Hasnabad Ahsanul Ulum Islamia Alim Madrasah, Fatikchhari

Hasnabad Ahsanul Ulum Islamia Alim Madrasah, Fatikchhari

Share

স্থাপিত : ১৯৬৬ ইং, মাদরাসা কোড : ১৯৫৭৩, EIIN : 104359

14/05/2026

সূরা আল-হাশরের শেষ ৩ আয়াত (আয়াত ২২-২৪) পবিত্র কুরআনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে আল্লাহ তা‘আলা নিজের অনেক সুন্দর গুণবাচক নাম (আসমাউল হুসনা) একসাথে উল্লেখ করেছেন। এই আয়াতগুলো নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর স্মরণ বাড়ে, হৃদয় শান্ত হয় এবং বিশেষ ফজিলত লাভ হয়।

প্রথমে আয়াতগুলো আরবি, উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ দেখে নিন:

✅ আয়াত ২২:
هُوَ اللّٰهُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَ الشَّهَادَۃِ ۚ هُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِیۡمُ
উচ্চারণ: হুওয়াল্লা-হুল্লাজী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়া, ‘আলিমুল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি, হুওয়ার রাহমা-নুর রাহীম।

অর্থ: তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্যিকারের উপাস্য নেই। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞানী। তিনি পরম করুণাময়, অত্যন্ত দয়ালু।

✅ আয়াত ২৩:
هُوَ اللّٰهُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۙ الۡمَلِكُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُهَیۡمِنُ الۡعَزِیۡزُ الۡجَبَّارُ الۡمُتَكَبِّرُ ۚ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا یُشۡرِكُوۡنَ
উচ্চারণ: হুওয়াল্লা-হুল্লাজী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল মালিকুল কুদ্দূসুস সালা-মুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আজীজুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বির। সুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা ইউশরিকূন।

অর্থ: তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্যিকারের উপাস্য নেই। তিনি মালিক, পবিত্র, শান্তি দাতা, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল, অত্যন্ত মহান। আল্লাহ পবিত্র, মুশরিকরা যা শরীক করে তা থেকে।

✅ আয়াত ২৪:
هُوَ اللّٰهُ الۡخَالِقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى ۚ یُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ۚ وَ هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَكِیۡمُ
উচ্চারণ: হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুসাওয়ির। লাহুল আসমা-উল হুসনা। ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়া হুওয়াল ‘আজীজুল হাকীম।

অর্থ: তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদাতা। তাঁর জন্যই সুন্দরতম নামসমূহ। আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

➡️ এই ৩ আয়াতের ৬টি বিশেষ ফজিলত (যা জানলে নিয়মিত পড়া ছাড়তে পারবেন না)

▪️ফজিলত ১: ৭০ হাজার ফেরেশতা আপনার জন্য দোয়া করবেন
রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে এই আমল করে, আল্লাহ তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিয়োগ করেন। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাত (গুনাহ মাফ) ও রহমতের দোয়া করতে থাকেন। সন্ধ্যায় পড়লে সকাল পর্যন্ত একই ফজিলত।

▪️ফজিলত ২: সকাল থেকে সন্ধ্যা (বা সন্ধ্যা থেকে সকাল) পর্যন্ত আল্লাহর পূর্ণ হিফাজত
এই আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে সারাদিন বা সারারাত শয়তান, বিপদ-আপদ, দুর্ঘটনা ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন।

▪️ফজিলত ৩: সেদিন মারা গেলে শাহাদাতের (শহীদের) মর্যাদা
যদি সকালে আমল করে সেদিন মৃত্যু হয়, অথবা সন্ধ্যায় আমল করে রাতে মৃত্যু হয়—তাহলে সে শহীদের মর্যাদা লাভ করে।

▪️ফজিলত ৪: শয়তান থেকে বিশেষ হিফাজত
আমল শুরুতে তিনবার “আউযুবিল্লাহিস সামীইল আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম” পড়ার কারণে শয়তান আপনার কাছে আসতে পারে না। আল্লাহর দুটি নাম (সামী‘ ও আলীম) উল্লেখ করে শয়তানকে দূরে রাখা হয়।

▪️ফজিলত ৫: গুনাহ মাফ ও কবরের আজাব থেকে মুক্তি
নিয়মিত আমল করলে আল্লাহ গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন এবং কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন। ফেরেশতারা কবরে সালাম দিয়ে জান্নাতের দরজা খুলে দেন।

▪️ফজিলত ৬: হৃদয়ে ঈমানের প্রশান্তি ও আল্লাহর নৈকট্য
এই আয়াতগুলোতে আল্লাহর গুণাবলি পড়ে হৃদয় শান্ত হয়, তাকওয়া বাড়ে এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত হয়। এটি ইসলামের মূল বিশ্বাস (তাওহীদ) আরও গভীর করে।

➡️ আমলের সহজ নিয়ম (প্রসিদ্ধ অনুসারে)

▪️সকালে: ঘুম থেকে উঠে তিন বার "আউযুবিল্লাহিস সামীইল আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম” বলুন, তারপর এই ৩ আয়াত পড়ুন।

▪️সন্ধ্যায়: মাগরিবের পর একইভাবে পড়ুন।

▪️ফজর ও মাগরিবের নামাজের পরও পড়া যায়।

এই আয়াতগুলো পড়তে মাত্র ১-২ মিনিট লাগে, কিন্তু ফজিলত অপরিসীম। যারা নিয়মিত আমল করেন, তারা বলেন—হৃদয়ে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব হয়।

সতর্কতা: হাদিসের সনদ নিয়ে কিছু আলেমের মতভেদ আছে। তাই সতর্কতার সাথে আমল করুন এবং বিশ্বস্ত আলেমের সাথে পরামর্শ নিন। তবে আল্লাহর গুণাবলি স্মরণ করা তো সবসময়ই উত্তম আমল।

Photos from Hasnabad Ahsanul Ulum Islamia Alim Madrasah, Fatikchhari's post 14/04/2026

নববর্ষ ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।

13/04/2026

আগামী ১৯ এপ্রিল আমাদের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য দোয়া মাহফিল। দীর্ঘ শিক্ষা জীবনের একটি বড় ধাপের সামনে দাঁড়িয়ে আজ তারা। পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন সবার পরিশ্রমের সার্থক ফল দান করেন এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পথ সহজ করে দেন। সবার জন্য অনেক অনেক দোয়া ও শুভকামনা।

07/04/2026

পরীক্ষায় দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে স্কেল ব্যবহারের কিছু স্মার্ট টেকনিক নিচে দেওয়া হলো, যা আপনার সময় বাঁচাবে:

১. স্কেলের নিচে রাবার ব্যান্ড বা কুইক গ্রিপ

স্কেলের দুই মাথায় দুটি চিকন রাবার ব্যান্ড পেঁচিয়ে রাখুন। এতে স্কেল খাতার ওপর পিছলে যাবে না (Non-slip)। ফলে একবার বসিয়েই দ্রুত দাগ টানা যাবে, বারবার ঠিক করতে হবে না।

২. এক টানে মার্জিন (দুই আঙুলের ব্যবহার)

খাতার বাম পাশে স্কেল বসিয়ে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে স্কেলের দুই প্রান্ত চেপে ধরুন। মাঝখানে চাপ দিলে স্কেল নড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এক টানে মার্জিন টানার অভ্যাস করুন, বারবার ঘষবেন না।

৩. পেন্সিল বা কলমের পজিশন

দাগ টানার সময় কলম বা পেন্সিলকে স্কেলের দিকে সামান্য হেলিয়ে ধরুন। কলম একদম খাড়া রাখলে স্কেলের নিচে কালি ঢুকে খাতা নষ্ট হতে পারে (Smudging)।

৪. বিন্দু দিয়ে সীমানা নির্ধারণ

বড় দাগ টানার আগে স্কেল বসিয়ে শুরু এবং শেষ মাথায় দুটি হালকা বিন্দু দিয়ে নিন। এতে স্কেল সরানোর ভয় থাকে না এবং দাগ একদম সোজা হয়।

৫. স্বচ্ছ বা ট্রান্সপারেন্ট স্কেল ব্যবহার

সব সময় স্বচ্ছ প্লাস্টিকের স্কেল ব্যবহার করুন। এতে স্কেলের নিচের লেখা বা আগের টানা দাগ দেখা যায়, ফলে সমান্তরাল দাগ টানা অনেক সহজ ও দ্রুত হয়।

৬. অতিরিক্ত স্কেল সাথে রাখা

সময় বাঁচাতে একটি ১২ ইঞ্চি (বড়) এবং একটি ৬ ইঞ্চি (ছোট) স্কেল রাখুন। ছোট বক্স বা চিত্র আঁকার সময় ছোট স্কেল ব্যবহার করলে হাত দ্রুত চলে।

৭. স্কেল না ঘুরিয়ে খাতা ঘোরানো

অনেক সময় স্কেল বারবার ডানে-বামে ঘুরাতে সময় নষ্ট হয়। তার চেয়ে স্কেল এক জায়গায় রেখে সুবিধামতো খাতা ঘুরিয়ে দাগ টানুন, এটি অনেক দ্রুত কাজ করে।

প্রো-টিপ: জ্যামিতি বা গ্রাফের ক্ষেত্রে পেন্সিল সার্প বা শার্প রাখুন। ভোঁতা পেন্সিলে দাগ টানলে নিখুঁত হয় না এবং বারবার মুছতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়।

Photos from Hasnabad Ahsanul Ulum Islamia Alim Madrasah, Fatikchhari's post 06/04/2026

📢 দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম: আপনার সচেতনতাই শিশুর সুরক্ষা!
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, তাই একে অবহেলা নয়। আজই পদক্ষেপ নিন। লক্ষণ চিনুন, সতর্ক থাকুন এবং টিকা নিশ্চিত করুন। 🛡️

আপনার হাতেই আপনার শিশুর নিরাপত্তা। সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন। ✨

26/03/2026

হাসনাবাদ আহসানুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও পুষ্পস্তবক প্রদান।

26/03/2026

২৬শে মার্চ—আমাদের গর্ব, আমাদের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তির সংগ্রামে। ২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদে এই দিন থেকেই শুরু হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। লাখো শহীদের রক্ত আর মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই লাল-সবুজ পতাকা আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। আজ সেই বীর সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি, যাঁদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন মানচিত্র।
শুভ স্বাধীনতা দিবস! 🇧🇩

22/03/2026

হাসনাবাদ আহসানুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার প্রিয় সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
শুরুতে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ এর ঈদ মোবারক।ও শুভেচ্ছা। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন য, ২০২৬ সাল থেকে হাসনাবাদ আহছানুল উলুম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক বিজ্ঞান বিভাগ এবং আলিম পাঠদান অনুমতি লাভ করে এবং তার সাথে হেফজখানা ও এতিমখানা চালু করা হয়েছে।
তাই সকল সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আজ ২২/০৩/২০২৬ইং, রোজ: রবিবার, বাদে আছর, নতুন ভবনের চার তলা হল রুমে এক পরামর্শ সভা ও ঈদ পুর্ণমিলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এতে সকল সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পরামর্শ আন্তরিকভাবে কামনা করছি।

বিনীত নিবেদক
অধ্যক্ষ
অত্র মাদরাসা।

20/03/2026

ত্যাগ-তাকওয়া আর সংযমের শিক্ষা দিয়ে বিদায় নিয়েছে পবিত্র মাহে রামাদান। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর বিশ্বজনীন ঐক্য, সংহতি, সহমর্মিতা এবং অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর।

প্রতিটি ঘরে প্রতিটি পরিবারে ঈদ আনন্দ পৌঁছে যাক সকলের তরে। আসুন আমরা রামাদানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একে অপরের সঙ্গে পবিত্র ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই।

ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

20/03/2026

ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম

۞ ঈদের নামাজের নিয়ত:
‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকয়াতাই সালাতি ঈদিল ফিতর, মা'আ ছিত্তাতি তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা ইকতাদাইতু বিহাযাল ইমাম, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।’
অর্থ: ঈদের দুই রাকাআত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি- 'আল্লাহু আকবার'।

۞ ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম:
‌► ঈমামের সঙ্গে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে উভয় হাত বাঁধা।
► তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়া।
► এরপর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেওয়া।
► এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকা।
► প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া।
► তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হয়।
► আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া
► সুরা ফাতেহা পড়া
► সুরা মিলানো। এরপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করা।

◎ দ্বিতীয় রাকাত
► বিসমিল্লাহ পড়া।
► সুরা ফাতেহা পড়া।
► সুরা মিলানো।
► সুরা মিলানোর পর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেওয়া।
► প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া।
► তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হয়।
► এরপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাওয়া।
► সেজদা আদায় করে
► বৈঠকে বসা; তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।
► নামাজের সালাম ফেরানোর পর তাকবির পড়া-
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد
উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
► নামাজের পর ইমাম সাহেবের দুইটি খুতবা দেওয়া।

Photos from Hasnabad Ahsanul Ulum Islamia Alim Madrasah, Fatikchhari's post 08/03/2026

রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ফিতরা দিন : জনপ্রতি ১১০-২৮০৫ টাকা

দ্বিতীয় হিজরিতে উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের ‘সাদাকাতুল ফিতর’ আদায় করার নির্দেশ দেন, একে সাধারণত রোজার ‘ফিতরা’ বলা হয়। এটা মূলত মাহে রমজানেরই নির্ধারিত সাদকা বা দান। শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাস শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন উপলক্ষে মাথাপিছু যে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সাহায্য গরিব- মিসকিনদের সাদকা করা হয়, একে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বলে। রোজা পালনে বা সিয়াম সাধনায় অত্যন্ত সতর্কতা সত্ত্বেও যেসব ত্রুটি- বিচ্যুতি হয়, তার প্রতিকার ও প্রতিবিধান বা ক্ষতিপূরণের জন্য রমজান মাসের শেষে সাদাকাতুল ফিতরকে ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে। নাবালক ছেলেমেয়ের পক্ষ থেকে বাবাকে এই ফিতরা দিতে হয়। আর তা দিতে হয় ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই।

বাংলাদেশে এবার ঈদুল ফিতরে সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় পণ্য আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামী শরীয়াহ মতে আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যব ইত্যাদি পণ্যগুলোর যে কোনো একটির মাধ্যমে ফিতরা প্রদান করা যায়। উন্নত মানের গম বা আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা দিতে হবে। যব দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা, কিশমিশ দিয়ে করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২৬৪০ টাকা, খেজুর দিয়ে করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২৪৭৫ টাকা, পনির দিয়ে করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২৮০৫ টাকা ফিতরা দিতে হবে। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত গম, আটা, যব, কিশমিশ, খেজুর ও পনিরের বাজার মূল্যের ভিত্তিতে এ ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফিতরা বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো :
যার ওপর জাকাত ওয়াজিব, তার ওপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। এমনিভাবে যে সকল লোকদের ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়, কিন্তু প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের বাইরে এতটুকু সম্পদ তার আছে, যার মূল্য নিসাব পরিমাণ, এমন ব্যক্তির ওপরও সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব।

★ ফিতরা যাদের পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে: সাদকায়ে ফিতর নিজের পক্ষ থেকে, নিজের নাবালেগ বাচ্চার পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব। যদি সে নিসাব পরিমাণ মালের মালিক না হয়। নিজের মালিকাধীন ক্রীতদাসের ফিতরা আদায় করাও ওয়াজিব। তাছাড়া মা, বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রীর পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় ওয়াজিব নয়। তবে যদি আদায় করা হয় তবে তা আদায় হয়ে যাবে।

★ নাবালেগ ও পাগলের ফিতরা : সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া শর্ত নয়। বরং যে ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হবে, তার ওপর সাদকায়ে ফিতর আদায় ওয়াজিব। সুতরাং কোনো অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা পাগল যদি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, তাহলে তার ওপর সাদকায়ে ফিতরা ওয়াজিব। এ সাদকায়ে ফিতরা তার অভিভাবক তার মাল থেকে আদায় করে দেবে। যদি অভিভাবক আদায় না করে তবে পাগল ভালো হওয়ার পর এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ফিতরা আদায় করবে।

★ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ফিতরা : অতিরিক্ত সামানপত্র বিক্রয়লব্ধ অর্থ দ্বারা যদি সাদকায়ে ফিতর আদায় করার পরও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির নিসাব পরিমাণ টাকা অবশিষ্ট থাকে, তাহলে সাদকায়ে ফিতর আদায় ওয়াজিব হবে।

★ ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার সময় : সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় তথা ফজরের সময়। কোনো ব্যক্তি যদি ফজরের পূর্বেই মারা যায়, বা তার সম্পদ হাত ছাড়া হয়ে যায়, তাহলে তার ওপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়।এমনিভাবে কোনো সন্তান যদি ফজর উদিত ওয়ার পর জন্মগ্রহণ করে; কোনো কাফের ফজরের পর মুসলমান হয়, তাহলে তার ওপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়। কিন্তু কোনো সন্তান যদি ফজরের পূর্বে ভূমিষ্ঠ হয় বা কোনো অমুসলিম যদি ফজরের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করে তবে তার ওপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে।

★ ফিতরা আদায় করার সময় : ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই সাদকায়ে ফিতর আদায় করা উত্তম। বেরোজাদারের ফিতরা: যে ব্যক্তি রোজা পালন করেনি, তারও ফিতরা আদায় ওয়াজিব। সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য রোজা রাখা বা না রাখা সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হলো- ঈদের দিন সকালে নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া।

★ ফিতরার পরিমাণ : হাদীস অনুযায়ী এক সা বা সাড়ে তিন সের এবং অন্য হাদীস অনুযায়ি আধা সা বা পৌনে দুই সের গম বা গমের আটা বা প্রধান খাদ্য। অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য।

★ ফিতরা দেয়ার পদ্ধতি : একজনের ফিতরা একজন গরিব-মিসকিন বা ফকিরকে দেয়া যাবে। আবার কয়েকজন ফকির বা মিসকিনকেও কিছু কিছু করে দেয়া যাবে। এমনিভাবে কয়েক জনের ফিতরা একত্র করে একজন ফকিরকেও দেয়া যাবে।

★ প্রবাসীদের ফিতরা আদায় : সাদকায়ে ফিতরের মূল উদ্দেশ্য হলো- গরিব, মিসকিনদের উপকার হওয়া। সুতরাং যে দেশের গমের মূল্য ধরলে গরিব-মিসকিনদের উপকার বেশি হবে, সে দেশের পৌনে দুই সের গমের মূল্য ধরে সাদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। যেমন বাংলাদেশের পৌনে দুই সের গমের মূল্য ৭০ টাকা। ঠিক আমেরিকায় এ পরিমাণ গমের মূল্য ২৫০ টাকা। সুতরাং আমেরিকা প্রবাসীকে ২৫০ টাকা হিসেবে সাদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। আবার কেউ এক সা দিতে চাইলে ৫০০ টাকা দেবেন।

★ স্ত্রীর ফিতরা : স্ত্রী যদি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, তবে সে তার সাদকায়ে ফিতর আদায় করবে। আর যদি তা না হয় এবং বালেগ হয়, তাহলে তার পক্ষ থেকে সাদকায়ে ফিতর স্বামী যদি আদায় করে দেয়, তাহলে আদায় হয়ে যাবে।

★ মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনকে ফিতরা দেয়া : ইমামতির বা আজান দেয়ার কারণে ফিতরা দেয়া বৈধ নয়। হ্যাঁ, যদি সে ফিতরা নেয়ার উপযুক্ত হয়, তাহলে তাকে ফিতরা দেয়া যাবে।

★ গরিব নাবালেগ বাচ্চাকে ফিতরা দেয়া : গরিব নাবালেগ বাচ্চাকে ফিতরা দেয়া বৈধ নয়; তবে বাচ্চা যদি নাবালেগ হলেও বুঝবান হয়, তাহলে তাকে ফিতরা দেয়া যাবে।

★ নিজ বাড়ির কাজের লোককে ফিতরা দেয়া : নিজ বাড়ির কাজের লোক যদি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক না হয়, তবে তাকে ফিতরা দেয়া যাবে। তবে পারিশ্রমিক হিসেবে ফিতরা দেয়া জায়েজ নেই।

মহান আল্লাহ তাআলা ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জনসচেতনতায়
হাসনাবাদ আহসানুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা
ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

Want your school to be the top-listed School/college in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Narayan Hat
Chittagong
4355

Opening Hours

Monday 09:00 - 16:00
Tuesday 09:00 - 16:00
Wednesday 09:00 - 16:00
Thursday 09:00 - 14:00
Saturday 09:00 - 16:00
Sunday 09:00 - 16:00