25/07/2026
এবারের ন্যাশনাল মথ উইক ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ছিল "মথস ইন আর্ট" (Moths in Art)। এই প্রতিপাদ্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্পের মাধ্যমে মানুষের কাছে মথকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং এর সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। শিল্প মানুষের অনুভূতিকে স্পর্শ করে, আর সেই শক্তিকেই কাজে লাগিয়ে মথ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে National Moth Week বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের মথ-ভিত্তিক শিল্পকর্ম তুলে ধরে। এসব শিল্পকর্ম শুধু নান্দনিক নয়, বরং মানুষকে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ভাবতে উৎসাহিত করে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক ও মথকেন্দ্রিক শিল্পচর্চা এখনও খুবই সীমিত। কারণ, "যে দেশে মানুষ মথকেই চেনে না, সে দেশে মথকে নিয়ে শিল্পচর্চা হবে কীভাবে?" তাই আমরা মাঠে নেমেছি—মানুষকে মথের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে, তাদের মধ্যে কৌতূহল ও ভালোবাসা তৈরি করতে। অবশ্যই এটি একদিনের কাজ নয়; এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
এই দীর্ঘ পথচলার ছোট্ট কিন্তু অনুপ্রেরণাদায়ক একটি সফলতা আমরা দেখেছি আমাদের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে।
ধরিত্রী তঞ্চঙ্গ্যা নামের এক শিক্ষার্থী, যিনি অসাধারণ আঁকতে পারেন, আমাদের ক্যাম্পেইনের সময় প্রদর্শিত মথের ছবিগুলো দেখে শুধুমাত্র কলমের আঁচড়ে এঁকেছেন একটি মথ এবং তার সম্পূর্ণ জীবনচক্র। এটি ছিল তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও সৃজনশীলতার এক সুন্দর প্রকাশ।
আমরা বিশ্বাস করি, তিনি ভবিষ্যতেও তাঁর এই প্রতিভাকে আরও বিকশিত করবেন। হয়তো আমাদের এই ছোট্ট উদ্যোগ তাঁর মনে প্রকৃতি ও মথ নিয়ে নতুন এক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
আজ হয়তো আমাদের দেশে মথকে কেন্দ্র করে কাজ করা শিল্পীর সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু আমরা আশাবাদী, আগামী দিনে এমন শিল্পীরা গড়ে উঠবেন, যারা এই বিস্ময়কর পতঙ্গকে তাদের শিল্পকর্মে স্থান দেবেন, এর সৌন্দর্য, বৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্বকে মানুষের সামনে তুলে ধরবেন। কারণ, সংরক্ষণ শুরু হয় পরিচয় থেকে, আর পরিচয়কে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।