01/10/2022
দুর্গাপূজার মৌসুম চলে এসেছে। এই সময়ে সাধারণ মুসলিমদের থেকে যেই হারাম কাজটি ব্যাপকভাবে সংগঠিত হয়, সেটা হল পূজার অনুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো এবং এতে অংশগ্রগণ করা।
অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাশাপাশি স্বাভাবিক অবস্থায় মুসলিমরা এসব অনুষ্ঠানে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি করবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে একজন মুসলিম হিসেবে এই উৎসবে অংশগ্রহণ তো দূরের বিষয়, শুভেচ্ছা জ্ঞাপনই বৈধ নয়। কারণ পুরো আয়োজনটিই হল শিরকের। শিরকের চেয়ে জঘন্য কোন অপরাধ দুনিয়াতে নেই। কোন অপরাধের আয়োজনে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন যুক্তিগতভাবেও নিন্দনীয় কাজ। আর অংশগ্রহণ তো আরো দূরের বিষয়। এজন্য বিষয়টি উলামাদের সম্মিলিত মত অনুযায়ী সুস্পষ্ট হারাম।
অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের সাথে কোন প্রকার সম্পৃক্ততা যেন তৈরি না হয় সে ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব সতর্ক ছিলেন। একজন সাহাবী হিজাজের প্রসিদ্ধ এক স্থানে তার মান্নতের পশু যবেহ করার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফতোয়া চাইল। রাসূল এই কাজের বৈধতা দেয়ার আগে কিছু বিষয় পরিষ্কার হয়ে নিলেন। সেই প্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সেখানে কি কুফফারদের কোন উৎসব পালিত হয়? তখন ঐ সাহাবী বলল, জ্বী না। এবার নিশ্চিত হয়ে রাসূল তাকে সেখানে মান্নতের পশু যবেহ করার অনুমোদন দিলেন।( আবু দাউদ, ১১৩৪)
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন তখন দেখেন, মদীনাবাসী বছরে দুই দিন উৎসব করে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন,তোমরা এই দুই দিন আনন্দ-ফুর্তি কর কেন? তারা বলল,জাহেলী যুগে এ দুইটি দিন আমরা উৎসব-আনন্দ করতাম, খেলাধূলা করতাম। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- .
আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এ দুই দিনের বদলে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। ঈদুল আযহা ও ঈদুর ফিতর। (সুনানে আবু দাউদ,হাদীস ১১৩৪ )
রাসুলের এসব নির্দেশনা সাহাবায়ে কেরামের ফিহকি জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। উমর রাঃ বলেন, তোমরা আল্লাহর শত্রুদের থেকে তাদের উৎসবের দিন বিরত থাকো। কারণ সেসময় তাদের উপর আল্লাহর গজব নাযিল হতে থাকে ( আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি, ১৮৬৪১)
মুমিনদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,আর যারা মিথ্যার সাক্ষ্য হয় না এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়। ( সুরা ফুরকান, আয়াত ৭২)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাঃ সহ তাবেয়িদের একটি জামাত কুফফারদের উৎসবকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কারণ এসব উৎসবেও মিথ্যা ইলাহর উপাসনা ও বাতিল প্রথার চর্চা হয়। ফলে সেখানে উপস্থিত হওয়া জায়েয নেই। ( তাফসিরে ইবনে কাসীর দ্রষ্টব্য)
উপমহাদেশের অন্যতম দ্বীনি মারকায দারুল উলূম দেওবন্দ। এব্যাপারে দেওবন্দের ইফতা বিভাগে প্রশ্ন করা হলে বলা হয়, বিধর্মীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর সময় এমন কোন কাজ করা যাবে না, যেটা তাদের সেই কর্মের প্রতি সমর্থন ও সেই কাজকে ভাল হিসেবে স্বীকৃতিদানের প্রতি ইঙ্গিত করে। আর এইসব অনুষ্ঠানে মোবারকবাদ জানানো মূলত এরই অন্তর্ভুক্ত। ফলে হিন্দুদের পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মোবারকবাদ কিংবা শুভেচ্ছা জানানো হারাম। এমনকি কখনো কখনো তা ঈমানের জন্যেও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে যদি এই কাজ না করার কারণে জান-মালের আশংকা থাকে, তবে কৌশলগত কারণে (অন্তরে ঘৃণা রেখে) বলা যেতে পারে।
জনপ্রিয় আরবী ফতোয়া সাইট ইসলাম কিউয়ে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বলা হয়,খ্রিস্টমাস (বড়দিন) কিংবা অন্য কোন বিধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কাফেরদের শুভেচ্ছা জানানো আলেমদের সর্বসম্মত মতানুযায়ী হারাম।
বিধর্মীদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানোর ব্যাপারে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম জাওযী রহঃ বলেন, বিষয়টি মূর্তিকে সিজদা করার উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর মতই।মদ পান কিংবা যিনা করার জন্য শুভেচ্ছা জানানোর চেয়েও এটি মারাত্মক।( আহকামু আহলিয জিম্মা- ৩/২২১)
হযরত উমরঃ এর যুগে তো সাহাবাদের ইজমা ক্রমে অমুসলিমদের মাঝে এই ঘোষণা ছিল যে, বিধর্মীরা দারুল ইসলামের ভিতর তাদের কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রকাশ্যে পালন করতে পারবে না। যেন তা মুসলিম সমাজে কোন প্রভাব না ফেলে। ( ইক্বতিদ্বায়ে সীরাতুল মুস্তাকিম)
আজকে আমাদের অধিকাংশ মুসলিমের কাছেই কুফুর ও শিরক স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এগুলোর প্রতি আমাদের সহজাত ঘৃণাবোধ দূর হয়ে গেছে। এটা মূলত কুফুরের বিজয়ী পরিবেশেরই প্রভাব। অথচ আল্লাহ মুমিনদের ব্যাপারে বলেছেন, আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন। তোমাদের অন্তরে সেটিকে সুশোভিত করেছেন আর তোমাদের কাছে কুফুরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে ঘৃণিত করেছেন। তারাই সত্য পথপ্রাপ্ত। ( সুরা হুজরাত, আয়াত ৭)