02/10/2016
#বিশ্বের_ইতিহাসে_উলামায়ে_দেওবন্দের_শ্রেষ্ঠত্বঃ
কারা এই দেওবন্দী,
যাদের সাথে তুলনা করা যায় পৃথিবীর কাউকে,
কুরঅান তিলাওয়াতের সাথে সাথে তার শিক্ষা, কুরঅান কারীমের অর্থ উদ্দেশ্য ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ বিষয়ে আমার স্বল্প জ্ঞান অনুযায়ী, দেওবন্দের উলামাদের কেবল তাফসীর বিষয়ে আরবী উর্দু ফারসি ও অন্যান্য ভাষায় লিখিত রয়েছে প্রায় ২৫০ এর চেয়ে বেশি কিতাব।
যার মধ্যে কোনটি বিশ ত্রিশ খন্ডে লিপিবদ্ধ,
আল্লামা আফগানি রহঃ এর দশ বছরের দরস, ভাওয়াল পুরের এক বুজুর্গ একত্রিত করেন,যিনি তার ছাত্র ছিলেন,দশ বছরের কুরানের দরস একত্রিত করেছেন, দশ খন্ডে কিন্তু তা দ্বারা শুধু মাত্র প্রথম পারার তাফসিরই হয়েছিলো,উলামায়ে দেওবন্দের ইলম সম্পর্কে মানুষ ধারণাও করতে পারবেনা,তালিমে হিক্বমাহ অর্থাৎ শরীয়তের আদেশ ও মাসঅালা মাসায়েল সংক্রান্ত এমন ইলম ছিলো উলামায়ে দেওবন্দের উপমহাদেশের মুসলমান যাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ,
চ্যালেঞ্জ বাণী,উপমহাদেশ একজন গাঙ্গুহীর মত ফক্বীহ দেখাও,একজন মুফতী কেফায়াতুল্লাহ দেখাও,
দেখাও একজন মুফতী আযীযুর রাহমান দেহলভী,
একজন মুফতী শফী দেখাও,একজন মুফতী মাহমূদ দেখাও,
যারা নিজ নিজ ময়দানে ফক্বীহ বিশ্লেষক মুজতাহিদ আর অনুসরণীয় ছিলেন, এই বিষয়ের দিকে চলে গেলে লিখাটি হয়ে যাবে অনেক কলবর,
এলমে তাফসীরএর খেদমত ,
হাদীসের খেদমত, উলামায়ে দেওবন্দই করেছেন,
ফেক্বাহের কাজ,
মাদরাসা সমুহের জ্বাল বিছিয়েছেন উলামায়ে দেওবন্দরাই,
মাহমুদ হাসান দেওবন্দী
যিনি দেওবন্দের প্রথম শাগরেদ ছিলেন,
একবার এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল হযরত আপনি এতো বড় আল্লামা কিন্তু আপনার কোন রচনা আমরা দেখতে পাইনা তাহলে আপনি এতো বড় আল্লামা হলেন কি করে?
তিনি বললেন সব বিষয়েইতো আমার রচনা রয়েছে তুমি কোন বিষয়ের রচনা দেখতে চাও?
লোকটি বলল আমরা দেখছিনাতো,
তখন মাহমুদ হাসান বললেন,যদি কুরঅানের তাফসীর নিয়ে আমার কোন রচনা দেখতে চাও,তো আমার "শাব্বির আহমদ উসমানীকে দেখো!
ইলমে হাদীসের বেলায় আমার কোন রচনা দেখতে চাও তাহলে আমার ছাত্র আনওয়ার শাহ কাশ্মীরিকে দেখো!
আর ফেক্বাহ বিষয়ে কোন রচনা দেখতে চাও তাহলে,আমার আযীযুর রাহমান ও কেফায়াতুল্লাহকে দেখ!
যদি আমার কোন রচনা রাজনৈতিক বিষয়ে পড়তে চাও, তাহলে আমার ছাত্র উবায়দুল্লাহ সিন্ধীকে দেখ!
যদি তুমি তাসাউফ ও লিখালিখির ময়দানে আমার কোন রচনা দেখতে চাও, তাহলে আমার তাসাউফের একজনই ছাত্র, তাসাউফের ইমাম আশরাফ আলী থানভী কে দেখ!
তুমি আমার পাণ্ডিত্য ও সহনশীলতা বিষয়ে কোন রচনা দেখতে চাও তাহলে আমার ছাত্র হুসাইন আহমদ মাদানীকে দেখ!
দাওয়াত ও তাবলীগ বিষয়ে আমার কোন রচনা দেখতে চাও,তাহলে আমার ইলিয়াস কান্ধলভীকে দেখ!
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দুজন ব্যক্তি গত হয়েছেন,যাদের ছাত্রবৃন্দ পূর্ববর্তীদের ও কিয়ামত পর্যন্ত আগতদের মধ্যে অতুলনীয়,
প্রথম যুগের ইমাম আযম আবু হানীফা
উম্মতের ফক্বীহ ও মুজতাহিদ ছিলেন,যার এক একজন ছাত্র এমন ছিলেন যাদের উদাহরণ দুনিয়ার কেউ উপস্থাপন করতে পারেনি,আর দ্বিতীয় মাওলানা মাহমুদ হাসান যার একেকজন ছাত্র এমন ছিলেন, যাদেরও উপমা দুনিয়ার কেউ এখনো দেখাতে পারেনি।ইতিহাস নিজেকে নিজে পুনরাবৃত্তি করেছে,
যদি প্রথম যুগে ইমাম আবু হানীফা গত হয়ে থাকেন,ফেক্বহের বিষয়ে যার দক্ষতার তুলনা কেউ উপস্থাপন করতে পারেননি, তাহলে এই জমানায় রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী গত হয়েছেন।
তিনি দেওবন্দের সম্মানীর গ্রাজুয়েট তার উদাহরণ পৃথিবীর কেউ দেখাতে পারেনি।
আগের যমানায় আহমদ ইবনে হাম্বল
ধৈর্য্যর সাথে পাহাড় করে থাকেন, তাহলে ইতিহাস মাহমুদ হাসানকে তৈরি করেছে,যার উদাহরণ দুনিয়াতে বিরল।যদি প্রথম যুগে উস্তাদ ও শাগরেদ এক সাথে হয়ে তাফসীর লিখে থাকেন,যা মাদারিস সমুহে পড়ানো হয়ে থাকে,নাম জালালাইন
তাহলে আল্লাহ তায়লা আমাদের আকাবিরদের মধ্যেও উস্তাদ ও শাগরেদ এমন দিয়েছেন,আল্লামা শাব্বির আহমদ উসমানী ছাত্র, আর শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান উস্তাদ,
উস্তাদ ছাত্র একত্রে তাফসীর লিখেছেন,যার নজীর এখনো নেই পৃথিবীতে।
যদি ইমাম বুখারী হাদীস শাস্ত্রে,বুখারী লিখে থাকেন,তাহলে তা বুঝার জন্য আল্লামা কাশ্মীরী তার শরাহ লিখেছেন,
জানিনা তার সমতুল্য কোন শরাহ নশ্বর ধরায় আছে নাকি?
প্রথম দিকে ইমাম মুসলিম, মুসলিম লিখেছিলেন,আল্লামা শাব্বির আহমদ উসমানী তার শরাহ"ফাতহুল মুলহিম" লিখে পৃথিবীতে নজর স্থাপন করেছেন, যা পাচ খণ্ডে লিপিবদ্ধ,
ইমাম আবু দাঊদ, হাদিসের জগতে আবু দাউদ লিখেছেন,তো খলীল আহমদ সাহারান পূরী( রহঃ)
তার ব্যাখা "বাযলুল মাজহুদ"লিখেছেন,যার উদাহরণ পৃথিবীতে এখনো নেই,
ইমাম মালিক মুয়াত্বা ইমাম মালিক লিখেছেন, শায়খুল হাদীস, ও সময়ের মুহাদ্দিস, মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলভী, মুহাজিরে মাদানী সে সময় তার ব্যাখা লিখেছেন,আরবের এক শায়খ বলতে বাধ্য হলেন,ইহা পড়ে মনে হয়,না জানি ইমাম মালিক ইমাম আবু হানীফার মুকাল্লিদ ছিলেন।
দেওবন্দের উলামায়ে কেরাম ভিন্ন, একদিকে ইমাম বুখারীর কবর থেকে বেহেশতের সুঘ্রাণ বের হয়েছে,
এদিকে আল্লামা লাহুরির কবর থেকে ছয়মাস লাগাতার বেহেশতের সুঘ্রাণ বের হয়েছে,এরকম হাজারো উলামায়ে কেরামের কবর থেকে জান্নাতি ঘ্রাণ বের করে, প্রমাণ করেছেন, এরাই আহলে হক্ব,এরাই আল্লাহর নেক বান্দা,যারা নবীজির মিশনকে পূর্ণ করেছেন।
যে মিশন দিয়ে আল্লাহ তায়লা নবিজীকে পাঠিয়েছেন।