি না দিলে কারো সামান্য সম্পদও অপর কারো জন্য হালাল নয়।
রসুলুল্লাহ স. বলেন
'সাবধান! জুলুম করো না।
সাবধান! জুলুম করো না।
সাবধান। জুলুম করো না।
স্মরণ রেখো, কারো সম্পদ অপর কারো জন্য হালাল নয়, যাবত না তা তার সন্তুষ্টিক্রমে লাভ হয়।
[মুসনাদে আহমাদ: ২০৬৯৫]
বর্তমান যুগে যেহেতু নারীরা মনে করে, মোহরানা পাওয়া যাবে না; যদি চাই বা মাফ না করি তবে সম্পর্ক খারাপ হবে ও তিক্ততা বাড়বে, এ জন্য অনিচ্ছাসত্ত্বেও মাফ করে দেয়। এ মাফ করার কোন মূল্য নেই। হযরত হাকীমুল উম্মত থানভী র. বলেন, হৃষ্টচিত্তে তখনি মাফ হতে পারে, যখন মোহরানার অর্থ স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়, তারপর সে স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে কোনরূপ চাপ ছাড়াই স্বামীকে দিয়ে দেয়।
★আলে ইমরান-04,মুসনাদে আহমাদ-20695, মা'আরিফুল কুর'আন-2/399
Rajib Hossain Raju
14/09/2024
A real man will offer you marriage but a loser will offer you zina.
09/09/2024
শহীদগণ জীবিত এবং তারা রবের নিকট থেকে জীবিকা পায়-بَلۡ اَحۡیَآءٌ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ یُرۡزَقُوۡنَ ۙ [আলে ইমরান 169]
দুনিয়ায় জীবিকা অর্জনে কত কষ্ট করতে হয়!শ্রম ও মেহনত দিতে হয়।তার উপর চোর-ডাকাতের ভয় তো আছেই।আর শহীদগণকে আল্লাহ জীবিকা দেন বিনা মাধ্যমে,বিনা শ্রম ও মেহনতে এবং সেই জীবিকা শেষ হওয়ারও কোনো আশঙ্কা নেই।
আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা-কিছু দিয়েছেন, তারা তাতে আনন্দিত। আর তাদের পরে এখনও যারা (শাহাদাতের মাধ্যমে) তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি, তাদের ব্যাপারে এ কারণে তারা আনন্দ বোধ করে যে, (তারা যখন তাদের সঙ্গে এসে মিলিত হবে, তখন) তাদের কোনও ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।فَرِحِیۡنَ بِمَاۤ اٰتٰہُمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ۙ وَیَسۡتَبۡشِرُوۡنَ بِالَّذِیۡنَ لَمۡ یَلۡحَقُوۡا بِہِمۡ مِّنۡ خَلۡفِہِمۡ ۙ اَلَّا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ۘ [আলে ইমরান 170]
সুদ্দী র. বলেন, শহীদগণের নিকট একটি রেজিস্টার পেশ করা হয়,যাতে তাদের মুসলিম ভাইদের মধ্যে যারা ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে মিলিত হবে তাদের নাম লেখা থাকে।তারা এ সুসংবাদে এমন আনন্দিত হয়, দুনিয়াতে প্রবাসী-প্রিয়জনের আগমন সংবাদ শুনে মানুষ যেমনটা আনন্দিত হয়ে থাকে।[ইবনে কাসির,1/481]
কোন কোন আলিম বলেন الَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ আয়াতে সকল মু'মিনের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে, যারা দুনিয়াতে শহীদদের পিছনে রয়ে গেছে, যদিও তারা শহীদ না হয়। শহীদগণ যখন সেই জগতে গিয়ে আল্লাহ তা'আলার প্রতিদান ও পুরস্কার প্রত্যক্ষ করে, তখন তাদের পরম বিশ্বাস অর্জিত হয় যে, ইসলাম সত্যধর্ম এবং এ ধর্মানুসারীদেরকে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই প্রতিদান ও পুরস্কার দান করবেন।
সুতরাং শহীদগণকে আল্লাহ তা'আলা যে সব নি'আমত ও অনুগ্রহ দান করেছেন, তারা সেজন্যও আনন্দিত হবে এবং তারা তাদের ওই ভাইদের কথা ভেবেও আনন্দিত হবে, যারা দুনিয়াতে তাদের পিছনে রয়ে গেছে, যদিও তাদের শাহাদাতের মর্যাদা অর্জিত না হয়। তাদেরও কোন ভয় ও দুঃখ নেই। কারণ তারা সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং পরিশেষে তারা অবশ্যই জান্নাতে পৌঁছবে।'
ইমাম যাজ্জাজ এবং ইবন ফুরাক (র.) আলোচ্য আয়াতের এ অর্থই গ্রহণ করেছেন। [তাফসীরে কুরতুবী,4/275]
★আলে ইমরান-169,170 ইবনে কাসির-1/481,তাফসিরে কুরতুবী-4/275, মা'আরিফুল কুর'আন 2/343
08/09/2024
আর কেউ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করলে, যা সে অন্যায়ভাবে গোপন করবে কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে আসবে/উঠবে--وَمَنۡ یَّغۡلُلۡ یَاۡتِ بِمَا غَلَّ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ۚ [আলে ইমরান-161]
একবার রসুলুল্লাহ স. ইবনুল দ্রুতবিয়্যা নামে আযদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে যাকাত উসুলের দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন। যখন [নির্দিষ্ট এলাকার লোকদের যাকাত উসুল করে] তিনি মদীনায় আসলেন, তিনি [তাঁর সঙ্গে থাকা মালামাল]দেখিয়ে বললেন, এগুলো তোমাদের [দরিদ্রদের] জন্য [যাকাতের মাল] আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। তখন রসুলুল্লাহ স. বললেন [এটা ঠিক নয়] সে নিজ পিতার বা মায়ের ঘরে বসে থাকল না কেন? দেখত, লোকেরা তাকে হাদিয়া দেয় কিনা। [যাকাত উসুল করতে গিয়ে মানুষের হাদিয়া গ্রহণ করা অন্যায়। এটা দুর্নীতির পথ উন্মুক্ত করে] ওই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। কেউ যদি অন্যায়ভাবে কোন বস্তু গ্রহণ করে, কিয়ামতের দিন সে তা তার ঘাড়ে বহন করে উপস্থিত হবে- যদি তা উট হয়, সেটা উটের ডাক ডাকতে থাকবে: যদি তা হয় গরু, সেটা হাম্বা হাম্বা করতে থাকবে; যদি হয় ছাগল, ম্যা ম্যা করতে থাকবে। তারপর আল্লাহর রাসূল দু' হাত ঊর্ধ্বে তুললেন, এমনকি আমরা তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম, তিনি বললেন, হে আল্লাহ। আমি কি [আপনার বিধান] পৌঁছে দিয়েছি? এভাবে তিনবার বললেন।
[সহিহ বুখারি-2597]
হযরত আবু হাইয়ান (র.) হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
একদিন রসুলুল্লাহ স. আমাদের মাঝে বক্তৃতা করতে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি গনীমতের মালে খেয়ানত সম্পর্কে বললেন; একে গুরুতর অন্যায় সাব্যস্ত করলেন এবং এর ভয়াবহ পরিণতির কথা বললেন।
তিনি বললেন, এটা তোমাদের জন্য উচিৎ হবে না যে, কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের কাউকে ঘাড়ে ছাগল কিংবা ঘোড়া বহন করা অবস্থায় পাবো, ছাগল ম্যা ম্যা করতে থাকবে, ঘোড়া হ্রেষা ধ্বনি করতে থাকবে, আর সে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই তোমাকে এ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম।
কাউকে ঘাড়ে উট বহন করা অবস্থায় পাবো, উট ডাক পারতে থাকবে, আর সে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল। আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই তোমাকে এ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম।
কাউকে ঘাড়ে শব্দহীন বস্তু (স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি জড় বস্তু) বহন করা অবস্থলী পাবো, সে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই তোমাকে এ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম।
কাউকে ঘাড়ে দোত্রেয়মান বস্ত্র বহন করা অবস্থায় পাব, সে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলকু তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই তোমাকে এ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম।
[সহিহ বুখারি-3073]
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত
রসুলুল্লাহ স. বলেন, জাহান্নামে কাফিরদের দেহের চামড়া বিয়াল্লিশ হাত পুরু হবে। তার মাড়ির একেকটি দাত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান। জাহান্নামে তার বসার স্থানটি হবে মক্কা ও মদীনার দূরত্বের সমান।'
[সুনানুত তিরমিজি-2577]
ইবনে আবী হাতিম র. বর্ণনা করেন এক ব্যক্তি আবু হুরায়রা র.কে প্রশ্ন করেন যে, 'যে ব্যক্তি একশ কিংবা দু'শ উট আত্মসাৎ করেছে সে এত উট কিভাবে নিজের জাড় গ্রহন করবে? উত্তরে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যার মাড়ির একটি দাত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান, তার পক্ষে এত উটও একসাথে বহন করা সম্ভব হবে.
হযরত আবূ হুরায়রা (রা.)-এর এ উত্তরটি ছিল প্রশ্নকর্তাকে শান্ত ও আশ্বস্ত করার জন্য। নচেৎ আল্লাহর কুদরতের জন্য দেহ বড় হওয়াও জরুরি নয়। এ যুগে ছোট ছোট ক্রেন দ্বারা বড় বড় সামুদ্রিক জাহাজও উপরে তুলে ফেলা হয়। এ তো একজন দুর্বল-গঠন মানুষের ক্ষমতার অবস্থা। তাহলে চিন্তা করুন, সর্বশক্তিমান ও অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন সত্তার শক্তি ও ক্ষমতার কী অবস্থা!
এ অপমান ও লাঞ্ছনাতেই খিয়ানতকারীর শাস্তি শেষ হবে না, বরং সে খিয়ানতের পূর্ণ শাস্তি ভোগ করবে। কারণ কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে যা সে করেছে তার পুরোপুরি প্রতিদান দেয়া হবে, বিশেষ করে বান্দার হক বিষয়ে এবং তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।
★আলে ইমরান-161,সহিহ বুখারি-2597,3073,সুনানুত তিরমিজি-2577,মা'আরিফুল কুর'আন-2/333
04/09/2024
~শালী মারা যাওয়ার পর লাশের চারপাশে মহিলারা কুরআন তেলোয়াত করতেছে ।এমন সময় তার দুলাভাই এসে দাবি করল, "আমি আমার শালীকে শেষ গোসলটা করাইতে চাই"।
:
এই কথা শুনে আশেপাশের সব মানুষ ফতোয়া দেওয়া শুরু করল। তারা দুলাভাইকে বুঝিয়ে দিল,ফতোয়া কত প্রকার কি কি?
একজন তো হেব্বি গরম হয়ে বলেই ফেলল,
"মরার পরে শালীকার মুখ দেখাও নাজায়েয, আর তুই গোসল করাইতে চাস মানে?"
:
এইবার দুলাভাই বলা শুরু করল, আমার শালীকা যখন জীবিত ছিলো, তখন কতবার হাত চেপে ধরছে ৫০০ টাকার জন্য, গলা জড়িয়ে ধরছে মেলায় যাওয়ার জন্য, আমার মটর সাইকেলের পিছনে উঠার জন্য কত কি যে করেছে!
তখন সবই জায়েজ ছিলো, আর মরার সাথে সাথে মুখ দেখাও নাজায়েজ হয়ে গেল? এতদিন কোথায় ছিল আপনাদের ফতোয়া??
:
তখন একজন বড় আলেম সবাইকে বুঝিয়ে বলল,
মৃত অবস্থার তুলনায় জীবিত থাকা অবস্থাতেই দুলাভাইয়ের সামনে পর্দা মেইনটেইন করা অনেক বেশি জরুরী ছিল । দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় তার জন্য পর্দা করা ফরজ ছিল। কিন্তু আজ যদি আপনি তার কাফনের ৫ টুকরা কাপড়ের উপরে আরও ৬ টুকরা এক্সট্রা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন, তাতে কোনো লাভ হবেনা ।
:
আর মরা মানুষকে কুরআন তেলোয়াত শুনিয়ে
লাভ কি? জীবিত থাকতে কেউ যদি কুরআন মেনে চলতে না পারে, তাহলে মরার পরে কুরআনকে তাবিজ বানিয়ে তার কবরে পাঠিয়ে দিলেও বিন্দু পরিমাণ লাভ হবে না। কুরআন মরা মানুষের জন্য নাযিল হয় নাই।কুরআন নাযিল হয়েছে আমরা যারা জীবিত আছি তাদের হেদায়াতের জন্য।
:
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে দ্বীন বুঝার তৌফিক দান করুন(আমিন)।
সংগৃহীত-আল্লাহ লেখককে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুক
26/08/2024
বদর যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন যারা অস্ত্র ও সরঞ্জামের দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল।
আর কাফির বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০০ জন যারা অস্ত্র ও সরঞ্জামের দিক দিয়ে বেশ এগিয়ে ছিল।
মুসলিমদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য আল্লাহ জাল্লা শা'নুহু প্রথমে এক হাজার ফেরেশতা পাঠান।দ্বিতীয় ধাপে সেটাকে তিনগুণ বাড়িয়ে তিন হাজার ফেরেশতা পাঠান।তারপর যখন দেখেছিলেন কুর্য ইবনে জাবির এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মুশরিকদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসছে,তখন তিনি পাঁচ হাজার ফেরেশতা পাঠান।
প্রশ্ন জাগে,আল্লাহর এক একজন ফেরেশতার ক্ষমতা তো প্রচণ্ড।একজন ফেরেশতা একাই গোটা জনপদ উল্টে দিতে পারেন।যেমন লুত সম্প্রদায়ের জনপদকে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম একাই উল্টে দিয়েছিলেন।তাহলে বদরযুদ্ধে এত হাজার ফেরেশতা প্রেরণের উদ্দেশ্য কী ছিল?তাছাড়া ফেরেশতাগণ যদি যুদ্ধের জন্যই অবতীর্ণ হয়ে থাকেন,তবে ত একটা কাফিরও প্রাণ নিয়ে চলে যেতে পারতো না!
মূলত জিহাদ,সংগ্রাম/যুদ্ধ এসব মানুষের জন্য।এ কারণেই মানুষরা সাওয়াব ও উচ্চমর্যাদা লাভ করে।ফেরেশতাদের দ্বারা যুদ্ধ জয় করা উদ্দেশ্য ছিল না।বরং উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম বাহিনীকে সান্ত্বনা দেয়া,তাদের মনোবল বৃদ্ধি করা এবং বিজয়ের সুসংবাদ দেয়া।وَمَا جَعَلَہُ اللّٰہُ اِلَّا بُشۡرٰی لَکُمۡ وَلِتَطۡمَئِنَّ قُلُوۡبُکُمۡ بِہٖ- এটা তো আল্লাহ করেছেন কেবল তোমাদের সুসংবাদের জন্য এবং তোমাদের চিত্ত প্রশান্তির জন্য।
আর সাহায্য তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, যিনি মহাপরাক্রমশালী,প্রজ্ঞাময়-وَمَا النَّصۡرُ اِلَّا مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ۙ
ফেরেশতাদের দ্বারা যদি দেশজয় করা আল্লাহর ইচ্ছা হত,তবে পৃথিবীতে কাফিরদের রাষ্ট্র তো দূরের কথা,তাদের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যেত না।এ জগতের ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছা ভিন্ন;এখানে কুফর,বিদ'আত,ইবাদত ও অবাধ্যতা একসাথেই চলে।হক ও বাতিল,ন্যায় ও অন্যায় এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যের স্থান বিচারদিবসে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের মনোবল বৃদ্ধি করুক,দ্বীনের জন্য কবুল করুক।
* পাঁচ হাজার নিয়ে একটুখানি মতভেদ:- ইমাম শা'বী র.বলেন
এ ওয়াদা বাস্তবায়িত হয় নি।কারণ এ ওয়াদা ছিল শর্তসাপেক্ষে।তা হলো,কাফিররা যদি তোমাদের উপর হামলা করে-وَیَاۡتُوۡکُمۡ مِّنۡ فَوۡرِہِمۡ
যেহেতু কুর্য ইবনে জাবিরের বাহিনী আসে নি তাই এই শর্ত পাওয়া যায় নি।
কোনো কোনো আলেমের মতে, وَیَاۡتُوۡکُمۡ مِّنۡ فَوۡرِہِمۡ দ্বারা শর্তারোপ করা হয় নি।উদ্দেশ্য ছিল কেবল বক্তব্যকে জোরালো করা।
*উক্ত যুদ্ধে ১৪জন মুসলিম শহীদ হন এবং কেউই বন্দি হন নাই।
* ৭০জন কাফির নিহত হয় এবং প্রায় ৭০জন বন্দি হয়।
★আলে-ইমরান-123-127,মা'আরিফুল কুর'আন-2/263