আল্লাহ যেন নতুন বছরে আমাদের সব দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেন এবং আমাদের জীবনকে সুখ-শান্তিতে পরিপূর্ণ করে দেন।
সবাইকে নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
Ibadah and Sabr
It's a islamic page.. Islam is a religion of faith.
It is said that one who has a belief in Tawheed (Oneness of Allah) is a Believer... “Do not lose hope, nor be sad.” Quran 3:139..
সবচেয়ে বড় হাদীস গ্রন্থ কোনটি?
১. মুসনাদে আহমাদ
২. মিশকাত আল-মাসাবিহ
Ramadan Mubarak
মানুষের হতাশায় আল্লাহ যেভাবে সাহায্য করেন
মহান আল্লাহ সর্বশক্তিমান। যে কোনো কিছু করার একচ্ছত্র ক্ষমতাও তার। কুরআনুল কারিমের অনেক আয়াতে এসব ক্ষমতা বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। মানুষ যেসব স্থানে নিজেকে অসহায় বা ব্যর্থ ভাবেন সেসব স্থানেও মহান আল্লাহ মানুষকে দেখিয়েছেন সমাধানের পথ। শুনিয়েছেন নেয়ামত ও কল্যাণের কথা।
মানুষকে ব্যর্থতামুক্ত করতে তিনি নিজেই নিয়েছেন সে ভার। এসব ব্যর্থতা ও অপারগতা থেকে বেরিয়ে আসতে শুধু প্রয়োজন তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। মানুষের কিছু ব্যর্থতা ও তার সমাধান তুলে ধরা হলো-
- মানুষ বলে, আমি ব্যর্থ!> আল্লাহ বলেন, 'অবশ্যই ঈমানদার সফল হয়' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১)
- মানুষ বলে, আমার জীবনে অনেক কষ্ট!> আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।' (সুরা নাশরাহ : আয়াত ৬)
- মানুষ বলে, আমাকে কেউ সাহায্য করে না!> আল্লাহ বলেন, 'মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব' (সুরা রূম : আয়াত ৪৭)
- মানুষ বলে, আমি দেখতে খুবই কুৎসিত!> আল্লাহ বলেন, 'আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।' (সুরা ত্বীন : আয়াত ৪)
- মানুষ বলে, আমার সঙ্গে কেউ নেই!> আল্লাহ বলেন, তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শুনি এবং দেখি।' (সুরা ত্বহা : আয়াত ৪৬)
- মানুষ বলে, আমার গোনাহ অনেক বেশি!> আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।' (সুরা বাকারা : আয়াত ২২২)
- মানুষ বলে, আমি সব সময় অসুস্থ থাকি!> আল্লাহ বলেন, 'আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করেছি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়।' (সুরা বনি ইসরাঈল : আয়াত ৮২)
- মানুষ বলে, এ দুনিয়া আমার ভালো লাগে না!> আল্লাহ বলেন, 'আপনার জন্যে দুনিয়ার চেয়ে পরকালই উত্তম।' (সুরা দোহা : আয়াত ৪)
- মানুষ বলে, সফলতা অনেক দূর!> আল্লাহ বলেন, 'আমার সাহায্যে একেবারেই কাছাকাছি।' (সুরা বাকারা : আয়াত ২১৪)
- মানুষ বলে, আমার জীবনে আনন্দ নেই!> আল্লাহ বলেন, আপনার পালনকর্তা শিগগিরই আপনাকে এতা দান করবেন, অতপর আপনি সন্তুষ্ট হবেন।' (সুরা দোহা : আয়াত ৫)
- মানুষ বলে, আমি সব সময় হতাশ!> আল্লাহ বলেন, 'আর তোমরা হতাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে, তোমরাই জয়ী হবে।' (সুরা ইমরান : ১৩৯)
- মানুষ বলে, আমার কোনো পরিকল্পনাই সফল হচ্ছে না!> আল্লাহ বলেন, আমিও কৌশল অবলম্বন করেন। মূলতঃ আল্লাহই হচ্ছেন সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী' (সুরা ইমরান : আয়াত ৫৪)
- মানুষ বলে, আমার কেউ নেই!> আল্লাহ বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন।' (সুরা তালাক : আয়াত ৩)
আল্লাহর কাছে মানুষের এতো এতো হতাশার সুন্দর সুন্দর সমাধান ও নেয়ামত থাকার পরও মানুষ আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে না। আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা বা সমাধান চায় না। তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর বঞ্চিত হয় মহান আল্লাহ ঘোষিত এসব অপার নেয়ামত থেকে।
সুতরাং সব হাতাশা ও ব্যর্থতায় আর কারো কাছে নয়, শুধু মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং সমাধান চাওয়াই মুমিনের জন্য উত্তম।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহান আল্লাহর ঘোষিত নেয়ামত ও রহমত লাভে তার দেখানো পথে সমাধান তালাশ করার তাওফিক দান করুন। হতাশা ও ব্যর্থতামুক্ত জীবন লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।
©️
-আয়তুল কুরসি💜
-اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-
বাংলা অনুবাদঃ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
(সূরাঃ আল বাকারা, আয়াতঃ ২৫৫)
--বাংলা উচ্চারণ- আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ’ ই’ন্দাহূ ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, ওয়ালা ইয়াউ’দুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল আ’জিম। (সূরা আল-বাক্বারা আয়াত-২৫৫)
‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আম্র আ'স (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার দরুন তার উপর দশটি রহমত (করুণা) অবতীর্ণ করবেন।"
(মুসলিম ৩৮৪, তিরমিযী ৩৬১৪, নাসায়ী ৬৭৮, আবূ দাউদ ৫২৩, আহমাদ ৬৫৩২)
প্রতিদিন অজুর সাথে ২০০ বার সুরা ইখলাস পাঠ করার দ্বারা ০৯ টি উপকার লাভ হবে।
প্রতিদিন অজুর সাথে ২০০ বার সুরা ইখলাস পাঠ করার দ্বারা ০৯ টি উপকার লাভ হবে।
(১) আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত অসুন্তুষ্টির ৩০০ টি দরজা বন্ধ করে দিবেন। যেমন: শত্রতা, দূর্ভিক্ষ, ফিতনা ইত্যাদি।
(২) রহমতের ৩০০ টি দরজা খুলে দিবেন।
(৩) রিজিকের ১০০০ টি দরজা খুলে দিবেন। আল্লাহ তায়ালা পরিশ্রম ছাড়া তাকে গায়েব থেকে রিজিক দিবেন।
(৪) আল্লাহ পাক নিজস্ব ইলম থেকে তাকে ইলম দিবেন, নিজের ধৈর্য্য থেকে ধৈর্য্য এবং নিজের বুঝ থেকে বুঝ দিবেন।
(৫) ৬৬ বার কুরআন শরীফ খতম করার সাওয়াব দান করবেন।
(৬) তার পঞ্চাশ বছরের গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
(৭) আল্লাহ পাক জান্নাতে ২০টি মহল দান করবেন। যেগুলো ইয়াকুত, মারজান,জমরুদ দ্বারা নির্মিত হবে এবং প্রত্যেকটি মহলে ৭০,০০০ দরজা হবে।
(৮) ২০০০ রাকাত নফল পড়ার সাওয়াব অর্জিত হবে।
(৯) যখন মৃত্যু বরন করবে তখন তার জানাযায় এক লক্ষ দশ হাজার ফেরেশতা অংশগ্রহন করবেন।
সংগৃহীত
চুপ করে থাকা, সহ্য করা, ধৈর্য ধরা মানেই হেরে যাওয়া বুঝায় না।
চুপ করে সহ্য করা কিংবা ধৈর্য ধরা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে আপনার জন্য রয়েছে বেহিসাব/অগণিত পুরষ্কার।
◉ আল্লাহ ﷻ বলেছেন, কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেয়া হবে কোন হিসাব ছাড়াই।
(সূরা যুমার আয়াত ১০)
সবরের আরেকটা অর্থ হলো-'ই'রাদ।' কুরআনে এই বিষয়ে বার বার আলোচনা করা হয়েছে।
'ই'রাদ' অর্থ উপেক্ষা করা, মুখ ফিরিয়ে নেয়া, এড়িয়ে চলা।
অনেক সময়, যখন কোনো সমস্যাকে উপেক্ষা করা হয়, সমস্যাটির মৃত্যু ঘটে। কিন্তু যখন সমস্যাটির প্রতি মনোযোগ দেয়া হয়, সমস্যাটি আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে।
যখনি আপনি এমন কিছু দেখেন যা আপনাকে ডিস্টার্ব করছে বা মর্মাহত করছে, সেটা উপেক্ষা করুন।
উপেক্ষা করা শিখুন।
এভাবে যখন আপনি উপেক্ষা করা শিখবেন, তখন নিজের জন্য অনেক সময় পাবেন, নিজেকে আরো সমৃদ্ধশালী করার সময় পাবেন।
কিন্তু যদি আপনার 'এড়িয়ে চলার মতো মানসিকতা/উপেক্ষা করার সক্ষমতা' না থাকে তাহলে অন্যদের জবাব দিতে দিতে আপনার প্রচুর সময় নষ্ট হয়ে যাবে।
◉ সুতরাং (হে নবী) তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং এড়িয়ে যাও।
নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।
(সূরা মায়িদাহ আয়াত ১৩)
◉ আর আমি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দুয়ের মধ্যে যা আছে, তা যথার্থতা ছাড়া সৃষ্টি করিনি এবং নিশ্চয়ই কিয়ামত আসবে।
সুতরাং তুমি সুন্দরভাবে তাদেরকে এড়িয়ে যাও।
(সূরা হিজর আয়াত ৮৫)
আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের তাওফিক দিন।
লেখাঃ কপি কৃত
“দায়িত্ব বেড়ে যাবার আগেই তোমার ইবাদাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দাও। কেননা একদিন এমন সময় আসবে যখন যথেষ্ট ইবাদাত করার মতন সময় পাবে না।”
— ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)
একদিকে মুয়াজ্জিন আযান দিচ্ছেন, অন্যদিকে আপনার বাবা আপনাকে ডাকছেন। মুয়াজ্জিনের আযান শুনে আগে মসজিদে যাবেন নাকি বাবা কী জন্য ডাকছেন শুনে আসবেন?
বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহকে এই প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাব দেন -
“আগে বাবার ডাকে সাড়া দিবে।”
মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির রাহিমাহুল্লাহ বলেন :
“আপনি নামাজ (নফল) পড়াবস্থায় যদি আপনার বাবা ডাক দেন, তাহলে নামাজ ভেঙ্গে তার ডাকে সাড়া দিবেন।”
ইয়াকুব আল-আজলী বিখ্যাত তাবেয়ী আতা ইবনে আবি রাবাহ রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, বৃষ্টির দিনে আমার মা আমাকে মসজিদে জামআতে নামাজ পড়তে নিষেধ করেন। তিনি আমাকে বাড়িতে নামাজ পড়তে বলেন। এখন আমি কার কথা শুনবো? ফরজ নামাজ পড়ার জন্য আমি কি মসজিদে যাবো, নাকি মায়ের কথামতো বাসায় নামাজ পড়বো?
আতা ইবনে আবি রাবাহ জবাব দেন-
“তুমি তোমার মায়ের কথামতো বৃষ্টির দিন বাসায় নামাজ পড়ো।”
একজন মা তার সন্তানকে ওয়াদা করান- সে শুধুমাত্র ফরজ-ওয়াজিব নামাজ পড়বে আর রমাদ্বান মাসের রোজা রাখবে। এছাড়া কোনো নামাজ পড়বে না, কোনো রোজা রাখবে না। এমন অবস্থায় কি সে তার মায়ের ওয়াদা পালন করবে? নাকি ওয়াদা ভঙ্গ করবে?
আতা ইবনে আবি রাবাহকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন -
“সে তার মায়ের ওয়াদা পালন করবে।”
রাতের খাবারের টেবিলে রেডি করে মা-বাবা আমাদেরকে ডাকতে থাকেন, আর আমরা বলি একটু পর আসছি। তখন আমরা কী করি? আমরা তখন মোবাইল টিপি বা পড়ালেখা করি।
হিশাম ইবনে হাসান রাহিমাহুল্লাহ আল-হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি যখন রাতে কুরআন তেলাওয়াত করেন, তার মা তখন খাবার রেডি করে তাঁকে ডাকতে থাকেন। এমন অবস্থায় তিনি বিড়ম্বনায় পড়ে যান। মন চায় কুরআন তেলাওয়াত করতে, ঐদিকে তাঁর মা তাঁকে ডাকছেন। তিনি কী করবেন?
আল-হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু পরামর্শ দেন-
“তুমি তোমার মায়ের ডাকে খেতে বসবে। মাকে সন্তুষ্ট করা আমার কাছে নফল হজ্জের চেয়েও প্রিয়।”
এক সাহাবী নিজের মা-বাবাকে কাঁদিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হিজরত করে তাঁর বাইয়াত গ্রহণ করতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শুনলেন, লোকটি তাঁর মা-বাবাকে কান্নারত অবস্থায় ফেলে রেখে এসেছেন, তখন বললেন,
“তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও। তাদেরকে যেভাবে কাঁদিয়েছো, সেভাবে গিয়ে হাসাও।” [সুনানে আবু দাউদ: ২৫২৮]
আল্লাম ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহর ‘আল-বিররুল ওয়ালি
- যখন আজান শেষ হয়ে যাবে তখন আল্লাহর কাছে চাও,তুমি যা চাইবে তাই পাবে!
(আবু দাউদঃ৫২৪)
গত বছর হজ্জ শেষ করে বেশ কিছু আজওয়া খেজুর সাথে নিয়ে আসলাম । যথাসম্ভব আত্নীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবদের দিয়ে আমি একটা জার ভর্তি করে নিজের জন্য রেখে দিলাম খুব যত্ন করে । ঐ খেজুর নিয়ে আমি মিশর যাই । তারপর আমেরিকা, সাথে আমার সেই আজওয়া খেজুর ।
একদিন এক বাসায় বেড়াতে গেলাম । সে বাসার আন্টি রান্না করতে করতে গল্প করছিলেন । তার পাশেই কিচেনে বসে ছিলাম । এক পর্যায়ে হজ্জের প্রসঙ্গ , তারপর আন্টি আজওয়া খেজুর নিয়ে বলতে গিয়ে খুব ইমোশনাল হয়ে গেলেন । তিনি খুব শুনেছেন কিন্তু আজ অবধি খেতে পাননি । এক পর্যায়ে কাঁদছেন, যদি হজ্জে যেতে পারতেন, যেতেন যদি মদীনা । ইচ্ছেমত যদি আজওয়া খেতে পারতেন ।
সেদিনের মত আন্টির কাছ থেকে বিদায় নিলাম । বাসায় ফিরে ফ্রীজ খুলে আমার আজওয়া খেজুরের জারটা হাতে নিয়ে বসে আছি । আন্টির কান্না ভেঁজা মুখ আর তার আফসোসটা মন থেকে সরছে না । আন্টিকে দিতে ইচ্ছে করছে, আবার তিন দেশ বয়ে বেড়ানো নিজের জন্য রেখে দেওয়া এত প্রিয় জিনিসটা দেই কি করে ।
পরদিন সকালে বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে সোজা আন্টির বাসায় । হ্যান্ড ব্যাগ খুলে আজওয়া জারটা আন্টির হাতে দিয়ে বললাম ‘পুরোটাই আপনার’ । কিছু অনুভুতি বলে বুঝানো যায় না। আমি বুঝাতে পারবো না তারপর সেখানে কি আবেগঘন মুহূর্ত হলো ।
একটা চরম উপলব্ধি বাসায় ফিরলাম । খুব যত্ন করে তিন দেশ বয়ে সুদুর আমেরিকাতে নিয়ে যাওয়া আজওয়ার জারটা আসলে আমার না; আমাকে দিয়ে আল্লাহ সুবহানুওয়াতায়ালা সেটা যার জন্য বরাদ্দ তার হাতে পৌছে দিয়েছেন ।
রিজিক যেটা আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন সেটা আসবেই,সাত সমুদ্র তোর নদী পেরিয়েও ।
ঘটনা এখানেই শেষ নয় । এর সপ্তাহ খানেক পর আমার ঘনিষ্ট বন্ধু ওমরা করে ফিরল । আমি দেখা করতে গেলাম । বিদায় নেয়ার সময় বন্ধু বললো ‘তোর জন্য খুব দামী গিফট্ আছে ।’
সারাটা রাস্তা ঝাপসা চোখে ড্রাইভ করে বাসায় ফিরছি । আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিঁজে যাচ্ছে বারবার । ঠিক এক জার আজওয়া নিয়ে বাসায় ফিরেছি, যেমনটা দিয়েছিলাম আন্টিকে ।
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী ।।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا
‘‘এবং তিনি প্রত্যেক জিনিস সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তার একটি তাকদীর বা পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন’’।
(সূরা ফুরকান: ২)
কালেক্টেড
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Website
Address
4217