24/07/2026
একজন সাংবাদিক লামিন ইয়ামালকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “মাত্র ১৮ বছর বয়সে স্পেন জাতীয় দলের ভার কাঁধে নিয়ে এত চাপ কীভাবে সামলাও?”
তিনি উত্তর দিয়েছিলেন:
“আমার মা আমাকে জন্ম দিয়েছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬। সেটাই আসল চাপ। আমার বাবা রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস কুড়িয়ে এনে পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতেন—ওটাই চাপ। আমার কাজ শুধু ফুটবল খেলা।”
এটাই তাঁর জীবনের আসল গল্প। অথচ অধিকাংশ মানুষ শুধু তাঁর সাফল্যের বাহ্যিক দিকটাই জানে।
তিনি জন্ম নেওয়ার আগেই তাঁর কিশোর বাবা-মা বাড়িভাড়া দিতে না পেরে সমস্যায় পড়েছিলেন। তখন দুই প্রতিবেশী—লামিন এবং ইয়ামাল—তাদের সাহায্য করেছিলেন। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর বাবা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তাঁর সন্তানের নামের সঙ্গে ওই দুজনের নাম চিরদিনের জন্য যুক্ত থাকবে। তাই তাঁর আইনগত নামই হয়ে উঠেছে এমন এক ঋণের স্মারক, যা তাঁর পরিবার অর্থ দিয়ে কখনো শোধ করতে পারেনি। আরবি ভাষায় “লামিন” অর্থ “বিশ্বস্ত”, আর “ইয়ামাল” অর্থ “সৌন্দর্য”।
যখন তাঁর বয়স প্রায় পাঁচ বছর, তখন তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তাঁর মা স্পেনের গ্রানোলিয়ার্স শহরে একটি ফাস্ট-ফুড রেস্টুরেন্টে কাজ করে তাঁকে বড় করে তোলেন।
আর একটি তথ্য আছে, যা খুব কম মানুষই জানে—সেই চাকরিটিই তাঁর ফুটবলার হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কাজের সুবাদে তাঁর মায়ের পরিচয় হয় CF La Torreta ক্লাবের যুব সমন্বয়কারীর মেয়ের সঙ্গে। সেটিই ছিল লামিনের প্রথম ফুটবল ক্লাব। যখন তাঁর মা ক্লাবের খরচ বহন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তখন সেই সমন্বয়কারী বলেছিলেন:
“ছেলেটি যদি খেলতে চায়, তাহলে টাকার অভাব কখনোই তার খেলতে না পারার কারণ হবে না।”
ছোটবেলায় লামিন তাঁর বাবা-মাকে বলেছিলেন:
“আপনারা যদি আশা করেন আমি বড় হয়ে সাধারণ কোনো চাকরি করব, তাহলে আমরা সমস্যায় আছি। কিন্তু যদি আমি ফুটবলার হতে পারি, তাহলে আপনাদের আর কোনোদিন চিন্তা করতে হবে না।”
মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি বার্সেলোনায় যোগ দেন।
আর পনেরো বছর বয়সের মধ্যেই তিনি তাঁর সেই কথার সত্যতা প্রমাণ করে ফেলেন।
প্রতিটি গোল করার পর তিনি আঙুল দিয়ে ৩০৪ দেখান। এটি ০৮৩০৪—রোকাফোন্দা এলাকার পোস্টাল কোডের শেষ তিনটি সংখ্যা। সেই রোকাফোন্দাতেই তিনি বড় হয়েছেন, আর সেখানকার কিছু মানুষ তাঁর জন্মের আগেই তাঁর পরিবারের বাড়িভাড়া পরিশোধ করে সাহায্য করেছিলেন। তাই তাঁর প্রতিটি গোল আসলে সেই মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার এক নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি।
source: x.com/aakashgupta