19/07/2026
SSC-তে বিজ্ঞান নিয়ে পড়লেই কেউ ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যায় না—আর মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা পড়লেই কেউ কম মেধাবী হয়ে যায় না। এই ভুল ধারণা থেকে এখনই বের হওয়া দরকার।
স্কুল পর্যায়েই শিক্ষার্থীদের পুরো কারিকুলাম সম্পর্কে পরিষ্কার ও বাস্তব ধারণা দেওয়া উচিত। একজন শিক্ষার্থী SSC পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগে যে বিষয়গুলো পড়ে, সেগুলোর সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর সম্পর্ক কী, পড়ার চাপ কেমন, কোন বিষয়ে কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন—এসব আগে থেকেই জানানো দরকার।
কিন্তু বাস্তবে অনেক শিক্ষার্থী কোনো কিছু না বুঝেই বিজ্ঞান বিভাগ বেছে নেয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই, নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা নেই; শুধু বন্ধু বিজ্ঞান নিয়েছে, পরিবার বলেছে অথবা সমাজে বিজ্ঞান বিভাগের আলাদা কদর আছে—এই ধরনের **আজগুবি চিন্তা** নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে।
আরও বড় ভুল ধারণা হলো—SSC-তে বিজ্ঞান নিয়ে পড়লে উচ্চমাধ্যমিকেও বিজ্ঞান নিতেই হবে। মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা নিলে নাকি কিছুই বুঝবে না কিংবা ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাবে। বাস্তবতা মোটেও এমন নয়।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বইগুলো কোনো ভিনগ্রহের ভাষায় লেখা নয়। সঠিকভাবে বোঝানো হলে, নিয়মিত পড়াশোনা করলে এবং বিষয়গুলোর ভিত্তি পরিষ্কার থাকলে একজন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীও এসব বিষয়ের মূল ধারণা বুঝতে পারে। প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব গভীরতা, যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
মানবিক বিভাগ মানেই শুধু মুখস্থ করা নয়। এখানে সমাজ, রাষ্ট্র, ইতিহাস, অর্থনীতি, মনস্তত্ত্ব, যুক্তি ও মানুষের আচরণ বুঝতে হয়। ব্যবসায় শিক্ষা মানেই শুধু হিসাবের খাতা নয়। এখানে হিসাববিজ্ঞান, অর্থায়ন, ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং বাস্তব অর্থনীতির ধারণা আয়ত্ত করতে হয়।
তাই মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা সহজ—এমন ধারণাও ভুল। কোনো বিষয়ই নিজে থেকে সহজ বা কঠিন নয়। শিক্ষার্থীর আগ্রহ, দক্ষতা, পরিশ্রম এবং শেখানোর পদ্ধতির ওপর বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে।
গত সাত-আট বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক শিক্ষার্থী শুধু শখ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা পারিবারিক চাপে বিজ্ঞান বিভাগ নেয়। অথচ নিজের সক্ষমতা, আগ্রহ বা ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে সামান্য ধারণাও থাকে না। মাথায় পরিকল্পনা নেই, কিন্তু ভাব এমন—বিজ্ঞান নিয়েছি, এখন বুঝি অর্ধেক ডাক্তার হয়ে গেছি!
বিজ্ঞান বিভাগে পড়া অবশ্যই সম্মানের, কিন্তু মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ আইনজীবী, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, প্রশাসক, উদ্যোক্তা, হিসাববিদ, ব্যাংকার, গবেষক বা নীতিনির্ধারক সমাজে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নন।
শিক্ষার্থীদের বিভাগ দিয়ে বিচার না করে তাদের যোগ্যতা, আগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য দেখে সিদ্ধান্ত নিতে শেখাতে হবে। বিজ্ঞান নেওয়া কোনো সম্মানসূচক উপাধি নয়, আর মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা নেওয়া কোনো ব্যর্থতার পরিচয় নয়।
বিভাগ নয়, সঠিক জ্ঞান, দক্ষতা ও পরিশ্রমই একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।