28/05/2026
📢 অবশেষে আমাদের পূর্বে পোস্টকৃত MCQ প্রশ্নগুলোর ধারাবাহিক সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হলাম। ✨
📚 এই সিরিজে থাকবে বেসিকসহ বিস্তারিত আলোচনা, যা আপনার পোস্টকৃত MCQ প্রশ্নগুলোর সমাধানের পাশাপাশি অন্যান্য পরীক্ষায় আসা MCQ প্রশ্ন সমাধানেও সাহায্য করবে। সেই সাথে আপনার বেসিকও হবে আরও শক্তিশালী। 💪
✅ তাই শুধু উত্তর মিলিয়ে নিলেই হবে না, প্রতিটি ব্যাখ্যাও ভালোভাবে দেখে নিন। 👀
🔗 মূল পোস্টের লিংক কমেন্টে দেওয়া আছে।
❓ কারো কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে অবশ্যই কমেন্টে জানাতে পারেন! 😊
🚫👉উত্তরসমূহঃ
🇶 ১৫ নং প্রশ্নের ব্যাখ্যা: খ - নীতিগত ভুল।
✅মুনাফাজাতীয় আয়-ব্যয়কে মূলধনজাতীয় আয়-ব্যয় হিসাবে অথবা মূলধনজাতীয় আয়-ব্যয়কে মুনাফাজাতীয় আয়-ব্যয় হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হলে তাকে নীতিগত ভুল বলে।
☞এখানে যেহেতু তিনি আসবাবপত্র ব্যবসায়ী তাই আসবাবপত্র ক্রয়, মজুদ পণ্য(মুনাফাজাতীয়) ক্রয়ের মতোই,সম্পদ(মূলধনজাতীয়) নয়।
এখানে যেহেতু তিনি আসবাবপত্রকে 'আসবাবপত্র হিসাব' (সম্পদ) নামে ডেবিট করেছেন, তাই তিনি মূলধন জাতীয় ব্যয়কে মুনাফা জাতীয় ব্যয় হিসেবে না দেখিয়ে উল্টোটা করছেন বা হিসাবের শ্রেণীবিন্যাসে ভুল করছেন। হিসাববিজ্ঞানের নিয়মে, ব্যবসায়িক পণ্যের ক্ষেত্রে 'ক্রয়' হিসাব ডেবিট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি 'আসবাবপত্র' হিসাব ডেবিট করেছেন। তাই এটি একটি নীতিগত ভুল (Principle Error)।
🇶 ১৬ নং প্রশ্নের ব্যাখ্যা: ঘ - রেওয়ামিলে কোনো প্রভাব পড়বে না।
🔰হিসাববিজ্ঞানে ভুলগুলোকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।যথা:
১।নীতিগত ভুল
২।করণিক ভুল
🔴১।নীতিগত ভুলঃ
মূলধন জাতীয় লেনদেনকে মুনাফা জাতীয় মনে করা, অথবা মুনাফা জাতীয় লেনদেনকে মূলধন জাতীয় মনে করা।
☞হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক নীতি বা নীতিমালা না মেনে কোনো লেনদেন লিপিবদ্ধ করলে তাকে নীতিগত ভুল বলে। এর ফলে আর্থিক অবস্থার বিবরণী (যেমন—লাভ-ক্ষতি ও সম্পদ) ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়।
উদাহরণ: আসবাবপত্র ক্রয়ের খরচকে 'ক্রয় হিসাব' (মুনাফা জাতীয়) হিসেবে দেখালে তা হবে নীতিগত ভুল। কারণ আসবাবপত্র একটি সম্পদ (মূলধন জাতীয় ব্যয়), এটি কোনো খরচ নয়।
⛔রেওয়ামিলে প্রভাব: সাধারণত এই ভুল রেওয়ামিলের দুই দিককেই সমানভাবে প্রভাবিত করে, তাই রেওয়ামিল মিলে যায় এবং এই ভুল সহজে ধরা পড়ে না।✅
২.🔴করণিক ভুল:
⚠️হিসাবরক্ষক বা হিসাববিভাগের কর্মীদের অসাবধানতার কারণে যে ভুলগুলো হয়, সেগুলোকে করণিক ভুল বলে।
এগুলো হিসাববিজ্ঞানের মূলনীতির সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং লেখার বা গণনার ভুল।
📛করণিক ভুলকে আবার ৪টি ভাগে ভাগ করা যায়:
🔺বাদ পড়ার ভুল : কোনো লেনদেন জাবেদায় বা খতিয়ানে একদমই না লিখলে।
যেমন: রহিমের নিকট হতে ৩০,০০০ টাকার পণ্য ক্রয়,জাবেদায় লিপিবদ্ধ করণ বাদ পড়েছে। এর ফলে রেওয়ামিল তৈরিতে ডেবিট বা ক্রেডিট কোথাও প্রভাব পড়বে না।কারণ,উভয় দিকে টাকা কম লিখা হয়েছে।
🔺লিখার ভুল: টাকার অংকে ভুল হওয়া বা ভুল হিসাবে টাকা লেখা (যেমন: ৫০ টাকার জায়গায় ৫০০ লেখা)।
🔺বে-দাখিলার ভুল/স্থানান্তরজনিত ভুল: লেনদেন সঠিক হিসাবে লেখা হয়েছে কিন্তু খতিয়ানে স্থানান্তরের সময় ডেবিট বা ক্রেডিট ভুলে করা বা ভুল হিসাবে(রহিমের পরিবর্তে করিমের নাম) করা।
🔺পরিপূরক ভুল/সম্পূরক ভুল: একটি ভুল অন্য একটি ভুল দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন হয়ে যাওয়া।
রনির হিসাবে ৫০০০ টাকা ডেবিট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ভুলক্রমে ৫০০ টাকা ডেবিট হয়েছে। আবার সাজিদের হিসাবে ৫০০০ টাকা ক্রেডিট হওয়ার কথা থাকলেও ৫০০ টাকা ক্রেডিট হয়েছে। ফলে উভয় পাশে ৪৫০০ টাকা করে কম লেখা হলেও হিসাবের ভারসাম্য ঠিক থাকে। এ ধরনের ভুলকে পরিপূরক ভুল বলে।
📌করণিক ভুল ও নীতিগত ভুল ঘটলে রেওয়ামিলের যোগফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।❌
🇶 ১৭ নং প্রশ্ন: ঘ - ক্রেতা
⛔ক্রয় ফেরত/আন্তঃফেরত(বিপরীত বা প্রতি ব্যয়) ও বিক্রয় ফেরত/আন্তঃফেরত(বিপরীত বা প্রতি আয়) এর জন্য নোট তৈরি করা হয়।
🔰নোট ২ প্রকার:
১।ডেবিট নোট
২।ক্রেডিট নোট
ডেবিট নোট (Debit Note): এটি ক্রেতা তৈরি করেন। যখন ক্রেতা বাকিতে ক্রয়কৃত পণ্য ফেরত পাঠান, তখন তিনি বিক্রেতাকে জানান যে, বিক্রেতার পাওনা থেকে এই পণ্যের মূল্য বাদ দেওয়া হলো (অর্থাৎ বিক্রেতার হিসাবকে ক্রেতার বইতে ডেবিট করা হলো)। তাই ক্রেতা এটি তৈরি করেন।
ক্রেডিট নোট (Credit Note): এটি বিক্রেতা তৈরি করেন। যখন বিক্রেতা পণ্য ফেরত পান, তিনি ক্রেতার হিসাবকে ক্রেডিট করার জন্য এই নোট তৈরি করেন।
১৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর: (ক) i ও ii (নগদ কলাম ও ব্যাংক কলাম)
✅জেরটানা বা ব্যালেন্সিং(Balancing):
☞একটি নির্দিষ্ট সময়ের লেনদেনসমূহ খতিয়ানে লিপিবদ্ধ করার পর ডেবিট দিকের মোট যোগফল এবং ক্রেডিট দিকের মোট যোগফলের মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, তা বের করাই হলো জেরটানা। এই অবশিষ্ট বা পার্থক্যটিই হলো ওই হিসাবের উদ্বৃত্ত বা জের (Balance)।
🗂️জেরের প্রকারভেদ:
🔴ডেবিট উদ্বৃত্ত (Debit Balance):
যখন ডেবিট দিকের যোগফল ক্রেডিট দিকের চেয়ে বেশি হয়।
📝সাধারণত সম্পদ ও ব্যয়বাচক হিসাবের ডেবিট উদ্বৃত্ত হয়।
🔴ক্রেডিট উদ্বৃত্ত (Credit Balance):
যখন ক্রেডিট দিকের যোগফল ডেবিট দিকের চেয়ে বেশি হয়।
📝সাধারণত দায়, মূলধন ও আয়বাচক হিসাবের ক্রেডিট উদ্বৃত্ত হয়।
🔴শূন্য উদ্বৃত্ত (Nil Balance):
যখন ডেবিট ও ক্রেডিট উভয় দিকের যোগফল সমান হয়। অর্থাৎ কোনো পার্থক্য থাকে না।
📌🧠মনে রাখা জরুরি: তিনঘরা নগদান বইয়ের ক্ষেত্রে নগদ ও ব্যাংক কলামের জের টানা হয়, কিন্তু বাট্টা কলামের জের টানা হয় না, শুধুমাত্র মোট যোগফল নির্ণয় করা হয়।💡
📝🔍ব্যাখ্যা: তিনঘরা নগদান বইয়ের তিনটি কলাম থাকে—নগদ, ব্যাংক এবং বাট্টা। হিসাবচক্রের নিয়ম অনুযায়ী, নগদ এবং ব্যাংক কলামের উদ্বৃত্ত (Balance) বা জের টানা হয়। কিন্তু বাট্টা কলামের (প্রদত্ত বাট্টা ও প্রাপ্ত বাট্টা) মোট যোগফল নির্ণয় করা হয়, এর কোনো জের বা উদ্বৃত্ত টানা হয় না। তাই কেবল নগদ ও ব্যাংক কলামেরই জের টানা হয়।
🔔📚💯গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্য পেতে চাইলে Page টি ফলো দিয়ে রাখতে পারেন।⁉️