29/07/2026
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«مَا قَالَ عَبْدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَطُّ مُخْلِصًا، إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، حَتَّى تُفْضِيَ إِلَى الْعَرْشِ، مَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ»
অর্থ:
“কোনো বান্দা যখন একনিষ্ঠভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে, তখন তার জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং তা আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়—যতক্ষণ সে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।”
📚 জামে‘ আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৯০
🌸 হাদিসটির ব্যাখ্যা
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের তাওহিদের মর্যাদা ও ইখলাসের গুরুত্ব শিক্ষা দিয়েছেন। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থ—আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। এটি শুধু মুখে উচ্চারণ করার একটি বাক্য নয়; বরং অন্তর থেকে বিশ্বাস করা এবং জীবনে তার দাবি বাস্তবায়ন করা।
১. ইখলাসের সঙ্গে কালিমা পড়া:
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। লোক দেখানো, প্রশংসা পাওয়া কিংবা দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য নয়।
২. আকাশের দরজা খুলে দেওয়া:
হাদিসে বোঝানো হয়েছে, একজন বান্দা যখন সত্যিকার ইখলাসের সঙ্গে তাওহিদের ঘোষণা দেয়, তখন তার এই কালিমা আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। এটি আল্লাহর নৈকট্য ও কবুলিয়তের প্রতি ইঙ্গিত করে।
৩. কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা:
হাদিসের শেষ অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—“যতক্ষণ সে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।” অর্থাৎ শুধু মুখে কালিমা পড়েই বড় বড় গুনাহে লিপ্ত থাকা একজন মুমিনের জন্য ভয়ংকর বিষয়। তাই কালিমার সঙ্গে তাওবা, আমল ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা থাকতে হবে।
৪. কালিমা আমাদের জীবনের পরিবর্তনের আহ্বান:
যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করে—আল্লাহই একমাত্র উপাস্য, তার জীবনেও সেই বিশ্বাসের প্রভাব থাকা উচিত। নামাজ, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, পিতা-মাতার হক আদায়, মানুষের প্রতি সদাচরণ এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকা—এসবই তাওহিদের বাস্তব জীবনের প্রকাশ।
🕊️ আমাদের জন্য শিক্ষা
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ শুধু একটি বাক্য নয়; এটি একজন মুমিনের বিশ্বাস, পরিচয় ও জীবনব্যবস্থা। তাই আসুন, আমরা ইখলাসের সঙ্গে কালিমা পড়ি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের যত্ন নিই, কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকি এবং কোনো গুনাহ হয়ে গেলে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করি।
আল্লাহ আমাদেরকে খাঁটি তাওহিদের ওপর অটল রাখুন, ইখলাস দান করুন এবং সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে হেফাজত করুন।
আমিন।