Siratul mustaqeem

Siratul mustaqeem

Share

আসসালামু আলাইকুম,,, আসুন আমরা দীনের দা?

Photos from Siratul mustaqeem's post 20/09/2021

কুরআন হাতে নিয়ে চুমু খাওয়া বা কুরআন শরীরে লাগানো
_______________________________
প্রশ্ন: অনেকে মাথা নিচু করে কুরআনের উপর কপাল ছোঁয়ায় বা চুমু খায়-এটা কি ঠিক?

উত্তর:

অনেক মানুষ আছে যারা প্রতিবার কুরআন হাতে নিয়ে একটু মাথা নিচু করে বা না করে চুমু খায়, কপালে লাগায়, বুকে জড়িয়ে ধরে, শরীরে লাগায়....আবার তা রাখার সময়ও এমন করে। এটা তারা অভ্যাসে পরিণত করেছে। মূলত: এই আচরণ দ্বারা তারা কুরআনের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে চায়। কেউ হয়ত কুরআন থেকে বরকত নেয়ার উদ্দেশ্যে এমনটি করে।

⛔যাহোক এ কাজটি শরিয়ত সম্মত নয়।
কারণ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবীগণ কুরআনের লিখিত কোন অংশ নিয়ে এমনটি করেন নি। কুরআন লিপিবদ্ধ হওয়ার পরও সাহাবী ও তাবেঈনগণ সালাফগণ এমনটি করতেন না।
কেউ যদি নিয়মিত এমন করে তাহলে তা বিদ'আত হিসেবে পরিগণিত হবে।

★আয়েশা (রাঃ) রাসূলুরাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ
“যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যা দ্বীনে নেই সে কাজটি আল্লাহ কাছে পরিত্যজ্য।” (বুখারী ও মুসলিম)

★অন্য হাদিসে এসেছে:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ.
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০)।

➤কেউ যদি প্রশ্ন করে যে, কুরআনের প্রতি ভক্তি ও মোহাব্বতের উদ্দেশ্যে এমনটি করলে সমস্যা কোথায়?
আমরা বলব, নি:সন্দেহে কুরআনের প্রতি সাহাবি-তাবেঈনদের মোহাব্বত আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। আশা করি, এ বিষয়ে কোন জ্ঞানী ব্যক্তি দ্বিমত করবে না। সুতরাং তারা কুরআনের প্রতি যেভাবে মোহাব্বত করতেন তাই সমস্ত মুসলিম জাতির জন্য অনুসরণীয়।

➤যাহোক, তারা কখনো কুরআনে চুমু খেতেন না বরং তারা নিয়মিত তিলাওয়াত করতেন, কুরআন বুঝতেন, কুরআনের বিধান অনুযায়ী চলতেন এবং কুরআনের বিধান সর্বত্র প্রচার-প্রসার করতেন। এর চেয়ে বড় মোহাব্বত আর কিছু নাই।
সুতরাং তাদের মত করেই যদি আমরা কুরআনের প্রতি ভালবাসা প্রাকাশ করি এতেই আমাদের কল্যাণ রয়েছে। এর বাইরে কোন কিছুতে কল্যাণ নেই।

➧ অবশ্য কেউ যদি হঠাৎ আবেগের বশ:বর্তী হয়ে কখনো কখনো এমনটি করে ফেলে তাহলে তাকে বিদ'আত বলা যাবে না। যেমন:
কোন ব্যক্তি হয়ত অনেক দিন কুরআন থেকে দূরে ছিল। হঠাৎ কুরআন দেখতে পেয়ে মনের অজান্তেই তা বুকে জড়িয়ে ধরল ও আবেগে চুমু খেল। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেতে পারে নি। কিন্তু সবসময় এমটি করা তার অভ্যাস নয়। (অর্থাৎ এটাকে সে ইবাদত বা সুন্নত মনে করে নিয়মিত করে না-যা অনেকেই করে)। তাহলে সেটাকে বিদ'আত বলা ঠিক হবে না।
সে মূলত: আবেগে হঠাত এমনটি করে ফেলেছে- এটাকে ইবাদত বা সুন্নত মনে করে করে নি।

★হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা অনিচ্ছা বশত: ভুলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তা'লালা বলেন, رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا
“হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা হঠাৎ অনিচ্ছায় কোন ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)

সুতরাং এ কারণে আশা করা যায়, আল্লাহ এতে গুনাহ লিখবেন না। তবে নিয়মিত ও ইচ্ছাকৃত ভাবে এমনটি করা ঠিক নয়।

➧ আর কুরআন শরীরে লাগিয়ে বরকত নেয়ার উদ্দেশ্য থাকলে তা শিরক হিসেবে পরিগণিত। কারণ, কুরআনের গায়ে বরকত লেগে নেই। বরং কুরআন তিলাওয়াত ও আমলে বরকত রয়েছে। তাই বরকত পেতে চাইলে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে এবং কুরআনের বিধান অনুসারে জীবন পরিচালনা করতে হবে।
আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।

_______________________________
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
Daee, at Jubail dawah and Jubail Dawah & Guidance Center - Bangla Section, K.S.A

19/09/2021

কিভাবে সুরা আদ দোহা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে??

সব থেকে উওম উপায়ে আপনার হৃদয়ে ভালো অনুভব করার উপায় হচ্ছে সুরা আদ দোহা পড়া। কারণ এই সুরা কোরআনের সব থেকে আকর্ষনীয় সুরা এই কারনে যে এই সুরা আপনাকে
পজেটিভ হতে এবং আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা সম্পর্কে ভালো চিন্তা করতে শেখায়।

আমি কি আপনাদের এই সুরার অর্থ বলতে পারি? হয়তো আপনি এটা আগে শোনেননি।

সুরা দোহা এমন এক সময় নাযিল হয়েছিলো যখন হযরত মোহাম্মাদ সা: ছয়মাস কোনও ওহী পান নাই আল্লাহর কাছ থেকে। জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আসেন নাই এবং কোন স্বপ্নও দেখেন নাই ।

ঠিক একইভাবে হযরত মোহাম্মাদ সা: ছয়মাস কাটিয়েছেন।তিনি মনে করেছেন আল্লাহ সুবহাহুতায়ালা তাঁকে পছন্দ করছেন না। তিনি মনে করেছেন আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা তাঁকে নবী হিসাবে আর চাচ্ছেন না। সব চিন্তা রাসুল সা: মাথায় চলে এসেছিলো।

আল্লাহ কি বলেছিলেন ? আল্লাহ বলেছিলে
ওদ্দোহা - শপথ আলোক উজ্জল মধ্যদিনের ।

(তাই কোন হতাশ ব্যক্তিকে আপনি সর্বপ্রথম একথা বলবেন জেগে উঠো এবং সুর্যের আলো দেখো ইহা সর্বনাশ এবং হতাশার দিন নয় বাইরে কি সুন্দর সুর্যের আলো সুন্দর জীবন )

ওয়াল্লাইলি ইযা সাজা - কসম রাতের যখন তা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়।

(ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষদের দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে তারা রাত জাগে ।তারা ঘুমায় সকালে আর রাতে জেগে থাকে তাই সবকিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাদের খারাপ সময়ে ঘুম আর ঘুম থেকে উঠার প্যাটার্ন )

মা অদ্দা‘আকা রব্বুকা অমা- ক্বলা- তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি

(আল্লাহ তোমাকে অপছন্দ করেন না হে নবী এবং আল্লাহ ভুলেও যান নি ।আল্লাহ আমাদেরকে অপছন্দ করেন না)

অলাল্ আ-খিরাতু খাইরুল্লাকা মিনাল্ ঊলা - আর অবশ্যই তোমার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উত্তম হবে

অলাসাওফা ইয়ু’ত্বীকা রব্বুকা ফার্তাদ্বোয়া -
আর শীগ্রই তোমার রব তোমাকে দান করবেন, ফলে তুমি সন্তুষ্ট হবে।

( ও মুসলিমিন খুব শীগ্রই আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাত দিবেন ইনশাআল্লাহ এবং আমাদেরকে খুশী করে দিবেন । খুব শীগ্রই আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় দান করবেন সবকিছুতে এবং আমাদের খুশি করে দিবেন। আল্লাহ কথা দিয়েছেন খুব শীগ্রই জান্নাতে যাবো ইনশাআল্লাহ । এটা কি সবথেকে সুন্দর বিষয় নয় যে এরকম একজনকে বলা, যার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এরপর আল্লাহ একটা কারন দিয়েছেন এটা বিশ্বাস করার । তিনি বলেছেন

আলাম্ ইয়াজ্বিদ্কা ইয়াতীমান্ ফাআ-ওয়া-
তিনি কি তোমাকে ইয়াতীম অবস্থায় পাননি? অতপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন

অওয়াজ্বাদাকা দ্বোয়া-ল্লান্ ফাহাদা-
আর তিনি তোমাকে পেয়েছেন পথ না জানা অবস্থায়।। অতঃপর তিনি পথনির্দেশ দিয়েছেন।

(ভাই বোনেরা আমরা কি মিসগাইডেড ছিলাম না প্রাকটিসিং হওয়ার আগে? আমি জানি আমি নিজে কখনো নামায পড়তাম না আমি আমার দ্বীন সম্পর্কে জানতাম না। আল্লাহ কি আমাকে মিসগাইডেড পান নাই এবং গাইড করেন নি?ঠিক একইভাবে আপনি যখন মিসগাইডেড হবেন আল্লাহ গাইড করেন )

অওয়াজ্বাদাকা ‘আ-য়িলান্ ফাআগ্না-
তিনি তোমাকে পেয়েছেন নিঃস্ব অতঃপর তিনি সমৃদ্ধ করেছেন

(আল্লাহ হতাশার প্রতিষেধক দিলেন । আপনি কি জানেন এটা কি ? একজন ডিপ্রেসড ব্যক্তি নিজেকে নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকে । আর ডিপ্রেশন এবং আল্লাহর কাছ থেকে দুরে সরে যাওয়ার অনুভুতি থেকে বের হয়ে আসার উত্তম উপায় হলো সেইসব মানুষের কথা স্বরণ করা যারা আপনার চেয়ে আরো অনেক বেশি সমস্যায় জর্জরিত)

ফাআম্মাল্ ইয়াতীমা ফালা-ত্বাকহার -
সুতরাং তুমি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হয়ো না।

অআম্মাস্ সা-য়িলা ফালা-তানহার -
আর যে তোমার কাছে কিছু চায় তাকে না বলোনা

(তাই আল্লাহ আমাদের দুই ধরনের মানুষের কথা স্বরণ করতে বলেছেন এক - ইয়াতীম এবং দুই - ভিক্ষুক । ইয়াতিমের দিকে চেয়ে দেখ তার দেখাশোনার কেউ নেই কিন্তু আপনার মা বাবা আছেন দেখাশোনার জন্য। ভিক্ষুকের কোন খাদ্য নেই সে আপনার কাছে খাদ্য চাচ্ছে এবং এমনকি উপোস ঘুমাতে যাচ্ছে । আমাদের মধ্যে কি কেউ কখনো উপোস ঘুমাতে গিয়েছিলাম ? সুবহানাল্লাহ ।

এবং আল্লাহর কাছ দুরে সরে যাওয়ার অনুভব থেকে বেরিয়ে আসার সর্বশেষ পথ হচ্ছে

অ আম্মা-বিনি’মাতি রব্বিকা ফাহাদ্দিছ -
আর তোমার রবের অনুগ্রহ তুমি বর্ণনা কর।

( আলহামদুলিল্লাহ চোখের জন্য
আলহামদুলিল্লাহ হাত দুটির জন্য
আলহামদুলিল্লাহ আমার মুখের জন্য
আলহামদুলিল্লাহ আমার হার্টের জন্য

যদি আল্লাহ আমাদের ভালো না বাসতেন তাহলে কেন আমাদেরকে এখনো জীবিত রেখেছেন?

যদি আল্লাহ আমাদের পছন্দ না করতেন তাহলে কেন আমাদের খাদ্য দিচ্ছেন যার কারনে আমরা প্রতিমুহুর্ত বেঁচে আছি?

যদি আল্লাহ আমাদের পছন্দ না করতেন তাহলে আজ আমরা কেন এখানে জ্ঞান শেয়ার করছি এবং জানতে পারছি আল্লাহর ভালোবাসা সম্পর্কে?

পরবর্তী সময় যখনই বিচ্ছিন্ন বোধ করবেন তখনই সুরা দোহা পড়বেন। এবং অনুভব কররেন সেরকম ভালোবাসা যেরকম রাসুল সা: পেয়েছিলেন আল্লাহর কাছ থেকে। খুবশীগ্রই আল্লাহর ওয়াদা সত্য হবে ইনশাআল্লাহ ।

Sufyan al-Thawri খুব সুন্দর একটি কথা বলেছেন

রোজ হাশরের দিন আমার জন্মদাত্রী মা বাবা আমার বিচার করবেন না। বিচার করবেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। আর আমি আমার মা-বাবার মমতার তুলনায় মহান আল্লাহ পাকের রহমতের প্রতি অনেক বেশি আস্থাশীল।

সুতরাং আপনি যদি বিশ্বাস করেন আল্লাহ আপনাকে আপনার মা বাবার চেয়ে বেশি ভালবাসেন তাহলে আল্লাহ আপনাকে আপনার বাবা মায়ের চেয়ে বেশি ভালবাসবেন।

আপনি যদি বিশ্বাস করেন আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করতে পারেন তাহলে আল্লাহ আপনার সব গোনাহ মাফ করে দিবেন ইনশাল্লাহ ।

আলোচক : তাওফিক চৌধুরী
অনুবাদের চেষ্টা : Ramil Mashhood

15/09/2021
03/08/2021

ফেতনার জামানায় ১০ টি আমল,
যা মেনে আমল করলে ফেতনা থেকে বাঁচা যাবে ইন শা'আল্লাহ

১) অধিক হারে চুপ থাকা
যে লোক যাবতীয় ফেতনা থেকে এতো পরিমাণ চুপ থাকে,
যার কারণে কোন ফেতনা তাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি ।
[ আল ফিতান ]

২) অধিক হারে দুআ করা
হযরত হুজাইফা রাঃ বলেছেন :
মানুষের উপর এমন একটা যুগ আসবে
যখন কেউ রক্ষা পাবে না,
সে ছাড়া যে দোয়া করছে,
ডুবন্ত মানুষের দোয়ার মত ।
[ মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা - ]

৩) ফেতনার দিকে দৃষ্টি বা উকি না দেওয়া
এবং ফেতনার দিকে না যাওয়া
রাসূল (সাঃ) বলেন :
যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে তাকাবে ফিতনা তাকে ঘিরে ধরবে ।
তখন কেউ যদি কোন আশ্রয়ের জায়গা
কিংবা নিরাপদ জায়গা পায়,
তাহলে সে যেন আত্মরক্ষা করে ।
[ সহিহ বুখারী ]

৪) ফেতনার সময় নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া,
প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে না বের হওয়া !

রাসূল (সা:) বলেছেন:
অচিরেই এমন ফিতনার আত্মপ্রকাশ হবে,
যা বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি হতে উত্তম থাকবে ।
আর দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি তখন চলমান ব্যক্তি হতে উত্তম থাকবে ।
আর চলমান ব্যক্তি তখন দ্রুতগামী ব্যক্তি হতে ভাল থাকবে ।
[ সহিহ মুসলিম ]

৫) ফেতনার সময় সৎকাজ আকড়ে ধরা এবং
অসৎকাজ পরিহার করা এবং
আল্লাহ ভীরু মুত্তাকীদের সাথে চলাফেরা করা,
অন্য পাপাচারিদের সাথে সঙ্গ ত্যাগ করা

রাসূল ( সা:) বলেন : যখন ফিতনা তিব্র আকার ধারণ করবে
তখন তোমরা সৎকাজকে মজবুত ভাবে আকড়ে ধরবে
এবং অসৎকাজ হতে বিরত থাকবে ।
তোমাদের মাঝে বিশেষ লোক যারা রয়েছে
তাদের প্রতি মনোনিবেশ করবে এবং
সর্বধারণকে এরিয়ে চলবে।
[ আল ফিতান ]

৬) ফেতনার জামানায় জান্নাতি হওয়ার বিশেষ তিনটা উপায়

হযরত উকবা ইবনু আমির (রাঃ) বলেন :
একদা আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম
এবং বললাম, নাজাতের উপায় কি ?
তিনি বললেন, ‘নিজের জিহ্বা আয়ত্তে রাখ,
নিজের ঘরে পড়ে থাক এবং
নিজের পাপের জন্য রোদন কর’।
[ আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত ]

৭) সব চেয়ে বড় ফেতনা বর্তমান সময়ে
আর সেটা হচ্ছে নারী, তা থেকে নিজেক মুক্ত রাখা

রাসূল ( সা:) বলেন : কোন নারীর উপর তোমার দৃষ্টি পড়লে
তার প্রতি বারবার দৃষ্টিপাত করো না ।
বরং নজর অতিসত্তর ফিরিয়ে নিও,
কারণ,
তোমার জন্য প্রথমবার ক্ষমা,
দ্বিতীয়বার নয় ।
[ আহমদঃ১৩৬৯ ]
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
পুরুষের জন্য নারীজাতি অপেহ্মা
অধিক ক্ষতিকর কোন ফিত্‌না আমি রেখে গেলাম না ।
[ সহিহ বুখারী ]

৮) এই উম্মতের একটি ফেতনা হচ্ছে
ধন-সম্পদ এর ফেতনা,
যা আল্লাহ আল্লাহর আনুগত্য থেকে মানুষকে গাফেল রাখে,
এটা পরিহার করা, যাতে আল্লাহ ইবাদত করা থেকে দূরে না রাখেন

হযরত কা’ব ইবনু ইয়ায (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি :
প্রত্যেক উম্মাতের জন্য কোন না কোন ফিত্‌না রয়েছে ।
আর আমার উম্মাতের ফিত্‌না হলো ধন-সম্পদ ।
[ জামে' আত-তিরমিজি ]

৯) ফেতনার জামানায় গুরুত্বপূর্ণ একটা আমল
সেটা হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহ আকড়ে ধরা,
যা মানুষের মধ্যে না থাকলে ফেতনা গ্রাস করে ফেলবে

রাসূল ( সা:) বলেন,
নিশ্চয় আমি তোমাদের মাঝে এমন বস্তু রেখে যাচ্ছি-
তোমরা যদি উহা আঁকড়ে ধরে থাক
তবে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না ।
আর তা হল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত ।”
[ সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব]

১০) ফেতনার জামানায় ফেতনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা

ফিতনা গরুর ন্যায় ।
তাতে বহু মানুষ ধ্বংস হবে ।
তবে যারা পূর্বেই এ সম্পর্কে অবগতি লাভ করবে
তারা ধ্বংস হবে না ।
[ আল ফিতান : ৫ ]
বর্তমান সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আমল গুলো
মানুষকে জানানো বিশেষ প্রয়োজন...

রাসূল (সাঃ) বলেছেন,“
যে ব্যক্তি মানুষকে হিদায়াতের দিকে ডাকে
তার জন্য ঠিক ঐ পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে,
যে পরিমাণ পাবে তাকে অনুসরণকারীরা ।”
[ সহীহ মুসলিম : ২৬৭৪,৬৮০৪ ]
আল্লাহ্‌পাক আমাদের হেফাযত করুন।

02/08/2021

তিন শ্রেণীর নামাজি জাহান্নামে যাবে!

এমন তিন শ্রেণী সম্পর্কে এখানে বর্ণনা করা হলো:—
১ . যারা অলসতা করে সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করে না, তাদের নামাজ কবুল হবে না। তাদের জন্য পরকালে শাস্তি রয়েছে।পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
‘অতঃপর দুর্ভোগ ওই সব মুসল্লির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’(সুরা, মাউন, আয়াত : ৪-৫)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা লিখেছেন, এরা হলো সেইসব লোক, ‘যারা নামাজ থেকে উদাসীন ও খেল-তামাশায় ব্যস্ত।’ উদাসীন লোকদের মধ্যে একদল এমন আছে, যারা রুকু-সিজদা, ওঠা-বসা যথাযথভাবে করে না। কেরাত, দোয়া ও তাসবিহ যথাযথভাবে পাঠ করে না। কোনো কিছুর অর্থ বোঝে না বা বুঝবার চেষ্টাও করে না। আজান শোনার পরেও যারা অলসতাবশে এবং নামাজে দাঁড়িয়ে অমনোযোগী থাকে।

২ . যারা দায়সারাভাবে নামাজ পড়ে এবং নামাজের বিধি-বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করে না।
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন,
‘রাসূল (সাঃ) মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় শেষে
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে সালাম দিল। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বলেন, তুমি যাও, পুনরায় নামাজ আদায় করো। কেননা তুমি নামাজ আদায় করোনি। এভাবে লোকটি তিনবার নামাজ আদায় করল। রাসূল (সাঃ) তাকে তিনবারই ফিরিয়ে দিলেন। তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম করে বলছি, এর চাইতে সুন্দরভাবে আমি নামাজ আদায় করতে জানি না। অতএব আমাকে নামাজ শিখিয়ে দিন!অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন,
'যখন তুমি নামাজে দাঁড়াবে তখন তাকবির দেবে। তারপর কোরআন থেকে যা পাঠ করা তোমার কাছে সহজ মনে হয়, তা পাঠ করবে। তারপর ধীরস্থিরভাবে রুকু করবে। অতঃপর সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে। অতঃপর মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে। আর প্রত্যক নামাজ এভাবে আদায় করবে।’(বুখারি-৭৫ ৭)

অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন,
‘মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় চোর ওই ব্যক্তি যে তার নামাজ চুরি করে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে কিভাবে নামাজ চুরি করে? তিনি বলেন, সে নামাজে রুকু ও সিজদা পূর্ণ করে না।’(মুসনাদে আহামাদ-২২৬৯৫)
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর ভাষায় বড় চোর হচ্ছে যারা নামাজের মধ্যে চুরি করে। পার্থিব জীবনে মানুষ মানুষের ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা চুরি করে, এটাকে সামান্য চুরি বলা যেতে পারে। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের মহামূল্যবান সম্পদ, জান্নাতে যাওয়ার পুঁজি, শ্রেষ্ঠতম ইবাদত চুরি করে সে-ই প্রকৃতপক্ষে বড় চোর।

৩ . যারা লোক দেখানো নামাজ আদায় করে।
মহান আল্লাহ্ বলেন,'যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে।’
_(সুরা মাউন, আয়াত : ৬)
মুনাফিকরা মানুষকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে।
যেমন—মহান আল্লাহ্ অন্য আয়াতে বলেছেন,
‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দেয়, আর তিনিও তাদের ধোঁকায় ফেলেন। যখন ওরা নামাজে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়—লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।(সুরা নিসা, আয়াত : ১৪২)

মহান আল্লাহ্ লোক-দেখানো ইবাদতকারীকে তার আমলসহ প্রত্যাখ্যান করেন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে,
মহান আল্লাহ্ বলেন,
‘আমি অংশীবাদিতা (শিরক) থেকে সব অংশীদারের তুলনায় বেশি মুখাপেক্ষীহীন। যে ব্যক্তি কোনো আমল করে এবং তাতে অন্যকে আমার সঙ্গে শরিক করে, আমি তাকে ও তার আমলকে বর্জন করি।’(মুসলিম-২৯৮৫)

মহান আল্লাহ্ আমাদের যথাযথভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন..আমীন🖤
©️

15/07/2021

এই কি ছিল মাওলানা গুনবির অপরাধ?!

অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন, মাওলানা গুনবির হাতে সত্যিই কি উমর ফারুক ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন নাকি এটা গুজব, এমন ক্ষেত্রে সাধারণত যেমন রটে থাকে?!

বাংলাদেশে অমুসলিমদেরকে দাওয়াতের সর্ববৃহৎ সংগঠন, 'দাওয়াতুল ইসলামে'র উচ্চপর্যায়ে এ ব্যাপারে আমি যোগাযোগ করলে এবং গুনবি ভাইয়ের পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রে যে তথ্যগুলো নিশ্চিত হই-

১। উমর ফারুক ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহ সত্যই মাওলানা গুনবি ভাইয়ের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
২। ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহ নিজের যে মসজিদে নামায পড়াতেন সেটাও গুনবি ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে।
৩। ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহ'র বড় মেয়ে আমেনাও গুনবি হাফিযাহুল্লাহ'কে ভাল করে চেনার কথা।
৪। তিনি পাহাড়ি নওমুসলিম বাচ্চাদের এত প্রিয় ছিলেন যে, তারা তাঁকে 'বাবা' বলে ডাকত।
৫। তিনি নওমুসলিম পরিবার ও তাদের বাচ্চাদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করতেন, তাদের অনেক সন্তান তাঁর তত্ত্বাবধানে হাফেজ-হাফেজা হয়েছে, অনেকে আলেম-আলেমা হচ্ছে, অনেকের বিয়ের ব্যবস্থা তিনিই করেছেন।
৬। খ্রিস্টান মিশনারির অপ-তৎপরতা সম্পর্কে বাংলাদেশের মুসলিমদেরকে এমন কি আলেম সমাজকে জাগ্রত করার, অগ্রপথিক তিনিই ছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি অনেক বড় বড় আলেমদের কাছে সফর করেছেন। তাই তিনি ছিলেন বড় অনেক আলেমদের আস্থা ও স্নেহভাজন ব্যক্তি। এ কারণেই হেফাজতের বড় বড় সম্মেলনে জুনাইদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ মঞ্চে উপস্থিত থাকা কালীন তাঁকে আলোচনা দেয়া হত। শাইখের আগে তিনি আলোচনা করতেন।
৭। আর এখন পর্যন্ত তাঁর হাতে মুসলিম হয়েছে হাজারের উপরে অমুসলিম। (এটাও নিশ্চিত তথ্য, বাড়াবাড়ি না।)
৮। সর্বশেষ একটি তথ্য দেই, তিনি বিবাহের প্রথম রাতে তাঁর সম্মানিতা স্ত্রীকে বলে ছিলেন- 'আমি অমুসলিমদের দাওয়াতের কাজে নিজের জীবন ওয়াকফ করে দিয়েছি'।

উম্মাহ'র এই মহান দায়ীর জন্য আসুন আমরা সোচ্চার হই!
উম্মাহ দরদী এই আলিমের জন্য আসুন আল্লাহ্‌র দরবারে দু-হাত তুলে দোয়া করি!
উম্মাহ'র এই রত্নকে জালিমের হাত থেকে মহান আল্লাহ্‌ উম্মতের কাছে ফিরিয়ে দিন!

- মাহদী মাবরুরযদিও মাওলানা মাহমুদ গুনভী সাধারণের কাছে বেশি পরিচিত হয়েছেন ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে, কিন্তু তার মূল পরিচয় এটি নয়। তিনি একজন পরিশ্রমী, একনিষ্ঠ দাঈ, যার রয়েছে ত্যাগ ও কুরবানির দীর্ঘ ইতিহাস। পার্বাত্যঞ্চলের বিপদসংকুল এলাকায় ঘুরে ঘুরে দীর্ঘদিন তিনি প্রচার করেছেন হেদায়াতের বানী। নির্ভীক এই মানুষটি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে এমন সব দুর্গম এলাকায়ও গেছেন যেখানে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। তার হাতে ইসলাম গ্রহন করেছে এক বিশাল জনগোষ্ঠী। শুধু দাওয়াতের কাজই নয়, সামাজিক নানা কর্মকান্ডেও তিনি রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। ২০১৭ সালে দীর্ঘসময় কাজ করেছেন রোহিংগা ক্যাম্পে। সে সময় যারা কাছ থেকে তার কাজ দেখেছেন তারা জানেন, তিনি নাওয়া খাওয়া ভুলে কাজ করেছিলেন।

খাইবারের যুদ্ধের দিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আলী (রা) কে বলেছিলেন, আল্লাহর কসম, তোমার মাধ্যমে যদি একজন ব্যক্তিকেও আল্লাহ হিদায়াত দান করেন, তাহলে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম। (মুসলিম, ৬০০৫)

আমি যখন মাওলানা গুনভীর হাতে ইসলাম গ্রহনকারী শতশত মানুষের কথা চিন্তা করি, তখন এই হাদিসটিই বারবার মনে পড়ে। এমন একজন দাঈ নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় এক সপ্তাহ হলো। তাকে উদ্ধারে এখনো কোন উল্লেখযোগ্য তৎপরতা চোখে পড়েনি।

আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন মাওলানাকে নিরাপদ রাখেন এবং দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরে আসার তাওফিক দেন। যারা মাওলানার পরিবারকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে আল্লাহ যেন তাদেরকে সমুচিত শাস্তি দান করেন। তাদের ও তাদের পরিবারের স্বস্তির রাতগুলো যেন ফুরিয়ে যায়।

- ইমরান রাইহান



#সন্ধান_চাই #মাহমুদুল_হাসানের_সন্ধান_চাই
#মাহমুদুল_হাসান_গুনোবী
#মোহাম্মদ_মাওলানা_মাহমুদুলহাসানগুনোবী




Photos from Siratul mustaqeem's post 10/07/2021

মাহমুদুল হাসান গুনভী সাহেব নিখোঁজ! অথচ অনলাইন এক্টিভিটিসরা নিরব! তাদের কোন সাড়াশব্দ নেই!

আবু-ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের সময় যেভাবে সরব হয়েছিলো ঐভাবে হওয়া দরকার।

আর হ্যা এদেশে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া মানেই কী গুম!ধরে নিবো কী তাহলে তারাই প্রতিটা গুমের পিছনে দায়ী?

#সন্ধান চাই একজন উম্মাহ দরদী আলেমের।

10/07/2021

দেবর আর ভাবী, দুলাভাই আর শালী!

আমাদের সমাজে একটা প্রচলিত প্রবাদ আছেঃ "ভাবী হলো মায়ের মতো"। ভাবী তাই দেবরের সামনে পর্দার কোনো প্রয়জনীয়তাই মনে করে না! দেশে বহুল প্রচলিত আরেকটি প্রবাদ হলোঃ "স্বামী আমার যেমন-তেমন/ দেবর আমার মনের মতন" (আস্তাগফিরুল্লাহ)। এসব আশ্লীল ও নোংরা কথা আমরা প্রায়ই শুনতে পাই।

আর ভাবীকে এখানে-সেখানে নিয়ে যাওয়ার কাজটা দেবরই যেনো ভালো ভাবে করতে পারে। এমনকি শ্বশুর-শাশুড়িও মনে করে যে, বড় বউ একটু বাইরে যাবে তো এক্ষেত্রে আমার ছোটো ছেলেই নিয়ে যাক।

শুধু তাই নয়, দেবর-ভাবীর মধ্যে যতো ধরনের ইয়ার্কি-মস্করা, অশ্লীল ফাজলামি - এগুলো তো খুবই সাধারণ ব্যাপার!

দেবর-ভাবীর মতো আরেকটি খোলামেলা সম্পর্ক হলো দুলাভাই আর শালী (শ্যালিকা)। দেখা যায়, যত ইচ্ছা খুনসুটি আর শয়তানি চলতে থাকে দুলাভাই আর শালীর মধ্যে। সেইসাথে শালীর বড় বড় আবদার পূরণ করতে হয় দুলাভাইকে। শপিং-মলে শপিং থেকে শুরু করে প্রতি মাসে অন্তত একবার করে রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর দায়িত্ব দুলাভাইয়ের। অন্যদিকে বউয়ের অবর্তমানে ঘরের কাজগুলো করে দেওয়ার দায়িত্ব শালীর। এগুলো দেখে এমন প্রতীয়মান হয় যে, শালী যেনো দুলাভাইয়ের কাছে নিজের বউয়ের মতোই! আস্তাগফিরুল্লাহ!

অথচ দেবর এবং ভাবী, কিংবা দুলাভাই এবং শ্যালিকা - ইসলামী শারীয়াহ-তে এরা একে অপরের জন্য গায়ের-মাহরাম। অর্থাৎ আর পাঁচজন গায়ের-মাহরামের মতো এদের জন্যও একে অপরের সামনে পর্দা করা ফরজ।

শুধু তাই নয়, বরং অন্য গায়ের-মাহরামের তুলনায় এই সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে আরো বেশী দূরত্ব এবং সাবধানতা বজায় রাখা উচিত। কেননা এই সম্পর্কগুলো অন্যগুলোর চেয়ে আরো বেশী বিপজ্জনক।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "তোমরা নারীদের নিকট প্রবেশ করা থেকে সাবধান থেকো।" একথা শুনে আনসার গোত্রের এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, কিন্তু দেবর সম্পর্কে আপনার মত কী? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ "দেবর! দেবর তো মৃত্যুর সমতুল্য!" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫২৩২ ও সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২১৭২)

সুবহানআল্লাহ! আল্লাহর রাসূল এখানে দেবরকে মৃত্যুর সমতুল্য বলেছেন। অথচ আমাদের সমাজ দেবরকে যেনো "দ্বিতীয় বর" হিসেবে বানিয়ে রেখেছে! আস্তাগফিরুল্লাহ!

আল্লাহ যে জিনিসটাকে হারাম করেছেন সেখানে লোকেরা কিভাবে সেটাকে হালাল মনে করতে পারে? তাহলে কি সমাজের লোকেরা নিজেরাই বিধানদাতা হয়ে গেলো?

তাই ভাই ও বোনেরা! সাবধান হোন! সমাজের সমস্ত রকমের অশ্লীল ও বেহায়া প্রচলন থেকে বের হয়ে আসুন। এবং কেবলমাত্র কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করুন।

মনে রাখবেন, আপনার দেবর কিংবা আপনার দুলাভাই - এরা আপনার কাছে একজন গায়ের-মাহরাম। তাই এদের সামনে পরিপূর্ণ পর্দা করা আপনার জন্য ফরজ!

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “(হে নবী) মুমিন পুরুষদেরকে বলো, তারা যেনো তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গকে হেফাযতে রাখে; এটিই তাদের জন্য উত্তম। ওরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। আর মুমিন নারীদেরকে বলো, তারা যেনো নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে ও লজ্জাস্থান হিফাজত করে এবং যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, এবং তারা যেনো তাদের 'খিমার' (মাথার কাপড়, ওড়না, অথবা চাদর) দ্বারা তাদের 'জুয়ুব' (মুখমণ্ডল সহ গ্রীবা ও বক্ষদেশ) আবৃত করে রাখে।” (সুরাহ আন-নূর, আয়াত : ৩০-৩১)

যৌথ পরিবারের অজুহাতে কারনে-অকারনে দেবর-ভাবী কিংবা দুলাভাই-শালীর মেলামেশা করা, অহেতুক মস্করা-ফাজলামি করা পুরোপুরিভাবে হারাম। সেইসাথে একে অপরের গায়ে গায়ে স্পর্শ করে পাশাপাশি বসা, কিংবা হ্যান্ড সেইক করাও পুরোপুরিভাবে হারাম। অন্যথায় এগুলো সবই জিনার মধ্যে সামিল হবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “প্রত্যেক আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের কিছু অংশ লিপিবদ্ধ হয়েছে, সে অবশ্যই তার মধ্যে লিপ্ত হবে। দুই চোখের ব্যভিচার হলো দৃষ্টি, দুই কানের ব্যভিচার হলো শ্রবণ, মুখের ব্যাভিচার হলো কথা বলা, হাতের ব্যভিচার হলো স্পর্শ করা এবং পায়ের ব্যভিচার হলো অগ্রসর হওয়া। আর অন্তর আশা ও আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে। লজ্জা স্থান তাকে বাস্তবায়ন করে অথবা মিথ্যায় পরিণত করে।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৫৭, ৬৫১৩)

তিনি (সা.) আরো বলেছেনঃ “প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর রমণী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো (পুরুষের) মজলিসের পাশ দিয়ে পার হয়ে যায় তাহলে সে এক বেশ্যা।’’ (সহীহ তিরমিযী, আল্লামা আলবানী, ২২৩৭)

তিনি (সা.) আরো বলেছেনঃ “কোনো ব্যক্তির মাথায় লৌহ সুচ দ্বারা খোঁচা যাওয়া ভালো, তবুও যে নারী তার জন্য অবৈধ তাকে স্পর্শ করা ভালো নয়।” (আস সিলসিলাতুস সহীহাহ, ২২৬)

তিনি (সা.) আরো বলেছেনঃ “কোনো নারীর উপর তোমার (অনিচ্ছাকৃত) দৃষ্টি পড়লে তার প্রতি বারবার দৃষ্টিপাত করো না, বরং নজর সত্ত্বর ফিরিয়ে নিও। কারণ প্রথমবারের জন্য তোমাকে ক্ষমা করা হলেও, দ্বিতীয়বার জন্য করা হবে না।” (আহমদ, হাদিস নং ১৩৬৯)

সেইসাথে অল্প সময়ের জন্য হলেও দু'জনের একসাথে কোনো কামরা বা স্থানে নির্জনতা অবলম্বন করা পুরোপুরিভাবে হারাম। সেইসাথে দেবরের সাথে একাকী বাপের বাড়ি যাওয়া, কিংবা দুলাভাইয়ের সাথে একাকী বোনের বাড়ি যাওয়া, অথবা অন্য কোনো প্রয়োজনে কিংবা নিছক বিলাস-বিহারে দু'জনে একাকী ঘুরতে যাওয়া - এগুলো সবই পুরোপুরিভাবে হারাম।

তবে এগুলো শুধু দেবর আর ভাবী, কিংবা দুলাভাই আর শালীর ক্ষেত্রেই নয়, বরং প্রত্যেক গায়ের-মাহরাম নারী-পুরুষের জন্যই এগুলো প্রযোজ্য। যেমন কাজিন ভাই-বোন, অর্থাৎ মামাতো, খালাতো, চাচাতো, ফুফাতো ভাই-বোনদের ক্ষেত্রেও এই সমস্ত ব্যাপারে আমাদেরকে সাবধান থাকা উচিত। সেইসাথে ছেলেদের ক্ষেত্রে আপন খালা, ফুফু ছাড়া সমস্ত রকমের খালা, ফুফুর বেলাতেও। এবং আপন চাচী কিংবা মামীর বেলাতেও। একইভাবে মেয়েদের ক্ষেত্রে আপন মামা, চাচা ছাড়া সমস্ত রকমের মামা, চাচার বেলাতেও। এবং নিজের খালু কিংবা ফুফার বেলাতেও।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘শুনে রাখো, কোনো পুরুষ যেনো কোনো মহিলার সঙ্গে নিভৃতে একত্রিত না হয়, অন্যথায় শয়তান অবশ্যই তৃতীয় জন হিসাবে হাযির থাকে।’’ (সুনান তিরমীযী ২১৬৮, ইবনু মাজাহ ২৩৬৩)

তিনি (সা.) আরো বলেছেনঃ ‘‘কোনো মহিলা যেনো মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকিনী সফর না করে।’’ (বুখারী ৫২৩৩, মুসলিম ১৩৪১)

তিনি (সা.) আরো বলেছেনঃ “তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোমাদের রক্তশিরায় প্রবাহিত হয়।’’ (সহীহ তিরমিযী, ৯৩৫; সহীহ ইবনে মাজাহ, আল্লামা আলবানী, ১৭৭৯)

তিনি (সা.) আরো বলেছেনঃ “আমার (ইন্তেকালের) পরে আমার উম্মাতের পুরুষদের জন্য নারী অপেক্ষা অধিক ফিতনার শঙ্কা আর কিছুতেই রেখে যাইনি!’’ (বুখারী ৫০৯৬, মুসলিম ২৭৪০)

আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সমস্ত রকমের ফিতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখুন।

© ওহী

23/06/2021

আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, কোনো কিছুকে তাঁর সঙ্গে শরীক করো না;

আর তোমরা সদ্ব্যবহার কর তোমাদের মাতাপিতা এবং আত্মীয় -স্বজন, এতীম, অভাবগ্রস্থদের সাথে এবং
তোমাদের নিকটবর্তী প্রতিবেশী ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর সাথে আর নিকট সঙ্গী,পথিক এবং
তোমাদের অধিকারভুক্তদের (দাস দাসীর)সাথে;

নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন না যারা অহংকারী এবং যারা দাম্ভিক তাদেরকে।

(সূরা নিসা,আয়াত ৩৬)

15/06/2021

আলোচিত নায়িকা ইস্যুতে অনেকে অশ্লীল উক্তি করছেন। সন্দেহ নেই, তার লাইফ স্টাইল জঘন্য এবং এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা সমাজ নষ্টের প্রধান কারণ। তাই বলে তাকে নিয়ে বাজে উক্তি করা মুসলমানের চরিত্র হতে পারে না।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মুমিন কখনো অশ্লীলভাষী, গালিবাজ ও কটু মন্তব্যকারী হয় না। (তিরমিযী, ১৯৭৭)

যারা তার অশ্লীল ও অর্ধনগ্ন ছবি পোস্ট বা কমেন্ট করে তার সম্পর্কে ধারণা দিতে চাইছেন, তারাও অশ্লীলতা বিস্তারকারী পাপিষ্ঠদের কাতারে পড়ে যাচ্ছেন।

অশ্লীলতার সমালোচনা হতে হবে শ্লীলভাবে। অন্যের ভুল ধরতে গিয়ে নিজে ভুল করা বুদ্ধিমান মানুষের কাজ হতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেছেন-‘ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত কর তা দ্বারা যা উৎকৃষ্টতর’। (৪১:৩৪)

শায়েখ আহমাদুল্লাহ

15/06/2021

নিম্নের দু'আটা আমাদের বেশি বেশি আমল করা উচিত -

اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাজ'আলনী মিনাল্লাযিনা ইযা আহসানুসতাবশারু ওয়া ইযা আসাউসতাগফারু।

অর্থঃ "হে আল্লাহ, আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা উত্তম কাজ করতে পারলে আনন্দিত হয় আর নিকৃষ্ট কাজ করলে ক্ষমা প্রার্থনা করে।"

[ ইমাম ইবন মাজাহ (রাহ.), আস সুনান, হা: ৩৮২০; হাফিয ইরাক্বী (রাহ.) বলেছেন فيه علي بن زيد بن جدعان مختلف فيه
তাখরিজুল ইহইয়া :১/৪১৩]

©️

Want your school to be the top-listed School/college in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

Chittagong