20/03/2026
ভ্যাট পরামর্শ কেন্দ্র
I am Bangladeshi
20/03/2026
বন্দর পতেঙ্গার নব নির্বাচিত মাননীয় এমপি জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি পতেঙ্গাবাসির এই সামান্য চাওয়া সমূহ.....
★পতেঙ্গায় একটি সরকারি হাসপাতাল কাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল দ্রুতই বাস্তবায়ন করুক।
★উচ্ছেদ হওয়া লালদিয়ার চরবাসির সন্তানদের যোগ্যতানুসারে সরকারি চাকুরির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে এই সরকার মানবিক উদাহরণ সৃষ্টি করুক।
★আমাদের পতেঙ্গার সন্তানদের খেলাধুলার মাঠ বরাদ্ধ হোক এবং ক্রীড়া ক্লাবে সহযোগীতা করুক।
★পতেঙ্গায় ওয়াসার পানি নেই এটির ব্যাবস্থা করুক।
★ফুটপাতগুলো দখল মুক্ত রেখে সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ করা হোক।
★কাটগড়+বিমানবন্দর+স্টিলমিল মোড়ে একটি করে গণসৌচাগারের ব্যবস্থা করা হোক।
—প্রচারে :- টিম পতেঙ্গা।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ অনুসারে কর রেয়াত সংক্রান্ত ধারা ২, ৪৬, ৫৫, ৬৩ এবং বিধি ৪০-এর বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ। এই আইন ও বিধিমালা বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কর্তৃক প্রণীত এবং বাস্তবায়িত। নিচে প্রতিটি ধারা ও বিধির বিবরণ দেওয়া হলো:
ধারা ২: সংজ্ঞা (Definitions)
ধারা ২-এ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন পরিভাষা ও সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা কর রেয়াতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারায় কর রেয়াতের সাথে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা হলো:
উপকরণ (Input): পণ্য বা সেবা উৎপাদন, সরবরাহ বা বিক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামাল, সেবা বা অন্যান্য উপাদান। কর রেয়াত সাধারণত উপকরণের উপর প্রদত্ত মূসকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
উপকরণ কর (Input Tax): কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক ক্রয়কৃত পণ্য বা সেবার উপর প্রদত্ত মূসক, যা রেয়াত হিসেবে দাবি করা যায়।
করযোগ্য সরবরাহ (Taxable Supply): যে সরবরাহের উপর মূসক প্রযোজ্য, এবং যার জন্য কর রেয়াত দাবি করা যায়।
শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহ (Zero-rated Supply): রপ্তানি বা নির্দিষ্ট সরবরাহ, যেখানে মূসক হার শূন্য, তবে উপকরণ কর রেয়াত দাবি করা যায়।
ধারা ২-এর এই সংজ্ঞাগুলো কর রেয়াতের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া নির্ধারণে মূল ভিত্তি প্রদান করে।
ধারা ৪৬: উপকরণ কর রেয়াত (Input Tax Credit)
ধারা ৪৬-এ উপকরণ কর রেয়াতের বিষয়ে বিস্তারিত বিধান দেওয়া হয়েছে। এই ধারা অনুসারে:
কর রেয়াতের যোগ্যতা: কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি করযোগ্য সরবরাহের জন্য ক্রয়কৃত পণ্য বা সেবার উপর প্রদত্ত মূসক রেয়াত হিসেবে দাবি করতে পারেন, যদি:
পণ্য বা সেবা করযোগ্য সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সঠিক কর চালান (Tax Invoice) বা মূসক-৬.১ ফরমে প্রাপ্ত হয়।
মূসক পরিশোধের প্রমাণ থাকে।
শর্ত: উপকরণ কর রেয়াত দাবির জন্য নিবন্ধিত ব্যক্তিকে অবশ্যই মূসক রিটার্ন (মূসক-৯.১) দাখিল করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব রক্ষণ করতে হবে।
ব্যতিক্রম: অ-করযোগ্য সরবরাহ (Non-taxable Supply) বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ক্রয়কৃত পণ্য/সেবার উপর মূসক রেয়াত হিসেবে দাবি করা যাবে না।
সংশোধন (2020-21): ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ধারা ৪৬ সংশোধন করা হয়েছে, যেখানে উপকরণ কর রেয়াতের প্রক্রিয়া আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
ধারা ৫৫: শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহে কর রেয়াত (Input Tax Credit for Zero-rated Supplies)
ধারা ৫৫-এ শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে কর রেয়াতের বিধান দেওয়া হয়েছে:
শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহ: এর মধ্যে রপ্তানি, আন্তর্জাতিক পরিবহন, এবং নির্দিষ্ট সেবা অন্তর্ভুক্ত। এই সরবরাহের উপর মূসক হার শূন্য, তবে উপকরণ কর রেয়াত দাবি করা যায়।
প্রক্রিয়া: নিবন্ধিত ব্যক্তি শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহের জন্য ক্রয়কৃত উপকরণের উপর প্রদত্ত মূসক ফেরত বা রেয়াত হিসেবে দাবি করতে পারেন। এজন্য:
রপ্তানির প্রমাণ (যেমন, Export LC, Bill of Lading) জমা দিতে হবে।
মূসক-৪.৩ (Input-Output Coefficient) ফরমে উৎপাদন সহগ দাখিল করতে হবে (রপ্তানিকারকদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা হয়েছে)।
বিশেষ বিধান: শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তনের প্রয়োজন নেই, যদি সঠিক প্রত্যয়নপত্র (যেমন, মূসক-৬.৩) প্রদান করা হয়।
ধারা ৬৩: কর ফেরত (Tax Refund)
ধারা ৬৩-এ কর ফেরত সংক্রান্ত বিধান রয়েছে, যা কর রেয়াতের সাথে সম্পর্কিত:
ফেরতের ক্ষেত্র: যদি কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তির প্রদত্ত উপকরণ কর আউটপুট করের (Output Tax) চেয়ে বেশি হয়, তবে তিনি অতিরিক্ত মূসক ফেরত দাবি করতে পারেন।
আবেদন প্রক্রিয়া: ফেরত দাবির জন্য মূসক-৯.১ রিটার্ন এবং মূসক-৪.৩ ফরমে সঠিক তথ্য দাখিল করতে হবে। ফেরত আবেদন অনলাইনে বা কাগজে জমা দেওয়া যায়।
সময়সীমা: ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধনী অনুসারে, ফেরত প্রক্রিয়ার সময়সীমা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।
শর্ত: ফেরত দাবির জন্য নিবন্ধিত ব্যক্তিকে অবশ্যই হিসাব রক্ষণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নথি (যেমন, চালানপত্র, ক্রয়-বিক্রয় রেকর্ড) জমা দিতে হবে।
বিশেষ ক্ষেত্র: রপ্তানিকারক বা শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহকারীদের জন্য ফেরত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
বিধি ৪০: উপকরণ-উৎপাদন সহগ ঘোষণা (Input-Output Coefficient Declaration)
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ৪০-এ উপকরণ-উৎপাদন সহগ ঘোষণার বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে:
উদ্দেশ্য: উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ক্রয়কৃত উপকরণের পরিমাণ এবং তা থেকে উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করা, যা কর রেয়াত দাবির জন্য প্রয়োজনীয়।
প্রক্রিয়া: নিবন্ধিত ব্যক্তিকে মূসক-৪.৩ ফরমে উপকরণ-উৎপাদন সহগ ঘোষণা করতে হবে। এই ফরমে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত উপকরণের পরিমাণ, মূসকের হিসাব এবং উৎপাদিত পণ্যের বিবরণ উল্লেখ করতে হয়।
সময়সীমা: ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধনী অনুসারে, সহগ ঘোষণার জন্য সময়সীমা ৭ কার্যদিবস থেকে বাড়িয়ে ১৫ কার্যদিবস করা হয়েছে।
রপ্তানিকারকদের জন্য: রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য সহগ ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে।
ব্যতিক্রম: অব্যবহৃত বা ব্যবহারের অনুপযোগী উপকরণের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মূসক-১৮.৭ ফরমে বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে।
কর রেয়াতের সাধারণ শর্ত ও প্রক্রিয়া
নিবন্ধন: কর রেয়াত দাবির জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে নিবন্ধিত হতে হবে।
চালানপত্র: সঠিক মূসক চালানপত্র (মূসক-৬.১) এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করতে হবে।
রিটার্ন দাখিল: মূসক-৯.১ ফরমে নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহ: রপ্তানি বা শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র (যেমন, মূসক-৬.৩) জমা দিতে হবে।
হিসাব রক্ষণ: সঠিক হিসাব রক্ষণ এবং নিরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
আইন ও বিধিমালার আপডেট: মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং বিধিমালা, ২০১৬ সময়ে সময়ে সংশোধিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ধারা ৪৬, ৫৫, এবং বিধি ৪০-এর কিছু বিধান সংশোধিত হয়েছে।
উৎসে মূসক কর্তন: ধারা ২১ অনুসারে, শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তনের প্রয়োজন নেই, যদি মূসক-৬.৩ ফরমে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়।
ডকুমেন্টেশন: কর রেয়াত দাবির জন্য সঠিক ডকুমেন্টেশন (যেমন, মূসক-৪.৩, মূসক-৬.১, মূসক-৯.১) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ ১: উৎপাদনকারীর জন্য উপকরণ কর রেয়াত (ধারা ৪৬)
পরিস্থিতি: মেসার্স এবিসি লিমিটেড একটি নিবন্ধিত গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক কোম্পানি। তারা একটি মাসে ১০ লক্ষ টাকার কাঁচামাল (যেমন, কাপড়, সুতা) ক্রয় করে, যার উপর ১৫% মূসক প্রযোজ্য। তারা এই কাঁচামাল ব্যবহার করে ২০ লক্ষ টাকার পোশাক উৎপাদন করে, যার উপর ১৫% মূসক আরোপিত হয়।
হিসাব:
উপকরণ কর (Input Tax): কাঁচামালের মূল্য ১০,০০,০০০ টাকা × ১৫% = ১,৫০,০০০ টাকা।
আউটপুট কর (Output Tax): উৎপাদিত পোশাকের মূল্য ২০,০০,০০০ টাকা × ১৫% = ৩,০০,০০০ টাকা।
কর রেয়াত (ধারা ৪৬): এবিসি লিমিটেড উপকরণ কর (১,৫০,০০০ টাকা) রেয়াত হিসেবে দাবি করতে পারবে, কারণ এটি করযোগ্য সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রদেয় মূসক: আউটপুট কর (৩,০০,০০০) - উপকরণ কর (১,৫০,০০০) = ১,৫০,০০০ টাকা।
প্রয়োজনীয় শর্ত:
এবিসি লিমিটেডের কাছে কাঁচামাল ক্রয়ের সঠিক মূসক চালান (মূসক-৬.১) থাকতে হবে।
তাদের মূসক-৯.১ রিটার্নে এই হিসাব জমা দিতে হবে।
হিসাব রক্ষণ এবং নিরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
উদাহরণ ২: শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহে কর রেয়াত (ধারা ৫৫)
পরিস্থিতি: মেসার্স এক্সওয়াইজেড এক্সপোর্ট লিমিটেড একটি রপ্তানিমুখী কোম্পানি, যারা ৫০ লক্ষ টাকার তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানি করে। তারা উৎপাদনের জন্য ৩০ লক্ষ টাকার কাঁচামাল ক্রয় করে, যার উপর ১৫% মূসক প্রদান করে।
হিসাব:
উপকরণ কর (Input Tax): কাঁচামালের মূল্য ৩০,০০,০০০ টাকা × ১৫% = ৪,৫০,০০০ টাকা।
আউটপুট কর (Output Tax): রপ্তানি শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহ হওয়ায় মূসক হার ০%, অর্থাৎ আউটপুট কর = ০ টাকা।
কর রেয়াত (ধারা ৫৫): এক্সওয়াইজেড এক্সপোর্ট লিমিটেড সম্পূর্ণ উপকরণ কর (৪,৫০,০০০ টাকা) ফেরত বা রেয়াত হিসেবে দাবি করতে পারবে।
প্রয়োজনীয় শর্ত:
রপ্তানির প্রমাণ হিসেবে বিল অব লেডিং, এক্সপোর্ট এলসি, এবং মূসক-৬.৩ প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
মূসক-৪.৩ ফরমে উপকরণ-উৎপাদন সহগ ঘোষণা করতে হবে (তবে রপ্তানিকারকদের জন্য এই শর্ত কিছু ক্ষেত্রে শিথিল)।
মূসক-৯.১ রিটার্নে ফেরত দাবি উল্লেখ করতে হবে।
উদাহরণ ৩: কর ফেরত (ধারা ৬৩)
পরিস্থিতি: মেসার্স ডিইএফ ইন্ডাস্ট্রিজ একটি নিবন্ধিত কোম্পানি, যারা একটি মাসে ২০ লক্ষ টাকার পণ্য বিক্রি করে, যার উপর ১৫% মূসক প্রযোজ্য। তারা উৎপাদনের জন্য ২৫ লক্ষ টাকার কাঁচামাল ক্রয় করে, যার উপর ১৫% মূসক প্রদান করে।
হিসাব:
উপকরণ কর (Input Tax): কাঁচামালের মূল্য ২৫,০০,০০০ টাকা × ১৫% = ৩,৭৫,০০০ টাকা।
আউটপুট কর (Output Tax): বিক্রির মূল্য ২০,০০,০০০ টাকা × ১৫% = ৩,০০,০০০ টাকা।
কর ফেরত (ধারা ৬৩): উপকরণ কর (৩,৭৫,০০০) > আউটপুট কর (৩,০০,০০০)। তাই, অতিরিক্ত মূসক (৩,৭৫,০০০ - ৩,০০,০০০ = ৭৫,০০০ টাকা) ফেরত দাবি করা যাবে।
প্রয়োজনীয় শর্ত:
মূসক-৯.১ রিটার্নে ফেরত দাবি উল্লেখ করতে হবে।
ক্রয়-বিক্রয়ের সঠিক নথি (মূসক-৬.১, হিসাব বই) জমা দিতে হবে।
ফেরত আবেদন ১২০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া করা হবে।
উদাহরণ ৪: উপকরণ-উৎপাদন সহগ ঘোষণা (বিধি ৪০)
পরিস্থিতি: মেসার্স জিকিউআর ফুড প্রোডাক্টস একটি নিবন্ধিত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি। তারা ১০০০ কেজি গম (মূল্য ৫ লক্ষ টাকা, ৫% মূসক) ক্রয় করে ৮০০ কেজি আটা উৎপাদন করে, যার বাজার মূল্য ৮ লক্ষ টাকা এবং মূসক হার ৫%।
হিসাব:
উপকরণ কর: গমের মূল্য ৫,০০,০০০ টাকা × ৫% = ২৫,০০০ টাকা।
আউটপুট কর: আটার মূল্য ৮,০০,০০০ টাকা × ৫% = ৪০,০০০ টাকা।
কর রেয়াত: উপকরণ কর (২৫,০০০ টাকা) রেয়াত হিসেবে দাবি করা যাবে।
প্রদেয় মূসক: ৪০,০০০ - ২৫,০০০ = ১৫,০০০ টাকা।
বিধি ৪০ অনুসারে: জিকিউআর ফুড প্রোডাক্টসকে মূসক-৪.৩ ফরমে উপকরণ (১০০০ কেজি গম) এবং উৎপাদন (৮০০ কেজি আটা) সহগ ঘোষণা করতে হবে। এটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় শর্ত:
সঠিক মূসক চালান এবং হিসাব রক্ষণ।
মূসক-৪.৩ ফরমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিবরণ উল্লেখ করতে হবে।
উদাহরণ ৫: অ-করযোগ্য সরবরাহে কর রেয়াত (ধারা ৪৬-এর ব্যতিক্রম)
পরিস্থিতি: মেসার্স পিকেএল ট্রেডিং একটি নিবন্ধিত কোম্পানি, যারা করযোগ্য পণ্য (১০ লক্ষ টাকা) এবং অ-করযোগ্য পণ্য (৫ লক্ষ টাকা) উভয়ই বিক্রি করে। তারা ১২ লক্ষ টাকার কাঁচামাল ক্রয় করে, যার উপর ১৫% মূসক প্রদান করে।
হিসাব:
উপকরণ কর: কাঁচামালের মূল্য ১২,০০,০০০ টাকা × ১৫% = ১,৮০,০০০ টাকা।
করযোগ্য সরবরাহের অনুপাত: মোট বিক্রির মধ্যে করযোগ্য সরবরাহ = ১০,০০,০০০ ÷ (১০,০০,০০০ + ৫,০০,০০০) = ৬৬.৬৭%।
রেয়াতযোগ্য উপকরণ কর: ১,৮০,০০০ × ৬৬.৬৭% = ১,২০,০০০ টাকা।
আউটপুট কর: ১০,০০,০০০ × ১৫% = ১,৫০,০০০ টাকা।
প্রদেয় মূসক: ১,৫০,০০০ - ১,২০,০০০ = ৩০,০০০ টাকা।
প্রয়োজনীয় শর্ত:
অ-করযোগ্য সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত উপকরণের মূসক (১,৮০,০০০ × ৩৩.৩৩% = ৬০,০০০ টাকা) রেয়াত হিসেবে দাবি করা যাবে না।
মূসক-৯.১ রিটার্নে এই অনুপাত উল্লেখ করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
প্রতিটি উদাহরণে নিবন্ধিত ব্যক্তিকে অবশ্যই সঠিক মূসক চালান, হিসাব বই এবং রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
শূন্য হার বিশিষ্ট সরবরাহ (যেমন, রপ্তানি) এবং ফেরত দাবির ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিধি ৪০ অনুসারে, উৎপাদন সহগ ঘোষণা না করলে কর রেয়াত বা ফেরত বাতিল হতে পারে।
যদি আপনি কোনো নির্দিষ্ট শিল্প (যেমন, গার্মেন্টস, খাদ্য, বা সেবা) বা পরিস্থিতির জন্য আরও উদাহরণ চান, তাহলে বিস্তারিত জানান, আমি আরও নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে পারব।
আপনার ভ্যাট রিটার্ন করতে সমস্যা হচ্ছে? আজই কল করুন। সময় প্রতিদিনঃ সন্ধ্যা-৭ টা হতে রাত ১০ টা পর্যন্ত।
মোবাইলঃ ০১৮১৮২৪৬৫৫০
অনিয়মিতভাবে রেয়াত গ্রহণের শাস্তি:
ধারা ৭৩ এর উপ-ধারা (৫) মোতাবেক দাখিলপত্র পরীক্ষায় উপকরণ কর রেয়াত বা হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণের অনিয়ম উদ্ঘাটিত হলে সহকারী কমিশনারের নিম্নে নহেন এমন কর্মকর্তা কর নির্ধারণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ধারা ৮৫ মোতাবেক অন্যৃুন অর্ধেক ও অনুষ্ঠা সমপরিমান জরিমানা হতে পারে।
অটোমেটেড চালানের (এ-চালান) কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট অনুবিভাগের রাজস্ব আহরণের জন্যে নতুন অর্থনৈতিক কোড যা গত ১ অক্টোবর থেকে চালু করা হয়েছে।
"এ চালান হলো অটোমেটেড চালান" । পূর্বের ফরমটি বাতিল করা হয়েছে।
Google এ A challan লিখে সার্চ দিন, তাহলে Automated Challan System- iBAS লিংক আসবে, সেখানে রেজিস্ট্রেশন করে বা না করেই আপনি চালান তৈরির পেইজ এ যেতে পারবেন। এখানে "এনবিআর এর জমা" তে ক্লিক করলে মূসক অপশন পাবেন, সেখানে বিআইএন নাম্বার দিন এবং "দেশজ পণ্য ও সেবার ওপর মূসক" সিলেক্ট করুন, টাকার পরিমাণ লিখে OK দিন।
ক্রমিক নং ৩ এ 'যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ জমা দেয়া হচ্ছে :' এতে "প্রতিষ্ঠান/সংস্থা" তে ক্লিক করুন, এখানে টিআইন, বিআইএন বা কোনো লিগ্যাল ডক্যুমেন্ট এর তথ্য দিতে পারেন।
যার মাধ্যমে প্রদত্ত হচ্ছে - এখানে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, টিআইএন বা অন্যান্য (সনাক্তকরণ নাম্বার) দিতে হবে।
বিআইএন দিয়ে তথ্য পূরণ করলে মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল আইডি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানে থাকবে।
অর্থ পরিশোধের ধরণ নির্বাচন- এখানে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট ও ব্যাংক কাউন্টারে জমা অপশন পাবেন, সুবিধাজনক পদ্ধতিতে আপনি চালান জমা দিবেন।
সবার নিচে মন্তব্য লেখার জন্য একটা ঘর রয়েছে, এখানে টাকা পরিশোধের কারন লিখে দিতে পারবেন।
শেষে Save করুন এবং পিডিএফ ফাইল প্রিন্ট দিতে পারবেন।
নিবন্ধিত ব্যক্তির আগাম কর ফেরত নেয়ার জন্য করনীয়:
নিবন্ধিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দাখিলপত্রের মাধ্যমে নোট-৩০ এবং সংশ্লিষ্ট সাব-ফর্ম পূরণ করে আমদানির পরবর্তী চারটি কর মেয়াদের মধ্যে হ্রাসকারী সমন্বয় করতে পারবেন। অতঃপর তার মাসিক নীট প্রদেয় হতে সমন্বয় করতে না পারলে, দাখিলপত্রের ফেরতের অংশে ফেরত নিতে ইচ্ছুক এর সামনের বক্সে হ্যাঁ টিক চিহ্নের মাধ্যমে এবং নোট ৬৭ ও ৬৮ তে ফেরতের পরিমাণ উল্লেখ করে ছয় কর মেয়াদ পরে বা ক্ষেত্রমত এক কর মেয়াদ পরে তা ফেরত পেতে পারেন। ৫০ শতাংশের বেশি রপ্তানি এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে এক কর মেয়াদ পরেই তা ফেরত পেতে পারেন, অন্যথায়, ছয় কর মেয়াদ জের টানার পর যদি ৫০ হাজারের বেশি জের থাকে যার ছয় কর মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে, তবেই তিনি সে অর্থ দাখিলপত্রের মাধ্যমে আবেদন করে ফেরত পেতে পারেন
27/07/2023
প্রশ্ন ও উত্তর ঃ সম্পূরক শুল্ক আরোপ ও আদায় (ধারা-৫৫ হতে ৬২ এবং বিধি-৪৫) সংক্ষিপ্ত আলোচনা
১) সম্পূরক শুল্ক আরোপিত এবং প্রদেয় হবে কখন?
উত্তর: সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য আমদানির উপর, বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য সরবরাহের উপর এবং বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য সেবা সরবরাহের
২) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা সরবরাহের উপর কয়টিপর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক প্রদেয় হইবে?
উত্তর: কেবলমাত্র একটি।
৩) সম্পূরক শুল্ক (SD) কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
উত্তর: মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৫৫ অনুযায়ী ২য় তফসিলে যে সব পণ্য এবং সেবা বর্ণিত রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য।
৪) সম্পূরক শুল্ক পরিশোধে দায়ী ব্যক্তি কে?
উত্তর: পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারক, বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সরবরাহকারী, সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে ভিন্নরূপ নির্ধারিত না থাকলে সেবা সরবরাহকারী।
৫) আমদানিকৃত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে কিভাবে SD হিসাব করা হয়?
উত্তর: কাস্টমস আইনের ধারা ২৫ বা ধারা ২৫(ক) এর অধীন আমদানি শুল্ক আরোপণীয় মূল্যের সাথে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি এবং অন্যান্য শুল্ক (যদি থাকে) যোগ করে যে মূল্য হয় সেই মূল্য।
৬) রপ্তানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সমন্বয়ের জন্য কার কাছে আবেদন করবে?
উত্তর: কমিশনার বরাবর।
৭) রপ্তানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সমন্বয়ের জন্য কখন আবেদন করবে?
উত্তর: যেই তারিখে পণ্যটি রপ্তানি করা হয়েছে অথবা কোনো জাহাজ, উড়োজাহাজ বা অন্যকোনো যানে রপ্তানির লক্ষ্যে বোঝাই করা হয়েছে উক্ত তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে নিবন্ধিত ব্যক্তিকে হ্রাসকারী সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে আবেদন করতে হবে।
৮) রপ্তানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সমন্বয়ের জন্য কোন ফরম এ আবেদন করবে?
উত্তর: ফরম-৭.১।
৯) রপ্তানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সমন্বয়ের জন্য আবেদন প্রাপ্তির কত দিনের মধ্যে কমিশনার উক্ত আবেদনের উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন?
উত্তর: ১৫ (পনের) দিনের।
১০) সম্পূরক শুল্কের হার কোন তফসিলে বিবৃত আছে এবং স্তর কয়টি?
উত্তর: ২য় তফসিলে বিবৃত আছে। হারসমূহ হলো- ০%, ৫%, ১০%, ১৫%, ২০%, ২৫%, ৩০%, ৩৫%, ৪০%, ৪৫%, ৫৫%, ৬০%, ৬৫%, ১০০%, ১৫০%, ২০০%, ২৫০%, ৩০০%, ৩৫০%, ৫০০%।
25/07/2023
আলোচনা: ধারাঃ১২১ঃ কমিশনার(আপীল) এর নিকট আপীল----
রাজস্ব কর্মকর্তা থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত কোন কর্মকর্তার কোন আদেশে কোন করদাতা বা মূসক কর্মকর্তা সংক্ষুব্ধ। হলে তাকে আদেশ জারির ৯০ দিনের মধ্যে কমিশনার (আপিল) বরাবর আপিল করতে হয়। তবে আপিলকারী কর্তৃক যুক্তিসঙ্গত কার থাকলে কমিশনার (আপিল) আপিল করার জন্য ৬০ দিন সময় বৃদ্ধি করতে পারেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কর্তৃক (মূসক কর্মকর্তা ব্যতিত) আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে তর্কিত আদেশে উল্লিখিত দাবিকৃত করের ২০ শতাংশ পরিমাণ (জরিমানা ব্যতিত) অর্থ পরিশোধ করে আি করতে হয়। বিধি ৯৮ অনুযায়ী কমিশনার (আপিল) আবেদন পাওয়ার পর ৭ দিনের মধ্যে শুনানির তারিখ ঘোষণা করেন। উভয় পক্ষরে যথাযথ শুনানির সুযোগ প্রদান করেন এবং ১ বছরের মধ্যে আপিল কার্যক্রম নিষ্পত্তি করেন। কমিশনার (আপিল) ১ বছরের মধ্যে আি নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে আপিলটি কমিশনার (আপিল) কর্তৃক মঞ্জুর হয়েছে বলে গণ্য হয়।
ভ্যাট আইনের ধারা ৯৫ অনুযায়ী বকেয়া কর আদায়ের লক্ষ্যে কোন বকেয়া কর পরিশোধের আদেশ বা পণ্য বা সেবা সরবরাহ বন্ধের আদেশ বা বিআইএন লক বা ব্যাংক হিসাব অপরিচালনযোগ্য বা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক বা জন্ম করার আদেশের বিপরীতে আপিল দায়ের করা যায় না। এছাড়াও কাস্টমস আইন এর ধারা ৮২ অনুযায়ী পণ্য নামানোর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহা খালস অথবা ওয়্যারহাউসিং অথবা ট্রানশিপ না করা হলে উক্ত পণ্য নিলামে বিক্রয়ের লক্ষ্যে নোটিশ জারি করা হয় এবং ধারা ৯৮ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ওয়্যারহাউসে পণা সংরক্ষিত রাখার পর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে উক্ত পণ্যের উপর শুল্ক-কর দাবি করা হয়। এক্ষেত্রে নিলামের নোটিশ এবং শুল্ক-কর দাবির নোটিশের বিপরীতে কোন আপিল দায়ের করা যায় না।
সৌজন্য ঃ আসিফ আহমেদ স্যার
22/07/2023
মূল্যসংযোজন কর এর ধারাঃ ৪০ ও বিধি-২০
ধারা-৪০। কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দ্রব্যের মাধ্যমে প্রদত্ত সুবিধার মূল্য।―
(১) কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি তাহার কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দ্রব্যের মাধ্যমে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা হিসাবে যে পণ্য সরবরাহ করেন উহা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক তাহার কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে পণবিহীন বা ন্যায্য বাজার মূল্য অপেক্ষা কম মূল্যে সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে উহার মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের ন্যায্য বাজার মূল্য।
বিধি-২০। পণবিহীন করযোগ্য সরবরাহের মূল্য নির্ধারণ।–
(১) ধারা ৩২ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন সরবরাহের ক্ষেত্রে, কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি কোনো অর্থ বৎসরে নমুনা হিসাবে সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) হাজার টাকা মূল্য মানের সরবরাহ প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি একটি অর্থ বৎসরে এক বা একাধিক সরবরাহের মাধ্যমে উক্ত উপ-বিধিতে বর্ণিত অর্থের নমুনা শূন্য পণ হিসেবে প্রদর্শন করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত অর্থ ন্যায্য বাজার মূল্য দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
4202