21/09/2026
মুন এলার্টের পেইজ ঘাটাঘাটি করে নিখোঁজ হওয়া বাচ্চাদের একটা প্যাটার্ণ খুঁজে পেলাম। এদের সবার বয়স ৬ থেকে ১৬ বছরের ভেতর। সবচাইতে বেশী নিখোঁজ হয়েছে ১১-১৩ বছর বয়সী বাচ্চারা।
অর্থাৎ, বাচ্চাগুলোকে র্যানডমলি সিলেক্ট করা হচ্ছে না, বয়সের ডেমোগ্রাফিক অনুযায়ী সিলেক্ট করা হচ্ছে। হয়তো এই কাজটা কোনো গ্রুপ বা দল পরিকল্পনা করে করছে। নাহলে যে কোনো বয়সী বাচ্চাই নিখোঁজ হবার কথা ছিলো!
অবশ্য এর আরেকটা কারণ হতে পারে, ৪-৫ বছর পর্যন্ত একটা বাচ্চাকে তার অভিবাবকরা কম্পারেটিভলি বেশী গার্ড দিয়ে রাখে, এর বেশী বয়সী বাচ্চারা সাধারনত স্কুলে থাকে, বিকেলে খেলার মাঠে থাকে, মানে আউটডোরে থাকার প্রবণতা বেশী থাকে বলে তাদের নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
(আমি আজ বিকেলে ৩০০ ফিটে একটা ইভেন্টে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে বাসায় ফিরতে অনেক রাত হয়েছে, তাই ভীষন ক্লান্ত। নাহলে আমি আরো সময় দিয়ে বয়স ছাড়াও আরো কিছু প্যাটার্ণ খুঁজে বের করার ট্রাই করতাম। যাদের সময় ও আগ্রহ আছে, তারা প্লিজ কাজটা করে কমেন্টের ঘরে আপনাদের ইনসাইট জানাতে পারেন। জাস্ট MUN Alert এর পেইজে গিয়ে ফটো ট্যাবে ক্লিক করলেই পেয়ে যাবেন ওদের আর্কাইভ!)
জানি না আমার এই হাইপোথিসিস কতটা সঠিক, তবে এটুকু জানি, এখনো এই দেশে প্রায় ২১০০ শিশু নিখোঁজ। আর এখনি কোনো প্রটেকটিভ মেজার না নিলে এই সংখ্যাটা বাড়বে বৈ কমবে না।
কিন্তু প্রটেকটিভ মেজার্স কিভাবে নেয়া যায়?
পুলিশ আপনার বাচ্চাকে খুঁজে এনে দেবে, এই আশা করে লাভ নাই, বরং বাচ্চা হারায় যাবার আগেই কিছু মেজার্স নিন, পরে না। যেমনঃ
১) সিসি ক্যামেরাঃ
আপনার ফ্লাটের মেইন গেইট থেকে শুরু করে একদম ভবনের মেইন গেট পযন্ত একাধিক সিসিটিভ ক্যামেরা লাগান। যদি আগে থেকেই লাগানো থাকে, তবে কাল সকালে গিয়েই চেক করবেন যে সবগুলো ক্যামেরা ঠিকঠাক মতো কাজ করে কিনা। ফুটেজ ঠিক মতো সংরক্ষিত থাকে কিনা। এবং কার কাছে এগুলার একসেস থাকে। চাহিবামাত্র যেন সে একসেস পাওয়া যায়।
অপ্রিতমের খুনী ধরা পড়েছে লাশ উদ্ধারের ২ ঘন্টার ভেতর, এবং সেটা সিসি ক্যামের ফুটেজের কল্যানেই। সুতরাং, সিসি ক্যামেরা হচ্ছে এই কেসে আপনার আদি ও আসল বন্ধু।
আমার বাসায় এবং আমার আম্মুর বাড়ীতে উভয় জাগাতেই আমি প্রচুর সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছি, এবং প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন দরকারে আমাকে রেগুলার ফুটেজ চেক করতে হয়। এই ক্যামেরাগুলো আমাকে বিভিন্ন ইস্যুতে এত বেশী এভিডেন্স ও সারভেইলেন্স দিয়েছে যে, আমার ইনভেস্টমেন্ট বহু আগে উসুল হয়ে গেছে!
শুধু আমার ব্যর্থতা যে আমার শ্বশুড় বাড়িতে সিসি ক্যাম লাগানোর ব্যাপারে রাজি করাতে পারি নাই, উনাদের অনেক প্রাইভেসি, অথচ গত বছর উনাদের ফাঁকা ফ্লাটে বড় ধরনের চুরি হয়েছে। এনিওয়ে।
আপনার বাচ্চা স্কুলে থাকলে ক্লাসরুমে সচল সিসি ক্যামেরা আছে কিনা, ফুটেজ রাখা হয় কিনা, সে ব্যাপারে যতটা সম্ভব নিশ্চিত হউন। দরকার হলে সব গার্ডিয়ানরা মিলে দাবী তুলুন আপনাদেরকে যেন মোবাইলে সিসি ক্যামেরার একসেস দেয়া হয়। দেশে একটা ক্রান্তিকাল চলতেছে, এই সময়ে এইটা খুবই ন্যায্য দাবী, কর্তৃপক্ষ না মানলে বাচ্চাকে আর পড়াবেন না ওখানে।
আরেকটা কথা, শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করা জরুরি। কারণ বেশীরভাগ ক্যামেরায় পুরোনো ফুটেজ অল্প সময়ের মধ্যেই overwrite হয়ে যেতে পারে। তাই দেরী করলে মূল্যবান ফুটেজ হারানোর শংকা থাকে।
২) জিপিএস ট্র্যাকারঃ
আপনার বাচ্চা যদি স্কুল গোয়িং কিড হয়, তাহলে সে সবচে বেশী রিস্কে আছে। অনলাইনে অনেক লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস পাওয়া যায়, এগুলা আকারে বেশ ছোট, দামেও সস্তা। মুটামুটি একুরেট কাজ করে।
যেমনঃ MiLi MiTag Android Location Tracker Device, দাম ১ হাজার টাকার নীচে। তবে এগুলা আমি নিজে কখনো ইউজ করি নাই, তাই একুরেসি কেমন জানি না। খুব বাজে রিভিউ নাই যতদূর দেখলাম। তবে নিজ দায়িত্বে যাচাই বাছাই করে কিনবেন, নাহলে ঠকার সম্ভাবনা আছে।
এগুলার একটা আপনার বাচ্চার স্কুলের ব্যাগের ভেতরে সেলাই করে ফিক্স করে লাগিয়ে রাখবেন, বা ব্যাগের ভেতর গোপন পকেট বানিয়ে সেটার ভেতর রাখবেন। এগুলা ব্যাটারিতে চলে, আপনার মোবাইল ফোন থেকেই ঐ স্কুল-ব্যাগের রিয়েল টাইম লোকেশন দেখতে পারবেন। খুব ইজি সেটাপ।
বাজারে আরেক ধরনের ডিভাইস পাওয়া যায়, ওগুলা MiTag এর চাইতেও ছোট, দেড় ইঞ্চি লম্বা, দাম ৬/৭ শত টাকা, ওগুলোর একটা রেখে দিবেন আপনার বাচ্চার স্কুলের পোষাকের গোপন পকেটে সেলাই করে, যাতে করে পকেট থেকে পরে গিয়ে হারিয়ে না যেতে পারে।
মানে পোষাকেরটাকে প্রাইমারি ট্র্যাকার হিসেবে ধরলে, স্কুলে ব্যাগে থাকবে সেকেন্ডারী ট্র্যাকার। আপনি দুটোই ট্র্যাক করবেন।
এছাড়াও অনেক ওয়্যারেবল হাই-টেক আছে, যেমন কিছুদিন আগে একটা রিলসে দেখলাম, বাচ্চাদের জন্য বিশেষায়িত হাত ঘড়ি যা গার্ডিয়ানের মোবাইলে নির্দিষ্ট সময় পর পর বাচ্চার হার্টরেট, ব্লাড প্রেশার এগুলার রিডিং পাঠাবে! এটা অনেক এক্সপেনসিভ গ্যাজেট! কিন্তু এমন ডিভাইস আপনার বাচ্চা নিখোঁজ হওয়ামাত্র তাকে উদ্ধার করতে হেল্প করতে পারে।
৩) জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো সত্ত্বেও আপনি চেষ্টা করবেন আপনার বাচ্চাকে স্বশরীরে স্কুল থেকে আনা নেয়া করার। ভুলেও কখনো বাসার বুয়া, দারোয়ান, কেয়ার টেকার, বা রিলেটিভ - এ জাতীয় কাউকে বাচ্চার ব্যাপারে বিশ্বাস করবেন না, তা সে যতই বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য হোক না কেন। ডোন্ট রিস্ক ইট। সাবধানের মাইর নাই, মানে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করলে সেটা কখনো বৃথা যায় না।
আপনি যদি হোম মেকার হন, তবে চেষ্টা করবেন বাচ্চার স্কুলের সময়টাতে বাচ্চার স্কুল প্রাংগনেই থাকার, অন্তত আগামী কয়েকটা মাস। বই পড়ে সময় কাটান, বা রিল দেখে, বা ভাবীদের সাথে গল্প করে, কিন্তু আপনি ওখানেই উপস্থিত থাকবেন। আর একটু পর পর ফোনে চেক করবেন যে বাচ্চার লোকেশন ঠিক মতো দেখাচ্ছে কিনা। ক্লাসের ক্যামেরার একসেস থাকলে সেটাও মাঝে মাঝে চেক করবেন।
আর যদি চাকুরীজীবি হন, তাহলে আপনার একমাত্র ভরসা টেকনোলজি, মানে ট্র্যাকার আর সিসি ক্যামেরার লাইভ ফিড। অফিসে বসেও দেখতে পারবেন।
৪) এজুকেট ইউর কিডসঃ
এত সব কিছুর পরেও আপনি আলাদা করে আপনার বাচ্চাকে ট্রেনিং দেন। এটি আজীবন ওর কাজে লাগবে। সে যেন অপরিচিত কারো সাথে না যায়, তাদের দেয়া কিছু না খায়, তাদের কোনো কথা বা রেফারেন্স যেন বিশ্বাস না করে, সন্দেহজক বিহেবিয়ার বা প্যাটার্ণ কিভাবে আইডেন্টিফাইন করতে হয় সেগুলো শেখান। কিভাবে ছেলেধরা রা শিকার করে সেগুলো আলোচনা করেন, বাই এনি চান্স হারিয়ে গেলে মাথা ঠান্ডা রেখে কিভাবে কি করতে হবে তার স্টেপ বাই স্টেপ গাইড লাইন দেন আগে থেকে, বাচ্চাকে Home Alone এর মতো কিডস মুভি দেখান, জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস পড়ান। এসব ওকে স্ট্রিট স্মার্ট বানাবে।
৫) সেলফ ডিফেন্সঃ
বাচ্চার বয়স ৮ বছর+ হলে তাকে আত্নরক্ষা, তায়কন্দো এইসব শেখান, সাঁতার শেখান, সাইক্লিং শেখান, বেসিক রান্না বান্না শেখান। এগুলো ওকে দক্ষ ও আত্নবিশ্বাসী করবে। বাচ্চারা খুবই কুইক লার্নার, আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না ঠিকভাবে ট্রেনিং দিলে ওরা কতটা দ্রুত শিখে নেয়!
৬) ফ্যামিলি ইমার্জেন্সি প্রটোকলঃ
আগে থেকেই আপনার পরিবারের একটা ইমার্জেন্সি প্রটোকল বানিয়ে রাখেন। কারণ বাচ্চা কোথাও সময়মতো না পৌঁছালে বা ফোনে পাওয়া না গেলে কে কাকে ফোন করবে, কে স্কুলে যাবে, কে বাসার আশেপাশে খুঁজবে, কে পুলিশে যোগাযোগ করবে—এসব তখন বসে বসে ডিসাইড করার সময় থাকবে না।
বাচ্চাকে একটা ”ফ্যামিলি কোড ওয়ার্ড” শেখান। ধরেন, আপনি কাউকে দিয়ে বাচ্চাকে আনতে পাঠালেন। বাচ্চা শুধু “আম্মু পাঠিয়েছে” শুনেই যেন তার সঙ্গে চলে না যায়। তাকে বলবেন, যে-ই আপনাকে নিতে আসুক, আগে আমাদের নির্ধারিত কোড ওয়ার্ড তাকে বলতে হবে। কোড ওয়ার্ড বলতে না পারলে তার সঙ্গে কোথাও যাবে না। মাঝেমধ্যে কোড ওয়ার্ড পরিবর্তনও করবেন।
বাচ্চা যেন তার বাবা-মার ফোন নাম্বার মুখস্থ বলতে পারে, সেটা এনশিওর করবেন। পারলে নানা-মামা-খালাসহ ২-৩ জন Trusted Emergency Contact-এর নম্বরও তাকে মুখস্থ করান। বাচ্চার বয়স ১০ হলে তাকে বাটন ফোন দিন, সেখানে এগুলা শুধু সেভ করে রাখলে হবে না। ফোন হারিয়ে গেলে বা ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে যেন বাচ্চা অন্তত একজন মানুষের কাছে গিয়ে বলতে পারে, “আমার আব্বুর নাম এই, আম্মুর নাম এই, এই নম্বরে ফোন করেন।”
ওকে এটাও শেখান—”হারিয়ে গেলে লুকিয়ে থাকবে না।” কোনো দোকান, ফার্মেসি, স্কুল, পুলিশ বক্স, নিরাপত্তাকর্মী বা ইউনিফর্ম পরা দায়িত্বশীল মানুষের কাছে যাবে এবং নিজের পরিচয় ও বাবা-মায়ের নাম বলবে। অপরিচিত কেউ “চলো, তোমার বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাচ্ছি” বললেও তার সঙ্গে একা যাবে না।
৭) বাবা-মায়ের জন্যও একটা নিয়ম থাকা দরকার। বাচ্চা নির্ধারিত সময়ে স্কুল থেকে বের হয়নি, বাসায় ফেরেনি, ফোন বন্ধ—তাহলে “আরেকটু দেখি, হয়তো চলে আসবে” বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করবেন না। সন্দেহ হলেই বা মনে কু ডাক দিলেই যত দ্রুত সম্ভব অ্যাকশন নিন।
স্কুলে ফোন, ড্রাইভার/অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ, শেষ লোকেশন যাচাই, CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ, ট্র্যাকার চেক এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো—সব একসঙ্গে শুরু করতে হবে। কারণ বাচ্চা নিঁখোজ হওয়ার পর Every second counts.
৮) আমার মনে হয়, আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে বাচ্চা হারিয়ে যাওয়ার পর কী করব সেটা ভাবা। বরং আজকেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ১৫ মিনিট বসে ঠিক করুন—আমাদের বাচ্চা আগামীকাল স্কুল থেকে না ফিরলে প্রথম ১০ মিনিটে আমরা কী করব? দরকার হলে নিজেরা মিলে একেকটা কাজ ভাগ করে নিন।
কারণ বিপদের সময় মানুষ নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কিন্তু আগে থেকে প্র্যাকটিস করা একটা ছোট্ট প্রটোকলই তখন সবচেয়ে বড় হেল্পটা করতে পারে!
৯) বাচ্চাকে প্রতিবার বাসা থেকে বের হওয়ার আগে এই দোয়া পড়ান - “বিসমিল্লাহে তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ!” ২০০০ সালে একজন অত্যধিক পরহেযগার মানুষ আমাকে এই দোয়াটা শিখিয়েছিলেন, আমি এটা গত ২৬ বছর যাবত আমল করছি, ইনফ্যাক্ট এটা এখন অভ্যাস হয়ে গেছে, আমি না চাইলেও এই দোয়াটা আমি আউটডোরে গেলেই অটোমেটিক আমার মুখ দিয়ে বের হয়, আনমনে বের হয়, আমি নিজেও টের পাই না! (আপনি মুসলিম না হলে যার যার রিচুয়াল পালন করতে পারেন। এটা আপনাকে মেন্টাল স্ট্রেন্থ দিবে, মানে বিপদে পড়লে মনোবল হারাবেন না।)
১০) “প্রথম ৬০ মিনিট” এর জন্য একটা বিশেষ প্রটোকল তৈরি করুনঃ
নিখোঁজ হওয়ার প্রথম ১ টা ঘন্টা খুবই ক্রুশাল! এটাকে স্ট্রাটেজিক্যালি কাজে লাগাতে হবে।
শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর আত্মীয়স্বজন সবাই আলাদা আলাদাভাবে খুঁজতে গেলে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। দেখা যাবে এক কাজ দুই গ্রুপ দুই ভাবে করতেছে, অথচ অন্য আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ কেউই করতেছে না! এটা যেন না হয় সে জন্য আগে থেকেই গ্রুপ ওয়াইজ কাজ ভাগ করে নেন। যেমনঃ
Team A: শেষ দেখা জায়গা ও আশেপাশের রাস্তায় খুঁজবে।
Team B: বাসস্ট্যান্ড/রেলস্টেশন/রিকশা-স্ট্যান্ড
Team C: আশেপাশের দোকান ও ভবনের CCTV ফুটেজ চেক করবে
Team D: হাসপাতাল/ক্লিনিক/অজ্ঞাত শিশুর তথ্য
Team E: অনলাইন Missing Alert / MUN Alert কে নোটিফাই করবে।
Team F: পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ ও GD/ অভিযোগের অগ্রগতি চেক করবে।
প্রত্যেক টিমের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবে। সে বাচ্চার বাবা-মা কে কাজ শেষ রিপোর্ট করবে। আমি বলতেছি না যে এতগুলা টিমই লাগবে, আপনি যতগুলো টিম বানাতে পারেন আর কি! দরকার হলে একটা চেকলিষ্ট বানিয়ে সেটা ধরে ধরে কাজ করেন।
১১) আপনার বাচ্চাকে নিয়ে একদিন আপনার গলিতে থাকা সব মুদি দোকান ও লন্ড্রি দোকানে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন, ওদেরকে বলবেন যে আপনার বাচ্চাকে যদি কখনো কোথাও সন্দেহজনক অবস্থায় দেখে (অন্য কারো সাথে, বা কাঁদতেছে,) তাহলে যেন সাথে সাথে আপনাকে ফোন করে জানায়। আপনি ঐ এলাকায় যত বেশী পুরনো বাসিন্দা হবেন, এই কাজে আপনার সফলতার হার তত বেশী।
১২) এইসব কাজে সম্ভব হলে একটা কমিউনিটি গড়ে তোলেন, একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তাহলে বিপদে পড়লে কমিউনিটি বা নেটওয়ার্কের সবাই এক যোগে কাজ করতে পারবেন, তাতে করে দ্রুত সমস্যার সমাধান হতে পারে। এছাড়াও, কমিউনিটি একটিভিটিজের ভিজিবিলিটি ভালো, সব গার্ডিয়ানদের বাড়তি সতর্কতামূলক অবস্থান দেখলে এমনিতেই ক্রিমিনালরা ভয় পেয়ে যায়।
মনে আছে, ২০২৪ এর ৫ ই আগষ্টের পর এলাকায় এলাকায় কিভাবে পাহারা বসানো হয়েছিলো এবং সেটা এই শহরের ডাকাতি কিভাবে ম্যাজিকের মতো বন্ধ করে দিয়েছিলো?
যা হোক, আরো কোনো আইডিয়া থাকলে কমেন্টের ঘরে জানাতে পারেন, আমার মাথায় আপাতত এইটুকুই এসেছে...
পুলিশ ভাইদের কাছে অনুরোধ, দেশের এই পরিস্থিতিতে প্রতিটা থানায় শিশু নিঁখোজের কেসগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে নিন, ২৪ ঘন্টার জন্য ওয়েট কইরেন না! এই প্রটোকল অন্য রেগুলার সময়ের জন্য, এই সময়ের জন্য না! আমার এক ফ্রেন্ডের পুলিশ অফিসার বড় ভাই অনেক বছর আগে একটা কথা বলেছিলেন - ”বাংলাদেশের পুলিশ ধরতে পারবে না এমন কোনো ক্রিমিনাল এই দেশের মাটিতে এখন পর্যন্ত পয়দা হয় নাই। কোনোদিন হবেও না। কিন্তু পলিটিক্যাল ইস্যুতে বা বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পুলিশ এইটা করতে পারে না!”
সংগৃহিত