23/08/2026
বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া (রাহ:) এয়াকুবিয়া আলিম মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষা-২৭'র প্রস্তুতি উপলক্ষে অভিভাবক সমাবেশ সম্পন্ন।
--------------------------------------------------
আনোয়ারা উপজেলাধীন বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া (র:) এয়াকুবিয়া আলিম মাদরাসার উদ্যোগে আজ ২৩ আগষ্ট ২০২৬ ইং রবিবার সকাল ১২টায় মাদরাসা অডিটোরিয়ামে দাখিল পরীক্ষা-২৭'র প্রস্তুতি উপলক্ষে এক অভিভাবক সমাবেশ অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জানে আলম নিজামীর সভাপতিত্বে মাওলানা মুসলিম উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া (রাহ:) এয়াকুবিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব জালালউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মন্জু, প্রধান বক্তা ছিলেন পরিচালনা পরিষদের সদস্য মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সোহেল, উপস্থিত ছিলেন - মাস্টার আজম উদ্দিন নুরী, মাওলানা ঈসা খান,মাস্টার নাসির আহমদ খান, মাওলানা নেজাম উদ্দীন কাদেরী, মাস্টার ওমর ফারুক, মিসেস জেসমিন আরা বেগম,মিসেস বকেয়াতুল জান্নাত, মিসেসমিশকাতুন্নেছা,মিসেস ,মিসেস সানজিদা সালমা সীমা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী মন্জু বলেন-
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবক সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। একজন শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষক ও অভিভাবক—উভয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করলেই একজন শিক্ষার্থী আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে না; পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তার চরিত্র, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মেধার বিকাশ ঘটে। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে শুধু ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থী নয়; বরং সৎ, আদর্শ, দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ তৈরি হোক। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরো বলেন - আজকের এই সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকবৃন্দ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে আরও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইনশাআল্লাহ প্রতিটি শিক্ষার্থী ভালো ফলাফলের পাশাপাশি জীবনে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা জানে আলম নিজামী বলেন-
একজন শিক্ষার্থীর জীবনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের চেষ্টা করেন, আর পরিবার তার চরিত্র, আচরণ, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি করে। তাই শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অপরিহার্য।
আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করা এবং তাদেরকে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। বিশেষ করে দাখিল পরীক্ষা-২০২৭ সামনে রেখে এখন থেকেই আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে হবে। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, বাড়ির পড়া সম্পন্ন করা, দুর্বল বিষয়গুলোতে অতিরিক্ত অনুশীলন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে।
আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ—সন্তান কখন প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে, নিয়মিত ক্লাস করছে কি না, বাসায় কতটুকু পড়াশোনা করছে এবং তার দৈনন্দিন আচরণ কেমন—এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখবেন।
কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়লে কিংবা আচরণগত কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি গোপন না রেখে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমরা শাস্তির পরিবর্তে সংশোধন, উৎসাহ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে চাই।
আমাদের প্রত্যাশা, অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় ইনশাআল্লাহ আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি সৎ, আদর্শ, দায়িত্বশীল ও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
আজকের এই অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
পরিশেষে, উপস্থিত সকল সম্মানিত অভিভাবককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সন্তানকে ইলমে নাফে, আমলে সালেহ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসেবে কবুল করুন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দান করুন।